Bangabandhu - 36111

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ সারা বিশ্বে অতীব তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক প্রামাণিক দলিল হিসেবে পরিগণিত যাকে অতিসম্প্রতি ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’এর স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। ১৯৯২ সালে ইউনেস্কো তার ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’এর স্বীকৃতি প্রদান কর্মসূচী শুরু করে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিশ্বের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক দলিলসমূহকে মানবসভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এই ধারাবাহিকতায় আজ অবধি গোটা বিশ্বে মোট ৪২৭টি প্রামাণিক দলিলকে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’এর স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এই ৪২৭টি প্রামাণিক দলিলের মধ্যে অলিখিত ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি। বাঙালি জাতির জন্য কী অনবদ্য এক অর্জন!

ইউনেস্কো তার ওয়েব পেজে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে বর্ণনা করেছে:

The speech effectively declared the independence of Bangladesh. The speech constitutes a faithful documentation of how the failure of post-colonial nation-states to develop inclusive, democratic society alienates their population belonging to different ethnic, cultural, linguistic or religious groups. The speech was extempore and there was no written script.

অর্থাৎ ইউনেস্কোর বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ কার্যকর অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। এই ভাষণ গোটা বিশ্বের উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহের সর্বজনীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতার এক অকাট্য প্রামাণিক দলিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল একটি উপস্থিত-বক্তৃতা অর্থাৎ ভাষণটির কোনো লিখিত রূপ ছিল না।

আমার মতে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের এই চার মূলনীতি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথাই বলেছেন। তিনি বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন। তাঁর বক্তৃতায় বাঙালি জাতির উপর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতনের করুণ বর্ণনা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে শোষণমুক্ত সমাজতন্ত্রের প্রতিফলনও আমরা দেখতে পাই। তিনি তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, তেমনি অসহযোগ আন্দোলনে শ্রমজীবী গরিব মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন।

সবশেষে, বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে ধর্মনিরপেক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন। তিনি তাঁর বাঙালি জাতীয়তাবাদ চেতনার প্রতিষ্ঠায় হিন্দু, মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি সবার কথাই বলেছেন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতীয়তাবাদ যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আজ পর্যন্ত বিশ্বের আর কোনো নেতা পারেননি। তিনি ৭ মার্চের ভাষণে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:

“আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, তারা বাঁচতে চায়। তারা অধিকার পেতে চায়। নির্বাচনে আপনারা সম্পূর্ণভাবে আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন শাসনতন্ত্র রচনার জন্য। আশা ছিল জাতীয় পরিষদ বসবে, আমরা শাসনতন্ত্র তৈরি করব এবং এই শাসনতন্ত্রে মানুষ তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি লাভ করবে। কিন্তু ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস, বাংলার মানুষের মুমূর্ষু আর্তনাদের ইতিহাস, রক্তদানের করুণ ইতিহাস। নির্যাতিত মানুষের কান্নার ইতিহাস।”

অতএব, আমরা দেখতে পাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের আলোকে উদ্ভাসিত।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে সমাজতন্ত্রকে ধারণ করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্র ভাবনা শাস্ত্রীয় সমাজতন্ত্র ছিল না। আমরা পরবর্তীতে তাঁর অনেক বক্তৃতায় সে ব্যাখ্যা পেয়েছি। তিনি সমাজতন্ত্রকে তত্ত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে শোষণহীন, ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে অর্থনৈতিক মুক্তি দাবি জানানো হয়েছে, শোষণমুক্ত সমাজের দাবি জানানো হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণে যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক তিনি দিয়েছিলেন সেখানে শ্রমজীবী মানুষের উপর তাঁর বিশেষ দৃষ্টি ছিল। তিনি তাঁর ভাষণে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার সময় বলেছিলেন:

“গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেইজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা যেয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। আর এই সাত দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন।”

পাহাড়সম প্রতিকূলতার মধ্যে দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু গরিব দুখী ও শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে গণতন্ত্র। যদি তৎকালীন পাকিস্তানে গণতন্ত্রের বিজয় আমরা দেখতেই পেতাম তাহলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আর প্রয়োজনই হত না। সম্পূর্ণ বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকারের ন্যায্য দাবি জানিয়েছেন। তিনি যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। আবার এটাও সত্য যে, বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকশিত রূপ ধারণ করেছেন। গণতন্ত্রের সংখ্যাগত প্রেক্ষিত নয়, বরং তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গণতন্ত্রের গুণগত মান। ৭ মার্চের ভাষণে তাই তিনি বলেছেন:

