হিন্দু এবং মুসলমান প্রধান রাষ্ট্রগুলিতে রাজনীতিতে ধর্ম চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে পারলে যে আশাতীত সাফল্য অর্জন করা যায়, ভারতের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর অভাবনীয় বিজয় আবার তা প্রমাণ করল। এ বিজয় মোদীর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের কারণে বলা হলেও, তাঁর ক্যারিশমা এ জায়গাটিতেই যে, তিনি জানেন কি করে ধর্মকে “ম্যজিকের” মত ব্যবহার করতে হয়। আর একে ম্যজিকের মত ব্যবহার করতে জানলে, চরম প্রতিকূল পরিবেশেও যে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া যায়, তাই আরেকবার দক্ষতার সাথে দেখিয়ে দিলেন মোদী।

মোদীর এ বিজয় মূলতঃ হিন্দুত্ব ও হিন্দু রাষ্ট্রের চেতনার জয়; যদিও সেক্যুলারিজম হল ভারতের রাষ্ট্রীয় নীতি। বিজেপির ধারাবাহিক এ  বিজয় সেক্যুলার নীতি বা চিন্তাধারার প্রতি ভারতের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অনাস্থারই প্রতিফলন। বাংলাদেশেও জনগণের একটি বড় অংশ সেক্যুলার নীতিকে রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী মনে করেন না। “ইসলামপন্থার” রাজনীতি যারা করেন তারা আবার সেক্যুলার মতবাদকে নাস্তিকতার সাথে এক করে দেখেন। দুটোর মাঝে মৌলিক পার্থক্য তারা দেখতে পান না অথবা চান না।

এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্র কট্টর হিন্দু জাতীয়াতাবাদী বিজেপির পক্ষে ছিল না বলেই সবার কাছে প্রতীয়মান হয়েছিল। নানা কারণে জনগণের স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছিল।গুজরাট দাঙ্গার “নায়ক” মোদী যখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০১৪ সালে ২৮২ আসন নিয়ে ক্ষমতাসীন হন, তখন অনেকে এটা ভেবেছিলেন, গুজরাটের “উন্নয়নের চমক” তিনি সারা ভারতবর্ষে দেখাবেন। তিনিও ভারতবাসীকে নির্বাচনী প্রচারে এমন ধারণা দিয়েছিলেন যে, দেশকে তিনি উন্নয়নের অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু, যে স্বপ্ন তিনি দেশবাসীকে দেখিয়েছিলেন, প্রথম পাঁচ বছরের শাসন শেষে তার অনেকটাই তিনি পূরণ করতে পারেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে হয়েছিল, জনগণের বড় অংশটাই বোধহয় মোদীর উপরে হতাশ।

জনগণের একটা বড় অংশ হতাশ যে ছিল তার লক্ষণ দেখা গেল বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে। বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি ঘটল। অনেকে ভাবতে শুরু করলেন, কংগ্রেস বোধহয় আবার ক্ষমতায় আসছে। আর না ভাবারই বা কি কারণ ছিল। মোদীর শাসন ১৯৭০ সালের পর সবচেয়ে বেশি বেকারের জন্ম দিয়েছে দেশটিতে।

শিক্ষিত তরুণদের মাঝে সারা ভারতেই চাকরির অভাব নিয়ে প্রচণ্ড হাহাকার। নকশালবাড়ী আন্দোলনের সময় পশ্চিম বাংলায় চাকরি যেমন দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠেছিল, অনেকটা যেন তারই প্রতিচ্ছবি মোদীর শাসনে ভারতবাসী দেখতে পেল। শুরুতে মোদী কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও খারাপ ঋণ সামাল দিতে নতুন দেউলিয়া আইনের মতো কিছু শক্ত সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়ায় ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়। দুর্নীতি রোধে পাঁচশ এবং এক হাজার রুপির নোট নিষিদ্ধ করা ছিল অনেকটা অর্বাচীনের মত সিদ্ধান্ত, যা অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেয়। এসবসহ নানাবিধ কারণে প্রবৃদ্ধির হার নেমে যেয়ে অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসে।

নতুন চাকরি তৈরির পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে পাঁচ বছরে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়নের সব সূচককেই ভারতকে পিছনে ফেলে দেয়। ভারতে যখন জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ক্রমশই নিম্নমুখী, বাংলাদেশে তখন তা (বর্তমানে) ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবার মত অবস্থায়। এর ফলে, দেশটি আগামী কয়েক বছরে মাথাপিছু আয়ে ছাড়িয়ে যাবে ভারতকে। এসব কিছুই দলমত নির্বিশেষে ভারতের জনগণের বড় একটি অংশকে হতাশ করে।

ভারতের “সাহায্যে” স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ মাথা পিছু আয়, জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে ভারতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে– এসব সেখানে অনেকের পক্ষেই মানসিকভাবে মেনে নেয়া কঠিন। পাঁচ বছর আগে যেখানে তারা ভেবেছিল মোদী ক্রমান্বয়ে জনগণের জীবনমানকে পাশ্চাত্যের ষ্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যাবেন, সেখানে ভারত যখন বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে, তখন হতাশা আসাটাই স্বাভাবিক।

বিজেপির পাঁচ বছরের শাসনে কৃষকদের কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় হাজার হাজার কৃষক আত্মহত্যা করে। ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনার শিকার কৃষকরা আত্মহত্যা করছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যমতে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সময়কালে ভারতে আত্মহত্যা করেছে ৩,২১,৪০৭ জন কৃষক। গবেষকদের মতে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে আরো বেশি হবে।

আত্মহত্যার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়গুলিতে ঊর্ধমুখী দেখে মোদী সরকার ২০১৬ সাল থেকে কৃষকদের বাৎসরিক আত্মহত্যার সংখ্যা প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। তবে, বর্তমানে গড় আত্মহত্যার সংখ্যা বছরে ১৬ হাজারের উপরে হবে বলে মনে করা হয়। কৃষকদের অবস্থা ক্রমশই সঙ্গীন হবার ফলে মোদীর বিরুদ্ধে মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে স্মরণাতীত কালের বিশাল বিশাল কৃষক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ হয়।

তবে, মোদী তাঁর প্রথম শাসনামলে জোর দেন খোলা স্থানে প্রাতঃকৃত্য করবার হার কমিয়ে আনবার উপর। এ বিষয়ে তিনি সফলতাও পেয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনগোষ্ঠী যে দেশটিতে খোলা জায়গায় প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করে, সেটি হল ভারত। মোদীর শৌচাগার নির্মাণ আন্দোলনের ফলে দেশটিতে খোলা স্থানে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করা জনগোষ্ঠী সরকারী হিসাবে এখন ৫ শতাংশ দাবী করা হয়। যদিও বেসরকারী হিসাবে তা কমপক্ষে এখনো ১৫ শতাংশ বা ২০ কোটি হবে বলে মনে করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, সেক্যুলার নেহেরু থেকে হিন্দুত্ববাদী মোদী, সব সরকারের আমলেই সরকারী বা বেসরকারী যে খাতকেই প্রাধান্য দেয়া হোক না কেন, জাত, পাত, বর্ণ প্রথায় বিভক্ত ভারতে উন্নয়নের মূল অভিগমনটা উপর থেকে তৃণমূলে। ফলে, যে দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার কৃষক আত্মহত্যা করছে, এখনো ২০ কোটির মত মানুষের শৌচাগার ব্যবহারের মত সঙ্গতি নেই, পাশ্চাত্যের মানদণ্ডে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করেন, সে দেশে ২০১৮ সালে ঘোষিত সামরিক বাজেট ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ধনীক শ্রেণী নিজ দেশের শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ না করে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন বিভিন্ন মার্কিন এবং বৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিজেদের নামে হল, ভবন বা চেয়ার করতে। অর্থাৎ, ভারতের বিপুল সংখ্যক দলিত সম্প্রদায় এবং আদিবাসীদেরকে উন্নয়নের ধারায় আনতে, রাষ্ট্র এবং বাক্তি, এ দুই পর্যায় থেকেই রয়েছে প্রবল অনীহা। উন্নয়নের মূল লক্ষ্যটা সেখানে উচ্চ এবং মধ্যবিত্তকে ঘিরে।

