কিছুদিন আগে রুদ্র সাইফুলকে বলেছিলাম, ‘রুদ্র, এই সুদীর্ঘ পেশাগত জীবনে তো অনেক কিছুই দেখলাম, রইলাম অনেক কিছুর সঙ্গেও। এখন একটি কাজ যদি না করা হয় তাহলে আমার বিবেক ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। তুমি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি আর আমি বটবৃক্ষের মতো বিগত প্রায় সাতটি দশক এই গাঙ্গেয়বঙ্গের রাজনৈতিক স্রোতধারা অবলোকন করলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পর এই ভূখণ্ডে যিনি সত্যিকারভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন সেই মানুষটিকে নিয়ে একটা সংকলন করতে হবে। আমাদের বিত্ত নেই বটে, কিন্তু চিত্ত তো আছে, আর হাতে আছে কলম। এসো রুদ্র, আমরা কিছু একটা করি।’

রুদ্র তার অসাধারণ কর্মদক্ষতা দিয়ে অতি দ্রুততার সঙ্গে সংকলনের সকল আয়োজন সমাপ্ত করল এবং আমি মুগ্ধ হলাম এই বিশ্বাস থেকে যে, কত গভীর শ্রদ্ধাবোধ থাকলে কোনও দিকে না তাকিয়ে, এমনকি ব্যয়ের বিষয়টিও না ভেবে এই অতিশয় শ্রমসাধ্য কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। ঠিক এই সময় শুরু হলো একটি অসাধারণ তথ্যচিত্র- ‘হাসিনা: আ ডটার্স টেল’। শুনলাম প্রেক্ষাগৃহগুলোর প্রতিটি শো জনাকীর্ণ। টিকেট সংগ্রহ করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। সৌভাগ্যবশত টিকেট পেয়ে গেলাম। পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ। জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হওয়ার পর স্বল্প বিরতিতে শুরু হলো তথ্যচিত্রটি। সত্তর মিনিটের এই তথ্যচিত্র শুরু হওয়ার পর রুদ্ধশ্বাসে প্রতিটি দর্শক যেন আরও কিছু দেখতে চেয়েছে বলে মনে হলো। ছবি শেষ হলেও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিটি দর্শক- হৃদয়তন্ত্রীতে অনুধাবিত হচ্ছে ভিন্নসুরে পান্নালাল ভট্টাচার্যের কালজয়ী মর্মভেদী ওই দুইটি চরণ, ‘আমার সাধ না মিটিলো, আশা না পুরিল / সকলই ফুরায়ে যায় মা…।’

হল থেকে বেরিয়ে আমরা চারজনই স্তব্ধ হয়ে রইলাম কিছু সময়, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছিলাম না। পর্দার নি:শব্দ অশ্রুপাত যে এমন করে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে সেই সময় আমরা চারজনই যেন অনুভব করলাম। তথ্যচিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করার মতো বোদ্ধা আমি নই। রবীন্দ্রনাথ সবসময় পণ্ডিতদের সেই চিরন্তন বিতর্ক ‘তৈলাধার পাত্র, না পাত্রাধার তৈল’ নিয়ে কটাক্ষ করতেন। আমি অবশ্য শিল্পস্রষ্টা কিংবা শিল্পবিশ্লেষকও নই। নিতান্তই একজন অনুরাগী মাত্র। ভালো সৃষ্টি হলে আনন্দ অনুভব করি। সেই হিসেবে বলতে পারি ছবিটি দেখে আমি অপার আনন্দ অনুভব করেছি- এটা যেমন সত্য, তেমনই শোকার্ত হয়েছি স্বজন হারানো দুই নারীর যন্ত্রণাবিদ্ধ স্মৃতিচারণে।

