সত্তর এর নির্বাচনে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিজয়ী মেজরিটি পার্টি হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দাবিদার হয়েছিল। কিন্তু তদানীন্তন সরকার পশ্চিম পাকিস্তানি কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক কুচক্রীদের মন্ত্রণায় আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ না জানিয়ে নানা টাল-বাহানা করছিল। নানা বাহানায় সময় ক্ষেপন করছিল আর নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য এবং অস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) আমদানি করছিল।

এমন পরিস্থিতিতে সারা বাংলার গণমানুষের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসীম ধৈর্য্য আর প্রজ্ঞা নিয়ে ধাপে ধাপে ইতিহাসের পথে পা ফেলেছিলেন। মার্চ’৭১ এর ৭ তারিখ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় দেওয়া ভাষণে জনগণকে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, জনগণকে যেভাবে একতাবদ্ধ করেছিলেন, উদ্বেলিত করেছিলেন, তা মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে বিরল। এমন ঘটনা এই জাতির ইতিহাসে ওই একটিবারই ঘটেছিল।

আমাদের এই লেখা হলো বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের বিশুদ্ধতা রক্ষা, এবং সেটার প্রতি আমাদের এবং ইতিহাসের দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে।

আমরা জানি সম্প্রতি ইউনেস্কো এই ভাষণকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই এই ভাষণ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো মানব জাতির সম্পদ। একইসাথে এখন এই ভাষণ আমাদের পবিত্র সংবিধানের অংশও বটে।

Center for Bangladesh Genocide Research (CBGR) অনেকদিন ধরেই এই ভাষণের যথাযথ লিখিতরূপ তৈরি করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে আমরা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ‘চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর’ এর সাদাকালো ভিডিও থেকে প্রথম লেখ্যরূপ তৈরি করি যেটা আমাদের ওয়েবসাইটে বিদ্যমান (www.cbgr1971.org)।

পরবর্তীতে আমাদের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে আমরা বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যম ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই ভাষণের লিখিতরূপ,অডিও এবং ভিডিও জোগাড় করেছি। সেগুলো একে অপরের সাথে মিলাতে গিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি আমাদের চোখে পড়েছে।

আমাদের প্রাথমিক প্রয়াস ছিল সব মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত অডিও এবং ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে এই ভাষণের যথাসম্ভব সবটুকু এবং সঠিক লিখিতরূপ তৈরি করা। আমরা শেষ পর্যন্ত নিম্নের মাধ্যমগুলো থেকে প্রাপ্ত অডিও এবং ভিডিও থেকে এই ঐতিহাসিক ভাষণের লেখ্য রূপ তৈরি করার চেষ্টা করি।

১. বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ‘চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর’- এর  ভিডিও।

২. বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’ এর সাদাকালো ভিডিও।

৩. আইসিটি অধিদপ্তর (রঙিন) এর ভিডিও। (দুই এবং তিনে মূলত একই দৈর্ঘ্যের ভাষণ রয়েছে। শুধু একটি সাদাকালো এবং অপরটি রঙিন।)

৪. এছাড়াও  আমরা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ‘বাংলাদেশ বেতার’ থেকে একটা অডিওরূপ জোগাড় করতে সক্ষম হই।

এই চার মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত চারটি লিখিতরূপ আমরা স্প্রেডশিটে প্রতিটি বাক্য আলাদা আলাদাভাবে পাশাপাশি বসিয়ে লিপিবদ্ধ করি। প্রতিটি অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডিং বারবার শুনে ও প্রয়োজনে উচ্চারিত শব্দের সাথে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ ও ঠোঁট মেলানো পর্যবেক্ষণ করে আমরা এই ভাষণের একটি পূর্ণাঙ্গরূপ তৈরি করার চেষ্টা করেছি। যে শব্দগুলো নিয়ে সংশয় বোধ করেছি সেগুলো নিয়ে নিজেদের ভিতর আলোচনা করে যে শব্দটি আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়েছে, আমরা সেই শব্দটিই ব্যবহার করেছি।

আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমরা ভাষণের ভাষাগত কী রূপ দিবো। আমরা কি প্রমিত উচ্চারণ ব্যবহার করবো নাকি বঙ্গবন্ধু ঠিক যেভাবে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন সেভাবেই রাখবো? পরিশেষে আমরা বঙ্গবন্ধু ঠিক যেভাবে উচ্চারণ করেছেন, আমরা প্রতিটি শব্দ সেভাবে কিংবা সর্বোচ্চ কাছাকাছি লিখিতরূপ দেবার চেষ্টা করেছি। এভাবে আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব একটি শুদ্ধ প্রতিলিপি দাঁড় করানোর চেষ্টা আমরা করেছি এই ঐতিহাসিক দলিলের।

সমস্যা শুরু হয় তারপরে। আমরা আমাদের তৈরি করা এই ভাষণের লিখিত রূপের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই ভাষণের লিখিতরূপ মিলাতে গিয়ে আমরা ভীষণ বিব্রত হই। এর মধ্যে এমন কি আমাদের পবিত্র সংবিধানে যুক্ত করা সংস্করণও রয়েছে! প্রায় প্রতিটি মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন রূপ দেখতে পাই এই অমূল্য ভাষণের। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই ভাষণের কোনও একক অফিসিয়াল বা সরকারি সংস্করণ নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ৭ মার্চের ভাষণের কথাগুলো এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রকাশনাগুলো সামনে নিয়ে বসলে খুব সহজেই তাদের মধ্যে বেশ কিছু তফাৎ চোখে পড়ে। এর একটা বড় কারণ হলো সরকারিভাবে এই ভাষণের কথাগুলো সংরক্ষণ না করা।

আমরা যখন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত এই ঐতিহাসিক ভাষণের বাক্যগুলো একে অপরের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, তখন অনেকগুলো অসামঞ্জস্যতা এবং অসঙ্গতি আমরা এর মধ্যে পেয়েছি। এই সব অসঙ্গতির মধ্যে কিছু ছিল ভাষাগত, কিছু উচ্চারণগত, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক বা একাধিক বাক্য ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা গিয়েছে যে, ভাষণে এমন কিছু শব্দ যুক্ত হয়েছে যা বঙ্গবন্ধু একেবারেই উচ্চারণ করেন নাই।

কয়েকটা উদাহরণ এখানে দিলে বুঝতে সুবিধা হবে।

তিনি বলেছিলেন ‘আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন।’

কিন্তু সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনায় লেখা হয়েছে- ‘আপনারা সকলে জানেন এবং বোঝেন।’

তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষ তার আত্মঅধিকার চায়।’

কিন্তু সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনায় লেখা হয়েছে,‘বাংলার মানুষ অধিকার বা তার অধিকার চায়।’

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে।’

কিন্তু সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনায় লেখা হয়েছে হয়েছে- ‘মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহে সভা হবে।’

তিনি বলেছিলেন, ‘রিকশা ঘোড়াগাড়ি চলবে, রেল চলবে, সব চলবে, লঞ্চ চলবে।’

কিন্তু সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনায় লেখা হয়েছে হয়েছে- ‘রিকশা গরুর গাড়ি, রেল চলবে, সব চলবে, লঞ্চ চলবে।’

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে। সংবিধানের পঞ্চম তফসিল এর ১৫০(২) অনুচ্ছেদে ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ’ অংশটি যুক্ত করা হয়। সেই প্রতিলিপিতেও আমরা বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করি।

আমরা মনে করি, এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণটি যখন আমাদের সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল তখন এটি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হওয়া জরুরি ছিল। আমাদের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণে এবং সংবিধানের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে ভাষণটির একটি নির্ভুল রূপ থাকা জরুরি।

