বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইদানিং যে তোলপাড় চলছে তার পাশাপাশি সময়ে পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুইয়া ওকাদা, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। অল্পদিনের ব্যবধানে সফর তিনটি হয়েছে। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও একটি দল এসেছিলেন। প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব গভীর। তাই এই ক’টি সফরের বিরাট তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের রাজনীতির ও একই সঙ্গে সামাজিক অবস্থার চলমান কিছু দিক নিয়ে তারা কথাও বলেছেন সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষের সঙ্গে। এ দিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিই তারা তুলে ধরেছেন।

নানাভাবে হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। আমি তার সফরকে বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করব। প্রথমত, হিলারি ক্লিনটন এখন মার্কিন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে সরকারের মধ্যে বেশ তাগিদ ছিল। গত কিছুদিনে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিগত কিছু পার্থক্য দেখা দিয়েছিল। এসব কারণে সরকার চাচ্ছিলেন, হিলারির মতো একজন ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ সফর করুন। একথা সত্যি, বিশ্বে হিলারি ক্লিনটন একটি ব্র্যান্ড নেম। বিভিন্ন দেশে মার্কিন সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ধরন-ধারণও বোঝা যায় তার সফর এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে। তিনি কোন দেশে কখন যাচ্ছেন, কী কী বিষয় বলছেন তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। আমাদের সরকার হিলারির সফরের ব্যাপারে এসব কারণেই আগ্রহী ছিলেন। বহুদিন ধরে এ সফরের কথা শোনা যাচ্ছিল।

সরকারের মেয়াদের কোন সময় হিলারি এ সফরে এলেন সেটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি সরকারের মেয়াদের শুরুতে সফরে আসেন তবে তার অর্থ এক। আর শেষের দিকে এলে তার অর্থ ভিন্ন। তিনি এই সরকারের সাড়ে তিন বছর পার করার পর এলেন। তার মানে, সরকারের মেয়াদও শেষদিকে। এর অর্থ বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেই মনে করা যায়। আর এ সম্পর্ককে উষ্ণ করতে সরকারের দিক থেকে কিছুটা তাগিদ তো ছিলই।

হিলারি এই সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ডায়লগের ব্যাপারে চুক্তি করেছেন। এর অধীনে প্রতি বছর বিভিন্ন বিষয়ে দুটো দেশ আলোচনা করবে। সেটা পরিবেশগত ইস্যু থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিষয়, যে কোন ব্যাপারেই হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি বিভিন্ন্ পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারপক্ষ, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে তিনি মার্কিন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলেছেন। তিনি কিন্তু এমন কোনও বিষয় নিয়ে বলেননি যা নিয়ে দেশের ভেতরে বিভিন্ন ফোরামে আলাপ হয়নি। গত ক’দিন ধরে দেশে গুম, খুন, হত্যার রাজনীতির মতো কিছু বিষয় নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। হিলারি এমন সময় সফরে এলেন যার কিছুদিন আগে ইলিয়াস আলীর মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গুম হয়েছেন। তার নিখোঁজ রহস্য নিয়ে দেশে নানা কথাবার্তা চলছে। হিলারি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

এর মধ্যে আরেকটি বিষয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের হত্যার ব্যাপারেও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকের হত্যার প্রসঙ্গটি দেশে কম আলোচিত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গার্মেন্টসের বড় ক্রেতা। তাই আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের অবস্থা নিয়ে তার সরকারের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মনে রাখতে হবে যে মার্কিন সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের কুটনীতিক বা স্থানীয় দূতাবাসের মাধ্যমে একটি দেশের হাল অবস্থা সম্পর্কে সব তথ্যই পেয়ে থাকেন। তাছাড়া মিডিয়া তো আছেই। আমাদের বিরোধী দলও খুব সঙ্গত কারণেই গুম-খুনের মতো বিষয়গুলো হিলারির সামনে তুলে ধরেছেন। তারাও ক্ষমতায় থাকলে একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। বিরোধী দলকে দমন-নিপীড়নের রাজনীতি তো এ দেশে অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে এ মুহূর্তে বিরোধী দল হিসেবে তাদের কর্মীরা যে সব নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন সে সব তথ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তারা তুলে ধরেছেন। ফলে আমাদের গণতন্ত্রের হাল সম্পর্কে হিলারির মনে কিছুটা ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই বাইরের বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মানে আমাদেরই ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুটো দলকে সংলাপে বসে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন। তার মানে সরকারের কিছু কিছু পদক্ষেপের ব্যাপারেও তাদের সুস্পষ্ট দ্বিমত রয়েছে। তারা যে একতরফা নির্বাচন বা ওই ধরনের কিছু মেনে নেবেন না সেটাও তারা স্পষ্ট করেছেন। নির্বাচন নিয়ে এ দেশ কোনও সাংঘর্ষিক অবস্থায় যাক সেটা ওরা চান না। আমাদের গণতন্ত্রের স্বার্থে সংলাপ জরুরি বলে তারা যে মনে করছেন সেটাও স্পষ্ট হয়েছে।

