Feature Img

Mizanur-fযুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। এটা ওদের কাজের একটা অংশ। তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুলাই ওরা বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে আমি প্রথমত ওদের একটি বিষয় নিয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছি। এই প্রতিবেদন তৈরির সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতামত জানার কোনও প্রয়োজন অনুভব করেনি ওরা। প্রতিবেদনটি তৈরির আগে তাদের উচিত ছিল আমাদের সঙ্গে কথা বলা। আমাদের মতামত হলো, যেহেতু বাংলাদেশে এখন মানবাধিকার নিয়ে একটি কমিশন রয়েছে, তাই এ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এই কমিশনের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করা উচিত ছিল।

আশ্চর্যের বিষয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রতিবেদেনটি তৈরির সময় বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ এবং ‘অধিকার’-এর সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান ও রিপোর্ট তৈরির বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি। কেবল যেদিন তারা সাংবাদিক সম্মেলন করে রিপোর্টটি প্রকাশ করে তখনই জানতে পেলাম। রিপোর্টটি তৈরি করেছেন তেজশ্রী থাপা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস তেজশ্রীকে নিয়ে আমাদের এখানে এসেছিলেন বটে তবে সেটা রিপোর্ট প্রকাশের পরদিন। তখন তাদের আমি কমিশনের মতামতগুলো জানিয়েছি। আমার আপত্তির দিকগুলোও তুলে ধরেছি। তারা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। বলেছেন, পরবর্তীতে বিষয়গুলো তারা মাথায় রাখবেন।

এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে আমার দ্বিতীয় যে বক্তব্যটি রয়েছে তা হলো, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন মাত্র। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা রিপোর্ট তৈরি করতে পারে কিন্তু একটি দেশের সরকার কী করবে না করবে সে বিষয়ে পরামর্শ বা উপদেশ বিতরণ করতে পারে না। মনে রাখতে হবে যে ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন’ বা র‌্যাব একটি সরকারি সংস্থা। তাই এটিকে বিলুপ্ত করার পরামর্শ তারা দিতে পারে না। এটা তাদের অনধিকার চর্চা। আমরাও যদি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যারা নানাভাবে ইরাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের বিলুপ্ত করে দেওয়ার কথা বলি তা কি অনধিকার চর্চা হবে না? আমরা বড়জোর তাদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরতে পারব। এর বেশি কিছু করতে পারব না।

আসলে এটা করতে গিয়ে র‌্যাব একটি কৌশলগত ভুলও করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্র্রাড ও তেজশ্রীকে আমি বলেছিও। তারা যেহেতু বলতে চেয়েছেন যে, বিডিআর-বিদ্রোহ মামলায় অস্বচ্ছতা রয়েছে, তাহলে রিপোর্টের মূল ফোকাসটা ওই দিকেই থাকা দরকার ছিল। তা না করে তারা যখন র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার পরামর্শ দেন, তখন আলোচনাটা ওই দিকেই চলে যায়। সমস্ত মিডিয়া কিন্তু র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশটিকেই পত্রিকার হেডলাইন করেছে। টেলিভিশনেও তাই হয়েছে। মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলে দিয়েছে প্রস্তাবটা। আমার কথা হলো, বিডিআর-বিদ্রোহ মামলার অস্বচ্ছতার প্রশ্নটাই যদি তাদের কাছে বড় হয়, তাহলে র‌্যাব-বিলুপ্তির প্রসঙ্গে কথা বলার কী প্রয়োজন ছিল?

