Rohingya - 35000

একবার কানাডা আর বাংলাদেশের মধ্যে ক্রিকেট খেলা হচ্ছিল। দ্বৈত নাগরিক হিসেবে তখন লিখেছিলাম– জিতলেও আমার দেশ, হারলেও আমার দেশ। আরেক বার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক এক বৈঠকে মিলিত হলে লিখেছিলাম– ‘আমাদের দুই প্রধানমন্ত্রী’।

ঘটনাটা খুলেই বলি। গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ট্রিয়লে মন্ট্রিয়লে ‘ফিফথ রিপ্লেনিশমেন্ট কনফারেন্স অফ দ্য গ্লোবাল ফান্ড’ সম্মেলনে যোগ দেন। সেই সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর হাতে ‘ফ্রেন্ডস অফ লিবারেশন ওয়ার অনার’ পুরস্কার তুলে দেবেন। কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ও অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত পিয়েরে ট্রুডোকে (জাস্টিন ট্রুডোর বাবা) মরণোত্তর এই পুরস্কার প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের দুঃসময় যেমন পিয়েরে ট্রুডো বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিনও এগিয়ে এসেছেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে।

বিস্ময়ের ব্যাপার, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচার, নিপীড়ন নিয়ে বিশ্বের বড় বড় এবং ক্ষমতাশীল দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন এমনকি রাশিয়াও কোনো ভূমিকা বা পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশের পর একমাত্রই কানাডার বিরল ভূমিকা সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। যদিও দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কানাডা বা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নানাভাবে পদক্ষেপ নেননি। তিনি কানাডিয়ানদের পক্ষে মানবতার কারণেই এগিয়ে এসেছেন। তিনি বার্মার নেত্রী অং সান সু চিকে এজন্য ফোন করেছেন, চিঠি দিয়েছেন। এছাড়াও নিয়েছেন নানামুখী কার্যকরী পদক্ষেপ। তারপরও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, কানাডার বিরোধী দল এবং কোনো কোনো মিডিয়া জাস্টিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে, জাতিসংঘের ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দটিও উচ্চারণ করলেন না জাস্টিন ট্রুডো!

অথচ একমাত্র তিনিই প্রতিবাদ করে সুচিকে ব্যক্তিগতভাবে লিখেছেন:

“আপনি শান্তিতে নোবেলবিজয়ী হয়ে বহির্বিশ্বে সম্মান পেয়েছেন, আপনি একজন সন্মানজনক কানাডিয়ান। তারপরও মিয়ানমারের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, চার লাখ মানুষকে জবরদস্তিমূলক বাংলাদেশে বিতাড়িত করার মতো নিষ্ঠুর নিপীড়নের মুখে আপনার ক্রমাগত নীরবতায় আপনার সাথী কানাডিয়ানরা গভীর বিস্মিত, হতাশ এবং বেদনাক্রান্ত। তাই অনুরোধ, মানবাধিকার নিশ্চিত করে তাদের পাশে দাঁড়ান এবং মিয়ানমারকে একটি জাতিগত বিভক্তি থেকে রক্ষা করেন।”

তার আগেও, জাস্টিন মিয়ানমার রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকটা আন্তরিকতা এবং অধিকারের সুরেই। কারণ, রাউল ওয়ালেনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলা, দালাই লামা, আগা খান এবং মালালা ইউসুফজাইএর মতো অং সান সু চিও কানাডার সন্মানসূচক নাগরিক। তাই তাঁর সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের দাবিতে দশ হাজার গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা হাউস অফ কমন্সে উপস্থান=পন করা হচ্ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, সু চিকে দেওয়া কানাডিয়ান সম্মানজনক নাগরিকত্ব বাতিল করে দেওয়ার পক্ষে ৪০ শতাংশ নাগরিক।

 

Justin Trudeau - 111

 

শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিরা, সাংসদেরাও নানা ভূমিকা নিচ্ছেন। যেমন, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ জোন’ গঠন, শরণার্থীদের ‘শান্তিরক্ষা মিশন’ গড়ে তোলার জন্য কানাডা ভূমিকা নিবে। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হলাইংকেও টেলিফোন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিন। তিনিও রোহিঙ্গা নির্যাতনের খবরে কানাডা সরকারের তীব্র অসন্তোষ এবং উদ্বেগের কথা জানান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে।

ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমেদ হোসেন রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য ‘এক্সিট ভিসা’ সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

কানাডা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ এবং পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিবারেল পার্টির সাবেক প্রধান বব রেকে প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য আরও ১২ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য কানাডার দেওয়া আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ২৫ মিলিয়ন ডলার। আর কোনো দেশ এই পদক্ষেপ নেয়নি। ইতোমধ্যে বব রে দুই দেশ সফর করছেন।

তিনি ঘুরে ঘুরে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্যামেরা আর কর্মীদের উপস্থিতি ছাড়াই শিবিরে আশ্রিত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১২ রোহিঙ্গা নারীর কথা শুনেছেন। ওই নারীরা বব রে-কে যৌননিপীড়ন, বিমান হামলা, শিরোশ্ছেদ এবং শিশুদের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলাসহ বিভিন্ন ভয়াবহ সহিংসতার বহুমাত্রিক বিপন্নতার আখ্যান শুনিয়েছেন তাঁকে। সিটিভিকে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারে গিয়ে সু চির সঙ্গে তিনি ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা নিয়ে কথা বলবেন। ‘আমি তাকে বলব, কিছুই ঘটেনি এমন ভণ্ডামি কোনো কাজে আসবে না। একে দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেও লাভ হবে না’– ওই প্রচেষ্টাকে ‘বাজে’ প্রচেষ্টা আখ্যা দিয়েছেন বব রে।

তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে যা শুনেছেন, নিজের চোখে শরণার্থী শিবিরে তাদের যে বিপন্নতা দেখেছেন, সেগুলো নিয়েই কথা বলবেন মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে। রোহিঙ্গাদের বর্ণিত নিপীড়নের ঘটনাগুলো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন।

কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান নাথানিয়েল এরস্কাইন স্মিথ, যিনি টরন্টোর ইস্ট ইওয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত এমপি, তিনি পিতামাতাহীন রোহিঙ্গা শিশুদের কানাডায় আনার প্রস্তাব করেন।
মিয়ানমার কর্তৃক সে দেশের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এক বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে কানাডার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলের সিনেট মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি, সিনেটর জিম মানসন। সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন কমিটির ডেপুটি চেয়ার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান, সিনেটর মারিলু ম্যাকফ্রেডান, সিনেটর ইয়োনাহ মার্টিন, সিনেটর থান হাই গো, সিনেটর রেইনেল এ্যান্ড্রিচুক এবং সিনেটর রাতনা ওমিডভার। সিনেটর জিন মুনসন বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা সেখানে নির্মম, নিষ্ঠুর গণহত্যা চালিয়েছে, সেজন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

শুধু সরকারি দলই নয়, এগিয়ে এসেছে কানাডার হাউজ অফ কমন্সের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির। তারা যেন এক ধাপ এগিয়ে। কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান এন্ড্রু শিয়ার অভিযোগ, কানাডার বর্তমান সরকার যথার্থ পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। যেমন জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন কিছু বলেননি বা কানাডার সঙ্গে চীনের যে ব্যবসায়িক, সামরিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে তা কাজে লাগায়নি, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চাপ দেয়নি!

