বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল সেটি নিয়ে ইদানিং আগ্রহ-বিতর্ক দুই দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমি একেবারে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করিনি। কেননা এই বিতর্ক এবং তারপর আগ্রহ গণহত্যার বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। সম্প্রতি ইয়েমেন, সুদান প্রভৃতি দেশে বিশেষ করে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও অংসান সুচির সরকার যৌথ সম্মতিতে রাখাইন রাজ্যে যে গণহত্যা চালাচ্ছে তাতে এটি প্রমাণিত যে, গণহত্যা বিষয় হিসেবে এখনও প্রাসঙ্গিক।

একটি গণহত্যায় কত জন নিহত হয়েছেন তার নির্ভুল সঠিক হিসেব আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি। গণহত্যার তীব্রতা, স্থায়িত্ব, জনসংখ্যা সব মিলিয়ে গণহত্যায় নিহতদের আনুমানিক হিসাব করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপজুড়ে নাজি, ফ্যাসিস্ট ও ফ্যালানজিস্টরা যে গণহত্যা চালায় তার সময়সীমা ছিল চার বছরের বেশি। এলাকার ব্যাপকতা ছিল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খুবই ছোট, জনঘনত্ব খুব বেশি। সে কারণে এখানে গণহত্যায় একটি সুবিধা পায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর, শান্তিকমিটির সদস্যরা, রাজাকাররা। অর্থাৎ এখানে গণহত্যা ধীরে ধীরে দীর্ঘদিন ধরে হয়নি। দ্রুত হয়েছে এবং জনঘনত্ব থাকায় বেশি মানুষ হত্যা সম্ভব হয়েছে। যেমন, চুকনগরে কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১০,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের গণহত্যার বৈশিষ্ট্য হল, এত কম সময়ে এত বেশি মানুষ কোথাও আর হত্যা করা হয়নি।

এ প্রেক্ষিতে, যুদ্ধশেষে গণহত্যার হিসাবটা শুরু হল। রুশ কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র প্রাভদা জানাল, গণহত্যায় মৃতের সংখ্যা ৩০,০০০,০০ (ত্রিশ লক্ষ)। অনেকে বলতে পারেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেছিলেন– ‘৩০ লক্ষ হত্যা কর, বাকিরা আমাদের হাত থেকে খাবার খুঁটে খাবে’– প্রাভদা কর্তৃপক্ষ হয়তো সেটি মনে রেখেছিল এবং সে আলোকেই ঘোষণা করেছিল ৩০ লক্ষ নিহত হয়েছিল।

সর্বজনীন মানবাধিকার জরিপ নামে একটি জরিপ করেছিল জাতিসংঘ এবং তার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০০ থেকে ১২০০০ মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। এ হার গণহত্যার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

[Among the genocides of human history the highest number of people killed in lower span of time is in Bangladesh in 1971. An average of 6000 to 12000 people were killed every single day… This is the highest daily average in the history of genocide.]

জাতিসংঘ অনুমিত সর্বোচ্চ গড় ধরলে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৩০ লক্ষ পেরিয়ে যায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলে বাংলাদেশের গণহত্যা আবার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। পাকিস্তান প্রতিবাদ করে, বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত প্রতিবাদ করে। এই কারণে গণহত্যার দায় হ্রাস পায়। এটি যে কোনো যুক্তি নয় সেটি বুঝিয়েও লাভ নেই। পাশ্চাত্য প্রথমে খানিকটা শঙ্কা প্রকাশ করেছিল এ কারণে যে, গণহত্যা যারা চালায় এবং যারা সমর্থন করে তাদের অপরাধও সামান্য নয়। কিন্তু পরে তারা শঙ্কামুক্ত হয় এ কারণে যে, যারা অপরাধ সমর্থন করেছিল তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কিছু বলেনি, বলার ক্ষমতাও রাখেনি। আমেরিকা, চীন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কী করার আছে? তবে ঐ যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল তার রেশ মিলিয়ে যায়নি।

 

Liberation war - 111

 

গণহত্যায় সরকার যে হিসাব দেয় সেটি সারা বিশ্ব মেনে নেয়। বাংলাদশে সরকার বলেছে, গণহত্যায় ৩০ লক্ষ নিহত হয়েছিল আমরা সেটি মেনে নিয়েছি। গণহত্যা বিতর্ক শুরু হতে পেরেছে তার কারণ গণহত্যাকে মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রে রাখা হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল বৈশিষ্ট্য গণহত্যা-নির্যাতন।

এ কারণে আমরা কিছু কাজ শুরু করি। প্রথমেই খুলনায় আমরা দেশের প্রথম গণহত্যা-নির্যাতন জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করি। এ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিগতভাবে আমি উদ্যেগে নিই। আমরা গণহত্যা-নির্যাতন নির্ঘণ্ট গ্রন্থমালা প্রকাশ করি, ইংরেজিতে যাকে বলা যেতে পারে ‘জেনোসাইড ইনডেক্স’। এ গ্রন্থমালার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলদেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান। এ অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গণহত্যা ঘটেছে তারা জানেন, কিন্তু বিস্তারিত নয়। অনেক স্থান নদীভাঙনে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থান দখল হয়ে গেছে। অনেক স্থান বিস্মৃত।

আমরা প্রতিটি গণহত্যার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শী, বেঁচে যাওয়া মানুষ, আত্মীয়-স্বজন এদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। স্থান চিহ্নিত করে অনেক জায়গায় ফলক লাগিয়েছি। গণহত্যা সম্পর্কে এখন অনেকেই বলেছেন। আমরা ৫০টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছি এই গ্রন্থমালায়। এই ৫০টি গণহত্যার সিংহভাগের নাম আমাদের অনেকে শোনেননি। অর্থাৎ আমরা গণহত্যা সম্পর্কে যা জানি তার বাইরেও গণহত্যা হয়েছে।

গণহত্যা-গণকবর-বধ্যভূমি সম্পর্কিত তিনটি স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্স বই হচ্ছে– সুকুমার বিশ্বাস, একাত্তরের বধ্যভূমি ও গণকবর, ঢাকা, ২০০০, আমার সম্পাদিত, মুক্তিযুদ্ধকোষ, দ্বিতীয় খণ্ড, ঢাকা, ২০১৩ এবং ডা. এম এ হাসান, গণহত্যা যুদ্ধাপরাধ ও বিচারের অন্বেষণ, ঢাকা, ২০০১।

আমরা গণহত্যার যে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করছি তাতে এমন অনেক গণহত্যার কথা আসছে যা ঐ বই তিনটিতে নেই। এরপর মনে হয় ৬৪ জেলায় গণহত্যা গণকবর বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্র সম্পর্কে একটি জরিপ চালালে কেমন হয়। এর জন্য প্রচুর অর্থ ও লোকবল দরকার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাদুঘরের অধীনে কাজটি শুরু করি। যাদের ওপর এ দায়িত্ব দেওয়া হয় তারা সবাই পরিশ্রমী ও কমিটেড। অর্থ তাদের কাছে মুখ্য নয়। গত ৪৬ বছরে এ ধরনের জরিপের কথা কেউ ভেবেছে বলে মনে হয় না। জরিপ যারা করেছেন তারাও পূর্বোল্লিখিত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। এ জরিপের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া গেছে এবং সে ফলাফলে আমি বিস্মিত।

মুক্তিযুদ্ধ কোষ, দ্বিতীয় খণ্ডটি যদি মাপকাঠি হিসেবে ধরি তাহলে দেখি, ঐ গ্রন্থে মোট ৯০৫টি গণহত্যা গণকবর বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্রের নাম রয়েছে। গণকবর বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্র গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। আমাদের পাওয়া প্রাথমিক ফলাফলগুলি বিশ্লেষণ করা যাক।

নীলফামারী জেলা জরিপ করেছেন আহম্মদ শরীফ। ডা. হাসানের বইতে নীলফামারি জেলায় পাচঁটি গণহত্যার কথা সংকলিত হয়েছে। মোটামুটি এ জেলায় ৫/৬টি গণহত্যা ও কিছু গণকবর ও নির্যাতন কেন্দ্রের কথা এলাকার মানুষও জানতেন। শরীফের জরিপ অনুযায়ী, নীলফামারীতে খোঁজ পাওয়া গেছে:

