মেঘনা নদীর পাড়ে গৌরিপুর গ্রাম। নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার এ গ্রামেই জন্ম ইউনুছের। বাবা নাজির উদ্দিন চৌধুরী ব্যবসা করতেন ভৈরব বাজারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর দুষ্টুমি ছিল আকাশছোঁয়া। স্কুল পালিয়ে নদী-তীরের বালিতে ফুটবল আর হা-ডু-ডু খেলেই কাটত সময়। গ্রামে আম ও কাঁঠালগাছ তেমন একটা ছিল না। কাঁঠাল পাকা গরমে ইউনুছ তাই দল বাঁধতেন বন্ধু আশরাফ, খায়ের, কুদ্দুস, লিয়াকত, শাহজাহানের সঙ্গে। আম-কাঁঠাল পেড়ে আনতেন পাশের দৌলতকান্দি, মহেষপুর, সাতমারা গ্রামের গাছগুলো থেকে। এ নিয়ে বিচার আসত ইউনুছের বাড়িতে। বাবা রাগ হতেন। কিন্তু তবুও ইউনুছের দুরন্ত মন কোনো বাধা মানে না।

ইউনুছ পড়তেন গৌরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যখন ক্লাস ফোরে তখনই রপ্ত করে ফেলেন বিড়ি-সিগারেট খাওয়া। একদিন হাতেনাতে ধরা পড়েন অংকের মাস্টার সুরুজ মিয়ার হাতে। ভয়ে ইউনুছ বন্ধ করে দেয় স্কুলে যাওয়া। ডানপিটে হলেও ওই মাস্টার তাকে খুব আদর করতেন। তিনদিন পর তাই নিজে গিয়ে ইউনুছকে স্কুলে নিয়ে আসেন। এসব কারণে ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন বাবা নাজির উদ্দিন। গ্রামে হাইস্কুল থাকা সত্ত্বেও প্রাইমারি পাশের পর ইউনুছকে তিনি ভর্তি করে দেন ভৈরব কাদিরবক্স হাইস্কুলে। ব্যবসার ফাঁকে বাবা ও চাচা আলতাফ হোসেন স্কুলে গিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন তাঁর।

তখন ভৈরব বাজার ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ওখানকার বড় নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আক্কাস সাহেব, সায়দুল্লাহ সাহেব তখন ছাত্র রাজনীতিতে। স্কুলের ওপর তলাতেই ছিল হাজী আসমত কলেজ। ফলে রাজনীতির পুরো হাওয়াটাই টের পেতেন ইউনুছরা। তখন পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছেন শেখ মুজিব। ইউনুছদের বাড়ির পাশেই ছিল কোহিনুর জুট মিল। সেখানকার শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, ইত্তেফাক পত্রিকা মারফত ইউনুছ জেনে যেতেন দেশের নানা খবরাখবর।

সময়টা ১৯৬৭। একবার শেখ মুজিব আসেন ভৈরবে। ভাষণ দেন ইউনুছদের স্কুল মাঠে। তাঁকে ফুল দেওয়ার দায়িত্ব পান ইউনুছরা। সেদিনই প্রথম খুব কাছ থেকে দেখেন এই মহান নেতাকে। স্টেজের পাশেই বসে শোনেন তাঁর ভাষণ। শেখের কন্ঠ উত্তাল করে দেয় ইউনুছের মনকে। দেশের টানে সেই থেকেই তিনি পথে নামেন। স্লোগান তুলে ঐক্যবদ্ধ করেন সবাইকে। শেখ মুজিবের একটি ভাষণ এভাবেই বদলে দেয় ইউনুছের জীবনের গতিপথকে।

ছোটবেলার নানা ঘটনার কথা শুনছিলাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো.ইউনুছ চৌধুরী(ইনু)-র মুখে। চার ভাই ও তিন বোনের সংসারে তিনি সবার বড়। মা জোবেদা খাতুনের আদরেই কাটে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। একাত্তরে ইউনুছ ছিলেন এসএসসি পরিক্ষার্থী।

