মান্দালয়, সাগাইং ও রাজধানী নেপিদোর মতো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতেই বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
Published : 03 Apr 2025, 03:06 PM
শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ও দুর্গত লোকজনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টারত উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩০০৩ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৪৫১৫ জন এবং ৩৫১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে মিয়ানমারের টোকিও দূতাবাস ফেইসবুকে জানিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের দেশটিতে বহু সেতু, ভবন ধসে পড়েছে, বহু এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ খাবার, পরিষ্কার পানি ও বাসস্থানের সংকটে পড়েছেন। বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তারা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রোববার থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মান্দালয়, সাগাইং ও রাজধানী নেপিদোর মতো যেসব এলাকা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে অঞ্চলগুলোতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টি শুরু হলে দেশটিতে যে ব্যাপক ত্রাণ প্রচেষ্টা চলছে তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনিতেই সেতু, মহাসড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণকর্মীকের পক্ষে দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে আছে। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
একই কথা খাটে বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া লোকজনের ক্ষেত্রেও। বৃষ্টি শুরু হলে তাদের বের করে আনা উদ্ধারকর্মীদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।
এক ত্রাণ কর্মী রয়টার্সকে বলেন, “বৃষ্টি আসছে অথচ এখনো কতো মানুষ চাপা পড়ে আছেন। বিশেষভাবে মান্দালয়ে যদি বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে যারা চাপা পড়ে আছেন তারা এখন বেঁচে থাকলেও হয়তো ডুবে মারা যাবেন।”
টোকিওর মিয়ানমার দূতাবাস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ত্রাণ নিয়ে ৫৩টি বিমান মিয়ানমারে পৌঁছেছে। আর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোসহ চীন, ভারত ও রাশিয়া থেকে ১৯০০রও বেশি উদ্ধারকর্মী হাজির হয়েছেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্তা টেলিভিশন জানিয়েছে, জান্তা প্রধান মিন অঙ হ্লাইং একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাবেন।
দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও হ্লাইং এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
মিয়ানমারের ভূমিকম্পের আঘাত হাজার মাইল দূরের ব্যাংককেও লেগেছে। এখানে নির্মাণাধীণ ৩৩তল্লা একটি ভবন ধসে অন্তত ১৫ জেনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও ৭২ জন ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। এই ভূমিকম্পে পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
গৃহযুদ্ধ কবলিত দেশটির সরকারবিরোধী বিদ্রোহী বাহিনীগুলো ভূমিকম্পের জন্য একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুধবার জান্তা সরকারও ২০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।