pexels-photo - 333

আদালতের রায় নিয়ে রাজনীতি হওয়ার কথা নয়। এটা প্রত্যাশিত নয়, অনাকাঙ্ক্ষিতও বটে। কিন্তু আমাদের দেশ সব সম্ভবের দেশ। এখানে সব হয়, হতে পারে। আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। অসম্ভব সম্ভব করেছি। দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে পাওয়া নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এক ভাষণে বলেছিলেন:

“বাংলাদেশ যেমন অনেক দেশপ্রেমিক জন্ম দিয়েছে, তেমনি কিছু বিশ্বাসঘাতকেরও জন্ম দিয়েছে।”

প্রশ্ন হল, দেশপ্রেমিক কিংবা বিশ্বাসঘাতক কি কারও গায়ে লেখা থাকে? সেটি নয়। কারও কার্যকলাপ দিয়েই তা বোঝা যায়। বিশ্বাসঘাতকরা কখনও কখনও দেশপ্রেমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে না তা-ও নয়। যেমন খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর আশেপাশেই থাকতেন। ১৯৭৫এর ১৫ আগস্ট সকালের আগে কেউ ভাবতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তালিকায় তার নাম থাকবে? অথবা এটা কি ভাবা গিয়েছিল যে, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকের বুলেটে জীবন দিতে হবে?

ভাবা না গেলেও তা হয়েছে। বাংলাদেশে তা সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায় সবার শিরোধার্য হওয়ার কথা। কিন্তু কখনও কখনও ব্যতিক্রম হয়। যেমন হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়ের ক্ষেত্রে।

এখন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দেশে দ্বন্দ্বাত্মক অবস্থা তৈরি হয়েছে। সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্ক প্রতিদিনের রাজনৈতিক ইস্যু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এটা নিয়ে পাল্টপাল্টি বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে উত্তেজনা জিইয়ে রাখা বা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে। নির্বাহী ও বিচার বিভাগের এই দ্বন্দ্ব দেশকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে তা আমরা জানি না। শুধু দেখছি এই রায় একটি বড় ‘রাজনীতি’র বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে কোন পক্ষ কীভাবে বেরিয়ে আসবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। পানি কেবল ঘোলা হচ্ছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে যারা পারদর্শী তারা কি চুপচাপ বসে থাকবে? নাহ, তারা বসে নেই।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে রাজনীতির মাঠ যখন গরম– দেশের রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিপক্ষ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখন রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বাগযুদ্ধ শুরু করছে– তখন প্রধান বিচারপতি আদালতে ভিন্ন এক মামলার শুনানির সময় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁর স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ ঘটালেন নাকি সমালোচনাকারীদের হুমকি দিলেন সে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

রায় নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রথমে হতচকিত হয়ে নীরব থাকলেও পরে রায়বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। সরকারপক্ষের কারও কারও বক্তব্য-প্রতিক্রিয়া সংযত, পরিমিতিবোধের পরিচয়বাহী। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু এই দলে। আবার অনেকের বক্তব্য অসংযত– মনোভাব যুদ্ধংদেহী। এই গ্রুপে দেখা যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে। নরম-গরম পথে চলাই হয়তো সরকারের নীতি।

পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায় প্রধান বিচারপতি ‘পাকিস্তান প্রসঙ্গ’ উল্লেখ করার পর। তাঁর এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভালোভাবে নেননি। এক সভায় তিনি বলেছেন:

“সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে সেটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না।”

 

Surendra Kumar Sinha - 3

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধ করে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এর সঙ্গে তুলনা করা কেন? তাঁর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, সরকার প্রধান বিচারপতির বিদায় চাইছে। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব সেটাই এখন ভাবা ও দেখার বিষয়।

রায়ের যারা বিরোধিতা করছেন তাদের মূল বক্তব্য হল, এ রায়ে পর্যবেক্ষণ হিসেবে যেসব বিষয় আনা হয়েছে সেগুলো মামলার মূল বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। আবার যারা পক্ষে (বিএনপি বাদে, কারণ বিএনপি লাফাচ্ছে না বুঝে, তাদের আনন্দ আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় দেখে) তারা পর্যবেক্ষণটি দেখছেন ইতিবাচকভাবে। তারা ‘সত্য উচ্চারণ’ ও ‘সাহসী’ ভূমিকার জন্য প্রধান বিচারপতির বন্দনা করছেন। কিন্তু আমরা সবাই কি জানি প্রধান বিচারপতি কী ‘সত্য’ উচ্চারণ করেছেন এবং কী ‘সাহসী’ ভূমিকা রেখেছেন?

