নিউ ইয়ার্স রেজোলিউশন নেওয়ার সময় আমাদের বেশিরভাগেরই মনে থাকে না টু-ডু লিস্টের প্রজেক্টগুলো করা সম্ভব কিনা। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর বেলায়ও তাই।সালতামামিতে দেখা যায় কিছু কাজ বাকি থেকেই যায়। আবার কিছু কাজ বা প্রজেক্ট কোনো ঘোষণা বা পরিকল্পনা ছাড়াই করতে হয়। নোবেল লরিয়েট মনস্তত্তবিদ ড্যানিয়েল কানেম্যান এই অচরিতার্থ কাজগুলো করতে না পারার বিষয়টির নাম দিয়েন ‘প্ল্যানিং ফ্যালাসি’। আওয়ামী-হেফাজত দোস্তি ‘প্ল্যানিং ফ্যালাসি’ বলা না গেলেও এটা ‘পলিটিক্যাল ফ্যালাসি’ তো বটেই।

দক্ষিণপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো যেভাবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখাচ্ছে তা লক্ষ্য করার মতো। আশঙ্কার বিষয় হল, দেশের ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল দল ও শক্তিগুলো যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন নিজেদের যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল ও বিরোধী দল তাদের সঙ্গে এখন যেভাবে সমঝোতা করছে তা রীতিমতো অস্বস্তির কারণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের জন্য। শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, এর ধারাবাহিকতায় খেলাফতে মজলিস, ইসলামী শাসনতন্ত্র এবং সর্বশেষ হেফাজতে ইসলাম এখন বাংলাদেশের শাসকশ্রেণির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপসরফা নিয়ে জনপরিসর যখন সরগরম, তখন সরকার বলছে, হেফাজতের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়নি (সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এটা কৌশলগত, রাজনৈতিক আপসরফা)। হেফাজতে ইসলামও বিভিন্ন সময় ঘোষণা দিয়ে বলেছে যে, সরকারের শরীক নয় তারা, কিংবা আওয়ামী লীগের জোটেও নেই।

মাদ্রাসা শিক্ষা মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আহমদ শফী ও অন্য শরীকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দক্ষিনঘেঁষা বিএনপি তো হতাশ সরকারেরর আচরণে। তারা বলছে, সরকার হেফাজতকে হাতে রেখে নির্বাচনে পাশ করতে চাইছে। বিএনপি নেতা মীর নাছির হেফাজত প্রধান আহমদ শফীর সঙ্গে দেখা করেছেন। আর আহমদ শফী হাসপাতালে ভর্তি হলে তার শয্যাপাশে হাজির হন বিএনপি মহাসচিব পর্যন্ত। এসব ইঙ্গিতে এটা পরিষ্কার যে, হেফাজতকে করতলগত করতে চায় সবাই।

মাওলানা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে বহুসংখ্যক আলেম-ওলামার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হেফাজতে ইসলামকে এক ধরনের স্বীকৃতি। যা রীতিমতো অভূতপূর্ব (হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন, কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনা, সুলতানা কামালকে হুমকি প্রদান– বিষয়গুলো ঘটছে উদারপন্থীদের হতাশ করে। এ সব ঘটনা-পরম্পরা হেফাজতে ইসলামকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আর আওয়ামী সরকারের স্বাভাবিক মিত্র বুদ্ধিজীবীদের হতাশ করেছে। এর মাধ্যমে হেফাজতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে যে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে তাতে মলম দেওয়া হয়েছে।

Bangabandhu - 31111
ছয় দফা আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীরা এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, তারা বঙ্গবন্ধুর জেলে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল

সময়টা এমন যে, একালে প্রায় সব রাজনৈতিক দল ধর্ম ও রাজনীতির নিপুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এবং তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। বর্তমান প্রধানতম বিরোধী দল বিএনপি– সেই দল যে প্রতিবাদ করছে তা যতটা না ক্ষোভে তার চেয়ে বেশি নিজেদের পতাকাতলে ওইসব দল না-পাওয়ার বেদনায়।

