মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মই ১৯৭১ সালের ঘটনা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানে। বাংলাদেশের অন্যসব পরিবারের মতো যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের পরিবারও আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনে এই ভূখন্ডের কোন পরিবারটি শোক, অনাহার, মৃত্যু বা রক্তক্ষরণের মুখোমুখি হয়নি? স্বাধীনতালাভের জন্য বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনটি ছিল বিশ্বের সব জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম। আর মুক্তিবাহিনীই আমাদের সেই জাগরণের গান শুনিয়েছিল।

১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর চলমান হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন সম্পর্কে আমার মা বলতেন, “বাতাসে আত্মবিশ্বাসের আভাস ছিল, আমরা জানতাম আমরা পারব। আর সবাই তখন জানতাম স্বাধীনতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

কিন্তু যুদ্ধ সম্পর্কে আমরা যতটা শুনেছিলাম, তেমনটা শুনিনি ধর্ষণের কাহিনীগুলো। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালেই প্রথম ধর্ষণকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

নতুন প্রজন্মকে যে যুদ্ধের গল্প শোনানো হচ্ছে তা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে নারী নির্যাতনের কাহিনীগুলো। যুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণ ও তাদের আত্মত্যাগের গল্পে ঠিকই আলোকপাত করা হচ্ছে কিন্তু ধর্ষণ, ক্যাম্পের কাহিনী বা যুদ্ধশিশুর গল্প চাপা পড়ে যাচ্ছে সচেতনভাবে।

কিন্তু আমরা সবাই জানি, যত চেষ্টাই করি না কেন ইতিহাস নতুন করে লিখতে পারব না। সত্য টিকে থাকবেই এবং কোনও না কোনও সময় তা প্রকাশিত হবেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বিশেষজ্ঞই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ও নারীবাদীরা সঠিক তথ্যের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাংলাদেশে যখন গেলাম, আমার এক চাচা আমার আগ্রহ দেখে আড়ালে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে যুদ্ধকালীন ধর্ষণের কিছু গল্প বললেন। তার গল্প শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্তূপীকৃত ধর্ষিতা নারীর লাশ, যারা শুয়ে আছে হয়তো কোনও সেতুর নিচে, কোনও এক গণকবরে। তাকে প্রশ্ন করি “কতজন নারী পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধর্ষিতা ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন?” চাচা গলার স্বর নিচু করে বললেন, “তুমি কল্পনাও করতে পারবে না, মা।”

কিন্ত এখন বাংলাদেশেরই একজন বিশেষজ্ঞ আমাদের সেই অজানা তথ্য জানাতে চান, তার নাম বিনা ডি’কস্তা। তিনি ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ফেডারেশন (আইপিপিএফ) ও জাতিসংঘের আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক জিওফ্রে ডেভিসকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে গর্ভপাত ও যুদ্ধশিশু জন্মদানের ক্ষেত্রে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি সাময়িকীতে ডা. ডেভিসের সঙ্গে ডি কস্তার কথোপকথনটি প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এটি সবচেয়ে মূল্যবান প্রকাশনা বলা যায়। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব নির্যাতনের কাহিনী- গাছের সঙ্গে বেঁধে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনা, নারীর দেহে অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা, ধর্ষণের পর গণকবরে পুঁতে ফেলা, পাকিস্তানের ধর্ষণ ক্যাম্পে আটকে রাখা ইত্যাদি নানা খুঁটিনাটি বিষয়।

 

Birangona - 111

 

ডেভিসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাধারণত বলা হয় ২ থেকে ৪ লাখ নারী ধর্ষিত হয়েছিল, এই সংখ্যাটি কি ঠিক? জবাবে ডা. ডেভিস বলেন, সঠিক সংখ্যাটি অজানা।

… যে বিপুল সংখ্যক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন সম্ভবত সে তুলনায় এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। তারা শহর দখল করত এভাবে। প্রথমে পাক সেনারা পদাতিক বাহিনীকে পেছনে রেখে অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীকে সামনে পাঠাত। তারা শহরের স্কুল ও হাসপাতালগুলোতে গোলা নিক্ষেপ করত যেন সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আর সেই সুযোগে পাক পদাতিক বাহিনী শহরে ঢুকে নারীদের ওপর হামলে পড়ত। শিশু ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় সব নারীই নির্যাতনের শিকার হতেন। এরপর তাদের ধরে সেনা ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হত সাধারণ সেনাদের সম্ভোগের জন্য। তারা এমন কিছু গল্প শুনিয়েছেন যা মর্মবিদারক; কোনও কোনও নারী বারবার ধর্ষিত হয়েছেন, বারবার। অনেকেই ওইসব ক্যাম্পে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে তখন একটা ধোঁয়াশা ছিল। কেউ বিশ্বাস করতে পারত না এমন কিছু ঘটছে। কিন্তু প্রমাণ বলছে, হ্যাঁ, তাই ঘটেছে।

