ঢাকায় যাওয়া খুব কঠিন ছিল তখন। পথে পথে চলছে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের চেকিং। ধরা পড়লেই জীবন চলে যাবে। তবুও আমরা ঢাকামুখি হলাম। সঙ্গে ছিল এক্সপ্লোসিভ ও গোলাবারুদ। পঁচিশ কেজি করে ভার বহন করতে হয়েছে প্রত্যেককেই। কোথাও পায়ে হেঁটে, কোথাও রিক্সায়, কোথাওবা নৌকায় এগোই আমরা।

নরসিংদী আসতেই বাধা পড়ে। ওখানে একটা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে আর্মিরা। টহলও চলছে চারদিকে। সর্তক হয়ে একটা বাড়িতে তখন লুকিয়ে থাকি। নাওয়া-খাওয়া ছাড়াই কাটে আট দিন। মৃত্যুভয়ে কাটত প্রতিটা মুহুর্ত। তবুও সেই ভয়কেই তুচ্ছ ভেবে এগিয়ে যেতে হয় আমাদের।

আমরা হাইড-আউট ক্যাম্পটি করি ঢাকার কাছে, ডেমরায়। গ্রামের নাম আমুলিয়া মেহেন্দিপুর। জামদানি শাড়ি বানাতো গোটা গ্রামের মানুষ। জসিম নামে একজনের চেহারা এখনও মনে ভাসে। যথেষ্ট সাহায্য করেছিল তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত ওই গ্রামের মানুষেরা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের ঋণ শোধ হবার নয়।

ক্যাম্পে ছিলাম আমরা চল্লিশ জন। কমান্ডে সাদেক হোসেন খোকা। ওখান থেকে বেরিয়ে ঢাকার ভেতরে গেরিলা অপারেশন করে আবার ফিরে আসতাম। ঢাকার কিছু গ্রুপ খবরাখবর দিত। আবার নিজেরাও যেতাম রেইকি করতে। বন্ধু জগলু আর মামাতো ভাই শহিদ নানা ম্যাসেজ দিয়েও সাহায্য করেছে। খোকাগ্রুপের গেরিলা হিসেবেই পরিচিত ছিলাম। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন করেছি দুই নম্বর সেক্টরের অধীনে।

 

প্রাদেশিক ইলেকশন কমিশন অফিস তখন ছিল মোমিনবাগে, রাজারবাগের উল্টা পাশে। দুটো ভাড়া বাড়িতে চলত তাদের কাজ। দেশে তখন পুরোদমে যুদ্ধ চলছে। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচিত এমপিএ আর এমএনএ সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে চলে গেছেন মুক্তাঞ্চল ও ভারতে। এ সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ফন্দি আঁটে। নির্বাচিত ওই সকল এমএনএ ও এমপিএ-দের পদ শূন্য ঘোষণা করে আসনগুলোতে উপনির্বাচনের গোপন প্রস্তুতি নিতে থাকে তারা। এ খবর পেয়েই সিদ্ধান্ত নিই প্রাদেশিক ইলেকশন কমিশন অফিসটি উড়িয়ে দেওয়ার। এতে বিশ্ব গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়বে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের খবর। ফলে চাপের মুখে পড়বে পাকিস্তান সরকার। খোকা ভাইয়ের নেতৃত্বে ওই অপারেশনে অংশ নিই আমি, লস্কর, সুফি আর হেদায়েত। জায়গাটা রেইকি করে আসি একদিন আগেই।

সময়টা ১ নভেম্বর ১৯৭১। রোজার মাস ছিল। ঢাকায় যখন ঢুকি রাত তখন আটটার মতো। তারাবির নামাজ চলছে। রাস্তাঘাট সব ফাঁকা। ওই সময়েই ব্লিডিংয়ে ঢুকে ১২ পাউন্ড এক্সপ্লোসিভ ফিট করি আমরা। অতঃপর বেরিয়ে এসেই বিস্ফোরণ ঘটাই। গোটা শহর তখন কেঁপে ওঠে। বিল্ডিংয়ের এক পাশ ধসে পড়ে। আগুনে পুড়ে ছাই হয় ইলেকশন কমিশন অফিসের সব কাগজপত্র। ওখানে থাকা এক দাড়োয়ানও মারা যায়।

