সমস্যায় সমস্যায় জাতির মন মগজ কণ্টকিত, মাথায় আর কিছু নেবার জায়গা নেই। কিন্তু এ সমস্যাটাও কম জরুরী নয়। একাত্তরের পঁচিশে মার্চের পর পাকিস্তানী আর্মি শহীদ মিনারে সাইনবোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছিল, “মসজিদ”। মতলব, ওরা ওখানে মসজিদ বানাবে যাতে আমরা শহীদ দিবসে ওখানে ফুল না দিতে পারি, “আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো” গাইতে না পারি, শহীদ মিনার যেন আমাদের জাতীয় চেতনার মেরুদণ্ড ও সাংস্কৃতিক তীর্থকেন্দ্রের চরিত্র হারায়।

ষড়যন্ত্রের ফসল সে মসজিদ উড়ে গেছে কালের হাওয়ায়।

বেশ কবছর আগে ঢাকার বন্ধু ফোনে বলল এক কোটি-কোটিপতির ছয়তালা দালান জুড়ে সুবিশাল গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী। হঠাৎ একদিন মালিক হনহন করে এসে হেঁকে বলল দেশ গোল্লায় গেছে কারণ মানুষ নামাজ পড়ছে না। তাই সে পাঁচতালায় বানিয়েছে মসজিদ, দেখাশোনা ও ইমামতির জন্য এক ইমামকে চাকরী দেয়া হয়েছে। সবাইকে নামাজ পড়তে হবে, নামাজের সময়টা ব্রেক টাইমের বাইরে এক্সট্রা, সে সময়ের বেতন কাটা হবেনা। কোন মুসলমান নামাজ না পড়লে সটান চাকরী নট। ধন্য ধন্য পড়ে গেছে সারা কোম্পানীতে। বললাম-“ভালই তো করেছে”। বন্ধু হেসে বলল, “ব্যাটা কতবড় ধান্ধাবাজ তুমি জানো না। দালানের অনুমতি ছিল চারতালা, করেছে ছয়তালা। রাজউক কিভাবে সেটা টের পেয়েছে, ইন্সপেকশন হবে শিগগিরই। তাই পাঁচ তালায় করেছে মসজিদ যাতে রাজউক মসজিদ ভাঙার সাহস না পায়, দালানটা বেঁচে যায়”।

ষড়যন্ত্রের ফসল এ মসজিদও উড়ে গেছে কালের হাওয়ায়।

কোরানে উল্লেখিত মসজিদগুলোর একটা হল মদীনার কোবা এলাকার জারার মসজিদ। ভেতর থেকে মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য খ্রীষ্টান পাদ্রী আবু আমীর-এর উস্কানিতে কিছু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণের ভান করে ওই মসজিদ বানায়। ওখানে ওরা নামাজ পড়ত ও ফিতনা অশান্তি সৃষ্টি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহিঃশত্রুর আক্রমণ ইত্যাদি নানারকম ষড়যন্ত্র করত। মসজিদটাকে আরো বৈধ করার জন্য ওরা নবীজীকে (স)অনুরোধ করে তিনি যেন সেখানে অন্তত: এক ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি করেন। নবীজী (স) তখন তাবুক অভিযানে ব্যস্ত, বললেন পরে করবেন। তাবুক থেকে ফেরার পথে তাঁকে সতর্ক করে সুরা তওবা আয়াত ১০৭ আয়াত নাজিল হল:-

“আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফর ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা কেবল ভালো চেয়েছি; আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী”।

নবীজী (স) সাহাবীদের আদেশ দিলেন -“যাও, ওই মসজিদকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে এসো”। সাহাবীরা ওটাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে এলেন। যুক্তিসংগত ভাবেই বলা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান বা অনুষ্ঠান ইসলামের নামে হলেও সেখান থেকে জেনে বা না জেনে অশান্তি, ফিৎনা, ঘৃণা ছড়ানো হলে সেটা ইসলামী হতে পারেনা, সেটা জারার মসজিদের মতোই অবৈধ।

দেশে অজস্র ওয়াজ মাহফিল হয় যার প্রভাব জনগণের ওপর ব্যাপক। জাতির ও মওলানাদের মাইন্ডসেট বুঝবার জন্য সেগুলো দেখার ও বিশ্লেষণ করার দরকার আছে। কিছু ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের বিভিন্ন আঙ্গিক বা একই বিষয়ে বিভিন্ন আলেমের ভিন্ন মতামত নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে উপভোগ্য ও শিক্ষামূলক আলোচনা হয়। আবার কিছু ওয়াজে শুনি কম্পিউটার, মোবাইল, বিমান, মাইক, ফেসবুক ইত্যাদি কোরান থেকে গবেষণা করে আবিষ্কার করা হয়েছে, কিংবা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আল্লাহ খুব চিন্তিত, কিংবা গতরাতে মোবাইলে আল্লাহ’র সাথে বক্তার কথা হয়েছে ইত্যাদি। এক মওলানা আবার জনতাকে মোবাইলে ধারণকৃত দোজখে অসংখ্য পাপীদের পুড়ে যাবার আর্ত চিৎকার শোনালেন, ওটা নাকি বিজ্ঞানীরা পাইপের সাথে ক্যামেরা লাগিয়ে সাইবেরিয়াতে মাটির অনেক গভীরে ঢুকিয়ে রেকর্ড করেছেন। আমরা যারা নববর্ষ পালন করি তাঁদের পরকাল নিয়ে আরেক মওলানা “অত্যধিক চিন্তিত”, সেজন্য তাঁকে অজস্র ধন্যবাদ। কোনো কোনো বক্তা আবার ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে গলার রগ ফুলিয়ে হুংকার-চিৎকার করে মৃগীরোগীর মতো হাত পা ছুঁড়তে থাকেন।