এদিকে প্রবাসী বাঙালিরাও নানাভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশিরা টরন্টোস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে এক প্রচার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মন্ট্রিয়লে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ‘ফান্ড রেইজিং গালা’ অনুষ্ঠিত। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ শীর্ষক তহবিল সংগ্রহ করা হয় অটোয়া থেকে। অনুরূপভাবে ভ্যাংকুভার, হ্যালিফ্যাক্সের প্রবাসী বাঙালিরা প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

তবে অ্যাঙ্গাস রেইড ইন্সটিটিউশনের এক জরিপে প্রকাশ, ৫৫ শতাংশ বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডার হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন ৫৫ শতাংশ কানাডিয়ান। কারণ, তাদের মতে, রোহিঙ্গা সমস্যা কানাডার ইস্যু নয়। আর ৩৫ শতাংশের মতামত, কানাডা ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য যথেষ্ট খরচ করে ফেলেছে।

আরও পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, কানাডা ২০০৬ থেকে ২০১০ সালে ৩৫৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সেদেশে স্বাগত জানিয়ে আশ্রয় দিয়েছে। সেই সময় কানাডাই প্রথম দেশ যারা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য এগিয়ে এসেছিল। এ নিয়ে ডেইলি ‘টরন্টো স্টার’ তিন দফায় দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

https://www.thestar.com/news/world/2012/08/22/persecuted_rohingyas_who_fled_to_canada_remember_harsh_life_in_native_burma.html

[১২ আগস্ট ২০১২, টরন্টো, কানাডা]

‘ফ্রি ইন কানাডা, বাট লস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড: রোহিঙ্গাস রিকল ব্রুটাল লাইফ ইন ক্যাম্প’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বার্মার সামরিক জান্তার চালচিত্র, নোবেলবিজয়ী অং সান সু চির প্রতি আচরণ, মিডিয়া্র উপর সেন্সরশিপ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, পশ্চিম-বার্মার রাখাইন ও মুসলিম-বার্মিজদের উপর নির্যাতন-নিপীড়িনসহ নানান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও থেকে রেহাই পাবার প্রত্যাশায় সাগর পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসা শরণার্থী শিবিরের মানবেতর জীবনযাপন, বাংলাদেশের সহযোগিতা, অতঃপর ইউএনের মাধ্যমে ২০০৬ এবং ২০১০ সালে কানাডায় আসা। কানাডায় এসেও সৈয়দ আলম, নূর হাসিম, আজিজ নূর, বদু জামা, সাদিয়া জামান, তায়েবা খাতুনেরা ভুলতে পারেনি বার্মা সেনা কর্তৃক স্বামী-সন্তানের হত্যার ভয়াবহ দৃশ্য, নিজ কন্যাকে ধর্ষণচিত্র। তারা কানাডায় এসে বেঁচে গেলেও ভুলতে পারেনি তাদের স্বদেশ-স্বজনের কথা। টরন্টোর কিচেনারে বসবাসরত এক রোহিঙ্গা শরণার্থী যেমন বলেন:

“কানাডায় স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু হারিয়েছি আমাদের জগত।”

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাললেখক

Responses -- “রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে কানাডা ব্যতিক্রম”

  1. tiplu barua

    বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে।রোহিঙ্গারা যেমন অর্থের বিনিময়ে অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় বাংলাদেশী পাসপোর্ট,ভোটার আইডি করছে তেমানি এদেশের অনেকেই ভারতে গিয়ে পাসপোর্ট করছে।আর বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গাদের উপেক্ষাই করলেন শিরোনামে যে মন্তব্য কলাম লেখা হয়েছে,তা একেবারেই যথার্থ ও বাস্তব।

    Reply
  2. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ভারতীয়রা তাদের রক্ষনশীল নীতি থেকে না সরলে বাংলাদেশে ভারত বিদ্বেষ আরও বাড়বে। ভারত তাদের পার্শবর্তী ছোট রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে যা তাদের একটি ত্রুটিপূর্ণ স্ট্রাটেজি। এই ধারণা থেকে তারা বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানসহ সার্কের প্রায় সব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। তাছাড়া নিজেদের নিরাপত্তার ভয়ে তারা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে স্থবির করে রেখেছে। সারা বিশ্বের সবকটা রিজনাল এসোসিয়শেনের মধ্যে সার্ক সবচেয়ে দুর্বল। ভারতের কাছে তাদের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে তথাকথিত সার্বভৌমত্ব চেতনার দাম বেশি।