যাহোক, র‌্যাব প্রসঙ্গে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন। আমি বিভিন্ন সময়ে বলেছিও যে, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। আমি চাই এটা বন্ধ হোক। এই যেমন কলেজছাত্র লিমনের সঙ্গে র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে আমি সবসময়ই আছি। শুরু থেকে আমি এই নিরপরাধ কিশোরের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন আবার নতুন করে অনেকটা যেন চুপিসারে লিমনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো। আমার প্রশ্ন হলো, এত প্রতিপত্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র, তার তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র অসহায় একটি যোল-সতেরো বছরের ছেলে- শিশুর সংজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত হতে যাওয়া নতুন আইনে আঠারো বছরের নিচে বয়সী সবাই শিশু- এ সব দিক থেকে দেখলে লিমনের ওপর রাষ্ট্র বা কোনও সংস্থার জেদ বা অহমিকা চরিতার্থের কী প্রয়োজন রয়েছে?

একটি কিশোরকে নিয়ে তার দরিদ্র মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। মা ভাবতেন ছেলে লেখাপড়া শিখে তার সব দুঃখ ঘোচাবে। সে সব স্বপ্ন এখন ভেঙ্গে চুরমার। প্রতিদিন এই অসহায় মাকে দেখতে হয় তার কিশোর সন্তানের কাটা পা, অসহায় পঙ্গুত্ব। মেনে নিতে হয় এই বাস্তবতা। তাহলে আর কেন? যথেষ্ট তো হয়েছে!

আমি তাই লিমনকে ভরসা দিয়েছি। বলেছি, শুরু থেকেই তোমার পাশে ছিলাম। আছি। থাকব। বিচার-বহির্ভূত হত্যা বা এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে আমি সবসময়ই আছি। আবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো কোনও বেসরকারি সংগঠন এসে আমাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করবে এটাও আমি চাই না। তাদের প্রতিবেদনের ওই সুপারিশটির ব্যাপারে আমার আপত্তিটা ওখানেই।

আমার স্পষ্ট মতামত হলো, র‌্যাব বা যে কোনও সরকারি সংস্থার বিলুপ্তির ব্যাপরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র বাংলাদেশ সরকারেরই আছে। এ ব্যাপারে অন্যদের মতামত দেওয়া ঠিক নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অবশ্যই বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করতে পারে। সরকারকে কোনও সুপারিশ দিতে পারে না।

অনেকে জানতে চেয়েছেন, বিডিআর-বিদ্রোহ মামলায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ আমরা পেয়েছি কিনা। অবশ্যই অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সে সব অভিযোগ সম্পর্কে কয়েকবার কথা বলেছি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকের সঙ্গে। তিনি প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপশি তিনি এ-ও বলেছেন, ট্রায়ালটা তো আমরা প্রকাশ্যেই করছি। এমনকি মিডিয়া সেখানে যেতে পারছে। রিপোর্ট করছে। তাহলে সেখানে কোনও রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে সেটা আমরা জানতে পেতাম। তবু অভিযোগগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। মনে রাখতে হবে যে, এত বড় একটি ঘটনা যেখানে নির্মমভাবে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে- সে ঘটনার বিচার হতেই হবে। তবে অবশ্যই বিচার-প্রক্রিয়াটি হবে পুরোপুরি স্বচ্ছ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আরেকটি সুপারিশ নিয়েও আমি আপত্তি করব। তারা বলেছে, বিডিআর-বিদ্রোহ মামলার বিচারকাজটি বিডিআর আইনে না করে সাধারণ ফৌজদারি আইনে করা হোক। কথা হলো, বিলুপ্ত বিডিআর ছিল একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এ বাহিনীর কিছু সদস্য আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই বিডিআর আইনেই তাদের বিচার হতে হবে। এ কথাটি মনে হয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মীরা ভুলে গেছেন। আসলে যে আইনের অধীনেই বিচার হোক না কেন, প্রথমত বিচার-প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ হতে হবে। এখানে কোনও রকম অন্যায় বা বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মিথ্যা অভিযোগে একজন মানুষও যাতে শাস্তি না পায়। দ্বিতীয়ত, এই আইনের অধীনেই একজন অভিযুক্তের প্রাপ্য সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিডিআর-বিদ্রোহ মামলার ব্যাপারে এটাই হলো আমাদের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা।