“আমি বললাম অ্যাসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করব– এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজন যদিও সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।”

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে বলেছেন:

“এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।”

এই বাক্যটি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নীতির বহিপ্রকাশের একটি অনন্য উদাহরণ। দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে যে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল সেটি যে একটি ঐতিহাসিক ভুল ছিল তার বড় প্রমাণ হল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ জন্মের অন্যতম মূল উদ্দেশই ছিল ধর্মনিরেপেক্ষ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যদিও বঙ্গবন্ধুর মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার পূর্বে প্রদান করা হয়েছিল তথাপি ৭ মার্চের ভাষণের যে ভাষা তার মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের রূপকার হিসেবে দেখতে পাই।

আমাদের সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিল দ্বারা আমাদের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপরন্তু, সংবিধানের ৭(খ) অনুযায়ী সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের একটি অপরিবর্তনযোগ্য বিধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে পঞ্চম তফসিলে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি আমাদের সংবিধানের একটি অপরিহার্য ও অপরিবর্তনীয় অংশে পরিণত হয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ষষ্ঠ এবং সপ্তম তফসিল স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্রের মূল পাঠকে সংবিধানের সঙ্গে সংযোজিত করেছে মাত্র। কিন্তু যেটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই সেটা হল, ১৯৭২ সালের আদি সংবিধান থেকেই এই দুটি বিষয় আমাদের সংবিধানের অন্তর্গত করা হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্র দুটি আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলেও স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্র ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী হিসেবে চিহ্নিত করে সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।

একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত রয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি। সুতরাং এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল একটি অগ্নিশলাকা যা প্রজ্জ্বলিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধের ওই দাবানলের যার সামনে টিকতে পারেনি শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগিরা। ১৯৭১এর ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ এই ১৮ দিনে এই ভাষণ বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষকে প্রস্তুত করেছে মুক্তির সংগ্রামে– স্বাধীনতার সংগ্রামে। এই ভাষণ ছিল আমাদের সেই সময়ে দিশেহারা জাতির জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ।

আর আজকে এই ভাষণ শুধু বাঙালি জাতির একান্ত ঐশ্বর্য নয়, বরং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বমানবতার ঐশ্বর্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলের’ অন্তর্গত করার মাধ্যমে বিশ্বমানবতার বিজয় প্রতিষ্ঠিত হল। এগিয়ে যাক বিশ্বসভ্যতা, বিশ্ব মানবতা।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

তুরিন আফরোজপ্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

১৭ Responses -- “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: সংবিধানের ভিত্তি”

  1. মাহবুবুল মান্নান

    খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়কের “তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ ও অসাংবিধানিক কিন্তু আরও দুটার্ম এ রকম সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে” – রায় দিল। অথচ সব এ্যামিকাস কিউরিগন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মতামত ব্যাক্ত করছিলেন। অন্যদিকে উনার জাজমেন্টি সর্বসম্মত ছিলনা, মেজরিটিতে হয়েছে। উনার এই জাজমেন্টকে ভিত্তি ধরে হাসিনা এগিয়ে গেল নিজের শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে। ফলাফল হল- খায়রুল হক আইন কমিশনের প্রধান হল, হাসিনার শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হল, গনতন্ত্র নির্বাসনে গেল, ভোট ছাড়া সরকার গঠনের প্রয়জনীয় সাংসদ নির্বাচনের পনের দিন আগে নির্বাচিত হয়ে বসে থাকলেন, আগুনে পুড়ে ছাড়কার হল দেশের জনগন ও সম্পদ, গোপন হত্যার শীকার হল বিরোধী নেতা কর্মীরা, হাজার হাজার মানুষ কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্টে নিক্ষিপ্ত হল, জবাবদিহীতা বন্ধ হল, দূর্বল সরকার প্রতিষ্টা হল-ফলে বিদেশীদের দাপট দেশে প্রতিষ্টিত হল, ঘরে ঘরে কথিত হাওয়া ভবন তৈরী হয়ে দূর্নীতি প্রাতিষ্টানিক রূপ পেল। যার এক রায়ে এতকিছু হল, তিনি প্রজাতন্ত্র নিয়ে কথা বলে- একটি সর্বসম্মত রায়ের বিরুদ্ধে। সত্যিই সেলুকাস, বিচিত্র এই দেশ!