যুদ্ধশেষে শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ষিতা নারীদের সমাজে পুনর্বাসনের জন্য কীভাবে তাদের ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করেন সে কথা শুনিয়েছেন ডা. ডেভিস। কিন্তু সেই দৃষ্টিভঙ্গি সেভাবে কাজে লাগেনি। পকিস্তানি সেনাদের দ্বারা নির্যাতন ও গর্ভধারণের পর বাংলাদেশি ওই নারীরা সমাজের চোখে পুরোপুরি অস্পৃশ্য হয়ে যান। অনেকেই তাদের স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন, আত্মহত্যা করেছেন অথবা তারা নিজেরাই তাদের আধা-পাকিস্তানি শিশুদের হত্যা করেছেন। কেউ কেউ পাকিস্তানি ক্যাম্পে থাকার পর এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন যে তারা আর ঘরে ফিরতে চাননি, পাক সেনাদের অনুরোধ করেছেন যেন তাদের সঙ্গে করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমি প্রবন্ধটি পড়ার সময় এর অনলাইন সূত্রেও চোখ বুলিয়েছি। অনলাইনে এনবিসির একটি ভিডিওতে দেখলাম একটি আশ্রয় কেন্দ্রের দৃশ্য, পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে গর্ভধারণ করা অনেক নারী প্রসবের আগ পর্যন্ত যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে ব্যাপকভাবে নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ উঠলেই আমরা সাধারণত যুবতীদের কথা বুঝি, অনেক সময় মাত্র ১৩ বছরের কিশোরীও নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু ওই ভিডিও চিত্রটি আমাদের ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আবেগের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে হঠাৎ থেমে যাই, চেয়ারে হেলান দিয়ে ভাবতে থাকি, ‘আমি কী করছি?’ নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি, ‘হৃদয় খুঁড়ে এই বীভৎস ব্যাপারগুলো অনুভবের মানে কী?’

তখন বুঝতে পারি মনের ব্যথাটাই হৃদয় খোঁড়ার অর্থ। নির্যাতিত ওই নারীদের সহজভাবে আমাদের সমাজের অংশ করে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা কেন নিভৃতে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকবেন? যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বীভৎসতা সম্ভবত তারাই বহন করছেন। আমাদের উচিত তাদের খুঁজে বের করা, তাদের অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা।

হ্যাঁ, আমরা একটি রক্ষণশীল দেশ। হ্যাঁ, আমরা মুসলিমপ্রধান দেশ। হ্যাঁ, ১৯৭১ সালের সেই বেদনাদায়ক ও মর্মভেদী ঘটনাগুলোর দিকে ফিরে না তাকানোর জন্য আমাদের কাছে হাজারো অজুহাত আছে। কিন্তু এভাবে আমরা আমাদের ইতিহাসের এক বিস্তর অধ্যায় হারিয়ে ফেলছি। যেমনটি ডি’কস্তা বলেছেন, আমার সচেতনভাবে এক ‘ঐতিহাসিক ভ্রান্তি’তে ভুগছি।

যেহেতু এখনও বাংলাদেশে ওই নির্যাতিত নারীরা বেঁচে আছেন, তাই তাদের আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের সঠিক সম্মান দেখানো উচিত। অবশ্য স্বাধীনতার ৪০ বছর পর হলেও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ইস্যুটি উঠে এসেছে।

মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের নারী আন্দোলন কি পারবে আমাদের এই ঐতিহাসিক দায় থেকে নিজেদের মুক্ত করতে? আমরা যদি সত্যিই সামনে এগিয়ে যেতে চাই, তবে পেছন ফিরে তাকানো উচিত। ১৯৭১ সালে যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এখনও যারা বেঁচে আছেন তাদের সবার প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আমরা এই দায় থেকে মুক্ত হতে পারব।

[যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী হাফিংটন পোস্টে আনুশে হোসাইনের ব্লগে ২১ মে প্রকাশিত ‘১৯৭১ রেপস: বাংলাদেশ কান্ট হাইড স্টোরি’ শীর্ষক লেখাটির ভাষান্তর করেছেন– বিধান চন্দ্র সাহা]

আনুশে হোসেইনওয়াশিংটন-ভিত্তিক বাংলাদেশি সাংবাদিক ও মিডিয়া পারসোনালিটি

৪৯ Responses -- “মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষণ: ইতিহাস লুকিয়ে রাখা যায় না”

  1. asad

    আনেক অজানা বিষয় জানতে পারলাম। এরকম আরও লেখা চাই বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

    Reply
    • Badal Sikder

      একাত্তরে ধর্ষণের শিকার ছিল হয়তো ৫ লাখের উপর। একবার ওমরাহ করে মক্কা থেকে জেদ্দায় ফিরছিলাম। এক পাকি আমার কাছে মাফ চাইল। কেন? সে বলেছিল, একাত্তরে সে অনেক অন্যায় করেছে, ২০ বছরের বেশি সময় সে রাতে ঘুমায় না।

      আমি বলি, আমাদের অনেক মা-ও রাতে ঘুমাতে পারেন না।

      Reply
  2. momen

    আমরা সারাজীবন শুধু শুনেই গেলাম, ধর্ষিত নারীদের কথা কিন্তু শুনিনি, তাদের কীভাবে আর কতটা পুনর্বাসন করা হয়েছে…এই কষ্ট তারাই জানেন। আপনার লেখাটা পড়লাম। আপনি পরবাসে থাকেন, তাই দেশ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বীরাঙ্গনাদের যন্ত্রণা, কষ্ট, অবহেলা, স্বামী-সংসার-সন্তান এবং সমাজচ্যুত নারীদের সুবিচার প্রাপ্তির কথা বলছেন। কিন্তু আমরা এদেশের সচেতন সুনাগরিকরা কী করলাম এ মায়েদের জন্য ?

    আনুশে হোসাইন, ধন্যবাদ আপনাকে ।

    Reply
  3. সাত্তার হোসেন

    আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির ত্যাগ ও বীরত্বের গৌরবগাঁথা প্রকাশিত একদিন হবেই- দাবিটি খুবই বিজ্ঞানসম্মত, তাই লেখকের সঙ্গে আমি একমত। তবে আমাদের জাতিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা দর্শনবিরোধী তৎপরতা রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুব জরুরি।

    Reply
  4. kasem

    ‘৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। প্রতিটি বাঙালির একে সমর্থন করা উচিত।

    Reply
  5. Sohel

    ঘৃণা জানাবার ভাষা নেই। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে সে অনেক অনেক বছর আগে কিন্তু আজো অমরা ‘৭১ পাকি দালালদের বিচার করতে তো পারলামই না উপরোন্ত তথাকথিত কিছু নোংরা উচ্ছিষ্ট ক্ষমতালোভী নেতা নেত্রী ও কিছু চাটুকার বুদ্ধিজীবীরা মানবতাবিরোধী নরপশু রাজাকারদের রক্ষার নোংরা খেলায় মেতে আছে। শতকোটি ধিক জানাই সে সব কুলাঙ্গারদের। মহান আল্লাহ্ সে সকল নেতা নেত্রী ও চাটুকার বুদ্ধিজীবীদের হেদায়েত করুন। লেখিকা এবং অনুবাদককে ধন্যবাদ । একটি সময়োপযোগী লেখার জন্য ।

    Reply
  6. মোঃ মুজিবুর রহমান

    এভাবেই বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস একদিন আমাদের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে উম্মোচিত হবে। আর সেদিন বেশে দূরে নয় সেটা আমি বিশ্বাস করি, আসুন সবে মিলে বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রূত সম্পাদন করার জন্য সরকারকে বাধ্য করি।

    Reply
  7. বিশ্বজিৎ পুইস্তা

    আপনাকে ধন্যবাদ,
    আমি এক গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা স্বর্গীয় জ্যোতিষ চন্দ্র পুইস্তা। বাবার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনেছি। তাই ‌যুদ্ধাপরাধীদের বাংলার মাটিতে অবশ্যই বিচার হতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা নাই। নাই………….