    Reply
  3. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে মিয়ানমারের বিপক্ষে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশের প্রতিবেশি অকৃত্রিম বন্ধু ভারত সাথে ছিল নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা। সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে চিরশত্রু পাকিস্তান সাথে ছিল আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ। বাংলাদেশকে নয়াদিল্লির ‘তথাকথিত বন্ধু’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ আহির। ভারতের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তান ও চীনের চেয়ে বাংলাদেশই বেশি চ্যালেঞ্জিং বলেও মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী আহির এ মন্তব্য করেন। প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের মধ্যে তাঁর বিতর্কিত এই মন্তব্য এল। তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী আহিরের এই মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী আহির বলেন, ‘শুধু চীন বা পাকিস্তান নয়, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশও বড় এক চ্যালেঞ্জ। আমি এটা জানি কারণ আমি খুব মনোযোগ দিয়ে এটা দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে। এটা চলতে থাকলে একমাত্র স্মার্ট প্রযুক্তিই আমাদের ওই অনুপ্রবেশ দমনে সহায়তা করতে পারে।’

    Reply
  4. বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গাদের উপেক্ষাই করলেন!

    জাতিসংঘের মহাসচিবের আহ্বানে মিয়ানমারের অবস্থান নমনীয় হবে, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা অন্তত তা-ই বলে। শরণার্থীদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে। সবাই সেটাকে কাজে লাগাতে চায়। সুতরাং, ত্রাণ কার্যক্রম এবং শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে কিছুটা দায়িত্ব দেওয়া ও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে হয়তো জোরালো সমর্থন মিলবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। শরণার্থী ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষি মিয়ানমারের খুব পছন্দের একটি কৌশল। মিয়ানমার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সফল হয়েছে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে নিয়োজিত আছে। এই কৌশল অনুসরণ করে ১৯৯২ সাল থেকেই তারা সুবিধা পেয়ে আসছে।

    দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে কোনো সমাধান নেই, সেটা মেনে নিয়েই রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণে নতুন করে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আগামী সপ্তাহে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত সফরে যেন আবারও কিছু প্রতীকী প্রত্যাবর্তনের সমঝোতা না হয়। স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের আওয়াজে মিয়ানমারের খুশি হওয়ারই কথা। কেননা, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহসা বদলাবে এমন সম্ভাবনা কম। দেশটির সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা ফিরে পাওয়া খুবই কঠিন। সে রকম পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত বোঝাটি বাংলাদেশেরই ঘাড়ে চাপবে বলেই অনেকের আশঙ্কা।

    Reply
  5. বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গাদের উপেক্ষাই করলেন!

    মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা লিখেছে, রোহিঙ্গারা দরিদ্র এবং বলা চলে তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। বিশ্বের ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো বা বড় বড় রাজধানীতে আমলা কিংবা রাজনীতিকদের মধ্যে তাদের পক্ষে ওকালতি করার কেউ নেই, যেমনটি আছে কুর্দিদের। তাদের পক্ষে বিভিন্ন দেশে জনমত গঠনের জন্য রাস্তায় নামার মতো রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত ছাত্রছাত্রীও খুব বেশি একটা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান নয়। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারের একজন পণ্ডিত আইডান হেহির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি ওয়েবসাইট ডাক অব মিনার্ভায় লিখেছেন, পাশ্চাত্যের সরকারগুলো জানে যে তাদের ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাদের নেই।