রাজনীতিতে ‘ধর্ম কার্ড’ ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে শাসকরা নিজেদের শ্রেণিস্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করেছে– যখন প্রয়োজন হয়েছে তখন– সেটা মধ্যযুগ থেকে শুরু করে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত। আমাদের উপমহাদেশে মানুষের নিজস্ব ধর্মীয় আবেগ কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। যে কোনো আন্দোলন সংস্কারে ধর্মের ব্যবহারের রেওয়াজের ইতিহাসও বেশ পুরনো।

এই হাইটেক যুগেও রাজনীতিবিদরা রাজনীতির ধর্মীয়করণ কিংবা রাজনীতিতে ধর্ম এনে জনসাধারণের চিন্তা-চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের রাজপথে এনেছেন বার বার– নিজেরা ক্ষমতায় আরোহণের জন্য কিংবা ক্ষমতা থেকে বিরোধীদের নামাতে। উপনিবেশ শাসকরা হিন্দু-মুসলিম এ দুটো ধর্মের ব্যবহার করেছিল তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার উদ্দেশে। এই ‘হিন্দু–মুসলিম’ ভেদনীতির কৌশল যে কাজ করে ব্রিটিশরা তা করে দেখিয়েছে।

বামদের প্রতি সহানুভূতিশীল ডানপন্থী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভেতরেও প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীরা শক্তিশালী ছিল সেই ষাটের দশকেও। ডানপন্থীদের কবলে পড়েছিল দলটি পথচলার শুরুতেই। ছয় দফা আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীরা এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, তারা বঙ্গবন্ধুর জেলে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তবে দলের ঐক্যবদ্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সেই প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীদের কূটচাল বানচাল করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব জারি রাখতে সাহায্য করেছিলেন।

ভোটের মাঠের দখল নিতে আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের ঐক্য কৌশল কোনো কাজে আসবে কিনা তা সময়ে প্রমাণ হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, হেফাজতের ভোট আওয়ামী লীগ পাবে না। বরং প্রগতিশীল চিন্তার যেসব মানুষ আওয়ামী লীগকে সেক্যুলার দল হিসেবে সমর্থন করেন দলটি তাদের আস্থা হারাবে। অনেকে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েও বলেছেন, রাষ্ট্রের ওপর কোনো ধর্ম বসিয়ে দেওয়া যাবে না।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূলনীতিও তাই।

ভোটের রাজনীতিতে হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী পুলসিরাত পেরুতে ব্যর্থ হলেই প্রমাণিত হবে যে, তেলে-জলে মেলে না। উদারনৈতিক অসাম্প্রদায়িক আদর্শের পেটেন্ট এককালে আওয়ামী লীগেরই ছিল। ভোটের লড়াইয়ে তা নিয়ে আর যুত করা যাচ্ছে না বলে এইসব আপোসকামিতা।

রাজনৈতিক দলের মতাদর্শগত শূন্যতা পূরণ করতে হয় অন্য কিছু দিয়ে নয়– মতাদর্শ দিয়েই। রাজনৈতিক দর্শন ও জনসম্পৃক্ততা– এই দুই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের চেয়ে সমৃদ্ধ দল আর নেই। নিজস্ব আদর্শিক অবস্থান ভুলে ২০০৬ সালে ধর্মাশ্রয়ী খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ একটি সমঝোতা চুক্তি করে। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকার ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করার সময় ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতিতে পরিবর্তন আনেনি। অন্যদিকে একই সংশোধনীতে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাও পুনর্বহাল করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে কোনো বিশেষ ধর্মকে আলাদা পোষকতা প্রদান অসঙ্গত হলেও সরকার বিভিন্নভাবে তা করে আসছে।

আওয়ামী-হেফাজত দোস্তিতে আরেকটা বিষয় সামনে এসেছে; তা হল, দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রতিবাদ করা, ভিন্নমত পোষণ করার কঠিন বাস্তবতা এড়িয়ে মেনে নেওয়ার সোজা রাস্তা ধরেছে। ধর্মীয় উন্মাদনা ও মৌলবাদের সঙ্গে দালিলিক অসাম্প্রদায়িক পরিচয় বহনকারী আওয়ামী লীগের সমঝোতা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখে প্রতিবাদের দায়মুক্তি নিয়েছেন।। বুমেরাং যেমন যে ছোঁড়ে তার দিকে তেড়ে এসে তাকেই আঘাত করে, এখন যারা মানিয়ে নিতে বলছেন এই অসম সমঝোতা– কে জানে এক সময় তারাই হয়তো তার প্রধান নির্মম শিকার হবেন কিনা।