উত্তর ভারতের উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীই বিজেপির মূল সমর্থন ভিত্তি, যাদের বড় অংশ হল বর্ণ হিন্দু। এরা সনাতন ধর্মকে যেভাবে বোঝেন, তার সাথে যোজন যোজন ফারাক রয়েছে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর হিন্দু সম্প্রদায়ের, এমনকি পশ্চিম বাংলারও।

দক্ষিণের রাজ্যের ধর্ম এবং বর্ণ নির্বিশেষে অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মনে করেন,তারা উত্তরের ব্রাহ্মণ্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার। তাদের কাছে বিজেপি মূলত এ ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতিরই প্রতিনিধি। ফলে, দক্ষিণ ভারতে বিজেপি বা কোন ধরণের হিন্দুত্ববাদী দল শিকড় গাড়তে পারেনি। এবারের নির্বাচনের ফলাফলেও সেটা দেখা গেছে। তবে, হিন্দুত্ববাদের উত্থানে সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় নিপতিত হয়েছে ভারতের দরিদ্র মুসলমান এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

জনসংখ্যার প্রায় পনের শতাংশ মুসলমান নিয়ে আজকে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। এ মুসলমানদের বড় একটা অংশ হতদরিদ্র এবং দরিদ্র। এ দরিদ্রতার পিছনে সরকারী এবং সামাজিক নীতির পাশাপাশি মুসলমান জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশের মূল ধারা থেকে নিজেদের বিছিন্ন রাখতে চাওয়ার প্রবণতাও দায়ী।

এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই মোদীর পাঁচ বছরের শাসনামলে বিজেপি এবং তার সহযোগী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আর এস এস, শিবসেনা ইত্যাদি দ্বারা নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছে। মোদীর গরু সংরক্ষণ নীতির ফলে বহু মুসলমান শুধু শারীরিকভাবে নিপীড়ন নয়, হত্যাকাণ্ডেরও শিকার হয়েছেন। অনেক সেক্যুলার ভারতীয় মনে করেন, মোদীর আমলে মানুষের চেয়ে পশুর (গরুর) উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার নজির আধুনিক বিশ্বে আর কোন রাষ্ট্রে নাই।

ভারতের মুসলমানরা শ্রেণী নির্বিশেষে সব সময়ই সেক্যুলার রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক দল যত বেশি সেক্যুলার, তত বেশি তারা নিরাপদ বোধ করেছে। যদিও বাস্তবতা হল সেক্যুলার দলগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নানাবিধ কারণে মুসলমানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরেও, হিন্দুত্ববাদীদের থেকে সেক্যুলারদের শাসনে তাঁরা নিজেদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিরাপদ বোধ করে এসেছেন।

লোকসভা নির্বাচনে মুসলমানরা যেমন সাধারণত কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে থাকেন, তেমনি রাজ্যের নির্বাচনগুলিতে যে সমস্ত জায়গায় কংগ্রেসের চেয়েও অধিক সেক্যুলার বাম ফ্রন্টের প্রাধান্য রয়েছে, সেখানে তারা তাদেরকে ভোট দেন।

একটি নির্বাচনে ১৫ শতাংশ ভোট অনেক বড় ব্যাপার। এর সাথে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রায় ২.৫ শতাংশ ভোটও যে বিজেপির বাক্সে যাবে না, এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত ছিল। গত পাঁচ বছরে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন জায়গায় যাজকদের উপর এবং চার্চে হামলা করেছে হিন্দুত্ববাদীরা।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি নারী সমাজের আর্থ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে মোদী সরকার সফল তো হনই নাই, বরং খুব ব্যাপক মাত্রায় না হলেও, নানা হিন্দুত্ববাদীর কাছ থেকে নারীদেরকে সেই পুরানো সময়ে ফিরে যেতে বলা হয়েছে— যে সময়টাকে নারীরা বিভিন্ন প্রগতিশীল মানুষের প্রচেষ্টার পাশাপাশি স্বাধীন ভারতে সেক্যুলার দল এবং নারীবাদীদের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলে পিছনে ফেলে এসেছেন।

বিজেপির পাঁচ বছরের শাসনে নারীদের উপরে সহিংসতা, যৌন নিপীড়নের মাত্রা বেড়েছে। হিন্দুত্ববাদ নামিয়ে আনতে পারেনি ধর্ষণের হার। সংখ্যার বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পরেই সবচেয়ে বেশি নারী ধর্ষিত হয় ভারতে।

ধর্মের বাতাবরণ নারীকে সুরক্ষা দিতে তো পারেইনি, বরং কোনো কোনো হিন্দুত্ববাদীকে নারী-পুরুষের সমনাধিকার, বিধবা বিবাহের বিরোধীতা করাসহ প্রকাশ্যে সহমরণের জয় গান গাইতে দেখা গেছে। অর্থাৎ, “রাম রাজ্য” স্থাপনের নামে ভারতকে অনেক হিন্দুত্ববাদী যেন ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান সেই অন্ধকার যুগে, যে যুগে নারীর মানবিক সত্ত্বাকেই স্বীকার করা হত না।

এতসব ব্যর্থতার সাথে নির্বাচনের কিছু পূর্বে মোদী সরকার পাকিস্তানে অর্বাচীনের মত বিমান হামলা চালিয়ে দেশকে এক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করান। এত ব্যর্থতা নিয়ে সাধারণত কোন দল পুনঃনির্বাচিত হয় না। সবাই তাই ভেবেছিলেন, বিজয়ী হলেও বিজেপির নির্বাচনী ফল গতবারের চেয়ে খারাপ হবে। কিন্তু, সমস্ত জল্পনা কল্পনাকে ভুল প্রমাণ করে দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন নিয়ে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।

নির্বাচনে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী চেতনা, হিন্দু রাষ্ট্র, হিন্দু জাতীয়াতাবাদের শ্লোগান এক নিমিষে ম্যাজিকের মত সব সমস্যার সমাধান হিসাবে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সামনে হাজির হয়েছে। তারাও দলে দলে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে বিজয়ী করে মোদীকে আবার ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছে।

এ বিজয়ের জন্য বিশ্লেষকরা নানা সেক্যুলার দলের কি দুর্বলতা, ভুলভ্রান্তি ছিল এসব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। কিন্তু, অত্যন্ত বাস্তব যে বিষয়টা অনেকে এড়িয়ে যাচ্ছেন সেটা হল, দীর্ঘ সেক্যুলার শাসন জনগণের মনোজগত থেকে হিন্দুত্বের চেতনা দূর করতে পারেনি। তাই তাদের সামনে যখন সেক্যুলারিজমের বিপরীতে হিন্দুত্ববাদী দল উপস্থিত হয়েছে, তারা তার সাথে নিজেদের একাত্মতা বোধ করেছেন।

