এর আগে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে; ২৬৪ কোটি ডলার।
Published : 27 Mar 2025, 06:56 PM
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে ২৯৪ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “২০২৪ সালের মার্চের প্রথম ২৬ দিনে রেমিটেন্স আসে ১৬১ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি মাসে রেমিটেন্স বেশি এসেছে প্রায় ৮২ শতাংশ।”
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের মার্চের ২৬ তারিখ পর্যন্ত যে হিসাব প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ৯ মাসে রেমিটেন্সে প্রায় ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪৩ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৬৭০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মতো আগে কখনো এত বেশি রেমিটেন্স আসেনি। ব্যাংকাররা বলছেন এটি দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে; ২৬৪ কোটি ডলার।
আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে; ২৫৩ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব ট্রেজারি শাহিন ইকবাল বলন, “ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স বলা যায়। আর ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে বলে আমি মনে করি।
“রেমিটেন্সে ব্যাংকগুলো ভালো রেট দিচ্ছে। সরকারের প্রণোদনাও আছে। দুটি মিলে অ্যামাউন্টটা আকর্ষণীয়। তাই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বেড়েছে।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো নতুন নতুন সার্ভিসের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানো সহজ করেছে। অন্যদিকে গত ৬-৭ মাসে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম কমেছে।
“এছাড়া মানুষের দেশপ্রেম বাড়ার কারণেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। এটাও অনেক বড় একটা কারণ আমি মনে করি। সামনে ঈদ, তাই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন বেশি।”
চলতি বছর জানুয়ারির শেষ দিকে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২৮ টাকায় উঠে যায়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো ১২৬ দরেও রেমিটেন্স কেনে বলে সংবাদমাধ্যমে আসে।
এমন প্রেক্ষাপটে জানুয়ারির শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্সের দর সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ঠিক করে দেয়। তবে ব্যাংকগুলো এক টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে ডলার কেনাবেচা করতে পারবে।
এমন প্রেক্ষাপটে ওই সময় রেমিটেন্স ও রপ্তানিতে সব ব্যাংককে একই দর দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
এছাড়া ডলার কেনাবেচায় সর্বোচ্চ ব্যবধান (স্প্রেড) এক টাকা রাখার কথা বলেন তিনি।
এসব নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে জরিমানা করার কথাও বলা হয়।