গণহত্যা: ১১
বধ্যভূমি: ৩৭
গণকবর: ১৭
নির্যাতন কেন্দ্র: ২০
মোট ৮৫টি।

শরীফ বগুড়া জেলায় ও জরিপ চালিয়েছেন, বগুড়া সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধ কোষ এ বেশি তথ্য আছে। গণহত্যা- বধ্যভূমি ও গণকবর সম্পর্কে এ বইতে ১৪টির উল্লেখ আছে। শরীফ যে জরিপ করেছেন তার প্রাথমিক ফল:

গণহত্যা: ৪৫
বধ্যভূমি: ৩৩
গণকবর: ১৪
নির্যাতন কেন্দ্র: ৪১
মোট ১৩৩টি।

সুমা কর্মকার জরিপ করেছেন নাটোর জেলার। নাটোর সম্পর্কে তথ্য কম। মুক্তিযুদ্ধ কোষে নাটোরে গণহত্যা বধ্যভূমি গণকবর ও নির্যাতন কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুমা যে জরিপ চালিয়েছেন তাতে আমরা পাচ্ছি:

গণহত্যা: ৬৩
বধ্যভূমি: ২২
গণকবর: ১৮
নির্যাতন কেন্দ্র: ২৩
মোট ১২৬টি।

কুড়িগ্রাম জরিপ করেছেন আক্তার বানু। মুক্তিযুদ্ধ কোষে উল্লেখ করা হয়েছে ৪টি গণহত্যা, ১টি বধ্যভূমি ও ২টি গণকবরের, মোট ৭টির।

গণহত্যা: ১৭
বধ্যভূমি: ১৫
গণকবর: ১২
নির্যাতন কেন্দ্র: ৪২
মোট ৮৬টি।

পাবনায় জরিপ করেছেন রোকুনুজ্জামান বাবুল ও শিউলি খাতুন। মুক্তিযুুদ্ধ কোষে এ-সম্পর্কিত তথ্য দেখা যায়। সেখানে ১৩টি গণহত্যা ও ৮টি বধ্যভূমি-সম্পর্কিত তথ্য আছে, অর্থাৎ মোট ২১টি। বাবুল ও শিউলির জরিপ অনুযায়ী:

গণহত্যা: ৪২
বধ্যভূমি: ১৯
গণকবর: ১১
নির্যাতন কেন্দ্র: ১১
মোট ৮৩টি।

রাজশাহীর জরিপটি করেছেন মাহবুবর রহমান ও তাহসিনা শরমিন। সুকুমার বিশ্বাসের গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে। তিনি রাজশাহী জেলায় বধ্যভূমি ও গণকবরের সন্ধান পেয়েছিলেন ১৮টি। গণহত্যার হিসাব দেননি। মাহবুবর ও তাহসিনা যে জরিপ চালিয়েছেন তাতে নিম্নলিখিত ফলাফল পাচ্ছি:

গণহত্যা: ৭৫
বধ্যভূমি: ৮
গণকবর: ২৩
মোট ১০৬টি।

এখানে নির্যাতন কেন্দ্রের কোনো হিসাব এখনও পাইনি।

সাতক্ষীরা জেলায় জরিপ চালিয়েছেন ফাহিমা খাতুন। মুক্তিযুদ্ধ কোষে গণহত্যা গণকবর বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্রের সংখ্যা ৭টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাহিমার জরিপে পাওয়া গেছে:

গণহত্যা: ১৫
বধ্যভূমি: ১১
গণকবর: ৮
নির্যাতন: ৭
মোট ৩১টি।

রীতা ভৌমিক জরিপ চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলায়। সেখানে তিনি এই চারটি ক্ষেত্রে যা পেয়েছেন তার সংখ্যা:

গণহত্যা: ১৭৯
বধ্যভূমি: ২৩
গণকবর: ১০
নির্যাতন কেন্দ্র: ৪
মোট ২১৬টি।

গাইবান্ধার ওপর জরিপ করেছেন জহিরুল কাইয়ুম। গাইবান্ধা সম্পর্কেও আমাদের তথ্য ছিল। জহিরুলের জরিপ অনুসারে:

গণহত্যা: ৬
গণকবর: ৯
বধ্যভূমি: ৯
মোট ২৪টি।

মোট ৯টি জেলায় প্রাথমিক জরিপ অনুসারে যা পাচ্ছি তা হল–

গণহত্যা: ৪৫৩
গণকবর; ২২৬
বধ্যভূমি: ১৫৯
মোট: ৮৩৮।

৭টি জেলায় নির্যাতন কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯০টি। চারটি ক্ষেত্রে মোট সংখ্যা ১০২৮টি। আর সারা বাংলাদেশে যে তথ্য আগে পেয়েছিলাম যা মুক্তিযুদ্ধ কোষে সংকলন করেছিলাম তার সংখ্যা ৯০৫।

৯টি জেলায় সংখ্যা যদি হয় ৮৩৮টি তাহলে ৬৪ জেলায় সে সংখ্যা কত দাঁড়াতে পারে? তাহলে গণহত্যার সংখ্যা কি ৩০ লাখে সীমাবদ্ধ থাকে?

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে পারি। গণহত্যার যে হিসাব ১৯৭১ সালে দেওয়া হয়েছিল সেখানে উদ্বাস্তু শিবিরে মৃত্যুর সংখ্যা ধরা হয়নি। শিবিরের কর্তৃপক্ষও দিতে পারেনি। কিন্তু তৎকালীন পত্রপত্রিকায় এ-সম্পর্কিত বীভৎস রিপোর্ট ও ছবি ছাপা হয়েছে। একটি ছবিতে দেখেছি মহামারীতে মৃত্যু হয়েছে এমন মরদেহ কুকুরে খুবলে খাচ্ছে। আমেরিকার লাইফ পত্রিকার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, শকুনরা এসব মৃতদেহ এত খেয়েছে যে তাদের অরুচি ধরে গেছে। সেই সংখ্যা অবশ্য গণহত্যার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তাহলে শহীদের সংখ্যা কত দাঁড়ায়? এ বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তাভাবনার অবকা রয়েছে।

মুনতাসীর মামুনলেখক ও গবেষক

২৭ Responses -- “গণহত্যার নতুন হিসাব”

  1. Sharif

    গুনে গুনে সংখ্যাটা যেহেতু নির্ণয় করা হয়নি চলুন বিদ্যমান পরিসংখ্যান ও তথ্যের ভিত্তিতে পরোক্ষভাবে একটি গাণিতিক অনুমান বের করা যাক । নিচে ১৯৫০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যার ছক দেয়া হলো ( পরিসংখ্যানটি জাতিসংঘের প্রকাশনার রেফারেন্সে উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত) :
    ১৯৫০ ৩৭.৮৯৫ মিলিয়ন
    ১৯৫৫ ৪৩.৪৪৪ মিলিয়ন
    ১৯৬০ ৫০.১০২ মিলিয়ন
    ১৯৬৫ ৫৭.৭৯২ মিলিয়ন
    ১৯৭০ ৬৬.৮৮১ মিলিয়ন
    ১৯৭৫ ৭০.৫৮২ মিলিয়ন
    ১৯৮০ ৮০.৬২৪ মিলিয়ন
    ১৯৮৫ ৯২.২৮৪ মিলিয়ন
    ১৯৯০ ১০৫.২৫৬ মিলিয়ন
    ১৯৯৫ ১১৭.৪৮৭ মিলিয়ন
    ২০০০ ১২৯.৫৯২ মিলিয়ন
    এ থেকে হিসাব করলে দেখা যাবে,
    ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেছে (৬৬.৮৮১-৫৭.৭৯২)=৯.১ মিলিয়ন
    ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেছে (৮০.৬২৪-৭০.৫৮২)=১০ মিলিয়ন
    সেই হিসাবে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার প্রত্যাশিত বৃদ্ধি হওয়া উচিত ৯.৫ মিলিয়ন । কিন্তু প্রকৃত বৃদ্ধি (৭০.৫৮২-৬৬.৮৮১)=৩.৭ মিলিয়ন ।
    সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে ৩ মিলিয়ন মানুষ শহীদ হবার বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি রক্ষণশীল অনুমান ।