মিজানুর রহমান : বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

১৫ Responses -- “এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন ও আমাদের সার্বভৌমত্ব”

  1. Mozammel

    মিজান স্যারকে কী বলব, উনি এই সরকারের মানুষ। কিছুদিন আগে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে যেভাবে কটূক্তি করেছেন তাতে উনি কতটুকু নিরপেক্ষ তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর মন্তব্য যারা করেছেন সে ব্যাপারে বলব, যে কথাগুলো বলা হয়েছে তার অনেকগুলোই খুব যুক্তিযুক্ত।

    Reply
  2. hasan millat

    আমাদের দেশে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস এত মারাত্মকভাবে কমে গেছে যে কী বলব। আজ সবচেয়ে যেটা প্রয়োজন তা হলো আয়নায় নিজের চেহারা দেখে মন্তব্য করা।

    Reply
  3. ziaurrahman

    আপনি তো সরকারি দলের লোক। তাই আপনাকে জানিয়ে রিপোর্ট করেনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। দেশে এত গুম, ক্রসফায়ারের নামে হত্যা ইত্যাদি চলছে- এগুলো আপনি চোখে দেখেন না্‌? এগুলো বন্ধ করতে কী করছেন আপনি?

    Reply
  4. Bashar

    মানবাধিকার দেশ-ভিত্তিক হবে অথবা আমাদের দেশের মানবাধিকার শুধু আপনিই দেখবেন অথবা মানবাধিকারের ব্যপারে আপনাকে পাশ কাটানো যাবে না -এটা কি হয়, যেখানে মানবাধিকার অহরহ লঙ্ঘিত হচ্ছে… রাজনীতিমুক্ত, প্রভাবমুক্ত মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হন, তা হলে মানবাধিকার লঙ্ঘন অনেক কমে যাবে ।

    Reply
  5. শাহজাহান সানু

    ড. মিজানুর রহমানকে সবাই কাগুজে বাঘ বলে।তার হম্বি তম্বি দেখলে হাসি পায়।

    Reply
  6. সৈয়দ আলী

    বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান সমীপে, আপনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধির বাংলাদেশে বসে অসন্মানসূচক পরামর্শ দান আপনার আত্মশ্লাঘাকে আহত করেছে। তা অতি স্বাভাবিক। আশাকরি ওদের বিপক্ষে যা করার আপনি করবেন।

    আপনাদের মতো মান্যবরদের সাথে অনলাইনে সংযোগ পাওয়া আমাদের জন্য মহাপ্রাপ্তি। আমি জানিনা, আপনার নিবন্ধের বিপরীতে পাঠকদের মন্তব্য আপনি পাঠ করবেন কিনা। যদি আমাদের এমত সৌভাগ্য হয় এবং আপনি আমাদের মতামত পড়েন, তাহলে আমি কি সবিনয়ে প্রশ্ন করতে পারি যে এপর্যন্ত সরকারের কর্মকান্ডে আপনার দেয়া পরামর্শ সরকার কতটুকু গুরুত্বের সাথে নিয়েছে?

    লিমনের দূর্ভাগ্যের ইতিহাসে এখন নতুন মামলা যোগ হয়েছে, পুরনো মামলাও চালু আছে, তা থেকে আমরা কি ভাবতে পারি, স্যার, যে আপনার কাজ হচ্ছে ন্যায়সঙ্গত কথা বলে যাওয়া এবং সরকারের কাজ হচ্ছে তাদের অধীনস্থ সকল রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে জনগনকে ফ্যাসিবাদি শাসনের স্বাদ দেয়া?