মনোজগতে সচেতন বা অবচেতনভাবে হিন্দুত্ববাদী চেতনার প্রবল লালন না থাকলে লাল কৃষ্ণ আদভানির নেতৃত্বে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ১৯৯০ সালের রথযাত্রায় এত বিপুল সাড়া পড়ত না। বস্তুত, এ রথযাত্রার মধ্য দিয়েই পরাক্রমশালী দল হিসাবে বিজেপি আবির্ভূত হয়। এরপর আর তাদের পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেদিনের সে রথযাত্রার অন্যতম সদস্য ছিলেন তৎকালীন তরুণ নেতা, নরেন্দ্র মোদী।

এখানে উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সেক্যুলার শাসন যেমন একদিকে হিন্দুত্ববাদের চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছে; তেমনি, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সেক্যুলার রাষ্ট্র তুরস্কে উত্থান ঘটিয়েছে “ইসলামপন্থার“ রাজনীতির। ভারতে হিন্দুত্ববাদী চেতনার আইকন আজকে যেমন নরেন্দ্র মোদী, তুরস্কে তেমনি রেচেপ তাইয়্যেব এরদোগান।

সেক্যুলার এবং তুলনামূলক বিচারে উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মোদীর বিজেপি এবং এরদোগানের এ কে পার্টী (Justice and Development Party) কাজে লাগিয়েছে চরমপন্থার ধারার রাজনীতিকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য। দুটো দলই নিজেদের আসল পরিচয় গোপন করে ক্যামোফ্লাজের আশ্রয় নিয়েছে। অর্থাৎ, নিজেদের দলের সাথে ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করেনি।

বাংলাদেশে জামায়েতের অনেকেই আজকে ভারত এবং তুরস্কের মডেল অনুসারে দল থেকে ধর্মীয় পরিচয় বিযুক্ত করে রাজনীতির মাঠে পুনরায় সক্রিয় হতে চাইছেন। এ ক্যামোফ্লাজের অংশ হিসাবেই বিজেপি এবার নির্বাচনে ছয় জন মুসলমান প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে— যাদের সবাই অবশ্য পরাজিত হয়েছেন।তেমনি, জামায়াতের এ অংশটিও মনে করছে, সব ধর্মের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করেই নতুন দলের যাত্রা শুরু করা উচিৎ।

ভারতে বিজেপির বিজয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জন্য সুখবর।  এতে, তাত্ত্বিকভাবে তাদের রাজনীতির যৌক্তিকতা আরো জোরালোভাবে তারা উপস্থাপন করতে পারবেন। ভারতের উদাহারণ দিয়ে সেক্যুলার মতবাদ যে ব্যর্থ, এ কথা আরো জোরেসোরে তারা প্রচার করবেন।হিন্দুত্ববাদের বিপরীতে “ইসলামপন্থার” রাজনীতি যে কতটা জরুরী, সেটা তাঁরা তুলে ধরবার প্রয়াস পাবেন।

যে হিন্দুত্ববাদ দীর্ঘ সময় ভারতের রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থানে ছিল তাই আজকে মূলধারা। এক সময় ভারতকে মনে করা হত নেহেরুর স্বপ্নের ফসল। ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী হলেও, ভারত কখনোই গান্ধীর দেখানো পথে চলেনি। ভারত দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে নেহেরুর সেক্যুলারিজম এবং সমাজতন্ত্রের পথ ধরে– অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি পরিচলনা করে জাতীয় পুঁজিবাদী শ্রেণীর বিকাশের পরিবেশ তৈরি করে। ইন্দিরা গান্ধী উত্তর কংগ্রেস, নেহেরুর চিন্তার বিপরীতে গিয়ে বাজার অর্থনীতির পথে দেশকে নিয়ে যায়। আর বিজেপি বাজার অর্থনীতির সাথে যোগ করে হিন্দুত্ববাদের।

এ অর্থে আজকের ভারত কোন অর্থেই গান্ধী বা নেহেরু ভারত নয়। আজকের ভারত হচ্ছে বিনায়ক দামোদর সাভারকার আর ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির ভারত। বৃটিশ আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতির বিপরীতে চন্দ্রনাথ বসুর হিন্দুত্ববাদের ধারণা সাভারকার প্রথম সারা ভারতে তুলে ধরেন— যে ধারণার মূলমন্ত্র হচ্ছে সম্মিলিত হিন্দু পরিচয়ই হল ভারতের একমাত্র সত্ত্বা বা পরিচয়। অর্থাৎ,“ইসলামপন্থী” এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদীরা যেমন মনে করেন, তাদের নিজেদের রাষ্ট্র বিশ্বে পরিচিত হবে মুসলিম পরিচয়ে, সাভারকারও মনে করতেন, ভারত বিশ্বে পরিচিত হবে হিন্দু পরিচয়ে।

উপমহাদেশে এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের জনগণের একটা বড় অংশের মুসলিম জাতীয়াতাবাদী চেতনার প্রতি দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করা হত। অপরদিকে, ভারতের জনগণের বড় অংশটি রাজনৈতিকভাবে সেক্যুলার বলে ধরে নেয়া হত। কিন্তু, নব্বই পরবর্তী সময় থেকে এ ধারায় দ্রুত পরিবর্তন আসতে থাকে যার সূত্রপাত এক অর্থে হয়েছিল ১৯৮৪ সালের নির্বাচন থেকে, যে নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবার দুটো আসন পেয়েছিল। খুব অদ্ভুত শোনালেও বাস্তবতা হল ভারতের জনগণের বড় অংশটি আজ পাকিস্তান বা বাংলাদেশের অনেকের মত সেক্যুলার পরিচয় ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইছেন।

তবে, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের রাজনীতি ভারতে টেকসই হবে কিনা তার পুরোটা নির্ভর করছে এ জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে মোদী সরকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবেন কিনা তার উপর। ভারতের মত রাষ্ট্রে যেখানে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে, সেখানে সেক্যুলার দলগুলোর নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবার সুযোগ রয়েছে।

ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের শ্লোগান দিলেও বিজেপি বা অন্য সনাতন ধর্ম নির্ভর দলগুলো ভারতের সংবিধানের পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশটির রাষ্ট্র ধর্ম হিন্দু করবার দাবী তোলেনি। ধর্মীয় শ্লোক বা বাণী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেনি। নারীদের অবদমনকে মাথায় রেখে ব্যাপক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি, যে ধরণের উদ্যোগ মুজাহেদিন ও তালেবান আমলে আফগানিস্থান এবং শিয়াপন্থী “ইসলামী বিপ্লবের” পর  ইরানে দেখা গিয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা হল,ভারতের নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের মত কখনোই তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি। ফলে, চারদিকে বিজেপি, শিবসেনার জয় জয়কার অবস্থাতেও অল ইন্ডিয়া মজলিস ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের মত “ইসালাম ভিত্তিক” দল ২ টি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিমলীগ ৩ টি আসন পেয়েছে। এরাও বিজেপির মত সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।