কিছু কিছু ওয়াজ মাহফিলে উগ্র ভাষায় অশান্তি, ফিৎনা, ঘৃণা এবং নারী-বিরোধিতা ছড়ানো হয় যাতে ইসলামের এক ভয়ংকর চেহারা ফুটে ওঠে। উদাহরণ দিচ্ছি ওয়াজে মাওলানার বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে, এর সাথে তাঁর দেহ ও মুখের হিংস্র ভঙ্গী যোগ করে নেবেন:-

“”আপনারা বাপ্ বেটিতে কি লজ্জা বেচে খেয়েছেন ? বিবাহের বাড়িতে নারীদের যেতে দেবেন না….. নারী জন্ম হওয়াই কলঙ্ক, কুলক্ষণ, অমঙ্গল। নারীর কোনো আত্মা নেই। নারীর জন্ম হয়েছে সেবার জন্য। স্বামী স্ত্রীকে বিক্রি করতে পারে। স্ত্রী হচ্ছে বাড়ির সম্পদ, জিনিসের মতো। নারী তার স্বামী নির্যাতন চালালেও অন্য কোথাও যেতে পারবে না, …… আপনি মারা গেছেন নাকি আপনার স্ত্রী বাজারে আসে পটল কিনতে? ছিঃছিঃছিঃ সারাদিন আপনার স্ত্রী ধাক্কা খেয়ে বেড়ায়, আপনি পুরুষ না অন্য কিছু। আপনি মানুষ না নিজেকে পশু মনে করেন? ……নিজেকে কি গরু ছাগল মনে করেন নাকি? আপনার স্ত্রী বাজারে আসলো কেন? ও হাট বাজার করার প্রয়োজন মনে করলো কেন? আপনি কি করেন, কাপুরুষ? লজ্জা হয় না, শরম হয়না, হায়া হয়না, ইতস্ততঃ হয়না? আপনার মতো কাপুরুষের কারণে আজকে সমাজ নষ্ট হয়েছে…… তুমি মাঠে গেলে জাহান্নামে যাবা, নষ্টা মেয়ে তুমি, সমকামী মেয়ে তুমি, নোংরা মেয়ে তুমি, বর্বর মেয়ে তুমি, অসভ্য মেয়ে তুমি, অশিক্ষিতা মেয়ে তুমি। তোমার নীতিকে কবর দিতে এসেছি তুমি মনে রেখো। তুমি বাজারে আসবে কেন? তোমার লজ্জা বোধ হয় না ? তোমার শরম বোধ হয় না? তোমার স্বামী কি মারা গেছে? তোমার বড় ছেলে কি মরেছে? তোমার কাজের লোক কি মরেছে? তুমি বাজারে এসেছো কেন? তুমি কেনো এইখানে””?? – উদ্ধৃতি শেষ।

ভয়াবহ ব্যাপার। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন বক্তৃতা নয় এটা এরকম বহু বক্তৃতার একটা মাত্র। এটাকে কোনোমতেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। ফেসবুকে যেখানে মতামতে পান থেকে চুন খসলেই সরকারের চুল পটাং করে খাড়া হয়ে যায় সেখানে এঁদের প্রতি সরকার নববধূর মতো ঘোমটা দিয়ে সলজ্জ নীরব। এইসব হুংকারী মাওলানারা অপ্রতিহত ভাবে অবাধ ও শর্তহীন বাক-স্বাধীনতা ভোগ করেন। তাঁদের সংখ্যা কম কিন্তু তাঁদের অনেক আবেগপ্রবণ ভক্ত আছে যারা বুঝতেও পারেনা অলক্ষ্যে অগোচরে তাদের রক্তে ইসলামের নামে ঘৃণা ও হিংস্রতা ঢোকানো হচ্ছে। চিন্তা চেতনায় হিংস্রতা একবার ঢুকে গেলে সেটা বের করা প্রায় অসম্ভব এবং সেটা কোনো বিশেষ বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনা, সেটা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। আমাদের প্রতিটি জঙ্গী কোনো না কোনো উগ্র মওলানার অপদর্শনে দীক্ষিত।