এম এম খালেকুজ্জামানআইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

৩০ Responses -- “আওয়ামী-হেফাজত দোস্তি: এক পলিটিক্যাল ফ্যালাসি”

  1. ফারুক প্রধান

    ভারতে বিজেপি এইরকম রাজনীতি করলে দোষ নাই, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ করলে দোষ নাই। এইখানে আওয়ামীলীগ করলেই দোষ। না এই উদাহরণ দেওয়ার কারণে এখন আমারে ভারত-পাকিস্তান পাঠায়া দিবেন। আপনাদের সাথে মত না মিললে তদেরকে অমুক দেশ, তমুক দেশে পাঠিয়ে দিবেন এই বলে চিল্লান। এর চেয়ে ভাই আপনারা ট্রাভেলস এজেন্সি এর ব্যবসায় নেমে পড়েন।

    Reply
  2. nisha khan

    বই পুস্তুক ও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পড়ে যতটুকু জানতে পারলাম বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পরে শেখ মুজিবর রহমান কে হ্ত্যা ও আওয়ামী লিগ কে নিঃশেষ করার যে চেস্টা হচ্ছিল তাতে শিংহ ভাগ অবদান ছিল জাসদের।বামদের করায়ত্তে চলেগেছেন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সহ গণমাধ্যম গুলো। এমন কি মানবাধিকার সংস্থা সহ এনজিও গুলোতেও বামরা সমান তালে অগ্রগণ্য বর্তমানে। আওয়ামী’লীগ সে সুযোগ করে দিচ্ছে। অতচ আওয়ামী’লীগের প্রধানতম শত্রু একসময়কার বাম রাজনৈতিক দল ছিলো জাসদ। এখন তো আওয়ামী’লীগেরা বামদের ছাড়া অচল প্রায়। ভারতে বাম রাজনীতি মৃত প্রায় বলতেগেলে, সেখানে যা হচ্ছে তার উল্টোটা হচ্ছে বাংলাদেশে।

    Reply
  3. Kamal Ali

    ব্যক্তিগত ভাবে আমি সমাজতন্ত্র পছ্ন্দ করি, কারন কি? চে গুয়েভারা, চারু মজুমদারের জীবনী পড়েই হোক বা পশ্চিম বঙ্গের ঊপন্যাসিক দের লেখা পড়েই হোক……. মোদ্দা কথা হলো fantasy …. আর আমি জানি স্বাধীনতার পর থেকে জাসদ বা অন্য বামপন্থী দলে যারাই কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছেন সবার মনেই একটা fantasy কাজ করেছে এবং করছে। এবার আসি আসল কথায়, প্রতিভাবান কয়েকজন নেতার Ego দিয়ে শুরু হলো জাসদ, fantasy এর কল্যাণে তরুণ প্রজন্ম দলে দলে এগিয়ে আসলো আর সদ্য স্বাধীন দেশটা সামনে না এগিয়ে পিছিয়ে যেতে থাকলো। Ego আর fantasy দিয়ে একটা দেশে বিপ্লব করা সম্ভব না, তবে একটা রাষ্ট্রকে বিব্রত করা যায়।

    Reply
  4. জিশান আহমেদ

    জাসদ হলো ভণ্ড। তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। আমার তো মনে হয়, বঙ্গবন্ধু নিজের জান দিয়ে এইসব কমিউনিস্টকে ধ্বংস করে দেশ বাঁচিয়েছিলেন। তা না হলে দেশ আজ উত্তর কোরিয়ার মত বদ্ধভূমি হয়ে যেত। বিশ্বরাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতিতে কমিউনিস্টদের চেয়ে বড় শয়তান একটাও নেই।