ওদিকে ড. ইউনূস এবং ফজলে হাসান আবেদের মতো নাগরিক সমাজের দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। এর আগেও বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সরকারের অবস্থানটা ছিল এমন যে গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণে ড. ইউনূসের এবং তার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরাট অবদান রয়েছে। সরকার যাতে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ না করেন, এই জায়গাগুলোতে তাদের অবস্থান যে একই রয়েছে তাও এই সফরের সময় তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

হিলারি ক্লিনটন চলে যাওয়ার পরও তার বক্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা হবে এটাও স্বাভাবিক। তবে আমাদের মন্ত্রীরা ড. ইউনূস প্রসঙ্গে হিলারির বক্তব্য নিয়ে যেভাবে মন্তব্য করছেন, সেটাও নতুন কিছু নয়। আমি ভেবেছিলাম আমাদের রাজনীতিবিদরা কিছুটা পাল্টাবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে যে রাজনীতি চলছে তা বদলে যাওয়া এত সহজ নয়। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যে খুব ভালো নয় তা বোঝা যাচ্ছে। এমনকি সম্পর্ক উন্নয়নের যে সম্ভাবনা ছিল সেটাও শুরু হতে দেরি হবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের রাজনীতিবিদরা তো অবশ্যই অভিজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন অনেকেই। তাই আমি মনে করি, তারাই বুঝবেন তারা এসব কেন করছেন। তারা হয়তো মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনও দরকার নেই। আমি জানি না এটাই তাদের চিন্তা কিনা। আমার বুদ্ধিতে বিষয়টা কুলাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা নানা সম্পর্কে জড়িত। বাণিজ্যিক থেকে শুরু করে সামরিক বিভিন্ন ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যে সারপ্লাস প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাও কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতি করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন আরও খোলাখুলিভাবে। তারা বলেছেন বাইরের বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কথা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র বাইরের বিশ্বে আমাদের বড় বাজার।

তাই সরকারের এই কাজকর্মে, আমার ধারণা, দেশের মানুষ চিন্তিত। এ ধরনের মন্তব্যে সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় কোনও প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে সম্পর্ক উন্নয়ন যে জরুরি ছিল এটা বলতে পারি। ইদানিং ভারত এবং চীনের মতো রাষ্ট্রও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীও কিন্তু সংলাপের কথা বলেছেন।

হিলারির সময়েই বাংলাদেশ সফর করেছেন প্রণব। তার সফরটি অবশ্য ভিন্ন কারণে ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেড়শ’তম জন্মদিনের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাপনী টানার দায়িত্ব ছিল তার। যেহেতু তার সফরটি রাজনৈতিক নয়, তাই ওভাবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার তেমন সুযোগ ছিল না। তবে তিস্তা চুক্তিসহ কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সরকার বরাবরই জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। এখনও বলছেন যে চুক্তিটা হবে।

