Teacher - 1111100

ছোট শিশুদের স্কুলে দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই আমি এরকম স্কুলে চলে যাই, বাচ্চাদের সাথে কথা বলি। শহরের বাচ্চাদের চেহারা ছবি পোষাক এক রকম, গহীন গ্রামের একটা স্কুলের বাচ্চাদের অন্যরকম, কিন্তু তাদের ভাবনা চিন্তা মোটামুটি একই ধরণের। স্কুলের বাচ্চাদের পেলেই আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করি, “তোমরা বড় হয়ে কী হতে চাও?”

বাচ্চাগুলি তখন একে অন্যের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে। দেখেই বোঝা যায় বড় হয়ে যে নিজের ইচ্ছামতো কিছু একটা হওয়া যায় ব্যাপারটা তারা জানেই না। আমাকে তখন তাদের সাহায্য করতে হয়, আমি জিজ্ঞেস করি, “তোমরা কি বড় হয়ে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবে? নাকি বিজ্ঞানী কিংবা পাইলট কিংবা পুলিশ, না হলে র‌্যাব হবে? নাকি শিক্ষক কিংবা অফিসার হবে?”

বাচ্চাগুলো তখন নড়ে চড়ে বসে এবং একজন সাহস করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার পাইলট এরকম কিছু একটা বলে ফেলে এবং তখন দেখা যায় অন্য সবাইও সেই একই পেশায় যেতে চায়। আমি এখন পর্যন্ত অনেক বাচ্চার সাথে কথা বলেছি এবং তারা অনেক কিছু হতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে বলতে শুনিনি সে বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়!

আমি বাচ্চাদের একটুও দোষ দিই না। তাদের জন্যে স্কুল কখনোই আনন্দময় একটা জায়গা নয় এবং সেই স্কুলের দায়িত্বে যে শিক্ষকেরা থাকেন সম্ভবত তাদেরকে নিয়ে বাচ্চাদের কোনো সুখস্মৃতি নেই। কিংবা তারা হয়তো দেখেছে একজন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা পুলিশ অফিসার অনেক দাপটে থাকে, তাদের তুলনায় একজন শিক্ষক থাকেন খুবই দুর্বলভাবে কিংবা দীনহীনভাবে। তাই বড় হয়ে তারা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে না।

আমি আমার নিজেকে দিয়েও বিষয়টা চিন্তা করে দেখেছি। ছাত্রজীবনে আমি যে ধরনের শিক্ষকদের দেখেছি তাদের কথা মনে করতে চাইলে বিভীষিকাময় নিষ্ঠুর, শিক্ষকদের কথা আগে মনে পড়ে। তাদের নিয়ে আতংকের বিষয়টা এতই ব্যাপকভাবে আসে যে, অন্য দুই চারজন ভালো শিক্ষকের স্মৃতি ঢাকা পড়ে যায়। তাদের মিষ্টি করে বলা কোনো কথা মনে নেই ,কিন্তু যতবার তাদের হাতে মার খেয়েছি প্রত্যেকটা ঘটনার কথা স্পষ্ট মনে আছে। শারীরিক যন্ত্রণার কথা ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু অপমানটার কথা কখনো ভোলা যায় না।

আমাদের দেশে আইন করে স্কুলে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বিষয়টা তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি অনেক বড় ঘটনা, যদিও আমরা এখনো পত্রপত্রিকায় স্কুল-মাদ্রাসাতে ছাত্রছাত্রী পেটানোর ভয়ংকর ঘটনার কথা মাঝে মাঝেই দেখতে পাই।

এ ব্যাপারে আমার নিজেরও ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের ইউনিভার্সিটির যে স্কুল, আমি তখন তার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। হঠাৎ একদিন আমার কানে এল কোনো একজন ছাত্রীর গায়ে কোনো একজন শিক্ষক হাত তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি খুবই বিচলিত হয়ে পরদিন সেই ক্লাসে হাজির হয়েছি।

যে শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন তার কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষককে কিছুক্ষণের জন্যে আমাকে ছাত্রছাত্রীদের সাথে নিরিবিলি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্যে অনুরোধ করেছি। শিক্ষক বাইরে চলে গেলে আমি দরজা বন্ধ করে তাদের কাছে জানতে চাইলাম সত্যি সত্যি কোনো শিক্ষক তাদের গায়ে হাত তুলেছেন কিনা। প্রথমে সবাই মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে রইল। খানিকক্ষণ অভয় দেওয়ার পর তারা মুখ খুলল এবং জানতে পারলাম সত্যি সত্যি এই ধরনের ব্যাপার ঘটছে।

আমাদের স্কুলজীবনে শিক্ষকেরা ছাত্রদের পেটানোর জন্যে লম্বা বেত হাতে করে ক্লাসে ঢুকতেন। এখন সেটি সম্ভব নয়। তাই ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলার জন্যে এখনকার শিক্ষকদের কোনো একটা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। এই ক্লাসে ধাতব রুলার দিয়ে একাধিক ছাত্রীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই আমি যথেষ্ট বিচলিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের বললাম যে, দেশে আইন হয়েছে, শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তুলতে পারবে না। কাজেই যদি কোনো শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তুলে থাকেন তাহলে তিনি দেশের আইন ভঙ্গ করছেন। দেশের আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি হয়। তাই সেই শিক্ষকেরও শাস্তি পাওয়ার কথা। চুরি, ডাকাতি, খুন যে রকম অপরাধ, ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলাও সে রকম অপরাধ। কাজেই যদি ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটে তাহলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের সাথে কোনো বেয়াদবি না করে যেন শাস্তিটুকু সহ্য করে। তারপর স্কুল ছুটির পর আমার অফিসে এসে যেন আমাকে ঘটনাটা জানায়।

 

Teachers - 111

 