    Reply
  5. E A Bari

    বাস্তবে এই দোস্তি – যদি তা হয়েই থাকে, সর্বোত্তম দোস্তি আওয়ামীলীগের জন্য। কারণ, কোনো ধর্মনিরপেক্ষ দল যদি রাজীনিতিক স্বার্থে ইসলামী কোনো সংঘের সাথে বন্ধুত্ব পাতে তাহলে উচিৎ হলো সত্যিকার হক্কানী দলটি বেছে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ সেই দলটিই সনাক্ত করে পদক্ষেপ নিয়েছে। শঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমাদেরকে মনে রাখা জরুরী যে, এ দেশের নব্বুই শতাংশ মানুষ ইসলান ধর্মের অনুসারী! আওমীলীগে চরম বামপন্থী থেকে চরম ডানপন্থী পর্যন্ত সকলেই আছে। কিন্তু দল থাকতে হবে মধ্যমপন্থী ও উদারপন্থী হয়ে। সুতরাং শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে অবশেষে হক্কানী একদল লোকদেরকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার এই প্রয়াস, বলতেই হবে অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ। এর সুফল আমরা অচিরেই দেখতে পাবো বলে আমি মনে করি।

    Reply
  6. ইমরান

    এই ঐক্য কতদ‌িন থাকব‌ে? এরশাদ ব‌ির‌োধী আন্দ‌োলন‌ে আঃ লীঃ +বিএনপ‌ি + জামাত
    ১৯৯৬ এর বিএনপ‌ি ব‌ির‌োধী আন্দ‌োলন‌ে আঃ লীঃ + জামাত
    ২০১৩ এর আওয়ামী মার খাওয়া হ‌েফাজত আজ আঃ লীঃ + হ‌েফাজত
    বহুরূপী রাজনীত‌ির চর‌িত্র বুঝত‌ে আরও কতদ‌িন লাগব‌ে কে জান‌ে?

    Reply
  7. Anwar A. Khan

    Fake Muslims are aplenty Jamaat, Hefazat… are all faux Muslims. They are realia perils to Muslims and non-Muslims. We cognize these sub-humans in 1971, 2013, 2014 and early 2015. Beware of them!

    Reply
  8. যোবায়ের

    লেখকের মতে যে গণতন্ত্র! এটা এ দেশের মানুষ কামনা করে না। আমরা মুসলমান এবং শেখ হাসিনাও একজন মুসলমান। সুতরাং মুসলমান মুসলমানের মধ্যে সন্ধি হতেই পারে। তোমার যদি ভাল না লাগে, তোমার জন্য জানালা খোলা। দেশটা মুসলমানের। মুসলমানেরা শান্তিতে থাকলে যদি বিষ লাগে তবে তুমি দেশের দুষমন। যেখানে মুসলমানরা শাসক সেখানে অমুসলিমরাও নিরাপদ।

    Reply
  9. সেলিম ইমরান

    সন্মানিত লেখক ও মতামতদানকারীদের প্রতি প্রশ্নঃ
    আ’লীগ-হেফা ঐক্য নেতৃত্ব অস্বীকার করাতে এটাকে “ঐক্য” না বলে “আঁতাত” বা “আলীগের হেফাজত কার্ড” কৌশল বলা যেতে পারে- এসব ক্ষেত্রে নগদ লাভ ছাড়া আর কিছু বিবেচনা করার সুযোগ আছে কি ?

    ২০১৩ সালে হেফাজত কার্ড সফলভাবেই খেলেছে বিএনপি- কেউ আছেন কি অস্বীকার করার ?

    আলীগ কখনোই বিএনপির মত খেলতে পারবে(হেফাজত নিয়ে) এটা আমি মনে করিনা। সেক্ষেত্রে, “বিএনপির খেলার পথ বন্ধ করাটা জরুরী ছিল” – সে কাজটা যে শতভাগ সফল এটা কি অস্বীকার করা যায় ?

    Reply
  10. মিজান-উর-রহমান

    মাওলানা শাহ আহম্মদ শফি শাপলা চত্বরে যা করেছিলেন তাতে তিনি শত্রুর সাথে আতাত করে কারো প্ররোচনায় করে থাকতে পারেন। তবে পূর্বের ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন। ইতিহাস বলে আতাতকারীদের আঘাতের চিহ্ন শরীরে দৃশ্যমান। তিনি ভুল শুধরে নিয়ে ইসলামের স্বার্থে সরকারের সাথে যদি ইতিবাচক কোন সন্ধি করেই থাকেন বা সরকার করে তা হলে ক্ষতি কি ? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অকারণে বা সামান্য কারণে বাঁধা সৃষ্টি করবেন না; সুধি সমাজ যত তাড়াতাড়ি শুদ্ধ আচরনে অভ্যস্ত হবেন ততশিঘ্র আমাদের মঙ্গল আসবে।