প্রধান বিচারপতি রায়ে লিখেছেন:

“কোনো একক ব্যক্তি নিয়ে অথবা তার দ্বারা কোনো জাতি-দেশ গঠিত হয়নি।”

হ্যাঁ, জাতি-দেশ গঠনের পেছনে লাখো-কোটি মানুষের নানা মাত্রার অবদান থাকে। কিন্তু একক ব্যক্তি হয়ে ওঠেন ঐক্যের প্রতীক। একজনই বলতে পারেন, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি’, কিংবা ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ’। একজনই বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি আছে। এই বিপক্ষ শক্তি মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান স্বীকার করতে চান না। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য এদের উৎসাহিত করেছে। এই রায়ের সূত্র ধরে কেউ যদি বায়না ধরে যে, যেহেতু একক ব্যক্তি দ্বারা জাতি-দেশ গঠিত হয়নি সেহেতু সংবিধান থেকে ‘জাতির পিতা’ বাদ দিতে হবে তখন কী করবেন বা বলবেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা? এই হল তাঁর সত্য উচ্চারণ ও সাহসী ভূমিকা, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি আলগা করে দেওয়ার পথ তৈরি করেছে!

বিচারপতি সিনহার সত্য ও সাহসের মধ্যে স্ববিরোধিতাও রয়েছে। তিনি এক জায়গায় যে যুক্তি দিচ্ছেন অন্য জায়গায় তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেননি। যেমন, সামরিক শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলছেন:

“ক্ষমতালোভীরা দুবার আমাদের রাষ্ট্রকে ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ পরিণত করেছিল, যেখানে ক্ষমতালোভীরা তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য জনগণকে পণ্যরূপে দেখেছে, ধোঁকা দিয়েছে। তারা জনগণের ক্ষমতায়ন করেনি, অপব্যবহার করেছে। তার নানা রকম ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে। কখনও ভোটের নামে, কখনও জোরপূর্বক নির্বাচনের মাধ্যমে, কখনও নির্বাচন না করে। এর সবটাই করা হয়েছে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে। আর এর মধ্য দিয়েই সুস্থধারার রাজনীতি পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব অগণতান্ত্রিক শাসনামলের নোংরা রাজনীতি চর্চা আমাদের সার্বিক জনরাজনীতির মারাত্মক ক্ষতি করেছে।”

তাঁর এই পর্যবেক্ষণ যদি সঠিক হয়, তাহলে তিনি যখন বলেন, ‘এমন একটি পঙ্গু সমাজে আমরা আছি, যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখে না, কিন্তু খারাপ লোকেরা আরও লুটপাটের জন্য বেপরোয়া’– এটা তো সামরিক শাসনের ‘লিগাসি’ হিসেবেই দেখতে হবে, তাই নয় কি? কিন্তু বিচারপতি সিনহা তা দেখেননি।

বিএনপি যে এত খুশি, রায়টিতে যে তারা স্বাগত জানাচ্ছে, তারা কি ভালো করে পড়ে দেখেছে? রায়ের এই অংশের সঙ্গে কি তারা সহমত পোষণ করে? যদি করে তাহলে প্রশ্ন হল, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, ধোঁকাবাজির রাজনীতির প্রবর্তক হয়ে আজ এত বড় গলায় কথা বলছে কোন নীতি-নৈতিকতা মান্য করে?

পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে:

“ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো কোনো নজরদারি বা তদারককারী প্রতিষ্ঠান নেই। এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষারও ব্যবস্থা নেই। নির্বাহী বিভাগ দাম্ভিক নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ায় আমলাতন্ত্র কখনও দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট হবে না।”

প্রশ্ন হল, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো নজরদারি বা তদারককারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে গড়ে উঠবে? তদারককারী নিজেই যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দাম্ভিকতা দেখায়?

পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে:

“এখন রাজনীতি মুক্ত নয়। এটি বাণিজ্যিক বিষয়। আর অর্থ রাজনীতি পরিচালনা করে। আর সেটাই তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়। এখন মেধা নয়, ক্ষমতাই সব জনপ্রতিষ্ঠানের নিয়মতন্ত্রকারী।”

ধরে নিলাম প্রধান বিচারপতি এখানে নির্মোহ সত্য উচ্চারণ করেছেন– প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনীতির বিকল্প কী? অথবা রাজনীতিকে মুক্ত করার পথই-বা কী? প্রধান বিচারপতির কাছে কোনো দাওয়াই আছে? সব জায়গায় যদি মেধার ঘাটতি তাহলে বিচার বিভাগের অবস্থা কী? বিচার বিভাগে কি সব মেধাবীদের সমাহার ঘটেছে?