স্মুথলি আমরা অপারেশনটা করি। কিন্তু শেষ করতে বেজে যায় রাত বারটা। পাকিস্তানি আর্মি তখন ঢাকার রাস্তায় টহলে নেমেছে। ক্যাম্পে ফেরার কোনো উপায় নেই।

গলির পথ দিয়ে আমরা মালিবাগের এক মেসে গিয়ে আশ্রয় নিই। মেসটির ওপরে টিন। চারপাশে বেড়া। কর্মজীবী কিছু লোক থাকত সেখানে। ঢুকেই বলি-একটু আগে বিস্ফোরণের যে আওয়াজ হয়েছে সেটা আমরাই করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা।কথা শুনে আর অস্ত্র দেখে থরথর করে কাঁপছিল তারা। প্রথম কোনও মুক্তিযোদ্ধা দেখছে। তবু রাতে আমাদের থাকার কথা শুনেও ভয় পেল না। বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের সাহায্য করলো।

মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়াটাও তখন ছিল আরেক যুদ্ধ। পাকিস্তানি সেনারা টের পেলেই সবাইকে হত্যা করত। মেসের পাশেই ছিল পিডিবির একটি অফিস। সেটা পাহারা দিচ্ছে পাকিস্তানি আর্মিরা। ফলে ওই মেসে থাকাটা ছিল প্রচণ্ড রিক্সের।

ওই রাতে মেসের লোকেরা তাদের জন্য রান্না করা খাবার আমাদের খাওয়ায়। তাদের বিছানাতেই থাকতে দেয়। আমাদের বাঁচাতে রাতভর পালা করে বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারাও দিয়েছিলেন তারা। অতঃপর খুব ভোরে সেখান থেকে ফিরে যাই ক্যাম্পে। মেসেরও ওই মানুষগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। ওইরাতে তাদের সাহায্য না পেলে হয়তো ধরা পড়তে হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদানের ইতিহাসও তুলে আনা প্রয়োজন।”

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় গেরিলা অপারেশনের নানা স্মৃতিচারণ এভাবেই করছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টু।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তোলা অস্ত্র হাতে রফিকুল হক নান্টুর একটি ছবি কয়েক বছর আগে স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় মালিটোলার শহীদ নাদের গুণ্ডার ছবি হিসেবে। ফলে রাগে, দুঃখে আর ক্ষোভে নিরব হয়ে যান গেরিলা যোদ্ধা রফিকুল। নিজেকে আড়াল করে রাখেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টিও সহজে দেন না। বুকে জমে থাকা কষ্টের মেঘগুলোকে নিয়েই কাটছে তাঁর জীবন। একজন মুক্তিযোদ্ধার মনের অতলে জমে থাকা মেঘের রাজ্যে বৃষ্টি ঝরাতে আগ্রহী হই। অতঃপর এক সকালে গেরিলা ১৯৭১-এর কার্যালয়ে বসে তাঁর সঙ্গে চলে যুদ্ধদিনের নানা আলাপচারিতা।

একাত্তরে ইকবাল আহমেদ সুফির তোলা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টুর ছবি

চার ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে রফিকুল সবার ছোট। বাবা আব্দুল হামিদ ভুঁইয়া চাকরি করতেন ক্যালকাটা কর্পোরেশনে। মা নছিমুল নেসা ছিলেন গৃহিনী। রফিকুলের পৈতৃক বাড়ি বিক্রমপুরের কাজী কসবা গ্রামে হলেও তাঁর জন্ম কোলকাতায়। একবার হিন্দু-মুসলিম রায়ট হলে তারা কোলকাতা থেকে চলে আসেন ঢাকায়, ওয়ারির এক নম্বর চণ্ডিচরণ বোস লেনে।

রফিকুলের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি সেগুনবাগিচায়, ডন্স কিন্ডার গার্টেন স্কুলে। পরে কিছুদিন তিনি লেখাপড়া করেন লহ্মীবাজারে, বাংলাবাজার কিন্ডার গার্টেনে। অতঃপর ঘটে এক ঘটনা।

কী সেই ঘটনা?