    Reply
  2. আবু সাইদ

    প্রথম কথা মুক্তি যুদ্ধে কতজন লোক শহিদ হয়েছে তানিয়ে বিতর্ক কেন ? কি কারনে? যে বিষয় প্রতিষ্ঠত সবাই জানে 30 লক্ষ লোক মারাগেছে। এর কম বা বেশী হতে পারে কারন এখনও কত অজানা হত্যা গ্রাম গঞ্জ পরে আছে গা অনেকেই জানে না । ক্ন্তিু যারা এ নিয়ে বিতর্ক করে তাদের উদ্দেশ্য কি তারা এই সংখ্য বির্তকে কি বুঝাতে চান। যারা বির্তক করে তারা কি পাকিস্থানী না বাংলাদেশী পাকিস্তানী । হয় তা প্রতিটি হত্যর নাম ঠিকানা সহ প্রকাশ করে বলে দিক সংখ্য কত! আর না হয় এই বিতর্ক হতে দয়া করে চুপ চুপ হয়ে যান। এটাই দেশ এবং জাতীর জন্য মঙ্গল জনক। তবে যারা বিতর্ক করেন তাকি আসলে বিশ্বাস করেন কিনা গনহত্যা হয়েছিল।

    Reply
    • Bongo-Raj

      Dear Abu Sayed Sb
      You are purely correct.
      However, very unfortunate is these people will never agree with you because these are definitely, definitely either rajakar, albodor, alshams or pakis living in Bangladesh as a propagandist sent by paki as the paid agent.

      Reply
  3. Bongo-Raj

    If any one’s sister is raped n killed by a group of people , does the brother of that girl will argue with his family member “to reduce the number of raper or the level of brutality being happened?
    People who are arguing about the number of Shaheds in our liberation war is same to that brother who’s sister were raped and killed?
    Or in other words you are one of anti liberation (Rajawat algorithm, alshams) group or a
    Pakistani or a super moron!!!

    Reply
  4. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    বিবাদ শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে। দ্বিমত আগেও ছিল। দ্বিমত ছিল বলেই বঙ্গবন্ধু কমিটি গঠন করেছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তিন মিলিয়ন মানুষ শহীদ হয়েছে। এই সংখ্যাটি ছিল আবেগের। আমরাও তা গ্রহণ করেছি আবেগের কারণে। যেমন, কবি বলেছেন- লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার, শুমার করিয়া দেখি কয়েক হাজার।
    আধুনিক সংবাদপত্রেও এ ধরনের অঙ্ক বা সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে থাকে। যেমন জনসভার জনসংখ্যা কখনোই হিসাবের ব্যাপার নয়। কারণ জনসভার সংখ্যা বলা যায় না। এটা কখনোই অঙ্কের হিসাবের ব্যাপার নয়। কোনো একটি দুর্ঘটনায় কত লোক মারা গেছে তাৎক্ষণিক বলা যায় না। সরকার সব সময় সংখ্যা কম দেখায়, খবরের কাগজ বেশি করে দেখায়। জানি না, সরকার এবং মিডিয়ার মধ্যে এই ফারাক কেন। শুধু মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নয়, ’৪৭-এর দাঙ্গায় কত মানুষ শহীদ বা নিহত হয়েছে তার সঠিক হিসাব আজো নির্ণিত হয়নি। বাংলাদেশ থেকে কত মাইনরিটি ভারতে চলে যায়, অথবা কত টাকা ভারতে পাচার হয় তা নিয়েও আন্দাজে পরিসংখ্যান তৈরি হয়। দীর্ঘকাল খবরের কাগজে কাজ করার ফলে এ বিষয়ে আমার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে।
    শুনেছি, ২৯ জানুয়ারি ’৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সাবেক ডিআইজি রহীম সাহেবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল শহীদদের সংখ্যা নির্ণয় করার জন্য। সে কমিটির রিপোর্ট আজো প্রকাশিত হয়নি। সেই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বেশ ক’জন রাজনীতিক ছিলেন। অনেকেই এখনো জীবিত আছেন। কেন সেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভালোই জানেন। কত শহীদ পরিবার সরকারের ভাতা পায় তার অঙ্ক তো সরকারের কাছেই আছে। তখন শহীদ পরিবারকে মাসে দুই হাজার টাকা ভাতা দেয়ার কথা ঘোষণা করা হলে ’৭২ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তন্মধ্যে ৫০ হাজার পরিবারকে ভাতা দেয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ১৯৯৩ সালের অক্টোবরের জার্নালে বলা হয়েছে ’৭১ সালের আট মাস তিন দিনের যুদ্ধে ৫০ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ১৫ জানুয়ারি সংসদে বিষয়টি কর্নেল আকবর উত্থাপন করলে আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু তিন মিলিয়ন বলার পর আর কেউ কিছু বলেনি। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে কত মানুষ শহীদ হয়েছে তা গণনার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই। এ ছাড়া বিএনপি সরকারও গণনার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। গার্ডিয়ান পত্রিকার ৮ জুন ২০১১ সালে বিবিসির বাংলা বিভাগের প্রধান মরহুম সিরাজুর রহমান বলেছেন, শেখ সাহেব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন কালে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ক্ল্যারিজ হোটেলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তিন মিলিয়ন লোক মারা গেছে। আসলে তিনি তিন লাখ বলেছিলেন। অনুবাদকেরা তিন মিলিয়ন বলে প্রচার করেছিলেন। পরে ভারতের পালাম বিমানবন্দরে তিনি ইংরেজিতে বলেছিলেন তিন মিলিয়ন।
    ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের অব্যবহিত পরে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন বলেছিলেন ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। (দৈনিক বাংলা ৪ জানুয়ারি ১৯৭২)। তিন লাখ, ১০ লাখ বা ৩০ লাখ সংখ্যাগুলো আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা না পেলে বা বিজয় না হলে এসব সংখ্যার কোনো দাম নেই। বঙ্গবন্ধু আমাদের মুরব্বি, তিনি একটা আবেগের কারণেই ওই তিন মিলিয়ন কথাটি বলেছেন। আমরা তার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সংখ্যাটিকে সম্মান করি। যারা গবেষক তারা আবেগের ওপর নির্ভর করেন না। তারা সত্য আবিষ্কারের চেষ্টা করেন। যেমন ধরুন, অযোধ্যার রাম মন্দির ইতিহাস ও আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেখানে কোনো রাম মন্দির ছিল না। রাম নামে কোনো ব্যক্তি ছিলেন বলে ঐতিহাসিকেরা স্বীকার করেন না। কিন্তু তাতে কী আসে-যায়। হিন্দুরা রামকে দেবতা ও রাজা মনে করে। রামায়ণ ও মহাভারত ভারতীয় সভ্যতার দুটি মহাকাব্য। সারা জগতে বিখ্যাত। মীর মশাররফ হোসেন বাংলার মুসলমানদের বিষাদ সিন্ধু নামে একটি উপন্যাস উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবের সাথে এর তেমন কোনো সংযোগ নেই। এখনো গ্রামে গ্রামে বিষাদ সিন্ধু পাঠ করা হয়। তিন মিলিয়ন বা তিরিশ লাখ শহীদ কথাটি এখন কবিতার লাইনের মতো হয়ে গেছে। কেমন যেন মনে হয় তিরিশ লাখ না বললে কবিতাটি পূর্ণতা লাভ করবে না। তাই বলছি কাব্য আর রাজনৈতিক ভাষণের জন্য তিরিশ লাখ তোলা থাক।
    সংখ্যা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও তার বন্ধুরা জঙ্গিভাষণ ও মিছিল করার ব্যাপারে আমি কোনো আপত্তি দেখি না। কারণ মিছিল ও ভাষণ কোনো ইতিহাস নয়। এসব করা হয় রাজনীতিতে সুবিধা লাভ করার জন্য। যদি তারা এমন একটি গুরুতপূর্ণ বিষয়ে সিরিয়াস বা আগ্রহী হতেন তাহলে এ ব্যাপারে একটি দলিল তৈরি করতে পারতেন। প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের মা বাপ বলে মনে করেন তারা কেন কোনো ধরনের দলিল তৈরি করেননি বা করছেন না। সরকার ইচ্ছা করলেই বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে রহীম কমিটির রিপোর্টটাকে পূর্ণতা দিয়ে প্রকাশ করতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু নিজে তিন মিলিয়ন শহীদের কথা বললেও তার বক্তব্যের সমর্থনে দলিল তৈরির জন্য একটি কমিটি করেছিলেন। তার সদিচ্ছাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কমিটি কেন কাজটি সমাধা করে যেতে পারল না তাও অনুসন্ধান করা যেতে। এ ব্যাপারে চলমান সরকার একটা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারে। ৪৫ বছরেও বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কাজ না করায় বিদেশীরা তাদের মতো করেই গবেষণা করে সংখ্যা নির্ধারণ করছে। আর আওয়ামী লীগ ও ভারতপন্থী জ্ঞানীগুণীরা গবেষকের বিরুদ্ধে হুক্কা হুয়া ডাক তুলে চিৎকার করতে থাকেন। সরকার তো একটা দলিল তৈরি করে বলতে পারত সরকারের প্রকাশিত সংখ্যার বাইরে অন্য কোনো সংখ্যা বলা বা প্রচার করা যাবে না। জাতির দুর্ভাগ্য আমরা এমন মূল্যবান কাজটি করতে পারিনি।