প্রধান বিচারপতি ধান ভানতে শীবের গীত গাওয়ার মতো কত কথাই না বলেছেন। এগুলো সভা-সেমিনারে বললে হাততালি পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক মুখরোচক কথা বলে থাকেন। প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে কি তেমন কথামালা প্রত্যাশিত? তিনি পর্যবেক্ষণে বলছেন:

“অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিরোধের স্পৃহার মাধ্যমে আমরা সামরিক শাসনের থাবা থেকে মুক্ত হয়েছি। কিন্তু পরাজিত হয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্রে। এমনকি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমরা আমাদের একটি জনপ্রতিষ্ঠানও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। কোথাও আমাদের ভারসাম্য নেই। তদারককারী নেই। আর এ কারণেই সুবিধাভোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহিত হন এবং যত্রতত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের ধৃষ্টতা দেখান। রাষ্ট্রক্ষমতার যা রাজনৈতিক ক্ষমতার আরেক রূপ, সাম্প্রতিক সময়ে তা গুটিকয়েক মানুষের একচ্ছত্র বিষয়ে পরিণত করেছে। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণের আত্মঘাতী প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতার লিপ্সা মহামারির মতো, যা একবার ধরলে তা দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য ছিল না। আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন, কোনো ক্ষমতাধর দৈত্যের জন্য নয়।”

 

Jatiyo Sangshad - 111

 

এখানে ‘দৈত্য’ শব্দটির ব্যবহার কি খুব জরুরি ছিল? দেশের রাজনীতি বর্তমান অবস্থায় একদিনে এসে পৌঁছায়নি। তাহলে সব দায় বর্তমানের কাঁধে চাপানো কতটুকু সমীচীন? সামরিক একনায়ক ‘দৈত্য’দের খেদমত কি বিচারপতিরা করেননি? প্রধান বিচারপতির সব আক্রোশ রাজনীতিবিদদের প্রতি, বিশেষ করে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি? কেন?

নির্বাচন কমিশন নিয়েও প্রধান বিচারপতি মতামত দিয়েছেন। বলেছেন:

“নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে এবং হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে না করতে পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদ প্রতিষ্ঠা হয় না।”

বচন হিসেবে এগুলো মধুর। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে, হস্তক্ষেপ ছাড়া করলেই গণতন্ত্র বিকশিত হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এসব শব্দের এখন বাজারমূল্য অনেক। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় অনেকটা একতরফা নির্বাচন হয়েছে। ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় গণতন্ত্রের কুলমান রক্ষিত হয়নি। নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হত, তাহলে এখনকার চেয়ে সংসদ কি গুণেমানে সেরা হত? এখন যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা অথবা তাদের মতো কেউ-না-কেউ তো নির্বাচিত হয়ে আসতেন, তাই নয় কি? আমাদের গোস্বা হওয়ার কারণটা কি এই যে, বিএনপি সংসদে নেই আর আওয়ামী লীগ আরামসে রাজত্ব করছে? নাকি গণতন্ত্রের বিকাশ নেই বলে আমরা দুশ্চিন্তিত?

যদি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে মানুষ হয় বিএনপি, না-হয় আওয়ামী লীগ-মনোনীত প্রার্থীদেরই ভোট দেন। সৎ,বিদ্বান, ভালো মানুষ বলে পরিচিত কেউ কি নৌকা বা ধানের শীষ মার্কা ছাড়া ভোটে জিতে আসতে পারবেন? ড. কামাল হোসেন, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, জুনায়েদ সাকী, এদের মানুষ ভোট দেয় বা দেবে? মাহমুদুর রহমান মান্না নৌকা নিয়েও জিততে পারেননি।

বর্তমান সংসদকে ‘অকার্যকর’ ও ‘অপরিপক্ক’ উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি কতগুলো আইনি জটিলতার পথ তৈরি করলেন কি না সেটাও দেখার বিষয়। বর্তমান সংসদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতিকে। এখন এসব কিছু নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন:

“আমি তো মনে করি ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ রায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায়। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান সরকার একটি একনায়কতান্ত্রিক সরকার। এই সরকার সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিয়েছে। সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছে। কোনো একটি সভ্য দেশের আদালত যদি এই রায় দিতেন, তাহলে এতক্ষণে সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যেত। এই রায়ের পর বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।”