এ সাম্প্রদায়িক বিভাজন বিজেপির রাজনীতির বড় অস্ত্র। তবে বিভাজনের বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কোথাও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। বর্তমান ভারতই হচ্ছে তার বড় উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি ক্রমশই ভারতের অর্থনীতিকে যেমন স্থবির করে দিচ্ছে, তেমনি সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভারত পিছিয়ে পড়ছে, পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ থেকেও। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভারতের সেক্যুলার দলগুলি যে আবার রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসবে, এটা বলাই বাহুল্য।

সাঈদ ইফতেখার আহমেদশিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিস, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

১৪ Responses -- “হিন্দুত্ববাদী ভারত”

  1. অরবিন্দে কুমার বর্দ্ধন

    মতামতে এ অবস্থার জন্য কারণগুলো উঠে আসলে ভাল হতো। লেখক যেভাবে সুগভীর শিকড় সন্ধানী তথ্য উপস্থাপন করেছেন,এর বিপরীতে কারন সমূহ বিশ্লেষণটাও জরুরী ছিল। যেমন পাক-ভারত উপমহাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান বৈশ্বিক সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট এমন অবস্থার ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে কিনা এ বিষয়গুলোর বিশ্লেষণে উঠে আাসলে পাঠক উপলব্ধিতে সহায়ক হতো। তাছাড়া এ আধুনিক বিশ্বে ব্যাপক শিক্ষিত সমাজে তথাকথিত ভারতীয় সাম্প্রদায়িক দল আর বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক দলের দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান মৌলিক ভিন্নতার বিশ্লেষণ উঠে আসাটাও প্রয়োজনীয় ছিল বলে মনে হয়। যদিও আচ্ছন্ন ভাবে কিছুটা উঠে এসেছে। তবে আরও প্রচ্ছন্ন করার আবশ্যকতা অনুভব করি। ধন্যবাদ

    Reply
  2. Bipul Nath

    The New India mandated to Modi by the 2019 elections has as its theme : “One Country, One Leader, One Religion, One Language,” its policy being “Sam (giving money and titles to the satisfied people), Dan (buying off)), Bhed (creating discords among the enemies) and Danda (punishment).The later three are to be applied step by step to the dissatisfied people, depending upon the circumstances. Anybody disagreeing is free to leave the land, no compulsion.

