ষড়যন্ত্রের ইতিহাস দিয়েই রচিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস। স্বাধীনতাত্তোর খুব কম দিনই পাওয়া যাবে, যেদিন স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসররা এদেশের মাটি ও মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেনি।

অন্ধকারের চক্রান্তকারীদের কখনওই বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি বলে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বাংলাদেশে এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা বাঁধাহীনভাবে বিস্তার লাভ করেছে প্রজন্মের শেকড়ে!

শ্রদ্ধেয় কলামিস্ট গাফফার চৌধুরী একবার লিখেছিলেন, ‘মানুষ যেমন দু’পায়ে হাঁটে, গণতন্ত্রও তেমনি দু’পায়ে হাঁটে। এই দু’পায়ের একটি সরকারী দল, অপরটি বিরোধী দল’।

একটা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক অবকাঠামো তো এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু দু’পায়ী মানুষের একটি পা যদি সারাক্ষণ অন্য পা-কে ল্যাং মারতে থাকে, তখন মানুষটি কিভাবে এগোবে, সে উত্তর তিনি দেননি! ব্রিটেনের লেবার পার্টির প্রয়াত নেতা অ্যান্থনি ওয়েজউড বেল একবার বলেছিলেন, ‘তেল এবং জল যেমন একসাথে মেশে না, তেমনি গণতন্ত্রের সাথে চক্রান্তও পাশাপাশি চলতে পারেনা’। বেশ সোজাসাপ্টা কথা নিঃসন্দেহে!

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘চক্রান্ত’ যখন জৈবিক একটা উপাদানে পরিণত হয়, তখন কিভাবে তা অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়া যায়, সে ব্যাপারে অ্যান্থনি ওয়েজউডও কিছু বলেননি। বিষয়টি এমন যে, একটা সমস্যা চিহ্নিতকরণ হয়েছে ঠিকই কিন্তু তা সমাধানের অ্যাকাডেমিক অথবা আক্ষরিক কোনও উপায় কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বাৎলে দেননি। স্বাভাবিক কারণেই চক্রান্ত বা ধ্বংস মোকাবেলায় দেশের শাসকরা যখন কোনও পন্থা অবলম্বন করেন, মোটাদাগে তা ভুল বলেই বিবেচিত হয় এবং সম্ভবত সে কারণেই শেখ হাসিনার সরকারও সে আখ্যা থেকে রেহাই পায় না!

সাম্প্রতিক বছরগুলোর জাতীয় নির্বাচনের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে মূলত ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের’ আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি! আপাত দৃষ্টিতে সরকারবিরোধী হিসেবে আত্মপ্রকাশ পাওয়া ঐক্যফ্রন্টের সাথে সরকারের সংলাপ হওয়ায় সে বিতর্কে কিছুটা কোমল ভাব থাকার পরেও শুধু বিরোধিতার অজুহাতে ঐক্যফ্রন্ট সরকারবিরোধী কথাবার্তায় নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। তবে আশা এতটুকুই যে, যে কোনও প্রক্রিয়ায়ই হোক না কেন, ঐক্যফ্রন্ট ও তার প্রধান শরিকদল বিএনপি তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে। সে অংশগ্রহণের প্রান্তিক রূপরেখা কেমন হবে, তা এখনই বলা মুস্কিল যদিও! গত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির প্রত্যক্ষ জামায়াতবান্ধব যে মনোভাব ছিল, বর্তমানে মানসিকভাবে না হলেও বাহ্যিকভাবে এবং কৌশলগত কারণে তারা জামায়াত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছেন, যা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। ইতিমধ্যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দলটির একাধিক জেষ্ঠ্য নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। ড. কামালের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার কারণে সম্ভবত বিএনপি তাদের প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে দূরত্ব বজায় রাখার বাহ্যিক নীতি গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার্থে জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনেকে সরকারী দলে যোগ দেয়া ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামী ভাবধারার সংগঠনে যোগ দিয়েছে। সাময়িকভাবে হলেও এসব দল ও সংগঠনের ভিতরে থেকে জামায়াতে ইসলামী তাদের মতধারার জঙ্গী-ও সন্ত্রাসী রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে, যা নির্বাচনের সময় আরো বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, যার প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ নাগরিকই মুসলিম। এই দেশে প্রায় এক কোটির অধিক বেকার আলেমগণ তাদের প্রচলিত ধারায় রাষ্ট্রের উৎপাদনশীল সেক্টরগুলোতে নিজেদের নিয়োজিত না রেখে শুধু ধর্মীয় চেতনা বিস্তারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যে কারণে গত দুই যুগেরও অধিককাল ধরে এবং অধিকতর মুসলমানিত্বের কারণে বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সমাজব্যবস্থার দিকে এগিয়ে গিয়েছে, যা একটা জাতিকে আধুনিক সভ্য দুনিয়া থেকে পশ্চাদপসারণের জন্য যথেষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।