রায়ের পর আওয়ামী লীগের যদি ক্ষমতায় থাকা অনুচিত হয়, তাহলে বিএনপির রাজনীতিতে থাকা উচিত হয় কীভাবে? বিএনপির জনক দেশটা ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ করেছেন, ধোঁকাবাজির রাজনীতি করেছেন বলে বিচারপতি সিনহা উল্লেখ করেছেন। আমাদের দেশে একটি প্রবাদ চালু আছে, ‘পাগলের সুখ মনে মনে, পাতা টোকায় আর টাকা গোনে’। বিএনপির খুশি ও সুখ-সুখ ভাব দেখে এই প্রবাদের কথা মনে পড়ছে।

পাতা টুকিয়ে টাকা গোনার সুখ বিএনপির জন্য কতদিন স্থায়ী হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

৪৫ Responses -- “বিচারপতির বিচার ও বিএনপির সুখানুভূতি”

  1. সেলিম ইমরান

    ভালভাবে পড়লে বুঝা যায় বিচার বিভাগকে কারা ব্যবহার করছে – কয়দিন গেলে ঠিকই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে

    Reply
  2. E A Bari

    ভেবেছিলাম, মামলাটি ছিলো ষোড়শ সংশোধনী বনাম নির্বাহী বিভাগ- দেখলাম কিন্তু দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি-রাজনীতি-দুর্নীতি-সমাজনীতি-সততা-অর্থনীতি …. বনাম সমগ্র জনতা [অবশ্য বিচারপতিরা ছাড়া!]! এমন নেতিবাচক, হতাশপূর্ণ, নৈরাশ্যবাদী মতামত কখনো কোনো দেশের সুপ্রিম আদালতের সর্বোচ্চ ব্যক্তি করেছেন বলে আমার জানা নেই। দেশ কী এতোই গুল্লায় গেলো? ইতিবাচক এক দু’টো অভজারবেশনই তাঁর চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিতে পড়লো না? কী আশ্চর্য!

    Reply
  3. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    “আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলি, কোন শক্তি এদেশে আছে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াই? আমাদের সংবিধানের যে নীতি-আদর্শ আছে সেটাকে মানতে হবে, মানতে হবে, মানতে হবে। কে আছে? কোন শক্তি আছে এদেশে, যে আমাদের সংবিধানকে অমান্য করবে? “জাদুঘরে আছে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধান। এটাকে কে অসম্মান করতে পারে এদেশে? আমি দেখতে চাই। কে অসম্মান করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে? আজীবন দেশ শাসন করতে পারে, আমি দেখতে চাই। কেউ পারবে না, অসম্ভব,” বলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির এই সদস্য।“জাতির জনক হিসেবে স্বাক্ষরিত যে দলিল রেখে গেছেন, সে দলিলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্পষ্ট করে লেখা আছে। বিচারকদের স্বাধীনতার কথা লেখা আছে। আইনজীবীদের স্বাধীনতার কথা লেখা আছে। “কারোরই সেই শক্তি নাই যে এটাকে ছিঁড়ে ফেলতে পারবে। সবচেয়ে দামি কথা যেটা, সেটা লিখে দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করে গেছেন- জনগণ ক্ষমতার মালিক। এটা কি কেউ চেঞ্জ করতে পারে? তিনশ ভোটের পার্লামেন্ট হলেও পারবে না।”

    Reply
  4. ABSIDDIQUE

    Appreciate Mr.V.Sarker for his elaboration about 16th amendment of the constitution. BNP always thinks like that. Shah Mozaem Hossain once made sarcastic comment about his present party as Basically Not a party (BNP), Saka chowdhury made another comment as Bangladesh Noakahali Party (BNP) and Prof. Mamoun commented as Bangladeshi Nationals of Pakistan (BNP). They are always in favor of Pakistan. Very few people in BNP are educated and majority people are non matriculate ICS Their comments are like that. Thanks.

    Reply
    • Robi

      Why Awami League is so afraid of neutal vote against majority of uneducated BNP and it’s suppoters, Mr. Abusiddique? You also came from uneducated farmer family. In Bangladesh everyone was low caste hindus converted to muslims. So, don’t think of yourself as an educated smart ass.

      Reply
  5. মেঠো পথ বশির পারভেজ ।

    এমন একটি দেশ বাংলাদেশ জন্ম লগ্ন থেকে দালালরা এই দেশের পিছনে লেগে আছে এখনো চলছে, নতুন বিষয় হল নতুন দালালের উৎপাত বেড়ে গেছে । তাদের ছদ্ববেশি উৎপাতের কারনে স্তব্ধ জাতি । খাওয়ার সুযোগ না পেলেই তাদের অন্তর জ্বালা আরম্ভ হয়ে যায় । তখন চাদের বুড়ির মত সুতা কাটা শুরো করে । এখন এক রায় নিয়ে কমন্টস পড়লে মনে হয় সবাই বিচারপতি।

    Reply
  6. Stupid-Buster

    যেই দেশের প্রতিটি জনপ্রতিনিধি মূর্খ সেই দেশের বিচারপতি সভ্য আর শিক্ষিত হবেন কোন সমীকরনে??
    অবশ্যই কেউ বলবেন না উনি, স্বর্গ থেকে আসা অবতার।
    উনার নিয়োগ কর্তা দেশপতি (প্রেসিডেন্ট) তো তাহলে ভগবান?