রফিকুলের ভাষায়-ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে ছিলাম। মারামারি করতাম খুব। মার্বেল খেলা নিয়ে একবার হাতাহাতি হয় এক বন্ধুর সঙ্গে। ঘুসি মারতেই চোখ ফেটে তার রক্ত বেরোয়। একটুর জন্য নষ্ট হয় না চোখটা। এ অবস্থা দেখে মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভেবেচিন্তে আমাকে পাঠিয়ে দেন যশোরে, মেজ বোন পারুর বাড়িতে। ভগ্নিপতি এ এফ আব্দুল রব তখন ছিলেন আর্মির মেজর। তিনি আমাকে ভর্তি করে দেন দাউদ পাবলিক স্কুলে, ক্লাস ফাইভে। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে তিনি চলে যান বর্ডারে। ফলে ফিরে আসি ঢাকায়। ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই শাহীন স্কুলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছিলাম শাহীন স্কুলের ক্লাস টেইনের ছাত্র।

স্কুলের স্মৃতি এখনও জীবন্ত হয়ে আছে রফিকুলের মনে। তিনি বলেন- পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলাম না। কিন্তু খেলাধুলায় ছিলাম ভাল। তাই শিক্ষকদের আদর পেতাম খুব। একবার শহীন স্কুল মাঠেই হকি খেলা হয় আদমজী স্কুলের সঙ্গে। ওরা ওইদিন হেরে যায়। ওদের দলে অনেক ননবেঙ্গলি ছাত্র ছিল। খেলা নিয়ে ওরা গণ্ডগোল শুরু করে। তখন স্টোর রুম থেকে হকিস্টিক নিয়ে আমাদের মেয়েরাও পিটুনি দেয় আদমজী স্কুলের ছেলেদের। সে দৃশ্যটা ছিল অন্যরকম। শাহীন স্কুলে কোনো রাজনীতি ছিল না। তবুও সাতজন গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে- আমি, তৌফিক, উলফত, জামান, কামাল প্রমুখ।

রফিকুল বেড়ে ওঠেন গোপীবাগ ও কমলাপুর সার্কেলে। তাঁর ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলেন পপ সম্রাট আজম খান, জগলু, সালাউদ্দিন, বাদশা, নান্নু। একটু সিনিয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা ও জিন্না। সে সময় পিডাব্লিউডি-তে বেশ কিছু অবাঙালি অফিসার ছিলেন। তাদের ছেলেরা করতো গুণ্ডামি। এক ইঞ্জিনিয়ারের ছেলের নাম ছিল রিজভী। এজিবি কলোনির মাঠে খেলা নিয়ে প্রায়ই সে রফিকুলদের ওপর চড়াও হতো। দুপক্ষে চলত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ফলে পকিস্তানিদের প্রতি তাদের মন ক্রমেই বিষিয়ে ওঠতে থাকে।

৬৯-এর গণআন্দোলনে রফিকুলদের এলাকায় নেতৃত্ব দিতেন সিদ্দিকী, মুকুল, আলম খান প্রমুখ। সাদেক হোসেন খোকা, জগলু, টিপু, মুরাদ ও নাসিমের সঙ্গে তিনি যেতেন পল্টনের মিছিল-মিটিংয়ে। কণ্ঠ আকাশে তুলে স্লোগান দিতেন- তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’, ‘তুমি কে, আমি কে- বাঙালি বাঙালি। এভাবে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য থেকেই জেনে যেতেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি নানা বৈষম্যগুলো।

তাঁর ভাষায়-আমাদের কোনঠাসা করে রাখতো ওরা। নিউজপ্রিন্ট এখানেই তৈরি হতো অথচ তার দাম এখানে ছিল বেশি, পশ্চিম পাকিস্তানে কম। লোকসংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানে বেশি হলেও উন্নয়নটা হতো পশ্চিমে। ফলে বুঝতে পারতাম ওদের সঙ্গে আর থাকা যাবে না। অসহোযোগের সময় পাকিস্তানকে টোটালি বয়কট করেছিলাম। তখন লুঙ্গি কেটে শার্ট বানাতাম আর খদ্দরের পাঞ্জাবি পড়তাম। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই প্রথম আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।’ 

