ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না বলে সম্প্রতি বিবৃতি দিয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং এর ফলাফল নিয়েও তারা কোন মন্তব্য করবে না। বিবৃতির পূর্বে একটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। মূলত: তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ বিবৃতি।

পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল সফর শেষে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে তারা সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সক্ষম। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেবার পাশাপাশি দেশটি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বলে তারা উল্লেখ করে।

প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন যুক্তরাজ্যের মাদি শার্মা। তিনি ঢাকা থাকালীনই ‘Bangladesh, a role model in South Asia’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেন, যা ২৫ নভেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশ হয়েছে। এতে তিনি নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী পুরুষের মাঝে বৈষম্য নিরসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রভুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারীকে ক্ষমতায়িত করবার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ সম্পর্কে আকস্মিক এ ‘ইউ-টার্ন’ ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোটকে বিস্মিত করেছে। বিষয়টা তাদের মাঝে এক ধরনের অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। তবে, এর চেয়ে বেশি অস্বস্তি তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে নির্বাচনসহ সার্বিকভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ানা রাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাঙ্কস এবং হাওয়াইয়ের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান তুলসি গ্যাবার্ড একটি প্রস্তাব হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠিয়েছেন। এতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবির ও হেফাজতে ইসলাম সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোকে নিষিদ্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে সব ধরনের অংশীদারিত্ব ও তহবিল সংগ্রহের পথ বন্ধ করতেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি-কে বলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি জামায়াত জোটকে একটা বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলেছে। ইসলামপন্থা এবং জাতীয়তাবাদের রাজনীতির কথা বললেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, যেটা তারা অতীতেও মনে করেছেন। এরই ফল হলো মির্জা ফখরুলের বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘যে ভূমিকা রাখা উচিত’, তা তারা রাখছে না বলে বক্তব্য দেওয়া।

তবে, বিএনপি, জামায়াতের সমর্থকরা অনেকটা বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একথা বোঝার চেষ্টায় রত আছেন যে এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসিয়াল বা চূড়ান্ত অবস্থান নয়। তারা বলতে চাচ্ছেন, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রতিনিধিদলটি যা বলতে চেয়েছে তার সঠিকভাবে আসেনি। মার্কিন কংগ্রেসে বিল নয়, রেজ্যুলেশন আনা হয়েছে। এটা বলে তারা বিষয়টির গুরুত্ব খাটো করতে চাচ্ছেন। তারা তাদের পিছনে যে পাশ্চাত্যের সমর্থন রয়েছে সেটা বোঝাবার জন্য সম্প্রতি ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরি বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে এর কথা উল্লেখ করছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। বিএনপি, জামায়াতের সমর্থকরা এ প্রতিবেদনটিকেই ব্রিটেনের সরকারী অবস্থান বলে প্রচার করছেন। বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এ বিষয়টা তারা করছেন ভোটের রাজনীতিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যাতে হতোদ্যম না হয়ে পড়ে তার জন্য। বাস্তবতা হল, লাইব্রেরি নানা বিশেষজ্ঞ দ্বারা বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে হাউস অব কমন্স সদস্যদের জন্য ব্রিফিং পেপার হিসাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তিত অবস্থান এবং মার্কিন কংগ্রেসে আনা রেজ্যুলেশন  আওয়ামী লীগসহ চৌদ্দ দলীয় জোটের সমর্থকদেরও  অবাক করেছে যদিও এটি তাদেরকে ভোটের ময়দানে এক ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। এমনিতেই তারা এবার ২০১৪ সালের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্যের এ পরিবর্তিত অবস্থান তাদের কাছে অনেকটাই মেঘ না চাইতেই জল পাবার মতো ব্যাপার।

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পরিবর্তিত অবস্থানের কারণ কী? এ পরিবর্তিত অবস্থানের কারণ বোঝবার জন্য আগে দেখা দরকার এতদিন অর্থাৎ গত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশ সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল। এছাড়া, বিএনপি এবং জামায়াত কিভাবে বাংলাদেশকে পাশ্চাত্যের কাছে তুলে ধরত এ বিষয়টাও বোঝা জরুরি।