কবি নজরুল তার এক কবিতার শেষাংশে এই দুটি চরণ ব্যবহার করেছিলেন, ‘ভগবান তুমি চাহিতে পার কি / ঐ দুটি নারী পানে / জানি না তোমায় বাঁচাবে কে যদি ওরা অভিশাপ হানে।’ আমার সুযোগ হয়েছে ওই দুজনের কাছ থেকেই খণ্ড খণ্ডভাবে এই অভিজ্ঞতার কথা বিচ্ছিন্নভাবে শোনার। তাদের হয়তো মনে নাও থাকতে পারে, কিন্তু আমার মনে আছে। মনে আছে বিভিন্ন সময়ে যখন জাতির প্রিয়নেত্রী তার স্মৃতির ঝাঁপি থেকে কিছু কিছু রক্তময় ছবি তুলে ধরতেন, সুধাসদনের কোনও কক্ষে একবার, টুঙ্গিপাড়ায় তার বৈঠকখানায় একবার, একবার কানাডায় জামাতার বাসগৃহে। তখন মনে হয়েছে এত দাবাগ্নি হৃদয়ে বহন করেন কী করে তিনি! অথচ জাহান্নামের সেই আগুনে বসে তিনি কী করে হাসেন পুষ্পের হাসি? এই পরিস্থিতিতে তো কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা।

শেখ রেহানার সঙ্গে কথা হয়েছে কয়েকবার। লন্ডনে তার বাসগৃহে গিয়ে শুনেছি মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা। কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়, কীভাবে ভালো মানুষের মুখোশ খসে গিয়ে বীভৎস ক্লেদাক্ত চেহারা বেরিয়ে পড়ে, তার বিবরণ শুনেছি তার মুখে। তিনি বলেছিলেন, ‘পঁচাত্তরের পনেরই অগাস্টে সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কাহিনি যেদিন শুনি তারপর থেকে এপর্যন্ত আমার দুই চোখের পাতা আমি এক করতে পারিনি। চোখ বন্ধ করলেই যেন সার বেঁধে সামনে এসে দাঁড়ান বাবা, মা, কামাল ভাই, জামাল ভাই, আদরের রাসেল, দুইটা নতুন বউ তাদের হাতে মেহেদীর রঙ নিয়ে।’ তিনি শুধু বারবার একটি প্রশ্নই করেছিলেন, ‘বলুন তো, কী দোষ ছিল আমার বাবার? দেশের স্বাধীনতার জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন, আমরা পিতার সান্নিধ্য বঞ্চিত থেকেছি বছরের পর বছর, এখানেই কি তার দোষ? এত অকৃতজ্ঞ হবে এই জাতি- ভাবতেও পারি না।’

হ্যাঁ, ওই তথ্যচিত্রটিতে দুই সহোদরার বিপন্নকালের অকপট বর্ণনা ছিল, যা স্পর্শ করেছে তাদের সবাইকেই যারা একবার তথ্যচিত্রটি দেখেছেন।

দুই

আমরা জাতি হিসেবে যেমন ভাগ্যবান তেমনই হয়তোবা অকৃতজ্ঞ। আমরা ভাগ্যবান, কারণ আমাদের এমন একটি প্রতীক আছে যা আমাদের জাতিগত অস্তিত্বকে সুনিশ্চিত করেছে। যিনি আজীবন প্রাণপাত করেছেন একটি জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের জন্য, যিনি বারবার ফাঁসির দড়ির নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন একটি জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশের প্রয়োজনে- আমরা ভাগ্যবান না হলে কি তেমন একটি হিমালয়সম প্রতীককে পেতাম! আমরা অকৃতজ্ঞ এই কারণে যে, এমন একজন মানুষকে এভাবে সপরিবারে বিনাশ করতে ঘাতকরা এতটুকু দ্বিধান্বিত হলো না এবং গোটা জাতি প্রতিবাদহীন হিসেবে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ অবলোকন করল। একটি জাতির এমন নির্লজ্জ আত্মসমর্পণের ইতিহাস কি আছে বিশ্বের কোথাও? সাদ্দাম হোসেন কিংবা গাদ্দাফির মতো নির্দয় স্বৈরাচারের পক্ষেও সেসময় তাদের সমর্থকরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছিল, মাসের পার মাস, বছরের পর বছর জীবনপণ করে  লড়াই করেছিল, কিন্তু আমাদের এখানে দেখা গেল বিশ্বাসঘাতকের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নানারূপে নানা পরিচয়ে মুক্তিযুদ্ধের ন্যূনতম চিহ্ন নি:শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