    Reply
  7. ফারুক প্রধান

    আওয়ামীলীগ প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানে পাঠায় দিব। পাকিস্তানের দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক দলের মত আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাপা-জামাত-জাসদ দুর্নীতি ইনারা করেন না। নাকি সবাই দুধে ধুয়া তুলসীপাতা। যেহেতু পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা নওয়াজ শরীফ – জারদারিরা দুর্নীতি করেন আবার আওয়ামীলীগ-বিএনপি এদের নেতারাও দুর্নীতি করেন তাহলে শেখ হাসিনা-খালেদা-এরশাদ সবাইকে পাকিস্তান পাঠায় দেওয়া হউক।

    Reply
  8. sukumar

    সত্য চিরকাই সত্য। সেটা শুনতে কারো যদি কস্ট লাগে,, তবে বুঝতে হবে সে সত্য বলার ও শুনার যোগ্যতাই হারিয়েছে।।। কেউ যদি কাউকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলে,, তুই ভুল করছিস,তবে তার উচিত আগে নিজেকে বিশ্লেশন করা।। তার সত্যি কোন ভুল হচ্ছে কি না।।।তা না করে যদি সে চিল্লা চিল্লি করে তবে সেটা নত্তান্তই বোকামি।।।। কেননা এটা তার নিজেকে সংসোধনের সুযোগ ছিল।। ন

    Reply
  9. supid-buster

    The day Mr.Shinha back from his last USA trip, it was the moment his tone had started changing.

    And then his real face got its final form when he uttered the reference of PAKI S.court verdict.

    Reply
  10. নীলাদ্রি

    স্বাধীনতা কোনভাবেই তাঁর একার জন্য আসে নি।মুখ দিয়ে বললেই যদি দেশ স্বাধীন হত,তা হলে ৭১এর আগেই হয়ে যেত।আর তখন তার ঘোষণার চেয়েও গুরুতর ক্ষোভ ছিল জনগণের মনে।তাই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুদ্ধে।আর এর ফলেই স্বাধীনতা এসেছে দেশে।স্বাধীনতা উত্তর এমন কোন সরকার এদেশে আসেনি, যারা ক্ষমতে ছাড়তে চেয়েছে।দেশের প্রত্যেকটা সরকার,নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত।কেউ দেশটাকে রাজতন্ত্র,কেউ একনায়কতন্ত্র, কেউ সাময়িক শাসনের আড়ালে দেশকে শাসনের নামে শোষণ করেছে।কেউ বা একা নির্বাচন করে ৪দিন ক্ষমতায় থাকছে।তবে ইতিহাস সাক্ষী এদেশে কোনো জালিম বাঁচতে পারেনি।

    Reply
  11. অনিকেত

    আমরা ছোট থাকা কালে বঙ্গবন্ধ , জিয়াউর রহমানের অবদান বইয়ে পড়তাম।তাদের প্রতি সম্মান ছিলো এখনো আছে।জাতি হিসেবে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। জাতি চিরদিন তাদের সম্মান করবে। তাদের নিয়ে সমালোচনা কাম্য নয়।কিন্তু আওয়ামী সব কিছুতে কেন এই মহান ব্যক্তি কে টেনে আনেন বুঝতে পারছি না। যার যতটুকু সম্মান পাবার কথা সে ততটুকুই পাবে।জোর করে সম্মান আদায় করা যায় না।

    Reply
    • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      জিয়া ছিল , একমাত্র বাস্তাববাদী নেতা যিনি পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে না গিয়ে , স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা দিয়ে রাইফেল হাতে যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পর, জয় বাংলার বিরুদ্ধে ৫ম সংশোধনী এনে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। যুদ্ধে রাইফেল দরকার হয়, মুখ দিয়ে বললেই দেশ স্বাধীন হয় না ।

      Reply
      • Rafiul Bari Khan

        ভাই সঠিক কথাটি বলেছেন। আরতাই বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর একজন বাস্তববাদী নেতার মত বলেছেন ” So what? The Vice president will take the charge.” কারন দেশের নেতৃত্ব তো শুন্য রাখা যায় না। তাহলে দেশে যে বিশৃঙ্খলা হইত তা থেকে দেশকে আর ফেরত আনা যেত না।তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশকে সঠিক পথে রাখে।অথচ এই ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মনোবলের জন্য তিনি বাস্তববাদী থেকে বিশ্বাসঘাতক। এটা একটা অপরাজনীতির কৌশল।কিন্তু জিয়া যে কী করে দিয়ে গেছে তা দেশপ্রেমিক মাত্রই বুঝতে পারে।