 

সত্তরের নির্বাচনে ইউনুছরা কাজ করেন নৌকার পক্ষে। ৭ ডিসেম্বর এমএনএ এবং ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ ছিল প্রাদেশিক পরিষদের এমপিএ নির্বাচন। নৌকা প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ভূইয়া এমএনএ এবং এমপিএ নির্বাচিত হন রাজু উদ্দিন আহম্মেদ রাজু।

কথা ওঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা মো.ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ‘ভাষণ শুনতে ওইদিন ভোরে ট্রেনের ছাদে উঠে আমরা চলে আসি কমলাপুর রেলস্টেশনে। সঙ্গে ছিলেন আব্দুস সামাদ, জিয়াউল হক, আশরাফসহ আরো অনেকে। কমলাপুর থেকে হেঁটে পৌঁছি রেসকোর্স ময়দানে। পিঁপড়ার মতো বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছিল। গাছগাছালি তখন ছিল না। রেসকোর্সের পুরো মাঠই ছিল লোকে-লোকারণ্য।’

‘সবার দৃষ্টি বঙ্গবন্ধুর দিকে- নেতা আজ কি বলবেন?  বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শুরু করলেন। শেষে বললেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’ আমাদের কাছে ওটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা।’

ফিরে গিয়ে আপনারা কি করলেন?

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো আমাদের গ্রামেও সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। জিয়াউল হক, আব্দুস সামাদ, কাঞ্চন ছিলেন কমিটিতে। আমরা লাঠিসোটা নিয়ে তৈরি থাকি। ২৫ মার্চ ঢাকায় আর্মি নামার খবর পাই লোকমুখে।

পহেলা এপ্রিল থেকে প্রতিরোধযুদ্ধ হয় ভৈরবে। এর নেতৃত্বে ছিলেন কেএম সফিউল্লাহ, হেলাল মোর্শেদ, নাজিম সাহেব, ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান প্রমুখ। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের শেলের আঘাতে তাঁরা টিকতে পারে না। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাদের হেলিকপ্টার নামে চর চারতলা ও গৌরিপুরে। তারা ক্যাম্প বসায় কোহিনুর জুট মিলে। পরদিন জ্বালিয়ে দেয় ভৈরব বাজার এলাকাটি।

ট্রেনিংয়ের কথা উঠতেই ইউনুছ বলেন, ‘মে মাসের প্রথম সপ্তাহের কথা। নৌকায় করে চর চারতলা পার হয়ে আড়াইশি তলার ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছি চানপুর গ্রামের সামসু মিয়ার বাড়িতে। তিনিই সবাইকে সীমান্ত পার করিয়ে দিতেন। সেসময় ওপার থেকে ধনমিয়াসহ পরিচিত কয়েকজন ফিরে এসে খাবারের কষ্টের কথা বলেন। আমরা গৃহস্থের ছেলে। পোকাধরা ভাত কিভাবে খাব? এসব চিন্তা করে আমিও ফিরে আসি বাড়িতে। কিন্তু বন্ধু আশরাফসহ বাকিরা চলে যায় মুক্তিযুদ্ধে। পরে আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে থাকে।’

আবার ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোন সময়ে?

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। যুবকদের পেলেই গুলি করত। এসব দেখে আমরা ঠিক থাকতে পারি না। জেঠাতো ভাই শহীদুল্লাহ, দৌলতকান্দি গ্রামের ফুলমিয়াসহ পরিকল্পনা করি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার। কিন্তু সঙ্গে কিছু টাকা নিতে হবে। কিভাবে পাই? পাকিস্তানিদের ভয়ে ভৈরবের ব্যবসা তখন চলে আসে আমাদের গ্রামে। বাবার কাছ থেকে পুঁজি নিয়ে রায়পুরা থেকে সিগারেট এনে আমরা কিছুদিন পাইকারি বিক্রি করতাম। কিছু টাকা জমতেই ৫ জুন সকালে রায়পুরা যাওয়ার কথা বলে আমরা ঘর ছাড়লাম।’

কোথায় ট্রেনিং করলেন?

