????????????????????????????????????

ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকরা হচ্ছেন সমাজ গড়ার কারিগর। বাবা ছিলেন গ্রামের হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সবাই হেডমাস্টার সাহেব বলে ডাকতেন। তাঁর বেতন মায়ের বেতনের চেয়ে কম ছিল। এ নিয়ে বাবার মনে আক্ষেপ ছিল না। কারণ সামাজিক মর্যাদা ছিল তাঁর। মানুষ সম্মান করত।

বাবা-মা চেয়েছিলেন ডাক্তার হই, কিন্তু হলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০০২ সালে যখন শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিই তখন আমার বেতনের স্কেল ছিল ৪,৩০০ টাকা। এখন সহযোগী অধ্যাপক। স্কেল ২৮,৭৫০ টাকা। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন দুধাপ নামিয়ে আনা এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাতে এক ধরনের মনোবেদনা অনুভব করছি। ২০০২-২০১৫ এ সময়ের ব্যবধানে বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও সরকার তথা রাষ্ট্রযন্ত্র শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন কখনও করেনি। বেতন কাঠামোয় অবমূল্যায়নের পাশাপাশি দেখছি, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদাও হ্রাস পেয়েছে। দেশের অর্ডার অব প্রিসিডেন্সে শিক্ষকদের তাঁদের প্রাপ্য জায়গায় স্থান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একজন যুগ্ম সচিবের সমতুল্য সে কথা ভাবলে অবাক হই।

বেতন কাঠামোয় অবমূল্যায়নের পাশাপাশি দেখছি, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদাও হ্রাস পেয়েছে
বেতন কাঠামোয় অবমূল্যায়নের পাশাপাশি দেখছি, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদাও হ্রাস পেয়েছে

গত ডিসেম্বরে জার্মানির হ্যানোভারে গিয়েছিলাম একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে। সেখানে এক ভারতীয় অধ্যাপকের সঙ্গে কথা হল। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম তাদের বেতন কাঠামোর কথা। এক ধরনের সন্তুষ্টি লক্ষ্য করলাম তার কথায়। আমাদের একজন অধ্যাপকের দ্বিগুণেরও বেশি বেতন পান তিনি। আরও খারাপ লাগল যখন জানতে পারি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনই হল সর্বনিম্ন!

মাসিক বেতনের স্লিপগুলো সাধারণত দেখি না আমি। এত কম বেতন! তার উপর গবেষণা ভাতা মাত্র ১,৫০০ টাকা। দেখলেই মনে হয় এক ধরনের প্রহসন। কিছুদিন আগেও বিদেশে থাকাকালীন বেতন পেতাম কানাডিয়ান ডলারে, বর্তমান মোট বেতনের ৮ গুণেরও বেশি। খরচ হলেও সেভিংস থাকত। বাবা-মাকে, এমনকি বন্ধুর বিশেষ প্রয়োজনে টাকা পাঠাতে পারতাম। কিন্তু এখন তা ভাবাই যায় না। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তারপরও।

কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করছিলাম আমি। স্ত্রীও ওখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্সড ক্লাস ক্যাটাগরিতে সহজেই ইমিগ্রেশন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নিইনি। সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় স্বল্প বেতনে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা অবদান রাখার তাগিদ অনুভব করে দেশের টানে ফিরে এসেছি।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি আমার কাজ মূলত দুটি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও গবেষণা করা। আগে পর পর দুমেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য ছিলাম। তখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও গবেষণার পাশাপাশি অন্যান্য দায়িত্বও পালন করতে হত। এখন প্রতিদিন সকালে বিভাগে যাই আর ক্যাম্পাসের বাসায় ফিরি প্রায়শই রাত ৯টার পর। গত নভেম্বরে দেশে ফেরার পর অধিকতর মনোনিবেশ করেছি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, বিভাগীয় গবেষণা, শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে। ছাত্রছাত্রীদের কতটুকু সামর্থ্য দিয়ে পড়াতে পারছি তা জানি না, তবে চেষ্টা করছি ভালোভাবে পাঠদান সম্পন্ন করতে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এক ধরনের আগ্রহ অনুভব করছি।

বিকাল কিংবা সন্ধ্যার ক্লাসে ছাত্ররা এক এক জন আসে দূর-দূরান্ত থেকে। কেউ কেউ ক্লাস শেষে যায় টিউশনি করতে। তারপরও তাদের চেহারায় ক্লান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং উৎসাহ থাকে সেখানে। কিছুদিন আগেও শিক্ষার্থীদের অফিস আওয়ার দিতে পারতাম না; কারণ বিভাগের আরও ৫ সহকর্মীদের মতো আমারও কোনো অফিসকক্ষ ছিল না। বর্তমানে ছোট একটি কক্ষে ৩ জন সহকর্মী শেয়ার করে বসছি। চেয়ারম্যানের কক্ষই যেন আমাদের সবার কক্ষ। চেয়ারম্যানের কক্ষে মিটিং থাকলে শিক্ষক লাউঞ্জে গিয়ে চা-কফি খাওয়া হয়।

এমনই একদিন আলাপচারিতায় অন্য বিভাগের এক সহকর্মী জানালেন, তাদের বিভাগে ৫ জন সহযোগী অধ্যাপকের কোনো কক্ষ নেই। এ রকম দৃশ্য আরও অনেক বিভাগেরই। সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন বিভাগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, বেশ ভালো কথা, কিন্তু বিভাগগুলোর জন্য পর্যাপ্ত রিসোর্স নিশ্চিত করা হচ্ছে কি? নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু পাঠদান ও গবেষণার জন্য তাদের সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। হতাশ হই যখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তেমন গবেষণা-বৃত্তি বা ফান্ড নেই, অথচ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে। এক সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারপ্রদত্ত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি ছিল; এখন তাও নেই!