    Reply
  2. নুরুজ্জামান

    যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে, আইনের শাসনের কথা বলে তারাই মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধিনতা,আইন মানেনা । আমরা এ প্রজন্ম কি দেখছি, এসব সব ভূয়া মিথ্যা আওয়ামিলীগের একটা সীমা থাকার দরকার।প্রধান বিচারপ্রতিকে হুমকি ধুমকি পরবর্তিতে তার সাথে দেখা করা হাস্যকার, আসলে এরা বেয়াদব,! জাতি জেনেছে আবার ক্ষমতায় আসার জন্য অনেকটা তৎপর মরিয়া হয়ে উঠেছে।অতপর অবশ্যই হারাবে আওয়ামিলীগ।আবার রিভিউ করবে কেউ বলে বিচারপতি অবসরে গেলে, কেউ বলে ৩০ দিনের মধ্যে আ হা রে কি অস্তির, বেচারা রা টেনশনে।আজ হোক কাল হোক প্রতিশোধের আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হবে আওয়ামিলীগ।

    Reply
  3. নাজমুল হোসাইন

    মতামত প্রদানকারী লেখিকা সুপ্রীম কোর্টের একজন বিজ্ঞ আইনজীবি এবং একটি ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর। আইন বিষয়ে উনি লক্ষ কোটি সাধারণ মানুষের চেয়ে পারদর্শী, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রাখেন তাই স্বাভাবিক। সেই ক্ষেত্রে আইনের উৎস হিসেবে নজির বা উচ্চ আদালতের রায়ের গুরুত্বও উনার অজানা থাকার কথা নয়। যেখানে বিশ্বজুড়ে এটি একটা স্বীকৃত আইনের উৎস, এবং সেই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়েই বিচারবিভাগের দ্বারা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়! এবং তাও আবার বাধ্যকরী রূপে মেনে নেয়া হয়!

    চমৎকার হাইকোর্ট দেখালেন উচ্চ আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবি!

    Reply
  4. সাইফুল করিম

    এক সাগর রক্তের বিনিময় বাংলার স্বাধীনতা অানল যারা, অামরা তুমাদের ভূলব না,অামার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারি অামি কি ভূলিতে পারি,এই কথাগলো বাংলার ১৭কোটি জনগনের রক্তের বিনিময় তৈরী, সত লোকের খুব অভাব,অামরা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশটা সুন্দর করতে চাই,সেখানে কেন রাজনিতি হবে সার্থপর, সেখানে কেন দায়িত্ববানদের দায়িত্ববোধ বলতে কিছু থাকবেনা,প্রশাসন কেন অাইনকে পকেটে ভরবে,অাদালত কেন সুবিচার নিশ্চিত করবে না,অসৎ লোকেরা কেন রাজনিতি করবে,অামরা যুদ্ধ করেছিলাম নিপিড়িত অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে একটা অনালোকিত মানচিত্র গঠনে,স্বাধীনতার ৪৩বছর পার হলে ও দেশ কেন দুর্নিয়তি মুক্ত গণতন্ত্রীক সরকার পায়নি,যদি একটি বার পূর্ণ মোয়াদি সত সাহসী দুর্রনিতি মুক্ত অভিজ্ঞ কোন গণতন্ত্রীক সরকার দেশ পরিচালনা করত,তাহলে ৪৩বছর পার হয়ে যেত না,অামাদের বাপ দাদার মরার অাগে হয়তো দেখে যেতে পারতেন একটি উন্নত দেশ,বিচার বিভাগের পূর্ন স্বাধীনতা না থাকলে সাধারন জনগন সুবিচার পাবে না,গণতন্ত্র মারা যাবে!