২০০৮ সালে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের শুরু করে তখন থেকেই পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা দেখা দিতে থাকে। বিএনপি এবং জামায়াত  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে যে অবস্থান নেয়, সেসময়ের বিশ্ব পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক স্বার্থ এর সাথে মিলে যাওয়ায়, তারাও সে একই অবস্থান নেয়। বিএনপি এবং জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা দেশে এবং বিদেশে বহু সভা, সেমিনার করে যেকথাটা বলবার নিরন্তর চেষ্টা করে গেছে সেটা হল এ বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। সরকার তার বিরোধী শক্তিকে দুর্বল বা নির্মূল করবার অংশ হিসাবেই বিচারের নামে এ প্রহসনের আয়োজন করেছে।

বিচারের এ প্রক্রিয়া চলবার সময় ‘ইসলামি’ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবার কথা বলে বিভিন্ন গোপন সংগঠনের ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদী হামলা করছিল, যার সূত্রপাত হয়েছিল শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলে, নব্বই এর দশকের শেষ দিক থেকে। এর সবগুলোর হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ, সিপিবি, জাসদের কর্মীরা, সেক্যুলার হিসেবে পরিচিতরা, ভিন্ন চিন্তাধারার ব্লগার এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা। এর সমাধান হিসেবে বিএনপি, জামায়াত সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি সাবেক বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা গণতান্ত্রিক চর্চার বিস্তার ঘটিয়ে সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূলধারার ‘ইসলামপন্থি’ দলগুলোর পাশাপাশি সন্ত্রাস নির্ভর ‘ইসলামপন্থি’ সংগঠনগুলোকে স্পেস দেবার কথা বলে। অর্থাৎ, কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে জায়গা দেয়া হলে ‘ধর্ম নির্ভর’ রাজনৈতিক সন্ত্রাস যাকে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ বলা হয়, সে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়ে যাবে।

সময়টা তখন ওবামা প্রশাসনের। প্রেসিডেন্ট বুশের সমালোচনা করে, শান্তির কথা বলে ক্ষমতায় আসলেও তিনি তার পূর্বসুরির ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নীতি অব্যাহত রাখেন। একই সাথে তার প্রশাসন মুসলিম প্রধান দেশগুলোকে তাদের নিয়মতান্ত্রিক ধারার ‘ইসলামপন্থি’ দলসমূহকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত করবার নীতি নেবার জন্য বলে। এরই ফল হলো মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে মডারেট দল হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া। আদর্শগতভাবে এ দল দুটো অনেকটাই কাছাকাছি এবং ইসলামের ওয়াহাবী ব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত। তাদের সম্পর্কে ওবামা প্রশাসনের মূল্যায়ন ছিল তারা পাশ্চাত্যের  ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনুরূপ দল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ওবামা প্রশাসন মূল্যায়ন করে একটি ধর্মভিত্তিক গণতান্ত্রিক দলকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করবার প্রক্রিয়া হিসাবে। এ ধরনের নির্মূল প্রক্রিয়া ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসবাদকে আরও বেগবান করবে। কেননা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্থান না পেলে জামায়াতের কর্মীরা গোপন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোতে যোগ দিবে অথবা নিজেরাই আন্ডারগ্রাউন্ডে যেয়ে আরো অধিক হারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ রদ করবার অনুরোধ করেন। কিন্তু, মার্কিন চাপ সত্ত্বেও শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবার সিদ্ধান্ত নেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শীতলতা তৈরি করে।

এসবের সাথে যোগ হয় গ্রামীন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসের অপসারণের ইস্যুটি। ক্লিনটন পরিবারের সাথে অধ্যাপক ইউনুসের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের জের ধরেই হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশের একটি আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর মার্কিন প্রশাসন দ্বারা চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর সবকিছুই বিএনপি এবং জামায়াতকে পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকার ভারত, চীন এবং রাশিয়ার নিরঙ্কুশ সমর্থন পায়।

