Feature Img

shariar1তরুণরাই যেকোনো দেশে যেকোনো সমাজে যেকোনো সময়ে যেকোনো বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তবে সেখানেও একই চিত্র দেখা যাবে। শতকরা নব্বই ভাগ মুক্তিযোদ্ধার বয়স ছিল পঁচিশের নিচে। তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এটিও একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল যে, এ যুদ্ধের নেতৃত্ব যাঁরা দিয়েছিলেন তাঁরাও ছিলেন তুলনামূলকভাবে নবীন। একাত্তরের ১৭ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি, এমনকী মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বয়সও তখন ছিল পঞ্চাশের নিচে। আমার ব্যক্তিগত কথা যদি বলি, আমি নিজেও তখন কুড়ি পেরুইনি। আমার মতো কুড়ি না-পেরুনো অসংখ্য তরুণ দেশের টানে সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার পরপরই মুক্তিযুদ্ধের এ প্রজন্মের খানিকটা স্বপ্নভঙ্গ হয়। কারণ এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের বলা হল অস্ত্রসমর্পণ করতে। তারা যেন স্কুলে-কলেজে-কর্মক্ষেত্রে ফিরে যান সে আহ্বান জানানো হল। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামের বিরোধীতাকারী রাজাকাররা অস্ত্রসমর্পণ করেনি। পাকিস্তানের এক লেখক ‘আলবদরের ইতিহাস’ নামে একটি বই লিখেছেন, সেখানে এক আলবদর কমান্ডারের সাক্ষাৎকার আছে, কমান্ডার বলছে, ‘একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, আমরা কিন্তু করিনি। অস্ত্রও জমা দিইনি।’ সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আমি এ বইয়ের কথাগুলো উল্লেখ করেছি।

ফলে একাত্তরের পর দেশগড়ার ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান আমলের প্রশাসন তখনো এখানে বহাল ছিল। মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনের লোকেরা সেভাবে ছিলেন না, থাকলেও এঁরা ছিলেন একেবারে অনুল্লেখযোগ্য। এর ফলে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর প্রশাসনের ‘পাকিস্তানিকরণ’ হয়ে গিয়েছিল দ্রুত। এর পাশাপাশি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসার পর দালাল আইন বাতিল করাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাছাড়া বাহাত্তরের সংবিধানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগও তিনি করে দিলেন। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘বিস্মৃতিকরণ’ ও ‘বিকৃতিকরণ’ শুরু হল।

একটা সময় আমরা দেখেছি, ইতিহাসের পাঠ্যবইতে ‘হানাদার-বাহিনী’ শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হচ্ছে, ‘পাকিস্তানি-বাহিনী’ বলা হচ্ছে না। ভারতীয় সেনাবাহিনী না বলে ‘মিত্রবাহিনী’ লেখা হচ্ছে। সংবিধানের মুখবন্ধ থেকে ‘স্বাধীনতা-সংগ্রাম’ শব্দবন্ধ বাদ দিয়ে ‘স্বাধীনতাযুদ্ধ’ শব্দবন্ধ যুক্ত করা হল। যেন একাত্তরে আমাদের মুক্তিসংগ্রাম একটি ‘নয় মাসের যুদ্ধ’ মাত্র ছিল, এটা স্বাধীনতালাভের জন্য একটি জাতির তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

এভাবে গোটা দেশে পাকিস্তানিকরণের একটা প্রক্রিয়া সেসময় আমরা লক্ষ্য করেছি। জেনারেল জিয়া তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আগ্রহী করতে চেয়েছিলেন, খুবই ভালো কথা। কিন্তু তিনি সত্তর দশকের শেষদিকে ‘হিযবুল বাহার’ নামের জাহাজে করে যে তরুণদের নিয়ে প্রমোদভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, তাদের সবাই কিন্তু পরে রাজনীতিতে ‘টপ টেরর’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। জিয়া একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম।’ এভাবে তরুণ প্রজন্মকে কলুষিত, আদর্শবর্জিত ও দেশপ্রেমহীন করে তুলেছিলেন তিনি।

এটাই হয়। ছাত্র ও তরুণদের যদি আপনি রাজনৈতিক কোনো আদর্শ থেকে দূরে রাখেন, তাদের হাতে সহজে-সুলভে অর্থ ও অস্ত্র তুলে দেন, তাহলে এ শক্তিটা বিচ্যুত হবেই। এ কাজ বিএনপি যেমন করেছে, জামায়াতও করেছে। জামায়াতে ইসলামী তো স্কুল থেকেই ছাত্রদের দলে রিক্রুট করে। পড়াশুনার খরচ, কোচিংয়ের ব্যবস্থা, ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ ইত্যাদি দিয়ে জামায়াত মেধাবী ছাত্রদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে। তাই আমরা বলি, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রজন্মটি ছিল ‘অন্ধকার প্রজন্ম।’ এ প্রজন্ম জানে না, আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ কেন হয়েছিল, কার বিরুদ্ধে হয়েছিল, কে-কে ছিল এ যুদ্ধের শত্রু-মিত্র, সে-যুদ্ধে সাধারণ মানুষের ত্যাগ-তিতীক্ষার গল্পও তাদের জানা নেই। আসলে এ ইতিহাস তাদের জানতে দেওয়া হয়নি। এভাবে দীর্ঘ একটি সময় তরুণরা ইতিহাসহীনতার অন্ধকারে বেড়ে উঠেছে।

এসময়ই ওই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বড় একটি প্রতিঘাত তৈরি করেছিল ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল কমিটি’ গঠিত হওয়ার পর। এরপর আমরা সমন্বয় কমিটি গঠন করলাম। দেখা গেল, নবীন প্রজন্মের বড় একটি অংশ আমাদের মিটিং-মিছিল-সেমিনার-সমাবেশে অংশ নিতে শুরু করেছে। এ তরুণদের নব্বই শতাংশের বয়স পঁচিশের নিতে। আমরা তখন তরুণদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলতাম, ‘‘এটা হচ্ছে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ।’ কারণ একাত্তরে আমরা যা চেয়েছিলাম তা অর্জিত হয়নি। পরিপূর্ণ বিজয় আমরা পাইনি। একাত্তরের ঘাতক দালালরা এখনো সক্রিয়। তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে, তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে তোমাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’’ এর ফলে দেখা গেছে, এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তরুণরা, যাদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি– তারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মহাজোটকে ভোট দিয়েছে।

আমাদের এসব উদ্যোগের ফলেই আজ স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধগুলোতে নব্বই বা পাঁচানব্বই শতাংশ তরুণকে দেখা যায়। তারাই ফুল হাতে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করে। এরা আসলে মুক্তিসংগ্রামের অহংকারকে ধারণ করে তাদের চেতনায়। বিজয়ের অহংকার লালন করে তাদের বুকে। এরা যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধ করেছেন তাদের পিতা-মাতা-পূর্বপুরুষ অথবা অগ্রজরা। কিন্তু তারা জানে, আমাদের মহান মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র গঠন বাঙালি জাতির পাঁচ হাজার বছরের লিখিত-অলিখিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এভাবেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের পর যে বিপরীত স্রোতটি তৈরি হয়েছিল তাকে রুখে দিতে পেরেছি।

হ্যাঁ, পাশাপাশি তরুণদের একটা অংশকে ওই ঘাতক-দালালদের শক্তিটি বিপথগামী করছে, করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওরা এটা করতে পারছে এজন্য যে, এগুলো একেবারে পেশাদারি ও ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন শিবিরের সদস্য হলে টাকা পাওয়া যায়। তখন ওরা অধিনায়কের নির্দেশে কারো গলা কাটে, কারো রগ কাটে, কারো-বা হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। জামায়াত মনে করে, এটাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের জেহাদের একমাত্র পথ।

হিজবুত তাহরিরের মতো সংগঠনেও সামান্য-সংখ্যক তরুণ আজকাল যুক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণের কথা আমি সম্প্রতি বিলেতে এক সেমিনারে বলেছি। নব্বই দশকে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শিক শূন্যতা দেখা দিয়েছে। গোটা বিশ্বে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওদের ঠেকানোর কেউ নেই। এরই সুযোগ নিচ্ছে ওয়াহাবীপন্থীরা যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে। এরা মনে করে, গোটা বিশ্বে এরাই একমাত্র মার্কিনবিরোধী শক্তি। এজন্য এরা সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি করছে।

এর পেছনে এক ধরনের ইসলামী আদর্শের বিষয় তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি হল সহজে অর্থপ্রাপ্তি। আপনি এদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস বন্ধ করে দিন, দেখবেন ক’জন তরুণ-তরুণী জামায়াতে ইসলামী করে! এটা তো কোনো আধুনিক ভাবধারা নয়! কেন একজন তরুণী নিজেকে আপাদমস্তক বোরখায় আবৃত দেখতে চাইবে? তারুণ্যের ধর্মই হচ্ছে বিদ্রোহ, প্রতিবাদ। আসলে আমাদের মতো দেশগুলোতে দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ওরা আমাদের তরুণদের মগজ-ধোলাই করতে পারছে। এর ফলে এ অঞ্চলে হিজবুত তাহরির, পাকিস্তানে মওদুদীবাদ বা মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনগুলো কাজ করতে পারছে। কিছু তরুণকে আকৃষ্ট করতে পারছে ওরা যদিও এ তরুণরা সংখ্যায় খুব নগণ্য।