আমি মনে করি দুটো কারণে এটা সম্ভব নয়। প্রথমত, ভারতের কংগ্রেস সরকার খুবই দুর্বল। তারা এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে যাবে না। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন। ফলে খুব শিগগির এ বিষয়টির সমাধানের কোনও কারণ আমি অন্তত দেখতে পাচ্ছি না। ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনও ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের দিক থেকে কিছুটা দক্ষতার ঘাটতি ছিল বলেই আমার মনে হয়। তবে এ বিষয়ে জনগণের মনে আর কোনও প্রত্যাশা তৈরি না করে খোলাখুলি সত্যটা বলা উচিত। হয়তো সরকার বলতে চাচ্ছেন না এই ভয়ে যে সেক্ষেত্রে বিরোধী দলও জনগণের মনে প্রত্যাশা তৈরি নিয়ে কথা বলবেন।

তবে আমার কথা হল, আমাদের দেশের চলমান সংকটগুলো নিয়ে জাপানি উপ-প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতের অর্থমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেভাবে বলেছেন, সেগুলোর কিছুই নতুন নয়। ঘরের মধ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এখন বাইরের লোকেরাও বলছেন, এটাই হল আসল কথা।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদঅধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৬ Responses -- “হিলারির সফরের গুরুত্ব”

  1. anwar hosen

    আমি সারের সাথে একমত ,
    আমাদের রাজনীতিবিদরা সব সময় আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় ।

    Reply
  2. রিপু

    হিলারী ক্লিনটনের মতো একজন গুরুত্তপূর্ণ ব্যাক্তি বাংলাদেশে এসেছেন শুধুই কি একটি অংশীদারী সংলাপ সমঝোতা স্মারকে সই করতে?এটা বিশ্বাস করতে কেনো জানি একটু কষ্ট হচ্ছে।বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে অবস্থান করছেন হিলারী ক্লিনটন এবং সেই সাথে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।আর এই ক্ষমতাধর ব্যাক্তিরা যখন একে অন্যের সাথে মিলিত হন সেটা অবশ্যই একটি বড় ঘটনা।হেভি পাওয়ার এবং হাই প্রফাইল ব্যাক্তিদের মাঝে যখন শুধু একটি মাত্র সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয় তখন দূর থেকে তা বেশ হতাশাজনকই বটে।অংশীদারি সংলাপ আসলেই কি গুরুত্বপূর্ণ যার জন্য স্বয়ং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদেশে এলেন।এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু উঠে এসেছে তা বোধগম্য হলনা।ডিভি লটারী আবারো কবে বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে,পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্র্রে বাংলাদেশের ওপর থেকে বেশী শুল্ক আরোপের বিষয়টা কতটা শিথিল হবে,জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে তার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে কতখানি সাহায্য পাবে এ বিষয়গুলো উপেক্ষিত ছিলো বলে ধারণা হচ্ছে।তাই একজন সাধারণ জনগণ হিসেবে মনে হচ্ছে হিলারীর এই সফর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ইতিবাচক না হলেও মার্কিন সরকার তার স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এদেশের কোন সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলবে সে বিষয়ে বোধহয় একটা ভালো ধারণা পেয়ে গেছে।আমরা ভুলে গেলেও বাইরের মানুষ ঠিকই মনে রেখেছে আমাদের দেশে কি কি প্রাকৃতিক সম্পদ আছে যা কৌশলে ঠিকই আদায় করে নতে পারে আমরা বাদে সবাই…..

    Reply
  3. শিবলু চৌধূরী

    দুটো বিষয়ে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

    ১) “বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেই মনে করা যায়” – একমত হতে পারলাম না। হিলারীর সফর সরাসরি বাংলাদেশকে উদ্দেশ্যে করে ছিলনা। এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করাটা ইতিবাচক মানসিকতার ইঙ্গিত বহন করে। মার্কিন নীতির সারর্মম হল, বন্ধুদের ব্যার্থতা ঢেকে দাও, কিছু উপদেশ দাও, ঠুনকো কিছু সমস্যার কথা উল্রেখ করে মিডিয়া বা অতিআগ্রহীদের তৃপ্ত কর। তাই হল আরো একবার।

    ২) “ইদানিং ভারত এবং চীনের মতো রাষ্ট্রও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক রাখছে” – আমার মনে হয় বরং যুক্তরাষ্ট্রই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যি খুব বেশী আগ্রহী ? নাকি বিশ্বমাতব্বর হিসেবে “অভিযোগ যখন হল, কিছু তো বলতে হয়” টাইপের।