বিশ্বের অনেক দেশে পঙ্কিল রাজনীতি ক্ষমতালিপ্সায় সাফল্যের সাথে হিংস্র ধর্মগুরুদেরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রক্ষা ও সহায়তা করে থাকে। কিন্তু সব সরকারই এমন নয়। সম্প্রতি অষ্ট্রিয়া এরকম (সব মসজিদ নয়, সব ইমামও নয়) ঘৃণা প্রচারকারী ৭টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে, দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে ৬০ জন মওলানাকে। পিছিয়ে নেই সৌদি ও আমিরাত সরকারও। কোন বিধর্মী সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইন পাশ করেছে আমিরাত (ক্যানাডার প্রাচীনতম সাপ্তাহিক “দেশে বিদেশে” -০৭-২১-২০১৫) এবং সৌদি আরবে “ইমামেরা রাজনীতি-সম্পৃক্ত খোৎবা দিতে পারবেন না” – (আরব নিউজ রিপোর্ট – ও এশিয়া নিউজ ০১/০৪/২০১৪)।

অনেকে বলেন – “ওরা যদি পারে তাহলে আমরা কেন নয়? কোরান তো বলেইছে ফিৎনা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ” – বাকারা ১৯১। দেশে এমন আইন তো আছেই, সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে সে আইন কঠিন ভাবে প্রয়োগ করে ফিৎনা সৃষ্টিকারী এইসব হুংকারী মাওলানাদের কঠিন ভাবে দমন করা এবং সেটা এখনই। সেটা কখনোই হয়নি, সরকারগুলো ভয় পায় বলেই এটা এতো বেড়েছে”। আমি কিঞ্চিৎ দ্বিমত পোষণ করি। সমস্যার চরিত্র অনুযায়ীই সমাধান বের করতে হয়, নইলে আরো সমস্যার জন্ম হয়। যেমন, একাত্তরের আগে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে আমাদের সমস্যাটা ছিল রাজনৈতিক অর্থনৈতিক। সে সমস্যার রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সমাধান বের করার মেধা সৈন্যদের থাকার কথা নয়, ছিলও না। পাকিস্তান সরকার সেই রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সমস্যাটার সামরিক সমাধান প্রয়োগ করার ফলে কোটি মানুষের জীবন ও শান্তি ধ্বংস হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে পাকিস্তান নিজেও।

ধর্মীয় অনাচার শুধুমাত্র আইন করে দূর করা যায়না। উত্তর আফ্রিকায় নারীর মুসলমানী বা খৎনা করার মতো বর্বর প্রথা ইসলামের নামে জাঁকিয়ে আছে হাজার বছর, বেশ কয়েকটা দেশ এর বিরুদ্ধে আইন করেছে কিন্তু কিচ্ছু লাভ হয়নি। বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক তালাকের বিরুদ্ধে আইন আছে (যেটাতে হিল্লার নামে মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করা হয়)। মিডিয়ার খবরে আসেনা কিন্তু গ্রামগঞ্জে ওটা কমবেশী চলছেই। আমাদের গ্রামভিত্তিক তৃণমূল আন্দোলনের কর্মীরা গত এক বছরে ছয়টা হিল্লা বন্ধ করতে পেরেছে। তার মধ্যে চারটে বন্ধ হয়েছে ওই ফতোয়া প্রদানকারী মওলানাকে দলিল দিয়ে বোঝানোর পর, তাঁরা নিজেরাই তাঁদের ফতোয়া ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঐসব গ্রামে আর কোনোদিন ইসলামের নামে এসব অনাচার হবেনা, অন্তত: ছজন মুসলিম নারী ধর্ষণ থেকে বেঁচে গেছেন। নীরব বিপ্লব নয় এটা? ঢাকার রাজনীতি, মিডিয়া ও সুশীল সমাজের হুলুস্থূল ঢক্কানিনাদ থেকে বহু দূরে গত সাত-আট বছর ধরে রোম্যান্টিক মুভি’র মাধ্যমে ইসলামী দলিল দেখিয়ে গ্রামবাসীদেরকে শিক্ষিত করা হচ্ছে, নীরব বিপ্লব ঘটছে দেশের গ্রামে গ্রামে।

কিন্তু সমস্যাটা যেহেতু ধর্মীয়-সামাজিক, তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এটার ধর্মীয়-সামাজিক সমাধানের বিকল্প নেই। এখানেই চলে আসে শান্ত ও প্রাজ্ঞ আলেমদের ভূমিকা। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উগ্র মওলানাদের নিন্দা ও প্রতিরোধ কেন করেন না জানিনা। কিন্তু করলে তাঁরা ব্যাপক জনসমর্থন বিশেষ করে নারীদের সমর্থন পাবেন এবং উগ্র মওলানারা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। তাতে সরকারের পক্ষেও আইন প্রয়োগ করা সহজ হবে।