গবেষণা খাতে বাজেটে আশানুরূপ বরাদ্দ বাড়ে না। অবাক হই যখন দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত ৪২৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ মাত্র ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা (মোট বাজেটের ১ দশমিক ০৬ শতাংশ)! গত বাজেটের তুলনায় এ বাজেটে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও জ্ঞান বিনির্মাণে গবেষণা খাত বরাবরের মতো অবহেলিতই থেকে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত ৪২৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত ৪২৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা

এর জন্য কি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করব? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় থাকলেও এর জন্য বেশি দায়ী করব সরকারকে। জাতীয় বাজেটে শিক্ষায় বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দের চিত্র খুবই হতাশাজনক। জাতীয় বাজেটে যেখানে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ করা দরকার সেখানে বরাদ্দ আছে মাত্র ১০.৭ শতাংশ। এ নিয়ে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কেও আক্ষেপ করতে দেখেছি। সরকার কি কখনও ভেবে দেখেছে কেন আমাদের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই?

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জাতীয় আন্দোলনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পৃথিবীর অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়েরও এ ধরনের অর্জন রয়েছে কি না আমার জানা নেই। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক কিউএস ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা, ৭০০এর মধ্যেও নেই। যে সকল মানদণ্ডের ভিত্তিতে (একাডেমিক রেপুটেশন, এমপ্লোয়ার রেপুটেশন, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, সাইটেশন প্রতি ফ্যাকাল্টি, আন্তর্জাতিক ছাত্র অনুপাত, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত) র‌্যাঙ্কিং করা হয়, সেগুলোর উন্নয়নে আমাদের নজর নেই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সময়ে আমাদের সার্বিক অবস্থান পিছিয়েছে ২০০।

খুবই অবাক হই এ সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল নেই। সিন্ডিকেটে নির্বাচিত সদস্য থাকাকালে এ বিষয়ে তাগিদ দিয়েও কিছু করতে পারিনি। দিন দিন বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেছে। বিদেশি যারা আমাদের এখানে আসতে চায়, সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার (মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে বেগ পেতে হয়) কারণে তারা এখানে না এসে চলে যায় প্রতিবেশি ভারতে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, চীন-জাপানের কিছু শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে না পেরে চলে গেছে শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিদেশি যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক সমঝোতা স্মারক রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশেরও তেমন কার্যকারিতা লক্ষ্য করছি না। অথচ এগুলো কার্যকর করা গেলে আমাদের বেশ কিছু ছাত্র-শিক্ষককে বিদেশে ফেলোশিপ দিয়ে পাঠানো ও যৌথ গবেষণা করা যেত। তৈরি হত নতুন সুযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অধিকতর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উপায়। মনে পড়ে, গবেষণা তহবিলে অর্থ যোগানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড গঠন ও নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করেছিলাম। নিয়ম করে বছরে দুবার অর্থ সংগ্রহ করা হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছিল আজ থেকে আড়াই বছর আগে। অথচ এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে নাকি আর কিছুই করা হয়ে ওঠেনি।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা তহবিলে অর্থ যোগানের লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের কাছে উন্মুক্ত আবেদন করে। এই তো সেদিন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় (যেখান থেকে আমি পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা করেছি) ২.৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে গবেষণা খাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই বলে এখনও আমার কাছে চমৎকার ভাষায় ই-মেইল আসে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য।

প্রায় ৫ বছর চীনে ছিলাম উচ্চশিক্ষার জন্য। দেখেছি চীন সরকার উচ্চশিক্ষায় কী ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ ঢালাওভাবে হচ্ছে। এর ফলও এখন পাচ্ছে চীন। অতি সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংএ চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরব উপস্থিতি জাপানকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছিলাম। একটি হলের আবাসিক শিক্ষক ছিলাম। তখন প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও ছাত্রদের কক্ষ পরিদর্শন করতাম। তাদের সঙ্গে কথা বলতাম, সমস্যার কথা জানতাম। বেশ আন্তরিক সম্পর্ক ছিল ওদের সঙ্গে। কোনো কারণে একদিন না গেলে পরদিন দেখা হলে বলত, ‘স্যার, গত দিন আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। রুম, পরিস্কার করে রেখেছি।’ আমি দেখেছি হলের ছাত্ররা কীভাবে গাদাগাদি করে কোনো কোনো ছোট কক্ষে (গণরুম নামে পরিচিত) ২০-২৫ জন একসঙ্গে থাকে। এ দৃশ্য আমাকে পীড়া দিত। একই সময়ে জানতে পারি অপর একটি হলের ছাত্ররা বারান্দায় ঘুমায়, মসজিদে থাকে। নিজেকে আর সংবরণ করতে না পেরে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে বলি।