‘দৌলতকান্দি পার হয়ে সুলতানপুর বাজার হয়ে আমরা বিশ্বরোডে উঠি। সেখানেই প্রথম শুনি রাজাকার শব্দটি। বাঙালি কয়েকজন যুবক অস্ত্র হাতে পাহারা দিচ্ছিল সীমান্তের রাস্তাটি। পরে আমরা আখাউড়া সীমান্ত পার হয়ে চলে আসি ভারতের আগড়তলায়। ৫ জুন রওনা দিয়ে ১১ জুন সেখানে পৌঁছি। কংগ্রেস ভবনে ২-৩দিন থাকার পর আসি হাপানিয়া ক্যাম্পে। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ভুঁইয়া। সেখান থেকে আসি দুর্গা চৌধুরীপাড়া এবং পরে গোকুলনগর ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানে কয়েকদিন লেফট-রাইট করিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। আমার এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার) নং ছিল ৯৩৪৩৩।’

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছের সঙ্গে আমাদের আলাপ জমে ওঠে। তাঁর মুখে শুনি ট্রেনিংয়ের সময়কার একটি ঘটনা। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের ২৮ দিনের ট্রেনিং করায় ভারতের গুর্খা রেজিমেন্ট। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন রবীন্দ্র শিং। আমাকে খুব আদর করতেন তিনি। যেদিন গ্রেনেড থ্রোর ট্রেনিং হচ্ছে, সেদিন আমার সঙ্গে বান্কারে ছিলেন ক্যাপ্টেন সাহেব নিজেই। গ্রেনেড থ্রো করেই আমি বান্কারে মাথা লুকাই। তিনি তখন আমার চুল ধরে মাথা তুলে বললেন, গ্রেনেডের দিকে তাকাও। গ্রেনেডের চারপাশে যখন ধোঁয়া উড়ছিল তখন তিনি আমাকে ডাউন করে নিজেও ডাউন হন। তাঁর কাছ থেকে সেদিন শিখেছি ধোঁয়ার আগে মাথা লুকালে বিপদ হতে পারে। শক্র চাইলে গ্রেনেডটা উল্টো আমার দিকেই থ্রো করতে পারে। এরপর গ্রেনেড থ্রোতে আমার এতটুকু ভুল হতো না।’

কোথায় কোথায় যুদ্ধ করেন?

তিনি বলেন, ‘ট্রেনিং শেষে আমাদের শপথ ও অস্ত্র দেওয়া হয় তিন নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার হেজামারায়। প্রথম সেটি ছিল মনতলায়। পরে স্থানান্তর করে হেজামারায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে আমরা বাংলাদেশের ভেতরে কসবা এলাকায় ঢুকে আক্রমণ করে আবার সরে পড়তাম। আমরা ছিলাম গেরিলা। আক্রমণ করতাম হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা আসি নারায়পুর লক্ষ্মীপুরে। সেখানে ৬৫ জনের একটি ক্যাম্প তৈরি করি। আবুল কাশেম ভুঁইয়া ছিলেন গ্রুপ কমান্ডার। পরে ছোট ছোট আরও গ্রুপ আমাদের সাথে যুক্ত হয়। আমরা অংশ নিই সম্মুখযুদ্ধে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় এক অপারেশনে স্প্রিন্টারের আঘাত লাগে ইউনুছের কপালে। এছাড়াও তাঁর মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। সেই দিনের রক্তাক্ত অপারেশনটির কথা শুনি তাঁর জবানিতে। তাঁর ভাষায়, ‘১০ ডিসেম্বর ১৯৭১। দুপুর বেলা। ভৈরবে তখনও ছিল পাকিস্তানি সেনারা। রামনগর ব্রিজ পেরিয়ে তারা আমাদের দিকে অ্যাডভান্স হতে চায়। ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপরে ছিল ব্রিজটি। আমরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে রামনগরে পজিশন নিই, ওরা ব্রিজের উত্তরে ভৈরব অংশে। থেমে থেমেই গোলাগুলি চলছিল। সন্ধ্যা হয়-হয়। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে ওপারে যাওয়ারও চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের আর্টিলারির আঘাতে এগোতে পারে না। রেল-ব্রিজ দিয়ে ওপারে যেতে পারলেই ওদের ওপর সহজে আক্রমণ চালানো যাবে- এই পরিকল্পনা করে আমরা একটি দল ব্রিজের ওপর দিয়ে এগোতে থাকি। হঠাৎ একটা বুলেট আমার কানের পাশ দিয়ে শোঁ করে চলে যায়। পেছনে তাকাতেই দেখলাম গুলিটি গিয়ে লেগেছে সহযোদ্ধা আবু হানিফের গায়ে। ও ছিটকে পড়ল। আমরা তবুও থামি না।