    আপনাকে যথাযথ সন্মান প্রদর্শনপূর্বক আমার কলম (কী বোর্ড) বন্ধ করছি।

    ভবদীয়,

    সৈয়দ আলী

    Reply
  7. Nirob

    জনাব মিজানুর রহমান, ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটির জন্য। আপনি এই দেশের মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় কী এমন উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আপনার সাক্ষাৎকার নিবে? আপনি তো সরকারি বেতনভোগী ও সুবিধাভোগী। আপনার চোখে সরকারের কো্রি অপশাসন চোখে পড়বে না। আপনারা বিদেশি কোনও সাহায্য ছাড়া একটি ট্রেনিং কোর্সও যেখানে করতে পারেন না সেখানে সেখানে আপনাদের বিরুদ্ধে/সরকারের বিরুদ্ধে একটা সত্য কথা বললেই আপনার ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবুও ভালো যে তাদের রাজাকার বলে গালিটা দেননি। তবে বিরোধীদলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং এই রিপোর্ট যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ করার জন্যই করা হয়েছে আপনাদের কোনও কোনও অপদার্থ মহাশক্তিমান মন্ত্রী মহোদয় বলে দিয়েছেন..

    Reply
  8. prodip chowdhury

    একটি স্বাধীন দেশের মাটিতে বসে একটি মানবাধিকার সংগঠনের অগ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও হয়েছে। আমি মনে করি দেশের সকল রাজনৈতিক দলকেই এই ঘটনায় সম্মিলিত প্রতিবাদ জানানো দরকার ছিলো। তা তো হয়ইনি, উল্টো হাততালি দিচ্ছে কেউ কেউ।

    অবশ্য এ ধরনের আচরণ বর্তমান সরকারি দলও করেছে।

    Reply
  9. mehedi

    আপনার আবোল-তাবল কথাবার্তায় এখন আর কিছু আসে যায় না। আমরা কোনও কিছু টের পাও্য়ার আগেই যে উনারা টের পেয়ে যান তা এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার। এ জন্যই রিপোর্ট দেওয়ার সময় আপনার কাছে আসার প্রয়োজন মনে করেনি তারা।

    Reply
  10. Jahangir Alam Akash

    মতামত প্রকাশ করা বা জানানোর মধ্যে কী করে একটি দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হয় তা আমার জানা নেই। তবে দেশে ক্রসফায়ার বাহ‍্যত বন্ধ হয়েছে বলা হলেও গুপ্তহত‍্যা ও গুম বেড়েছে। রাজশাহীর মেয়র লিটন ও র‍্যাব যৌথভাবে ষড়যন্ত্র করে আমাকেও ক্রসফায়ারে হত‍্যা করতে চেয়েছিল। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কোনও প্রতিকার পাইনি আজও। কমিশন তদন্ত করেছে কিনা তাও জানা যায়নি। র‍্যাব যা করছে তা কী সংবিধান-বিরোধী নয়?

    Reply
  11. প্রবাসী

    গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল। যখন আপনে মিয়া এই সব ব্যাপারে চোখ বুঁইজা থাকেন, তখন এইচআরডব্লিউ তো নাক গলাবেই। আপনে তো এত বড় পুকুর (না, না, সাগরচুরি) দেখতেই পারলেন না, তা আবার বড় বড় কথা কইতে আসেন কেন? পারলে ওদের অভিযোগগুলো এক এক করে খণ্ডন করে দেখান যে না কোনও দুর্নীতি হয় নাই। না পারলে চুপ করে থাকেন। দুদকের গোলাম তো কালো বেড়াল সাদা করার কাজে সদা নিয়োজিত। এত বেশি দুর্নীতিবাজে দেশটা ভরে গেছে যে, দুদকের গোলাম একা আর পেরে উঠছেন না, আপনেও হাত লাগান… কালো বিড়াল সাদাকরণ প্রক্রিয়ায়।

    Reply
  12. মইন সিদ্দিকী

    স্বাধীনতার সপক্ষের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং যে দলটি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল- সেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যেই স্বাধীনতা-বিরোধী বিএনপি- জামাত চক্র আবারও আমাদের স্বাধীনতার হৃৎপিন্ডে ছোবল মারার চেষ্টা করে বিডিআর-বিদ্রোহের নাটক সাজিয়ে (সত্যিই এই কুচক্রটি বহু অঘটন ঘটনপটিয়সী কিন্তু প্রতিবারই জনগণের কাছে শেষমেষ ধরা পড়ে যায় )। যতদুর জানা গেছে, বিডিআর ভাইদের তথাকথিত দাবি – দাওয়াগুলো কিন্তু তেমন বিরাট কোনও ব্যাপার ছিল না। হয়তো এগুলো পুঞ্জীভূত ছিল। বিজ্ঞজনদের ধারণা, তাদের এ সব পুঞ্জীভূত সমস্যা তারা নিজেরাই কয়েকটি ‘দরবার’-এ বসে সমাধান করে নিতে পারত |

    চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী| বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে যে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দিতে মরিয়া ছিল – সেই জামাত-ই-ইসলামী তাদের এ দেশীয় দোসর বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে পদে পদে বাংলাদেশকে সমগ্র পৃথিবীর কাছে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে চেষ্টা করেই যাচ্ছে। এটা করতে পারলে তারা বলতে পারবে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ভুল ছিল। তাদের পাকি-মন্ত্রণাদাতাদের পরামর্শে তারা এই ষড়যন্ত্রে সফলকাম হলে শেষাবধি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন-জাতীয় পরাধীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। অথবা আপাতত বাংলাদেশকে তারা তালেবান-জাতীয় কোনও রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়| এই স্লোগান তারা হরহামেশাই দিয়ে থাকে| এটা আমার কোনওরূপ ধারণা নয়- এটা আমার জ্ঞানলব্ধ বিশ্বাস |

    এবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কেন, কোন প্রেক্ষাপটে হটাৎ করে বিডিআর-বিদ্রোহীদের বিচারের বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং বিএনপির পন্ডিত ব্যক্তিরা কেন এ জন্য বগল বাজাচ্ছে- সেই প্রসঙ্গে আসি | আমরা বোকা জনগণ এটা অন্তত ভালো করেই বুঝতে পারি যে, মানবতা-বিরোধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ করার জন্য জামাত-বিএনপি জোট শত শত ডলার খরচ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মকে দিয়ে ভাড়ায় তাদের সপক্ষে বিদেশে বাংলাদেশ-বিরোধী লবিং করাচ্ছে। বিভিন্ন সময় বর্তমান সরকারের বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট বানোয়াট মিথ্যা তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করিয়ে সেগুলো দেশে আনিয়ে প্রচার করাচ্ছে। সে রকমই একটি প্রতিবেদন হলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বর্তমান বানোয়াট প্রতিবেদন |

    বিডিআর-বিদ্রোহীদের বিচারকাজ এখনও চলছে বাংলাদেশের নিজস্ষ আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়ার মধ্যে| বিচারের আগে আসামীদের স্বীকারোক্তি আদায়ে বিশ্বের সব দেশেই তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ষ কিছু পদ্ধতি আছে যেটা এইচআরডব্লিউ-র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস ( যিনি এবার দয়া করে বানোয়াট তথ্য নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন )-এর নিজ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের এফবিআই, সিআইএ-এর মতো আরও অনেক সংস্থা প্রয়োগ করে থাকে| ব্র্যাড অ্যাডামস জামাত-বিএনপির কাছে দায়বদ্ধ, কারণ এখন যে সব বিডিআর-বিদ্রোহীর বিচারকাজ চলছে তাদের অধিকাংশই বিগত জামাত- বিএনপি জোট সরকার আমলে নিয়োগকৃত। কথিত আছে যে, এদের প্রায় সবাই কোনও না কোনওভাবে আগে জামাত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। জামাতের প্রভাবেই তারা জামাতের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য বিডিআর-এ নিয়োগ পায় !! এখন এদের যদি বিচারে সাজা হয় তাহলে তো জামাতের অবশ্যই মাথাব্যথা থাকবে| তাই তারাই এখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে দিয়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রচার করে বিচারকাজ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে !! এমনকি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের আওতা-বহির্ভূতভাবে এই প্রতিবেদনে র‌্যাব ভেঙে দিয়ে একটি নতুন বেসামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলার সুপারিশ করে।