    Reply
  5. শহীদ

    প্রতি বছর ২৫শে মার্চের কালো রাত আমরা সকল পত্রপত্রিকায় একটি ছবি অবশ্যই দেখি, সেটা হলো দুইটি রিক্সায় তিনটি মৃতদেহ। এটা যেন ২৫শে মার্চে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গনহত্যার লোগো যেন ছবিটা। কিন্তু সে সময়ে বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে সাত কোটি মানুষের কেওই তাদের পরিচয় এই ৪৫ বছরেও দিতে পারিলেন না কে তাঁরা। কাদের প্রথম রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। বহু বছর ধরে আমি এইনিয়ে চিৎকার করেই যাচ্ছি। কেও সাড়া দেয়না দেখে আমি নিজেই এই দায়ীত্ব নিতে চাইছি। বছর পাঁচেক আগে গিয়েছিলাম ভিয়েতনাম। হো চি মিন সিটির মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে কয়েক হাজার ছবি দেখলাম, তাদের দুইদশকের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকান সেনাদের অত্যাচারে নিহত মানুষের বা নাপাম বোমায় ভশ্ম স্থানের চিত্র। আশ্চর্য হবার বেপার যে ওই ছবিতে কোন দিন এই ঘটনা ঘটেছিল এবং কে কে সেখানে প্রান দিয়েছেলেন তার পুংখানুপুক্ষ বর্ননা আছে। একজনের নামও বাদ যায়নি। অথচ আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নিহত এই তিনজনের নাম ৪৫ বছরেও জানতে পারলামনা। স্বাধীনতার পরে ভিয়েতনাম এখন ওই অঞ্চলের ধনী দেশ আর আমরা কাগজে কলমে মধ্যম আয়ের দেশ দাবীকরে মহা আনন্দে নিজেদের পশ্চাতদেশ চাপরাচ্ছি।এই কাজে মাত্র ৬৫ হাজার যুবক দরকার আমাদের ৬৫ হাজার গ্রামে যাদের অবশ্যই একটা ফেসবুক একাউন্ট ও নিবন্ধিত মোবাইল ফোন থাকবে। ব্যাস! হয়ে গেল। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যেই এরা তাদের নিজের গ্রামের কোন বাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কে কে প্রান হারিয়েছে তার একটা প্রথমিক তালিকা তৈরী করে ফেলতে পারবে। সম্ভব হলে এই তালিকায় ঘটনার বিবরন ও দিন তারিখ সংযুক্ত থাকতে পারে। এই কাজে তারা একাধিক সহযোগী নিতেই পারে, তাতে সাহস ও আগ্রহীর সংখ্যা বাড়বে। প্রথমিক এই তালিকা পরবর্তীতে স্থানীয় বয়স্ক সৎ মানুষ ও রনাংগনের মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা বহুমুখী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় নির্ভুল ভাবে প্রনয়ন করা সম্ভব।

    এরপর এই তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। সরকার অতি দ্রুততার সাথে তার প্রশাসন যন্ত্রের গুপ্তচরের মাধ্যমে একটু যাচাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ ও এই নিহতদের শহীদের মর্যাদা দান করতে পারে। এই কাজটি করা হলে জাতি ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের ঋন কিছুটা হলেও শোধ করতে পারবে বলে আমি মনে করি। অন্যথায় যে লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে আমরা আয়েশের জীবন যপন করছি তাতে আমাদের নিজেদেরকে নব্য রাজাকার ছাড়া আর কিছুই মনে করার অধিকার দেয় না।
    কিন্তু আসল কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টাটি বাধবে কে? এই কাজে এক বা একাধিক মানুষ দরকার। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার লোক কোথায়?
    আমি রাজি আছি। আর কেও কি আছেন?

    Reply
  6. লতিফ

    যারা অংক কষে সংখ্যা নির্দ্ধারণ করতে চায়, তাদের প্রাথমিক ধারণাটা পরিষ্কার না। জনঘনত্ব বিষয়টি না বুঝে তারা ইরাক, গাজার উদাহরণ টেনেছে।

    ১৯৯১ সালে ইরাকের জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৫ লক্ষ। এর মধ্যে ৫-৭ লক্ষ মানুষ হত্যা হওয়া মানে জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হত্যা হওয়া। আর আয়তন ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৩ গুন বড় দেশ কিন্তু বাংলাদেশের তুলনায় জনসংখ্যা ১০ গুন কম। বাংলাদেশের ঘনত্বে হিসাব করলে ১৯৯১ সালে ইরাকের জনসংখ্যা থাকতো ৫০ কোটি। আর ৫ শতাংশ হিসাব ঠিক রাখলে হত্যার শিকার হতো ২ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ। কিন্তু জনঘনত্বের কারণে মানুষ মরতো ৫ কোটির মতো। বাংলাদেশে যদি পারমানবিক বোমা ফেলা হয় এবং তাতে ২০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা আক্রান্ত হয়, তাহলে এক সেকেণ্ডে ১ কোটি মানুষ মারা যাবে (বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১ হাজার মানুষ বসবাস করে)। একই বোমা ইরাকে ফেললে মারা যাবে ১৭০০ জন (ইরাকে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৫ মানুষ বসবাস করে)। কাজেই যারা ঐকিক নিয়মের অংক করে ৩০ লক্ষকে কমিয়ে ৩ লক্ষ বানাতে চায়, তারা যেন অংক করার আগে জনঘনত্বের হিসাবটা করে আসে।

    Reply
  7. Raju

    “গণহত্যা” “বধ্যভূমি” “গণকবর” এই বিষয় গুলিকে সংজ্ঞায়ন করুন প্লিজ। এক জন সিঙ্গেল বেক্তি এই ৩ জায়গা তেই থাকতে পারে। “৯টি জেলায় সংখ্যা যদি হয় ৮৩৮টি তাহলে ৬৪ জেলায় সে সংখ্যা কত দাঁড়াতে পারে?” এই ধরণের প্রশ্ন না করে আপনারাই জেলা ভিত্তিক “গণহত্যা” এবং গণহত্যায় নিহত শহীদদের সংখ্যা এবং তালিকা প্রকাশ করুন। ১০০% তালিকা হয়তো করা সম্ভব নয়, কিন্তু আপনারা একটা তালিকা দিন। তারপর ভুল-শুদ্ধ দেখা যাবে।

    Reply
  8. আসমা সুলতানা

    লেখক ঠিক বলছেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ বা তার বেশী কিনা সেই বিষয়ের থেকে অল্প সময়ের যুদ্ধের ভয়াবহতা ছিলো সীমাহীন। সেই দিকটি বিবেচনায় রাখলে সংখ্যা মেলানোর থেকে আমাদের গণহত্যার বিষয়টি বিশ্বের কাছে স্বীকৃত করবার প্রয়াশ করার আশু প্রয়োজন।
    শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।

    Reply
    • দুনিয়া

      ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন ? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে ?’