আমি কথা শেষ করার সাথে সাথে পুরো ক্লাস এমনভাবে আনন্দধ্বনি করে উঠল যে, আমি খুব অবাক হলাম এবং আমার মনে হল হয়তো এ রকম ঘটনা স্কুলে নিয়মিতভাবে ঘটছে। আমার তখন মনে হল যে, হয়তো অন্যান্য ক্লাসে গিয়েও আমার ছাত্রছাত্রীদেরকে একই কথা বলে আসা উচিৎ।

আমি তাই একটি একটি করে প্রত্যেকটি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদেরকে বলে এলাম, তাদের গায়ে হাত তোলা দেশের আইনে অপরাধ এবং যদি তাদের উপর এই অপরাধ করা হয় তাহলে যেন সেটি আমাকে জানানো হয়। প্রত্যেকটা ক্লাসেই আমি বিশাল আনন্দধ্বনি শুনতে পেলাম।

শুধু ছাত্রছাত্রীদের বলেই আমি শেষ করে দিলাম না, আমি সব শিক্ষকদের ডেকে তাদের বললাম, তারা কোনো অবস্থাতেই কোনো ছাত্র ছাত্রীর গায়ে হাত তুলতে পারবেন না।

তারপর স্কুলে যেটা ঘটল আমি সেটার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কয়েকদিন পর খবর পেলাম পুরো স্কুলে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। ছাত্রছাত্রীরা চেঁচামেচি চিৎকার করে সময় কাটায়, শিক্ষকেরা ক্লাসে উদাস মুখে বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের নরক গুলজার করতে দেন। হেডমাস্টার শিক্ষকদের ক্লাসের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললে এরা মুখ ভার করে আমার কথা বলে– আমি নাকি তাদের বলেছি ছাত্রছাত্রীদের কিছু বলা যাবে না, তাই তারা কিছু বলেন না!

এই বয়সের ছেলেমেয়েদের ক্লাসে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে দিলে তারা কী তুলকালাম কাণ্ড করতে পারে সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচির কারণে স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। সব শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না! অনেক কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থা সামাল দিতে হয়েছিল।

কিছুদিন আগে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছে, “আপনার বেশ কয়েকটি পরিচয় আছে, লেখালেখি করেন, গবেষণা করেন, শিক্ষকতা করেন, কখনও কখনও নানারকম আন্দোলনও করেছেন। আপনার কোন পরিচয়টিতে আপনি পরিচিত হতে চান?”

আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা না করে বলেছি, “আমি শিক্ষক পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই।”

আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করে দেখেছি, শিক্ষকতা না হয়ে অন্য কোন পেশায় যোগ দিলে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। একটাও খুঁজে পাইনি। আমার ধারণা, আমার মতো যারা শিক্ষক– সেটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকই হোন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের– সবাই আমার কথায় সায় দিবেন।

তার কারণ আমরা যারা শিক্ষক তারা সত্যিকারের মানুষ নিয়ে কাজ করি। আমরা প্রত্যেক দিন ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলি। তাদেরকে পড়াই, পড়তে না চাইলে ভয়ভীতি দেখাই। তারা ভালো কিছু করলে খুশিতে আটখানা হয়ে যাই। তারা ভুল করলে লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। একদল ছাত্র পাস করে বের হয়ে যায় তখন অন্য একদল ছাত্র এসে ঢুকে। দেশে-বিদেশে হঠাৎ হঠাৎ একজনের সাথে দেখা হয়ে যায় যে বলে, ‘স্যার, আমি আপনার ছাত্র’। হয়তো পাশে তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে থাকে, কোলে শিশুসন্তান। যে ছাত্র প্রায় কিশোর হিসেবে একদিন পড়তে এসেছিল এখন সে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। দেখে কী ভালোই না লাগে!

শুধু আমরা, শিক্ষকেরা, সেই আনন্দটুকু পেতে পারি। আমার মনে হয় না অন্য কোনো পেশার কোনো মানুষ কোনোদিন আমাদের এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারবে।

তবে লেখাপড়ার জগতে একটা মৌলিক পরিবর্তন হচ্ছে যেটা আমরা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। একটি সময় ছিল যখন একটি সার্টিফিকেট খুব একটা মূল্যবান বিষয় ছিল। সেই সার্টিফিকেট কোন বিষয়ের সার্টিফিকেট সেটা নিয়েও মানুষজন মাথা ঘামাত। শুধু তাই নয়, ছাত্র বা ছাত্রীটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট এনেছে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধীরে ধীরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে যাচাই করার একটিমাত্র মাপকাঠি– সেটি হচ্ছে, তার যে বিষয়টুকু জানার কথা সে সেটা জানে নাকি জানে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতে পারেনি, হাতে কোনো সার্টিফিকেট নেই, কিন্তু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে এ রকম উদাহরণের এখন অভাব নেই।

কাজেই আমাদের শিক্ষকদের একটি নতুন দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো, নতুন পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে একটি চকচকে সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়। একটি ছাত্রকে যেটি জানার কথা সেটি জানতে হবে। তার চাইতে বড় কথা, একশ বিলিয়ন নিউরন দিয়ে তৈরি মস্তিষ্ক নামের অমূল্য সম্পদটি ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে শাণিত করে রাখতে হবে। যখন প্রয়োজন হবে তখন যেন সেটা ব্যবহার করা যায়। মুখস্ত করে কিংবা কোচিং ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থী না হয়ে শুধু পরীক্ষার্থী হওয়ার ট্রেনিং নিয়ে নিয়ে তারা যেন নিজেদের মস্তিষ্কটি ভোঁতা করে না ফেলে।

আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়াই তারা সবাই একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি। গত কয়েক বছর থেকে ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসেছ। অনেক সময়েই মনে হয় পড়ানোর সময় আমি যেটা বলছি ছাত্রছাত্রীরা সেটা শুনছে, কিন্তু বোঝার জন্যে মস্তিষ্কটি ব্যবহার করতে তাদের ভেতর এক ধরনের অনীহা, এক ধরনের আলস্য।

এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। আমার কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। কিন্তু আমার মনে হয়, এটি হচ্ছে ফেসবুক জাতীয় সামাজিক নেটওয়ার্কে বাড়াবাড়ি আসক্তির ফল। এটি নিশ্চয়ই শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর সমস্যা। আমি একাধিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখেছি, মাদকে আসক্তি এবং ফেসবুকে আসক্তির মাঝে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

তবে এ কথাও সত্যি, সারা পৃথিবীতেই সকল মানুষ দাবি করে এসেছেন তাদের সময়ে তরুণ সমাজ অনেক ভালো ছিল এবং নতুন প্রজন্মের হাজারো সমস্যা! আমি নিশ্চিত, আমি এখন যে তরুণ প্রজন্মের সমালোচনা করছি তারা যখন বড় হবে তখন তারাও নূতন প্রজন্মের সমালোচনা করে হতাশা প্রকাশ করবে। কাজেই আমরা যাদের পেয়েছি তাদের নিয়ে অভিযোগ না করে যেটুকু এগুতে পারি সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চাই।

তবে এ কথা সত্যি, আমার শিক্ষকতা জীবন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি খুব সফল নই। আমি জানি আমার ছাত্রছাত্রীরা আমাকে যমের মতো ভয় পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট বড় এবং তাদেরকে পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো বিবেচনা করা উচিৎ। ক্লাসের বাইরে আমি সেটা করি। কিন্তু ক্লাসের ভিতরে আমি তাদের প্রায় কিন্ডার গার্টেনের বাচ্চার মতো নজরদারি করি। কোনো রকম ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ একদিন ক্লাসে আমি যখন পরীক্ষা নিয়ে ফেলি তখন তারা নিশ্চিয়ই আমার উপর খুব বিরক্ত হয়। শুধু তাই না, আমি ক্লাসে ছেলেমেয়েদের প্রশ্ন করে করে ক্রমাগত উৎপাত করি। আমার ক্লাসে ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই শান্তিতে বসতে পারে না। তাই যদি আমাকে যমের মতো ভয় পায় তাদের দোষ দেওয়া যাবে না।

ক্লাসে ছাত্রদের প্রশ্ন করা নিয়ে একটা ঘটনার কথা বলে শেষ করে দিই। ক্লাসে পড়াতে পড়াতে একদিন একটা ছাত্রকে খুব সোজা একটা প্রশ্ন করেছি, ছাত্রটি প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারল না। আমি খুবই বিরক্ত হয়ে পরের জনকে একই প্রশ্ন করেছি। সে-ও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। আমি তখন রীতিমতো রেগে উঠে পরের জনকে প্রশ্ন করলাম, সে-ও উত্তর দিতে পারল না। তখন আমি একজন একজন করে সবাইকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছি এবং তারা কেউ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না এবং আমি ধীরে দীরে রেগে উঠতে শুরু করেছি। একজন একজন করে যখন আমি একেবারে শেষ ছাত্রটির কাছে পৌঁছালাম এবং সে-ও আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না, তখন আমার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল সেই ছেলেটির উপর। তাকে প্রচণ্ড বকাঝকা করে যখন শেষ করেছি, তখন ছেলেটি খুবই করুণ গলায় বলল, “স্যার আমি আসলে এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র না। আমি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে পড়ি। আপনি কীভাবে ক্লাস নেন সেটা দেখার জন্যে এসেছিলাম।”

পুরো ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ল এবং আমার সমস্ত রাগ মূহূর্তের মাঝে পানি হয়ে গেল।

শিক্ষকতা জীবনের এ রকম টুকরো টুকরো ঘটনার শেষ নেই এবং আমার ধরণা শুধুমাত্র একজন শিক্ষকের জীবনেই এ রকম ঘটনা ঘটা সম্ভব। কারণ আমরা ফাইল নিয়ে কাজ করি না, যন্ত্র নিয়ে কাজ করি না, আমরা কাজ করি রক্তমাংসের মানুষ নিয়ে। যাদের চোখে রঙিন চশমা এবং যারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে!

[বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০১৭ জাতীয় উদযাপন কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে পঠিত]

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭ Responses -- “শিক্ষক এবং শিক্ষকতা”

  1. মুহম্মদ আবু রাজীণ

    জাফর ইকবাল স্যারের কথাও ঠিক আছে, মাকসুদুর রাহমান সাহেবের কথারও যুক্তি আছে…
    সম্ভবত আমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি হবে সেই মধ্যমপন্থা? এর উত্তর হচ্ছে, আমি জানি না। তবে এটুকু বুঝি, মধ্যমপন্থাটি অবশ্যই সুচিন্তিত দীর্ঘ গবেষণালব্ধ হতে হবে। নয়ত অামাদের পরবর্তি প্রজম্নে সনদধারী মূর্খে ভরে যাবে। তখন হয়ত এমন একটা চিত্র দেখা যেতে পারে, যেখানে চাকরি পাওয়ার প্রধাণ শর্ত হবে চাকরি প্রার্থি অবশ্যই কোন স্কুল বা কলেজ থেকে অর্জিত সনদধারী হতে পারবে না।

    Reply
  2. আইরিন ইরা

    স্যার, খুব ভালো লিখেছেন।
    যারা আপনার সরাসরি ছাত্র তারা সত্যিই খুব ভাগ্যবান। আপনি পরোক্ষভাবে আমারও শিক্ষক। কারন, আমার মূল্যবোধ গড়ে ওঠার সময়গুলোতে আপনার লেখা বইগুলো ছিল আমার অন্যতম শিক্ষক।