শুধু ওই একবারই নয়, বারবারই ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন দৃঢ়প্রত্যয়ে ঘোষণা করলেন যে, তিনি দেশে ফিরবেনই- বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ তিনি অবশ্যই গড়বেন, তারপর থেকে আবার সক্রিয় হয়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্র। পঁচাত্তরে বিদেশেও কি শান্তিতে ছিলেন তারা? শুনেছি অনেকের কাছে- এমনকি দুই বোনের মুখ থেকেও। অদৃশ্য ঘাতক তাড়া করত তাদের। নিশ্চিন্তে পথে বেরুতে পারতেন না। এমনকি ভারতের মতো জায়গায়ও তাদের পরিচয় গোপন করে চলতে হতো। এই তথ্যটি তো তারা দুইজনই বলেছেন ঐ তথ্যচিত্রটিতে।

আরও একটি কারণে এই জাতি ভাগ্যবান যে, শেখ হাসিনা জাতির জনকের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য নির্ভয়ে পথ চলেছেন ‘জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ এই বিশ্বাসকে বুকে বহন করে। যদি তারা ঘাতকের লক্ষ্যবস্তুতে পড়ে যেতেন তাহলে কক্ষচ্যুত হতো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তদান, তিন লক্ষ মা-বোনের আর্তনাদ; মিথ্যে জয়যুক্ত হতো, নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জাতির গর্বের পতাকা, জাতীয় সংগীত। সাধের এই ভূমিতে দেখা যেত পিশাচ এবং হায়েনার প্রেতনৃত্য। তিনি যে সাহসের আলোকবর্তিকা বহন করে নিয়ে এসেছেন তার ফলেই একাত্তরের ঘাতকেরা একে একে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছে, কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান, পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুঁচে গেছে, শূন্য নি:শেষ হয়ে পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশের অর্জনের ভাণ্ডার। এই সাঁইত্রিশ বছরে অন্ততপক্ষে উনিশবার তাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুই তার অদম্য প্রাণশক্তিকে পরাভূত করতে পারেনি।

আর অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলতে হয় এই কারণে যে, তার পর্বত-প্রমাণ সাফল্য যেখানে বাংলাদেশের সবকটি উন্নতির সূচক বিশ্বের বিস্ময়ে পরিণত করেছে সেখানে সকল অর্জন তীর্যকভাবে চিত্রিত করার অবিচল চেষ্টা করতে এতটুকু কুণ্ঠিত কিংবা লজ্জিত হচ্ছে না। একইসঙ্গে চলছে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার অপচেষ্টা- চলছে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস এবং নির্মূল করার নির্মম ষড়যন্ত্র।

তিন

‘হাসিনা: আ ডটার্স টেল’ তথ্যচিত্রটির ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার ভাষ্যে উঠে এসেছে সেই নির্বাসিত জীবন, সেই দু:সময়, যখন দুজনেই প্রত্যক্ষ করেছেন মুখ এবং মুখোশের রূপ। চেতনার রঙে চিনেছেন শত্রু এবং মিত্রের ব্যবধান। বঙ্গবন্ধুর এই দুই কন্যা আছেন বলেই যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এই সত্যটি অনুধাবন করতে দেশবাসীকে বোধহয় আর খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

আবেদ খানসম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক জাগরণ

Responses -- “তিনি আছেন বলেই”