    স্যার, পররাষ্ট্রনীতির সাম্প্রতিক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  4. Bepul

    স্যার, ধন্যবাদ, আপনাকে।
    অনেক ব্যস্ততার মাঝেও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে মন্তব্য করার জন্য।

    Reply
  5. Taskina Yeasmin

    ‌‌‌‍‍‌ঘরের মধ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এখন বাইরের লোকেরাও বলছেন, এটাই হল আসল কথা।”

    আমাদের দেশের সরকারগুলো ক্ষমতায় থাকলে কি ঘরের লোকের কথা শুনতে পছন্দ করেন? তারা যদি শুনতেন-ই তাহলে তো আমাদের দেশটা এখন যতটুকু ভাল আছে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভাল থাকতো। … আর নিজের ঘরের ঝগড়া কেন অন্য লোককে এসে মিটাতে হবে। আমরা শুধু চিন্তাগতভাবেই যে কত বেশি পরনির্ভরশীল এই উনাদের কথা শোনা, আর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে দেয়াতেই বোঝা যায়।

    Reply
  6. কাজী মাহবুব হাসান

    মার্কিন ট্যাক্স পেয়ারদের টাকা খরচ করে গেলে হিলারী ঘুরে গেলেন, হয়তো তার সফরের উদ্দেশ্যই ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশে কি হচ্ছে বা না হচ্ছে তা নিয়ে আদৌ কি যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত। তাদের স্বার্থ ঠিক থাকলেই হলো, সেটা বাংলাদেশ হোক আর কানাডা হোক, মার্কিন সরকারের কাছে কিছুই আসে যায়না। আমাদের রাজনীতিবিদ এবং দুর্নীতির অবস্থা সারা পৃথিবী জানে, কোন নতুন কিছু নেই। আমরা মারামারি করে মরলে কারো কিছুই যায় আসে না। আমাদের আমরা যেখানে নিয়ে যাচ্ছি সেখানে করুনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। সুতরাং এই ভ্যানিটি কেন?

    Reply
  7. Md. Monjurul Hasan

    ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ৯ ডিসেম্বর ২০০২ অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহীসোপানের দাবি ২০০৪ সালের মধ্যে জাতিসংঘে পেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। স্থলভাগের দুই-তৃতীয়াংশের সমান সমুদ্রসীমা ‘হাতছাড়া’ হতে পারে বলে ড. মোশাররফকে আহ্বায়ক করে খালেদা জিয়া ১৫ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছিলেন। ঐ কমিটি কী কাজ করেছিল ? ড. মোশাররফ জাতিসংঘে কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা প্রয়োজন ৷
    আমাদের তালপট্টি দ্বীপটি যখন ভারত নিয়ে নিল, তখন আমাদের দ্বীপটি উদ্বারের বিষয়ে বিএনপির কাজের অগ্রগতি কতটুকু?
    ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে এ পর্যন্ত বিএনপি কী কাজ করেছে? একই কথা টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গেও বলা যায়।
    বিএনপির সময়ে সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কী ?

    আসলে আমরা সবাই অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলি এবং অন্যের দোষ সুন্দরভাবে ধরতে পারি কিন্তু নিজেরা কিছুই করতে পারি না ৷