উন্নত বিশ্বের তরুণরাও কিন্তু এ ধরনের সংগঠনগুলোতে যুক্ত হচ্ছে। এর কারণও সেই সোভিয়েত ভেঙ্গে যাওয়া পরবর্তীর আদর্শিক সংকট। এ সংকটটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র নামের রাষ্ট্রটাই। আল কায়েদা বলুন, তালেবান বলুন আর ওসামা বিন লাদেনই বলুন– এই দানবগুলোকে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রই, রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য। এখন এগুলো ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ হয়ে তাদেরই আক্রমণ করছে।

একসময় পাকিস্তান, আফগানিম্তান ও ইরাকে তারা মৌলবাদী শক্তিকে উস্কানি দিয়েছে। এখন দিচ্ছে মিশরে, মুসলিম ব্রাদোরহুডের মতো শক্তিকে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আমাদের দেশের ও পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীকে ‘মডারেট মুসলিম শক্তি’ বলে মূল্যায়ন করে। এর ফলে জামায়াত আস্কারা পেয়েছে। ওরা এ সাহস থেকেই একাত্তরে রাজাকার-আলবদর-আল শামস বাহিনী গঠন করেছে। গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। এ আস্কারা থেকেই তারা ধর্মের নামে গণহত্যাকে জায়েজ করেছে।

আমি একবার পাকিস্তানে এক সেমিনারে বলেছিলাম, যদি একটা সুন্দর সকালে ঘুম ভেঙ্গে আমরা দেখি, পাকিস্তান একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে- তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র সেটা মেনে নেবে? অবশ্যই নয়। কারণ সেখানে ওরা তো বসে আছে সন্ত্রাস দমনের জন্য। নিজেদের অবস্তানের যৌক্তিকতা তখন ওরা কীভাবে প্রমাণ করবে?

এ জন্যই ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের মতো শাসক যিনি স্বৈরশাসক হলেও ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ– তাকে সরিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের ব্যবস্থা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেদেশে কী রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকবে না থাকবে সেটা সেখানকার জনগণের বিষয়। আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাই না। মূল বিষয়টি হল, বিশ্বের দেশে-দেশে যত বেশি জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ তৈরি হবে ততই তাদের আধিপত্য বিস্তারে সুবিধা হবে। তাই ওরা জামায়াতের মতো দলগুলোকে বলে দেয়, ‘তোমরা ইচ্ছেমতো জঙ্গী বানাও, আমরা দেখব।’ আমাদের দেশেও ওরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাবে না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু জঙ্গী যে রপ্তানি করা যায় এটা তো পাকিস্তান দেখিয়ে দিযেছে। আপনি বিশ্বের কোথাও জঙ্গী তৈরি করলে আপনি নিজেও নিরাপদ থাকতে পারবেন না। জঙ্গীরা সুবোধ বালকের মতো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। ফলে নয়-এগারোর মতো ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হল মার্কিন জনগণকে বিষয়টি বোঝানো্। একাত্তরে আমরা মার্কিন সরকারকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করতে দেখেছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল। এখনো আমাদের তাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বোঝাতে হবে যে, জঙ্গীবাদ-মৌলবাদের কারখানা তৈরি করে ওরা নিজেরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কথা শুনলে একাত্তরে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। এখনো তাদের কথা শুনতে হলে আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে পারব না। দেশকে আমরা যেখানে নিয়ে যেতে চাই সেখানে নিয়ে যেতে পারব না।

যুদ্ধাপরাধের বিষয় নিয়ে সম্প্রতি যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বলব, জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করার জন্য লবিষ্ট নিয়োগ করে রেখেছে। সম্প্রতি আমি একটি প্রোগ্রামের উদ্দেশে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখলাম, পত্রপত্রিকায় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে স্কাইপতে আরেক আইনবিশেষজ্ঞের কথাবার্তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। আমি এতে স্তম্ভিত হয়ে গেছি। আমি মনে করি, এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-আইনবিশেষজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন। কিন্তু কোন সাহসে তিনি আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন? আমি বলব, এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত। মিডিয়াকেও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি যে পত্রিকাগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তাদের ব্যাপারেও জোর তদন্ত দরকার।

আমি মনে করি, যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাতে একটি সুযোগ তুলে দিয়েছেন জিয়াউদ্দিন সাহেব। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। কারণ আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি, ওরা বিভিন্ন লবিষ্ট গ্রুপ নিয়োগ করে রেখেছে যারা বাইরের দেশগুলোতে বিচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। যেমন, ক্যাসিডি অ্যান্ড এসোসিয়েটসের কথা আমরা জানি, এরা ২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের লবিয়িং পুরোপুরি বৈধ। মার্কিন নৈতিকতার ধরন এটাই। তবে ইউরোপে এটা নেই। এখন কথা হল, এসব লবিস্ট গ্রুপের তৎপরতায় এসব হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। বিলেতের এই ‘ইকোনোমিস্ট’ পত্রিকায় একসময় যুদ্ধাপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছে। আমার সাক্ষাৎকারও সেখানে ছিল। আল-জাজিরা, বিবিসির মতো চ্যানেলও আমাদের দেশের যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে। এখন হঠাৎ করে কেন এরা গুটিকয়েক খুনির পক্ষে চলে গেল বোঝা মুসকিল।

আমি তো বলব, আদর্শ সাংবাদিকতা এখন বিশ্বের কোথাও নেই। ’টাইম’ ম্যাগাজিনের অ্যালেক্স পেরির কথা আমরা ভুলে যাইনি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় পেরি এদেশে এলে আমরা তাকে জানিয়েছিলাম এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা। বছরখানেক পর দেখলাম, খালেদা জিয়ার সরকারকে নিয়ে ইতিবাচক প্রচ্ছদকাহিনী ছাপিয়েছে টাইম। এ নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে জানা গেছে, এজন্য পেরিকে এক মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। পরে তো পেরিকে ’টাইম’ ম্যাগাজিন ছাড়তে হল।

এধরনের ‘এমবেডেড জার্নালিজম’ যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের শিখিয়েছে। তবে আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র চলবেই। একে প্রতিহত করতে পারব আমরা। আমি আশাবাদী। পাশাপাশি, আমাদের এই ষড়যন্ত্রগুলো বুঝে এগুতে হবে। ট্রাইব্যুনালের বিচার যেভাবে চলছিল সেভাবেই চলতে হবে। এটা ট্রাইব্যুনালের আইনেই আছে। মোট কথা, যুদ্ধাপরাধের বিচার করা শহীদ পরিবারগুরোর দাবি, আমাদের তরুণদের প্রাণের দাবি। এ থেকে সরে যাওয়া চলবে না।

শাহরিয়ার কবীর: লেখক, সাংবাদিক, চিত্রনির্মাতা ও মানবধিকারকর্মী।

৫৩ Responses -- “স্বাধীনতার স্বপ্ন: আরো পথ পাড়ি দিতে হবে”

  1. Hajee Rafique

    আপনি লিখেছেন ‘এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-আইনবিশেষজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন। কিন্তু কোন সাহসে তিনি আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন? আমি বলব, এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত। মিডিয়াকেও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি যে পত্রিকাগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তাদের ব্যাপারেও জোর তদন্ত দরকার। আমি মনে করি, যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাতে একটি সুযোগ তুলে দিয়েছেন জিয়াউদ্দিন সাহেব। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে।’

    মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে নিজেদের মিত্র চিনতে, সে যদি ভুলও করে তবু আমাদের মিত্র। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে যুদ্ধাপরাধের বিচার এগিয়ে নিয়ে যাই। এখন নিজেরা ফাইট করলে শত্রুরা আখেরে লাভবান হবে।

    Reply
  2. ফারুক

    শাহরিয়ার সাহেব, আপনার বহু মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও, নিম্নেক্তটির সঙ্গে একমত:

    “আমি মনে করি, এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-আইনবিশেষজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন। কিন্তু কোন সাহসে তিনি আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন? আমি বলব, এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত।”

    যিনি নিজে আইন মানেন না, তিনি কেমন আইনের পণ্ডিত?