    Reply
  3. অনির্বান

    পাকিস্তানের নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন ইমরান খান। কিন্তু তাঁর বা পাকিস্তান নিয়ে এ সম্পর্কে কোন মিডিয়া রিপোর্ট ছাপা হলে তা পড়তে গিয়ে দেখা যাচ্ছে দেশী-বিদেশী রিপোর্টার কেউই কোন হোম-ওয়ার্ক বা কোন বাছবিচার ছাড়া পঞ্চাশ বছর আগের বা তারও পুরোনা সব গেঁথে বসা অতি ব্যবহারের ক্লিশে (cliché) ধারণা ব্যবহার করছেন। যদিও সুবিধা হল, কোনগুলা এরকম কোন রিপোর্ট তা চেনার কিছু নির্ণায়ক এখনই বলে দেয়া যায়। যেমন, কোন রিপোর্টে বাক্যের শুরুতে যদি লেখে – ” রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত ক্রিকেটার” অথবা “ক্রিকেট তারকা থেকে প্রধানমন্ত্রী” অথবা “প্রাক্তন প্লেবয় ক্রিকেটার ইমরান”, অথবা “সেনাবাহিনীর পুতুল ইমরান” ইত্যাদি তাহলে বুঝতে হবে এই রিপোর্টারের কাছে একালের পাকিস্তান সম্পর্কে কোন তথ্য নাই, হোমওয়ার্কও কিছু করেন নাই। তাই অন্যের চাবানো পুরান জিনিসই আবার মাটি থেকে কুড়িয়ে নিয়া চাবানো শুরু করছেন। তবে এদেরই আরেক দলের আরেকটা সংস্করণ আছে। আর এদের বাক্য শুরু হবে এমন – “পাকিস্তানি মনোভাব”, “পাকি জেনারেল”, “ক্ষমতালোভী জেনারেল” ইত্যাদি শব্দে। এদেরও একালের কোন পাকিস্তান স্টাডি নাই, এই গ্রুপটা আসলে মূলত ইসলামবিদ্বেষ ও রেসিজম চর্চা করে থাকে। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সেসময়ের পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীর হাতে হত্যা, ধর্ষণ ও নৃশংসতা হয়েছে, আমাদের এই দগদগে খারাপ স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা আছে, অবশ্যই। কিন্তু সে অজুহাতে সে সময়ের পাকিস্তানের শাসক সরকার ও সামরিক বাহিনীকে দায়ী-অভিযুক্ত না করে বরং সাধারণভাবে পাকিস্তানি নাগরিক মাত্রই দোষী অপরাধী, খারাপ লোক – এভাবে অভিযুক্ত করতে চায় এরা। আর হিটলারের মতো বলতে চায়, আসলে এই পাকিস্তানি “জাতটাই খারাপ”, ফলে যেন এটা তাদের “জন্ম দোষ”। রেসিজমের একটা বড় লক্ষণ হল, এরা জাত মানে ইংরাজি রেস (race or racial) অর্থে নৃতাত্ত্বিক জাতের দোষ খুঁজে পায় সবখানে – আর এই অভিযোগের আঙুল তোলা ছাড়া কথা বলতে পারে না। আর ভুলে যায় যে সে নিজেই রেসিজম করছে; এটা রেসিজমের খপ্পরে পড়া! এরা জানে কীনা জানি না যে রেসিজম এর ঘৃণা ছড়ানো একটা আইনি অপরাধ, ক্রিমিনালিটি। যেমন এরা বলবে পাকিস্তানিরা খারাপ (মানে ঐ দেশের সবাই) – কেন? কারণ তাদের “জাতটা” খারাপ। আবার, তাদের জাতটা খারাপ কেন? কারণ তাদের ‘রক্ত’ খারাপ। অর্থাৎ খারাপ ‘রক্তের’ লোক তারা। Pure বা ‘খাঁটি’ রক্তের নয় তাঁরা। হিটলারি রেসিস্ট বয়ানের কমন বৈশিষ্ট্য এগুলা। আর যেমন এই ঘৃণার প্রতীক হল একটা ছোট শব্দ “পাকি”; এক রেসিস্ট অভ্যাস ও ঘৃণা চর্চা। আবার এটার পেছনে আছে এক খুঁটি – ভারতের ‘হিন্দুত্বের’ রাজনীতি, পাকিস্তান যার ‘আজন্ম শত্রু’। তাই আছে এই হিন্দুত্বেরই এক বয়ান বা চিন্তার এক কন্সট্রাক্টশন। হিন্দুত্বের রাজনীতি চায় বাংলাদেশের ‘প্রগতিবাদীদের’ উপর তাদের বয়ান যা মূলত মুসলমান-বিদ্বেষ, তা আধিপত্য বিস্তার করুক, ছেয়ে যাক। ফলে এই রেসিজমের আর এক ভাগীদার ও চর্চাকারি এরা। তাই পাকিস্তান নিয়ে কোথাও কথা বলার ইস্যু থাকলেই এসব কমন বয়ানধারীরা সেখানে ছেয়ে হাজির হয়ে যায়। ফলে এই বিদ্বেষী বয়ান অতিক্রম করে টপকে কিছু করতে গেলে আগে এসব বাধাগুলো উপেক্ষায় পেরিয়ে যেতেই হয়। পরে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ, তথ্য জানা বা বুঝার চেষ্টা বা মনোনিবেশ ঘটানোর কাজটা তাতে কঠিন হয়ে গেলও করতে হয়। বিস্ময়কর ঘটনা হল, এই রেসিজম কত গভীরে বিস্তৃত তা বুঝা যায় বিবিসি বাংলার সর্বশেষ এক রিপোর্ট থেকে। যেমন এমনকি একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান সম্পর্কে অবলীলায় এরা এক সাব-হেডিং লিখছে, “ইমরান খান আসলে কাদের লোক?”। ওদিকে অনেক মিডিয়া নানা রিপোর্ট লিখছে, এসবের মধ্যে একটা কমন বাক্য পাওয়া যাবে যে, দল খোলার ২০ বছর পর ইমরান এবার সাফল্য পেয়েছে। গত ২০১২ সালে এসাঞ্জ ইমরান খানের একটা ইন্টারভিউ নিয়ে তা প্রচার করেছিল। সেটা পড়লে আমরা দেখব, ইমরান কী করে প্রধানমন্ত্রী ইমরান হল, এর পটভুমি কী করে তৈরি হচ্ছে – আর সেসব থেকে এর গড়ে ওঠার অনেক কিছুই স্পষ্ট জানা যায়। তবে মনে রাখতে হবে ইমরানের এই কথোপকথন আজ ২০১৮ থেকে ছয় বছর আগের। এই সাক্ষাতকার আগ্রহীরা এর ইউটিউব ভার্সানও দেখতে পারেন, এখান থেকে। প্রথমত, এসাঞ্জ কেন ইমরানকেই বেছে নিয়েছিল? ইন্টারভিউয়ের শুরুতে এসাঞ্জ সে কথা জানিয়েছেন এভাবে যে, পাকিস্তানের ইসলামি দলগুলোসহ প্রধান রাজনীতিবিদরা (অর্থাৎ বেনজির ভুট্টো পিপিপি বা নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এম দলের নেতারা) আসলে দুমুখো-রাজনীতিবিদ, তুলনায় একেবারেই ব্যতিক্রম হলেন ইমরান। কিভাবে তা এসাঞ্জ জানলেন আর কী অর্থে? তিনি বলছেন, ইমরানের পাবলিক বক্তৃতা আর আমেরিকান কূটনীতিকদের সাথে বলা কথার উইকিলিকস রেকর্ডগুলো নিয়ে তিনি স্টাডি করে দেখেছেন, দুজায়গাতেই ইমরান একই কথা বলছেন। বিপরীতে পাকিস্তানের প্রধান দলগুলোর রাজনীতিবিদরা জনসমক্ষে আমেরিকাকে তুলোধুনো করে যাই বলেন না কেন, রাষ্ট্রদূতের কাছে গিয়ে বলেন ঠিক তার উল্টা। আর ঠিক এ কারণে এসাঞ্জের কাছে ইমরান আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছিল ও তিনি ইমরানের ইন্টারভিউ নেন ও প্রচার করেন। মূল বিষয় হল, আমেরিকান ওয়ার অন টেরর। ইমরানই একমাত্র রাজনীতিবিদ যে সাহস করে আমেরিকার “ওয়ার অন টেরর নীতির” বিরোধীতা করেছে। একনাগাড়ে নিয়মিত আঠারো বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কঠোর সমালোচনা করেছে। জনগণের মাঝে একনাগাড়ে এটা “পাকিস্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া অন্যের যুদ্ধ, আমেরিকার যুদ্ধ” আর এটা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন – এই কথাগুলা স্পষ্ট করে বলে মানুষের মনে ঢুকিয়েছেন। ফলে দল ছোট না বড় সেটা নয়; দলের ব্যাখ্যা বয়ান সঠিক কী না, সঠিক সময়ে ও কার্যকর কী না – সেটা করতে পারাই সাফল্যের চাবিকাঠি – এই নীতিতে নিজেকে পরিচালনা করে গেছেন তিনি। তাই তিনি ভিন্ন ও সফল। বুশ প্রশাসন আমেরিকায় ২০০১ সালে ৯/১১-এর টুইন টাওয়ার হামলার পরে ঐ হামলাকে এবার নিজ যুদ্ধের দামামা আফগানিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার অজুহাত বা সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল। আর একাজেরই লঞ্চিং প্যাড (launching Pad) মানে, নিরাপদে আমেরিকান সৈন্যদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পাটাতন-ভূমি হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছিল ও হুমকি দিয়ে পাকিস্তানকে বাধ্য করে এই ব্যবহার শুরু করেছিল। পাকিস্তানের সরকারের (সাথে বিরোধী দলগুলাকেও) উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বলা হয়েছিল, তাঁরা রাজি না হলে বোমা মেরে পাকিস্তানকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হবে, যাতে মনে হয় পাকিস্তান যেন “পুরান প্রস্তর যুগের” কোনো বদ্ধভূমি। সেটা ২০০১ সালে জেনারেল মোশাররফের আমলের ঘটনা। সেই থেকে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা আমেরিকার এই পাহাড়সম চাপে পড়ে, যা মোকাবেলা করা তাদের