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ চৌধুরীর কপালে আঘাতের চিহ্ন

পাকিস্তানি সেনারা তখন ভৈরব বাজার থেকে অনবরত শেল মারতে থাকে। একটা শেল আইসা পড়ে ব্রিজের ওপর আমার সামনে। বিকট শব্দে নড়ে ওঠে ব্রিজটি। একটি স্পিøন্টার এসে লাগে আমার কপালে। আমি টের পাই না। হাত দিতে দেখি রক্ত। ব্রিজটি তখন নড়ছিল। আমি আর নিজেকে সামলে নিতে পারি না। ঝাঁকুনিতে পড়ে যাই একেবারে নিচে। চুপসা পানিতে ছিল পাথর। ফলে আমার মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। পড়েই আমি জ্ঞান হারাই। যখন জ্ঞান ফেরে তখন আমি ক্যাম্পে। আমার সারা শরীর প্লাস্টারে আবৃত।’

স্বাধীনের পর চিকিৎসার জন্য ইউনুছ চলে আসেন ঢাকায়। বহুকষ্টে ১৯৭২ সালে সিটবেডে এসএসসি পরীক্ষা দেন। বাধা সত্ত্বেও চালিয়ে যান লেখাপড়া। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ইউনুছ ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। ১৯৮৫ সালে তিনি মাস্টার্স অব ডেমোগ্রাফিতে পাস করেন। পরে  ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কথা ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘আমাদের গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল ৩৪ জন। কিন্তু তালিকায় এ সংখ্যা আরও বেশি। কিভাবে হলো? শ্বশুর ছিল থানা কমান্ডার তাই জামাই পেয়ে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের সনদ। যুদ্ধের পর পরই এ তালিকা চূড়ান্ত করা উচিত ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ছিল প্রতি সেক্টরে। রাজনৈতিক কারণে এখনো বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা। এখন একটি ফরমে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষীর নাম ও স্বাক্ষর থাকলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়। টাকার বিনিময়ে সহজেই মিলে এই স্বাক্ষর। তাই তালিকা বাড়ার পেছনে প্রথমত দায়ী মুক্তিযোদ্ধারাই। স্বাধীনতা লাভের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সততাকে ধরে রাখতে পারেনি।’

রাজাকার প্রসঙ্গে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দৌলতকান্দিতে মহিউদ্দিন ভুঁইয়া হাইস্কুলের পাশে রামনগর গ্রামে আমরা ১৯ জন রাজাকারকে গুলি করে মারি। ওরা কাজ করত পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে। একবার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া যেতে এক গ্রামে কয়েকজন রাজাকার আমাদের কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব করে। এ নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেও গোলাগুলি হয়। ৩ জনকে মেরে ৬জন আসে আত্মসমর্পণ করতে। পরে আমরা তাদের রান্নাবান্নার কাজে লাগাই।’