    Reply
  3. জুয়েল আহমেদ

    বিভিন্ন সামাজিক অনলাইন সাইটগুলো ঘুরে এবং এখানেও বিভিন্ন মন্তব্য পড়ে আইসিএসএফ এর সদস্যদের ব্যাপারে এটাই মনে হচ্ছে যে, এরা খুবই অ্যাগ্রেসিভ প্রকৃতির মানুষ এবং বেশ অপ্রকৃতিস্থ স্বভাবের। এদের লেখা পড়ে এটা স্পষ্ট যে, এরা যে ট্রাইব্যুনালের ব্যাপারে এতদিন ধরে জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করছেন (দাবি করেন), সে ট্রাইব্যুনালের ব্যাপারে তাদের যতটুকু দরদ, তার চেয়ে যেন জনাব জিয়াউদ্দিন স্যারকে ডিফেন্ড করা তাদের কাছে বেশি জরুরি। সেক্ষেত্রে ট্রাইবুনাল গোল্লায় যাক, কিছু যায় আসে না তাদের। অন্তত তাদের লেখা দেখে তাই মনে হয়।

    আর তাদের ভাষা লক্ষ্য করলে আরও ভীত হতে হয়। কোথায় যাচ্ছে আমাদের যুবসমাজ। ময়লা-আবর্জনা সেবনের এ কি চূড়ান্ত ফল! তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, এমুহুর্তে ব্যক্তির চেয়ে ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি। ব্যক্তি যদি সততার সঙ্গে ভালো কিছু করে থাকেন, তাহলে ইতিহাস তাকে বিমুখ করবে না। এ বিশ্বাস আমার আছে।

    Reply
    • হিমু

      তার চেয়েও বেশি ভীত হতে হয় কিছু মানুষের কথা শুনে, যারা উচ্চ আদালতের বিচারকের কম্পিউটার হ্যাকড হলে মোটেও ভীত হয় না, বরং যুবসমাজের ভাষার জুজুর ভয়ে অস্থির থাকে…

      Reply
  4. কাজী মহন

    আরিফ, নিঝুম মজুমদার এবং হিমু

    তোমরা জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কাজ কর। তাই তোমাদের এটা নৈতিক দায়িত্ব তার সব কুকর্ম সমর্থন করা। তাই বলে কি অন্যায় ন্যায়ে পরিণত হবে? অসত্য সত্য হয়ে যাবে?

    চোখ খোল আজকের তারুণ্য! আমাদের শত্রুরা আমাদেরই মাঝে লুকিয়ে আছে। রাজাকাররা অন্যগ্রহ থেকে আসেনি। ওরা আমাদেরই চারপাশে আমাদেরই সঙ্গে মিশে ছিল। ওরা আমাদেরই ভাই ছিল। জিয়াউদ্দিনের পরিচিতিটা কী প্রমাণসহকারে জান? যদি না জেনে থাকো, তবে একটু হালকা গবেষণা করলেই জানতে পারবে।

    Reply
    • Arif Rahman

      আশা করছি তুমি আমাদের সেই পরিচিতির হালকা গবেষণা উদাহরণসহ পরিবেশন করবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি কখন তোমাদের মুখ থেকে আরও কিছু অসংলগ্ন এবং বিচ্ছিন্ন টুকরো-টুকরো তথ্যের জাল বুনতে বুনতে প্যারানয়ায় হারিয়ে যাব।

      Reply
    • হিমু

      সাব্বির খান,

      জিয়াউদ্দিনের পরিচিতি প্রমাণসহকারে তুলে ধরে একটা আর্টিকেল লিখো না কেন? আমরা তোমার কথা পড়ে দেখি তুমি নিজে কী জান!

      Reply
  5. আশফাক রনি

    বিচারের পক্ষের মানুষজনের বিবাদ দেখে মনে হচ্ছে, বিচারকে বিতর্কিত করার জন্য তাদের ঝগড়াই যথেষ্ট!

    Reply
  6. শরীফ নোমান

    শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবীরের মতো এমন পোড়খাওয়া একাত্তরের সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ড, আহমেদ জিয়াউদ্দিন এ ট্রাইবুনালকে সাহায্য করেছেন। লেখার কোথাও তো হ্যাকারদের প্রতি কোনো নিন্দা চোখে পড়ল না!

    Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      শরিফ নোমান সাহেব,

      আপনার লেখার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই বলতে চাই, আপনি ধরেই নিয়েছেন হ্যাকাররাই এ কাজ করেছে, জিয়াউদ্দিন সাহেব নন, তাই না? আপনি যদি আগেই একটি পক্ষ নিয়ে ফেলেন, তাহলে যৌক্তিক আলোচনা সম্ভব কি? এই ধরুন না, ১) যেদিন ইকনোমিষ্টের খবরটি প্রথম মিডিয়াতে এল, ঠিক সেদিনই আইসিএসএফ-এর আরিফুর রহমান (যার মন্তব্য নিচে আছে), সৈকত আচার্যিসহ আরো বেশ কিছু সদস্য ফেইসবুকে লেখা করা শুরু করল যে, এটা পাকিস্তানের আইএসএই এবং সৌদি আরবের সহযোগিতায় জামায়াত-শিবিরের কাজ এবং তাঁরা ফেইসবুক জুড়ে এর প্রতিবাদসহ নিন্দাজ্ঞাপন শুরু করল। ২) তার ঠিক একদিন পরই এ অসাধারণ বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ফেইসবুকে আবার লিখতে শুরু করলেন (আইএসআই বা সৌদি আরব নয়) যে, জামাত শিবিরের ছাগুগুলো বিচারপতি নাসিম সাহেবের কম্পিউটার হ্যাক করেছে। ৩) বর্তমানে উল্লিখিত এ বিজ্ঞজনেরা একেবারেই চুপ, যেন কিছুই ঘটেনি।

      আলোচনার সুবিধার্থে উপরের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করলাম। এবার আসুন ঘটনাগুলো একটু বিশ্লেষণ করা যাক। প্রথমত,এক নম্বরে উল্লিখিত ঘটনাটি আমাকে বিশেষভাবে বিস্মিত করেছে এজন্য যে, আইসিএসএফ-এর মূল কর্তাব্যক্তিদ্বয় জনাব রায়হান রশিদ এবং জিয়াউদ্দিনের গৎবাধা একটা স্টেটমেন্টের মতো লেখাটি যেন বেশ আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন। ‘জ্বি হুজুর’ বলে আরিফ সাহেবেরা তা ফেইসবুকে ছড়াতে শুরু করলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড়ো একটা জাতীয় ঘটনাকে কোনোরূপ পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ বা ঘটনাটি কাউকে হজম করতে না দিয়েই এত বালখিল্য ব্যাখ্যাদান করে, আর যাই হোক সত্য উদ্ঘাটনের পথে যে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া যে কলঙ্কিত ঘটনায় এ সংগঠনের ব্যক্তিদ্বয় জড়িত, সে সংগঠন কি এ ধরনের স্টেটমেন্ট দিতে পারে? আর সে পবিত্র দায়িত্ব তাদের কে দিয়েছিল?

      দ্বিতীয়ত, দুই নম্বরে উল্লিখিত প্রচারণাটি আরো অবাক করেছে আমাকে। জামায়াত-শিবির, আইএসআই বা সৌদি আরব যার দ্বারাই ঘটনাটি ঘটুক না কেন, এটা যে একটা জঘন্য, অনৈতিক এবং আইনের দৃষ্টিতে অপরাধমূলক কাজ হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ কারও নাই। কিন্তু সরকারি, আধা-সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগেও যখন কোনো ধরনের টেকনিক্যাল, ইন্টেলিজেন্স বা ক্রিমিন্যাল ইনভেষ্টিগেশন হয়নি, অথচ আইসিএসএফের আরিফ-আচার্যিরা দ্বিতীয় দিনেই আবার নতুন উদ্যমে প্রচারে নেমে গেলেন এই বলে যে, হ্যাক হয়েছে মূলত বিচারপতি নাসিমের কম্পিউটার। অর্থাৎ জিয়াউদ্দিন সাহেবের কম্পিউটর হ্যাক হয়নি। অর্থাৎ তিনি এ ব্যাপারে একেবারেই নিস্পাপ। অর্থাৎ ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না ‘ অথচ দ্বিতীয় দিনেও কেউ জিয়াউদ্দিনের দিকে কোনো অঙুলি উঁচিয়েছিলেন বলে আমি শুনিনি। কিন্তু উনারা কেন এবং কীভাবে বললেন যে নাসিম সাহেবের কম্পিউটর হ্যাক হয়েছে? হয়তো হয়েছে, কিন্তু ওই মূহুর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ যে মূহুর্ত পর্যন্ত চোর ধরা না পড়েছে, সে মূহুর্ত পর্যন্ত শুধু ওই চোরই জানে যে কে চুরি করেছে!! ব্যাপারটা তেমন হয়ে গেল না? আর একটা ব্যাপার তো আমরা জানিই যে, অপরাধী অপরাধ সংঘটিত করে, অপরাধ থেকে বাঁচার লক্ষ্যে হয় ঘটনাটিকে অন্যদিকে ডাইভার্ট বা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, অথবা এমন কিছু বোকামি করে ফেলে যে, সে জালে তখন সে নিজেই ধরা পড়ে। আমার কাছে ব্যাপারটি সেরকমই মনে হয়েছে।

      তৃতীয়ত, বর্তমানে আইসিএসএফ একেবারে চুপ। ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনের সোয়াসে একটা অনুষ্ঠান (পক্ষান্তরে প্রেস কনফারেন্স বলাই যুক্তিসঙ্গত) করলেন, স্বভাবতই সারা বিশ্ব থেকে অনেক আগ্রহী দৃষ্টি নিবিষ্ট ছিল সেখানে। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দিয়ে জিয়াউদ্দিন সাহেব সেখানে অনুপস্থিত থাকলেন। খবর নিয়ে জানা গেল যে, তিনি ইতালিতে রেমিটেন্সের ব্যাপারে কাজ করে তাঁর এমন এক এনজিওর বিশেষ সেমিনারে যোগ দিতে উপস্থিত ছিলেন। সেই এনজিওর প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিচালক তিনি, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ের কোনো যোগসূত্র নেই বলেই জানা যায়। এই এনজিও ইইউ এবং অন্যান্য অনেক সংস্থা থেকে নিয়মিত অনুদান পেয়ে থাকে। যাহোক, যে ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়ে গেল, অথচ জিয়াউদ্দিন সাহেব একেবারে নির্বিকার? এটা কি যুক্তিসঙ্গত? যুদ্ধাপরাধের বিশেষজ্ঞতা ছেড়ে রেমিটেন্স-বিশেষজ্ঞ হয়ে আইসিএসএফ-কে আপাতত সাইডলাইনে রেখে দিলেন?