জন্য অসম্ভব ছিল; ফলে তা করতে যাওয়ার চেয়ে বরং নিজের পেছনে আমেরিকান সমর্থন জোগাড় করে এক তোষামোদের রাজনীতি করাকেই পাকিস্তানের নিয়মিত রাজনীতির নিয়ম বানিয়ে নিয়েছিল। তাহলে প্রথম সারকথাটা হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা (ও সামরিক বাহিনীও) আমেরিকান চাপের মুখে প্রায় স্থায়ীভাবে নত হয়ে গিয়েছিল। সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজ ও কথা ভুলে গেছিল। ফলে উল্টা এ চাপকেই নিজের ও দলের সান-শওকত ও সাথে অর্থ আয়ের উপায় হিসেবে নিয়ে ফেলেছিল। এটাই ছিল মারাত্মক। অর্থাৎ পাকিস্তান “আমেরিকার হয়ে যুদ্ধ করা” শুরু করেছিল। আর এতে ভারতসহ প্রগতিবাদীরা প্রপাগান্ডা শুরু করেছিল যেন আমেরিকায় আলকায়েদা আক্রমণ যেন পাকিস্তান সরকারই করেছিল। দ্বিতীয় কথাটা হল, ইমরানই একমাত্র রাজনীতিবিদ যে “আমেরিকার হয়ে যুদ্ধ করা”- এই অবস্থাটারই কঠোর বিরোধিতা করে সেই থেকে তাঁর সব বক্তৃতায় তা আনা শুরু করেছিল। স্বভাবতই শুরুতে সে স্বর ছিল খুবই ক্ষীণ, যেন অবাস্তব আপ্তবাক্যের কিছু ভাল ভাল কথা তিনি আওড়াচ্ছেন। একারণে, যেমন দেখা যাচ্ছে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত নিজ দেশে “কেবল পাঠিয়ে” নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, “খান (ইমরান), আরে উনি তো আসলে উনার দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের একা ‘এক ব্যক্তির শো” এর নেতা। তাই উনি যাই বলুক তাতে তো উনার হারানোর কিছু নাই। তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা আর ভুমিকা হল, রাজনীতিতে তাঁর নিজের তৈরি এক আদর্শের নীতি আকঁড়ে খামাখা ঝুলে থাকা। তবে পাকিস্তানের শিক্ষিত-জন এবং যারা বিদেশে কষ্টকর শ্রম দিয়ে দেশে অর্থ পাঠায়, এদের মাঝে তিনি খুবই জনপ্রিয়। যদিও রাজনীতিক দল হিসাবে তিনি নিজের জন্য কোন সফলতা আনতে পারেন নাই। কিন্তু ইমরানের এই শক্ত রাজনৈতিক ভুমিকা অবস্থান নিবার পরে তাতেও প্রথম দিকে ইমরানের পক্ষে বড় কোনো ব্যাপক প্রভাব পড়েনি। কারণ, তখনও পাকিস্তানের উপর আমেরিকান চাপ প্রচণ্ড। বরং বুশ প্রশাসনের দ্বিতীয় টার্মেও (২০০৫-৯), বুশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (মন্ত্রী) কন্ডলিসা রাইসের এক বাড়তি চাপ আরোপের সময় সেটা। তিনি জেনারেল মোশাররফকে চাপে বাধ্য করছিলেন যেন তিনি সিভিলিয়ান মুখ হিসেবে বেনজির ভুট্টোকে ধুয়েমুছে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। ধুতে হবে কারণ বেনজির ইতোমধ্যেই স্বামীসহ দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত ও মধ্যপ্রাচ্যে পলাতক ছিলেন। মোশাররফ সে কারণে বেনজিরের দুর্নীতি “মাফ করে দেয়ার এক আপসনামা” বা ‘ন্যাশনাল রিকনসিলেশন অধ্যাদেশ’ (NRO), অক্টোবর ২০০৭ সালে জারি করেছিলেন। এক কথায় বললে, এটা ছিল প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ বেনজির ভুট্টো-জারদারিসহ ৩৪ জন রাজনীতিবিদিদের জন্য মোশারফের “সাধারণ ক্ষমা” ঘোষণা। কারণ কন্ডলিসা বুবু আদেশ করেছেন। কন্ডলিসা তার সম্প্রতি প্রকাশিত বইয়ে এ কাজের জন্য তিনি বুশের প্রশংসা পেয়েছিলেন, সে কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তবু ইমরান আপসহীনভাবে এগিয়ে গেছেন, বেনজিরকে ক্ষমতায় আনার ২০০৮ সালের সেই নির্বাচনেও অংশ নেননি। উল্টো মোশাররফ-বেনজির আঁতাতকে – এরা বুশ প্রশাসনের পাপেট বলে চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি সাহস করে বলতেন, এই আঁতাত জোট বুশের আর এক পাপেট সরকার কায়েম করতে চায় যারা নিজ জনগণের ওপর বোমা ফেলে তাদের মারতে দ্বিধা করে না। অর্থাৎ নিয়মিতভাবে আমেরিকার ‘ওয়ার অন টেরর’ নীতির বিরোধিতা করা আর সাথে NRO অধ্যাদেশ ও বেনজিরের দুর্নীতির বিরোধিতা – এসবই ইমরান জারি রাখতেন। সে কারণেই আমেরিকান রাষ্ট্রদূত স্বীকার করছেন, ইমরান ওয়ান ম্যান শো হলেও “পাকিস্তানের পড়ালেখা জানা শ্রেণী আর বিদেশে কষ্ট করে আয় করে যারা দেশে অর্থ পাঠায় – এদের মাঝে ইমরানের বিপুল জনপ্রিয়তা’ আছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে প্রচলিত “ওয়ার অন টেররে” দেশী-বিদেশী ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে পাল্টা এক আমেরিকা-বিরোধী পাবলিক সেন্টিমেন্ট জমা হতে থাকে। সেই সাথে প্রশ্রয় পাওয়া “দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরও” বিরোধী হয়ে উঠে পাবলিক সেন্টিমেন্ট। ফলে এটাই জনগণের মাঝে এক নতুন “রাজনৈতিক পরিসর”, এক গণ-ঐক্য তৈরি করে ফেলেছিল। তবে তা অগোচরে, সাধারণ চোখে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন না রেখে, এক নতুন প্রজন্ম জন্ম নেয়া শুরু হয়েছিল এখান থেকেই। আর ইমরানের উত্থান এরই মাস্তুলে বসে থেকে। তিনি প্রায়শ তুলনা করে বলেছেন, তিনি সারা জীবন ক্রিকেট খেলে, বিদেশে কামিয়ে দেশে সে অর্থ এনেছেন। একারণে তার বিদেশে একাউন্ট বা কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নাই। আর অন্যেরা উলটা অর্থ বিদেশে পাচার করে। তারা রাজনীতিতে আমেরিকান চাপের কথা বলে এর আড়ালে অজুহাতে আমেরিকাকে সেবা করেছেন আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে নিজের নামে অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। অন্য রাজনীতিবিদের সাথে ইমরানের এই রাজনৈতিক অবস্থানের মৌলিক ফারাক, এটাও সেনাবাহিনীকে ইমরানের কাছে আসতে ও আস্থা রাখতে অন্তত একটা কারণ হিসাবে সাহায্য করেছে। কারণ, এই ২০১৮ সালে এসে, আমেরিকার যুদ্ধ করতে করতে ইতোমধ্যে এই অবস্থার উপর পুরাই ক্ষুব্ধ ও হতাশ সেনাবাহিনী। অন্য রাজনীতিকরা সেনাদের হাতে ডিকটেটেড হত, আর ইমরানের অবস্থান তার উপর সেনাদের আস্থা ও তাদের মধ্যে এক অবস্থানগত ঐক্য তৈরি করেছে। পাকিস্তানের বিচার বিভাগও এক ভায়াবল সরকারের স্বপ্ন দেখছে। আজ ইমরান ক্ষমতায় এসেছেন এমন এক অবস্থায় যখন দুর্নীতিতে খোকলা হয়ে পড়া পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থার দশা খুবই শোচনীয়। মানে দেশের খুবই খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিপক্ষে। ১২ বিলিয়ন ডলার তাকে ঋণ নিতে হবে, আমেরিকা রাজি থাকলে আইএমএফের কাছ থেকে। আর ডাটফাট দেখালে এর বিকল্পও আছে। বাধ্য হয়ে পাকিস্তান সৌদিরাষ্ট্র ও রাজনীতির স্বার্থে ইয়েমেন যুদ্ধের দায় নিয়ে বিনিময়ে ঋণ পেতে হবে। সুবিধা একটাই, অর্থ নিয়ে বসে আছে সৌদিরা। ইমরান যদিও সৌদিদের ইয়েমেন-যুদ্ধে পাকিস্তানের জড়ানো উচিত না বলে গত ৫-৭ বছর আগে শুরু থেকেই নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে আসছিলেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইমরানকে সাময়িক সেই অবস্থান স্থগিত করে তুলে রাখতে হবে। সৌদি ঋণ পাবার স্বার্থে সাময়িক এই অবস্থান নিতে হবে। ওদিকে আর কিছু অংশ ঋণ চীনের কাছ থেকে পেতে হবে, তারাও রাজি, ইতোমধ্যে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পাকিস্তান সফরে কথা হয়েছে। তবু সবমিলিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বুকবাধা আশা – এটা নতুন এক পাকিস্তান হবে, তাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দিশা দেখাবেন। কঠিন পথ হলেও ইমরান নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে আগিয়ে নিবেন। নিঃসন্দেহে, এ’এক বিরাট চ্যালেঞ্জ!