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদরদের বিচার ও ফাঁসিতে বুকে জমানো চাপা কষ্ট লাঘব হয়েছে এ সূর্যসন্তানের। রাজাকারদের বিচার নিয়ে  মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস তাই অকপটে জানান নিজের মতামতটি। তাঁর ভাষায় ‘স্বাধীনের পরই এদের বিচার করা উচিত ছিল। বঙ্গবন্ধু তা শুরুও করেছিলেন। সে সময় কুষ্টিয়ার রাজাকার চিকন আলীর ফাঁসির আদেশও হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় ৩৭ হাজার ৪৭১ জন রাজাকারকে। পরবর্তীতে ৭৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার কারণে ২৫ হাজার ৭১৯ জন ছাড়া পেলেও আটক প্রায় ১১ হাজার রাজাকারের বিচার তখনো চলছিল।’

তবে কেন বিচার হলো না? উত্তরে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। তিন মাসের মাথায় জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দালাল আইন বাতিল করেন। ফলে অভিযুক্ত, এমনকি দণ্ডিত ৭৫২ জনকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সে-সুযোগে মুক্ত হয় রাজাকার চিকন আলীসহ অনেকেই।’

স্বাধীন দেশের রাজাকার হয় প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়কার একটি ঘটনার কথা বলেন ইউনুছ।

“জিয়া তখন প্রেসিডেন্ট। আমাদের ডাকা হয় বঙ্গভবনে। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ এগিয়ে আসে আমাদের সঙ্গে হাত মিলাতে। ‘রাজাকার’ বলে চিৎকার দিয়ে আমরা তাকে মারাত্মকভাবে অপদস্ত করি। পরে জিয়া এসে আমাদের থামান। ওইদিন বলেছিলাম, রাজাকারের সঙ্গে হাত মিলালে সে আর মুক্তিযোদ্ধা থাকে না।”

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী

দেশ কেমন চলছে?

মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘দশ বছর আগে যে দেশ ছিল সে দেশ এখন নেই। অনেক উন্নতি হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, দেশ এগোচ্ছে উন্নতির পথে। এটা অস্বীকার করার উপায় তো নেই। কিন্তু বিএনপি বলছে দেশে কোন উন্নতি হয়নি। অথচ তারাই এখন অনলাইনে তারেক জিয়ার ভিডিও বার্তা শোনেন। ভোগ করছি সুবিধা। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে উন্নতিটা বলছি না। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

কী করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে?

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছের উত্তর, ‘ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা জড়িত তারা যে দলেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এর কারণে সরকারের সফলতা ম্লান হয়েছে। দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হতে হবে। মানুষের মাঝে নানা তথ্য তুলে ধরে সচেতন করতে হবে। দেশপ্রেম জাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন দেশ সোনার বাংলা হবে।’

বর্তমান সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের এক ধরনের আপসকে এই যোদ্ধা দেখেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। তাঁর ভাষায়, ‘সরকার যেমন হেফাজতকে সুবিধা দিতে পারে তেমনি প্রয়োজনে তাদের ধরার ক্ষমতাও রাখে। তাই তাদের সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। এখন ভারতপ্রীতি মানেই আওয়ামীপ্রীতি এটা বলা যাবে না। তবে মুসলমানদের মধ্যে যারা পাকিস্তানপ্রেমী তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। কারণ তাদের হাত ধরেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে।’

স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভালোলাগার অনুভূতি জানতে চাই আমরা। উত্তরে এই বীর বলেন, ‘যখন দেখি কণ্ঠ আকাশে তুলে নতুন প্রজন্ম জয় বাংলা স্লোগান তুলছে তখন মনটা ভরে যায়। রাজাকারদের বিচারের জন্য গণজাগরণ মঞ্চের তরুণরা যখন আন্দোলন গড়ে তোলে, তখন বুকটা ভরে ওঠে।’