দেশে পঞ্চাশ বছর আগেও আমাদের ইমাম চাচারা ছিলেন হাস্যমুখ স্নেহপ্রবণ। তাই সব ধর্মের মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা করত। বাংলাদেশের শুভশক্তি এখন এই হুংকারী মওলানাদের চাপের মধ্যে পড়ে গেছে। এমনিতে আলেমের বিরুদ্ধে আলেমে ভরে আছে মুসলিম ইতিহাস। ইমাম বোখারী আবু হানিফা শাফি থেকে শুরু করে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী এমনকি বর্তমান মওলানারা পর্য্যন্ত হেন আলেম পাওয়া কঠিন যাঁর বিরুদ্ধে কোনো না কোনো আলেম দাঁড়ান নি। কোরান সৃষ্ট না অসৃষ্ট, আল্লাহ’র হাত পা আছে কিনা, নবীজির (স) মেরাজ শারীরিক হয়েছিল নাকি রূহানী, তাঁর শরীরে মশা মাছি বসত কিনা, তিনি সামনে পেছনে চতুর্দিকে দেখতে পেতেন কিনা ইত্যাদি হাজারো বিষয় যেগুলোর প্রভাব সমাজে কম সেগুলো নিয়ে তাঁরা পরস্পরের বিরোধিতা, সমালোচনা, অপমান করেছেন করছেন। কিন্তু সমাজে হিংস্রতা প্রচারের সমস্যাটা ওগুলোর চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতিকর।

পরস্পরের প্রতি ঘৃণায় ঘৃণায় জাতি আজ ক্ষতবিক্ষত। মানুষের পরিচিতি আজ মানুষ নয়, পরিচিতি হল কার গায়ে কোন দলের স্ট্যাম্প মারা আছে সেটা। অভিধানের বাইরে মূল্যবোধ খুঁজে পাওয়া যায়না। বিরোধের সমাধান আলাপ আলোচনা বিতর্কে সমঝোতায় নয়, বিরোধের একমাত্র সমাধান হলো কতল। এই কালনাগ ক্রমাগত ছোবল দিয়ে চলেছে। জাতির আজ সবচেয়ে বড় দরকার হেদায়েত। আমাদের শত সংকটের সর্বপ্রধান হল মূল্যবোধের সংকট। দায়িত্বটা শিক্ষক রাজনীতিবিদ সাহিত্যিক ব্যবসায়ী সাংবাদিক সুশীল সমাজ সবারই, কিন্তু দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশী ধর্মগুরুদেরই। তাঁদের প্রতি ইসলামের আর্ত আহ্বান জানিয়ে শেষ করছি, আর আমাদের ঘৃণায় ঘৃণায় ক্ষত বিক্ষত বিভক্ত করবেন না – আমাদের হেদায়েত দিন, মূল্যবোধের আহ্বান করুন।

ওটাই ইসলাম।

হাসান মাহমুদওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য, মুসলিমস রিফর্ম মুভমেন্ট ও আমেরিকান ইসলামিক লিডারশিপ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

২৫ Responses -- “হুংকারী মওলানা ও জারার মসজিদ….”

  1. Qudrate Khoda

    অতি যুক্তিযুক্ত, সাবলীল ও সাহসী লেখা।
    বাংলাদেশে হুঙ্কারী মৌলবি, ধর্মান্ধ উগ্রবাদী হুজুরদের দোর্দণ্ড প্রতাপের কথা সবাই জানেন, কিন্তু এই বিষয়ে ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।

    বাংলাদেশের মত নিরক্ষর ও অল্প শিক্ষিতের দেশে এই ধরণের কুশিক্ষার প্রভাব ভয়াবহ। উন্নতির জন্য বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই এ কথা মুখে বলেন নেতা ও আমলারা কিন্তু তা বিশ্বাস করেন কিনা সন্দেহ।

    সরকার ও সমাজ এসব হিংসা, মিথ্যা, কুসংস্কার প্রচারকারী মওলানাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নিলে প্রকৃত ইসলাম নয়, বিকৃত ইসলাম সমাজে ইয়াবার মত ছড়িয়ে পরবে। শান্তির নয়, সন্ত্রাসের ধর্ম হিসেবে পরিচিত হবে ইসলাম। যার আলামত আমরা পৃথিবীজুড়ে দেখতে পাচ্ছি বর্তমানে।

    দেশে বিদেশে এখন বেশি করে হাসান মাহমুদের মতো সাহসী ও আলোকিত মানুষ চাই।

    Reply
  2. তালহা শহীদ

    নারী বিষয়ে ইসলাম যে বিধান দিয়েছে সেটা মানলে কোন সমস্যা হবে না। কিছু কাঠমোল্লা যেমন ধর্মের দোহাই দিয়ে সন্মানবোধ লাভ করে, পেট চালায় অন্যদিকে কিছু সুশীল, বুদ্ধিজীবি আর বিজ্ঞান মনস্ক জেন্টালম্যানও মানুষকে উদার নাস্তিকতার শুড়শুড়ি দেয়। ওই ফ্রিডম আর ঘৃণিত উদারতার চেয়ে ধর্মীয় ভীতি ভাল।

    Reply
  3. Ahmad

    Islam is the only Deen acceptable and does not need reform. People who demand themselves as Muslim need to learn Islam from Aleems and reform themselves to follow the right path. Mawlana means our guardians. Follow righteous guardians who know Allah Subhanahu Taala and Quran best.