      Reply
    • দুনিয়া

      যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারী ডেভিড বার্গম্যানের বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তারা আদলতে ক্ষমা প্রার্থনা করে মুক্তি পান।
      ১. এম হাফিজউদ্দিন খান,
      ২. ড. শাহদীন মালিক,
      ৩. রাশেদা কে চৌধূরী,
      ৪. খুশী কবির,
      ৫. আলী রীয়াজ,
      ৬. ইমতিয়াজ আহমেদ,
      ৭. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,
      ৮. বদিউল আলম মজুমদার,
      ৯. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান,
      ১০. সি আর আবরার,
      ১১. আনু মুহাম্মদ,
      ১২. আসিফ নজরুল,
      ১৩. আমেনা মহসিন,
      ১৪. মো. নূর খান,
      ১৫. আনুশেহ আনাদিল,
      ১৬. ফরিদা আক্তার,
      ১৭. শবনম নাদিয়া,
      ১৮. শহিদুল আলম,
      ১৯. রেহনুমা আহমেদ,
      ২০. লুবনা মরিয়ম,
      ২১. নাসরিন সিরাজ অ্যানি,
      ২২. শিরিন হক,
      ২৩. মুক্তাশ্রি চাকমা সাথী,
      ২৪. জরিনা নাহার কবির,
      ২৫. দেলোয়ার হোসেন,
      ২৬. তীব্র আলী,
      ২৭. মাহমুদ রহমান,
      ২৮. আলী আহমেদ জিয়া উদ্দিন,
      ২৯. হানা শামস আহমেদ,
      ৩০. বীনা ডি কস্টা,
      ৩১. মাসুদ খান,
      ৩২. জিয়াউর রহমান,
      ৩৩. আফসান চৌধুরী,
      ৩৪. লিসা গাজি,
      ৩৫. সেউতি সবুর,
      ৩৬. ড. ফোস্টিনা পারেরা,
      ৩৭. মহিউদ্দিন আহমেদ,
      ৩৮. ড. ফিরদৌস আজিম,
      ৩৯. ড. আলী রিয়াজ,
      ৪০. ড. পারভিন হাসান,
      ৪১. ড. দীনা এম সিদ্দিকী,
      ৪২. ড. সামিয়া হক,
      ৪৩. তসলিম সারাহ শাহাবুদ্দিন,
      ৪৪. তাহমিমা আনাম,
      ৪৫. নায়লা জামান খান,
      ৪৬. শাহনাজ হুদা,
      ৪৭. জাকির হোসেন,
      ৪৮. অরুপ রাহী,
      ৪৯. শাহীন ‍আখতার,
      ৫০. ইলোরা দেওয়ান

      Reply
    • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিলো তখন ৮০ হাজার। এখন কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আড়াই লাখ হলো?

      Reply
  9. মন্টু খান

    সাড়ে চার দশক আগে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনকারী
    বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ইতিহাস নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।
    এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক ফ্যাক্টস মীমাংসিত নয়। এহেন
    বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্নমত পোষণকারীদের
    শাস্তি দেয়ার আইন হিসেবে ‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ’ আইনকে ইনেকোরেট বা
    ভ্রমাত্মক হিসেবে অভিহিত করেছে গার্ডিয়ান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক
    হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিহতের সংখ্যা তিন লাখ থেকে তিরিশ লাখে ওঠানামা
    করছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ অথবা নিহতদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি-
    বেসরকারিভাবে এখনো ফলপ্রসূ কোনো জরিপ না হওয়ায় ব্যক্তিগত আগ্রহে গবেষণার আলোকে নানাজন ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা উপস্থাপন করছে।
    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখিকা শর্মিলা বসু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ও হতাহতের সংখ্যাসহ আনুষঙ্গিক
    বিষয় নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ২০১১ সালে সি হার্স্ট
    অ্যান্ড কোং থেকে প্রকাশিত ‘ডেড রেকনিং : মেমোরিজ অব
    দ্য ১৯৭১ বাংলাদেশ ওয়ার’ (ডেড রেকনিং ১৯৭১-এর বাংলাদেশ যুদ্ধের স্মৃতি)
    নামক গ্রন্থের লেখিকা ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ঘুরে
    সংগৃহীত তথ্যের আলোকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী এবং
    মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত অবাঙালিসহ নিহতদের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ বলে অভিহিত করেছেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাক
    বাহিনীর হাতে জেনোসাইড বা গণহত্যা একটি প্রমাণিত
    বিষয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের জরিপভিত্তিক তালিকা না থাকায় ‘তিরিশ
    লাখ শহীদ’ নিয়ে বিতর্ক উঠতে পারে। তাই বলে এ সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ মাত্র। তবে স্বাধীনতার জন্য মাত্র ৯ মাসে ১ লাখ মানুষ প্রাণ
    দেয়ার নজিরও বিশ্বে খুব কম দেশের আছে। শর্মিলা বসুর
    বইয়ের বিপরীত চিত্রও আছে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত
    জনৈক কালিদাস বৈদ্যের লেখা ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ : অন্তরালের শেখ মুজিব’
    শিরোনামের গ্রন্থে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের বিকৃত
    উপস্থাপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আলেম সমাজকে প্রবল প্রতিবাদে ফেটে পড়তে
    দেখা গেছে। এই গ্রন্থে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০
    লাখ হিন্দুুকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ব্যক্তিগত ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে লেখা এসব
    ‘বিতর্কিত’ গ্রন্থের কোনোটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে
    গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি সংবাদকর্মী এবং
    ডিপ্লোম্যাটদের অনেকে বিশ্ব জনমত গঠনের পাশাপাশি সে
    সময়কার ইতিহাসকে নিজেদের মতো তুলে ধরে ইতিহাসের
    পথকে কিছুটা সহজ করে দিয়েছিলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের
    প্রত্যক্ষ সংগঠক, সেক্টর কমান্ডারসহ অনেকের প্রামাণ্য
    গ্রন্থ রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর আমরা যখন যুদ্ধাপরাধ ও
    মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে সর্বোচ্চ দ-
    নিশ্চিত করতে পারছি। শহীদের সংখ্যাসহ আমাদের ইতিহাসের বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ
    বিষয়গুলো অপনোদন করা কি এর চেয়েও কঠিন? মুক্তিযুদ্ধের সময়
    ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কমান্ডার লে. জেনারেল জেকবের লেখাÑ সারেন্ডার
    অ্যাট ঢাকা, পাকিস্তানি সাংবাদিক এন্থনি মাসকারেনহাসের লেখা দ্য
    রেপ অব বাংলাদেশ, কুতুবুদ্দিন আজিজের লেখা ব্লাড অ্যান্ড টিয়ার্স-এর মতো গ্রন্থগুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে
    সহায়ক হতে পারে। বিদেশিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
    নিয়ে নিজেদের মতো গবেষণা করে গ্রন্থ রচনা করছে আর
    আমরা যার যার সুবিধামতো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার
    করছি অথবা ভিন্নমতের হলে ‘বিতর্কিত’ বলে একবাক্যে
    উড়িয়ে দিচ্ছি। অথচ আমরা ইতিহাসের অসত্যগুলোকে রেক্টিফাই করার কোনো
    জাতীয় উদ্যোগ দেখছি না। জাতীয় ইতিহাস নিয়ে বিদেশিদের অব্যাহত নসিহত ও
    বিভ্রান্তিকর তথ্য মুক্তিযুদ্ধের ইহিতাস সম্পর্কে জাতিকে আরো বিভক্ত করে তোললেও
    আমাদের সরকার এবং অ্যাকাডেনিসিয়ানদের নীরবতা বিস্ময়কর। আমাদের
    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিহাস পড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের
    ইতিহাসের শিক্ষকরা বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ গঠন করেছেন। গত বছর ইতিহাস
    পরিষদের ৪৫তম বার্ষিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ঢাকা
    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দেশের
    ইতিহাসবিদদের উদ্দেশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সঠিক
    ইতিহাস রচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রজ্ঞাবান
    সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সেমিনারে উপস্থিত
    সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
    প্রসঙ্গক্রমে তিনি এও বলেন, এদেশের ইতিহাসকে উপহাসে
    পরিণত করা হয়েছে। ইতিহাস সত্য না হলে তা ইতিহাস নয়।
    ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যক্তিগত সাক্ষী এবং খবরের কাগজে
    প্রকাশিত রিপোর্ট ইতিহাসের খ-িত অংশমাত্র উপস্থাপন
    করতে পারে। সামগ্রিক ও প্রকৃত সত্যকে তুলে আনতে হলে
    রাজনৈতিক ক্ষমতার পালা বদলের মধ্যেও শাসকদের
    রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন থাকতে হয়। ইতিহাসের নায়ক,
    মহানায়কদের অবস্থান ইতিহাসই নির্ধারণ করে দেয়।
    কোনো সাময়িক আবেগ, তথ্যের অতিরঞ্জন অথবা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ তাদেরকে খাটো বা
    বড় করে তোলতে পারে না। আইনগত বিধিনিষেধ আরোপ
    করে ইতিহাসের সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রাখা যায়
    না। আর আইনের হাত যতই লম্বা হোক, কোনো দেশের
    নিবর্তনমূলক বা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত আইন আন্তর্জাতিক
    সম্প্রদায় গ্রাহ্যে রাখে না। প্রস্তাবিত ‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ’ আইন
    সম্পর্কে গত শনিবার ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ
    অ্যানালিসিসে এই আইনকে বাক-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আরেকটি হুমকি হিসেবে
    অভিহিত করা হয়েছে। লন্ডনের গার্ডিয়ানে একই দিনেই এই
    আইনের বিরূপ দিকগুলো উল্লেখের পাশাপাশি ইতিহাসের সত্য উন্মোচন এবং
    মতভিন্নতা কমিয়ে আনার বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। আমাদের
    ইতিহাসের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে
    তোলার বদলে জাতিকে নতুনভাবে বিভক্ত করে ফেলার সব ধরনের আয়োজন ও তৎপরতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহ ও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বায়নের এই
    যুগে এখন কোনো জাতির কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশিত বিষয়কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে চেপে রাখা সম্ভব নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের
    স্বাভাবিক আইনসিদ্ধ প্রবাহ বন্ধ রাখা হলে প্রোপাগান্ডা, গুজব ও মিথ্যা তথ্যের দ্বারা
    জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে। অতীতের তিক্ততা পরিহার
    করে যখন নতুন উদ্যমে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার
    কথা, তখন আমরা অপাঙ্তেয় আইন করে বিশ্বের কাছে ভিন্ন
    মেসেজ দিচ্ছি। জাতির ইতিহাস ¯্রফে লিখিত গ্রন্থমাত্র নয়, জনগণের
    সম্মিলিত প্রয়াসে দীর্ঘদিনে জাতির ইতিহাস গড়ে ওঠে। ইতিহাসকে পরিবর্তন করা যায় না, তবে পুনর্মূল্যায়ন করা যায়। ইতিহাসের সত্য উন্মোচন
    আগামী প্রজন্মের কাছে এই প্রজন্মের দায়বদ্ধতার অংশ। এই
    দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