  1. মোহাম্মদ ওসমান গনি

    মানুষ যে কতোটা এক্সট্রিম হতে পারে এখানে কিছু নমুনা পেলাম। আবেদ খানের উচিৎ ছিলো তেল না মেরে এটা বলা যে পূর্ব পাকিস্তানের নাম বদল করার কারণে পাকিস্তানের যে শরম, সেটা ঘুছাতে শেখ সাহেবকে যারা সপরিবারে মেরেছিল, তাদেরক পুরস্কার দেওয়াটাই ছিল উপযুক্ত তেলবিহীন সাধু কর্ম। হাসিনা থাকার কারণেই ২১ আগস্টে গ্রেনেড নামক ফুল দিয়ে রাজপথের সুন্দর সাজান, দশ ট্রাক অস্ত্র দিয়ে দেশে আদর সোহাগ বাড়ান আর হাওয়া ভবনের সুবাতাস ছড়িয়ে দেশের মানুষকে বেহেস্তি সুখ দেওয়ার মহান কাজটা বাঁধা পেয়ে থেমে যায়।
    হাসিনা না থাকলে জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট দিয়ে পুর্ব পাকিস্তানি এতিমরা হাজার হাজার কোটি টাকা পেয়ে যেত পুর্ব পাকিস্তানিদের জাতীয় জননীর কাছ থেকে।

    ১৬ ডিসেম্বর এই সমালোচক গণ লজ্জায় কান্না করবেন যে তাঁদের অতি প্রিয় বেহেস্তি পাক পবিত্র পাকিস্তান সারেন্ডার করল। সকল যুগের সেরা মহামনব হযরত তারেক রহমান জিন্দাবাদ-এই কথাটি না বললে বাকি সবই কেবল চাটুকারিতা। এই লোকগুলি কোনরকম লজ্জা ছাড়াই বলতে পারেন (পূর্ব পাকিস্তান) জিন্দাবাদ, কেননা উর্দু দিয়ে বাংলা জয়বাংলা শব্দটা মুছে দিতে পারলে তবেই তাদের পাকিস্তান নাপাকি থেকে পবিত্র হয়।

    Reply
  2. Md. Israil Hossain

    আমার প্রিয় তিনজন কলামিস্টের মধ্যে অন্যতম আপনি। আপনাদের লেখা পড়লে মনে হয় এ তো আমারই অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

    Reply
  3. কাজী ফয়েজ আহমেদ

    দাদা
    আপনি লিখেছেন ” আমরা জাতি হিসেবে যেমন ভাগ্যবান তেমনই হয়তোবা অকৃতজ্ঞ” আমি আপনার এ লাইনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি । আমরা মোটেও অকৃতজ্ঞ নই, আপনাকে দেখলে তা বুঝা যায় । এত বছর যার নুন খেয়েছেন তার গুন গেয়ে যাচ্ছেন, কই আপনি তো অকৃতজ্ঞ নন । অতি উচ্চ মানের চাটুকারী লিখা । তা ঠিক আছে, গত ১০ বছর নুন খেয়েছেন এখন যদি তার ফল পাওয়া না যায় তাহলে তো অসুবিধা । হায়রে সাংবাদিক, হায়রে সাংবাদিকতা !!!

    Reply
  4. সৈয়দ আলি

    অনেকেই আবেদ খানের এই তৈলাক্ত নিবন্ধের ক্রুদ্ধ সমালোচনা করছেন। তা’ তারা করতেই পারেন। তবে আমি আবেদ খানকে নিয়ে দুঃখ পেয়েছি। আমি তাঁকে ৬৮-৬৯ সালে একজন প্রতিবাদী ও অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক হিসেবে দেখেছি। মৌলানা ভাসানীর সমর্থক হিসেবে তাঁকে উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদ বিরোধী লেখা লিখতে দেখেছি, আবার তাঁর লেখায় সততার সাথে শেখ মুজিবের প্রশংসাও পড়েছি। এরশাদ, বেক্সিমকো ও শেখ হাসিনা কর্তৃক আবেদ খান আর্থিকভাবে খুব উপকৃত হয়েছেন তা’ জানি, কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্বকে ছুঁড়ে ফেলে এমন হুমড়ি খেয়ে জুতা চাটতে দেখে দুঃখই পেয়েছি।