খারাপ লাগা জানাতে মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা পাইছি কিন্তু মুক্তি পাই নাই। অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো হয়নি। আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-নেতারা টাকা কামানোর কথা চিন্তাও করত না। বরং নানাভাবে সাহায্য করত গরিব ছাত্রদের। এখন পাতিনেতারাও কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এসব দেখলে সত্যি কষ্ট লাগে। নেতাদের মধ্যে তো দেশপ্রেম নাই। তাহলে দেশ এগোবে কিভাবে ?’

দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের। তাই তাদের প্রতি আশা নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ‘তোমরা লেখাপড়া করে নিজেকে তৈরি করো। মানসিকভাবে সবসময় ভেবো কাজের মাধ্যমে তোমরা এ দেশটাকে কী দিচ্ছ। শুধু নিজের স্বার্থের কথা ভেবো না। লোভে না পড়ে দেশের জন্য কিছু করো। মনে রেখো, এ দেশটার কাছে আমরা সবাই দায়বদ্ধ।’

সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম                 : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী (ইনু)।

ট্রেনিং নেন     : ভারতের লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে।

এফএফ নং    : ৯৩৪৩৩।

যুদ্ধ করেন     : তিন নম্বর সেক্টরের অধীন প্রথমে কসবা এলাকায় এবং পরে নারায়পুর লক্ষ্মীপুরে অপারেশন করেন। আবুল কাশেম ভুঁইয়া ছিলেন গ্রুপ কমান্ডার।

যুদ্ধাহত          :  ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১। দুপুর বেলা। ভৈরব ব্রিজের কাছে এক অপারেশনে স্প্রিন্টারের আঘাত লাগে তাঁর কপালে। এছাড়াও ব্রিজ থেকে পড়ে তাঁর মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়।

সালেক খোকনলেখক, গবেষক।

Responses -- “তালিকা বাড়ার পেছনে প্রথমত দায়ী মুক্তিযোদ্ধারাই”