    Reply
  11. সৈয়দ আলি

    আমি নিবন্ধটি পড়ে এর সারার্থ বুঝতে পারলামনা, বিশেষ করে শিরোনামের সাথে বক্ষ্যমান বক্তব্যের কোনই সাযুজ্য পেলাম না।

    Reply
  12. মোঃ শামীম মিয়া

    মরলে ধর্ম লাগে,বিয়েতে ধর্ম লাগে,হজে যান শুক্রবার মসজিদে যান।রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মের কথা বললে প্রতিক্রিয়াশীল!!?? তার অর্থ ইসলাম পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা মানছেন না???

    Reply
  13. Stupid-Buster

    যে ভুখন্ডে ৮০% এর ও বেশী লোক সরিয়া আঈন চায় সেই ভুখন্ডে, যত নোংরাই হোকনা কেন হেফাজতিদের মত দলের সাথেও সমজোতা করতেই হয়।
    সুন্দর সুন্দর কথা বলে হাততালি আর বাহবা পাওয়া যেতে পারে, বুকের মাঝে দোলা জাগতেই পারে, তা দিয়ে ঐ নোংরামি থামানো যায়না– তার জন্য দরকার বাস্থবতাকে মেনে নেওয়া আর কৌশলে সামনে আগানো —
    আমাদের ধর্ম ইসলামের জন্মের সময়কার সন্ধিগুলো আর ইসলাম যখন শক্তির দিক থেকে পরিপুন্যতা পায় তার পরের সন্ধি গুলো খুলে দেখলেই জবাবটা টের পাওয়া যাবে।।

    Reply
  14. মানিক

    ধর্মনিরপেক্ষতা যে মূলত: ধর্মহীনতা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মবিদ্বেস, তা লেখকের লেখায় আবার প্রমাণিত।

    Reply
  15. shahriaf

    ধর্মীয় উন্মাদনা কাকে বলে? ধর্মে যা যা রীতি আছে তা পুরুপুরু পালন করাই কি ধর্মীয় উন্মাদনা? আর যারা ধরি মাছ না ছুই পানি, লোকে কি বলবে তাই শুক্রবার মসজিদে হাজির হই তারা উন্মাদ না তারা বুদ্ধিমান, সুস্থ স্বাভাবিক লোক। দেশ একদম আমেরিকা, ব্রিটিশ নাইলে রাশিয়া টাইপেরই হতে হবে ? ওরা বলবে আমরা অসাপ্রদায়িক দেশ সাথে আমাদের ও নাচতে হবে? উনাদের এত জ্বালা কিসের? সবকিছুই পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তন মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকা উচিত। থেমিস সরানো বা কওমির মান বাড়ানোতে কাউকে কোনদিক দিয়ে সমস্যায় পড়তে তো দেখলাম না। এতে কি অন্য ধর্মের লোকদের সমস্যা হইছে? বা মুসলমানরা তাদের কাউকে মারধর করছে? তাহলে এত লাফালাফি কেন? গান, নাচ, চারুকারু এসবে সরকার সীকৃতি থাকলে কওমীর বেলায় কি দোষ? যা হইছে তা হলো অতি পন্ডিতদের জ্বলন।

    Reply
  16. পারভেজ সোহেল

    শান্তি প্রতিষ্ঠা যেহেতু গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না কাজেই ধর্মকে বিতাড়িত করার চিন্তা না করাই উত্তম। তার মানে কি ধর্মের নামে চলমান যত পশ্চাদপদতা, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়কেই স্বীকার করে নিতে হবে? সে কথা বলছি না। প্রকৃত ধর্ম বুঝতে হবে। যেটা ধারণ করে মানবসমাজ উপকৃত হবে সেটাই ধর্ম। মানুষের ধর্ম হচ্ছে সত্যকে ধারণ করা, ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায়ের মোকাবেলা করা। বাকি যে আনুষ্ঠানিকতা, আচার-প্রথা, রীতি-নীতি, ওসব মানুষের আত্মিক ও মানসিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পদ্ধতিমাত্র। সেই আচার-প্রথার অতি বাড়াবাড়ি দেখে ভ্রমটাকে রুখতে গিয়ে আমরা যেন সত্যের প্রবেশপথও রুদ্ধ করে না ফেলি।