    Reply
  5. মোল্যা মামুন

    শুনে এটা মনে হলো বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক আস্ত গাধা!! না হলে উনি কি করে এইসব কথা বলতে পারেন?? জনগনের দোহাই দিয়ে প্রতিটা কথা বলেন,,অথছ তাদের ভোটের অধিকার নিজেই কেড়ে নিয়েছেন!!! স্বাধিনতার ৪৬ বছর পর একটা মানুষ পেলাম যে কিনা আইনের শাষন কায়েমের কথা বলে তাকেই দুষমন বানিয়ে দিলেন???

    Reply
  6. মোঃ শাহিদুজ্জামান

    সংবিধান কে কখন চেন্জ করছে, কারটা বহাল আছে বা নাই এসকল দুচা দুচি বাদ দেন। আমি আওয়ামী, বিএনপি বা জামায়াত চিনি না। আমি চিনি গনপ্রজাতন্রী বাংলাদেশ কে। আমি স্বাধীন আমি এটাই জানি। আমি আপনার চাকর বা দাস নই। সো যেই বলবে গনতন্ত্রের কথা, যে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে আমি তাকেই সাপোর্ট করি। সো ফালতু আলাপ বাদ দেন। হয় আমাদের গনতন্ত্রের সঠিক রাস্তা দেখান, নাহলে রাস্তা ছাড়েন,,,

    Reply
  7. মামুন রশিদ

    পাকিস্থান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে পারে কিন্তু পরিতাপের বিষয় আপনার হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র তার চেয়েও ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। অবাক লাগে পাকিস্থানের মত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট যেখানে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নজির সৃষ্টি করতে পারে সেখানে কিছু সত্য বলার অপরাধে আপনারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেভাবে জিহাদ ঘোষণা করেছেন তাতে সুপ্রিমকোর্টের যেটুকু সম্মান, স্বাধীনতা ছিল তাও ধূলয় মিশে গেছে।
    প্রধান বিচারপতি যথার্থই আক্ষেপ প্রকাশ করে পাকিস্থানের সাম্প্রতিক বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দিকে ইংগিত করেছেন। আমরা আসলেই অনেক দূরে আছি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে!

    Reply
  8. পারভেজ সোহেল

    এখন জনগনের কথা বলতেছেন কেন!! ঐদিন জনগনের ভোটে নির্বাচিত হতেন তাহলে জনগন আজ তা বিচার করত।সেদিন জনগনকে লাতি মেরে অবৈধ ভাবে ক্কমতায় বসলেন এবং জনগনের টাকা কে লুটপাট করলেন। ১০ বৎসরে জনগনের জন্য কি করলেন? জনগন আওমীলীগ এবং বি এন পি বুঝে না। জনগন চায় তাদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা।

    Reply
  9. সিরাজুল আলম

    ওদের সাথে কি আমাদের তুলনা হয় ্ আমরা বিনা ভোটে চেয়ার দরে রাখি ৃআর ভোটের দিন দশ টা সময় ভোট শেষ করি ৃ আর রাতে বিচারে আগে পুলিশ দিয়ে মানুষ মারি আর সামরিক দের মতো আমরা অন্য কেউ মিছিল সমাবেশ সয্য করতে পারিনা আর তো আমরা মহা সুখে মা বোনদের ধষণ করি ৃযার বিচার আমরা করি না আর তো আমরা নিজের ফাসী হাওয়া লোকদের ছেড়ে দি আমরা তাহলে কোন দেশ টা সাথে তুলনা করলে আপনি সুখে তাকবেন

    Reply
  10. সানজিদ ফারহান

    আওয়ামীলীগ বাংলাদেশেরর গণতন্ত্রকে এমনভাবে নাপাক করছে যে একে ১০০ বার ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুইয়ে দিলেও ছাপ হবে না…

    Reply
  11. সাঈফ রফিক

    আওয়ামী লীগ যতই অপরাধ করুক না কেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের দোহায় দিয়ে সবখানে পার পেতে চায়। আসলে যারা বিএনপি করে তারাও(হয়ত কিছু মানুষ ছাড়া) বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে। দেশ স্বাধীন হয়েছিল যাতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আওয়ামীলীগই সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করল। বিচার বিভাগকেও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের প্রয়াসও এখন লক্ষ্যনীয়। সবকিছু নিজেদের কব্জায় নিয়ে দমন পীড়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যস্ত। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।আপনারাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার।কারণ রাজার চেয়ারে বসে শোষণের রাজনীতি কায়েম করতে চান।