    Reply
  4. নিত্যানন্দ যাদব

    যে কোনও সাম্রাজ্যের উত্থান হলে সে সাম্রাজ্য একদিন চরম শিখরে আরোহণ করে, তারপর একদিন তার পতন অনিবার্য। এ হলো ‘ল অফ নেচার’, যাকে বলে প্রকৃতির সূত্র। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যপাট সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ব্যতিক্রম হয় কী করে! আসলে আমরা অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে নিজেদের মহাপন্ডিত বলে মনে করি, কিন্তু বহু ক্ষেত্রে মাটির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকে না। অথচ অর্ধশিক্ষিত এক গ্রামবাসী, বাস স্ট্যান্ডের কন্ডাক্টরদের মাছ-ভাতের প্লেট পরিবেশন করতে করতে আমাকে কী অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস জেলায় জেলায় দিদিকে প্রধানমন্ত্রী করার স্লোগান দিয়েছিল, কিন্তু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মোদী কিভাবে ফিরে এলেন, তাও তো আজ সকলের সামনে উন্মোচিত। আসলে কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন সিপিএম ১৯৭৭ সালে ক্ষমতাসীন হয়, তারপর থেকে রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা এক মস্ত বড় প্রচারের হাতিয়ার হয়। কেন্দ্র-বিরোধী এক বিদ্রোহের রাজনীতির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সিপিএমের কাছ থেকে মমতা গ্রহণ করেছেন। মমতার রাজনীতি সম্পর্কে অনেকে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস হলো ‘খারাপ সিপিএম’-এর পরিবর্ধন। সিপিএমের মৌলিক নীতি দেখেই মমতার রাজনীতি পরিপক্কতা পেয়েছে। তাই মমতা নিজেও কিন্তু পশ্চিমবাংলায় কোনওদিনই দক্ষিণপন্থী রাজনীতি করেন নি। সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে তো ভোটটা নষ্ট করা।” ঠিক একই কথা আমি কলকাতার শহুরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত বাবু সমাজের মুখ থেকেও শুনেছিলাম। এমনকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত বলছিলেন বিজেপিকেই ভোট দিতে হবে। প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। বামপন্থীদের রাজনৈতিক পরিসর দখল করছে বিজেপি। স্বাধীনতার বহু পরে ১৯৭৪ সালে ভারতের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অন্তর্ভুক্ত হলেও বাস্তবে সেটা কাগুজে পরিণত। ধর্মনিরপেক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কংগ্রেস নেতৃত্বের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেই ধর্মভিত্তিক পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তুলেছিলেন। তবে ভারত বিভাগের জন্য কেবল জিন্নাহ একা দায়ী ছিলেন না। কংগ্রেস নেতৃত্বও সমান ভাবে দায়ী। নির্বাচনে বিজয়ী নির্বাচিত সরকার মাত্রই গণতান্ত্রিক নয়। বিশ্ব ইতিহাসের নিন্দিত হিটলার, মুসোলিনীও কিন্তু জনরায় নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছিল। দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতায় থাকাই শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তোলে। এক্ষেত্রে প্রতিটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় থাকা সরকারসমূহের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হবে না। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি’র ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে রাজ্যে–রাজ্যে ক্ষমতা প্রাপ্তিতে দলটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ তক্‌মা মুছে দেবার নানা অপকীর্তি সংঘটনে মেতে উঠেছে। বামদুর্গ খ্যাত ত্রিপুরা ইতিমধ্যে বিজেপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দখলে নিয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আসামসহ বিভিন্ন রাজ্য। পশ্চিম বাংলায় ৩৪ বছর বামফ্রন্টের শাসনাধীন থাকলেও বামফ্রন্টের পতন ঘটে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় নানা স্বেচ্ছাচারীতায়। বামফ্রন্টের সুযোগ–সুবিধাভোগীরা পরবর্তীতে ওই সুবিধার লোভে দলে দলে এখন ক্ষমতাসীন তৃণমূলে। ভবিষ্যতে এই সুবিধাভোগীরা মতাসীন যে কোনো দলে যোগ দেবে, সেটা খুবই স্বাভাবিক। তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। গত দুইটি বিধানসভার নির্বাচনে সেটা দেখা গেছে। বিজেপি’র সারা ভারতে জয়–জয়কার হলেও পশ্চিমবাংলায় তাদের ছিল দুরাবস্থা। বিজেপির রথের চাকা পশ্চিম বাংলায় প্রায় অচলই ছিল। বিজেপি’র অবস্থার বদল ঘটতে কিন্তু বিলম্ব ঘটেনি। দেশভাগে পূর্ববাংলা প্রত্যাগতরা প্রায় সবাই এদেশে এসে বামপন্থায় প্রত্যক্ষ বা পারোক্ষ যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু পরের প্রজন্মরা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর হতে এযাবৎ যারা এসেছে তারা সবাই আচানক বিজেপির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই বাস্তবতা। আসামে এবং ত্রিপুরায়ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূর্ববঙ্গীয়রা বিজেপির ভোটব্যাংক হয়ে পড়েছে। বাঙালি সারাক্ষণ জাতীয় রাজনীতির স্রোত থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে, তারা উন্নাসিক – এটা কিন্তু বাঙালির আসল পরিচয় নয়। যারা এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছেন, তারাই ওরকম একটা স্টিরিওটাইপ রাজনৈতিক ক্লাইমেট তৈরি করেছেন। কিন্তু তাতে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। বাংলায় আসল পরিবর্তন এখনও আসেইনি। কিন্তু তা অবশ্যই আসবে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বহুবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল তাদের জয় করার লাস্ট ফ্রন্টিয়ার।