সেই সাথে দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠের প্রতি প্রদর্শন হয়েছে রাষ্ট্রীয় বর্ণবাদিতা। পঁচাত্তরের পর থেকে অদ্যাবধি প্রায় চার কোটি হিন্দু দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন উদ্ভুত ধর্মীয় মৌলবাদের আগ্রাসী আচরণের কারণে। বর্তমান সরকারের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, তাকেও পদে পদে বাঁধাগ্রস্ত করছে মৌলবাদের বিষবাস্প। এই অপধারাকে রোধ করতে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলেম সমাজের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোন গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের আলেম সমাজের বড় একটা অংশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও একটি অংশ ভাল চোখে দেখেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেছিলেন, ‘আলেম-ওলামাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য তাঁদেরই তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হবে এমন একটি অর্থনৈতিক জোন, যা দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরো উর্ধ্বমুখি করবে’। অর্থাৎ দেশের উৎপাদনশীল খাতে আলেম-ওলামাদের সংযুক্ত করার সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির কথা তিনি বলেছিলেন। আলেম সমাজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিনের লালিত যে অর্থনৈতিক দরিদ্রতা, সেখান থেকে তাদের মুক্ত করে আনতে সরকার অতিসম্প্রতি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছে, যাতে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখে দেশকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে সক্ষম হয়।

হেফাজতে ইসলাম নিজেদের একটা অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও তাদের কথাবার্তা নিঃসন্দেহে যে কোনও রাজনৈতিক দলের মতই রাজনৈতিক! ২০১৩ সালের ৫ মে তারা এই সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা অবরোধের ডাক দিয়ে ঢাকার শাপলাচত্ত্বরে অবস্থান নিয়েছিল। তখন তাদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিল বিএনপি এবং আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।

সরকারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার যে আল্টিমেটম তারা সেদিন দিয়েছিল, পেছন থেকে তার কলকাঠি নেড়েছিল জামায়াত-বিএনপি। ঐতিহাসিকভাবে কওমীদের দুশমন মওদুদীবাদী জামায়াত ইসলামও তখন হেফাজতে ইসলামের সাথে একাট্টা হয়েছিল। অথচ ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই হেফাজতে ইসলামই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল সমাবেশে সংবর্ধনা দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ‘দাওরায়ে হাদিসকে’ মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর পাশের চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন আত্মতৃপ্তিতে ভাসছিলেন কিনা জানি না, তবে তারপরের দিনই হেফাজতে ইসলামীর ২০১৩ সালের সেই ‘সরকার-হটানো’ দলটি আহমদ শফীকে বেঈমান আখ্যা দিয়ে এবং ‘শফীর’ হেফাজতের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তাদের সরকারবিরোধী অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনায় আসেননি হেফাজতে ইসলামের অত্যন্ত ক্ষমতাধর মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইতিমধ্যে সংগঠনটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমির তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা সুলতান জওক নদভী, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

তারা কেউই শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেননি। এতগুলো নেতার একসাথে এবং একই রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তত একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয় যে, হেফাজতে ইসলাম দ্বিবিভক্ত হয়ে হেফাজতে ইসলাম (শফি) ও হেফাজতে ইসলাম (বাবুনগরী) হিসেবে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠনের বাংলাদেশি শাখা। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবান ও আলকায়দার সাথে জঙ্গিবাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গী হয়েছে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে।

জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম ব্রাদারহুডের এক ও অভিন্ন দর্শন হচ্ছে, “ধর্মের নামে ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার জন্য যে কোনও ধরনের হত্যা, নির্যাতন ও সন্ত্রাস ইসলামসম্মত”। মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এমন একটি সন্ত্রাসী-জঙ্গী সংগঠন, যার বলয় মিসর পেরিয়ে প্রায় সারাবিশ্বেই বিস্তৃত। নামে ভিন্নতা থাকলেও আদর্শগত মিলের কারণে বিশ্বের তাবৎ জঙ্গী-মৌলবাদী দলগুলোর সাথেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের কথা আজ আর কারো অজানা নয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএস-এর সাথেও জামায়াতের যোগসাজসের আলামত পাওয়া গিয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম নামের ভূঁইফোড় যে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠনটি শাপলাচত্বরে লাখো মুসল্লিদের জড়ো করেছিল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য, তাদের মূল হোতা ছিলেন মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী, যার সাথে প্রত্যক্ষ এবং নীতিগত যোগাযোগ হয়েছিল মওদুদীবাদীদের জামায়াতে ইসলামের সাথে। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সেই সভার পেছনে প্রধান ইন্দনদাতা ও অর্থ-জোগানদাতা যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছিল, পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্ত এবং দেশি-বিদেশি রিপোর্টে আর গোপন থাকেনি।