সেই উপলব্ধি থেকে আমরা এই ভাষণের একটি যথাসম্ভব শুদ্ধ প্রতিলিপি তৈরি করার উদ্যোগ নিই, যাতে করে একটি নির্ভুল সম্পূর্ণ ভাষণ সবার সামনে তুলে ধরা যায়। আশা করি ভবিষ্যতে এটি নিয়ে যে বা যারা কাজ করবেন তাদের জন্য এটি সহায়ক হবে। কাজটি আমরা গ্রহণ করি ব্যক্তিগত এবং জাতীয় দায়বদ্ধতা থেকে এবং শুরু করি একটি গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

এখানে আমাদের এই গবেষণার কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে চাই-

  • আমাদের প্রতিলিপি তৈরি করতে আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত অডিও, ভিডিও এবং প্রকাশিত লেখার সাহায্য নিয়েছি। এছাড়াও ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সকল প্রকাশনা যেখানে ৭ মার্চের ভাষণ রয়েছে সেগুলোকেও আমরা সংগ্রহ করেছি ও গবেষণায় সংযুক্ত করেছি।
  • আমরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছি এবং তারপর নিজেদের ভিতর আলোচনা করে সর্বশেষ রূপ তৈরি করেছি।
  • বঙ্গবন্ধুর উচ্চারণ এবং বাচনভঙ্গি যতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করেছি। এবং ঠিক সেভাবেই ভাষণের লেখ্যরূপে রাখার চেষ্টা করেছি।

আমরা বুকে হাত রেখে বলতে পারবো না যে আমাদের করা এই কাজটাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওপর করা একদম সঠিক লিখিতরূপ। তবে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারবো যে আজ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক ভাষণের উপরে যত কাজ হয়েছে, তার মধ্যে এটা সব চাইতে বিস্তারিত এবং গবেষণাপ্রসূত।

আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এটা নিয়ে আরো অনেকে কাজ করবেন এবং তখন আমাদের এই প্রচেষ্টাটুকু তাদের কাজে লাগবে।  আমাদের এই প্রচেষ্টায় বিভিন্ন গুণীজন বিভিন্নভাবে সহায়তা করে শরিক হয়েছেন। ড. সালমিন সুলতানা, শাহরিয়ার মামুন, ড. মেহরাজ জাহান, ড. হাবিবুল হক খোন্দকার, হাসান মাহমুদ, মেহদি সাত্তার, ড. ফারুক শামসুজ্জামান, মাসুদা আক্তার, সুকোমল মোদক, এবং রাজিবুল বারী পলাশ। এদের কাছে আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা।

জয় বাংলা।

cbgr1971.org, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র।

 

সি বি জি আর- এর চোখে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ

 

ভায়েরা আমার,

আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন।

আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।

আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার আত্মঅধিকার চায়।

কী অন্যায় করেছিলাম?

আপনারা নির্বাচনে গিয়ে,

নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে আপনারা ভোট দেন।

আমরা ভোট পাই।

আমরা দেশের একটা শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো।

আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো।

এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস।

২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস।

বাংলার ইতিহাস-এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।

১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি।

১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই।

১৯৫৮ সালে আয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে।

১৯৬৬ সালে ৬দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

১৯৬৯ এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন এহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন- আমরা মেনে নিলাম।

তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো।

আপনারা জানেন।

দোষ কী আমাদের?

আইজকে তিনি আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সাথে দেখা করেছি। আপনারা জানেন আলাপ আলোচনা করেছি।

আমি পাক শুধু বাংলা  নয়  পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দ্যান।

তিনি আমার কথা রাখলেন না।

তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।

তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে।

তিনি মাইনে নিলেন। মাইনে নিলেন।

তিনি তারপরে, আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো।

আমরা আলাপ-আলোচনা করবো।

আমি বললাম, বক্তৃতার মধ্যে, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো।

এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজন যদিও সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেবো।

তারপরে জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন, বলে গেলেন যে আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে।