    Reply
  12. আব্দুল্লাহ

    প্রধান বিচারপতির সুদীর্ঘ রায় কোনদিন পড়ে দেখার সুযোগ হবে না আমার।আর এ রায়ের ফলে বাংলাদেশের জনগন,বিরোধি দল,সরকারি দল কারা কতটুকু লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সে জটিল অঙ্কও মিলাতে যাব না।আমি শুধু এতটুকু ভেবেই খুশি যে,দেশরত্নরা এমন একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিলেন যার জন্য উনাদেরকে অনেকে গোল্ডেন A+দিয়েছিলেন।অথচ আজ তাদের সেই প্রিয় লোকটার দেয়া রায় মেনে নিতে কত কষ্ট।

    Reply
  13. আবদুর রাজ্জাক

    সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান – কথাটি সত্য নয়। আমাদের দেশে অনেক বিশিষ্ট নাগরিক আছেন, যারা নিজেরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না হলেও গণতন্ত্রকে বিভিন্ন সবক দেন।

    Reply
  14. আবদুর রাজ্জাক

    তরুণ ব্যারিস্টার তুরিন বহুল চর্চিত একটি বিষয়কে নতুন করে লিখলেন, নতুন কিছু পেলেন না। একবার তিনি বলেছিলেন তিনি(ম্যাডাম তুরিন) ‘আমিতো কোন যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের সাথে মিটিং করি নাই।’ এটা স্পষ্টতই চীফ জাস্টিসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। এটা কি ধরনের শিষ্টাচার, একজন জুনিয়র প্রসিকিউটর এই রকম কথা বললে তাঁর এবং প্রতিষ্টান হিসাবে চীফ জাস্টিসের ডিগনিটি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় ? যাই হোক, সরকারের উচিৎ ছিল দুদকে চিঠি লেখার বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে বিধি মোতাবেক অগ্রসর হওয়া। সরকার তা করেন নাই। চীফ জাস্টিস কিন্তু গোপনে কিছু করেন নাই।তাঁর পক্ষের যুক্তি কিন্তু জনগণ জানতে পারে না। সুতরাং মিডিয়া ট্রায়ালের উদ্দেশ্যে এহেন চর্বিত চর্বন কি যথেষ্ট সুস্থ মানসিকতার ছাপ রাখে? পাকিস্তানে নেওয়াজ শরীফ সর্বশেষ পদচ্যুতির পর পরিহাস করে বলেছিলেন যে তিনিই নাকি পাকিস্তানে একমাত্র করাপ্ট লোক। এখন বাংলাদেশে বিচারপতি সিনহার একই কথা বলার পালা। জাস্টিস মানিক আর ব্যারিস্টার তুরিনদের উচ্ছাস এবং উল্লাস দেখে অন্তত তাই মনে হয়।

    Reply
  15. আবু আমীন

    পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছিল কে? সেটি তো ওই হাইকোর্ট। সপ্তম সংশোধনী বাতিল করেছিল কে? সেটিও তো ওই হাইকোর্টই। ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছিল কে? সেটিও তো ওই হাইকোর্টই। শুধু তাই নয়, হাইকোর্টের রায়েই মোশতাকের সরকার, বিচারপতি সায়েমের সরকার, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকার এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদের সরকারও বাতিল হয়ে যায়। খায়রুল হক ৫ম সংশোধনী বাতিল করার সময় সামরিক শাসকদের সব বিধান বাতিল করে শুধুমাত্র সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে দিয়েছিলেন।এটা মার্জনা করেছিলো।বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদকে দেয়নি।এখন অাবার এটার বিরুদ্ধে বলতেছে কেন!! হাইকোর্ট যদি এতগুলো সাংবিধানিক সংশোধনী বাতিল করতে পারে, তাহলে সেই হাইকোর্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করতে পারবে না কেন?

    Reply
  16. সুরুজ বাঙালি

    বঙ্গবন্ধু কখনোই বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে তোষামোদ কিংবা তৈলমর্দন পছন্দ করতেন না। লেখিকা এই জিনিসটা আশা করি বুঝতে পারবেন।
    জয় বাংলা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—