এছাড়াও যখনই হেফাজতের প্রধান আহমদ শফী অসুস্থ হয়েছেন বা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে বা হাসপাতালে গিয়েছেন, মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী তার প্রতিটা সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন এবং ‘জামায়াতী সুরে ও শব্দে’ সরকারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য। দেশের বৃহত্তম কওমী মাদ্রাসাকেন্দ্রিক হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্তের কথা শোনা যাচ্ছিলো বেশকিছু দিন ধরেই, যা এই প্রথম জনসমক্ষে প্রকাশ পেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সেই সাথে ড. কামালের ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির হাত ধরে এবং জামায়াতের প্রত্যক্ষ্য সহযোগীতায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে হেফাজতের ‘বাবুনগরী’ অংশটি যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করবে, তা চলমান ‘ঐক্যফ্রন্টের’ বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ও তার দোসরদের চক্রান্ত নতুন কিছু নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বাংলাদেশি ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নদের’ দ্বারা তৈরি হয়েছে একধরনের রাজনৈতিক ‘ঐক্যফ্রন্ট’। তারা বাংলাদেশে অপরিচিত কেউ নয়। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফলতার সাথে লড়াই করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের ২০১৩ সালের ৫ মে তারিখের কার্যক্রম জঙ্গীবাদের সন্ত্রাস ছাড়া ভিন্ন কিছু ছিল না, যার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আছেন হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী এবং নেপথ্যে আছে সন্ত্রাসী জামায়াতে ইসলামী। হেফাজত একটা অরাজনৈতিক সংগঠন হয়েও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে ভাষায় কথা বলে আসছে এবং তাদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ হুমকি-ধামকিগুলো এতদিন ধরে শুনছি, তা একমাত্র তুলনা করা চলে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সাথেই।

সরকারের সাথে হেফাজতের একাংশের ভাল এবং অন্যাংশের বৈরী সম্পর্ক জনমনে একধরনের দ্বিধার সৃষ্টি করতে পারে, যা সাধারণের মনে ভীতির সঞ্চার করবে বলে আমি মনে করি। একই সংগঠনের একাংশের সাথে ভাল সম্পর্ক রেখে অন্য অংশকে দমন করাটা বাস্তবিক অর্থে অত্যন্ত দুরূহ কাজ। সেক্ষেত্রে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত জুনাইদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতিমালার প্রয়োগবিধিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন এবং শান্তিপূর্ণ রাখতে ঘোড়ার খোলসে লুকানো খচ্চর ‘ঐক্যফ্রন্ট’কে রাখতে হবে সন্দেহের সর্বাগ্রে। আমার বিশ্বাস, সরকারের এই নীতিমালায় জনগণের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে!

সাব্বির খানবিশ্লেষক, লেখক ও সাংবাদিক

Responses -- “ঐক্যফ্রন্টের থলেতে কালোবিড়াল!”

  1. Anwar A Khan

    An undecomposed analysis as the write-out is, I give my approval to the writer.

    The direful killing squad Jamaat-e-Islami (JeI) has been recognised under a veiled cover up as a member of this newly formed coalescence under Dr. Kamal Hossain’s leadership. Dr. Kamal’s political party, Gono Forum, has no anchor on the soil of Bangladesh. He is a solitary showcase. ASM Abdur Rob, the supreme leader of a bantam faction of a political party – JSD, one time a great revolutionary and contributed gigantically to the process of establishing Bangladesh in a bloody war in 1971 with the flagitious Pakistani military junta. He has now become a midget figure in the country’s political arena. Mahmudur Rahman Manna is a lone wolf in Bangladesh’s politics though once upon a time he was a famed student leader. Dr. Zafrullah Chowdhury is a veteran Freedom Fighter, physician, owner of Gono Shashtya Hospital and a noetic of BNP politics which has been surrounded by anti-Bangladesh liberation forces since its inception in the military cantonment. He is also a loner having no footmark in the country’s politics. Kader Siddiqui was fondly called as ‘Tiger Siddiqui’ because of his majuscule and heroic role during our glorified Liberation War of 1971, has bivouacked in JeI’s accompaniment long before. He has now further cross-filed his name in the newfangled bungled coalition and he has no no-parking zone in politics in the country.

    Hefazat is a religious trading house; and most of its senior and headstone leaders belong to JeI killing squad and another dreadful religious trading house.

    Those of us, who are now sexagenarian, can hark back those of days of our glorified Liberation War of 1971 to attain Bangladesh and many extolled movements during the pre-independence days which eventually culminated our war with the savage Pakistani rulers to acquire an independent and sovereign state for us; for our people.