তারপরে পশ্চিম পাকিস্তানের জমায়েত ইসলামের নেতা নুরানি সাহেবের সঙ্গে আলাপ হলো,

মুফতি মাহমুদ সাহেবের সঙ্গে আলাপ হলো,

তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম।

আসুন বসি।

জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে, ছয় (৬) দফা এগারো (১১) দফার মাধ্যমে শাসনতন্ত্র করতে। একে পরিবর্তন পরিবর্ধন করার ক্ষমতা আমার নাই।

আপনারা আসুন বসুন।  আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি।

তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে আমাদের

আমাদের উপরে তিনি দোষ দিলেন। এখানে আসলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি।

তিনি বললেন, আমি ডাবল হোস্টেজ হতে চাই না।

তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলা দেওয়া হবে।

যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে।

তার পরেও যদি কেউ আসে তাকে ছন্নছাড় করা হবে।

আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে।

তারপরে হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

এহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন।

আমি বললাম যে আমি যাবো।

ভুট্টো সাহেব বললেন তিনি যাবেন না।

৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তানের থেকে এখানে আসলেন।

তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে। দোষ দেওয়া হলো আমাকে ।

যে আমার অনমনীয় মনোভাবের জন্য তিনি তা করতে পারলেন না।

তারপরে বন্ধ করে দেয়ার পরে এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলো।

আমি বললাম শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন।

আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দ্যান।

জনগণ সাড়া দিলো।

আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল।

তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞবদ্ধ হল।

কী পেলাম আমরা?

আমাদের যাদের অস্ত্র নাই আমাদের হাতে,

যা আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য।

আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে-

তার বুকের ওপরে হচ্ছে গুলি।

আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু- আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু।

আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি

যখনই এদেশের মালিক হবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

তারা আমাদের ভাই।

আমি বলেছি তাদের কাছে একথা। যে আপনারা কেন আপনার ভাইয়ের বুকে গুলি মারবেন?

আপনাদের রাখা হয়েছে যদি বহিঃশত্রু আক্রমণ করে তার থেকে দেশটাকে রক্ষা করার জন্য।

তারপরে উনি বললেন

যে আমার নামে বলেছেন

আমি নাকি বলে স্বীকার করেছি যে ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবল কনফারেন্স হবে।

আমি উনাকে একথা বলে দিবার চাই আমি তাকে তা বলি নাই।

টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়।

তাকে আমি বলেছিলাম,

জনাব এহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। দেখে যান, ঢাকায় আসেন, কিভাবে আমার গরীবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের বুকের ওপর গুলি করা হয়েছে,

কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন।

তার পরে আপনি ঠিক করুন।

আমি এই কথা বলেছিলাম।

তিনি বললেন আমি নাকি তাকে, তিনি নাকি খবর পেয়েছিলেন নাকি যে আমি তাকে আরটিসি তে বসবো।

আমি তো অনেক আগেই বলেছি কিসের আরটিসি?

কার আরটিসি?

কার সঙ্গে বসবো?

যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসব?

আপনি আসুন, দেখুন,

জাতীয় পরিষদের জন্য আমার নেতারা  রক্ত দিয়েছে সত্য কথা। কিন্তু তা কি আপনারা দেখেছেন

তারপরে তিনি আজকে

আজকে আমার দেশ  এসেম্বলি এসেম্বলি … তিনি পঁচিশ তারিখে এসেম্বলি,

এর পরে আপনারা জানেন, আমি গ্যালাম।  আমি গ্যালাম পল্টন ময়দানে। আমি বললাম সব কিছু বন্ধ।

সরকারি অফিস বন্ধ,

আমি বললাম, আমার কথা সকলে মানলো।

সকলে আমাকে বলল, এবং আপনারা আমার যে নেতৃত্ব দিয়েছেন,

আপনারা  আমি বললাম কোন সরকারি অফিস চলবে না, কোন কিছু চলবে না।

আমি কিছু কিছু জনগণের কষ্ট হয় সেটা স্লাক করলাম,

যে এই এই জিনিস চলবে, ঠিক  সেই ভাবে চলল।

হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে, বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে, ৫ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন এবং যে বক্তৃতা করে এসেম্বলি করেছেন  সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন।