    Reply
  8. ফারুক ওয়াহিদ, মুক্তিযোদ্ধা

    লেখাটি পড়ে মনে হল মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ করতে পারবে। এবং তারাই পারবে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ঘৃণ্যতম নরপশু পাকিস্তানি জাতির মুখোশ উন্মোচন করে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে। ধন্যবাদ লেখিকাকে এবং অনুবাদককে। সারা বিশ্বের কাছে পাকিস্তানি নারী ধর্ষক এবং যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা পকাশ করে জানিয়ে দিন- বিশেষ করে পাকিস্তানি নারিীদের কাছে- কারণ ৪১ বছরে তারা তাদের নরপশু পিতা/স্বামী/ছেলেদের অপকর্মের জন্য একটিবারের জন্যও কোনও প্রতিবাদ বা মানববন্ধন করেননি- বরং এই ধর্ষকদের তারা সাদরে বরণ করে নিয়ে এই ধর্ষণকে সমর্থন করেছেন এবং এর জন্য তারা গর্বিত।

    Reply
  9. abdulhaq

    আমরা পাকিস্তানিদের এখনও তেল দেই । বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাকিদের কাছে কম দামে বেচার পাঁয়তারা করি । আর তা দিয়ে সংসার চালাই । হায় পাকি । হায় পাকি ।

    আমাদের মা বোনদের বলব, বাংলাদেশে পাটের উৎপাদন না করে ধান, ভুট্টা, গম লাগান । আপনাদের সবাই একজোট হয়ে ঘরে রাখা পাটের বেসন বীজ চুলায় দিন । পুড়িয়ে দিন । বেশি না ২ বছর । দেখবেন হায়েনা রব্বানীরা কীভাবে শায়েস্তা হয় ।

    Reply
    • কিমরুল আলম সুমন

      মি. আব্দুল হক আপনি বলেছেনঃ “আমাদের মা বোনদের বলব, বাংলাদেশে পাটের উৎপাদন না করে ধান, ভুট্টা, গম লাগান । আপনাদের সবাই একজোট হয়ে ঘরে রাখা পাটের বেসন বীজ চুলায় দিন । পুড়িয়ে দিন । বেশি না ২ বছর । দেখবেন হায়েনা রব্বানীরা কীভাবে শায়েস্তা হয় ।”

      এ তো দেখছি মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার ব্যবস্থা। তবে পাকিস্তানি হায়েনাদের শায়েস্তা করা যেহেতু সহজভাবে সম্ভব নয় সেহেতু তাদের এ দশীয় দোসর ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আল-বদর ও আল-সামসদের সমূলে উৎখাত করতে পারলেই হানাদাররা ৫০% শায়েস্তা হয়ে যাবে। বাকি ৫০% আন্তর্জাতিকভাবে করতে হবে।

      Reply
      • abdulhaq

        জনাব কিমরুল আলম সুমন

        এটা সার্জারি নয় । হোমিও চিকিতসা । আমাদের পাটচাষীদের বেহাল দশা, অভাব আর পাটের ফড়িয়াদের দৌরাত্র‌্য দেখলে ও বুঝলে আপনি এ কথা বলতেন না ।

  10. Abdul kahhar

    বর্তমান বিশ্বে সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে পাকিস্থান একটি অশান্ত অস্থির দেশ। আমি মনি করি এটা তাদের ’৭১ এ বাংলাদেশিদের ওপর করা জুলুমের ফল।

    Reply
  11. Quazi

    রূপসী বাংলা হোটেলে গিয়েছিলাম আমার দশ বছরের মেয়েকে নিয়ে। ডেল পিসি ক্লিনিক দেখতে। ফিরে আসার সময় দেখলাম পাকিস্তানি ট্রেড শো চলছে উইন্টার গার্ডেনে। মেয়েকে বললাম, যাবে? সে আমাকে চমকে দিয়ে বলল, ‘পাকিস্তানের কোনও কিছু ভালো নয়।’
    আমি ঢাকার মানুষ। ঢাকাকে ভালোবাসি অন্তর থেকে। কিন্তু বিপিএলে ঢাকাকে সমর্থন করতে পারি না। আমার অনুরাধ আগামীতে যেন বিপিএলে কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার না খেলেন।

    আমরা কীভাবে বিপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটার বা আমাদের এখানে আয়োজিত ট্রেড শো-তে পাকিস্তানি পণ্য নিয়ে মেতে উঠি? ১৯৭১ এর অপারেশন সার্চলাইটের কথা ভুলে যাই?

    আমার দশ বছরের মেয়ে যদি ওদের ঘৃণা করতে পারে, তাহলে পাকিস্তানি কাপড় কিনতে বাঙালি তরুণীরা কেন লাইন দেবে কোনও ট্রেড শো-তে গিয়ে !!!!!