    Reply
  10. তৌফিক আকন্

    নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে যুদ্ধ নিয়ে বিজয়ী অংশের একটা গল্প থাকে, পরাজিতদেরও থাকে। স্বাভাবিকভাবেই দুটো গল্পে পরস্পরকে দোষারোপ করা হয়। দুটো গল্পেই থাকতে পারে অনেক ভুল তথ্য, মিথ্যাচার। কিন্তু অনেক অনেক বছর পর যখন ইতিহাস লেখা হয় তখন সব গল্পের জট খুলে সত্যটা বের হয়ে আসে। এটাই স্বাভাবিক। ওয়াশিংটনের একটি কনফারেন্সে শর্মিলা বোসের নিবন্ধ উত্থাপিত হবার পরপরই পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় আবার মুক্তিযুদ্ধের ইস্যু নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। ত্বরিত এ বিষয়ে লেখা ছাপা হয় ‘দ্য ডেইলি টাইমস’ (হাসান, জুন ৩০, ২০০৫; সম্পাদকীয় জুলাই ২, ২০০৫) এবং ‘ডন’ (ইকবাল, জুলাই ৭, ২০০৫)এর মতো প্রভাবশালী পত্রিকায়। দুটো পত্রিকাই বোসের বরাত দিয়ে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের যুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পাকিস্তানি জেনারেলদের অনেকেই লিখেছেন। যারা পড়েছেন তারা জানেন এসব বইয়ের প্রায় সবটাই মিথ্যাচারে ভরপুর। এদিকে বাংলাদেশেও অনেক গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে নির্মোহভাবে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তচক্ষুর ভেতর দিয়েও মুক্তিযুদ্ধ আর গণহত্যার সমস্ত খবর বিশ্বময় পৌঁছে যায় এসব পত্রিকার মাধ্যমে। পৃথিবীর বড় অংশ জানতে পারে পাকিস্তানিদের নির্মমতার কথা। সারা পৃথিবীর জনমত চলে আসে বাঙালিদের পক্ষে।

    ওইসব খবর সরবরাহ করেন যে সাংবাদিক ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা, তারা ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবেই লিখেছেন। ওইসব টেলিভিশন আর সংবাদপত্রের প্রচারণার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী ও পাকিস্তানিদের নির্মমতা পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিস্কার।

    Reply
  11. ইয়াসমিন

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে গিয়ে নিম্নোক্ত ধারাগুলো দৃশ্যমান হয়:

    ১। বাঙালী জাতীয়তাবাদী বয়ান
    ২। পাকিস্তান অখন্ডতাবাদী বয়ান
    ৩। হিন্দু জাতীয়তাবাদী বয়ান
    ৪। ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী বয়ান
    ৫। পাকিস্তানী বয়ান
    ৬। একাডেমিক ধারা
    ৭। বিদেশীদের বয়ান(অনেকটা ৬ এর ধাচে)

    স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর কোন বয়ানে আপনি ঈমান রাখবেন সেটা আপনার ইচ্ছা। সত্যানুসন্ধানে অভ্যস্ত নয় বাংলাদেশীদের মধ্যে ১-৪ এর মধ্যে হাটাচলা বেশি। এই চার বয়ানের যে কোন একটিতে ঈমান এনে, বাকীগুলোকে ডিসমিস করে কেউ যদি বলে ইতিহাস বিকৃতি হইতেছে,তাহলে সেটা হাস্যকর দেখায়। মোটের উপর প্রথম ৫ ধারার ইতিহাস চর্চা কেবল অন্যদের দোষ খুঁজতে অভ্যস্ত। তাঁদের আলাপে সেজন্য ঘৃণার চর্চা স্পষ্ট। নিজেকে ভিক্টিম প্রমাণ করে, অন্যকে ভিলেন বানানোও এসব বয়ানের লক্ষ্য।

    সাধারণ আম জনতার জন্য ৬ এবং ৭ ধারায় লিখিত ইতিহাস অধ্যয়ন করাই যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমরা মনে করি। কেননা একাডেমিক ম্যাথডলজি ব্যবহার করে লেখা ইতিহাসে সাধারণত দ্বন্দ্বে অংশগ্রহণকারী এবং লড়াইয়ের ক্ষতিগ্রস্থ সবপক্ষের বয়ান তুলে আনার চেষ্টা থাকে। আমাদের দেশের প্রচলিত বয়ান যেহেতু বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় অতিকায় ভারাক্রান্ত সেহেতু পূর্বোক্ত ধারণাকে টেষ্ট করার লক্ষ্যেও যদি কেউ একাডেমিক ধারার ইতিহাস পড়া শুরু করেন,তাহলে নিজেদের বুঝের সাথে একটা বোঝাপড়া করতে পারবেন। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