    Reply
  4. তাজ আবদুল্লাহ্

    আমরা যদি সত্যিই প্রকৃত অর্থে ইসলামী জীবনাচার গ্রহণ করতে পারতাম তাহলে কোন হিংসা দ্বেষ থাকত না। জনাব হাসান মাহমুদ সাহেবদের এ ধরণের লেখারও অবতারণা হত না। ইসলামী জীবন ও মূল্যবোধের সংকটে পড়ে আজ আমাদের এ দূরবস্থা।

    Reply
  5. লতিফ

    ইসলামকে স্থান ও কালের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করতে এর ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার দরকার। কানাডার ইয়োলোনাইফের কথাই ধরা যাক, সেখানে এই গরমকালে রাতে সূর্য ডোবে না, ফলে ফজর, মাগরিব এবং এশা নামাজের ওয়াক্ত উপস্থিত হয় না। সেখানে রোজা হয় ২৪ ঘণ্টায়। ফলে সেখানকার মুসলমানেরা নিজস্ব নিয়ম করে নিয়েছে, তারা হাজার মাইল দক্ষিণে যে এডমণ্টন শহর, তার সময়সূচী মেনে নামাজ-রোজা পালন করছে। কাজেই সূর্য ডুবুক কি না ডুবুক, তাতে কি যায় আসে? মাথার উপরে সূর্য জ্বলজ্বল করলেও ইফতার সেহরি, ফজর, মাগরিব, এশা সব পালন করা হচ্ছে। কাঠমোল্লাদের এইসব জায়গায় পাঠানো দরকার।

    Reply
  6. মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান

    যেখানে পবিত্র কোরআনে “তালাক” ও “হিল্লা” বিয়ের ব্যাপারে সমাধান রয়েছে এর জন্য কোন ঈমাম ও উদারপন্থী মুসলিম নামধারী শয়তানের কথার কোন ভিত্তি নাই! যে ব্যক্তি মুসলিম তাকে অবশ্যই আল্লাহর কুরআনের বিধান মানতে হবে। তাছাড়া অন্য কোন পন্থা নাই এবং তারপরেও যদি তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সাথে থাকতে চায় তাকে অবশ্যই “হিল্লা” করে নিতে হতে!

    আল্লাহর তায়ালা বলেন, তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃêক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। (সুরা বাকারা – আয়াত ২৩০)

    ইসলামে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে উত্তম ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া আছে। কাল কেয়ামতের দিন স্বামী ও স্ত্রীর হিসাব নেওয়া হবে যে তারা একে অপরের হক বা দায়িত্বর খেয়ানত করেছে কি না!

    তাই মুসলিমদের স্বামীদের বা পুরুষের উচিত মিথ্যা উজুহাতে যেন নিজ স্ত্রীকে তালাক না দেয়। এখন দেখি নারীরাও নিজের স্বামীকে কোর্ট তালাক দেয়, যেটা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়! আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কিছু নিকৃষ্ট জিনিস হালাল করেছেন। “তালাক” তার মধ্যে একটা। তালাক আল্লাহও অপছন্দ করেন তারপরেও বান্দাদের জন্য জায়েজ করেছনে। তাই সাবধান নিজের স্ত্রীকে এমন বাক্য যেন শুনতে না হয়।

    এর পরেও যদি কেউ নিজের স্ত্রীর সাথে বসবাস করে সেটা জিনা বলে বিবেচিত হবে। এখন আল্লাহর আদেশ না মানলে আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে আপনাকে বাধা দিবে না, কিন্তু ইসলামে বিশ্বাসী হলে আল্লাহর বিধান মানতে হবে। না হলে কেয়ামতের দিন জাবাব দিতে হবে।

    Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        Worst for whom? – The stupid people like you who are unwilling to follow Islamic ideals and interested in maintaining an immoral life.

      • Shahab

        Mr. Rahad Islam…Salam.

        Please before making judgement, I would like to request you , please read the Holy Quran in the language you understand it. I believe then, your judgement would make difference…

      • Bongo-Raj

        Mr. R. Islam
        Islam isn’t worst, likely none of the religion in the world is worst; worst are the followers such as the one against whom you had reacted!!

    • Alhaj A.S.M. Wahidul Islam

      ইসলাম তালাককে নিকৃষ্ট জ্ঞান করে (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)। তবে বাধ্য হয়ে যদি তালাক দিতেই হয় তাহলে উভয়ই পক্ষের সালিসির পর ভেবে চিন্তে ভদ্রভাবে তালাক দিবে। স্ত্রীর প্রাপ্য যথাযথ আদায় করে দিবে। একসঙ্গে তিন তালাক বিদাত। প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের পর স্বামী স্ত্রী ইচ্ছা করলে মিলিত হতে পারে। এই মিলনের ফলে দেয়া তালাক বাতিল হয়ে যায়। তিন তহুরে (পবিত্র অবস্থায়) তিন তালাক দিতে হয়। একসঙ্গে হাজার বার তালাক উচ্চারণ করলেও তা এক তালাক হিসাবে গণ্য হবে। চুড়ান্ত তালাক হয়ে গেলে (তৃতীয় বার) স্বামী-স্ত্রী আর মিলিত হতে পারবে না। একে অপরকে বিবাহও করতে পারবে না। যতক্ষণ না ঐ স্ত্রীর অন্যত্র বিবাহ হয় এবং বিবাহের পর নুতন স্বামীর মৃত্যু হলে বা পুনরায় তালাক হয়ে গেলে পূর্ববর্তী স্বামী ঐ স্ত্রীকে আবার বিবাহ করতে পারে। এখান থেকেই হিলা বিবাহের উৎপত্তি।