    Reply
    • ফারুক ওয়াহিদ

      “আমি ঢাকার মানুষ। ঢাকাকে ভালোবাসি অন্তর থেকে। কিন্তু বিপিএলে ঢাকাকে সমর্থন করতে পারি না। আমার অনুরাধ আগামীতে যেন বিপিএলে কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার না খেলেন।”
      চমৎকার যুক্তি। আত্মসমর্থণকারী নারী ধর্ষকদের বংশধরদের যেন বিপিএল-এ না নেওয়া হয়। ধন্যবাদ।

      Reply
  12. কাজী মাহবুব হাসান

    লেখাটি প্রথম পড়েছিলাম ব্লগার প্রবীর বিধানের ব্লগের একটি লিঙ্ক থেকে।

    বাংলাদেশ তার ইতিহাস ভুলে যায়নি, ইতিহাসকে ভোলানোর চেষ্টা করা হয়েছে; এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক। জর্জ অরওয়েল লিখেছিলেন, যারা অতীতকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যারা বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা অতীতকে নিয়ন্ত্রণ করে। ঠিক সেটাই হয়েছে, বার বার বর্তমানকে যারা নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা অতীতকে বিকৃত করেছে জাতির ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। ক্ষমতাসীন মানুষের দল যে যার মতো চশমা পরে দেখেছে, আসল সত্যগুলো আর জানা হয়নি। আর ক্ষমতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম তো আসলে, ভুলে যাওয়ার প্ররোচনার বিরুদ্ধে আমাদের মনে রাখার সংগ্রাম।

    নারীর ওপর যৌন নির্যাতন এখনও অব্যাহত আছে, কারন আমরা ব্যর্থ হয়েছি জাতি হিসাবে গড়ে উঠতে। আমার মনে হয়, লেখিকার যথেষ্ট পেশাগত যোগ্যতা ( যা তার ব্লগ থেকে জেনেছি) ছিল তার এই লেখায় কিছু প্রস্তাব দেবার জন্য, কীভাবে বিনা ডি কষ্টা’র সঠিকভাবে চিহ্নিত করা ঐতিহাসিক ভ্রান্তি আমরা কাটাতে পারি। আমার মনে তখন আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি হত। আপাতত লেখাটি শুধু আবেগ উস্কে দেবার জন্য। তরুন প্রজন্মকে এই বর্হুমুখী আবেগের ম্যাট্রিক্স থেকে বের হয়ে আসতে হবে, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার জন্য। আগের প্রজন্ম ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কাছে আর কিছু আশা করে লাভ নেই।

    Reply
    • আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      “আপাতত লেখাটি শুধু আবেগ উস্কে দেবার জন্য। তরুন প্রজন্মকে এই বর্হুমুখী আবেগের ম্যাট্রিক্স থেকে বের হয়ে আসতে হবে, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার জন্য। আগের প্রজন্ম ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কাছে আর কিছু আশা করে লাভ নেই।”

      পুরোপুরি একমত।

      Reply
  13. Antik

    আপনাদের মতো তরুণ-তরুণীরা যদি এক মাসে দশ দিনও ব্যয় করে এ ধরনের সামাজিক ব্লগে লেখালেখি করেন, তাহলে একাত্তরের অনেক অপ্রকাশিত ঘটনা জানতে পারব। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারব।

    Reply
  14. Md. Ruhul Amin

    আমি মুক্তিযুদ্ধ ও নারী নিয়ে বেশ কিছু বই পডেছি। আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে ড: এম এ হাসানের যুদ্ধ ও নারী বইটি। এটি মূলত ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি জানোয়ারদের দ্বারা অত্যাচারিত নারীদের সাক্ষ্যাৎকার। প্রশিকার সহায়তায় এটি করা হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি. প্রথমে কেউ মুখ খুলতে চায়নি, তারপর যখন তাদের বিচারের কথা বলা হয়েছে, সেই জানোযারদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে তখন তাঁরা তুলে ধরেছেন সেই বেদনার কাহিনী। অনেক মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছেন ৪০ বছর পর। ভাবা যায় কী কষ্ট জমা রেখেছেন তারা মনের মধ্যে। আমিও কেঁদেছি, বারবার থেমে গিয়েছি আর ভেবেছি জানোযারদের বিচার কি হবে না?