    Reply
  17. নাজমুল হোসাইন

    আল্লাহ্‌র রাসুলের সময়ে অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ হলেও তাদের পরিবারের নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা মুসলমানদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পেত। হযরত ওমর তার খেলাফতের সময়ে একটি কুকুরের মৃত্যুর কারণে কেঁদেছিলেন, আল্লাহ্‌র কাছে জবাব দিহিতার ভয়ে। ইসলাম তো ঐ ধর্ম, যেখানে কুকুর-বিড়ালের অধিকারারের বিষয়েও মানুষকে ছাড় দেয়া হয় নি। এক পিপাসারত কুকুরকে পানি পান করিয়ে যেমন এক ব্যাভিচারিনি মহিলা মুক্তি পেয়ে গেছে, ঠিক তেমনি এক বিড়ালের অনাহারে মৃত্যুর কারণেও এক আবেদ মহিলাকে জাহান্নামে যেতে হয়েছে। সুতরাং না বুঝে না শুনে ইসলামের ব্যাপারে অন্ধভাবে কমেন্ট করার আগে ইসলামকে সঠিক ভাবে যাচাই করুণ। আর ইসলামে জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয করা হয়েছে। আর সবসময় একটি প্রবাদ মনে রাখবেন, “অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী”। এই অল্প বিদ্যা নিয়ে কেউ কমরে আত্মঘাতী বেল্ট বাধে আবার কেউ ইসলাম থেকে দূরে চলে যায়।

    Reply
  18. বেলায়েত হোসেন

    লাখো শহিদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল মার্কসবাদী-লেনিনবাদীর জন্যে নয়, “ফিলসফি” করুন কিন্তু স্বীকার করতেই হবে যে, এ দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ।, এ দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার সুযোগ জনগণ তাদেরকে দেবে না! আওয়ামীলীগ ভাল করেই জানে ইলেকশনে কি হতে পারে। সেজন্যই ক্ষমতা অন্যজনের হাতে ছাড়ার মত বোকামি করবে না আওয়ামীলীগ।

    Reply
  19. Kaiser

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ঘোষণা দেয়া হয়। যে, “কুরআন সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না।” নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর তাদের সংবিধান কমিটি (ড. কামাল হোসেন যার চেয়ারম্যান ছিলেন) কর্তৃক প্রণীত খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনায় তদানীন্তন “পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার” কথা স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিল। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র, ২য় খ-, সংযোজন১, পৃ. ৭৯৩)।
    ’৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট (যার প্রধান শরীক দল ছিল আওয়ামী লীগ এবং অন্যতম শরীক দল ছিল নেজামে ইসলাম পার্টি) নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করে। যুক্তফ্রন্ট-এর ২১ দফা কর্মসূচির মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়: “কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক নীতির খেলাফ কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না এবং ইসলামী সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকদের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করা হবে। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র, ১ম খ-, ৩৭০ পৃ)

    Reply
  20. babor ali

    আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। এসব ব্লগার ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, ইসলাম ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। ব্লগারগণের ইসলাম ধর্মবিরোধী প্রচারণা শুধুমাত্র আলেম সমাজ নয় সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে। বর্তমান সরকার ব্রুটমেজরিটির সুবাদেও অষ্টম সংশোধনী বাতিলের দুঃসাহস দেখায়নি, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিতে চায়নি, যদিও সংবিধান সংশোধনী হতে হতে বর্তমানে ষোড়শ সংশোধনীয় পর্যায়ে আছে। দেশে প্রচলিত ফৌ.কা.বি. আইনের-২৯৫ ধারার বিধান মোতাবেক মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়া দ-ণীয় অপরাধ। দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। দেশে ঘোষিত নাস্তিকের সংখ্য শতকরা একভাগও নয়। দেশে একাধিক মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-সমাজতন্ত্রী পার্টি আছে। বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি নামেও পার্টি আছে। গবেষণা ও তথ্য মতে, সকল কমিউনিস্ট ও মার্ক্সিস্ট নাস্তিক নন। আবার সকল নাস্তিকই কমিউনিস্ট নন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—