  1. মোঃ নজরুল ইসলাম রাসেল

    প্রথমেই মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউনুছ চৌধুরী (ইনু) ধন্যবাদ জানাই একটি অতিব সত্য কথা বলার জন্য। ২০১৫ সালে প্রথম ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞা ও সৌভাগ্য হয়। ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে চিঠি আসে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই করার জন্য। তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে দিকগুলির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে তা হলো-
    মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভাতা পেতে হলে যে দলিল লাগবে ১. বাংলাদেশ গেজেটে নাম থাকতে হবে। ২. এর সাথে ভারতিয় তালিকা বা লাল মুক্তিাবার্তায় নাম থাকতে হবে। এবং ৩. মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সাময়িক সনদ থাকতে হবে। ৪. প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদ থাকতে হবে। এই চারটি প্রমাণকের মধ্যে যে কোন দুটি যার কাছে আছে সেই মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভাতা পাওয়ার যোগ্য। ২০১৫ সালে আমাদের উপজেলা ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিলো ২১৮ জনের মত। প্রমাণক যাচাই করার পরে দেখা যায় ৭৪ জন চাহিত প্রমাণক দিতে পারে নাই। এই ৭৪ জনেই শুধু মাত্র মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ দিয়ে ভাতা পেত। এখন প্রশ্ন হলো এই ৭৪ জন কি তাহলে মুক্তিযোদ্ধা না? বা এই ৭৪ জন কি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ পেল? এই প্রশ্নে জবাব আমি দিতে পাবোনা বা দিতেও চাই না। কারণ বাস্তব সত্য হলো বাংলাদেশ গেজেট, ভারতিয় তালিকা ও লালমুক্তিবার্তা এই তিনটি প্রমাণক টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ের সাময়িক সনদ কিছু মুক্তিযোদ্ধা নামের (…..) মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মচারী টাকার বিনিময়ে এই সনদ প্রদান করতো। এবং এই সনদের সাথে উপজেলা কমান্ডারের প্রত্যয়ন যুক্ত করে তাদের ভাতা পাইয়ে দিতো এই শর্তে যে, ভাতার টাকার কিছু অংশ তাদের দিতে হবে। এটা কোন বানানো তথ্য না এটাই প্রকৃত সত্য (প্রমাণ সহকারে)। কারো নাম উল্লেখ করে আমি বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে চাই না। এটি হলো একটি উপজেলার তথ্য। পুরা বাংলাদেশ হিসাব করলে কি হয় একটু চিন্তা করুন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাদপড়াদেরকে আরেকটি সুযোগ দিলেন। এটা আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্ত কারন বাদ পড়াদের মধ্যে যেন কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে না যায়। কারণ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অনেকেই মন্ত্রণালয়ের চাহিত প্রমাণককে গুরুত্ব দেন নাই। কারণ তাদের চিন্তা ছিলো বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছি এখনতো দেশ স্বাধীন আমরা যে যার কর্মে ফিরে যাই। সনদ বা তালিকায় নাম না থাকলেই বা কি? কোন প্রকার স্বার্থ বা সুবিধা পাওয়ার জন্যতো আর যুদ্ধে যাই নাই। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমি এতকিছু কি করে জানলাম? বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি পরাধীনতা থেকে দেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহন করছি কোন সুবিধা পাওয়ার জন্য না এই চিন্তাধারী অনেক মুক্তিযোদ্ধার সাথে আমার মরহুম পিতাও একজন। তাই আমার এত কিছু জানা। আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে যখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় আনলো এবং গেজেট, ভারতিয় তালিকা, লালমুক্তি বার্তা দেখতে লাগলো তখনেই মুক্তিযোদ্ধারা তাদের নাম আছে কিনা তা দেখার জন্য ছুটা ছুটি করতে লাগলো। প্রশ্ন করতে পারেন যে, আগেতো বলছে দেশের জন্য যুদ্ধ করছে সুবিধার জন্য না এখন কেন এত ছুটা ছুটি? ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধারা যে কি মানবতার জীবন যাপন করছে একটু খোজ খবর নিলেই জানতে পারবেন। ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত এই শ্রেনীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপর যে কি পরিমান অত্যাচার ও নির্যাতন চলছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। অনেক মুক্তিযোদ্ধা জীবন যাবন করার জন্য ভিক্ষা করা, রিক্সা চালানোর মত কাজ ও করতে হয়েছে। এরপর শেখ হাসিনা সরকার যখন মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করলো তখনেই এই সকল মুক্তিযোদ্ধা একটু ভাল জীবনের আশায় ছুটা ছুটি শুরু করল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অমানুষও ভাতা পাওয়ার জন্য এদের সাথে যুক্ত হয়ে গেলো। প্রকৃত কোন মুক্তিযোদ্ধা যাতে বাদ না পড়ে সেই জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সেল (জামুকা) অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ করে দিলো এবং এমন কিছু তথ্য তাদের দেয়ার জন্য বলা হলো যা কোন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহন করছে, প্রশিক্ষকের নাম, কি কি অস্ত্র চালানো শিখানো হয়েছে, কোন সেক্টরে কোন কমান্ডারের আওতায় কোন কোন এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহন করছে, সহযোদ্ধাদের তিন জনের নাম ঠিকানা, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অস্ত্র জমা দেয়ার রশিদ ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই আলোকে সারা দেশে হাজার হাজার আবেদন পড়তে থাকে। আবেদনের তারিখ শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পরে মন্ত্রণালয় উপজেলা ভিত্তিক তালিকা আলাদা করে উপজেলা সমূহে পাঠিয়ে এই তালিকা যাচাই বাচাই করতে ৬ সদস্যের একটি করে কমিটি করে দেয় কমিটির সদস্যরা যেই যেই এলাকার যুদ্ধকালীন সময়ে কমান্ডা হিসাবে যুদ্ধ করেছেন সেই অনুযায়ী তাদেরকে নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয় এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে যে যাচাই বাচাই করা হয় সেই যাচাই বাচাই কমিটিকে সকল ধরনের টেকনিক্যাল ও দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে নির্বাচন করেন। জামুকা থেকে মোট ২৫৪ টি আবেদন আসে যাচাই বাচাই করার জন্য। এই ২৫৪ জন আবেদনকারীর যাবতীয় সনদ, প্রমাণক, তাদের দেয়া তথ্য কমিটির মূল্যায়নসহ যাবতীয় কাগজ পত্রে আমার হাতের ছোঁয়া আছে। এবং আমি আমার উপর অপির্ত দায়িত্ব ১০০% সততার সাথে পালন করি। ১০০ ভাগ চেষ্টা করেছি প্রকৃত ১ জন মুক্তিযোদ্ধাও যাতে বাদ না পড়ে এবং কোন অমুক্তিযোদ্ধাও যাতে ভাতাপ্রাপ্ত না হয়। মঞ্জুরকৃত আবেদন সমূহ কমিটিকে প্রদান করি আগামী দুই এক মাসের মধ্যে গেজেট আকারে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে হয়তো। এই বিশাল দায়িত্ব পালন কালে অনেক ভাবে আমার কাছ থেকে তথ্য নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু আমার আমার জায়গায় আমি সততা বজায় রেখেছি। এবার আমার আমার কথায় আসি আমার পিতার কাছে যে সকল ডকুমেন্ট ছিল বা বর্তমানেও আছে সেই সকল ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে আমার পিতাকেও এই তালিকায় অন্তরভূক্ত করতে পারতাম কিন্তু আমার মরহুম পিতা মরার আগ মহুর্তের আমাকে ওয়াদা করিয়েছে যে, তার কোন কাগজ পত্র জমাদিয়ে আমরা যাতে কোন ধরনের সুবিধাভোগ না করি। তিনি তার নীতিতে অটল ছিলেন যে যুদ্ধ করছি দেশকে স্বাধীন করার জন্য সুবিধা নেয়ার জন্য না। আর বাবার নীতির কারনে তাকে এলাকার যে রাজাকার এর সহযোগিতায় পাক-সেনারা লুঙ্গি খুলে দেখছে হিন্দু না মুসলিম সেই রাজাকারকেও বিনয়ের সাথে সম্মান করি। বাবার কথায় হলো.. বাবারে …… সেই রাজাকারের নাম ধরে আমার সাথে যা করছে আমিও যদি তার সাথে সেই ব্যবহার করি তাহলে তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য কি? বাবার এই নীতি মেনেই চলছি এবং এই নীতিতেই থাকবো ইনশাআল্লাহ…… আর আমার বাবার এই নীতির কর্নধার হলো জাতিক জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির জনকের প্রতি ভালবাসা জন্য নিজেরই সবচেয়ে আদরের চোট ছেলের নামও রাখছেন রাসেল…….. আমিই সেই আদরের ছোট ছেলে রাসেল……………… যাচাই বাচাই চলাকালে অনেক কিছুই দেখছি। কি করে একজন মুক্তিযোদ্ধা ……………….. হয়ে যায়………. তবুও তাদের সম্মান করে যাব কারন তাদের কারনেই আজকের আমাদের এই বাংলাদেশ।

    Reply
  2. Md.Ja.....

    কিমন্তব্য করবো কেজে আসল কেজে নকল বুজাদায় এরকম গল্প অনেকেইতো বলে কারটা সঠিক করটা বেঠিক ব্ত্র্মান প্রোজন্ম বুজবো কিভাবে ? আমরা সঠিক বলবো কাকে?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—