Feature Img

monjur-f11শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাটের গুরু জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের সহযোগী সংগঠন রাজাকার, আলবদর ও আল সামস্ বাহিনী ন্যূনতম মানবিকতাও দেখায় নি। গোলাম আযম বাহিনী নারী শিশু বৃদ্ধ নির্বিশেষে লক্ষ মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। নৃশংস দৈহিক নির্যাতন ও বর্বরতা চালিয়েছে। গোলাম আযম বাহিনী যখন বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যায় তখন তাদের স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গেও কথা বলতে দেয় নি, কাপড় চোপড়ও সঙ্গে নিতে দেয় নি, বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনা করে নি; চোখ, হাত পা বেঁধে অস্ত্র ঠেকিযে ধরে নিয়ে গেছে। বুদ্ধিজীবিদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে এবং তাদের হাত পা, চোখ বেঁধে অসহায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। লাশ কুকুর বিড়ালকে খাওয়াবার জন্য বধ্য ভূমিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ঐ সব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের নায়ক গোলাম আযমকে মানবিকতার পরাকাষ্ঠা দেখান হয়েছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল গাড়ীতে নিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য হুইল চেয়ারে করে তাকে ওঠান নামান হয়েছে। যদিও দু’দিন আগে আমরা দেখেছি গোলাম আযম হাটতে হাটতে টেলিভিশনে ইন্টারভিউ দিয়েছেন। গোলাম আযম এখন হাসপাতালের কারা সেলে।

গোলাম আযমের গ্রেপ্তার দেশবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও সংগ্রামের ফল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অতীতে অনেক টালবাহানা করা হয়েছে। যুদ্ধে প্রতিপক্ষের পরাজয় ও আত্মসমপর্নের পর প্রথম কাজ হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়াল থেকে শুরু করে সব যুদ্ধেই তাই হয়েছে। এই মুূহূর্তেই দুই ডজনেরও বেশী দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে।

আমাদের দেশে যুদ্ধ জয়ের চল্লিশ বছর পর বিচার শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর দেশের ভেতরে যারা যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ছিল তারা অনেকেই আত্মগোপনে যায়। কেউ কেউ দরখাস্ত করে সরকারের “নিরাপদ হেফাজত” বা জেলে গিয়ে আত্মরক্ষা করে। এতবড় একটা জনযুদ্ধের পর যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের দেখামাত্র হত্যা করার কথা– বাংলাদেশে তেমনটি ঘটে নাই। পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পনের সময় নিশ্চিত হতে চেয়েছে যে তারা ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করবে। পাক বাহিনীর যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পরেছে তারাও চেয়েছে যাতে তাদের ভারতীয় বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্লিনসহ রাইখস্ট্রাগ প্রথম দখল করে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইউনিয়নের লাল ফৌজ। মিত্রবাহিনী তথা ব্রিটিশ মার্কিন সৈন্য প্রবেশ করতে দেরী হয়। কিন্তু জার্মান বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছেই আত্মসর্ম্পন করতে আগ্রহী ছিল এবং তাই হয়েছে। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাবন্দীদেরকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

১৯৭৪ সনের ৯ এপ্রিল দিল্লীতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয় “The Foreign Minister of Bangladesh stated that the excesses and manifold crimes committed by these prisoners of the UN General Assembly Resolutions and International Law, war crimes, crimes against humanity and genocide, and that there was universal consensus that persons charged with such crimes as the 195 Pakistani prisoners of war should be held to account and subjected to the due process of Law. The Minister of state for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan said that his Government condemned and deeply regretted any crimes that may have been committed. (ধারা ১৩)
একই চুক্তিতে আরও বলা হয়;“In the light of the foregoing and in particular, having regard to the appeal of the Prime Minister of Pakistan to the people Bangladesh to forgive and forget the mistakes of the past, the foreign Minister of Bangladesh stated that the Government of Bangladesh has decided not to proceed with the trials as an act of clemency. It was agreed that the 195 prisoners of war may be repatriated to Pakistan along with the other prisoners of war now in process of repatriation under the Delhi Agreement.” (ধারা ১৫)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশগুলির স্বার্থ, ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা ও অন্যান্য নানা কারণেই ঐসব যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে বলেন “আমি ওয়াদা করেছিলাম, তাদের বিচার করব। এই ওয়াদা আপনাদের পক্ষ থেকে খেলাপ করেছি। তাদের আমি বিচার করিনি। আমি ছেড়ে দিয়েছি এই জন্য যে, এশিয়ায়-দুনিয়ায় আমি বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম।”
শেখ সাহেব দেশের ভেতর যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে যারা কয়েকটি গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত নয়, তাদের জন্যও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

জিয়াউর রহমানের সময় দালাল আইনটিই বাতিল করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধীরা সমাজে ক্রমান্বয়ে পূর্ণবাসিত হ’য়ে থাকে। রাজনীতির ময়দানেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ক্রমেই তৎপর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বি এন পি আওয়ামীলীগ প্রভৃতি বড় দলগুলি তাদের ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে এদের সাথে দহরম মহরম বাড়িয়ে দেয়। সমাজে যুদ্ধাপরাধি ও তাদের রাজনীতির ধারকরা গ্রহণযোগ্যতা পেতে থাকে। এই পর্যায়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে দলমত নির্বিশেষে বিশাল গন আন্দোলন গড়ে ওঠে। তরুন সমাজ ব্যাপকভাবে এই সংগ্রামে শরীক হয়। নুতন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। রাজাকারদের ঘৃণা করতে শেখে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে অহঙ্কার করতে শেখে, গনআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়। ক্ষমতাসীন বি এন পি সরকার জাহানারা ইমামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা দায়ের করে।

আওয়ামীলীগ একসময় আন্দোলনে ঢিলা দেয়, পিছু হটে আসে। ক্ষমতার লড়াইয়ে সুবিধার জন্য তারা জামাতের সাথে “কৌশলগত ঐক্য” করে। আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা বলেন “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।” ‘Politics makes strange bed fellows’.