    Reply
  3. আব্দুল্লাহ আইমান

    কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন হতে যেমন বাধা নেই তেমনি আমাদের ডিজিটাল ডিজুস আবাল প্রজন্মেরও তথাকথিত সৃজনশীল পদ্ধতির ভেতর দিয়ে সৃজনহীন হয়ে উঠতে কোনোও সমস্যা হচ্ছে না। জাতির এত বড় ক্ষতি যারা করলেন ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবে না। শুধু নাম দিলেই কী সৃজনশীল হওয়া যায়? এমনই সৃজনশীল আমরা বানাচ্ছি এইচএসসি পাশ করে সনদ তুলতে এসে বাংলায় দরখাস্ত লিখতে জানে না। অধ্যক্ষ বানানে লিখে অদক্ষ, আবার কেউ লিখে প্রধান হেড মাস্টার অথবা হেড মাস্টার। এদের সৃজনশীল কর্ম দেখে হাসবো না কাঁদবো! সৃজনশীলপূর্ব যুগে এতটা অথর্বের দেখা পাই নি।
    সৃজনশীল পদ্ধতির কর্তাব্যক্তিরা ভেতরের খবর জানেন কি না জানিনা। যিনি প্রশ্ন করেন আর যে ছাত্র/ছাত্রী উওর দেয় এবং যিনি খাতা দেখেন, সত্যিকার অর্থে এ তিন পক্ষের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই। তিন পক্ষই এখানে স্বাধীন। অর্থাৎ ছাত্র যদি বাঁশগাছের জায়গায় কলাগাছ লিখে দেয় কোনো সমস্যা নেই, গাছ তো লিখেছে, এটাই যথেষ্ঠ। এর নাম যদি সৃজন হয় তাহলে পিকাসো, গঁগা, দ্যা ভিন্সিরা লজ্জায় কোথায় লুকাবেন আল্লাহ মালুম। অর্থাৎ ছাত্র,শিক্ষক, পরীক্ষক তিন পক্ষই এ্যাবাস্ট্র্যাক বা বিমূর্ত ধারণা য় আসীন। এরকম ভাব-বিলাসী এক আজব পদ্ধতির বেড়াজালে আমাদের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে অঙ্কুরেই শেষ করে দিচ্ছে।
    আমি নিশ্চিত এ পদ্ধতির ভেতর দিয়ে একজন জয়নুল কিংবা সুলতান বেরিয়ে আসবে না। জন্মাবে না একজন শহীদুল্লাহ কিংবা সুনীতিকুমার। জন্মাবে না একজন শেরে বাংলা কিংবা সোহরাওয়ার্দী। হ্যাঁ একটা বিশেষ শ্রেণি রয়েছে যারা খুবই ভালো। এটা কিন্তু সৃজনশীল পদ্ধতির অবদানে নয়, পারিবারিক সচেতনতার কারণে, অথবা ব্যতিক্রম। আর দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর সন্তানরা…যাহা লাউ তাহাই কদু।
    সৃজনশীল এমনই এক আজব পদ্ধতি এখন আর রাত জেগে পড়াশোনার কোনো প্রয়োজন নেই। পরীক্ষা দিলেই পাশ, ছাত্ররা কোন দুঃখে কষ্ট করবে! এখনকার শিক্ষা পদ্ধতি অধ্যায়নের বাইরের শিক্ষাকেও ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের আবাল প্রজন্ম পোশাক পরতেও জানে না। অথচ পোশাক পরতে জানাও শিক্ষা। এদের পোশাক হচ্ছে হাঁটু কাটা জিন্স আর বুকের বোতাম ছাড়া টাইট জামা। হাতে মেয়েদের বালা আবার অনেকের কানে দুল ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা এতই আবাল যে, খেতেও জানে না। এরা বিভিন্ন পানীয় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এমন ভঙ্গিতে পান করে যা খুবই দৃষ্টিকটু। সত্যি জাতি হিসেবে আমরা ভয়ানক সুনামির মুখোমুখি।
    আসলে সঠিক শিক্ষাই মুক্তির সোপান। মনে হয় আশির দশকের শিক্ষা পদ্ধতিই সঠিক ছিল। যারা আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন তাদেরকে বলবো আগের প্রজন্মের সাথে আজকের প্রজন্মের সার্বিক বিষয়ে একটু তুলনামূলক চিত্র দেখে নিতে, তাহলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগে গ্রাম থেকে যে পরিমাণ মেধাবী বেরুতো এখন তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এ কমে যাওয়াটাও তথাকথিত সৃজনশীলতার কুফল। এ আজব পদ্ধতি শিক্ষা ব্যয় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে,যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পক্ষে বহন করা অসম্ভব। যারা এ পদ্ধতি চালু করেছেন তারা আর্থিক লাভবান হয়েছেন তাই ওনারা এর পক্ষে সাফাই গাইবেন এটাই স্বাভাবিক। কক্সবাজার বিলাসবহুল হোটেলে বড় অঙ্কের বাজেটে এ পদ্ধতির সেমিনার করার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তারা এর পক্ষেই থাকবেন। বই কোম্পানি,কোচিং মালিক এরাও পক্ষে থাকবে।

    Reply
    • miltonkumar

      সুন্দর বলেছেন। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি এক আজব জিনিস! না পড়েই, সহজে পাশ!একটি উদাহরণ দেই, কম্পিউটার শিক্ষা পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি? পরীক্ষার্থী লিখেছে- হার্ডওয়্যার হল, যা শক্ত, যেমনঃ লোহা, পিতল, কাঠ। আর সফটওয়্যার হল, যা নরম, যেমনঃ তুলা। কি তাঁর বুদ্ধিমত্তা? এটা জানতে কি আর কম্পিউটার শিক্ষার বই পড়তে হয়।