    তবে এক্টিভিস্টি ও গবেষকদের জন্য এক্সক্লুসিভ দলীয় ইতিহাসের বাহিরে এসে ইনক্লুসিভ বাংলাদেশী জাতীয় বয়ান নির্মাণ করতে হলে ১-৭ সবগুলো ধারাকেই আমলে নিতে হবে।

    Reply
  12. ইয়াসমিন

    ১৯৪৭ সালে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে পূর্ব পাকিস্তান নামে মুসলিম দেশে এসেছিল বিহারিরা সবসতি গড়ার আশায়। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিণœ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতো তারা। ১৯৭১ সালে বিহারিরা পাকিস্তানীদের দোসর হয়ে বাঙালিদের উপর নির্যাতন চালাতে সহযোগিতা করলো। দেশ স্বাধীন হ্বার পর বিহারীরা আবার রাষ্টহীন নাগরিক হয়ে পড়লো। পাকিস্তানে ফেরত যেতে চাইলো বিহারিরা কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাদের ফেরত নেয়নি আজও, তাই বিহারীরা তিন জেনারেশন ধরে রাষ্ট্রহীন নাগরিক হয়ে ঢাকা ও জেনেভা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রফেসর ইয়াসমিন যখন তার গবেষণা কাজ চালাচ্ছিলেন তখন তার কাছে তারা প্রশ্ন রেখেছে আগের প্রজন্মের কারো কৃতকর্মের জন্য নতুন প্রজন্মের সন্তানরা কেন ভুক্তভোগী হবে?

    Reply
  13. Abdullah Al Shafi Saikot

    ৩০ লক্ষ অবাস্তব‌‌‌‌. ১৯৭১ সালের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই খারাপ. নদীমাতৃক দেশে গ্রামাঞ্চলে না ছিল কোন সেতু বা ট্যাঙ্ক যাওয়ার কোন রাস্তা‌‌. অার ঐ সময় জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি যার বেশির মানুষ বাস করত গ্রামে‌.ঘন্টায় ৬ হাজার মানুষ হত্যা করা অবাস্তব. অাধুনিক যুগে সিরিয়া-ইরাকে অামেরিকা, রাশিয়া,ইরান, অাসাদ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী কর্তৃক বৃষ্টির ধারায় বেরেল বোমা, অাইএসএল, শিয়া-মিলিশিয়া বাহিনী, হেজবুল্লাহ কর্তৃক অত্যাধুনিক ধংসাত্মক অস্ত্র দিয়ে যেখানে ৩ লক্ষ মানুষ মারতে ৫ বছর লাগল, সেখানে বন্দুক-ট্যাঙ্ক দিয়ে ৯ মাসে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা করা অসম্ভব‌. তাই ৩ লক্ষকে ৩০ লক্ষ বানানো মুক্তিযুদ্ধকে মিথ্যা কলঙ্কিত করার সামিল‌‌‌ই নয় বাকি ২৭ লক্ষ মানুষকে মৃত ঘোষনা করা নিকৃষ্ট অপরাধ করার সামিল. তাই হুজুগের চেতনা নিয়ে লাফালাফি না করে সত্যকে মেনে নেওয়া উচিত.
    যে ব্যাক্তি যুদ্ধের ৯ মাসই কারাগারে বন্দি ছিলেন. তার ৩০ লক্ষ দেওয়ার ভাষনকেই সত্য হিসেবে গ্রহন করার কোন যুক্তিকতা নেই. মিথ্যাকে বর্জন করে সত্যকে গ্রহন করাই উচিত‌‌.

    Reply
    • Mahboob Moni

      আপনার হিসাবে ভুল কি ইচ্ছাকৃত? ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর কম বেশি ৮ মাস ২৪ দিন।বা ২৬৪ দিন । বা ৬৩৩৬ ঘন্টা। ৬০০০ প্রতি ঘন্টা হলে নিহত হন ৩৮০১৬০০০ জন। ইতিহাস আপনার মতো ঘোলাটে করছেনা। বলছে মাত্র ৪৭৩ জন নিহত হয়েছেন। সংখ্যাটা কি খুব বেশি ????

      Reply
      • Abdullah Al Shafi Saikot

        ম্যাম, ঘন্টায় মানুষ মারার হিসাব করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাহলে ইউরোপে মানুষের অস্তিত্ব থাকত না. অামি অামার মন্তব্যের ঐ অংশটুকু দ্বারা এটাই বুঝাতে চেয়েছি যে, ঘন্টায় বৃষ্টির পরিমান নির্ণয় করার সমীকরন দিয়ে মানুষ হত্যার সংখ্যা মাপা অনর্থক. অার হে ৭১ এ মানুষ বনাম মানুষ খুন হয়েছিল কোন সোফিয়া রোবট দ্বারা নয়. কারন একজন মানুষ সৈনিক একনাগারে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে ওয়ান শট রাইফেল দিয়ে ঘন্টায় অাপনার হিসাব মতে ৪৭৩ জনকে হত্যা করবে.যুদ্ধনীতি অনুসারে একজন সৈনিক এভারেজ ১০ ঘন্টা যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে. অার মনে রাখতে হবে যে ৭১ এ ২ মাস বর্ষা কাল ছিল. বেশিরভাগ সময়েই যুদ্ধ বন্ধ ছিল. তাহলে কি দাড়ায় ২০৪ দিন বা ২০৪০ ঘন্টা. যা ৯৬৪৯২০ জনে দাড়ায়‌. অার কোথায় থাকলো ৩০ লক্ষ. ‌অাপনার হিসাবে কি ভুল হচ্ছে না? অার ঘন্টায় ১৪৭ জন মানুষ হত্যা করাও কি খুব কম হয়ে গেল?

  14. পিলু

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পরাজিত হয়েছিল জার্মানি। জার্মান সৈন্য পৃথকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সেনাপতিদের কাছে। অন্য দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, চীন, নেদারল্যান্ডস, আস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কাছে পৃথক পৃথকভাবে। অন্য দিকে ১৯৭১-এ পাক বাহিনী কেবলই তদানীন-ন পূর্ব পাকিস্তানে আত্মসমর্পণ করেছিল এককভাবে ভারতীয় বাহিনীর কাছে। ভারত সে দিন বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে আসতে দেয়নি রমনার মাঠে। যে কারণেই হোক, তাকে আটকে রাখা হয়েছিল কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টে। ভারত কেন এটা করেছিল তার কোনো ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আর এর ফলে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ খাতাপত্রে পরিচিত হয়ে আছে কেবল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে। যদিও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে কখনই ভারতের পক্ষে জেতা সম্ভব হতো না।

    ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যে যুদ্ধ হয়, তা শেষ হয় ১৬ ডিসেম্বরে। ভারত একপক্ষীয়ভাবে ১৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করে পশ্চিম পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি। ভারতের ব্রিগেডিয়ার আর এন মিশ্র যুদ্ধশেষে সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশে যুদ্ধে জেতা সহজ হতো না। কিন্তু পাক বাহিনী যেহেতু আত্মসমর্পণ করেছিল কেবল ভারতীয় সেনাদের হাতে, তাই যুদ্ধটা বিশ্ববাসীর কাছে এ সময় খ্যাত হয় কেবল পাক-ভারত যুদ্ধ হিসেবে। আর সিমলা চুক্তি সম্পন্ন হয় কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এতে বাংলাদেশ কোনো অংশ নিতে পারে না। কেন ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারত মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ককে রমনার ময়দানে আসতে দেয়নি সেটা আমরা বলেছি, এখনো আছে রহস্যময় হয়ে। ১৯৭২ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে। এর মূলেও ছিল মার্কিন চাপ। ভারত স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে তার সৈন্য সরায়নি। মার্কিন চাপেই সে বাধ্য হয় সৈন্য সরিয়ে নিতে। এসব কথা শুনেছি, একাধিক লোকের মুখে, কলকাতা থেকে দেশে ফেরার পর।