      এবার আপনার প্রশ্নটি আপনাকেই করছি, শাহরিয়ার কবীর সাহেব কার প্রতি নিন্দা জানাবেন বলুন তো? ধন্যবাদ।

      Reply
      • আরিফুর রহমান

        প্যারানয়া একজন বিভ্রান্ত চরিত্রকে কতদূর নামিয়ে আনতে পারে, ছদ্ম-চরিত্র আহসানুল্লা তার একটি প্রমাণ। আমরা অনুমান করতে পারি এ চরিত্রটি কে, কিন্তু অযথা সেদিকে বাক্য অপচয় করব না।

        কিন্তু এ চরিত্রের প্যারানয়েড আচরণের কিছু নমুনা বিশ্লেষণ করতে পারি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সাব্বির খানের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, ইকোনমিস্টের হাতে ম্যাটেরিয়াল যাওয়ার আগেই যিনি হুমকি দিচ্ছিলেন যে, তার কাছে এসব ম্যাটেরিয়াল আছে, এবং তিনি ‘সিরিজ আকারে’ তা প্রকাশ করে দেবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

        যখন সবাই জানতে চাইল… কীভাবে আমার দেশ-এ প্রকাশিত হওয়ার আগেই (ছয় তারিখে) আপনার হাতে এ জিনিস গেল- তখন তিনি উত্তর না দিয়ে ভাগলেন, এবং ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলেন, যে ‘সত্য’ নাকি সামনে আসবে। উপরে আহসানুল্লা নামক একটি ছদ্ম-চরিত্র থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে সে সত্য সামনে আসছে।

        এবার আসুন একটু ভেবে দেখি, ছদ্ম-চরিত্রের আড়ালে যিনি সে একই আত্মবিধ্বংসী সুরে গান গেয়ে যাচ্ছেন, তার উদ্ভট কথার কতটুকু কষ্টকল্পনা, কতটুকু মিথ্যে, কতটুকু প্যারানয়া, এবং কতটুকুর পেছনে যুদ্ধাপরাধী চক্রের হাত থাকতে পারে।

        মিথ্যে ১: ঘটনা জানার পর আমার প্রথম মন্তব্য স্ট্যাটাস এসেছে সাত তারিখে, যেখানে বাংলানিউজ আর্টিকেল করেছে ছয় তারিখে। আহাসানুল্লা উপরে বলেছেন ‘সেদিনই’ নাকি আমি ‘লেখা শুরু’ করেছি। এটা হলো মিথ্যে নাম্বার ওয়ান।

        পাঠকদের কাছে জোর অনুরোধ, আহসানুল্লাকে সন্দেহের চোখে দেখুন, এ ধরনের ছদ্ম-চরিত্রগুলি (একটা নয়, অনেক আছে ) আপনাদের অন্তরের ভালোত্বের সুযোগ নিয়ে সত্য-মিথ্যের মিশেল দিয়ে বিচারের পক্ষের শিবিরে ভাঙ্গন ধরাতে চাচ্ছে।

        এবার আসুন কষ্টকল্পনা ১ দেখি: আইএসএআই, সৌদি আরব, জামায়াত যে একই রসুনের বিভিন্ন কোয়া সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমাদের আহসানুল্লা নামক চরিত্রটি, ধরে নেয়া যায় এসব বিভ্রান্তি ছড়ানোর নাটের গুরু, সে উপরের মন্তব্যে দেখুন দুটিকে আলাদা করে বলছে। যেখানে বিচার বানচাল হলে লাভ হয় পরিষ্কারভাবে একটি এবং একটিই পক্ষের, সেটি হচ্ছে অপরাধী-পক্ষের, সেখানে বিচারের বিপক্ষে এ চরিত্রটি আরও কয়েকটি পক্ষ ‘কল্পনা’ করে নিচ্ছে। এ যেমন আপনি আমি, সকলেই।

        আহসানুল্লা বা এ জাতীয় ছদ্ম-চরিত্রগুলো আমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকে, আমাদের কানে বিষ ঢালে, আমাদের সংহত হতে দেয় না। আশা করি পরীক্ষিত না হলে, এমন অচেনা কারও কথা দু’বার ভেবে আমরা গ্রহণ করব।

        বর্তমানে আমরা দেখছি, দেশজুড়ে সবাই একমত, আইনও একই কথা বলছে, যে বিচার বানচালের সুস্পষ্ট চেষ্টার টেঁশে যাওয়াতে বিরোধী-পক্ষ রীতিমতো বিভ্রান্ত এবং অস্ত্রহীন- তারা এখন শূণ্য থেকে অস্ত্র প্রস্তুত করছে।

        তাদের কেনা মিডিয়া, ওরফে দিগন্ত মিডিয়া, সোনার বাংলাদেশ, আমার দেশ ইত্যাদিতে প্রকাশিত হলুদাভ সংবাদে জনগণের অরুচি ধরে গেছে বলে তারা এখন শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবীরের বক্তব্যের মন্তব্য অংশকে টার্গেট করেছে। আমাদের সাবধান থাকতে হবে এদের হাত থেকে। বারবার এরা আমাদের ভেতরে অবস্থান করে আমাদের বিভ্রান্ত করছে।

        চরিত্রটি আমাদের শেখাচ্ছে, যে এ হ্যাকের পেছনে ‘অন্য কোনো’ ঘটনাও থাকতে পারে। তার ‘মিথ্যে ১’ সে প্রথমে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তার ওপরে ভিত্তি করে সে দ্বিতীয় দফা কষ্টকল্পনা ২ ছড়াচ্ছে।

        কষ্টকল্পনা ২: তার মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশ দেখুন, সে কয়েকবার ‘যেন’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। শব্দটির ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার পাঠককে অনুরোধ করছি, শব্দটি মাথায় রেখে, মিথ্যের ওপর ভর করে তার কষ্টকল্পনা আবার একটু পড়ুন, দেখুন আমাদের মাঝে বিষ কীভাবে ছড়ায়।

        মিথ্যে ২: এ মিথ্যেটি সবচেয়ে নির্জলা। বাংলাদেশ প্রযুক্তি বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না হওয়ায়, বিশেষত বর্ষীয়ানরা এতটা মাথা না ঘামানোয়, তাদের এই মিথ্যের শিকারে পরিণত করা খুবই সহজ।

        কী সে মিথ্যে? আমাদের ছদ্ম-চরিত্র আহসানুল্লা বলেছে, জনগণ কীভাবে জানল যে হ্যাক আসলে বিচারকের কম্পিউটারেই হয়েছে। সঙ্গত প্রশ্ন, এবং গেল প্রায় দশদিনে এ নিয়ে কম করে হলেও বিশখানা লেখা এবং বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে বাংলা ইংরেজি, দেশি-বিদেশি সব পত্রিকা/ব্লগ ইত্যাদিতে।

        একটা উদাহরণ দিচ্ছি: // হ্যাকার চরিত্রগুলো নিজেদের অজান্তেই নিজেদের দাবির বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে দিয়েছে ইউটিউবের কাছে। যারা ইউটিউবে বিচারক ও আইনজ্ঞের মধ্যে কথোপকথন শুনেছেন, তারা পরিষ্কার খেয়াল করেছেন একটি ব্যাপার। অডিওতে ড. জিয়াউদ্দিনের কথা এসেছে কাটা কাটা, যেখানে বিচারকের কথা এসেছে পরিষ্কার। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের কচ্ছপগতির কারণে স্কাইপ বা গুগল-টকে অন্য প্রান্ত থেকে ভয়েস ডেটা আসে ভেঙে ভেঙে, যে কারণে কথা যান্ত্রিক শোনায়। বিচারকের কম্পিউটারে আড়িপাতার কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বলেই সেখানে মন্থর নেটসংযোগের কারণে ড. জিয়াউদ্দিনের কথা এসেছে ভেঙে, আর সরাসরি মাইকে ধারণকৃত বিচারকের কথা স্পষ্ট শোনা গেছে। যদি ড. জিয়াউদ্দিনের প্রান্ত থেকে এ কথোপকথন রেকর্ড করা হতো, তার নিজের কথা কখনোই ভেঙে যেতো না। // ‘কৃতজ্ঞতা হিমু’

        প্যারানয়া: আমরা আজকে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের নিজস্ব বরাতে শুনতে পাচ্ছি আইসিএসএফ নামের সংগঠনটি কীভাবে কাজ করে। এটি সৌদি পয়সার নিমকহালাল আহাসনুল্লার মতো পেশাদার মিডিয়াকর্মী মিথ্যে/কল্পনা/প্যারানয়া চরিত্রের মতো নয়, এটি বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন পেশার লোকজনের একটি প্ল্যাটফর্ম, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের একটা দল মাত্র। নিজেদের জীবনধারণ করে পরিবারের জন্য তুলে রাখা মূল্যবান সময়টুকু এরা দান করে কাজ করে যান নিঃস্বার্থ। কাজেই ১৪ তারিখের অনুষ্ঠান নিয়ে যখন এরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন জামায়াত/শিবির এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বাধাদানকারীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বক্তব্য হয়তো দেওয়ার সময় হয়নি। এতে তিনি গোস্বা হয়েছেন, এবং বলছেন আইসিএসএফ নাকি চুপচাপ। আরে ভাই, আইসিএসএফ-এর অনেক কাজ আছে, পজিটিভ কাজ, শুধুমাত্র আপনাদের মিথ্যে/কষ্টকল্পনা/প্যারানয়া নিয়ে সময় নষ্ট করাই নয়।