      Reply
  4. প্রভাতী

    মানুষের মাঝ থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক তথা সৃজনশীল চর্চা এবং তার জায়গায় নোঙর ফেলেছে ভালো চাকরি পাবার প্রতিযোগিতা, এঁটে ধরেছে মোবাইলের যান্ত্রিকতা,উটকো রুচিহীন ফ্যাশান, আত্মদম্ভ আর আমিত্ব।
    ধীরে ধীরে কমে আসছে আজকের প্রজন্মের মননশীলতা,রুচিবোধ,ধৈর্য,সহনশীলতা ও সমাজের কাঙ্ক্ষিত মানুষ হওয়ার আকাঙ্খা।
    যেদিন মানুষের হাতে পুরোবিশ্ব দৃশ্যমান হয়েছে আকাশ সংস্কৃতি তথা সাইবার কালচার ও মোবাইল কালচারএবং দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে, সেদিন থেকেই বপিত হয়েছে প্রজন্ম ধ্বংসের বীজ।
    এ যুগে জন্মের পরই শিশুর উপর পড়ে যায় শেষ মূহুর্তের ট্রেন ধরার তাড়া। ঘুম থেকে উঠেই দৌড় আর এই দৌড় থামে রাতে। সারাদিন এই টিচার সেই টিচার, স্কুল,এই কোচিং সেই কোচিং, আবার সন্ধ্যায় এই টিচারের হোমওয়র্ক সেই টিচারের হোমওর্ক,স্কুলের পড়া কোচিংয়ের পড়া শেষে দশমণ পাথর হয়ে ঘুম নেমে আসে শিশুর দু চোখের পাতায়।
    এভাবেই শিশু বেড়ে ওঠে যান্ত্রিক জীবনের তাড়া খেতে খেতে।
    শিশুর সামাজিকীকরণেরর একটি প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়, সেখান থেকে শুরু হয় মুখস্থ প্রক্রিয়া বাংলা,অংক, ইংরেজী, বিজ্ঞান, ভূগোল থেকে সবকিছুই, এতে শিশু হয়ে ওঠে তোতা পাখি। শিক্ষকদের পেশা মহান পেশা, কিন্তু নিজের সংসারের চিন্তা, নিজের বাচ্চার পড়াশোনার চিন্তা, বিলাসিতা, আরাম-আয়েশ এসব সমস্যাকে ছাপিয়ে সে পেশা এখন আর মহান হয়ে উঠতে পারছেনা। তবে সব শিক্ষকের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।
    আমাদের বিংশ শতকের শিক্ষকগণ কতোটাযোগ্য ছিলো তা ভেবে দেখা দরকার; কারণ, তাদের হাত ধরেই এসেছে আমাদের এপ্রজন্মের শিক্ষক। এক প্রজন্মের শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে আরেক প্রজন্মের শিক্ষক। আর এসব কারণে, যারা এ প্রজন্মের শিক্ষক তাদের মাথায় এ বিষয়টা থাকা উচিৎ যে তাদের দক্ষ শিক্ষাদানের মাধ্যমে তৈরী হবে পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষিক।
    এখনকার কজন শিক্ষক আছে, যারা মুখস্থ নয়, প্রকৃত জ্ঞান নিয়ে শিক্ষকতা করছেন। থাকতে পারে, তবে তা কুপের পাশে হওয়া ছোটো গর্তের মতো, পাত্র রাখতে রাখতে একসময় হয়ে যায়।
    তবে কি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্কট? সেটা আপনারাই ভালো জানেন।
    আমরা শিক্ষাগ্রহণ করি কয়েকটা সার্টিফিকেট নিয়ে ভালো চাকরি পাওয়ার জন্যে, সমাজের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য নয়, কিন্তু আমরা ভদ্রতার খাতিরে এটা অস্বীকার করি ।
    আমাদের শিক্ষকেরা ছাত্রদের বলে থাকেন পরীক্ষায় ভালো ফল না করতে পারলে ভালো চাকরী হবেনা, কুলিগিরি করে খেতে হবে।
    আর তাই আমাদের ছাত্রদের নিতে হয় পড়া মুখস্থ করার প্রেসার, বঞ্চিত হতে হয় জীবনমুখী শিক্ষা থেকে যা এ প্রজন্মের প্রকৃত শিক্ষা।
    প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যায় সমাজের মঙ্গলের জন্য যে শিক্ষা সে শিক্ষাই হয় প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম কেমন শিক্ষা পাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার। শিল্পচর্চার জন্য যে জ্ঞান, যে মেধা বা যে শ্রম দরকার তা আমাদের বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নেই কারণ, পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে সেগুলো হারিয়ে গেছে তারওপর জেঁকে বসেছে মোবাইল কালচার । এতে করে সমাজের মঙ্গল চিন্তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম, হয়ে উঠছে উগ্র, জেদি ও বিকৃত মনমানসিকতার আর তা না হলে হচ্ছে বোধ-বুদ্ধিহীন ব্রয়লার মুরগি।
    কষ্ট হচ্ছে, সংশয় হচ্ছে, মনে অনেক ভয় হচ্ছে তবুও মানতে হচ্ছে এটাই বর্তমান, এটাই বাস্তবতা। তারপরও ভরসা রাখতে চাই মনোজ মিত্রের ‘দর্পণে শরৎশশী’ নাটকে পরোমার শেষ সংলাপে ‘ আবার আমার বাছারা ফিরে আসবে, ফিরে আসবে থেটারে ‘।