    Reply
  15. boka manus

    আপনার লেখাটা দারুণ । শুধুমাত্র আমার একান্ত একটি কথা, এখন যেসব ধর্ষন হচ্ছে তা ’৭১ এর চেয়ে কোনও অংশে কম নয়, কারণ ‘৭১ এ যা হযেছে তা আমাদের নিয়ন্ত্রন ছিল না। এর মানে কিন্তু আমি ’৭১এর ধর্ষণকে সমর্থন দিচ্ছি না। একদল হায়ানার নোংরা অধ্যায় আমরা ভুলতে চাই। প্রতিজ্ঞা করতে চাই সবাই মিলে আর যেন এই অধ্যায়ের সূচনা না হয়।

    Reply
  16. শাহ জালাল মুন্সী

    ধন্যবাদ আপনাকে।
    আমরা যারা নতুন প্রজন্মের, তারা আদৌ কি স্বাধীনতার সত্য ইতিহাসটা জানতে পেরেছি? আজ যারা দেশের নেতৃত্বে আছেন তারাও বিভিন্ন কায়দা-কৌশলে নিজেদের স্বার্থে সত্যটাকে গোপন করে যাচ্ছেন। কিন্তু সত্য কখনওই ঢেকে রাখা যায় না। আজ কেউ কি ভাবেন সেই বীরাঙ্গনাদের কথা? ১৯৭১সালে স্বাধীনতা-বিরোধীদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর কী যে নির্মম অত্যাচার করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আজও রাজনীতিবিদদের ছত্রচ্ছায়ায় বাংলার মাটিতে ঘাতক স্বাধীনতা-বিরোধীরা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। এটা বাঙালি জাতির জন্য অনেক বড় কলঙ্ক। এই স্বাধীনতা-বিরোধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে বীরাঙ্গনাদের দায় এবং জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক। আর স্বাধীনতা-বিরোধী এবং তাদের দোসরদের বাংলা থেকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

    Reply
  17. Asim

    ধন্যবাদ লেখিকাকে তার এমন সুন্দর লেখাটির জন্য কিন্তু আমি বিস্মিত! আজও কেন এর কোন বিচার হলো না ।

    Reply
  18. Banglar Damal Chele

    আমাদের কিছু দেশি বিশ্বাসঘাতক ইস্যুটাকে জটিল করে ফেলেছে। বীরাঙ্গনাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। পাকসেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটা করেছিল। এর ফলে এখনও, এত বছর পরেও আমরা দেখি কিছু লোক পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য লাফালাফি করে…..

    Reply
  19. মিজনুর রাহমান শিপন

    খুবই ভালো লাগল লেখাটি পড়ে। লেখককে আভিনন্দন একটি সময়োচিত ও যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ।

    Reply
  20. Hasanul Banna

    প্রথমে লেখক এবং অনুবাদককে ধন্যবাদ জানাই । একটা সময়োপযোগী লেখা। আমাদের যে মা-বোনরা দেশের জন্য ত্যাগ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। তবে লেখক নিজে লেখাটি প্রথমে ফর্বস ওয়ার্ল্ড উইথ আ ভিউ-তে প্রকাশ করেছেন। পরে হাফিংটন পোস্টে। তাকে ধন্যবাদ বিষয়টি আলোচনায় তুলে আনার জন্য।

    Reply
  21. দেবাশীস দাস

    প্রথমেই আমি আনুষে কে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি বিষয়ে লিখবার জন্য,প্রচন্ড রাগ আর ক্ষোভ মনে আসে ঐ সময়ে যারা আমাদের মায়েদের,বোনেদের উপর নিরবিচারে অন্যায় করেছিলো,পাকিস্তানিদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ এবং তা সম্পুর্ন ভাবে নিঃশর্ত ভাবে,আমার মনে হয় এবং বিশ্বাস করি সুধু এই যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আরো ব্যাপকভাবে গবেষণা হওয়া উচিত।

    Reply
  22. জামান

    আপনার এ অনুভবের সাথে আমিও একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমরা যারা ‘৭১ পরবর্তী প্রজন্ম তারা সত্যই অভাগা। দেশের ইতিহাস ভাগ হয়ে গেছে-একদল গৌরবের সেই ইতিহাসের একচ্ছত্র অধিপতি আরেক পক্ষ দেশবিরোধী শক্তির একান্ত সহযোগী। একপক্ষ ইতিহাস ফেরি করে বেড়ায় আর অপরপক্ষ ইতিহাস-ই মানেনা-প্রয়োজনের সময় বলে আমার নেতাই স্বাধীনতার ঘোষক আর অপ্রয়োজনে বলে ধুর কীসের স্বাধীনতা! যুদ্ধ তো হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। এমনও একজন বলে যে জিয়া তো বিশ্বাসঘাতক!! শপথ ভংগ করে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। জামাতের সঙ্গে থাকার মজাটা তারা পেতে শুরু করেছে মাত্র। এই অবস্থায় দেশের সেই বীরাঙ্গনাদের নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অহংকারের জায়গাটা সত্যই খুঁজে পাইনা।