ওই হলের ছাত্ররা নাকি এখনও বারান্দায় ও মসজিদে ঘুমায়। মাঝে আড়াই বছর চলে গেল। নতুন হল নির্মাণ হলেও এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সাম্প্রতিক কিউএস ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা, ৭০০ এর মধ্যেও নেই
সাম্প্রতিক কিউএস ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা, ৭০০ এর মধ্যেও নেই

কিছুদিন আগে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংএর সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার পিছনে দাঁড়ানো দুজন প্রথম বর্ষের ছাত্রের সঙ্গে কথা হল। কোথায় থাক জিজ্ঞেস করলে ওরা জানাল হলে থাকে। একটু অবাক হয়ে বললাম, ‘তোমরা প্রথম বর্ষেই হলে সিট পেয়েছ!’ ওরা বলল, ‘ফ্লোরে ৮ জন গাদাগাদি করে থাকি।’ ওদের চেহারায় এক ধরনের বেদনার ছাপ লক্ষ্য করলাম। আমার মনটাও খারাপ হয়ে গেল। যে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা গর্ব করি, বহির্বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করি যেটির, সে বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ দিতে পারছে না দেখে ভারাক্রান্ত হওয়াই তো স্বাভাবিক।

১ জুলাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ দিন আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের যেখানে আনন্দ ও গর্ব করার কথা সেখানে আমাদের শিক্ষক সমিতি দাবি আদায়ের জন্য সাধারণ সভা করেছে। তাতে অংশ নিয়ে যখন বাসায় ফিরছি, ভাবছিলাম এ দিনটির কথা মনে করেও সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ঘোষণা আসতে পারত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারতেন আমাদের আচার্য কিংবা সরকারপ্রধান। তাঁদের সঙ্গে হতে পারত মতবিনিময় সভা। গবেষণাকর্মের প্রদর্শনী। চীন ও কানাডায় খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধানরা এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। গবেষণা, শিক্ষার উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জানতে চান। কখনও কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ দেন।

এবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মনে হল এ প্রতিষ্ঠানের বয়স চুরানব্বই বছর হলেও, এমনকি জাতীয় আন্দোলনগুলোতে এখানকার শিক্ষার্থীরা সব সময় বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও আমরা অবহেলিতই থেকে গেছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সীমিত অর্থে স্বল্প বেতনে প্রতি বছর গ্র্যাজুয়েট বের করছে। চেষ্টা করছে এগিয়ে যেতে। এখানকার ছাত্র-শিক্ষক আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে এ অঞ্চল তথা এশিয়ার সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা দেখতে চাই আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্থান করে নিচ্ছে।

প্রশ্ন জাগে, স্বপ্ন কি বাস্তবে ধরা দিবে? নাকি আমরা স্বপ্ন দেখব, স্বপ্ন দেখাব, কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব না? শিক্ষকদের মান-মর্যাদা কমিয়ে, বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে, গবেষণা খাতে যথাযথ বিনিয়োগ না করে, শিক্ষার্থীদের সুবিধাপ্রাপ্তি অনিশ্চিত রেখে এ স্বপ্ন আলোর সামনে আনা যাবে না। তৈরি হবে না সময়ের চাহিদায় দক্ষ জনসম্পদ। সর্বোপরি, জাতির মেরুদণ্ড থাকবে না সুস্থ।

সরকারকে বলব, জাতির মেরুদণ্ড ও সমাজ গড়ার কারিগরদের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন এবং সে অনুযায়ী এখনই ব্যবস্থা নিন।

মঈনুল ইসলামঅধ্যাপক, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯ Responses -- “শিক্ষকদের বেতন ও শিক্ষার পরিবেশ: প্রেক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”