    Reply
  5. রায়হান উদ্দিন

    তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কোন চিন্তা, মতাদর্শ ও সংস্কৃতি আমরা তৈয়ার করতে পেরেছি কিনা যা ষোলকোটি মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে? এটাই তো এখনকার কাজ। যদি সে মতাদর্শকে ‘জাতীয়’ হতে হয় তাহলে তার কেন্দ্রে সাধারন মানুষ — অর্থাৎ শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের স্বার্থের কথা থাকবে। ঢাকা শহরের শার্টপ্যান্ট পরা পোলাপান তরুন আর মাদ্রাসার টুপিকোর্তা পরা গরিব ছেলে কি তাহলে তরুণ না? শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, ধর্ম, সংস্কৃতি, লোকায়ত চিন্তা, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নিজেদের মূল্যায়ন এবং সর্বোপরী নৈতিক মূল্যবোধ ও সংবেদনা — অর্থাৎ মানুষের সজীব জীবনের সকল বিষয়ই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বাধ্য। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা কতোটা ‘মুক্ত’ চিন্তার অধিকারী? কতোটা বদ্ধ, গোঁড়া, গণবিরোধী ও গনবিচ্ছিন্ন এলিট অনুমানের কাছে জিম্মি? সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠাকে তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণি কি আমলে নিতে রাজি? সাধারণ মানুষের ভাবনা চিন্তার বিপরীতে কতোটা নিজেদের চিন্তা ও আদর্শ আমরা পর্যালোচনা করি? তথাকথিত ‘তরুন প্রজন্ম’ কতোটা নিজেদের ভুল কবুল করতে রাজি? তারা কতোটা আত্মপ্রত্যয়ী? আমার মনে হয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া দূরে থাকুক, তারা কী বলে বা কী বলছে সে সম্পর্কে তাদের নিজেদেরই কোন হুঁশ নাই । বাংলাদেশের শিক্ষিত ও সজ্ঞান কোন তরুণের পক্ষে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমের ‘তরুণ প্রজন্ম’ নামক যে অশিক্ষিত, অদূরদর্শী ও ফ্যাসিস্ট বাহিনী তৈরির প্রানপণ চেষ্টা আমরা দেখে এসেছি তাকে মেনে নেওয়া সম্ভব না। জনগণের চেয়ে ভাল শিক্ষক আর কেউই হতে পারে না। ফলে নিজের চিন্তার ভুল থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জাত চিন্তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অবশ্যই সম্ভব। যদি আমরা নিজেদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম গণ্য করি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিন্তার পার্থক্য হবার কথা নয়। অর্থাৎ নিজেদের যদি একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাবি, তাহলে সংখাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক বয়ান তৈরী করা কখনই কঠিন হতে পারে না।

    Reply
  6. অপরাজিতা

    আমরা যারা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছি, মানে কিশোর বয়স থেকে তরুণ বয়সের দিকে যাচ্ছিলাম, সময়টা ছিল এমন, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হতো। স্কুল, প্রাইভেট পড়া, বিকেলে খেলাধুলো শেষে সন্ধ্যার ছায়া নামার আগে আগেই বাড়িতে ফিরে পড়তে বসা। জোরে জোরে বা কোরাস করে পড়াও সে সময়ে একটা রেওয়াজ ছিল বটে। এখন শহর তো দূর অস্ত, গ্রামের ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও সেই প্রবণতা নেই বললেই চলে। মুরব্বিরা বলেন, ‘এখনকার ছেলে-মেয়ে তো’!আমরা ক্লাসের বই পড়তাম। প্রয়োজনে লাইব্রেরীতে যেয়ে নোট করতাম। সেই কারনে বই এর প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়ে যেত এমনিতেই। আমরা কিন্তু পেরেছি। লেখাপড়া শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করেও বই কে ভালোবেসেছি। পাঠ্যবই ছাড়া আজকাল কার ছেলেমেয়রা বড়ই বই বিমুখ। এই বিমুখতার দুটি প্রধান কারন এক- ব্যাস্ততা আর দুই- বিতৃষ্ণা।পাঠ্যবই ছেড়ে অন্যকিছু পড়ার তাঁদের সময় কোথায়।
    সারা দিন তো তারা পড়ার মধ্যেই ডুবে আছে। তাদের কোন বিশ্রাম নেই, শখ নেই, ছূটি নেই।সারাদিন ভারী ভারী সব ব্যাগ নিয়ে ছোটাছূটি। ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে কোচিং। ঘুমাবার আগ পর্যন্তও কোচিং।আমি দেখি ব্যাগের ভারে বাচ্চা গুলো কুঁজো হয়ে হাঁটছে। আমার ভীষণ কষ্ট হয়।ওদের মুখ গুলো শুকনো। মোটা মোটা চশমার ভিতরেও ওদের চোখে স্পষ্ট ক্লান্তি।ওদের বিনোদন বলে কিছু নেই। নিজেদের কোন জগত নেই। সৃষ্টিশীলতা নেই।এতে ওদের দোষ কোথায়?তাহলে দোষ কার? শিক্ষাব্যাবস্থা কে পুঁজি করে কিছু সংখ্যক অর্থলোভী শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে পুরো একটা প্রজন্ম নষ্ট করছে। আর আমরা অসহায়ের মত আমাদের বাচ্চাদেরকে তাঁদের সেই লোভের সামনে বলি দিচ্ছি। আমরাই কি আমাদের বাচ্চাদের জীবন নষ্ট করছি না ? লেখাপড়া জিনিসটার মধ্যে ডিসিপ্লিন নামের একটা বস্তু লুকিয়ে আছে। ছাত্র জীবনে এই শৃঙ্খলাই হলো উন্নতির মূল। অর্থাৎ একটা ছাত্রকে ঠিক মত ঘুমাতে হবে, শরীর চর্চা করতে হবে, নিয়মিত ক্লাস করতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে, খেলাধুলা করে শরীর ও মন প্রফুল্ল রাখতে হবে আর সেই সাথে নিজে নিজে পড়তে হবে।যা পড়েছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। বুঝতে হবে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। তবেই না তার পড়া ভালো লাগবে, পড়তে ভালো লাগবে ।
    এখনকার বাচ্চাদের খাবার সময় নাই।কেউ কেউ ভোরবেলায় স্কুল ড্রেস পরেই ঘর থেকে বের হয় আর রাতে ফেরে। বাবা মা টিফিনবাটিতে খাবার নিয়ে যায়। রাস্তায় কিংবা গাড়িতে বসেই লাঞ্চ সারে । কোথায় তাদের বিশ্রাম কোথায় তাদের অজু গোসল, কোথায় তাদের পেশাব-পায়খানা। খুব দুঃখ নিয়ে বলছি, মেয়ে বাচ্চাদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। মাসের বিশেষ দিনগুলিতে তাদের যে একটু বাড়তি প্রস্তুতির দরকার হয় সে সুযোগটুকুও যেন নেই। মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ! গরম,জ্যাম,রিক্সাভাড়া এই সব কিছু নিয়ে তারা যে কি এক দুর্বিষহ জীবন কাটায় তা বুঝি ভুক্তভোগীরাই শুধু জানে।তারা না পারে সইতে না পারে বইতে আর না পারে কইতে।
    তাহলে করনীয় কি? করনীয় হল প্রতিবাদ। যে যেভাবে পারে সেভাবে এর প্রতিবাদ করা। আমাদের বাচ্চাদের সাথে সাথে আমরাও ভীত হয়ে গেছি। আমরা ভাবছি ওরা বুঝি পিছিয়ে পড়বে। ওরা পারবে না । আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে সুকৌশলে যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে সেই ভয় আমাদের মনেও ডালপালা ছড়িয়েছে।ভয়ের কাছে আমরা নতজানু। না পারার ভয়। এই ভয় কে জয় করতেই হবে। বাচ্চাদের মনের ভিতর আত্মবিশ্বাস জাগাতে হবে।

