চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত ১৫ বছর ধরে চরম অনিয়ম, অপশাসন ও অস্থিরতা অতিক্রম করেছে। নানা অনিয়মের ফলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
Published : 18 Mar 2025, 09:28 PM
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও দেশে ব্যবসা করছে এমন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্যোগী হতে অনুরোধ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টাকে পোঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ করেছেন সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত ১৫ বছর ধরে চরম অনিয়ম, অপশাসন ও অস্থিরতা অতিক্রম করেছে। নানা অনিয়মের ফলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত রিটার্ন এবং মূলধন হ্রাস পেয়ে বাজার প্রকৃত অর্থে প্রায় ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়ে গেছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।
অতীতে বিভিন্ন প্রতিকূল ঘটনা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি উল্লেখ করে এতে বলা হয়, “১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের ‘স্ক্যামগুলি’ বাজারের আর্থিক সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারের সামগ্রিক অখণ্ডতার স্থায়ী ক্ষতি করেছে। এই সময়ে অসংখ্য কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের মারাত্নক ক্ষতি হয়।”
২০২০ সালে কোভিড মহামারী এবং পরবর্তীতে প্রায় ২০ মাস ধরে শেয়ারের দামের ওপর ‘ফ্লোর প্রাইস’ দেওয়ায় বাজারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এতে আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে গেছে এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
“এই সময়ে মানহীন আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়, যার ফলে বাজারে স্থায়ী তারল্য সংকট ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে,” বলা হয় চিঠিতে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনাকারী সংস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং আর্থিক নিরীক্ষক, রেটিং এজেন্সিসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে আস্থার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ডিবিএ।
চলমান সংকট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে ডিবিএ সভাপতি বলেছেন, “যদি সংকট থেকে বের হয়ে আসতে না পারি, তাহলে আমরা বাজারকে ঘুরে দাঁড়ানোর, এতে শৃঙ্খলা আনার এবং রাষ্ট্রের জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধন সংগ্রহের পরিবেশ তৈরি করার একটি চমৎকার সুযোগ হারাব।”
বাণিজ্যিক ও অবকাঠামো খাতে অসংখ্য লাভজনক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ রয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, “যদি এই সমস্ত সংস্থাগুলি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তবে বাজারে মানের স্টকগুলির ক্রমবর্ধমান সরবরাহ থাকবে যা চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটি বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনবে এবং বাজারে তারল্য সমস্যার সমাধান করবে।”
বাংলাদেশে অনেক বড় বহুজাতিক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে জানিয়ে ডিবিএ বলেছে, “আমরা সরকারকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলিতে থাকা তার অংশীদারিত্ব অফলোড করার জন্য অনুরোধ করছি।”