৭ মার্চ ১৯৭১। বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিবেন রেসকোর্স ময়দানে। গোপীবাগ থেকে মিছিলের সঙ্গে রফিকুলও যান ভাষণ শুনতে। বাকি ইতিহাস শুনি তাঁর জবানিতে-

“মিছিলে ছিল ফারুক, শহীদ, রতন, খোকা, অপু, পিনু, জোগলু, টিপু, বাবলা, নাসিরসহ ৪০-৫০জন। দেখলাম রেসকোর্সে জনসমুদ্র। সবার মুখে মুখে স্বাধীনতার কথা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সরাসরি ঘোষণা দিলেন না। তিনি বললেন-আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি…। ওই ভাষণেই পরিষ্কার সব নির্দেশনা ছিল। বুঝে গিয়েছিলাম, বাঁচার একমাত্র পথ সংগ্রাম।”

জুন মাস পর্যন্ত রফিকুল ছিলেন ঢাকাতেই। ২৫ মার্চের পর গোপীবাগ মোড়েই আর্মিরা পেট্রোল দিত। তখন গোপনে হাতবোমা বানাতেন তারা। সলতা লম্বা করে তাতে আগরবাতি জ্বালিয়ে আট-দশ জায়গায় ফিট করে রেখে আসতেন। বোমাগুলো ফুটলে বিকট আওয়াজ হতো। পাকিস্তানি সেনারা তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি হানা দিতো। ইয়ং ছেলেদেরও ধরে নিয়ে যেতে থাকে। ফলে তারা বোমা ফাটানো বন্ধ রাখে। জাকির, খোকা, জগলু, পিনু, অপু মিলে ছিল তাদের ছিল একটি গ্রুপ। স্বাধীনতার স্বপ্নে সবাই একে একে দেশ ছাড়তে থাকে।

আপনি তখন কী করলেন?

“যুদ্ধে যাওয়ার প্ল্যান করি জাকির ও মুল্লুকজানের সঙ্গে। বিয়াই জালাল ও মঙ্গলও যুক্ত হয় সঙ্গে। জুন মাসের শেষ দিকের কথা। এক সকালে না বলেই বাড়ি থেকে চলে যাই নরসিংদী। সেখান থেকে লঞ্চে করে কোসঘর পৌঁছি। পরদিন সিএমবির রাস্তা পাড় হয়ে বর্ডার ক্রস করে চলে আসি আগড়তলায়। সিপিএম অফিসে যেতেই একটা ঠিকানা লিখে দিলে চলে যাই মেলাঘর ট্রেনিং ক্যাম্পে।”

পারিবারিকভাবে আপনার অবস্থা তো ভাল ছিল। তবুও কেন মুক্তিযুদ্ধে গেলেন?

মুচকি হেসে তিনি বলেন- “মেজ ভাই সাইদুল হক বাবু প্রবলভাবে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। বড় ভাই মোজাম্মেল হক ছিলেন গান লাইসেন্স অফিসার। মেজ ভাই তখন পাকিস্তান সেন্ট্রাল গর্ভমেন্টের ক্যামেরাম্যান। সেজ ভাই ছিলেন বিদেশে। ভগ্নিপতি একজন এসপি, একজন কর্নেল আর তিনজন ছিলেন বিমানবাহিনীর হাই র‌্যাংকের অফিসার। আমি মুক্তিযুদ্ধে গেলে বড় ভাই ও ভগ্নিপতিদের চাকরির ক্ষতি হবে- বাবা সবসময় এই ভয়টা করতেন। ফলে দেশের জন্য ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্তটা আমার জন্য ছিল আরেক যুদ্ধের মতোই। তবুও দেশই তখন আপন। পাকিস্তানিদের গণহত্যা, লুটপাট মেনে নিতে পারিনি। দেশের টানে তাই ভুলে গিয়েছিলাম রক্তের সম্পর্কগুলো।”

কতদিন ট্রেনিং চলে?