    Reply
  7. অপরাজিতা

    বর্তমান যুগে আমরা সবকিছুতেই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি এবং উপভোগ করি। তারপরেও এক ধরণের শূণ্যতা অনুভব করি। আগের মতো কারো মাঝে সেই বন্ধুত্ব, হৃদ্যতা, সুসম্পর্ক, নৈতিকতা নেই। যে যার মতো আছে বর্তমান প্রজন্ম। অথচ আমাদের দিনের জীবনযাত্রার ফ্লাশব্যাক দেখুন মনে মনে আর ভাবুন আমরা কত সুখে ছিলাম, কত নিরাপদ ছিলাম। অতীতে আমাদের কখনো এত এত বই নিয়ে বিদ্যালয় যেতে হয়নি। তাই বলে কি আমরা বা আমাদের সময়ে কেউ মানুষ হয়নি, বিজ্ঞানী হয়নি, বড় বড় পন্ডিত হয়নি, অস্কার পায়নি, নোবেল পায়নি? কই তখনতো আমাদের মা- বাবাকে এত পড়াশোনার জন্য চিন্তায় তাঁদের জীবনকে ব্যতিব্যস্ত করতে হয় নি। স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে খেলতাম প্রান খুলে। আমরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্ধুদের সাথে জীবন কাটাতাম, বর্তমান সময়ের net friends দের সাথে নয়।
    যখনই তৃষ্ণার্ত থাকতাম মন খুলে যে কোনো কল থেকে পানি পান করতাম, এখনকার মতো জীবানুর ভয়ে pure it বা ফিলটার থেকে নয়। কই তখনতো এত অসুস্থ হয়ে পড়িনি। আমরা ১০ পয়সা থেকে শুরু করে ১ টাকার আইসক্রিম সবাই ভাগ করে খেয়েও পেট খারাপ করে বসিনি। আমরা প্রতিদিন ভাত আর প্রান খুলে মিষ্টি খেয়েও মোটা হয়ে পড়িনি। খালি পায়ে জমিতে গোল্লাছুট, ব্যাডমিন্টন, দাঁড়িয়াবাধা, খেলা সত্ত্বেও পা ভেঙে ফেলিনি। সুস্থ থাকার জন্য কখনো revital, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম দরকার হয় নি । বিভিন্ন ধরণের খেলনা আমরা নিজেরাই বানিয়ে খেলতাম । কখনো কোনো কেনা খেলনা চোখেও দেখিনি। এত দামী দামী খেলনা বাজারে পাওয়াও যেতো না। যাওবা পাওয়া যেতো তারজন্য মা- বাবাকে জ্বালাতন করা লাগেনি। আমরা প্রাকৃতিক সরঞ্জাম পেয়েই খুশি থেকেছি।
    মা বাবার কাছে থেকেই মানুষ হয়েছি, mentor, প্রাইভেট শিক্ষক এত দরকার হয়নি। শিক্ষকেরাও ছিলেন দায়িত্ববান। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। পড়ার জন্য শারীরিক আঘাত করলেও খারাপ লাগেনি। সে আঘাতের মাঝে আশির্বাদ লুকায়িত ছিল। আখেরে শিক্ষার্থীদের ভালো হয়েছে। অভিভাবকেরাও শিক্ষকদের অত্যন্ত সম্মান করেছেন। সেসাথে শিক্ষার্থীরাও গুরুভক্তি করে গেছে। আর এখন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক শিক্ষককে সম্মান তো করেইনা, উল্টো মুখে মুখে তর্কে লিপ্ত হয়। কি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে দিন পার করে যাচ্ছি তা আল্লাহই জানেন।
    আমরা সব ভাই বোনেরা বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী কিনে দেয়া জামা কাপড় পরেই আনন্দ পেতাম। কখনওই কোনোকিছুতে আফসোস করিনি। বায়নাও করিনি দামি কিছুর জন্য। বাবার অবস্থা বুঝে কখনওই মন খারাপ করিনি। ওটাকেই নিয়তি বলে মেনে নিয়ে খুশি থাকবার চেষ্টা করেছি। বাবার সততার মর্যাদা দিয়েছি। গর্বিত হয়েছি।
    আমাদের সময়ে শরীর খারাপ হলে ডাক্তারকে যে কোনো সময় ডাকলেই বাসায় আমাদের কাছে আসতেন, ডাক্তারদের মানবতা ছিল সেসময়ে। আমাদের ওই অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়া লাগেনি। কখনো ডাক্তার তার দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। আর এখন বাসায় আসা তো দূরের কথা, টাকা দিয়ে চেম্বারে দেখালেও ৫ মিনিটের বেশি কথাই বলতে চান না। রোগি ভালো হবার পরিবর্তে মানসিক চাপে ভুগতে থাকি। সাইক্রিয়াটিস্টের ওষুধ খেতে হয়। নার্ভকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। হায়রে এখনকার চিকিৎসক। আমাদের কাছে এখনকার মতো মোবাইল, DVD’s, Play station, Xboxes, PC, Internet, chatting কিছুই ছিল না। তাই বলে কি আমাদের কোনো কিছুর অপূর্ণতা ছিল? ছিল ভালোবাসার প্রাচুর্যতা। ধর্মীয় মূল্যবোধ।
    তখনকার সময়ে আমাদের কাছে সত্যিকারের বন্ধু ছিল । যে কোনো সময়
    বন্ধুকে না জানিয়ে তার ঘরে গিয়ে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে আনন্দ পেতাম । কখনো ফোন করে এখনকার মতো appointment নিয়ে যেতে হয় নি।
    We are not special, but we are fortunate and enjoying generation.