        ১৪ তারিখের অনুষ্ঠান শেষে একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, যাতে এ বিষয়ে আইসিএসএফ’র অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। কাজেই ‘চুপ হয়ে আছে’ জাতীয় কথা ধোপে টিকে না।

        শেষ করছি তার আরেকটি কষ্টকল্পনা ৩ দিয়ে: এটা ব্যখ্যা করার আগে একটা উদাহরণ দিলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে। ধরুন গতকাল একজন বলছিল, “বিচারক এবং সাইদী যেহেতু দুজনেই পিরোজপুরের, সুতরাং বিচারক নিশ্চয়ই সাঈদীর প্রতি সহানুভূতিশীল।”

        এখন আপনারাই বলুন, এ কথা শুনে আমরা হাসব না কাঁদব? তাহলে গোপালগঞ্জের সব রাজকারের প্রতি শেখ হাসিনা সহানুভূতিশীল, ফেনীর সব রাজাকারের প্রতি খালেদা জিয়া যদি সহানুভূতিশীলতার আলাপ শুনতে হয়, তাহলে তো দেশজুড়ে সব অপরাধীই পার পেয়ে যাবে, কারণ পুলিশ বিভাগে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ অপরাধীর নিজ নিজ জেলাতুতু ভাই হতে পারে।

        এবার আসুন কষ্টকল্পনাটি বোঝার জন্য: ড. জিয়া ১৪ তারিখের সভায় উপস্থিত থাকবেন বলে কেউ কিন্তু ঘোষনা করেনি, এমনকী আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। আমাদের ছদ্ম-চরিত্র আহসানুল্লা কিন্তু ঠিকই ইতং-বিতং তথ্য হাজির করে উপরের ‘ফ্যালাসি’-র মতো কিছু একটা তৈরি করেছে।

        ঠিক এ ধরনের উদ্ভট তথ্যের সমাহার দিয়ে আমাদের ধাঁধা লাগিয়ে দেওয়াই এদের একটা কারসাজি। এতে সত্যের পরিমাণ তিলমাত্র, বাকিটা মিথ্যের তাল।

        এর বেশি কিছু বলর নেই। দরকারও নেই।

        আমার অনুরোধ: পড়ুন, দেখুন, মগজ শাণিত রেখে আসুন বিচারপ্রক্রিয়া সুস্থভাবে সম্পন্ন হতে দিই।

  7. বীণা ডি’কস্টা

    প্রিয় শাহরিয়ার কবীর, আপনার ‘নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়’ আমার প্রিয় বইয়ের তাকে জমা রাখা। একাত্তর নিয়ে আপনার লেখা আমার নিজের গবেষণার অন্যতম পাথেয়। আপনার লেখা সবসময় মন দিয়ে পড়ি, মাঝে মাঝে দ্বিমতও পোষণ করি।

    কিন্তু আজকে একটু হোঁচটই খেলাম। এ বিচার ব্যক্তি আপনি এবং বাক্তি আহমেদ জিয়াউদ্দিনের চেয়ে অনেক বড়। এ বিচারের মূল্যায়ন ইতিহাস করবে। আমরা সুষ্ঠূ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অবশ্যই লিখতে পারি। কিন্তু আপনি এ কী বলছেন? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞর সঙ্গে কথা বলা যাবে না, এটা ICTর কোন নিয়মের আওতায় পড়ে?

    বিচারপ্রক্রিয়া যারা বানচাল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে একজোট না হয়ে- তাদেরই প্রদত্ত অসত্য বা ভুল বিশ্লেষণ দেখে বা প্রাপ্ত সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে আপনার এ জাতীয় স্টেটমেন্ট কাদের লাভবান করবে তা আশা করি আমরা সবাই বুঝতে পারছি।

    Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      ডি কষ্টা,

      আমার মনে হয়, শাহরিয়ার সাহেব বলেছেন, “এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন।” অর্থাৎ তিনি দাবি করেন। শাহরিয়ার সাহেব হয়তো এখানে একটু টাচ দিয়ে গিয়েছেন যে, দাবি করা আর বাস্তবে তাই হওয়া এক কথা নয়।

      তিনি কি একেবারে কিছু না জেনে বা তথ্যাদি হাতে না পেয়েই এ কথা বলেছেন? এমনটি মনে হওয়ার কারণটা একটু বলবেন প্লিজ। তবে শুনেছি যে, ব্যাপারটি এখানেই শেষ হচ্ছে না।

      ধন্যবাদ।

      Reply
      • Arif Rahman

        আহসান উল্লাহ্‌,

        আপনি কি ইউরোপীয় প্রতিনিধি সাব্বির খানের কথা বলছেন? যিনি নিজেই জামায়াতীদের প্রচারণার অংশ হিসেবে কাজ করে থাকেন? তাহলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের মতো ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভেতরেই রাজাকার নির্মূল অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করি।

        ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতি ততক্ষণ জনসমর্থন থাকবে, যতক্ষণ জামায়াতীদের বি-টিমে পরিণত হওয়া থেকে কমিটি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।

        আপনি কে, আমরা জানি না, কিন্তু জামায়াতীদের চর হওয়াও বিচিত্র নয় বলেই বোধ হচ্ছে।

    • Milon Bhuia

      বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন বলেছেন, ‘স্কাইপের যোগাযোগব্যবস্থায় মধ্যবর্তী কোনো পর্যায় থেকে তথ্য হ্যাক করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশে সেই প্রযুক্তির কোনো কম্পিউটার নেই। একমাত্র উপায় হলো যে দুটি কম্পিউটার ব্যবহার করে কথোপকথন হয়েছে, সেই দুই কম্পিউটার থেকে হ্যাক হতে পারে। স্কাইপের ১০ বছরের ইতিহাসে আড়ি পাতার কোনো সফল ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত আমরা যে কম্পিউটার চ্যাট করি, সেই লিখিত আলাপচারিতার কপি কম্পিউটারে থেকে যায়। সেটা শুধু টেঙ্রে ক্ষেত্রে। অডিও ভিডিওর ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। অডিও ভিডিও রেকর্ড করতে হলে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটারে টেপ করতে হবে। আলোচিত স্কাইপে কথোপকথন রেকর্ড করার ক্ষেত্রে দুই ব্যক্তির যে কোনো একটি কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার ইন্সস্টল করা হয়েছে।’

      Reply
      • Emdad Hossain Sahid

        যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে কারও পক্ষেই অন্ধবিশ্বাস থাকা উচিত নয়। ড. জিয়াউদ্দিনকে নিয়ে যাঁরা মাতামাতি করছেন তাঁরা অন্ধত্বকে অবলম্বন করে কথা বলছেন। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগ পর্যন্ত জিয়াউদ্দিন সাহেব “International Crimes Tribunal Act (1973)” প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন। ঢাকার ধানমণ্ডিতে বিলিয়া মিলনায়তনে দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও নাগরিকদের এক সভায় আমি নিজে উপস্থিত থেকে তা প্রত্যক্ষ করার দুর্ভাগ্য হয়েছিল; কারণ আমি তখন দেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

        আর আজ সেই জিয়াউদ্দিন সাহেব “International Crimes Tribunal Act (1973)” অধীনে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ বনেছেন। আর ডি কষ্টা, নিঝুম মজুমদার, Sawkat, Ziaul Hoque Mukta প্রত্যেকেই তাঁর প্রতি অন্ধত্বকে অতিক্রম করতে পারছেন না কী কারণে বোধগম্য হচ্ছে না।

        হ্যাকিং সম্পর্কে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন কিংবা মোস্তফা জব্বার কর্তৃক এ বিষয়ের স্পষ্ট সরাসরি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়াকেও তারা মানছেন না।

        সবাইকে বলব এ বিষয়ে আর ক্যাচাল বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের লাভবান না বানিয়ে অপেক্ষা করুন– বিশ্বাস করি প্রকৃত সত্য দ্রুত উন্মোচিত হবে।

  8. মাহবুব

    সুন্দর লিখেছেন। তবে বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড এবং সরকারী দলের ভূমিকা বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সাহসী কোন লেখা লিখবেন কি?
    তাহলে ধরে নেব আপনি নিরপেক্ষ।

    Reply
  9. বিপু

    আপনাকে সব সময় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কারণে অকারণে জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করতে দেখি। কিন্তু আমরা যারা পরের প্রজন্ম তারা জানি জিয়া একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি সরাসরি যুদ্ধও করেছেন।

    Reply
    • আরমান রশিদ

      হ্যাঁ, সেই জিয়াউর রহমানই যিনি ক্ষমতায় এসে দালাল আইন বাতিল করলেন, সব অভিযুক্ত ও শাস্তিপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি দিলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি জায়েজ করলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তনের নামে যুদ্ধাপরাধীদের মুচলেকা দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করলেন। আর তার গঠিত দলটি তো গত বিশ বছর ধরে জামায়াতীদের হাতকে আরও শক্তিশালী করে ওদের একজনকে মন্ত্রী পর্যন্ত বানাল!