“চতুর্থ ব্যাচে একুশ দিন ট্রেনিং হয় আমাদের। ছিলাম এগার নম্বর প্লাটুনে। প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। প্রথমেই খুলনা, জুরনা ও সাফসাফাই শেখায়। হাবিলদার আজম শেখান থ্রি নট থ্রি চালানো। এরপরই থার্টিসিক্স হ্যান্ড গ্রেনেড থ্রো করায়। গ্রেনেড থ্রো করলে পাকিস্তানি সেনারা আবার সেটা রিভার্স করে ছুড়ে দিত। তাই গ্রেনেডের পিন খুলে দুই সেকেন্ড হাতে রেখে থ্রো করা শিখানো হয়। এক্সপ্লোসিভ ও হ্যান্ড গ্রেনেডের মাস্টার ট্রেনিং করান হাবিলদার মনির। আর গেরিলা অপারেশন শিখি ক্যাপ্টেন হায়দারের কাছে। তখন রাজাকাররা ধরা পড়লেই ক্যাম্পে নিয়ে আসা হতো। সাহস বাড়াতে আমাদের দিয়েই মার্ক থ্রি ও মার্ক ফোর বেয়নেট চার্জ করিয়ে তাদের মারা হতো।”

ট্রেনিং শেষে রফিকুলদের প্রথম পাঠানো হয় বর্ডারের কাছে, নয়নপুর ও মন্দবাগে। তখন তাদের কমান্ড করতেন তাহের চৌধুরী। থ্রি নট থ্রি রাইফেলে একটা ফায়ার করলেই অপরদিক থেকে পাকিস্তানি সেনাদের রিটার্ন ফায়ার আসতো তিনটা। খুব কাছেই ছিল ওদের বাংকার। কিছুদিন এভাবে যুদ্ধ করার পর গেরিলা অপারেশনের জন্য রফিকুলদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায়।

স্মৃতি হাতড়ে একাত্তরে ঢাকার কয়েকটি গেরিলা অপারেশনের কথা শোনান এই বীর যোদ্ধা।

তাঁর ভাষায়- “প্রথম অপারেশন করি হাইড-আউটের পাশেই, আদমজী বিলের কাছে। তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন ছিল সেখানে। সেটা দিয়েই গ্যাস যায় ঢাকাতে। আজম খান বলল- এটা উড়িয়ে দিলে ঢাকা অচল হয়ে যাবে।দশ পাউন্ড এক্সপ্লোসিভ পাইপে পেঁচিয়ে ডেডোনেটর দিয়ে এক রাতে বিস্ফোরণ ঘটাই আমরা। আগুন তখন অনেক উঁচু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দুপাশের কালভার্টে পাকিস্তানি আর্মির গার্ড ছিল। আগুনের ভয়ে তারা লাফ দেয় পানিতে। সাঁতার জানত না। ফলে সকালে দুই পাকিস্তানি সেনার লাশ ভেসে ওঠে। তা দেখে আর্মিরা ক্ষিপ্ত হয়। সন্দেহবশত জ্বালিয়ে দেয় পাশের একটি গ্রাম। এভাবে আরেক রাতে ডেমরা রোডেই ট্রেসার রাউন্ড দিয়ে তেলবাহী একটা ট্যাঙ্কারেও হিট করি আমরা। অনেকদূরে গিয়ে সেটিও বিস্ফোরিত হয়। ”

“ডিএফপি অফিস তখন ছিল শান্তিনগরে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর সৃষ্টির জন্য আমরা সেখানে হিট করার প্রস্তুতি নিই। মেজ ভাইয়ের অফিস ছিল সেটা। তাই রেইকি করা দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। সব খবর নিয়ে এসে আমি খোকা ভাইকে দিই। ওইদিন ছিল আখেরি জুম্মা। দুপুরে বায়তুল মোকাররমের নিউজ কাভার করে ফিরেছে সবাই। দুপুর তিনটার পর আমরা ডিএফপি-তে ঢুকি। অফিসে কেউ নেই তখন। তিন তলায় সিঁড়ি ঘরে থাকা দাড়োয়ানকে বের করে দিই প্রথম।

একটা স্টিলের আলমেরিতে ছিল আটটি দামি ক্যামেরা। টেবিলের ওপর ১২ কেজি এক্সপ্লোসিভ আমরা ফিট করি। বিস্ফোরণে যাতে স্টিলের টুকরোগুলো স্প্রিন্টার হিসেবে কাজ করে সে কারণে স্টিলের আলমেরিটাকেও এক্সপ্লোসিভের ওপর চাপ দিয়ে ফেলে রাখি। ঘটলও তাই। বিস্ফোরণে পুরো বিল্ডিংটাই উড়ে যায়। দ্রুত একটা মাইক্রোবাসে আমরা সরে পড়ি। ওই অপারেশনটির খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল ভয়েস অব আমেরিকা, আকাশবাণী, বিবিসি ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। ফলে আমাদের মনোবল ও সাহস যায় বেড়ে।