      উত্তেজনার বশে বা অন্য কোন কারণে যদি স্বামী-স্ত্রীকে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে পরিত্যাগ করে, তাহলে মাওলানাদের মতে তা তালাক বায়েন হয়ে যায়। অথচ কোরআনের মতে তা তালাক হয় না। এই তালাকের পর স্বামীর রাগ কমলে, মাথা ঠান্ডা হলে, বাচ্চাদের কান্নাকাটির ফলে যখন আবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায় তখন মৌলভীরা একটি কৌশল বাতলিয়ে দেন। এই কৌশল বা অপকৌশলকে আরবীতে ’হিলা’ বলে। এক রাতের জন্য কোন এক ব্যক্তির সঙ্গে এই তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে দেয়া হয়। ওরা এক রাত একত্রে বাস করে। সহবাস করা বাধ্যতামূলক বলে ফতোয়া দেয়া হয়। পর দিন ঐ এক রাতের স্বামী (?) তালাক দেয় (একসঙ্গে তিনবার)। অত:পর মেয়াদ বা ইদ্দত অতিক্রান্ত হলে পূর্ববর্তী স্বামী ফিরে পায় তার হারানো স্ত্রীকে। এহেন বিবাহ ইসলাম সমর্থন করে না। এটি একটি বেহায়াপনা। এর তুলনা একমাত্র মোতা বা সাময়িক বা অল্প স্থায়ী বিবাহ এবং হিন্দু আর্য সমাজীদের নিয়োগ প্রথার সঙ্গেই হতে পারে। নিয়োগ হলো স্ত্রীর গর্ভে সন্তান উৎপাদনের জন্য কোন পুরুষকে নিয়োগ করা। সন্তান উৎপাদনে অক্ষম পুরুষ এইভাবে নিয়োগের মাধ্যমে সন্তানের পিতা হয়ে থাকে। এই সন্তানকে বলা হয় ’ক্ষেত্রজ’ সন্তান। এ ব্যাপারে স্বামী দয়ানন্দের ’সত্যার্থ প্রকাশ’ গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে।

      একটি হিলা কাহিনী

      ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রী-কে তিন তালাক দিয়ে ফেলে। ঘরের বাহিরের মানুষ শুনে ইমাম সাহেবকে বলে। ইমাম সাহেব মেয়ের বাবাকে ডেকে বলে, আপনার মেয়ের তালাক হয়ে গেছে। সর্বনাশ। মেয়ের বাবা ফজর আলীর বাড়ীতে কান্নার রোল পড়ে গেল। ফজর আলীর মেয়ে সখিনা বেহুঁস হয়ে গেল। সখিনার স্বামী রুকন ইমাম সাহেবের পায়ে ধরে কাঁদতে লাগল, একটা ব্যবস্থা করে দিতে। ইমাম সাহেব বললেন, ব্যবস্থা একটাই। সখিনার বিয়ে হবে অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে। তারপর ঐ স্বামী তালাক দিলে ইদ্দতের পর রুকনের সাথে পুনরায় বিয়ে হতে পারে। রুকন চিন্তায় পড়ল। কার কাছে তার সুন্দরী বউকে বিয়ে দিবে? সখিনা সুন্দরী তাই বিয়ে করে যদি তালাক না দেয়। দেখতে দেখতে চার মাস চলে গেল রুকন দূর থেকে সখিনাকে দেখে, সমাজের ভয়ে কাছে যেতে পারে না।

      একদিন ইমাম সাহেব রুকনকে ডেকে বললেন, দেখ রুকন, আমি তোমার কষ্ট দেখে বলছি। আমি বয়স্ক মানুষ। দেশের বাড়ীতে আল্লার ফজলে আমার তিন বউ আছে। বাচ্চা কাচ্চাও আছে মাশাল্লা। আমার বিয়ের কোন প্রয়োজন নাই। তবে তোমার কষ্ট লাঘবের জন্য আমি সখিনাকে বিয়ে করতে পারি। অবশ্য তালাক দিয়ে দিব, যাতে তুমি আবার বিয়ে করতে পার। রুকন আর কোন পথ না দেখে এতে রাজি হয়ে গেল।

      ইমাম সাহেবের সাথে সখিনার বিয়ে হয়ে গেল। এশার নামাযের পর ইমাম সাহেব চোখে সুরমা দিয়ে আতর লাগিয়ে ফজর আলীর বাড়িতে গেলেন রাত্রী যাপনের জন্য। সখিনা আর ইমাম সাহেবকে এক ঘরে দেয়া হলো। সখিনা বলল, হুজুর আপনি আমার বাবার মত। বাধা দিয়ে ইমাম সাহেব বললেন, ’তৌবা তৌবা, আমি তোমার স্বামী। ইমাম সাহেব বহু বুঝানো সত্বেও সুন্দরী সখিনাকে স্ত্রী ধর্ম পালনে রাজি করাতে পারলেন না।