    Reply
  23. কেশব কুমার শীল

    যে সব মা বোন আমাদের দেশের জন্য এত বড় আত্ম ত্যাগ করেছেন তাঁদের প্রতি প্রথমেই জানাই স্বনম্র শ্রদ্ধা। আমরা অনেকেই জানি পাকিস্তানিরা বাংলাদেশি রাজাকারদের সাহায্য নিয়েই এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমি চাই সে সব রাজাকারদের খুজেঁ বের করে তাদের প্রাপ্ত শাস্তি যেন তাদের দেয়া হয়। তা হলেই আমাদের সেই সব বীরাঙ্গনা মা বোনের আত্মা শান্তি পাবে। এত বড় একটি বিষয়কে আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাই আনুশে হোসাইন-কে।

    Reply
  24. আহমেদ তেপান্তর

    বিষয়টি আমার লেখালেখির ভাবনায় থাকলেও গুছিয়ে উঠতে পারিনি। দেশের সচেতন দাবি করা নাগরিক হিসেবে দোষ আমার। দায় সবার মতো আমারও। আনুশেকে ধন্যবাদ। সহজ বিষয় অমুল্য সম্পদের মতোই তুলে ধরেছেন। ভাবনাকে উসকে দিয়েছেন। আশা করছি এবার পারবো।

    Reply
  25. পথিক

    অথচ এই বর্বরদের সহযোগীদের বাঁচানোর জন্যে আমাদের প্রানপ্রিয় নেতারা নির্লজ্জ ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

    Reply
    • মাহমুদ হাসান

      যে নেতার (নেত্রীর) কথা বলছেন তিনি কি সত্যিই জানেন পাকবাহিনী ১৯৭১-এ কী কী করেছে? তিনি জেনেও গোলাম আযমসহ শিরোমণি রাজাকারদের ‘জীবন’ বাঁচানোর দায়িত্ব নিয়ে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তাই কি? আর না জানলে তার দায়িত্ব তাকেই নি্তে হবে। বেশিরভাগ পাকিস্তানিই জানে না কী বীভৎস হত্যাকান্ড আর ধর্ষণ-রাহাজানি করেছিলো তাদের সেনাবাহিনী আর কারা তাদের দোসর ছিলো। বিএনপির স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কারণেই নিযামী-মুজাহিদরা আমাদের পতাকার চরম অসম্মান করে এ দেশের মন্ত্রীত্বে ভূষিত হয়েছিলেন আর তাদের দল হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাবসা করে এ দেশে তাদের ঘাঁটি সুদৃঢ় করার সুযোগ পেয়েছিলো। আজ বিএনপির ব্যারিষ্টাররা কতো নির্লজ্জের ভুমিকায় কোর্টে গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের সাফাই গাইছেন আর জাতি তা দেখছে। আরো কত কী দেখবে কে জানে?

      Reply
    • জামান

      হ্যাঁ, তাই হচ্ছে। বিএনপি’র মতো একটা রাজনৈতিক শক্তি সত্যিই দরকার তবে এখনকার বিএনপি’র মতো করে নয়। এটা সঠিক পথ নয়। বিএনপি’র যেভাবেই জন্ম হোক না কেন, যাদের নিয়েই দলটি গঠিত হোক না কেন দেশের মানুষের কাছে দল হিসেবে তাদের একটা আবেদন আছে। মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে কিংবা স্বার্থের জন্য ব্যাবহার করে নয়, ওই সাধারণ মানুষের মূল্যায়নের দাম দিতে হবে। সাধারণ মানুষ না জানলেও বিএনপি কিন্তু ঠিকই জানে তারা দেশবিরোধী শক্তির পৃষ্ঠপোষক। তবে এর থেকে বের হবার রাস্তা বের করার মতো নেতা আর অবশিষ্ট নেই যারা ৭১ নিয়ে মস্করা করবে না, বীরাঙ্গনাদের যারা নিপীড়ন করেছে তাদের ক্ষমতায় নিয়ে যাবে না। আর আওয়ামী লীগ নিয়ে কিছু বলার নেই। বিএনপি স্বাধীনতার ইতিহাসের যৎকিঞ্চিত ভাগ নিয়ে সুবিধাভোগীর দল হলেও আওয়ামী লীগ হচ্ছে বন্যার জলে ডুবে যাওয়া গৃহে সন্তানকে পায়ের নিচে রেখে শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টায় রত স্বার্থপর মা।