    Reply
  8. shefarul

    আমার মনে হয়, হিলারির সফরে আমরা দুটি বিষয়ে মার্কিন সরকারের নীতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। প্রথমত, ড. ইউনূসের বিষয় এবং দ্বিতীয়ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে। যখন ইউনূস সাহেবকে নিয়ে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলো তখন থেকেই সরকারের ওপর এ বিষয়ে চাপ বাড়ছিল মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে। যদিও সরকার চাপের কাছে মাথানত করেনি। সেইসময় হিলারির সফর নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছিল। কেউ বলছিলেন, ড. ইউনূসকে নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের কারণেই হিলারি আসছেন না। কিন্ত তাহলে এখন কেন আসলেন ? আমার ধারণা, সরকার তো হিলারিকে দেশে আনার চেষ্টা করছেই। তবে আরো একটি বিষয় মনে হয়। সেটা হলো, মার্কিন সরকার মনে করেছে, না যাওয়ার চেয়ে যেয়ে সরকারকে এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করাই ভালো হবে। এছাড়া টিকফা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ট্রি সফরের অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল। কিন্তু হয়তো কোনো কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গণমাধ‌্যমের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, ড.ইউনূস বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত চীনকে প্রতিরোধ করতে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা। তবে মার্কিন সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার উভয়ের উদ্দেশ্য ছিল দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কে কতটা সফল হয়েছে ভবিষ্যতই সেটা বলে দুই সরকারের কর্মকান্ডে। তবে দু:খের বিষয়, প্রণবের সফরে আমরা যতটা আশা করেছিলাম সেটা আমরা পাইনি। এ বিষয়ে ভারত সরকোরের নীতি সম্পর্কে স্যার যেটা বলেছেন সেটার সঙ্গে আমি একমত। সব দেশের সব সরকারই চাইবে আবার ক্ষমতায় আসতে। এজন্য তার পররাষ্ট্রনীতিও তাই হবে। অর্থাৎ পররাষ্টনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের দলীয় রাজনীতি এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    Reply
  9. আবাবিল

    কথা প্রসঙ্গে বলছি, আমরা বিরোধী দলের নিপীড়িত হবার কথা প্রায়ই বলে থাকি। আসলে যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের হাতে জনগণ সবাই কমবেশি নিপীড়িত হয়। বিরোধী দল চিৎকার করতে পারে, আর জনগণের কণ্ঠ টিপে ধরা হয়, ফলে তারা চিৎকার করতে পারে না, এই যা পার্থক্য। এই নির্যাতন অতীতে যেভাবে চলেছে, আজও সেইভাবেই চলছে। কখনও বা তা বেপরোয়া রূপ ধারণ করেছে। সাগর-রুনি, কাদের, লিমন এদের নিয়ে মিডিয়া হৈচৈ করাতেই এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। এর বাইরে এগুলির চেয়েও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া নানা রঙ দিয়ে সেগুলিকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

    যাদের নিজেদের আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের বাইরের লোকে লজ্জা দিয়ে খুব একটা কাজ হবে বলে মনে হয় না। এই আত্মসম্মানবোধ থাকার জন্য ন্যূনতম একটা মানসিক স্ট্যান্ডার্ড থাকা দরকার ছিল। জাতি হিসেবে আমাদের সেই অবস্থান খুব নিচে। আমাদের অনুভূতির বিচ্যূতির মাত্রাটা এতোটাই বেশি যে, আরেকটু নীচে নামলেই খবর ছিল।

    আগে ভাবতে হবে বাইরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কোন্নয়নের প্রয়োজনীতা আছে কিনা? একটা জনকল্যাণকামী সরকার সবসময় প্রজাসাধারণের প্রয়োজনীয়তার আলোকেই নীতি নির্ধারণ করবে। আমাদের সরকার শুধুই তাদের নিজেদের পেটের কথা আর ক্ষমতায় টিকে থাকার কথা ভাবে। এই কারণে বাইরে আমাদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। একইভাবে আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের বাজারও ছোট হয়ে গেলে বিপদ দেখা দেবে। আমরা গরীব বলে ভোগান্তিটা আমাদেরই বাড়বে। আমাদের সরকারেরও উচিত বিষয়গুলি ভেবে দেখা।

    Reply
  10. Ruhul Amin

    আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটি বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের জন্য। এ দেশের শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ লোক নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার চায় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে। জনমতকে উপেক্ষা করে তারা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ধারণাটা বারবার বাতিল করে দিচ্ছে। সরকারের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমছে। তারা জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা জিততে পারবে না। আমাদের আশংকা হল যে যদি সরকার ও বিরোধী দল আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, তাহলে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। সেটা দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতি দুটোর জন্য ক্ষতিকর হবে। আর এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী হবে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে, প্রধানমন্তী শেখ হাসিনা……

    Reply
  11. আলমগীর হক

    লেখাটির পর্যবেক্ষণ আর ব্যাখ্যায় আমি হতাশ হলাম। তার চেয়ে সাহসী, আরও টপিকাল এনালিইসিস এবং আমাদের সংকট উত্তরণের বিষয়টা তুলে ধরলে মঙ্গল হতো। কিন্তু লেখকের কন্ঠেও হতাশার ভাব লক্ষ্য করলাম….