    তাদের কত বড় ঔদ্ধত্য !! আমরা ‘র‌্যাব’ ভাঙ্গব না গড়ব, সামরিক না অসামরিক বাহিনী গড়ব- সেটা একান্তই আমাদের নিজস্ষ ব্যাপার| এ জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পরামর্শ দেওয়ার কে? এই পরিকল্পিত ঘটনার পিছনে যে বিএনপি- জামাতের সুস্পষ্ট ইন্ধন আছে সেটা তো এখন দিবালোকের মতোই পরিষ্কার|

    আর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়দের কাছে সবিনয় অনুরোধ- আপনারা শুধু এই জঘন্য মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ করেই আপনাদের দায়িত্ব শেষ করবেন না| ব্র্যাড অ্যাডামসের নেতৃত্বে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তিন সদস্যের এই ভাড়াটে দলটিকে ( জনগণ তাই মনে করে ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর সরাসরি অভিযোগে এ দেশ থেকে বহিস্কার করুন| ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমরা ১৯৭১ সালে ভয় পাই নাই। আর কোনওকালেই ভয় পাব না … ইনশা-আল্লাহ ||

    Reply
  13. mizanur rahman

    ঠিক বলেছেন স্যার। কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠান এ দেশে এসে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলবে, অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে- এটা হয় না। তবে আপনারা কতটুকু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন এটাও একটা প্রশ্ন বটে। সরকার মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে কতটা সচেতন? কতটা উদার? শুধু র‌্যাব নয়, দুর্নীতিবাজরাও কি মানবাধিকারের জন্য হুমকি নয়? সেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনও অবস্থান আছে বলে আপনি কি মনে করেন?

    Reply
  14. zahid sohag

    র‌্যাবের বিলুপ্তি নিয়ে সমাজের সচেতন মহল তো প্রথম থেকেই সোচ্চার। আওয়ামী লীগও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে র‌্যাব প্রসঙ্গে যা বলেছে তাতে মনে হয়েছে তারাও চায় না র‌্যাব ‌’বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড’ চালিয়ে যাক। ক্ষমতায় এসে ওরা এটা বেমালুম ভুলে গেল। এ পর্যন্ত র‌্যাব যা যা করেছে তা কিন্তু সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এ কারণে দেশের প্রত্যেক সচেতন মানুষ এই বাহিনীর বিলুপ্তি চান। তাহলে আমাদের এই চাওয়াও কি অনধিকার চর্চার মধ্যে পড়ে? আপনিও এই বাহিনী নিয়ে যা যা বলেছেন- লিমন প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন আলোচনায়- তাতে কিন্তু আইনের শাসনের দিকেই আপনার মত ছিল- বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের পক্ষে নয়। আর র‌্যাব থেকে এই কর্মকান্ড সরিয়ে নিলে র‌্যাবের অস্তিত্বের প্রয়োজনই বা কী? এটাই কি আপনার অনধিকার চর্চার মধ্যে পড়বে?

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরামর্শের গুরুত্ব এইখানে যে আমরা বললে তা সরকারের কানে যায় না কিন্তু বিদেশিরা বললে তারা নড়েচড়ে ওঠেন- যেন আমাদের কাছে সরকার দায়বদ্ভ নয়। তাহলে যাদের কাছে সরকার দায়বদ্ধ তারা এমন কথা বলবেন এটাই তো স্বাভাবিক। এ বিষয়ে স্যার আপনার মন্তব্য শুনতে চাই।

    Reply
  15. Moazzam, USA

    হিউম্যান রা্ইটস ওয়াচ কেন ভারতের বিএসএফ-কে নিষিদ্ধ করার কথা বলে না যারা এ পর্যন্ত চারশ’র বেশি বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে? ওরা যদি ওদের রিপোর্টটা সংশোধন করে এই বিষয়গুলো যুক্ত না করে তবে ওদের এ দেশে কাজ করতে দেওয়া উচিত নয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—