  12. Md M Rahman

    শাসক যদি হয় ন্যায়বান তাহলে আইন অনাবশ্যক , আর শাসক যদি হয় দুর্নীতিপরায়ন তবে আইন নিরর্থক।”
    -প্লেটো

    Reply
  13. নেওয়াজ

    যারা আওয়ামীলীগ সমর্থক এবং লীগের নেতাদের বলছি আপনারা নিজেদের ব্যবহার ও মুখের ভাষাগুলো ঠিক করেন প্লিজ । লীগেরা কি ভদ্রতা শিখেনি নাকি ভদ্রতা তাদের সংবিধানে নেই । আজ খালেদা দুর্বল বলে তাকে লীগ নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলল যে তাদের শক্তি শেষ । যতসব উশকানি মুলক কথা । আপনাদের শক্তিতো আপনাদের দলের মধ্যই সীমাবদ্ধ।

    Reply
  14. হাবিবুর রহমান

    এসব হচ্ছে অবৈধ সরকারের মাজা ভেঙ্গে যাওয়াতে ব্যাথার যন্ত্রনায় আওয়ামী লীগের কাতরানী।

    Reply
  15. হায়দার চৌধুরী

    বিচারপতির রায় মেনে নেন। বিএনপি কি করবে না করবে সেটা আপনার বিষয় না! এক রায়ে এত পাগল হলে চলবে না! ভবিষ্যৎ এ এর ছেয়ে ভয়াবহ রায় আসবে প্রস্তুত থাকুন।

    Reply
  16. প্রতীক বর্ধন

    মানুষ যখন চরম বিষাদগ্রস্ত হয়ে কি করবে ভেবে না পেলে এই রকম পাগলের মত প্রলাপ বকতে থাকে।
    আসলেই তারা এই ভেবেই সংকিত যে, যেসব অপকর্ম করে গেছে এগুলার হিসাব তারা কিভাবে দিবে।। এই জন্যেই পাগলের প্রলাপ বকা। সাথে আমাদেরও বিনোদন দেওয়া।

    Reply
  17. বাপ্পা

    ফেরাউনকে, বেশী জুলম করার কারনে বেশী দিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
    ধ্বংস হয়েছে চিরতরে, আর লানত আজীবন থাকবে।

    (এই স্ট্যাটাস অত্যাচারিদের উদ্দেশ্যে,, )

    Reply
  18. বাসুদেব মুখুজ্জে

    ঠিক বলেছেন ওকা সাহেব। জনগণ সব আপনাদের পিছনে….,
    ধাওয়া দেওয়ার অপেক্ষায়!!

    Reply
  19. ইলিয়াস

    সামান্য ভিন্নমত পোষন করলেই খেতাবপ্রাপ্ত হোক আর রনাঙ্গনের বীর যে কাউকেই “রাজাকার” বা “শান্তি কমিটির সদস্য” উপাধী দেয়াটা এক ভয়ংকর রোগে পরিনত হয়েছে মহান মুক্তিযোদ্বের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগের।
    মহান মুক্তিযোদ্বের উপ-অধিনায়ক একে খন্দকার যিনি মাত্র বছর তিনেক আগেও মন্ত্রী সভায় ছিলেন তিনি তার বইয়ে কিছু সত্য লেখায় তাকে সংসদে তারই সতীর্থরা “পাকিস্তানি এজেন্ট” সাব্যস্ত করেছে।বীর মুক্তিযোদ্বা শহীদ জিয়া,সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত,ডক্টর কামাল হোসেন,বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী থেকে এমন কোন বীর যোদ্বা নেই যিনি আওয়ামী স্বার্থের বিপক্ষে গেলেই “রাজাকার” উপাধী দেয়নি আওয়ামীলীগ।

    Reply
    • রিটু

      আর বিএনপির স্বার্থের বিপক্ষে গেলেই নাস্তিক বা ইসলামের শত্রু উপাধী দেয় বিএনপি ও এর সমর্থকরা , সে যতোবড় ধার্মিক হোক না কেন।

      Reply
  20. জিন্নুরাইন

    ৯ বছর ধরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে যেটুকু অস্বস্তি উপহার দিয়েছিল চিফ জাস্টিসের এই এক রায় তার দশগুন চাপা আতঙ্ক তৈরি করেছে। এটা একটি সাংবিধানিক পদ এবং এর প্রকৃত ক্ষমতা হচ্ছে এটা চাইলে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় যেকোন কাউকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে…