ভারতীয় রাজনীতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকবার ফলে অর্থাৎ সরকার পরিবর্তন হলে যে দেশটির পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন হয় না- এটা বুঝতে পারবার অক্ষমতার জন্য  বিএনপি মনে করেছিল কংগ্রেস সরকারের পরাজয়ের পর মোদির নেতৃত্বে বিজেপি বিএনপিকে সমর্থন করবে। কিন্তু, বাস্তবে দেখা গেল কংগ্রসের চেয়ে অনেক বেশি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন বিজেপি আওয়ামী লীগ সরকারকে দেয়, যার ফলে ১৯৪৭ সাল থেকে চলে আসা ছিটমহলসহ কিছু সমস্যার সমাধান করতে বাংলাদেশ সক্ষম হয়।

বিএনপির আমলে চীনকে পাশ কাটিয়ে তাইওয়ানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে চীনের সাথে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটে দলটি তা আর পুনরুদ্ধার করতে পারে নাই। তাইওয়ান প্রশ্নটি চীনের রাজনীতিতে কতটা স্পর্শকাতর তা বিএনপি নেতৃত্ব উপলব্ধি করতে অক্ষম ছিল। এ অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক ক্ষেত্রে উদীয়মান শক্তি চীনের সাথে আওয়ামী লীগ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করবার উদ্যোগ নেয়।

এ উদ্যোগের পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের আরো দুইটি বিষয় বিবেচনায় ছিল। তার একটি হলো অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে চীনের হস্তক্ষেপ না করবার নীতি; অপরটি হলো, উইঘুরের সমস্যা এবং কাগজে কলমে এখনো মার্ক্সবাদী-মাওবাদী নীতি অনুসরণ করবার ফলে ইসলামপন্থার রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশটির অবস্থান। চীনের দিক থেকে এতদাঞ্চলে ভারত এবং মার্কিন প্রভাবকে হ্রাস করবার নীতি হিসাবে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক এবং সামরিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয় যা ক্রমশ নতুন মাত্রা পায়। এর পাশাপাশি রাশিয়া এবং বাংলাদেশ দুই তরফ থেকেই মার্কিন প্রভাবে একটা ভারসাম্য আনবার প্রক্রিয়া হিসেবে সম্পর্ক জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বস্তুত, এতদিন পর্যন্ত এরকমই ছিল বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ। তবে, এ সমীকরণে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৫ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তিনি এমন এক সময়ে শপথ নেন যখন দেশটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশে। বর্তমানে এ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ ট্রিলিয়ন ডলারের মতো। দেশটির জনগণের মাথাপিছু ঋণ এখন ৬৬ হাজার ডলারের উপরে। এছাড়া রয়েছে চীনের সাথে ৩৭০ বিলিয়ন ডলারের উপরে বাণিজ্য ঘাটতি। ট্রাম্প এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আমেরিকাকে আবার ‘মহান’ বানাবার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচিত হন।

আমেরিকাকে মহান বানাবার পদক্ষেপ হিসাবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা মুক্ত বাজার অর্থনীতি থেকে সরে এসে সংরক্ষণবাদী নীতি নেবার কথা বলেন যার ফলে হলো চীনের পণ্য সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ বা ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’। বুশ এবং ওবামা প্রশাসনের অনুসৃত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নীতি থেকেও তিনি সরে আসেন। ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করে রাশিয়া এবং চীনকে  প্রধান শত্রু ধরে।

ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ততদিনে অনেক বদলে গেছে। রাশিয়া আবার বিশ্বে পরাশক্তি হিসাবে উঠে এসেছে। উঠে আসার প্রক্রিয়াটা অনেক দিন ধরে চলছিল কিন্তু আগের মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়টা অবমূল্যায়ন করে আসছিল। শীতল যুদ্ধের পর রাশিয়া আবার বিশ্ব রঙ্গ মঞ্চে ফিরে এসে আমেরিকার প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে এটা তারা ভাবতে পারেনি। তাদের ভাবানায় ছিল ভবিষ্যতে চীন হয়তো এ জায়গাটা দখল করবে। এর আগে রাশিয়া, জর্জিয়া এবং ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করলেও আমেরিকা বিষয়টাকে হাল্কা করে দেখছিল, কেননা রাশিয়ার ফিরে আসাটা আমেরিকার শীতল যুদ্ধের সফলতাকে ম্লান করবে।