    Reply
  8. আলতাফ

    এ সময়ে পঁচিশের নিচে যাদের বয়স তাদের সঙ্গে কথা বললে অবাক হই। প্রতি ৫ জনে ৩ জন দেখা যায় দেশটাকে জানে না। প্রাইভেট বা পাবলিক যেই প্রতিষ্ঠানই হোক, ইংরেজি বা বাংলা যেই মাধ্যমই হোক। জানে না মানে ইতিহাস জানে না। সংস্কৃতি বোঝে না। সাহিত্যতো আরো দূরের। সবকিছু মিলিয়ে কেমন যেন শেকড় থেকে দূরে থাকা প্রজন্ম। প্রতি পাঁচ বছরে এদেশের ইতিহাস বদল হয়, কথা সত্যি।
    কিন্তু বইয়ের পৃষ্ঠা ছাড়াও দেশের কিছু গল্প আছে, ছিল, প্রায় প্রতিটি পরিবারে। সেই গল্প তারা কোন দিন শোনেনি। আবার কোন কিছুতে উস্কে দিলে এরা উস্কায়। স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। ভালো মন্দের তফাৎ না বুঝেই। পীয়ার প্রেসারে এরাই এক্সট্রিমিস্ট হয়ে যায়। রাজনৈতিক উগ্রতা বলি বা ধর্মীয় উগ্রপন্থা, খুব সহজে দখল নিতে পারে এদের মস্তিষ্ক। যেমনটা দেখেছি হলি আর্টিজান এবং তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে।
    দেশের শেকড় দূরে থাক, এরা পরিবারের শেকড়েরও খবর রাখে না। গণতন্ত্রায়ন বা মুক্ত বাজার অর্থনীতি যেটাই বলি ৯০ এর পরে তা এদেশে উঠতি উচ্চবিত্ত শ্রেণী তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী। প্রথম প্রজন্ম লেখাপড়া শিখছে, শহরমুখী হচ্ছে। এক ক্লিকে দেশ বিদেশের ছবি দেখছে, ফুটফাট ইংরেজী বলছে। অল্প শিক্ষিত, কষ্ট করে দিনাতিপাত করা মা বাবা তাতেই মুগ্ধ। ভাবছে ছেলে মেয়ে অনেক বোঝে, আমরা ব্যাকডেটেড।সুতরাং, সন্তানরা লাগামছাড়া। মূল্যবোধ নামের একটা শব্দ তাদের ডিকশনারী থেকে পুরোপুরি উধাও। সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে একটা চতুষ্কোণ প্রজন্ম। যারা না ঘরকা, না ঘাটকা। কী করছে, কেন করছে, কী এর ফলাফল কোন ভাবনা নেই। কোন কিছুর প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই। লাইফ এদের কাছে ফান। তো ফান করতে গিয়ে কোন গহব্বরে চলে যাচ্ছে জীবন, কোন মাথা ব্যথা নেই। চর্ম মাংসে যে অনুভূতি। যে অনুভূতি পশুরও আছে সেটাই যেন সবকিছু। যে আবেগ অনুভূতিহীন প্রজন্ম সৃষ্টি হচ্ছে এরাই যখন পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব করবে তখন পুরো পৃথিবীটাই হয়ে পড়বে আবেগশূন্য। মানুষের প্রতি থাকবে না মমত্ববোধ, স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা। রোবটের দুনিয়া থেকে এর বেশি পার্থক্য থাকবে না। এসব থেকে ফেরাতে হলে উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। নইলে সৃষ্টি হবে নষ্ট প্রজন্ম। যে প্রজন্ম ব্লু-হোয়েলের মতো গেম খেলবে। অন্যের প্ররোচনায় মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করবে না।

    Reply
  9. Mohammad Mohiuddin

    স্যার, আসসালামু আলাইকুম। আপনার লেখাটি পড়ে কেন জানি মনটা ভরে গেল। আমি আপনার মত বড়মাপের শিক্ষক না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকুদের নিয়ে আমার কাজ। আমি সব সময় বলে থাকি, তাঁরা দেশের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজটি করেন। আপনার শিক্ষার্থীরা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, ব্যাঙ্কার, রাষ্ট্রনায়ক আরো কতকি হবে আপনি এখন হয়তো কল্পনাও করতে পারবেননা। আসলেই শিক্ষকতার চাইতে বড় কোন পেশা হতে পারেনা। এমন স্বপ্নজাগানো উদেশ্যমূলক লেখার জন্য স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    Reply
  10. Mosannef hossain bhuiya

    Sir,
    I like to share my opinion. I m also looking that students of under grad are not attentive, sir Main reason is easy number distribution in ssc and hsc, they are over valued that results over confidence. Another thing sir Teaching is an art to motivate for learning. Study has lost today, only memorising is real.
    I am a guest faculty in various institutes for the subject of textile studies.

    Reply
  11. Maksudur Rahman

    ফাইল নিয়ে বা যন্ত্র নিয়ে কাজ করেন না, রক্তমাংসের মানুষ নিয়ে কাজ করেন কিন্তু সেই রক্তমাংসের মানুষ পরবর্তীতে ফাইল আর যন্ত্র নিয়েই কাজ করে এবং ক্লায়কষ্টে জীবন পার করে।

    আপনাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা আপনারাই রঙিন চশমা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নষ্ট করেন।

    সৃজনশীলতার কথা বলে বলে এমন অবস্থা করেছেন যে আপনার ক্লাসেই “খুব সোজা একটা প্রশ্ন” কেউই উত্তর দিতে পারে না, তার মানে সৃজনশীলতা তো দূরের কথা আপনি তাদের ন্যূনতম আগ্রহও তৈরী করতে পারেন নাই

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—