  1. ডঃ আজম আব্দুল্লাহ

    ধন্যবাদ মঈনুল ভাই | আমি আপনার অধিকাংশ কথার সাথেই একাত্ম পোষণ করি । কিন্তু আমার কাছে কেমন যেন মনে হল লেখাটা এক পেশে । আমিও আপনার মতোই অনেকটা আত্ম তাগিদের কারণেই দেশে ফিরে এসেছি। আপনার মতোই আমিও অনেক বিষয় নিয়ে হতাশ । আমি আসলে একটা লেখা আশা করছিলাম যেখানে নিরপেক্ষ কিছু কথা থাকবে, থাকবে আমাদের সমস্যা, আমাদের অবদান, আমাদের আবেদনের যৌক্তিকতা, আমাদের সামগ্রিক কাজের ভাল এবং মন্দের বিশ্লেষণ, আমাদের কমিটম্যানট , আমাদের প্রদেয় কমিটম্যানট এর পর্যালোচনা এবং সর্বোপরি উচ্চ শিক্ষা কে প্রমট করতে সরকার নৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক কারণে বাধ্য তার পক্ষে যথাযথ যুক্তি। এটি এ কারণে যে সরকার যে আমলা গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিনিয়ত নিয়ন্ত্রিত তাদের কাছ থেকে এ ধরনের চিন্তা কখনো সরকার এর কাছে আসবে না।আমাদের সবার যে প্রত্যাশা আমি সেটির সাথে একমত। শ্বেই সাথে আসুন আমরা একটু নিজের দিকেও তাকাই। এ ব্যাপারে আমার কিছু ভাবনা আছে। যেমন, ১। আমাদের কি এখন ছাত্র রাজনীতির দরকার আছে? এই উপমহাদেশের কোন দেশে, কিংবা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া , আমেরিকা বা ইংল্যান্ড কোথাও কি আমাদের ধরনের ছাত্র বা শিক্ষক রাজনীতি আছে? আমাদের থাকার পক্ষে কি ধরনের স্ত্রং যুক্তি আছে? ২। ইউরোপর কিছু দেশ ছাড়া বিশ্বের আমন কোন দেশ কি আছে যেখানে মাসিক ছাত্র বেতন একটি ৫০০ মিলি কোকের দামের ছেয়েও কম? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ ফি বছর যত ছাত্র ভর্তি হয় তাদের সবাই কি গরীব? এ ব্যাপারে আমার একটা চিন্তা আছে। শেয়ার করি – ভর্তি কৃত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যাদের পিতা/অভিভাবক এর আয় ট্যাক্স এর আওতায় পড়ে না তারা শুধু ফ্রী ই পড়বে না বরং প্রত্যেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বৃত্তি পাবে যা প্রতি বছর তদন্ত সাপেক্ষে নবায়ন যোগ্য, অন্যদিকে যে সকল পিতার ট্যাক্স যোগ্য আয় আছে তারা উচ্চ ফী দিয়ে পড়ার সুযোগ পাবে । আমার একটা আনুমান আছে । ধরা যাক, ৬৬৬৬ জন ছাত্রের মধ্যে নিতান্ত গরীব ৩০০০ জন (যদেও এটি একটি উচ্চ সংখ্যা ) । এদের প্রত্যেককে যদি মাসে ৩০০০ করে বৃত্তি দেয়া হয় তাহলে মোট লাগবে ৯০০০০০০ টাকা । বাকি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে যদি গড়ে (ভিন্ন বিষয় এ ভিন্ন রকম ফী হতে পারে) ১০০০০/মাস টাকা নেয়া যায় তাহলে এদের প্রতিজনের কাছ থেকে প্রতি মাসে গড়ে পাওয়া যাবে ৩৬৬৬০০০০ টাকা । এতে করে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বাড়বে ২৭৬৬০০০০ টাকা, বছরে সেটি হবে ৩৩১৯২০০০০ টাকা যা বর্তমান গবেষণা বাজেটের ৬ গুনেরও বেশি । ৩, এটাত ঠিক যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক অধ্যাপক আছেন যাদের উচ্চশিক্ষা (পি এইচ ডি ) নেই, অনেকে আছেন ঠিকমত ক্লাস নেন না, অ- নে -কে অধ্যাপক হবার পর আর মৌলিক গবেষণা করার দরকার অনুভব করেন না- গবেষণা করেন না, এবং অনেক ক্ষেত্রে অনেক অধ্যাপক আছেন যারা কোন গবেষণা তত্ত্বাবধানও করেন না। অনেক বিভাগ আছে যেখানে মোট শিক্ষক এর অর্ধেকের ছেয়ে বেশি কিন্তু এম ফিল এবংপি এইচ ডি গবেষক মোট অধ্যাপকের ১/৩ ও নয়, সহযোগী এবং ডঃ যুক্ত সহকারি অধ্যাপকের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। আমাদের এই আচরণ গুল কি নৈতিকভাবে ঠিক । আমাদের কি জবাবদিহিতার জায়গা থাকা অপরিহার্য নয়। আমরা যাদের সাথে তুলনা করি তাদের যে মাত্রার জবাব দিহিতার হিড়িক তার কিছুইত আমাদের নেই। এ বিষয়ে কিছু কথা বলা জরুরি। ৪, বিশ্ববিদ্যালয় এ এমন অনেকে কি নেই যারা রাজনৈতিক কারণেই অধ্যাপক হয়েছেন আবার অনেকে যোগ্যতা পূরণ করার পরেও যাদের প্রমোশনের ফাইল আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর । এটা কি শিক্ষক সমাজের কাজ? তাহলে আমরা কি এটাই পাচ্ছি না আমরা যাদের কে গড়ে তুলি তাদের কাছ থেকে? ৫,আন্ত-শিক্ষক যোগ্যতা, বেতন এবং প্রমোশন প্রসঙ্গে- যে শিক্ষক এর উচ্চ শিক্ষা আছে, যিনি নিয়মিত গবেষণা করেন, যার গবেষণার ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর অনেক ভালো তিনি এবং যে সকল শিক্ষক এর এ কাজগুলো নাই তারা উভয় কি একই বেতন ও সুবিধা পাবার অধিকারী হতে পারেন? দেখা যায় এ সকল কাজ না থাকার পরেও শুধু রাজনৈতিক কারণে পরের ধরনের শিক্ষকগণ অনেক ক্ষেত্রে অধিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এটি কি ন্যায়সঙ্গত ? এ সকল ব্যাপারে রেটিং থাকা দরকার, পারসোনাল এবং বিশ্ববিদ্যালয় লেভেল এ । এ ধরনের রেটিং অনেক দেশেই আছে। বেতন সুবিধা রেটিং অনুপাতেই নির্ধারিত হয় । ৬, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো আর কোথায় এত অধিক সংখ্যক তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আছে? এ পরিমাণ লক থাকা কি আদৌ জরুরি? এ কাজ আমরা আউট সোর্স এর মাধ্যমে সহজেই করতে পারি । এখানেও আমরা লেজুড় বৃত্তিক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেই , ফলে দেখা যায় অনেকে দিনের অর্ধেকের বেশি সময় অলস কাটায়। একই ভাবে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি হওয়া, তাদেরকে নিজস্ব টেবিলে না পাওয়া , সঠিক জবাবদিহিতা না থাকা অর্থের অপচয় মাত্র । ৭, প্রশাসন কি জেনেই ফ্রেশ নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ করছে না ? এর ফলে কি অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় বঞ্চিত করছে না ? এটি কি ন্যায়? এর কি কোন জবাবদিহিতা আছে? বর্তমানে ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রেশ নিয়োগের ক্ষেত্রে পি এইচ ডি থাকা শর্ত । আমাদের কি এখন সময় আসেনি এ ধরনের নিয়ম করা অথবা এটি করা যে এই ডিগ্রী ছাড়া প্রমোশন সম্ভব না , সেটা যতদিন লাগুক।