সিরিয়াতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর আমেরিকার টনক নড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়া এই প্রথম তার ভূমি থেকে দূরবর্তী একটি দেশে হস্তক্ষেপ করে যেখানে সেনা পাঠানো সম্ভব শুধু আকাশ বা নৌপথে পথে। এ ধরনের হস্তক্ষেপ এতদিন পর্যন্ত শুধু মার্কিনিরা করে আসছিল। শীতল যুদ্ধের সময় হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া এবং আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী গিয়েছিল মূলত সড়ক পথে।

যে ইসলামিক স্টেট বা আইএস বিশ্বে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ফলে তা সিরিয়া থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যায়। রাশিয়ার সমর নীতি ট্রাম্প প্রশাসনকে একইভাবে ইরাককে আইএস নির্মূলে সহায়তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে ইরাক থেকেও তারা প্রায় উচ্ছেদ হয়ে যায়। ওবামা প্রশাসন এবং পাশ্চাত্য যখন বুঝে উঠতে পারছিল না কী করে তারা আইএসকে মোকাবেলা করবে তখন পুতিন এবং ট্রাম্পের সমর নীতি এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অনেকটাই নির্মূল করে ফেলেছে। এর ফলে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে প্রায়শই যেসব সন্ত্রাসবাদী হামলা হতো সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া, আইএসের নির্মূল হবার মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতিই কোণঠাসা অবস্থানে চলে গেছে।

সিরিয়ায় রাশিয়ার সাফল্য মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। ইরান, ইরাক, সিরিয়ার পাশাপাশি মিসরের সাথেও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বাণিজ্যিক এবং সামরিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের পর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। এমনকি ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্কও রাশিয়ার সাথে সামরিক এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার বিরুদ্ধে সংগঠিত সামরিক অভ্যুথানের পেছনে আমেরিকার হাত রয়ছে বলে মনে করেন। এরপর থেকেই দেশটি রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপক প্রয়াস চালায়। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সৈন্য সংখ্যার বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে তুরস্কের অবস্থান।

তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাশ্চাত্য সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন রাশিয়া, চীনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায়। শীতল যুদ্ধের সময় ক্রুশ্চেভ এবং মাওয়ের মতাদর্শগত বিরোধ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনের মাঝে সম্পর্কের এতটাই অবনতি ঘটিয়েছিল যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চীন সীমান্তে দশ লক্ষ সৈন্য মোতায়েন রাখতে হয়। মাও সোভিয়েত ইউনিয়নকে ‘সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। চীন সোভিয়েত বিরোধ সেসময় বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক সুবিধা দেয়। উল্লেখ্য যে, মাও সে তুঙ্গের চীন, মার্কিন নীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়।

মাও এর সময়ের তুলনায় অর্থনৈতিক এবং সামরিকভাবে চীন আজকে অনেক বেশি শক্তিশালী। অর্থনীতির হিসেবে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি এবং সামরিক বিচারে তৃতীয়। শীতল যুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাদে ওয়ারশ জোটের বাকি দেশগুলির যৌথ অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির চেয়ে চীনের একার বর্তমান শক্তি অনেক বেশি। অপরদিকে, সম্প্রতি রাশিয়া কনভেনশনাল এবং পারমাণবিক এমন কিছু প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সমরাস্ত্রের উদ্ভাবন করেছে যার সমকক্ষ সমরাস্ত্র মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে নেই।

চীন রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক এবং সামরিক প্রাধান্য ক্ষুণ্ণ করে চীন-রাশিয়া কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য হলো আমেরিকা কেন্দ্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করে চীন-রাশিয়া ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এরই ধারাবিকতা হচ্ছে সম্প্রতি রাশিয়া এবং চীনের বিভিন্ন দেশের সাথে ডলার বাদ দিয়ে রুবল এবং ইউয়ানের মাধ্যমে বাণিজ্য করবার প্রচেষ্টা, যার আসল উদ্দেশ্য ক্রমান্বয়ে ডলার বিহীন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ব্রিকস, সাংহাই কোপঅপারেশন অর্গানিজেশনের মতো সামরিক জোট গঠন এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাঙ্ক, ব্রিকস ব্যাঙ্ক (New Development Bank সংক্ষেপে NDB) প্রতিষ্ঠা এসবেরই ধারাবাহিক ফল।