      ফজরের নামাজের পর ইমাম সাহেব ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে চলে গেলেন। সখিনার স্বামী রুকন সারারাত ঘুমায়নি, সখিনাদের বাড়ীর আশে পাশে পায়চারি করে কাটিয়েছে সারারাত। ফজরের নামাযের পর রুকন সখিনার বাপকে নিয়ে গেল ইমাম সাহেবের কাছে তালাক নেবার জন্য। ইমাম সাহেব বললেন সহবাস হয়নি তাই তালাক হবে না। সখিনার বাবা ফজর আলী এবং রুকন মহা ফেসাদে পড়ে গেল। দৌড়ে গেল পাশের গ্রামের ইমামের কাছে। এই ইমাম একজন বড় আলেম। ফতোয়া জানতে চাইলে ইমাম সাহেব বললেন, সহবাস হল বিয়ের অবিচ্ছেদ্দ বিষয়। আরবীতে একে বলে নিকাহ। সহবাস ছাড়া বিয়ে অসম্পূর্ণ। ফিরে এল শ্বশুর জামাই নিরাশ হয়ে। সুন্দরী সখিনাকে বহু কষ্টে বুঝানো হলো রাজি না হলে তালাক হবে না, রুকনকে ফিরে পাবে না। ইমাম সাহেব সখিনাকে নিয়ে রাত্রি যাপন করলেন। ফজরের আগে গোসল করে ইমাম সাহেব নামায পড়ালেন। এরপর ফজর আলী এবং স্বামী রুকন গেল তালাক আনতে। ইমাম সাহেব বললেন, ”তিন মাস দশ দিন দেখে তালাক দেব। কারণ সখিনার পেটে যদি বাচ্চা এসে থাকে তাহলে আমি আমার সন্তানের ভষ্যিৎ চিন্তা করে তালাক দিতে পারি না।”

      সখিনার খাওয়া দাওয়া নাই, শুধু কাঁদে আর কাঁদে। ইমাম সাহেবকে তাঁর বিষের মত লাগে। কিন্তু উপায় নাই। একদিন সকাল বেলা দেখা গেল সুন্দরী সখিনা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। দারোগা এসে লাশের সুরত হাল করলেন। ডায়রিতে লিখলেন, সখিনা স্বামী ইমাম সাহেবের নাম (কারী মুকশেদ আলী)। অর্থাৎ মরণের পরও সখিনা তার প্রক্তন স্বামী রুকন-এর স্বীকৃতি পায়নি। রুকনও তাঁর স্ত্রী সখিনাকে আর ফেরত পায়নি।

      Reply
      • Bongo-Raj

        Mr W. Islam
        TALAK related HILA ideology is bullshit in this time of mankind. Lots of other points are also same.
        Definitely if Quran is revealed in this time of mankind, GOD himself might had changed lots of points in the current Holy Quran

  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    Dear Mr. Hasan (Not the writer), Do you feel restricted of illicit advantages due to crude Islamic rules and regulations? Shame on you. A true Muslim cannot expect those.

    Reply
  8. John shaw

    রাজ্জাক সাহেবের ওয়াজ শুনে মনে হয়েছে, উনি অনেক ভাল মানুষ চিনতে পারেন।
    ওনার ওয়াজ যারা শুনতে যান সবাই কাপুরুষ। আর তাই উনি এখনো ওয়াজ করতে পারছেন।

    Reply
  9. মোঃ শামীম মিয়া

    “আমাদের শত সংকটের সর্বপ্রধান হল মূল্যবোধের সংকট। দায়িত্বটা শিক্ষক রাজনীতিবিদ সাহিত্যিক ব্যবসায়ী সাংবাদিক সুশীল সমাজ সবারই, কিন্তু দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশী ধর্মগুরুদেরই”। আমি এই কথার সাথে একমত কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যবোধ উন্নত করার সুযোগ কম। সিলেবাসের ৯০ভাগ বিষয় ধর্মীয় বিষয়ের বাইরে। ফলে ছোটবেলা থেকে এই ৯০ভাগের দাপটে তার মূল্যবোধ বিকশিত হতে পারে না। ধর্মগুরুদের আগে আমাদের শিশুদের মগজকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নাচ,গান বা অন্য কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়।

    Reply
  10. সরকার জাবেদ ইকবাল

    (প্রাজ্ঞ এবং বিজ্ঞ আলেম সমাজের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি) কিছু কিছু ইমাম সাহেব আছেন যাদেরকে আমার কাছে ‘Crazy’ বা ‘Perverted’ বলে মনে হয়। নারী-সম্ভোগের সুযোগ-বঞ্চিত এইসব ইমাম সাহেবগণ তাদের অতৃপ্ত বাসনা থেকে উদ্ভূত ক্রোধের বহিপ্রকাশ হিসেবে নারীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে থাকেন বলে আমার ধারণা। একটি উদাহরণ দিচ্ছি, – জুম্মার নামাজের আগে বয়ানে একজন ইমাম সাহেব নারীর শ্লীলতাহানীর যৌক্তিকতার পক্ষে মন্তব্য করতে গিয়ে বলছেন, “রাস্তায় ফ্যান ছিটাইয়া থুইলে কুত্তায়তো চাটবোই।” এটাকে কি বলবেন?