      এরকম সেক্টর কমান্ডার দুএকটা না থাকলেও আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হতাম। তাতে বরং লাভ হত এটাই যে, আজকে জামায়াতীদের এভাবে রাজনীতি করতে দেখার দুর্ভাগ্য আমাদের হত না।

      Reply
  10. rudro

    আওয়ামিলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, আর আমজনতা চায় তা নিরপেক্ষ হক। বর্তমান সরকারের অনান্য কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে তারা যুদ্ধের নাম বিরোধীদলকে দমন করছে।

    Reply
  11. shawkat hossain

    প্রিয় শাহরিয়ার কবীর, আমার ছেলেবেলার ভাবনা-চিন্তা গড়ে উঠেছে আপানার বই পড়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আ্মরাও চাই। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্ন কি আপনার সমর্থিত দল বাস্তবায়ন করবে? পাকিস্তানিদের লুণ্ঠন আর বাঙালির লুণ্ঠনে শোষিতের কাছে কোনো পার্থক্য আছে কি?

    Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      শওকত সাহেব,

      শাহরিয়ার কবীর স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির একজন। উনিসহ আমরা সবাই বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য। নির্মূল কমিটিসহ অন্যান্য অনেক দল ও সংগঠনের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসলই কিন্তু আজকের এই ট্রাইব্যুনাল। সুতরাং আমাদের অনেকের মতো তিনিও আশায় তাকিয়ে আছেন এ ট্রাইব্যুনালের দিকে। নিশ্চয়ই আমাদের আশা পূর্ণ হবে।

      এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতামূলক কাজ ছাড়া বিচারকার্যের বাস্তবায়নের কোনো ক্ষমতা নেই। ট্রাইব্যুনালই এ বিচার করছে এবং করবে। সুতরাং একে সব তর্কের উর্ধ্বে রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

      ধন্যবাদ।

      Reply
  12. নিঝুম মজুমদার

    প্রিয় শাহরিয়ার কবির,

    আমি জানি না ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আপনার কোনো মতাদর্শগত বিরোধ রয়েছে কিনা, কিংবা ব্যাক্তিত্বের সংঘাত। সেটি অবশ্য আমার জানার দরকারও নেই। তবে পানি ঘোলা থাকতে থাকতে আপনি যেভাবে জিয়া সাহেবকে চেপে ধরছেন বা ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন তা অবশ্যই আমাদের মতো তরুণপ্রজন্ম, যারা এ ট্রাইবুনালের দিকে সবসময় চোখ রাখছে ও কাজ করে চলেছে তাদের জন্য কষ্টের। এটি আমাদের ভাগ্য যে আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মতো একজন পরামর্শককে ট্রাইবুনাল পেয়েছে। কখনও যদি সুযোগ হয় তবে আন্তর্জাতিক এরিনাতে বা আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে গিয়ে দেখবেন, একবাক্যে উনার কথা শিরোধার্য থাকে। এমন একজন লোককে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া আপনার মতো সম্মনিত মানুষের জন্য একেবারেই বেমামান। উপরে জনাব হিমুর মন্তব্যটি আরও কয়েকবার পড়ে দেখবেন। আশা করি বুঝতে পারবেন, ঘটনা কোনদিকে গিয়েছে বা যাচ্ছে।

    ধন্যবাদ।

    Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      নিঝুম,

      হ্যাঁ, জিয়াউদ্দিন আপনার জন্য বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার হতে পারেন নিঃসন্দেহে; তাই বলে সবার জন্যে নন। সবার দায় আপনি একা কেন মাথায় তুলে নিচ্ছেন? আপনারা তো আইসিএসএফ-এর সদস্য, জিয়াউদ্দিন আপনাদের সংগঠনের সদস্য। সে অর্থে আপনি জিয়া সাহেবকে সমর্থন করবেন, এটা আপনার অনুগত্যের সুন্দর বহিঃপ্রকাশ। সাধুবাদ।

      তবে শাহরিয়ার কবীরকে জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের প্রশ্নে পাশাপাশি দাঁড় করানোটা যে বেশ অলাভজনক বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, সেটা অনুধাবনীয়। জিয়াউদ্দিন কি ট্রাইব্যুনাল পেয়ে ধন্য হয়েছিলেন, নাকি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউদ্দিনকে পেয়ে ধন্য হয়েছে- সেটা সরকারের চলমান তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।

      আপনি শাহরিয়ার কবীরকে নসিযহত করে বলেছেন যে, এধরনের মন্তব্য করা তাঁর মতো সম্মানিত ব্যক্তির জন্য একেবারেই বেমানান। আচ্ছা ভাই, আপনার কি একবারও মনে হল না, যে শাহরিয়ার কবীরের মতো সম্মানিত ব্যক্তি যদি এতটা আগ বাড়িয়ে কিছু বলে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই “ডাল মে কুচ কালা হ্যায়” জাতীয় কিছু থাকতে পারে? পীরের মুরিদ হওয়া ভালো, তাই বলে এত অন্ধ হলে কি সেটা ট্রাইব্যুনালের জন্য মঙ্গলজনক কিছু হবে?

      Reply
      • আশফাক রনি

        আহসান উল্লাহ,

        নিঝুম মজুজমদারদের নসিহত দিচ্ছেন কাউকে পীর মেনে তার মুরিদ না হওয়ার জন্য- ওদিকে নিজেই যে কারও মুরিদ সেজে বসে আছেন সেটা বুঝতে পেরেছেন কি?

        ব্যাপারটা কি একটু হাস্যকর হয়ে গেল না?

      • আহসান উল্লাহ্‌

        আমার মনে হয় পক্ষপাতদুষ্ট নয়। কারণ শাহরিয়ার কবীর সাহেবের লেখার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। জামায়াতের চক্ষুশূল শাহরিয়ার কবীর নিজের পক্ষের লোকদের ব্যাপারে না জেনে বলবেন, সেটা আমার বিশ্বাস হয় না। দেখছেন না কীভাবে বিভিন্ন লীগের ভিতরে জামায়াত-শিবিরের অবাধ পদচারণা? এরকম চোখ ফাঁকি দেওয়া অনেক প্রগতিশীল লোকজন ছদ্মবেশে আমাদেরই আশেপাশে ঘুরঘুর করছে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করছে।

        কাদের সিদ্দিকীর অবস্থা কে না জানে!

      • Arif Rahman

        আপনার বিশ্বাস আছে, আহসান উল্লাহ, কিন্তু আপনি কে?

        আমরা সবাই জানি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সবখানে প্রচুর জামায়াতী লোক ঢুকে পড়েছে, কাদের সিদ্দিকীর মতো লোকজন পাল্টি দিয়েছে- সেখানে আপনি নম দ্য প্লুম ‘আহসান উল্লাহ’ তাদেরই একজন মনে হচ্ছে!

  13. সারোয়ার

    আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার এ লেখার সবকিছুর সঙ্গে আমি একমত নই। তবে আজকের এ দিনে আপনার লেখার সমালোচনা না করে কেবল কৃতজ্ঞতা জানাই। এদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আপনার সরব উপস্থিতির জন্য আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। এদেশের অনেক কিশোরের কাছে আপনি পৌঁছেছিলেন আপনার ‘কিশোর উপন্যাস’ দিয়ে। ওই উপন্যাসগুলো দিয়ে আপনি আমাদের কাছে যে জীবনের প্রতিচ্ছবি দাঁড় করিয়েছিলেন সেটা আমরা আজও খুঁজি। আমরা আপনাদের সমালোচনা করি। ব্যবচ্ছেদ করি। কিন্তু এ আমরা আপনাদেরই সৃষ্টি। যে প্রদীপ আপনারা রেখে যাচ্ছেন সে প্রদীপ জ্বলবে। সবকিছু হয়তো সূর্য হয়ে সবাইকে আলোকিত করবে না। কিন্তু সূর্যরা আমাদের মধ্যেই আছে। কেবল আলোছড়ানো বাকি।

    Reply
  14. sawkat

    স্যার, আপনার বিশ্লেষণ পক্ষপাতদুষ্ট। আমি জানি, জামায়াতে ইসলামী একটি বিশ্বাসঘাতক দল। কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে হলেও ইসলামী সংগঠনগুলোকে দায়ী করা আরেক ধরনের প্রতিক্রিয়াশীলতার লক্ষণ। স্যার, আমি নিশ্চিত যে, ইসলামী সংগঠন করলে টাকা পাওয়া যায় না, টাকা দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিদার দল দুটির সক্রিয় কর্মী হলে টাকা পাওয়া যায়, অস্ত্র পাওয়া যায় এটা দিবালোকের মত সত্য। এটা এতটা সত্য যে, আড়াল করা সম্ভব নয়।

    Reply
    • rakib

      আপনি কী বলতে চান? জামায়াত-শিবির অর্থ আর অস্ত্রের মাধ্যমে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে না? হ্যাঁ, এটা সত্য যে আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের দোষ-ত্রুটি আড়াল করছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে কোনো প্রকার ধর্মীয় রাজনীতি বৈধ নয়।

      Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      জিয়াউদ্দিন সাহেব কিন্তু অনেক দিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। এ ব্যাপারে উনার সৎ কোনো মন্তব্য বা অভিব্যক্তি আমরা কোথাও দেখিনি। তবে উনার ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্টই প্রমাণ করবে যে উনি সত্যিই কী চেয়েছিলেন।

      ধন্যবাদ।

      Reply
  15. Ziaul Hoque Mukta

    গতকাল ১৫ ডিসেম্বর শাহরিয়ার কবীর ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন: আরো পথ পাড়ি দিতে হবে’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন বিডিনিউজটুয়েনটিফোরডটকমে । লেখাটির এক পর্যায়ে তিনি লিখলেন, “পত্রপত্রিকায় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিপারপতির সঙ্গে স্কাইপতে আরেক বিচারকের কথাবার্তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। আমি এতে স্তম্ভিত হয়ে গেছি। আমি মনে করি, এখানে জিয়াউদ্দিন নামের যে-বিচারক ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন।”

    শাহরিয়ার কবীর কোনো প্রমাণ ছাড়া কীসের ভিত্তিতে বলেন যে “তিনি আইন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন?” ধরে নেয়া যাক ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন “জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন”- সেক্ষেত্রে তিনি তা এখন করবেন কেন? তিনি তা আগেও করতে পারতেন, এবং রায় ঘোষণার পর তা করলে পুরো রায়টাকেই তো তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারতেন। গভীর বিশ্লেষণ ছাড়া মন্তব্য করা কারো জন্যই ভালো নয়।

    শাহরিয়ার কবির আরো লিখেছেন, “এই জিয়াউদ্দিন সাহেব নিজেকে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের ধারক বলে দাবি করেন । কিন্তু কোন সাহসে তিনি আমাদের বিচারপতির সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন?” শাহরিয়ার কবিরের জানা উচিত তিনি যেমন নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তেমনি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বহুদিন। আমাদের জানা উচিত বিচারক এই বিষয়ে গবেষণার জন্য সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। আদালতও তাই মনে করেন।

    শাহরিয়ার কবির বলেছেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাতে একটি সুযোগ তুলে দিয়েছেন জিয়াউদ্দিন সাহেব। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। কারণ আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি, ওরা বিভিন্ন লবিষ্ট গ্রুপ নিয়োগ করে রেখেছে যারা বাইরের দেশগুলোতে বিচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।” মানে তিনি বলতে চাচ্ছেন যে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন লবিস্ট গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত! এখানেও আমার একই কথা, ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন যদি ফায়দা লুটতে চাইতেন, আরও অনেক বড় সুযোগ তার সামনে ছিল।

    বিচারপতির সঙ্গে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথা বলা নিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেছেন, “এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত।” এখানেও তার বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। বিচারক ও ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টির তদন্ত ও বিচার দাবি না করে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথা বলার বিষয়টি তদন্ত দাবি করলেন কেন শাহরিয়ার কবির বুঝতে পারলাম না।

    Reply
    • Milon Bhuia

      বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ‘আমি বলব স্কাইপে হ্যাক করা যায়। একজন যখন তার আইপি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তখন কেউ যদি সেটা জানে, সে সব তথ্য হ্যাক করতে পারে। অন্যদিকে, স্কাইপেতে ভিডিও সংরক্ষিত না থাকলেও অন্য তথ্যগুলো থেকে যায়। সেখান থেকেও হ্যাক হতে পারে। যে দুজন কথা বলেছেন, তাদের একজন যদি তৃতীয় কাউকে শোনার অনুমোদন দেন তাহলেও হ্যাক হতে পারে।’ মোস্তফা জব্বার প্রশ্ন রাখেন, বিচারপতি নিজামুল হক তো কম্পিউটার এঙ্পার্ট নন। আহমদ জিয়াউদ্দিন যে সেটা ইকনোমিস্টের হাতে দিয়ে দেননি, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? তিনি বলেন, ‘ডিভাইস সেট করে হ্যাক করা গোয়েন্দাদের কাজ। যেমন সিআইএ, এফবিআই সেটা করতে পারে। আমার মনে হয়, দুটি কম্পিউটারের একটি থেকে এ কথোপকথন হ্যাক হয়েছে।’

      Reply
    • কাজী মহন

      জনাব জিয়াউল হক মুক্তা

      আপনি লিখেছেন, ‘‘ধরে নেয়া যাক ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন জেনে-বুঝে আমাদের ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন- সেক্ষেত্রে তিনি তা এখন করবেন কেন?’

      ভাই রে, কে কেন কখন কী করে তার উত্তর কি অন্য কেউ দিতে পারে? আর যদি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে নিয়ে বলি তাহলে উনাকে নিয়ে বলার অনেক কারণই আছে।

      যেমনঃ (১) ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের যুদ্ধাপরাধ আইন নিয়ে কোনো মৌলিক গবেষণা নেই; আমি কোথাও তার মৌলিক গবেষণার কোনো প্রকাশনা দেখিনি;

      (২) ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন বিএনপি ঘরানার মানুষ যারা জামায়াতের পক্ষে এ বিচারের তুমুল বিরোধিতা করে আসছে;

      (৩) বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী পুত্রসন্তানের উন্নত চিকিৎসার জন্য ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন প্রবাসী হয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে জ্ঞানচর্চা বাদ দিয়ে তিনি বেলজিয়ামে একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে দিনের পর দিন ছোট একটি চাকরি করে সংসার আর সন্তানের চিকিৎসা খরচ চালাতেন, তাই টাকার প্রয়োজন উনার অন্যেদের চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি; আর এমন লোকদেরই তো জামায়াত টার্গেট করে তাদের হয়ে কাজ করানোর জন্য;

      (৪) ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ট্রাইবুন্যাল এবং প্রসিকিউশন উভয় দলকেই আইনি সহযোগিতা দিয়েছেন বলে দাবি করেন; এটা কি পেশাগত অসদাচারণ (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) নয়? উনি এটা তখনই করবেন যখন উনার ব্যক্তিগত লাভ পেশাগত ক্ষতির চেয়ে বেশি হবে;

      (৫) উনার মতো আন্তর্জাতিক (দাবিকৃত) একজন আইনজীবীর আইসিএসএফ খুলে অপেশাদার তরুণ প্রজন্মের ছত্রচ্ছায়ায় কেন এ বিচারে সহযোগিতা করতে হল? উনি তো আইনি সহযোগিতা দিচ্ছিলেন, তাহলে উনার এত সুনাম দিয়ে তিনটা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ উনি জোগার করতে পারলেন না কেন?

      Reply
      • আরমান রশিদ

        আপনার যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করে আপনার চরিত্রের কিছু চিত্র পাওয়া যায়। যেমন:

        ১ আপনি প্রশ্ন তুলেছেন ড. জিয়াউদ্দিন আদৌ একজন বিশেষজ্ঞ কিনা। তার ক’টা প্রকাশনা আছে জানি না তবে হেগ-এ আইসিসি আয়োজিত সম্প্রতিক এক সেমিনারে তাকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবেই অন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করা হয়। তাছাড়া তিনি একজন বিশেষজ্ঞ কিনা তা মূল বিষয় নয়, বরং বিচারক তার ব্যক্তিগত বিচারে তাকে একজন বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন এবং তার উপর আস্থা রেখেছেন সেটাই বড় কথা। তাই এ প্রসঙ্গে কথা বলা বিচারপতির জাজমেন্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সামিল। সেটাই যদি করতে চান তবে তা পরিস্কার করে বলুন যাতে আমরা সবাই বুঝতে পারি আপনি কোন ক্যাম্পের লোক।

        ২ দাবি যখন করেছেন, ড. জিয়াউদ্দিনের বিএনপি-সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিন। তিনি বিচারের বিরোধিতা করেছেন এটা একেবারেই মিথ্যাচার হবে যদি প্রমাণ দিতে না পারেন। এটা ঠিক, আইসিএসএফ বিভিন্ন সময় বিচার -ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতার সমালোচনা করেছে এবং সেগুলোর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে ঠিক যেমনটি শাহরিয়ার কবীর নিজেও বহুবার করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় নানা টক শো-তে একই কাজ করেছেন এবং সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। শাহরিয়ার কবীরের এরকমই একটা দাবি ছিল দ্রুত ট্রাইব্যুনালের জন্য একটা গবেষণা দল নিয়োগ করা, তা করা হয়নি, ট্রাইব্যুনালের এ দুর্বলতা ছিল এটা সবারই জানা। তাই এমন পরিস্থিতিতে সে অভাবপূরণের লক্ষ্যে বিচারকের ট্রাইব্যুনালের বাইরের কারও সহযোগিতা নেয়াও সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত, এবং তার চেয়েও বড় কথা, আইনসঙ্গত। তবে এমন হতে পারে বিচারকের এহেন সিদ্ধান্ত অনেকেরই গাত্রদাহের কারণ হয়েছে কেননা তারা ভাবছেন ড. জিয়াউদ্দিন ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