রাশিয়া এবং চীনের সমন্বিত রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক পাশ্চাত্যেকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। ব্রিটেনও সম্প্রতি বলেছে যে আইএস নয়, ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো রাশিয়া। এশিয়াতে পূর্ব দিকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমে ইসরায়েল ছাড়া আমেরিকার আর কোন নির্ভরযোগ্য মিত্র নেই। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসবার পর এশিয়া এবং ইউরোপের পুরানো মিত্রদের সাথেও বৃদ্ধি পেয়েছে সম্পর্কের টানাপড়েন। এমতাবস্থায়, চীনকে ব্যাল্যান্স করবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই।

ভারত তার ‘চাণক্য পররাষ্ট্রনীতি’র আলোকে এক পাকিস্তান ছাড়া সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে চলাতে আগ্রহী। ভারতের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক বাণিজ্যের অংশীদার হলো চীন। ভারত ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র মনে করে। ভারত তার অস্ত্রের সত্তর ভাগই আমদানি করে রাশিয়া থেকে। এমনকি ইরানের সাথেও ভারতের রয়েছে বাণিজ্যিক এবং সুসম্পর্ক। ফলে, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের অবস্থানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যকোনও অবস্থান নেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

ভারত বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির জোরালো অবস্থান দেখতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারতের সাথে বাংলাদেশে ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতির শক্তিশালী অবস্থা তাদের স্বার্থের অনূকুল হবে বলে মনে করছে না। তাদের মূল এজেন্ডা এখন দুনিয়া জুড়ে ক্রমবর্ধমান চীনা-রুশ প্রভাবকে খর্ব করা। শীতল যুদ্ধকালীন সোভিয়েত চ্যালেঞ্জের চেয়ে চীন-রুশের যৌথ সামরিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে তারা আরও বেশি বিপদজনক মনে করছে।

ফলে, সাবেক বাম বুদ্ধিজীবীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার স্পেস তৈরি না করে শক্তি প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জঙ্গিবাদের সমস্যাকে প্রায় নির্মূল করে ফেলতে পারাকে পশ্চিমা বিশ্ব এখন ইতিবাচক ভাবে দেখছে। এমনকি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে রাজনীতিতে কোণঠাসা করবার বিষয়টাকেও ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতির সাথে জঙ্গিবাদী ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতির যোগসূত্র এবং আদর্শিক মিল থাকবার বিষয়টা দেরিতে হলেও তাদের নিজেদের স্বার্থেই পশ্চিমা বিশ্বে অনেক উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন।

বস্তুত, এ সমস্ত উপলব্ধির ফল হল পাশ্চাত্য কর্তৃক আওয়ামী লীগ সরকার যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার স্বীকৃতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক না পাঠাবার সিদ্ধান্ত এরই ধারাবাহিকতায় নেওয়া। অনেকে তাদের এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হলেও তারা যে বিষয়টি খেয়াল করেননি তা হলো পশ্চিমা বিশ্বের বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন আদর্শের চেয়ে স্বার্থ সংরক্ষণ বা প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে হয়। ফলে, মধ্যপ্রাচ্যের চরম অগণতান্ত্রিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী শাসকদের সাথে তাদের যেমন দহরম-মহরম আমরা দেখি, তেমনি নিকট অতীতে আমরা দেখেছি লাতিন আমেরিকা বা পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের সাথে সুসম্পর্কের বিষয়টি।

পশ্চিমা বিশ্বের এখন অগ্রাধিকার হল চীনা-রুশ প্রভাব ঠেকান। এ ঠেকাবার প্রক্রিয়ায় ‘ইসলামপন্থা’র রাজনীতি তাদের কাছে প্রতিবন্ধক; কেননা, এতে তাদের মনোযোগ অন্যদিকে কেন্দ্রীভূত করতে হবে। তাই আগামী নির্বাচনে যদি বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে তবে তারা একে মডারেট সেকুলার শক্তির বিজয় হিসাবে স্বাগত জানাবে এবং সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে চাবে যাতে চীন-রাশিয়ার দিকে বাংলাদেশে বেশি ঝুঁকে না পড়ে।