    Reply
  15. পিলু

    ইন্দিরা গান্ধী সিমলা সম্মেলনে ওঠান যুদ্ধবন্দীদের বিচার করার প্রসঙ্গটি। ভুট্টো বলেন, এতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু বিচার হতে হবে জেনেভা কনভেনশন অনুসারে। জেনেভা কনভেনশন অনুসারে যুদ্ধবন্দী হত্যা হলো অন্যতম যুদ্ধাপরাধ। জেনেভা কনভেনশনানুসারে যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করা যায় না। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে ইপিআর তাদের হাতে ধরা পড়া পাক বাহিনী সৈন্যকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করেছে। জেনেভা কনভেনশনানুসারে হতে হবে তাদের বিচার। পিলু মোদি তার বইয়ে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা উঠতে পারত কাদেরিয়া বাহিনী সম্পর্কে। কাদেরিয়া বাহিনীর নেতা কাদের সিদ্দিকী অমানবিকভাবে নির্বিচারে বিহারি হত্যা করেছেন। সেটাও পড়তে পারে যুদ্ধাপরাধেরই মধ্যে। ইন্দিরা গান্ধী তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আর বেশি দূর অগ্রসর হতে চাননি। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গেলে দেখা দিত সমূহ জটিলতা। যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে দুই পক্ষ থেকেই। এক পক্ষ থেকে নয়।

    Reply
  16. মাহতাব হোসেন

    বুদ্ধিজীবিদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, বিনা বিচারে। কিন্তু কেন হত্যা করা হয়েছিল তাদের?
    মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পর শর্মিলা বসু মত প্রকাশ করেন যে ,এই অন্যায় হত্যাকান্ডে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা কম ,বরং পাকিস্তান পন্থী বাঙালীর আল-বদরের হাত রয়েছে।
    শর্মীলা বসু তার “Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh War” বইটিতে তিনি মত প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরেও অনেক স্থানে পাইকারিভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
    বিশেষ করে ১৯৭২ সালের ১০ মার্চ খুলনায় নিউ টাউন কলোনিতে ব্যাপক বিহারি হত্যা হয়েছিল।
    ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক হানাহানির ফলে যে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো বহাল আছে। এবং এর ফলশ্রুতিতে এখনও প্রবল রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে।

    Reply
  17. মাহতাব হোসেন

    “শর্মিলা বসু রচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক বিতর্কিত একটি বই।
    বইটি ১৯৭১ সালে সংঘটিত
    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে। লেখক তার নিজস্ব
    গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে বইটি রচনা করেছেন। যুদ্ধকালে মানবিক বিপর্যয়ের দিকটি তিনি উপস্থাপন তুলেছেন।
    বইটিতে তিনি দাবি করেছেন যে,
    পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যে ব্যাপক হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়ে থাকে তা অনেকাংশে অতিরঞ্জিত। বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থেই এই অতিরঞ্জন বলে তিনি দাবি করেছেন।পাকিস্তানীদের মধ্যে যারা ১৯৭১-এর পাকিস্তানীদের চালানো গনহত্যার সমালোচনা করে বই লিখেছেন, তাদের বর্ননাকে বসু ‘সীমাবদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছেন। যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের বর্ণনার সাথে পাকিস্তানীদের বর্ণনার অমিল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বসু পাকিস্তানীদের বর্ণনাকে বাংলাদেশীদের বর্ণনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করেছেন। যেসব বিদেশী সংবাদ প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে, তাদের ব্যপারে বসু বলেছেন, “বিদেশী সংবাদ প্রতিবেদন সবসময় সুষমভাবে নির্ভরযোগ্য নয়”।
    গণহত্যা ও লুন্ঠন
    তিনি কিছুসংখ্যক বাছাইকৃত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে সেই আলোকে তার মতামত তুলে ধরেছেন বলে সমালোচিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও
    মুক্তিবাহিনী উভয়েই হত্যা ও নিষ্ঠুরতার অপরাধে অপরাধী। মুক্তিবাহিনী ও তার ভাষায় ‘উগ্রপন্থী বাঙালী জাতীয়তাবাদী’রা নৃশংসভাবে অবাঙালী বিহারিদের হত্যা ও সম্পদ লুন্ঠন করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এক্ষেত্রে নির্বিচারে নিরপরাধ অরাজনৈতিক অবাঙালী (বিহারি নামে পরিচিত) পুরুষ, নারী ও শিশুরা হত্যাকান্ডের শিকার বলে তিনি লিখেছেন। অপরপক্ষে পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক অনেক স্থানে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা হত্যার শিকার বলে তিনি লিখেছেন। তবে তার মতে, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদেরকে রেহাই দিয়ে শুধুমাত্র সমর্থ পুরুষদেরকেই হত্যা করা ছিল পাক সেনাদের রীতি। অবশ্য সামান্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারী বা শিশুরা নিহত হয়েছিলেন বলে তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেন। পাকিস্তানীদের সহযোগী বাঙালী রাজাকার কর্তৃক অনেক হত্যা ও লুঠ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। অনেক এলাকায় মুসলিম জনগণের দ্বারা হিন্দুদের সম্পদ লুঠের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি লিখেছেন। অনেক পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তারা মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে অনেক স্থানে বিহারিদেরকে পাইকারিভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে তিনি লিখেছেন। বিশেষ করে ১৯৭২ সালের ১০ মার্চ খুলনায় নিউ টাউন কলোনিতে ব্যাপক বিহারি হত্যা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন ।

    Reply
  18. মাইন উদ্দিন

    ১৯৭১ সালের ৩০ লক্ষ সংখ্যাটিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে যেহেতু এটি একটি মৌখিক দাবি, কোনো ধরনের গণনা ছাড়াই এই দাবিটি করা হয়েছে. বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু ৩ লাখ বলতে গিয়ে ৩ মিলিয়ন বলে ফেলেছেন যেহেতু ইংরেজিতে লাখ বলে কোনো শব্দ নাই. আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর ৩ শব্দটাকে গ্রহণ করে মিলিয়নের জায়গায় লাখ ব্যবহার করি তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে অথবা সরকার গণনা করে সঠিক সংখ্যা বের করতে পারে. সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে রাজাকারদের যদি তালিকা থাকতে পারে, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের যদি তালিকা থাকতে পারে তাহলে যারা জীবন উত্সর্গ করেছেন তাদের তালিকা থাকবে না কেন?

    Reply
  19. murad

    ইরাকে ১০ বছর ব্যাপী ইঙ্গ-মার্কিন হামলার ৫ থেকে ৭ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিলো, ৭ লক্ষ ধরলে দৈনিক গড়ে ১৯৪ জন করে।। আর গোটা ইরাক ধংসস্তুপে পরিনত হয়েছিলো ।
    ২০১৪ তে গাজায় ৫০ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে সর্বমোট নিহত হয়েছে ২,৩০০ জন, গড়ে দৈনিক ৪৬ জন করে এবং পুরো গাজা ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছিলো।
    ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা এখন পযন্ত তিন লাখ ছাড়িয়েছে, পুরো সিরিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে।

    আর আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে-
    ২৬২ দিনে (৮মাস২২দিন) শহীদ হয়েছে ৩০,০০,০০০ জন ।
    সুতরাং একদিনে শহীদ হয়েছে ৩০,০০,০০০/২৬২ জন
    = ১১,৪৫০ জন ।
    অতএব, ৭১এ দৈনিক গড়ে ১১,৪৫০ জন করে শহীদ হয়েছে

    আমাদের এখানে কি ইরাক, সিরিয়া, গাজার চেয়ে বেশি যুদ্ধ হয়েছে???

    এখনকার যুগে এই একুশ শতাব্দীতে অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্রের যুগেও যেটা ( দৈনিক ১১,০০০ করে শহীদ) সম্ভব হচ্ছে না, সেটা ৭১এ সম্ভব হলো কি করে???
    নাকি সত্যিই তিনি ৩ লাখকে ৩ মিলিয়ন বলে ফেলেছেন???

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—