    নিউইয়র্ক টাইমস আরও লিখেছে, নেতারা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো স্বদেশের অভ্যন্তরীণ চাপকেই শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আর মিয়ানমারেও দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার বলয়ে রোহিঙ্গা দমনের বিষয়ে একধরনের মতৈক্য আছে। গণহত্যা বা গণনৃশংসতার বিষয়ে হার্ভার্ডের একজন বিশেষজ্ঞ কেট ক্রোনিন ফারম্যান পত্রিকাটিকে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলো নৃশংসতা করে তখনই, যখন তার জন্য সে বিশেষ প্রণোদনা পায়। স্পষ্টতই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং দেশটির নির্বাচিত জননেত্রী অং সান সু চি উভয়ের কাছে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের বিষয়টিই প্রধান প্রণোদনা।

    Reply
  6. বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গাদের উপেক্ষাই করলেন!

    সন্ত্রাসের শিকার আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি ফিলিপাইন যে সহজেই মিয়ানমারের যুক্তি গ্রহণ করবে, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তা ছাড়া ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের নিজের মানবাধিকার-বিষয়ক রেকর্ড এতটাই বিতর্কিত যে মানবাধিকার-বিষয়ক যেকোনো বিষয় আলোচ্যসূচি থেকে তিনি দূরে রাখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের বিস্মিত হওয়ার যেটুকু আছে, তা হলো সেই প্রশ্ন যে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর জন্য আমাদের কি কোনো কৌশল ছিল? যদি কোনো কৌশল আমরা অনুসরণ করে থাকি, তাহলে তা ব্যর্থ হলো কেন?

    মিয়ানমারের দ্বিতীয় কৌশলটিও আমাদের একেবারে অজানা নয়। রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে চিত্রিত করার মিয়ানমারি কৌশলের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাশ্চাত্যসহ অন্য দেশগুলোকে এ কথা বোঝানো যে বাঙালিরা সবাই অর্থনৈতিক অভিবাসী। এরা সারা বিশ্বেই অবৈধভাবে অভিবাসনে এগিয়ে আছে এবং মিয়ানমারও তার ভুক্তভোগী। বছর কয়েক আগে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর মিছিলের কথা আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সৃষ্ট বঙ্গোপসাগরের সেই অভিবাসন স্রোত বন্ধে আসিয়ান দেশগুলো সেখানে নৌবাহিনীর সমন্বিত টহলের ব্যবস্থা করেছিল। পাশ্চাত্যেও এমন দেশ খুব কমই আছে, যেখান থেকে আমরা বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসনের কথা শুনি না। সুতরাং, মিয়ানমার মনে করে, অর্থনৈতিক অভিবাসনের যুক্তিটিতে অনেক দেশকেই প্রভাবিত করা সম্ভব। রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতির সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশিদের অভিবাসন-ধারার যোগসূত্রকে নাকচ করার কোনো পাল্টা কৌশল আমরা নিয়েছি কি?

    Reply
  7. বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গাদের উপেক্ষাই করলেন!

    রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণে নতুন করে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন
    যেমনটি আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তেমনই হয়েছে। বিশ্বনেতারা এশিয়ার একটি আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক শীর্ষ সম্মেলন ও তার বর্ধিত আয়োজনে মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে পারলেন না। সন্ত্রাসবাদের ধোঁয়াশার অজুহাতে মিয়ানমারের কথিত রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিই শেষ পর্যন্ত টিকে রইল। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান এমনকি মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের কোনো উল্লেখই তাঁদের ঘোষণায় পাওয়া গেল না। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, কানাডার জাস্টিন ট্রুডো কিংবা নিউজিল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী জাচিন্দা আর্দানের মতো কয়েকজন নেতা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানালেও মিয়ানমারের অন্য প্রতিবেশীরা প্রায় সবাই অনেকটা নিশ্চুপই রইলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিচিয়াং যথারীতি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেন। ইউরোপ মিয়ানমারে গণহত্যার নিন্দায় সোচ্চার হলেও ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্কের বক্তৃতাতেও প্রসঙ্গটির কোনো উল্লেখ নেই।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—