    Reply
  21. জাভেদ হুসেন

    প্রধান বিচারপতি আপনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং বিচারক সহ সর্বত্র সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় জাতির প্রকৃত অভিভাবক হয়ে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ন্যায় সঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত ভাবে যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছেন তাতে দেশের ১৭ কোটি জনগণ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরা দেশপ্রেমহীন ক্ষমতা লোভী রাজনৈতিক স্বার্থবাদী রাজনৈতিক নেতাদের চাপে দেশপ্রেম এবং ন্যায় নীতিবোধ বিকিয়ে দিতে তাদের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এটাই আপনার কাছে জাতি আশা করে।

    Reply
  22. সুজন চক্রবর্তী

    রায় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ভালো কিন্তু এখন চলছে পঁচা ডিম ছোরা ছুরি,যাতে অংশ নেওয়া থেকে বাদ গেলেন না প্রধানমন্ত্রী নিজে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাটুকারেরা যাই বলুক চলে আসুন না জনগনের কাতারে ,নিরপেক্ষ ভোট দিন ।২১ বৎসর কঠিন সময় পার করে ক্ষমতায় এসেছেন এখন ভয় পান কেন।বি এন পি ১০-১১বৎসরে ক্ষমতার বাহিরে থেকে যেমন হারিয়ে যায় নি,বেড়েছে দলের ওপর মনুষের ভালবাসা। তেমনি…………!

    Reply
  23. মাসুদ

    এস কে সিনহা সাহস করে সত্যের কাছাকাছি গিয়েছেন। আসল কথা হলো- আপনাকে হয়
    পুরোটাই সত্য বলতে হবে; নতুবা মিথ্যা বলতে
    হবে। তিনি ভোটার বিহীন এ সরকারকে পুরোটাই অবৈধ ঘোষণা করতে পারতেন! অথবা খাইরুল মার্কা আরেকটি রায় দিয়ে আইন কমিশনের পরবর্তী চেয়ারম্যান তিনিই হতে পারতেন!

    Reply
  24. Badrul Alam Chowdhury

    বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এখন কার আওয়ামী লীগ নেতাদের দল থেকে বের করে দিতেন, আওয়ামী লীগের সমস্যা হলো গায়ের জোরে সব করতে চায়, এই সব বৃধ্য লোকজনের উচিৎ কম কথা বলা তাতে তাদের মানসম্মান থাকবে, উনারা কি শিখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মদের এই খিস্তি করে কথা বলা, তারা (নতুন রা) যখন দেশ সামলাবে এমন আচরনই তো করবে, কারন তাদের বাপ চাচা দাদু দের থেকে পাওয়া…..

    Reply
  25. Rizvi Babu

    প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘এই বাজে রোগের কারণে নীতিনির্ধারকেরা সবকিছু ব্যক্তিকরণ করে ফেলেছেন। তাঁরা তাঁদের ক্ষুদ্র এবং সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে একটি ভুয়া ও “মেকি গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এটা তাঁরা লজ্জাজনকভাবে আমাদের সংবিধানের অন্যায্য সুবিধা নিয়ে করেছেন। অথচ ১৯৭১ সালে আমাদের শহীদেরা রক্ত দিয়ে এ সংবিধান লিখেছিলেন। আমাদের অবশ্যই এই নোংরা “আমাদের লোক” মতবাদ পরিহার করতে হবে। পরিত্যাগ করতে হবে এই আত্মঘাতী “আমি একাই সব” দৃষ্টিভঙ্গি। দলীয় আনুগত্য বা অর্থবিত্ত নয়, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠান তৈরিতে শুধু মেধার বিবেচনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

    Reply
  26. নাজমুল হোসাইন

    শুধু একটা কথা বলতে ইচ্ছে করে যে, দেশের রাজনীতিবীদরা যে কোন কথার অপব্যাখ্যা দিয়ে পার পেয়ে যেতে চান! আমারা দেখেছি প্রধান বিচারপতির মূল বক্তব্যকে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে… এর চাইতে লজ্জার কি হতে পারে…? বাংলাদেশী হিসেবে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে… যদি প্রধান বিচারপতিকে নিয়েই এমন ঘৃন্য সমালোচনা করা হয় :'(