    Reply
  12. sumin sawon

    স্যার, ধন্যবাদ, আপনাকে।

    অনেক ব্যস্ততার মাঝেও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে মন্তব্য করার জন্য। এ লেখার প্রথমার্ধ পড়ে ধাক্কা লেগেছে, মনে হচ্ছে গা বাঁচিয়ে ধারাভাষ্যের মতো করে হিলারির সফরকালীন সময়ের সংবাদ পর্যালোচনা পাঠ করছি, কিন্তু লেখার শেষার্ধে এসে আপনাকে পেয়েছি। এ সময়ের বাংলাদেশ আপনার মতো একজন দেশপ্রেমিক বিশ্লেষকের কাছ থেকে ঠিক যেমনটি আশা করে। দেশের ভবিষ্যত বিষয়ে আমি আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারতাম যদি আপনি এতটা বিমূর্তভাবে না বলে আরও সুস্পষ্ট এবং বিস্তারিতভাবে উপরুক্ত কথাগুলো মন খুলে লিখতে পারতেন।

    এ লেখায় যে দুটো বিষয় আমি পেয়েছি তা একটু উল্লেখা করতে চাই এবং এর সঙ্গে আমার প্রতিক্রিয়াটুকুও জানাতে চাই:

    ১)সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে মনে হচ্ছে যে চলনে বলনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সরকার যেন গ্রামের সাধারণ ভোটারের কাছে নিজেকে অনেক সাহসী হিসেবে প্রমাণ করার একটা হাস্যকর চেষ্টা করছে, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ মূখ্য বিবেচ্য নয়। অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি নীতি গ্রহণে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বাস্তবভিত্তিক কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

    ২)ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি বিষয়ে সরকারের যে ব্যর্থতা তা এই সরকারের আমলে পরারষ্ট্রনীতিতে সামগ্রিক ব্যর্থতার স্বরূপমাত্র ।
    কোনও কিছু চুড়ান্ত না করেই, শুধু ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে অথবা নিতান্ত অদক্ষতার বশে ভারতকে চাহিবামাত্র সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে ফেলে সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এখনও বাংলাদেশের মানুষকে বোকা সাজিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকার ভালো করেই জানেন যে ভারত সরকার তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলীগ সরকারকে ধোকা দিয়েছে। তারা তিস্তায় একটি স্বাধীন সার্বভৌম সমমর্যাদার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থকে তাদের একটি অঙ্গরাজ্যের স্বার্থের সমান মাত্রায় নামিয়ে এনেছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশও পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি রাজ্য। আর নয়াদিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানি সমস্যা সম্পর্কে দুটি রাজ্যের মাঝে মধ্যস্ততা করছে।

    এ সকল ব্যর্থতা ঢাকতেই গভীর সমুদ্রে আমাদের ন্যায্য পাওনা আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমরা লাভ করার পরও সরকার এটাকে একটা যুদ্ধজয়ের মতো আবহ তৈরি করে সমুদ্রবিজয়ের ঘোষণা দিয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে সংবর্ধিত করেছে। মূলত অন্য অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো অর্জন নেই বলে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এখানে সালিশী রায়ে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা পেয়েছে, কোনও নেতা বা নেত্রীর জন্য কোনও কিছু বাড়তি লাভ করেনি। এক কথায় আদালতের এ রায়ের সময় কে ক্ষমতায় আছে সেটা মূখ্য নয়। এটা কোনও দলের অর্জন নয়, বাংলাদেশ তার ন্যায্য পাওনাটুকু পেয়েছে। আর এ জন্য বড় জোর এইটুকু বলা যেতে পারে যে আলীগ সরকার এই ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছে। তার মানে এই নয় যে এর জন্য সমুদ্রবিজয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং উৎসব পালন করতে হবে। এই সমুদ্রবিজয় উৎসবের মাধ্যমে সরকার মূলত ইতোপূর্বে বাঙালি জাতিকে প্রদত্ত এক অদক্ষ মন্ত্রিসভা-চমকের মতো আরেকটি সস্তা চমক দেখাতে চেয়েছে।

    ধন্যবাদ বিডিনিউজ২৪ডটকম।

    Reply
  13. Md. Manirul Islam

    এ ধরনের বিশ্লেষণ পড়লে ভালো্ লাগে। সে সঙ্গে বলব, কথাগুলো আমাদের শিক্ষিত মন্ত্রীদের কানে দিয়ে দেয়া উচিত….