    আমাদের এই বিষয়গুলো আমার কাছে মনে হয়েছে খুব গুরুত্বপূর্ণ , সে জন্য লিখলাম। আমার অবস্থান হচ্ছে সরকার আমাদের দাবিসমুহ মেনে নিন । সেই সাথে উপর্যুক্ত বিষয়াবলীর আলোকে আলোচনা সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমে থাকা চলমান সিস্টেমের মধ্যে পরিবর্তন এবং গতিশীলতা আনার জন্য আমাদের উপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে (সিন্ডিকেট) শর্ত ও জবাবদিহিতার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি, বিশেষ করে পি এইচ ডি, গবেষণার চলমানতা, গবেষণা তত্ত্বাবধান, এগুলোকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়োগ এবং প্রমোশনের ক্ষেত্রে আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গণ্য করা। রেটিং এর মাধ্যমে একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন কাঠামো একেকরকম হবার ক্ষেত্রে কোন বাধা আছে বলে আমি মনে করি না । অনতি বিলম্বে ছাত্রছাত্রী কর্তৃক স্বাধীনভাবে কোর্স শিক্ষক এর পাঠদান মূল্যায়নের ব্যাবস্থা করা জরুরি এবং এই মূল্যায়ন কে ওই শিক্ষকের চাকুরী থাকা না থাকা এবং প্রমোশন পাওয়া না পাওয়ার একটি অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অবশ্য এটি করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কে নিরপেক্ষ এবং রাজনীতি মুক্ত করণ একান্ত জরুরি। ভারতের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য শুধু সরকারের উপর নির্ভর করে না। আউট সোর্স এর মাধ্যমে তারা তাদের অনেক চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। আমরাও এ ধরনের ব্যবস্থা করতে পারি। এর ফলে সরকার এর উপর যেমন চাপ কম পড়বে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ও গবেষণা ক্ষেত্রে অনেক প্রোজেক্ট অফার করতে পারবে । বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের শুধু নিজের প্রমোশনের কোথা ভেবে ( সবাই নন ) গবেষণা না করে বরং দেশের কল্যাণের প্রয়োজনে গবেষণাকার্য পরিচালনা করা দরকার।

    আমার এই লেখা দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সম্মানিত অধ্যাপক কষ্ট পেতে পারেন। এ জন্য আমি দুঃখিত । কাউকে ব্যাক্তিগত ভাবে উদ্দেশ্য করে এটি লেখা নয়। বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমার মনে হয়েছে এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয়া এখন সময়ের অবশ্যম্ভাবী দাবী । এগুলো না হলে আমরা ছিটকে পড়ে যাব তাবৎ দুনিয়ার গ্যায়ান রাজ্য থেকে অনেক দূরে, হয়তো আমাদের গবেষণা হবে কিন্তু তার দৌড় থাকবে আমাদের মধ্যেই সীমিত, কাগজে । ধন্যবাদ ডঃ মঈনুল ইসলাম, থাকবো আমি আজ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ।

    Reply
  2. Md Rafiqul Islam

    Dear Moinul
    Greetings from my side as you have raised lots of issues in your article. You have mentioned that government is not considering your demand such as pay, privileges etc. as per your expectations, and bureaucracy is directly/indirectly responsible for your sufferings. You may informed that no civil servants of Bangladesh is now drawing more than you, as you are serving about 13 years (Associate Professor). You should rethink the financial capacity of the Govt. with holistic perspective, not from the partial point of view and not citing examples of other countries. Bureaucrats consider about total service holders, citizens capacity and ultimately the capacity of the Govt. However, one point you may informed that Warrant of Precedence is under the consideration of the Apex Court. I think dignity of teachers depend on their relation with students and deliberation to the society. So lets better to wait for the notification of the gazette of Pay and Salary Report. In addition, open discussion/ seminar may be organized regarding pay and dignity hike of teachers!