শান্তিকমিটির মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে খসরু ছিল আমাদের বন্ধু। খবর পাই, আলতাফ মাহমুদকে সেই-ই ধরিয়ে দিয়েছে। তার কাছে ছিল ছোট্ট একটা পিস্তল। বন্ধু তাহের চোখ বেঁধে তাকে নিয়ে আসে ডেমরায়, হাইড-আউট ক্যাম্পে। আজম খান দেখে বলে-একে ছেড়ে দিলে ক্ষতি হবে। তাহলে পুরো হাইড-আউট ক্যাম্প ওরা উড়িয়ে দিবে। ওকে মেরে ফেল।মার্ক ফোর বেয়নেট দিয়ে খসরুকে মেরে আমরা মাটিচাপা দিই। দেশের টানে এভাবেই একাত্তরে ক্লোজ বন্ধুকেও মারতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের।”

“আজিমপুরে পিলখানার কাছেই ছিল সহযোদ্ধা লস্করদের বাড়ি। চায়না ব্লিডিং বললে সবাই এক নামে চিনত। ওটা ছিল ঢাকায় গেরিলাদের একটা অবজারবেশন পোস্ট (ওপি)। বাড়ির ছাদে স্ট্যান্ডে ফিট করা থাকত মেশিনগান। আমরাও মাঝেমধ্যে যেতাম বাড়িটিতে। একদিন চাইনিজ স্টেনগান নিয়ে বাড়ির ছাদে উঠেছি। তখনই সহযোদ্ধা ইকবাল আহমেদ সুফি আমার দুটি ছবি তুলে। একটি স্ট্যান্ডে ফিট করা মেশিনগানে পজিশনরত এবং অন্যটি স্টেনগান হাতে দাঁড়ানো। ওই ছবিগুলোর দিকে তাকালেই একাত্তরটা মনে পড়ে যায়।

কিন্তু আজ তো ওই ছবিতেই আমি মৃত। ওগুলো নাকি শহীদ নাদের গুণ্ডার ছবি। শহীদ নাদের গুণ্ডালিখে গুগলে সার্চ করলেই আমার ছবি দুটো আসে। এ দুঃখের কথা কাকে বলবো বলেন?” 

একাত্তরে ইকবাল আহমেদ সুফির তোলা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টুর ছবি। এ ছবিটিই পরে ভাইরাল হয়।

 

কিন্তু ওই ছবি কীভাবে শহীদ নাদের গুণ্ডার ছবি হিসেবে ভাইরাল হলো?

প্রশ্ন শুনে পাশে বসা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের ছোট ছেলে আরিজুল হক জানান ঘটনার আদ্যপান্ত। তার ভাষায়- “ছবিটা আমি বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলাম ২০১১ সালের দিকে। ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলিকে দেখানোর জন্য ছবি দুটো স্ক্যান করে প্রথম আপ করি আমার ফেসবুকে। পরবর্তীতে শিল্পী লাকী আখান্দের পেইজে বাবার একটি ছবি দিয়ে হেডলাইনে ‘শহীদ নাদের গুণ্ডা’ লিখে নাদের গুণ্ডার যুদ্ধকালীন ইতিহাস তুলে ধরা হয়। শুধু নিচে ছোট্ট করে লেখা হয়-এটি একটি প্রতীকি ছবি। নাদের গুণ্ডার ছবিও চাওয়া হয় সেখানে। কিন্তু অসচেতন হয়ে সবার চোখই আটকে ছিল হেডলাইনের দিকে। তাছাড়া বাবার ছবিটি কোনও অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছিল। যেটা ছিল চরম অন্যায় কাজ। পরিচয় জানা একজনের ছবি আরেকজনের প্রতীকি ছবি হিসেবে কি ব্যবহার করা যায়? লাকী আখান্দের পেইজে প্রতিবাদ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই ‘শহীদ নাদের গুণ্ডা’র ছবি হিসেবে ফেসবুকে সেটি পাঁচ হাজারের ওপর শেয়ার হয়ে যায়। লাকী আখান্দের পেইজের রেফারেন্সে অনেক পোর্টালেও নিউজ হয়। এভাবেই বাবার একাত্তরের ছবি হারিয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়ায়। ছবিতে একজন জীবিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। এই ছবি দেখিয়ে তো বাবা কখনও কোনো অ্যাডভ্যানটিজ নেননি। বাবার ওই ছবির জাস্টিফাই এখনও আমাদের করতে হচ্ছে। এটা খুবই পেইনফুল।”