      Reply
  26. Himu

    ম্যাম,

    একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে সাহসী কিছু লিখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদশের নারীদের যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তার জন্য আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কিন্তু দায় মুক্তির জন্য ন্যায়বচিার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে ঐ সময়ে নির্যাতিতা মা-বোনদের সংশ্লষ্টিতা প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তির প্রচেষ্টা যে আরও একটা দায়বদ্ধতার জন্ম দেবেনা সে বিষয়ে আমরা নিঃসন্দেহ নই বলেই আমার ধারণা।

    বাংলাদেশে বসবাসরত কেউ এই লিখাটা লিখলে আরও ভাল লাগত।

    Reply
  27. Zabid

    তাইত চিৎকার করে বলতে চাই এই বাংলার প্রতিটি মানুষকে … আমাদের ৭১ এর যুদ্ধটা ছিল মুক্তির যুদ্ধ, কিণ্ড প্রতিশোধের যুদ্ধটা এখনো বাকি…!!

    Reply
  28. আপন

    আমরা আসলে অনেক বদলে গেছি। যারা আমাদের উপর এত অত্যাচার করল আমরা তাদেরকে এখনও বুকে জড়িয়ে ধরতে যাই, ভুলে যাই আমাদের অতীত, আমাদের ইতিহাস।

    Reply
  29. এক্সক্সক্সক্সক্স

    মুক্তুচিন্তার জন্য স্বাগত। কিন্তু বাংলাদেশ বা নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার পারিকল্পনা এবং নির্দেশনা। লেখিকার কলম থেকে পথনির্দেশক লেখা আশা করছি। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে বীরাঙ্গনাদের সম্মান দিতে হবে।
    ধনবাদ।

    Reply
  30. Khan Abdul Muhib

    অবশ্যই আমাদের সেই মায়েদের সম্মান জানাতে হবে যারা স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। আমাদের বীরাঙ্গনা মায়েদের স্যালুট জানাই।

    Reply
  31. সৌমিত্র

    এই ঘটনাগুলোকে স্রেফ ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে পার পাওয়ার চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে!

    Reply
  32. শফিকুল ইসলাম কাজল

    আপনার লেখাটা পড়লাম। আপনি পরবাসে থাকেন, তাই দেশ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বীরাঙ্গণাদের যন্ত্রণা, কষ্ট, অবহেলা, স্বামী সংসার সন্তান এবং সমাজচ্যুত নারীদের সুবিচার প্রাপ্তির কথা বলছেন। কিন্তু আমরা এদেশের সচেতন সুনাগরিকরা কি করলাম আমার এ মায়েদের জন্য ?

    ধন্যবাদ আপনাকে লেখক ।

    Reply
  33. মোঃ শহিদুল হক

    আমি মনে করি ‌যুদ্ধাপরাধীদের বানংলার মাটিতে অবশ্যই বিচার হতে হবে। যদি বিচার না হয় তবে এটা বলবো যুদ্ধাপরাধীরাই বাংলার মাটিতে স্বাধীন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা নয়। আমার মা ও বোনেরাও নয়।

    Reply
  34. shovon

    এ লেখার প্রতিটি বাক্য এত স্পর্শ করেছে আমাকে। বেদনার ভারটা সইতে পারছি না। এই ধরনের রিপোর্ট চাই। তবে লেখক যে বলেছেন আমরা আমাদের রক্ষণশীল সামাজিক ব্যবস্থা ও ধর্মীয় কারণেই আমাদের বীরাঙ্গনাদের উপযুক্ত সম্মান দিচ্ছি না…. আমার কথা হলো কোনও ধর্মকে নিচু করে দেখবেন না প্লিজ। ধন্যবাদ।

    Reply
  35. wasim

    আমরা সারাজীবন শুধু শুনেই গেলাম ধর্ষিত নারীদের কথা কিন্তু শুনিনি তাদের কিভাবে আর কতটা পুনর্বাসন করা হয়েছে…এই কষ্ট তারাই জানে যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—