    Reply
  3. Sozib

    প্রতিনিয়তই শিক্ষকদের বেতন নিয়ে অসন্তোষের কথা শুনি! এই সব শিক্ষকগণ বেতন কাঠামো জেনেই শিক্ষকতা পেশায় আসেন এবং শিক্ষক হওয়ার পর আন্দোলন শুরু করেন। কেন? বেতন কম তারপরও ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে সবাই চাকরী নেওয়ার জন্য প্রস্তুত! দ্বিমুখী নীতি কেন? শিক্ষকদের বেতন কম তো অন্য পেশায় যান। নিজেও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়য়ে পড়াশোনা করেছি। প্রায় ৩০ জন শিক্ষকের মধ্যে হাতেগোনা ৪ থেকে ৫ জন ছাড়া বাকীদের শিক্ষকতা করার ন্যূনতম যোগ্যতা আছে বলে মনে করিনা। আমাদের দেশে বর্তমান শিক্ষক হওয়ার প্রথম যোগ্যতা তো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হওয়া! বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষকদের কত জন বর্তমানে নোংরা রাজনীতির সাথে যুক্ত সেটা আমাদের কারোরই অজানা নয়। তবে হ্যাঁ শিক্ষকগণ বেতন নিয়ে কথা বলতেই পারেন কিন্তু কেন যেন তাদের মুখ থেকে শিক্ষকদের নিয়োগ বাণিজ্য, অযোগ্যতা, নোংরা রাজনীতির সাথে যুক্ত; এসবের ব্যাপারে কোন কথা বলতে দেখিনা! আসলেই রহস্যজনক!

    Reply
    • ash

      রাজনীতি করাতো অপরাধ নয়। দেশের সব আম্লারা রাজণিতি করে। নাহলে সরকার পরিবর্তন হলে ওএসডি কেন হয়? আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা আরো সিরিয়াস যা অবলা থাকল আজ।
      অজানা আপনি কোন বেঞ্চের ছাত্র ছিলেন, তবে শিক্ষক যারা পরিশ্রম করে আপনাকে সঠিক মানুষ বানাতে পারেনি তাদের জন্য কষ্ট ফিল করছি। শিক্ষকরা কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না, চায় না কোন কথার উত্তর করতে – সব ক্ষেতেই মৌনতা। যদি দেখি এ লেখার সমালোচক, তবে দেখা যাবে কেউ শিক্ষক নয়, সবাই আমলা বা সরকারের লোক।
      বেতনের কথা আসলেই অবাক হবার কি আছে! একজন আমলার কয়টা গাড়ি-বাড়ী ঢাকাতে? কোথা থেকে আসে এগুলো? আপনার কি মনে হয় মানুষ জানে না? আর তাদের অপকর্মের কথা কি বলার আছে? যারা রাস্তায় গাড়ি চালায় উল্টো দিকে, তাদের মেধা ও যোগ্যতার পরিমাপ কিভাবে হবে তার কোন স্কেল একনো অজানা।
      আমার মনে হয় শিক্ষকদের এখনি সময় প্রত্যেক্টা ক্তহার উত্তর দেয়া, অন্যথায় আরো সমস্যা সামনে আগত। মৌনতার ডালা থেকে বেরিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত।

      Reply
      • রশীদুল হক

        শিক্ষক পুলিশ সেনাসদস্য আমলাসহ অনেকেই আছেন যাদের রাজনীতি বা সমিতি করা আদৌ সমীচীন নয়, কারণ এতে সকলের মহাক্ষতি তবে তাদেরকে ১০০% রাজনীতিসচেতন হতে হবে অন্যথায় তারা যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবেন!

        আর সমিতি?

        শিক্ষক বা আমলারা সমিতি করাও ঠিক না তবে প্রশাসন তাদের অভিযোগ শোনা এবং সুযোগ সুবিধা জানার জন্য পৃথকভাবে দায়িত্ব দিয়ে একটা কাঠামোগত ব্যবস্থা রাখবেন এটাই হতে পারে সমাধান

  4. আকাশ

    স্যার ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। এই কয়টা টাকার জন্য যে হাহাকার দেখলাম তা আসলেই ভাববার বিষয়। অন্য দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করার আগে নিজেদের কমিটমেন্টও তুলনা করবেন। করবেন লেজুরবৃত্তি, মারবেন ক্ষ্যাপ তাহলে কিভাবে হবে। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন সর্বোচ্চ বেতন দিলে লেজুরবৃত্তি ছাড়বেন, ক্ষ্যাপ মারবেননা, গবেষণায় মনোনিবেশ করবেন। তাতো পারবেননা। নিজেদের সুবিধার জন্য উন্নত দেশের সাথে তুলনা। উন্নত দেশে এভাবে নিজেদের ছাত্র রেখে বাইরে ক্ষ্যাপ মারেনা। কমিটমেন্ট ঠিক রাখুন।