        ৩ আপনি এখানে ঘৃণ্য একটি পন্থা অবলম্বন করেছেন। আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটা চিত্র পাওয়া যায় আপনার এ কমেন্ট পড়ে। একজন মানুষের একান্ত ব্যাক্তিগত, পারিবারিক দুঃখ-বেদনার কথা অনলাইনে তুলে ধরেছেন। আপনার যুক্তি-অনুযায়ী কারও আর্থিক প্রয়োজন থাকা মানেই তিনি অসৎ হতে বাধ্য, যা কিনা একেবারেই হাস্যকর।

        ৪ এই পয়েন্ট জামায়াতীরা সব জায়গায় মাইক লাগিয়ে প্রচার করছে, তাদের সঙ্গে সুর মেলালেন দেখছি। আমি নিজে আইনের ছাত্র নই, তাই এ প্রসঙ্গে না জেনে কোনো কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকলাম।

        ৫ আইসিএসএফ বিচারের পক্ষে আজ পর্যন্ত যত কাজ করেছে, দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়া প্রোপাগাণ্ডার যেভাবে মোকাবেলা করছে প্রতিদিন, যেভাবে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আপ্রাণ লড়াই করে যাচ্ছে, সেরকম কোনো কাজ যদি আপনি এখন পর্যন্ত করে থাকেন তবে তা রেফারেন্সসহ আমাদের জানাবেন দয়া করে। নইলে কাজের বেলায় ঠনঠন আর সমালোচনার ব্যাপারে ষোলআনা জাতীয় উক্তি বন্ধ করবেন দয়া করে। আর যে তিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কথা বললেন, তাদের খরচটা কোথা থেকে আসত? সরকার দিত? নাকি অনুযোগ করছেন আইসিএসএফ কেন ঘরের খেয়ে, চাঁদা তুলে, এ খরচ মাথা পেতে নিল না?

    • Emdad Hossain Sahid

      Ziaul Hoque Mukta, শাহরিয়ার কবীরের লেখাটি আমি তিনবার পড়েছি। কোথাও তিনি বিচারক ও ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টির তদন্ত ও বিচার দাবি না করে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথা বলার বিষয়টির তদন্ত দাবি করেননি। তিনি “এ নিয়ে জোর তদন্ত হওয়া উচিত” বলে দাবি করেছেন। এটা আপনার চোখে পড়েনি তা বলা যাবে না।

      আপনার মন্তব্য থেকে বোঝা গেল, আপনি এ সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন- “ঠাকুর ঘরে কে রে– আমি কলা খাই না।” নিজের মন্তব্যের জন্যই ধরা পড়ে গেছেন জনাব Ziaul Hoque Mukta।

      Reply
  16. Md Shasid

    স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন লাখো তরুণ, জীবন দিয়েছেন অকাতরে, ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা। আজ বিজয় দিবসে বীর সেনানীদের প্রতি লাখো সালাম, প্রাণভরা দোয়া। একজন মুসলমান হিসেবে সব মুসলমানের জন্য জান্নাত কামনা করছি।

    Reply
  17. সৈয়দ আলী

    শাহরিয়ার কবির, আমরা প্রায় সমবয়সী বলে পাকিস্তান আমলে “শিশুরাষ্ট্র পাকিস্তান” শব্দাবলী প্রায়ই শুনেছি। সে বাক্যগুলো ব্যবহার করা হত যাতে পাকিস্তানের শাসকদের লুটপাটে কেউ বাধা না দেয়। আজ স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ বছর পরেও কি বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে শিশুরাষ্ট্র সম্বোধন করে বলতে হবে যে এর সাবালক হতে আরো অপেক্ষায় থাকতে হবে?

    আপনার রাজনৈতিক জীবনপরিক্রমা আমি অবগত আছি, তবে তা এখানে প্রাসঙ্গিক নয় বলে এ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন দেখছি না। কিন্তু আপনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে যদি স্থির বলে ধরে নিই, তাহলে আপনি যে সুরে ইতিহাস বর্ণনা করছেন, তা আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের তানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আমি আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই যে বিচিত্রাতে আপনি প্রায় নিঃসঙ্গ সৈনিক হয়ে আলবদর-জামায়াতিদের যে সাহসিকতার সঙ্গে সমালোচনা করেছিলেন, এরপর আর কেউ এ ধারা এগিয়ে নিয়ে যাননি, বরং ঝালমুড়ি খেয়ে ফটো-অপ করে ৪% ভোটের জন্য জামায়াতিদের রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া হয়।

    আপনি নিজের মনে খুব ভালো করেই জানেন, স্বাধীনতার পরপরেই দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির চেষ্টার পরিবর্তে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার্জন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দলীয়করণ করা, ক্ষমতার নির্লজ্জ মদমত্ততা, ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ দেশের উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তার তালিকায় একেবারে তলার দিকে অবস্থান করছিল। আপনার বর্তমান সহযোগীরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেন, একটি যু্দ্ধবিধ্বস্ত দেশকে যখন প্রায় পুনর্গঠন করার কাজ শেষ হচ্ছিল তখনই সামরিক বাহিনী তথা সাম্রাজ্যবাদ সে প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

    ‘একি সত্য সকলি সত্য’? ১৯৭৪ এ আপনার অন্যতম সেরা রচনা “ওদের জানিয়ে দাও”তে কিন্তু দেশ যে পুনর্গঠিত হচ্ছিল তা বলেননি। এখন কি বলেন আমি জানি না।

    সামরিক শাসনের পালা শেষ হলে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন যখন শুরু হল, তখন দুই যুযুধান স্বৈরাচার থেকে আপনি একটিকে বেছে নিয়ে আপনার প্রতিভা ব্যয় করেছেন। আজও যখন দেশ পরিষ্কার ফ্যাসিবাদী শাসনের কামড়ে নীল হয়ে উঠেছে, কোনো এক কার্যকারণে এ বিষয়ে আপনার নীরবতা আমাকে খানিকটা হতভম্ব করে দিয়েছে। আজ বিজয় দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে আপনি আমাদের সবুর করতে বলছেন। এই রসুন বোনার গীত দিয়ে আপনি কি বর্তমান স্বৈরাচারকে প্রলম্বিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন?

    Reply
  18. Arif Rahman

    শাহরিয়ার কবিরের প্রতি শ্রদ্ধা আছে দেখে কোমল করে বলছি– জেনেশুনে কথা বলবেন, অন্তত আপনার কাছ থেকে ড. জিয়াউদ্দিন সম্পর্কে এ ধরনের হাল্কা মন্তব্য শুনব তা ভাবিনি।

    আইনের ভেতরে থেকেই আমাদের বিচারক নিজামুল হক নাসিম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইন-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক আইন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য।

    এখানে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আলাপচারিতা যারা চুরি করেছে, এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতি আপনার ‘নৈতিক’ অবস্থান প্রকাশ না করে আপনি জিয়াউদ্দিনের ওপর এক হাত নিলেন।

    আপনি এবং জিয়াউদ্দিন দুজনেই বিচারপ্রক্রিয়ার বন্ধু। তিনি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, আপনি জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবেই আপনারা যৌথভাবে বিচারপ্রক্রিয়া সুরক্ষা করুন না!

    Reply
    • আহসান উল্লাহ্‌

      আরিফ,

      জিয়াউদ্দিনের মুরিদ হওয়া অনেকের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার হলেও, তাঁর মুখোশ যখন খুলে পড়বে, অনেকের সঙ্গে তুমিও তখন কলঙ্কিত হবে। ব্যাপারটা না বোঝার মতো নালায়েক তুমি নও, তাই না? কিছুদিন অপেক্ষা কর। নিজেকে এত বেশি ইম্পর্টেন্ট ভাবাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

      Reply
  19. হিমু

    প্রিয় শাহরিয়ার কবীর,

    আপনার দীর্ঘ লেখাটির শেষ অংশ পড়ে হোঁচট খেলাম। আপনি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিয়ে শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের একজন, ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ওপর জামায়াতী বুদ্ধিজীবীদের সুরেই এক-পশলা ক্ষোভ ঝাড়লেন। এর কারণ কী?

    আপনি যখন বিচারের দাবিতে আপনার মতোই সোচ্চার একজন মানুষকে সুযোগ পেয়ে পেছন থেকে একদফা কিল মারার জন্য কলম ধরেছেন, তখন তাকিয়ে দেখুন- জামায়াতী পাণ্ডাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। তারা সবাই একাট্টা তাদের কুমতলব চরিতার্থ করতে।

    Reply
  20. Md.Shariful Islam

    সার, আপনাকে সম্মান জানিয়ে বলতে চাই– আমরা যারা তরুণ-প্রজন্ম তারা অবশই যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। এ বিষয় নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি যে দলকে সমর্থন করেন সেটা নিয়ে। আপনি কি মনে করেন এ দল গণতান্ত্রিক?

    Reply
    • Dipangkar

      জনাব শরিফুল, আপনার চারপাশের সব মানুষই যদি খারাপ হয়ে থাকে আর আপনাকে বলা হয় একজন মানুষ বেছে নিতে, আপনি কাকে বেছে নিবেন? আপনি কি সবচেয়ে কম খারাপ মানুষকেই বেছে নিবেন না? তখন কিছু বিশেষ বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে বিশেষ ভিত্তিগুলো কী তা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

      আপনি কি মনে করেন বিএনপি গণতান্ত্রিক দল? বাকি দলগুলোর কথা বলা অনাবশ্যক, তাই বাদ দিলাম।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—