বাংলার মানুষের উপরে দিয়েছেন।

আমরা গুলি খাই, দোষ আমাদের।

তিনি বাঁধা দিলেন যে আসতে পারবানা।

গোলমাল হোলনা পশ্চিম পাকিস্তানে।

গুলি করে মারা হোল আমার বাংলার মানুষকে।

আমি পরিষ্কার মিটিং-এ বলেছি

যে এবারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

ভায়েরা আমার

২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে।

রক্তের দাগ শুকায় নাই।

আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ওই শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারেনা।

এসেম্বলি কল করেছেন, এসেম্বলি কল করেছেন,

আমার দাবি মানতে হবে।

প্রথম, মিলি সামরিক আইন- মার্শাল ল উইথড্র করতে হবে।

সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত দিতে হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে।

আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলিতে বসতে পারবো কি পারবো না।

এর পূর্বে, এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসা, আমরা  এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।

জনগণ সে অধিকার আমাকে দেয় নাই।

ভায়েরা আমার,

তোমরা আমার উপর বিশ্বাস আছে?

আমি  প্রধানমন্ত্রিত্ব  আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না।

আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।

আপনারা জানেন, আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই , যে

আইজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্টকাচারি, আদালত ফইজদারি, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

গরিবের, গরিবের যাতে কষ্ট না হয়,যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সেইজন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে,

সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না।

রিকশা ঘোড়াগাড়ি চলবে, রেল চলবে, সব চলবে, লঞ্চ চলবে।

শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, তারপরে আর কি?  সেমিগভার্মেন্ট  দপ্তরগুলো,

ওয়াপদা কোনও কিছু চলবেনা।

২৮ তারিখে কর্মচারিরা যেয়ে বেতন নিয়ে আসবেন।

এরপরে যদি বেতন দেওয়া না হয়,

আর যদি একটা গুলি চলে আর যদি আমার লোকের  উপর হত্যা করা হয় তোমাদের উপর কাছে আমার অনুরোধ রইল,  প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।

তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।

এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।

আমরা ভাতে মারবো। আমরা পানিতে মারবো।

তোমরা আমার ভাই। তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না।

কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। ভালো হবেনা। সাত কোটি মানুষকে দাবায় রাখতে পারবানা।

আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবেনা।

আজ,  আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে,

আমরা আওয়ামী লীগের থেকে, আমাদের আওয়ামী লীগের অফিসে রিলিফ কমিটি করা হয়েছে, যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো।

যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিকে সামান্য টাকাপয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন।

আর এই সাত (৭) দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন,

সান্ধ্য আইনের জন্য যোগদান করে পারেন নাই, প্রত্যেকটা, প্রত্যেকটায় শিল্পের মালিক তাদের বেতন  পৌঁছায়ে দেবেন।

মনে রাখবেন।

আর সরকারী কর্মচারিদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে।

কাউকে যেন সেক্রেটারিয়েটে, হাইকোর্টে বা জজকোর্ট এ দেখা না হয়।

দ্বিতীয় কথা, যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে, খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হল, কেউ দেবেনা।

আপনারা আমার উপর ছেড়ে দ্যান আন্দোলন কী করে করতে হয়।

শোনেন মনে রাখবেন,

একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে,

শত্রু বাহিনী ঢুকেছে, ছদ্মবেশে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে।

এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান, বাঙালি-নন বাঙালি, যারা আছে তারা আমাদের ভাই।

তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন

দ্বিতীয় কথা হোল এই, যে যদি আবার কোনো রকমের কোন আঘাত আসে,

আমি যদি হুকুম দেবার না পারি,

আমার সহকর্মী যদি হুকুম দেবার না পারে,

মনে রাখবেন।

আর একটা কথা অনুরোধ করছি – রেলওয়ে চলবে সত্য কথা,

কিন্তু সামরিক বাহিনীর লোকদের কোনো জায়গায় থেকে এক জাগার থেকে অন্য জাগায় নেবার চেষ্টা করবেন না।

তাহলে দুর্ঘটনা ঘটলে আমি দায়ী হবোনা।

প্রোগ্রামটা বলছি আমি শোনেন, রেডিও টেলিভিশন নিউজ পেপার,

মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারিরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেননা।

যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেননা।

রেডিও যদি আমাদের নিউজ  না দেবার  দেয়, কোনো  বাঙালি  রেডিও  স্টেশন  এ  যাবেন  না।

টেলিভিশন  যদি  আমাদের  নিউজ   না  দেওয়া  হয়,  কোনো  বাঙালি  টেলিভিশন  অফিসে  যাবেন  না।

দুই (২) ঘণ্টার মতো ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নেবার পারে।

কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবেনা।

টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে, এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে হলে আপনারা চালাবেন।

কিন্তু যদি এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝেশুনে কাজ করবেন।

আমার কিছু বলার থাকবেনা। দরকার হয় চাকা বন্ধ করে দেয়া হবে।

ভায়েরা আমার,

আমার কাছে এখন-ই শুনলাম আমার এই বক্তৃতা রিলে করা বন্ধ করে দিয়েছে।

আমি, আপনারা আমার প্লেয়ার চালায় দেন। কারো হুকুম মানতে পারবেন না।

তবে আমি অনুরোধ করছি। আপনারা আমাদের ভাই। আপনারা দেশকে একেবারে জাহান্নামে ধ্বংস করে দিয়েন না।

জীবনে আর কোনোদিন আপনাদের মুখ দেখাদেখি হবেনা।

যদিও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ফয়সালা করতে পারি তাহলে অন্ততপক্ষে ভাই ভাই হিসেবে বাস করার সম্ভাবনা আছে।

সেইজন্য আপনাদের অনুরোধ করছি আমার এই দেশে আপনারা মিলিটারি শাসন চালাবার চেষ্টা আর করবেন না।

দ্বিতীয় কথা, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়  প্রত্যেক ইউনিয়নে  প্রত্যেক সাবডিভিশনে  আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল।

এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।

মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো।

এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

ভায়েরা আমার,

যেভাবে আপনাদের আপনারা ঠাণ্ডা হবেন না। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে জালেম আর তার লোক আসবে আক্রমণ করতে।

আপনারা হুঁশিয়ার থাকবেন, এবং প্রস্তুত থাকবেন।

পজিশন চলবে কিন্তু মনে রাখবেন ডিসিপ্লিন সোলজার ছাড়া, ডিসিপ্লিন ছাড়া কোন জাতি জিততে পারেনা।

আপনারা আমার উপরে বিশ্বাস নিশ্চয়ই রাখেন।

জীবনে আমার রক্তের বিনিময়েও আপনাদের সঙ্গে বেইমানি করি নাই।

প্রধানমন্ত্রিত্ব দিয়ে আমাকে নিতে পারে নাই।

ফাঁসিকাষ্ঠে আসামী দিয়েও আমাকে নিতে পারে নাই।

যে রক্ত দিয়ে আপনারা আমাকে একদিন জেলের থেকে বাইর করে নিয়ে এসেছিলেন এই রেসকোর্স ময়দানে আমি বলেছিলাম,  আমার রক্ত  দিয়ে আমি রক্তের ঋণ শোধ করবো।

মনে আছে?

আমি রক্ত দেবার জন্য প্রস্তুত। আমাদের মিটিং এইখানেই শেষ।

আসসালামু আলাইকুম।

জয় বাংলা।

One Response -- “ডেটলাইন ৭ মার্চ, ১৯৭১: সিবিজিআর- এর চোখে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—