    Reply
  5. ই হক

    আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। লেখায় কিছু তথ্য আছে, তাই আবার ধন্যবাদ। তবে প্রথম ও শেষ প্যারা ভাল লাগেনি। মেরুদন্ড বা কারিগর এসব ক্লিশে কথাবার্তা। কোন দেশে কত বেতন দেয় সে তুলনা বাতুলতা। অমুক দেশে অত বা তমুক দেশে তত বেতন দেয়, তাই আমাদেরকে অত দিতে হবে এসব বালখিল্য ও সেকেলে কথাবার্তা। যুক্তি দিয়ে বলুন আমরা এ করবো আমাদের এ পরিমাণ বেতন দিতে হবে। ওটা দাবি নয় আমাদের প্রাপ্য। কানাডিয়ান পি আর না নিয়ে দেশের সেবা করতে ফিরে আসার জন্য আরেক বার ধন্যবাদ। আর পত্রিকা গুলো এমন ক্লিশে লেখা কেন ছাপে জানি না। দয়া করে আমার মন্তব্য বাতিল করে দিবেন না।

    Reply
  6. মো: আবদুল মাজেদ পাটোয়ারি

    সবচেয়ে অবাক লাগে মানুষ যখন সহজেই শিক্ষকদের দোষী করেন । যদি কোনও ধরনের নিয়োগে অযোগ্য প্রাথী চাকরি পায় তার সম্পূণ দোষ কি শিক্ষক সমাজের । খোঁজ নিয়ে দেখুন, রাজনৈতিক তদবির এত বেশি ছিল যে, তার চাকরি না হলে ভি সি মহোদয় কেমন হেনস্থা হন। রাজনৈতিক এ ধুরাবস্হার জন্য পুরো সমাজ দায়ী । শিক্ষকদের মর্যাদা না দিয়ে যদি এর উন্নয়ন ঘটে তো ভালো কথা। সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।

    Reply
    • Sobuz

      ভিসি সাহেব নিজেও তো রাজনৈতিক দলের চামচাগিরি আর তোষামোদি করে ভিসি হয়েছেন কাজেই তার সম্মান থাকলো না গেল সে ব্যাপারে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই তো সামান্য সুযোগ সুবিধার জন্য রাজনৈতিক দলের চামচাগিরি আর তোষামোদি করে। আমি শুধু চিন্তা করছি সৎ, যোগ্য এবং পরিশ্রমী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মান নিয়ে।

      Reply
  7. Dr Musa Ali

    ড. মঈনুল ইসলাম যা বলেছেন তার সাথে আমি প্রায় একমত। খুবই হতাশার চিত্র যে আমলারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবিয়ে রাখার চেস্টা করছে অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে ডিগ্রী নিয়ে তবেই না তারা আমলা হতে পারে। এ যেন বাপের উপুরে মাতুব্বরী! তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও লজ্জাজনক কাজ করে যেমন তারা রাজনীটির সাথে জড়িত হয়। ভাল এবং মেধাবীকে ল্যাং মেরে অনেক অমেধাবীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আমার এক বন্ধু অনেক ভাল রেজাল্ট করেও তার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে আবেদন করেও চান্স পায়নি অথচ রাজনৈতিক খুটির জোরে তাকে ল্যাং মেরে অপেক্ষাকৃত অনেক নিম্ন মানের রেজাল্টের ক্যান্ডিডেটরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়ে গেছে।
    এ ধরনের নোংরা রাজনীটির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষকই জড়িত! অনেক শিক্ষকই চাত্রদের ঠিকমত পাঠদান করে না। গবেষনায়ইও তাদের চরম গাফিলতি এবং উদাশীনতা। পিএইচডি বা ভাল গবেষনার রেকর্ড ছাড়াই ভুরি ভুরি পুর্ন অধ্যাপক বনে যাচ্ছেন তাহলে উচ্চশিক্ষার তো কোন দরকার নেই! ওসব অনুপোযুক্ত, দুর্নিতিবাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কি জাতি এবং সমাজের কাছে উপযুক্ত সম্মান পাওয়ার যোগ্য?! তবে সবাই না; অনেক যোগ্য এবং সৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও আছেন যারা অবশ্যই সমাজের কাছে উপযুক্ত সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

    Reply
  8. Md. Siddiqur Rahman

    স্যার,
    শ্রদ্ধা,শুভেচ্ছা এবং অজস্র ভালোবাসা খাকল এবং সেই সাথে অগ্রিম ঈদ মোবারক । আপনার লেখাটা পড়লাম । বেশ ভালো লাগল । বাস্তব সত্যিটাই লিখেছেন জানিানা সরকার মহোদয়ের চোখে আপনার লেখা পড়বে কিনা ! ভাবতে অবাক লাগে এ এক আজব দেশ যেখানে বেসরকারি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাড়িভাড়া পান ৫০০ টাকা আর চিকিৎসাভাতা পান ৩০০ টাকা । সব মিলিয়ে ১১/১২ হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষকদের সংসার চলে যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা অথচ দেশের বিশাল একটা জাতি গোষ্ঠিকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে এ শিক্ষা পরিবারটি । যেহেতু আপনি লিখছেন অাপনার বাবা একজন হেড মাষ্টার ছিলেন সে হিসেবে আমি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি আমাদের নিয়ে একটু ভাবুন , আপনাদের মতো কলম সৈনিকেরা একটু লিখুন । হয়তো সরকার বাহাদুর এ বিষয়গুলো নতুন করে কিছু ভাববে ! অপেক্ষায় থাকলাম——-