    Reply
  27. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    আমি বলব, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কোনো ঘাটতি রয়েছে এমন একটি শব্দ পর্যন্ত আমি পাইনি। যাঁরা বলছেন পেয়েছেন, তাঁদের উচিত রায়ের পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে সেই বাক্য তুলে ধরা। প্রতিকার চাওয়া। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননাকর কোনো শব্দ বা ইঙ্গিত রায়ে নেই। আমি রায় শুধু পড়িনি, খুব ভালোভাবে পড়েছি। আমি কিছুই পাইনি, যা তাঁর বিপক্ষে গেছে বলে প্রতীয়মান হতে পারে। আর আমরা মনে রাখব, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সই করা সংবিধান কিন্তু ‘আমরা জনগণ’ দিয়ে শুরু হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সেই কথাকেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।

    Reply
  28. One who thinks sometimes

    The writer wrote with proper thought and reading. He did not opine in partisan feeling. There are a lot other things in the decree what deserve criticism. But to obey the court’s decision is compulsory for all of us by constitution.

    Reply
  29. সৈয়দ আলি

    লেখক বলছেন, ‘আবার অনেকের বক্তব্য অসংযত– মনোভাব যুদ্ধংদেহী। এই গ্রুপে দেখা যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে। নরম-গরম পথে চলাই হয়তো সরকারের নীতি।’ আমি কি মনে করিয়ে দিতে পারি যে ওই দুজনই হাইকোর্টে শাস্তিপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিন্তোও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাভয়ে এখনো গদীনশীন আছেন? একটি গনতান্ত্রিক দেশে, অই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতেন।
    তিনি আরো লিখছেন, ‘যারা ([রায়ের] পক্ষে (বিএনপি বাদে, কারণ বিএনপি লাফাচ্ছে না বুঝে, তাদের আনন্দ আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় দেখে)……. অর্থাৎ প্রাজ্ঞ লেখক নিশ্চিত যে বিএনপিতে আইন বোঝার কেউ নেই। এটি কি লেখকের পেশাদারীত্ব প্রমান করছে?

    Reply
  30. একলাছ উদ্দিন মল্লিক

    বাংলা দেশে একটি প্রচলিত গল্প আছে ,একলোক হাটে গিয়ে দেখলো হাটের লোকজন মিলে তার বাবাকে মারতেছে কারন তার বাবা চুরি করে ধরা পড়ছে সেই লোকটি দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ি আসছে তখন তার মা জিজ্ঞাসা করছে কি হয়েছে বাবা ফকরুল তখন ফকরুল বলতেছে মানির মান আল্লাই রক্ষা করে বাজারে গিয়ে দেখি বাবাকে লোকজন মারতেছে আমি আমার মান সম্মান বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি ,বর্তমান বিএনপির এই দশা জিয়াকে এবং জিয়ার ক্ষমতা দখলে কে অবৈধ বলেছে তাতে কি

    Reply
  31. ashadul amin

    .১)লেখক প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষন নিয়ে এমনভাবে মন্তব্য করেছেন যেন কোন শিক্ষক দশম শ্রেণীর ছাত্রের খাতা দেখছেন। মন্ত্রী কামরুল, আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বা ব্যারিস্টার তাপস যা বলেন নি বা সমালোচনা যোগ্য মনে করেননি তাও লেখক লিখেছেন। More Catholic Than Pope আর কি। এটা সবার অনুধাবন করা উচিত আপীল বিভাগের রায়ের বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য সব দেশে অল্প সংখ্যক লোকই থাকেন কিন্তু সেই সব বুদ্ধিমান লোক অনেক থাকে্ন যারা রায় থেকে বা সমালোচনা থেকে শেখেন। আর বোকারাই পাদপ্রদীপের সামনে আসার ব্যর্থ চেষ্টায় অর্বাচীনের মত মন্তব্য করেন।
    ২) আলোচ্য রায়টি সাধারন ফৌজদারী বা দেওয়ানী মামলার আপীলের রায় নয়। সংবিধানের একটা অনুচ্ছেদ থাকবে কি থাকবে না এই বিষয়ের উপর। রাজনীতি ছাড়া সংবিধানের কোন ধারাটি আছে? সুতরাং্এখানে উচ্চমানের রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃত পক্ষে সরকারের বাইরে দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি, এরা কথা বলবে না তো রাম শ্যাম যদু মধুরা কথা বলবে? আওয়ামী লীগও পাল্টা বলবে। এতে উতলা হবার কি আছে?
    ৩) চলমান বিতর্কটির মধ্যদিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরবে না বরং এর মধ্যদিয়ে সংবিধান ও উচ্চ আদালতের বিষয়ে নাগরিকরা অনেক বেশি শিখতে পারবেন আর আমদের রাজনীতি আরও পরিশীলিত হবে।

    Reply

Leave a Reply to বাসুদেব মুখুজ্জে Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—