সাঈদ ইফতেখার আহমেদশিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিস, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

Responses -- “বাংলাদেশের নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ”

  1. লতিফ

    আপনার বিশ্লেষণের মানে দাঁড়াচ্ছে এটাই যে, জামাতের উপরে বিএনপির হিজাব পরিয়ে এবং তার উপরে কামাল হোসেনের মেকআপ দিয়ে জঙ্গিদের নির্বাচনে আনাটা মার্কিন ও ইইউ পররাষ্ট্রনীতির অংশ এবং সেটা শেখ হাসিনাকে করতে হচ্ছে চীনকে একটু চাপে রাখার জন্য। হতে পারে এবং সেই সম্ভাবনাটাই বেশি। বিশ্লেষণটা ভালো লাগলো।

    Reply
  2. সৈয়দ আলি

    অধ্যাপক সাইদ ইফতেখার আহমেদ: মাদি শার্মা কে আমি জানি না। তাকে নিয়ে গুগল করতেই ইচ্ছে হলো না। আপনার বয়ানে জানলাম তিনি ঢাকা থাকালীনই ‘Bangladesh, a role model in South Asia’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেন, যা ২৫ নভেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশ হয়েছে। ‘এতে তিনি নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী পুরুষের মাঝে বৈষম্য নিরসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রভুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারীকে ক্ষমতায়িত করবার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।’ ভালো কথা। হয়তো এর সবই সত্য এবং এই সরকার প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু আমি নিশ্চিত, মিজ শার্মা বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত নারীদের মীন করেছেন। কারণ বাংলাদেশের দরিদ্র নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম দেয়ার নামে নির্যাতন করতে পাঠানো হয়। গ্রামের বিপুল নারীগুষ্ঠি এখনো পুরুষকে অতিক্রম করতে পারেনি, পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক একনো পুরুষেরা। আমি জানিনা মিজ শার্মা কোন সূত্র থেকে নারীত্বের অত উল্লম্ফন দেখলেন যেখানে রাষ্ট্রের ধর্মগুরু পরিষ্কার ফতোয়া দিচ্ছেন যে নারীদের পঞ্চম শ্রেণীর বেশি পড়ালেখার দরকার নেই।
    আপনাকে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করছি, শার্মাকে কত দিতে হলো?

    Reply
    • মোহাম্মদ ওসয়ান গণি

      “রাষ্ট্রের ধর্মগুরু পরিষ্কার ফতোয়া দিচ্ছেন যে নারীদের পঞ্চম শ্রেণীর বেশি পড়ালেখার দরকার নেই-” এই ধরণের আজগুবি কথা আসে কোথ্বেকে? রাষ্ট্রের ধর্মগুরু মানে কি হযরত গোলাম আযম নাকি হযরত তারেক রহমান নাকি হযরত সৈয়দ আলি সাহেব স্বয়ং?
      বাংলাদেশের দরিদ্র নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম দেয়ার নামে নির্যাতন করতে পাঠানো হয়ঃ ছি ছি ছি- এটা কার কথা? সমালোচক কি বলতে চান যে সব পরিবার অসহায় হয়ে নারীকেও বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হয় তারা ইচ্ছা করেই নির্যাতনের জন্য মেয়েদেরকে বিদেশে পাঠায়? কেন, দেশে রেখেইকি সেটা করা সম্ভব নয়? মধ্যপ্রাচ্যে কিছু নরপশু আছে যারা গরিবের অসহায়ত্ত্বের সুযোগ নেই, যার থেকে পুরুষরাও বাদ যায় না। সেই পশুদের কথাটা বাদ গেলো কেন? কারণ সেই পশুদের টাকায় জামাতিরা চলে, তাই নয় কি?
      নারীর ক্ষমতায়ন সম্বন্ধে কিছু শিখতে চাইলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের কাছে জেনে নিতে পারেন। আমার বিশ্বাস তিনি তাতে উপকার পাবেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—