    Reply
  9. কিশোর

    মঈনুল ভাই,

    চমৎকার লিখেছেন।

    “কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্সড ক্লাস ক্যাটাগরিতে সহজেই ইমিগ্রেশন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নিইনি। সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় স্বল্প বেতনে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা অবদান রাখার তাগিদ অনুভব করে দেশের টানে ফিরে এসেছি।”

    অশেষ বিনম্র শ্রদ্ধা আপনাকে…আশা করি আমাদের স্বপ্ন একদিন সত্যি সত্যিই সত্যি হবে। লেখালেখি চালিয়ে যান। শুভকামনা।

    Reply
  10. রশীদুল হক

    আমি যতদূর জানি আমাদের দেশের ক্যাডার সার্ভিসের আমলারা (মূলতঃ বিসিএস প্রশাসন এবং উপ-সচিব পদবীধারী ও তদূর্ধ) চাকরীতে বেতন ভাতার পাশাপাশি কিছু সুবিধা পান, যা অন্যরা পান না। যেমনঃ ভাল ভাল গাড়ীতে চড়া, বিদেশ ভ্রমণ, চেয়ারম্যান-ডিজি-কমিশনার-জেলা প্রশাসকের মত নামী দামী পদ পদবী এবং তার পাশাপাশি, বাংলো বাড়ী, চাপরাশি, বিশেষ তহবিল (এল আর ফান্ড) আরও কত কি! একটা টেলিফোনে নিজের এবং প্রিয়জনদের বড়-ছোট অনেক কাজ হয়েই যায়! বিরাট অংশ আমলার তাই অবসরের পর থাকে বাড়ী-গাড়ী, ছেলে মেয়েদের বিদেশে পড়া, ভাল ভাল চাকরী ইত্যাদি।

    আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সেই তুলনায় কি আছে ?

    বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপে উঠার সুযোগ বাতিল করে দিয়ে আমরা মহান শিক্ষকদের শেষ সম্মানটুকুও কেড়ে নিচ্ছি – জাতি হিসেবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু আছে কি ?

    সরকার কি ঘুমিয়ে আছেন ?

    Reply
  11. মো: মমতাজ হোসেন

    আমাদেরকে প্রথমে দেখতে হবে, আমাদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি-না? উচ্চ শিক্ষা ছাড়াই দেশ যদি উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে তাহলে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে কি? উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা না থাকলে মানসম্মত শিক্ষারও প্রয়োজন নাই। কাজেই শিক্ষাখাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা মানেই অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ অপচয় করা —– আমাদের দেশ পরিচালনাকারী কর্তাব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড দেখে এমনটাই প্রতীয়মান হয়।

    Reply
  12. আরশাদ মোমেন

    ২০০০ সালে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাহা ইনস্টিটিউটে এক সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে কর্মরত বন্ধুর কাছে জেনেছিলাম ঐ বৎসরে প্রতিষ্ঠানের শুধুমাত্র বাৎসরিক গবেষনা বাজেটই ( বেতন ভাতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে ) ছিলো ১২০ কোটি ভারতীয় রুপী। ঐ বৎসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট বাজেট ছিলো প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

    Reply
  13. আরশাদ মোমেন

    ২০০০ সালে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাহা ইনস্টিটিউটে এক সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে কর্মরত বন্ধুর কাছে জেনেছিলাম ঐ বৎসরে এক শুধু প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক গবেষনা বাজেট ( বেতন ভাতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে ) ১২০ কোটি ভারতীয় রুপী। ঐ বৎসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট বাজেট ছিলো প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

    Reply
  14. সৈয়দ আলি

    পড়ে কি হবে? মহান হীরকরাজ বলে গেছেন, ‘ওরা যত বেশি পড়ে, ততো বেশি জানে, ততো কম মানে’। তাই বন্ধ পাঠশালা। তবে গোশালা গড়ে তোলা হবে। সেখান থেকে পড়ালেখা ছাড়াই একটুকরো সুদৃশ্য কাগজ দেয়া হবে। আঙ্কেল বলেছেন, কাল সকালেই যেনো দেখা করি। ব্যস, হয়ে গেলো।

    তাই পড়ালেখা বাদ দিয়ে সৌদি বাড়ির প্রতিহারী হবো। এখন টাকায় সন্মান আনে, হেডমাস্টারী টাইটেলে নয়।

    Reply
  15. Hasan

    Very sorry to read the article, no doubt writer is correct. We no need huge big military base, non-productive ministry and unqualified minister but, we need good school, university to create good nation. Good education can make a good citizen. Research is important to develop a nation. I dont think we have such a leader who could rightly think these. If you listen parliament speech of our proud leaders than you will realized how will be our future. When we could get good leaders than will get good budget for education.

    Reply
  16. মোঃ আব্দুল লতিফ

    সরকার যত দিন শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা ,সম্মান, জীবন,ভবিষ্যতের কথা না ভাববে তত দিন দেশের উন্নয়ন হবেনা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—