    Reply
  14. Rouham Manzoor

    প্রিয স্যার, আপনার বিশ্লেষণটা ঠিক আছে। এটা খুব বিব্রতকর যে, আমাদের দেশে আমরা যেভাবে দেখছি সেভাবে অন্য দেশের লোকেরাও আমাদের সংকটগুলো নিয়ে ভাবছে। ভাবছি, এরা কি মনে করে যে এ দেশের মানুষ বা পুরো বিশ্ব তারা যে গেমগুলো খেলছে সেটা বুঝতে পরেবে না। কতদিন এসব চলবে? আর আমরা বা কতদিন এসব মেনে নেব….

    Reply
  15. rk rony

    আমি আপনার লেখার সূত্র ধরে কতগুলো জায়গায় পাঠকের দৃষ্টি ফেরাতে চাই। প্রখমত এই লেখার মাধ্যমে আমরা যে তথ্যগুলো জানতে পারলাম তার একটাও নতুন না। লেখক হিলারির সফরের গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে যে সব প্রসঙ্গ আলোচনা করেছেন তা রাজনৈতিক তো বটেই কুটনৈতিক ভাবেও আমাদের কোনও কাজে আসবার সম্ভাবনা দেখি না। যেমন তিনি হিলারির সফরের সব কর্মকান্ড উল্লেখ করলেন। তার মথ্যে কোনটার গুরুত্ব কী তা পরিস্কার করলেন না। তিনি বললেন সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক এখন ভাল না। বললেন, যে সময়ে এই সফর হল তাই নাকি প্রমাণ করে সম্পর্ক খারাপের দিকে গেছে। আসলে কি তাই? এইভাবে আলোচনা করলে কি আমরা মার্কিন নীতি বুঝতে পারব? না পারব না। মার্কন নীতিকে তার আলোকেই বুঝতে হবে, এই মূহুর্তে তার কৌশলের আলোকেই এই সফরকে দেখতে হবে। সেই দিক থেকে দেখলে আমরা দেখব সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অন্য যে কোনও সময়ের চেযে ভালো। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে তার ওয়ার অন টেররের যে প্রজেক্ট তা টিকিয়ে রাখবার জন্য তার কাছে এখনও এই সরকারের বিকল্প নেই। চীন বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি আর পাকিস্তানের সঙ্গে অবনতির মধ্য দিয়ে এইটা পরিষ্কার। তাহলে এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ নি:সন্দেহে এনজিও ব্যাক্তিদের সঙ্গে বৈঠক। কিন্তু তার মানে এই নয় এখনই এনজিও গ্রুপ ক্ষমতা সম্পর্ক নিয়া ভাবাভাবি শুরু করে দিবে। এটা তার গণতন্ত্রমূখীন ইমেজকে জারি রাখবার জন্য অতিগুরুত্ব পূর্ণ। তাই বলে তাদের ক্ষমতায় বসে যাবার কোনও গ্রিন সিগন্যাল কিন্তু এটা নয়। তার গ্লোবাল যুদ্ধ সংঙ্কটে এখন্ও বর্তমান সরকার মিত্র। এটা আরও স্পস্ট বোঝা যায় জামাতের প্রতি তাদের বর্তান মনোভাব থেকে। ফলে লেখক যে বলছেন, এই সফরে যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা-‌‌‌’ঘরের মধ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এখন বাইরের লোকেরাও বলছেন, এটাই হল আসল কথা।’- এর সঙ্গে একমত হওয়া যায় না্।

    Reply

Leave a Reply to Md. Monjurul Hasan Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—