    Reply
  5. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    গত দশ বছরে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে বাংলাদেশে। এক্ষেত্রে মোটা দাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কোনগুলি?
    বিবিসির বিচারে এরকম পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে:
    ১. কর্তৃত্ববাদী শাসন
    ২. সমাজ ও রাজনীতির ইসলামীকরণ
    ৩. বিকাশমান অর্থনীতি
    ৪. নয়া প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া বিস্তার
    ৫. বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটার
    এসব পরিবর্তন নিয়ে বিবিসি বাংলা কথা বলেছে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। জানার চেষ্টা করেছে এই পরিবর্তনগুলি কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে এবারের নির্বাচনে:
    বাংলাদেশের সরকার ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ
    ২০০৮ সালের সঙ্গে ২০১৮ সালের বাংলাদেশের যে বিরাট পরিবর্তনের কথা অনেকে উল্লেখ করছেন, তা হচ্ছে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন।
    দশ বছর আগে বাংলাদেশে যখন নির্বাচন হয়েছিল, তখন তার আগের দুবছর দেশটির ক্ষমতায় ছিল একটি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
    নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসছে বলে তখন একটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর প্রকাশ করা এক রিপোর্টে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে নতুন পাঁচ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের কাতারে ফেলেছে।
    ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে নির্বাচনটি হয়েছিল, সেটি ছিল কার্যত একতরফা নির্বাচন, যেখানে প্রধান বিরোধী দলের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। গুম কিংবা বিচার বহির্ভূত হত্যার ব্যাপক বিস্তার এক ধরণের ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ডেমোক্রেটিক স্পেস ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হয়েছে- কথা বলার জায়গা, মত প্রকাশের জায়গা, সমাবেশের জায়গা, প্রতিবাদের জায়গা, সেগুলো সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে সেই শক্তির ভূমিকা প্রবল হয়েছে, যাদেরকে বর্ণনা করা হয় ‘ডীপ স্টেট’ বলে। “যে কোন পরিস্থিতিতে যখনই রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়, তখন শক্তিপ্রয়োগের ধারা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। তখন যাদেরকে ‘ডীপ স্টেট’ বলে চিহ্ণিত করা হয়, তাদের ভূমিকা বাড়াটা স্বাভাবিক।” বাংলাদেশে বিগত কয়েক দশকের মোটা দাগের যে রাজনৈতিক বিভাজন, যার একদিকে আওয়ামী লীগ এবং আরেক দিকে বিএনপি, সেই অবস্থায় পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সমাজে রক্ষণশীল ইসলামী দল এবং গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সামাজিকভাবে বাংলাদেশে যে ইসলামীকরণ হয়েছে, তাতে করে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এই ধরণের সামাজিক শক্তির গ্রহণযোগ্যতা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিকভাবেও ইসলামপন্থী এই শক্তি, যাদেরকে আমি রক্ষণশীল ইসলামপন্থী শক্তি বলি, তারা শক্তিশালী হচ্ছে। সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি তাদের প্রভাব বিস্তার ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।” এর পাশাপাশি বড় দলগুলোর শক্তিক্ষয় ঘটছে, আর সেই শূন্য স্থান দখল করছে ইসলামপন্থীরা। “এখন তাহলে আপনার সামনে চয়েসটা কি। আপনি কি গুলিতে মারা যাবেন নাকি ফাঁসিতে মরবেন। আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, এটিকে আমরা বলি একটা নয়া ঔপনিবেশিক পরিস্থিতি। যেখানে আপনার যে কোন চয়েসই আপনাকে খারাপ দিকে নিয়ে যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি বিদ্রোহ করতে না পারেন। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি। রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর এই উত্থানের পেছনে রাষ্ট্রক্ষমতারও প্রচ্ছন্ন একটা সমর্থন আছে। ২০১১ সালের পর থেকে, বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের মধ্যেকার তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থী ধারা দুর্বল হয়েছে; অতীতের ভুল রাজনীতি, সাংগঠনিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত, বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদি তাঁর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল এই সংস্কারপন্থীদেরকেই তাঁদের চ্যালঞ্জ বলে বিবেচনা করায় এই ধারাটিকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে ফেলার চেষ্টা করেছে এবং তাতে বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে। এই জন্যে শক্তি প্রয়োগ, বিচারিক ও বিচার বহির্ভূত ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছে এবং সিভিল সোসাইটির একটি অংশ ও গণমাধ্যম তাতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টার ফলে দলগতভাবে জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু আদর্শিকভাবে ইসলামপন্থার আবেদন হ্রাস পায়নি, ইসলামপন্থীদের শক্তিও খর্ব হয়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবেও আসলে সমর্থন পাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলো। সমাজে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হচ্ছে, রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় তাদের সঙ্গে পুরোনো মধ্যবিত্তের একটা বিরাট ফারাক দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হয়েছে, তাদের মধ্যে আসলে গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, এগুলোর ব্যাপারে এক ধরণের অনীহা আছে। কারণ হচ্ছে, এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব, বিকাশ, সবই ঘটছে আসলে এক ধরণের অস্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। এরকম একটা মেরুদন্ডহীন মধ্যবিত্ত শ্রেণী, জাতিকে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিতে পারে না। বাংলাদেশের বিপর্যয়টা এখানেই। সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

    Reply
  6. এস আর অনির্বান

    আমি বেশি কথা বলতে চাই না। যে দেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সে দেশের লোকেরা এতো বড় বড় কথা বলে কিভাবে। কি আর বলবো , এটাই তাদের প্রকৃতি গত স্বভাব।

    Reply
    • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      আর যাই হোক এদেশের মানুষ ভারতের মানুষের মতো মনে ধর্মান্ধতা ধারণ করে মুখে সেক্যুলার ভাব দেখায় না।

      Reply
  7. আল মামুন

    এলোমেলো আলোচনা হলেও লেখককে ধন্যবাদ সত্যিটা তুলে ধরার জন্য৷ ভারতে হিন্দুত্বের জাগরণের কারণ যে ইসলামপন্থীদের উত্থান এটা সবাই বোঝে৷ দেশভাগের এতবছর পরেও যে বাংলাদেশ পাকিস্তান ইসলামপন্থী রয়ে গেছে তার প্রভাব অনস্বীকার্য৷ গণতন্ত্রের দায় কি শুধু হিন্দুদের তা তো নয়৷ মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক থাকলে অস্তিত্বের স্রার্থে হিন্দু হতে হয়৷

    Reply
  8. সৈয়দ আলি

    ভারতের হিন্দুত্ববাদী ভোটারদের সাথে বাংলাদেশের (যখন ভোট দিতে পারে) ভোটারদের সুতীক্ষ্ণ পার্থক্যটি এই যে, ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার, বাংলাদেশে তখন ইসলামপছন্দ বা তথাকথিত ইসলামীরা ভোট পায় গড়ে ৪% (এ বিষয়ে অতীতে মুজতবা হাকিম প্লেটোর একটি চমৎকার গবেষণামূলক লেখা মতামত বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে)। এ থেকে নির্দ্ধিধায় বলা যায়, ভারতে জনগণ তথা ভোটাররা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস বেশী।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      শাবাশ জনাব সৈয়দ আলী! আমরা ধর্মভীরু; ধর্মান্ধ নই, আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি; অধার্মিক নই, আমরা অপরের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; বিদ্বেষী নই, আমরা একই মায়ের সন্তান; আমরা বাংলাদেশী। এটাই আমাদের মূল পরিচয়। আর, এই পরিচয়ের ভিত্তিতেই মুক্তিযোদ্ধারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, দেশ স্বাধীন করেছিলেন; কোন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক!

      Reply
      • এস আর অনির্বান

        আমি বেশি কথা বলতে চাই না। যে দেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সে দেশের লোকেরা এতো বড় বড় কথা বলে কিভাবে। কি আর বলবো , এটাই তাদের প্রকৃতি গত স্বভাব।

      • সৈয়দ আলি

        ধন্যবাদ সরকার জাবেদ ইকবাল, এতদিন কোথায় ছিলেন? অনেকদিন আপনার কোনো সাড়া নেই! হিন্দু সংস্কৃতির অন্য জাতিকে ছোঁয়াছুঁয়ির প্রথা হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক করেছে। পত্রিকায় হয়তো দেখেছেন, সরাসরি গরুর মুত্র পান করছে শিক্ষিত মানুষ। এ থেকে বোঝা যায় মুসলমানদের আধুনিক হওয়ার হেদায়েত করলেও নিজেরা কোন ভাগাড়ে পড়ে আছে। এরাই হিন্দু ভারত বিনির্মান করছে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব অনির্বান,

        ধর্ম অন্তরের বিষয়। তা ঘোষণা দিয়ে পালন করার প্রয়োজন হয় না। যার যার বিশ্বাস অনুযায়ী সে তার ধর্ম পালন করবে। কোন একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া হলে অপর ধর্মগুলোকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। ইসলাম অপরাপর ধর্মকে অশ্রদ্ধা করার শিক্ষা দেয় বলে আমি মনে করি না। জানেনতো, নবীজি (সা:) মূর্তিপুজারীদেরকে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ বরাদ্দ করতেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—