মুঠোফোনে আমাদের আলাপ হয় মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল আহমেদ সুফির সঙ্গে। ওই ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- “ পারিবারেকভাবেই অনেক আগে থেকেই আমি ছবি তুলতাম। একাত্তরে নান্টুর দুটো ছবিই তুলেছিলাম ফেক্সারেট ক্যামেরা দিয়ে। অনুমতি ছাড়া ওই ছবি ব্যবহার একেবারেই উচিত হয়নি। একাত্তরের এমন ছবিগুলোই এখন প্রামাণ্য দলিল। প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের ভুল ছবি তুলে ধরলে তারা যেমন বিভ্রান্তিতে পড়বে তেমনি ঘটবে ইতিহাস বিকৃতি। এ দায় তাহলে কে নিবে? তাই স্যোশাল মিডিয়ার তথ্য নিয়ে প্রজন্মকে আরও সর্তক থাকতে হবে।”

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কখনও কোন সুবিধা নেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টু। অসৎ পথও এড়িয়ে গেছেন সব সময়। দেশের বাইরে লাল-সবুজের পতাকা যখন উড়ে তখন বুক ভরে যায় তাঁর।

যে দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন সেই দেশ কি পেয়েছেন?

দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বলেন, “স্বপ্ন ছিল ভাল একটা, সুন্দর একটা দেশ হবে। এখন দেখছি সব উল্টো। টোটালি অপোজিট। উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি দিনে দিনে হয়েছে অসৎ একটা দেশও। ফুল অব করাপশন। প্রতিটা মানুষের রক্তে আজ করাপশন ঢুকে গেছে। এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। মাঝে মাঝে তাই ফ্রাসটেডেট লাগে।”

কেন এমনটা হলো?

এই বীর অকপটে বলেন, “এর জন্য সমাজ দায়ী। কমবেশি দায়ী সবাই। স্বাধীনতা লাভের পর আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখলাম না। অথচ একাত্তরে পাকিস্তানিরাই তাঁকে মারার সাহস পায়নি। যার ডাকে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনের পর তাঁকেই পরিবারসহ হত্যা করল একটি চক্র। তাহলে বলেন আমরা কী ভাল পেলাম! এই জন্য বলি, আমরা নিজেরাই তো ভাল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসটাকেই বদলে ফেলা হয়েছিল। এরপর তো রাজাকারের গাড়িতেই উড়েছে স্বাধীন দেশের পতাকা। এরপর কী ঘটলো আপনারই ভাল জানেন।”

কথা ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের মতামত- “সব সরকারের আমলেই তাদের পছন্দের লোক ঢুকেছে তালিকায়। সে সুযোগে অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকাররাও জায়গা করে নেয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। ১৪ বছরের নিচে কোন যোদ্ধাকে আমরা পাইনি কোনও ক্যাম্পে। তবে সহযোগিতা করেছেন অনেকেই। এখন তো তাদেরও মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হচ্ছে। তবে কেন আলাদা ক্যাটাগরি করা হলো না? যারা মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত করছেন তারা যদি সৎ থাকতেন তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা এতো বাড়ত না। এ তালিকা যত বাড়বে এ নিয়ে বির্তকও তত বাড়বে।”

 

 

কথার ফাঁকে দৃষ্টি পড়ে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের ছোট ছেলে আরিজুল হকের দিকে। হোটেল ম্যানেজমেন্টে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তিনি। দেশ নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার রক্ত শরীরে। তাই দেশের জন্য যদি কিছু করার সুযোগ পাই, অবশ্যই করব। তবে রাজনীতিতে বেটার লিডার আমাদের দরকার। বাংলাদেশ যেহেতু উন্নত রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তাই রাজনীতিরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নতুন ও ফ্রেস লোক আসলেই দেশ এগোবে। মানুষের মধ্যে দেশভাবনা আসে বছরে দুইবার, মার্চ আর ডিসেম্বরে। এই চিন্তা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।”

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের কাছে প্রশ্ন ছিল- কেমন বাংলাদেশ চান?

দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “ভাল বাংলাদেশ চাই। পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাড়ানো বাংলাদেশ চাই। ভাল দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচতে চাই। যে সরকার দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারবে, সে সরকারের শাসন চাই।”

কী করলে দেশ আরও এগোবে?

তাঁর উত্তর- “দুর্নীতি সব উন্নয়নকেই বির্তকিত করবে। তাই এটা দেখা উচিত কঠোরভাবে। প্রকৃত লোকদের কাজে লাগাতে হবে। আবার পয়সার রাজনীতি বন্ধ করা না গেলে দুর্নীতিও বন্ধ হবে না।”

ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলেই প্রজন্ম দেশটাকে আরও এগিয়ে নিতে পারবে- এমনটাই বিশ্বাস গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টুর। আশায় বুকবেধে তাদের উদ্দেশে তিনি শুধু বললেন- “যদি দেশের সঠিক ইতিহাস ও বীরত্বের কাহিনী জানো, তবেই বীরের মতো তোমরা এগোতে পারবে। মনে রেখো, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসই তোমাদের পথ দেখাবে।

সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম : গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক নান্টু।

ট্রেনিং নেন : ভারতের মেলাঘর ট্রেনিং ক্যাম্পে। চতুর্থ ব্যাচে তিনি ট্রেনিং করেন একুশ দিন। ছিলেন এগার নম্বর প্লাটুনে। প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা।

যুদ্ধ করেছেন : দুই নম্বর সেক্টরের অধীনে খোকাগ্রুপে। গেরিলা অপারেশন করেন ঢাকার ডিএফপি অফিস, প্রাদেশিক ইলেকশন কমিশন অফিস, ডেমরায় তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন উড়ানো, পেট্রোলিয়াম অয়েল ট্যাঙ্কারে হামলা প্রভৃতিতে।

ছবি ও ভিডিও : সালেক খোকন

সালেক খোকনলেখক, গবেষক।

Responses -- “ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ও একজন গেরিলার বীরত্বের গদ্য”

  1. আসমা সুলতানা

    যে দেশে মায়ের ধর্ষক মানে ‘বাবা’; সে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবচেতন মনের অন্ধকারেই হারিয়ে যায়। আলোর দেখা মিলবে কবে?

    Reply
  2. সরকার জাবেদ ইকবাল

    আমার একটা হিসাব মিলছে না। কেউ যদি পারেন দয়া করে মিলিয়ে দেবেন।

    ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত এদেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের একটাই স্বপ্ন ছিল, – পাকিস্তানী স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করা। তাহলে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কেমন করে পাকিস্তানী শিবিরে যোগ দিলেন? আমরা জানি বিএনপি’র জন্ম পাকিস্তানী অক্ষ থেকে।

    Reply
    • আবু সালেহ

      জনাব জাবেদ সাহেব,
      আপনার প্রশ্নটির উত্তর আমার জানা আছে। একবার বাংলার কালো বিড়াল খ্যাত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদে বলেছিলেন শুধু অস্ত্র হাতে নিলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না, মুক্তিযোদ্ধা হতে হলে শেখ মুজিবের চেতনা কে বুকে ধারণ করতে হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে কোন মুক্তিযোদ্ধা নাই। সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযোদ্ধা নহে উনি রাজাকার।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        সালেহ সাহেব, হাসালেন। আপনার হয়তো মনে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক রাজাকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষ করে অস্ত্র হাতে দলে দলে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু, মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাজাকার !!! এই প্রথম শুনলাম।

  3. আবু সালেহ

    যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে ব্যবসা সে দেশের এই কাহিনী জেনে লাভ কি?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—