    Dr. Kamal has fallen into an ambuscade by the anti-Bangladesh liberation forces and their mango-twigs wittingly or un-wittingly. Others are toenailing his faulting line of action to furtherance the defensive structure of anti-Bangladesh liberation forces.

    Thus these petite unrichly or unlagged and un-coloured shenanigans, as stated above, have started dallied (with money, muscle…from JeI louts) in the name of its alliance with the very foundation of Bangladesh which we achieved in 1971 after paying up a staggeringly heavy price.

    The rascality of these blackguards, especially, the JeI stumblebums and their mango-twigs must be smacked-down by the government machinery in a flush in public if they try to create any anarchy or lawlessness in the country before and after the National Polls.

    In short, the newly forged opposition political combine ahead of the national polls is not a fine line, at all. Instead, it will be a disconsolate line for Bangladesh and its people.

    Reply
  2. মুহা. কাওছার

    মিথ্যা বানোয়াট বিশ্লেষণ!
    হেফাজতে ইসলাম একটিই!
    মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ছাড়া কেউই পদত্যাগ করেননি।
    আর তিনি অনেক আগে পদত্যাগ করেছেন। আর আপনারা কিসের বিশ্লেষক যে, এটাই জানেন না শোকরানা মাহফিল হেফাজতের পক্ষ থেকে হয়নি।
    বরং আল হাইয়াতুল উলয়া ……… বোর্ডের পক্ষ থেকে হয়েছে।

    Reply
  3. ইকবাল জাফর

    অসংখ্য ভুলভাল তথ্য ও হাস্যকর মন্তব্যে ভরা এই লেখাটি । লেখক যে বিষয়ে লিখছেন সে বিষয়ে যদি পষ্ট ধারণা না থাকে তবে এমনটি হতে বাধ্য। যা দুঃখজনক ও হাস্যকর। বহু বহু উদাহরণ দেওয়া যাবে। কিন্তু সেই সময়ও নেই ও লেখার পরিসর এখনে নেই।

    #উদাহরণস্বরূপ একটা দেখাচ্ছি মাত্র। লেখক লিখেছেন—– “হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইতিমধ্যে সংগঠনটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমির তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা সুলতান জওক নদভী, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী।”

    >>> হাস্যকর বিষয়, মহিবুল্লাহ বাবুনগরী সারা কেউ পদত্যাগ করতেও চান এমনটিও জানাননি। তার ভিডিওটি দেখুন তিনি কী বলেছেন। তিনি জুনাইদ বাবুনগরীর আপন মামা। এদিকে মুফতি ইজহার তাকে তেমন মূল্যায়ন করা হচ্ছে না সেই সুরে হেফাজতের অতীত কর্মকাণ্ডে তার “বিশাল ভূমিকা” ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ‘শুকরানা মাহফিলের বিরোধিতা” করেছে মাত্র। জুনাইদ বাবুনগরীও শুকরানা মাহফিল বিরোধী ছিলেন। ###এখানে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে হেফাজত থেকে “পদত্যাগ করা” আর “শুকরানা মাহফিলের বিরোধিতা করা” এক বিষয় নয়। এবং শুকরানা মাহফিলটি হেজাফত আয়োজন করেনি। করেছে “আল হাই’আতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ” বা নব গঠিত কওমীদের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান।

    >>>> মূলতঃ বিএনপিজোটের সাথে যুক্ত ও বিএনপির সাথে অধিক সখ্য যে যে হেফাজত নেতারা (তারা একাধারে কওমী বোর্ড নেতাও) “শুকরানা মাহফিলে”র বিরোধিতা করেছেন বা যাননি। এর পেছনে জামাতের ইন্ধন তো কম বেশী থাকতেই পারে। তবে তা সরাসরি নয়, মুখোশধারীদের মাধ্যমেই তা কেবল সম্ভব।

    ###উল্লেখ্য, বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষতঃ কয়েকজন জমিয়ত নেতা স্বপ্ন দেখছেন বিএনপিজোটের মাধ্যমে তারা মনোনয়ন পাবেন। এবং তারা ১ মাস আগে থেকেই পোষ্টার লিফলেট বানিয়েও তার তার এলাকায় নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছেন। সেই সব জমিয়ত নেতার জন্য্য জমিয়ত (এক অংশ) এই শুকরানা মাহফিল বর্জন করেছে। যা মূলতঃ রাজনৈতিক স্বার্থগত…। যে গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

    >>> এদিকে আল্লামা সুলতান জওক নদভীর নামও ওখানে লেখক দিয়েছেন। তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে আসতে না পারলেও তার লিখিত বক্তব্য পাঠান, যা শুকরানা মাহফিলে পাঠ করেন তাঁর প্রতিনিধিত্বকারী আরেক কওমী আলেম।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—