    Reply
  5. salim

    জনাব আবেদ খান একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও কলামিস্ট। নিজ গুণেই তিনি গুণান্বিত। তার লেখা দেখলেই না পড়ে থাকতে পারি না। বেশ ভালো লাগে।
    তাকেও যখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে তেল দিয়ে চলতে হয় , তখন একজন সাধারণ নাগরিক তেলের খনি আবিস্কারে নেমে পড়বেন। বৃটিশরাও নাকি শূন্য জনপ্রিয়তা নিয়ে শুধুমাত্র কিছু তেলবাজের উপর ভর করে প্রায় দুইশ বছর এ দেশ শাসন করে গেছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলকে আজ তেলবাজদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এটাই হচ্ছে বড় লজ্জার বিষয়। মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ কয়টা আসন পাবে এটা ক্ষমতাসীনরা বেশ ভালো করেই জানে। আওয়ামী লীগের এ দূর্বল জায়গাটা কাজে লাগাচ্ছে তৈলমর্ধনকারীরা।
    অন্তত আবেদ খানের কাছ থেকে দলনিরপেক্ষ লেখা জাতি আশা করে।

    Reply
  6. প্রত্যয় ভৌম

    ইউরোপে রেনেসাঁর যুগেও সম্রাটরা তৈল মর্দনকে তাদের ন্যায্য পাওনা ভাবতেন। অধঃস্তনদের জন্য এটা সাফল্যের পরশপাথর হয়ে যেত। তা’ এই অতি প্রশংসার ফলাফল কি? ফলাফল হল এটা করলে প্রিয়ভাজন আস্থাভাজন হওয়া যায়। অসৎ ঊর্ধ্বতনের ডান হাত হওয়া যায়। তবে, অসৎ অধঃস্তনরাই অসৎ ঊর্ধ্বতনদের ডানহাত হয়ে যায়। তাদের পুরস্কার জুটে। বন্ধু জুটে। তবে অসৎ বসদেরকে অপ্রিয় সত্য বললে তিরস্কার জুটে। শত্রু জুটে। এই স্বভাবটি এর দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলে। তৈল-মর্দকরা কিন্তু ঊর্র্ধ্বতনদের বেলায় কেঁচোর মত নরম হয়ে যায়। তৈল গ্রহীতার নিকট এঁরাই নিজ দেহের কুণ্ডলী পাকানো দেহভঙ্গী ধারণ করে ঐ কুণ্ডলী পাকানো কেঁচোর মতই। অথচ এরাই তাদের অধঃস্তনদের প্রতি শুধু তৈল প্রত্যাশীই হয় না এরা কাঙ্ক্ষিত তোষামোদ না পেলে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়, বকা দেয়ার সীমা ছাড়িয়ে যায়, অনর্থক চাতুরীপূর্ণ শাস্তি দেয়, তাদের ন্যয্য ও বৈধ প্রাপ্তিতে বাধা দেয়, অসহযোগিতা করে। তা করতে পারলে নিজেদেরকে সম্রাট সূলভ ক্ষমতাবান বলে মনে করে। স্বার্থলাভে এরা চোখের পলকে এরা পাকা কথাকে ও বদলে ফেলে। উপার্জন জগতে তৈল-মর্দকরা নির্ভরযোগ্য তো নয়ই, বরং কূটচালক, বিপজ্জনক। এদের বিচরণ শুধু কি অর্থজগতে? না-না! সর্বস্তরেই এরা সংকট সৃষ্টি কারক। সরকারী কর্মজগতে এরা খুবই সুবিধাভোগী শ্রেণি। ক্ষমতাবান। সবচেয়ে বেশি কোথায় এরা বিপজ্জনক তা জানেন? রাজনীতিতে। সরকারের শীর্ষের ও তার ঘনিষ্ঠ পদাধিকারীদের আশপাশেই এরা অবস্থান নেয়। ফলাফল? গৃহীত নীতিমালায় ক্ষতিকর ধ্বংসকারক সিদ্ধান্ত স্থান পেয়ে যায়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—