    দয়া করে আমার এই মন্তব্যকে কেউ পর্দাহীনতা বা নগ্নতার প্রতি আমার সমর্থন বলে অপব্যাখ্যা করবেন না। নারীর সম্ভ্রম একটি পবিত্র আমানত। এর সুরক্ষায় নারী নিজের যেমন যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন তেমনি এর হেফাজত করাও আমাদের দায়িত্ব।

    Reply
    • jisu71

      Yes you r right. Dr. Hasan Mahmud is a good writer of this time. May Allah bless him. Ignorant people(traditional Mullahs) are destroying the beauty and cosmopolitan spirit of Islam. Islam is most scientific, logical and universal religion. Wonderful! I am a converted Muslim. How beautiful Islam is!.

      Reply
  11. Rasel

    ভাই, আপনি যে লেখাটা লিখলেন তা অবশ্যই সময় উপযোগী। সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া কিন্তু সরকার এসবের চেয়ে ভোটকে বড় করে দেখে তাই চুপচাপ বসে থাকে। আজকাল এমন কোন ব্যক্তি নেই যার মোবাইলে ওয়াজ না বাজে। কিন্তু এই ওয়াজ শুনে কেউ ভালোর দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয় না। প্রতিটি ওয়াজেই চিৎকার, চেচামেচি, উগ্রতা, রাজনৈতিক বক্তব্য, নারী বিমুখতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর অন্যান্য ধর্ম নিয়ে বিভৎস্য মন্তব্য ছাড়া তো ওয়াজ জমেই না। এতে সজোরে সমর্থন দেয় তার সাঙ্গপাঙ্গরা। কার ভালো লাগলো আর কার লাগলো না তা বিচার করার অবকাশ নেই। আমার মতে এরা ধর্মীয় সন্ত্রাসী (প্রায় ৬%) এবং এইসব গুটিকয়েক সন্ত্রাসী দেশটাকে একসময় হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রীস্টান, শিয়া-সুন্নি ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করার ছক কষে কোটি মানুষের প্রাণহানির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শুধুমাত্র সরকার এবং প্রশাসনকে তাদের পক্ষে পেলেই হল। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সরকারকে ভোটের হিসাব (ব্যক্তি স্বার্থ) বাদ দিয়ে জাতীয় স্বার্থের দিকে জোর দিতে হবে। আপনার এই লেখাটা পড়েও দেখবেন অনেকে বাজে মন্তব্য করবে। এই বাজে মন্তব্যকারীরা ঐ ৬% এরই অংশ। এদের কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই। এরা নিজেদের নিয়ম কানুন সচল রাখার জন্য যা করার তাই করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু রাষ্ট্র নীরব থাকতে পারে না।

    Reply
  12. Hasan Mahmud

    আমাদের জঙ্গীবাদ-বিরোধী গ্রামভিত্তিক তৃণমূল আন্দোলনের হাতিয়ার বাংলা মুভি দুটো দেখতে হলে গুগল সার্চ করুন “Divine Stone মুভি” ও “Hilla – Silent Genocide” – ধন্যবাদ ও ঈদ মুবারক সবাইকে …… (দু:খিত – আগের লিংকদুটো ভুল ছিল)।

    Reply
  13. jisu71

    Dear brother Hasan Mahmud, Assalamu Alaikum Wa Rahmatullah. I always enjoy your writing. Thank u very much for this nice article. Pls write more and more intellectual article. The beautiful message of Islam should be spread all over the world again through true dawah as you r doing. Thank agai.

    Reply
    • Bongo-Raj

      There are poor fellows who doesn’t have the capacity to understand scholaristic article but run for making nonsense comment.

      These fellows get inspired by reading news like,
      “”Afghanistan Eid car bomb, claimed by Islamic State, kills 26″”.

      Reply
    • jisu71

      No, No. He is making us conscious against ignorance among the muslims and other people. Dr. Hasan Mahmud is a good writer of this time. May Allah bless him. Ignorant people(traditional Mullahs) are destroying the beauty and cosmopolitan spirit of Islam. Islam is most scientific, logical and universal religion. Wonderful! I am a converted Muslim. How beautiful Islam is!. Pls read the Glorious Quran and history of the human civilization and ups and downs of different nations of the world. Islam the religion of educated and intellectual people. Today in the whole world muslims are in problems due to ignorance and lack of education and research. Allah almighty says, “Iqra” that is “Read” means acquire knowledge…….

      Reply
    • M Gani

      Mr Hasan. You are surely nobody with any knowledge of Islam. The writer did not discredit Islam. He has written about the pretenders who are abusing the pulpits to spread anti-Islamic hatred. The idiot who says that a woman should not go to the market is a pure bugger who has no idea what the greatest of all Muslim women, the first person to embrace Islam, Bibi Khadizatul Qubra did. The idiot has no idea about Bibi Ayesha either. No where in th Quran or hadith is there a prohibition on women going to the market. MOdesty in dress does nto mean impriosnment in the house.
      Try to read and understand the Quran. Shame on all ignorant men like you.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—