রাজনীতিতে বিচিত্র শয্যা সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ রাজনীতির জন্য নানা সময় নানা শক্তির সাথে মিতালী করতে হয়। জাহানারা ইমাম জবাবে বলেছিলেন। স্বাধীনতার প্রশ্নে অবশ্যই শেষ কথা আছে। তিনি “কৌশলগত ঐক্যের” বিরোধিতা করেছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি ও বামপন্থীরাও বিরোধিতা করেছিল। এই কারনে কমিউনিস্ট পার্টি ও বাম গনতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতার উপর হামলা করারও চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ কর্মিরা।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথম বার ক্ষমতায় আসার পর তার উপদেষ্টা ডাঃ মালেক প্রেস ক্লাবে জাসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতীয় আন্তজার্তিক বাস্তবতা আর নেই। আওয়ামী লীগ সরকার সেবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কোন উদ্যোগ নেয় নি। মুজিব হত্যাকান্ডের বিচার শুরু করলেও শেষ করতে পারে নি। আশার কথা এইবার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছে। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার শুরু করছে। তবে এই বিচারের ব্যপারে সরকার কতটা দৃরতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।

যুদ্ধাপরাধী তদন্তকারী সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মী। এই ঘটনা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে। মহাজোট সরকারের মধ্যেও প্রশাসন ও বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত শিবিরের সাথে ঘনিষ্ট অনেকেই আছেন বলে শোনা যায়। জানা যায় এদের তালিকা শেখ হাসিনাকেও সরবরাহ করা হয়েছে।
একটা ধারণা মনে হয় কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশে পাকিস্তানী চিন্তা চেতনার শক্তি ও প্রভাব অনেক। এই ধারনাটা আন্তর্জাতিক ভাবেও প্রচারিত হয়েছে। পাকিস্তানি চিন্তা বলতে আমি বোঝাতে চাই সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্ব, ধর্মীও উগ্রতার স্বপক্ষে এবং সেকুলার গণতান্ত্রিক চিন্তা, আধুনিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চিন্তা চেতনা। সেই কারনেই হয়তো আমরা দেখি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান দল আওয়ামী লীগের ক্রমাগত পিছু হটা। সম্প্রতি সংবিধানের প্রশ্নেও ৭২ এর সংবিধান থেকে আওয়ামী লীগের পিছুহটা লক্ষনীয়। জিয়া এবং এরশাদের সংশোধনী আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও শেষ হাসিনা বলেছেন, ৭২ এর বাস্তবতা এখন আর নেই। গত নির্বাচনের আগেও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির সাথে আওয়ামী লীগের ৫ দফা চুক্তির কথাও আমরা জানি। নারী নীতির ক্ষেত্রেও আওয়ামী আগের বার ক্ষমতায় থাকাকালীন ঘোষিত নীতি থেকে অনেকটাই পিছিয়ে এসেছে। কিন্তু এতোটা আপোষ ও পিছুহটা সত্বেও সাম্প্রদায়িক জঙ্গী গোষ্টীকে আওয়ামী লীগ সন্তুষ্ট করতে পারে নি। আমিনী গংরা সবাইকে একত্রিত হয়ে রাস্তায় নেমেছে, হরতাল করেছে, বিষোদ্গার করেছে, হুমকী দিয়েছে।

স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় উগ্রপন্থী ও চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সারা দেশে তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বিদেশেও তারা বিপুল অর্থব্যয় করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে লবিইস্ট নিয়োগ করেছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি অপরদিকে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতির পক্ষের শক্তি আজ মুখোমুখি। সরকার শুধু পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে বা মামলা মোকদ্দমা করে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের পক্ষের শক্তিকে পরাভূত করতে পারবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হলে তাদের রাজনীতিকে পরাস্ত করতে হবে। জনগনই হচ্ছে মূল শক্তি। সেই জনতাকে নিয়ে গনসংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে চুড়ান্ত ভাবে পরাভূত করতে হবে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে।

কমিউনিস্ট পার্টি কোন জোট মহাজোট নেই। কিন্তু ১৪ দলীয় জোট এবং কমিউনিস্ট পার্টির অন্য অনেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করে। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি নতুন করে রাস্তায় নামার পর থেকে গত সাত মাস ধরে কমিউনিস্ট পার্টি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল যাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি জনতাকে নিয়ে রাস্তায় নামে। বিচ্ছিন্নভাবে শুধু নয়, একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে সমন্বিতভাবে যুগপৎভাবে যাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে। ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আরও দু একটি প্রগতিশীল দল ছাড়া অন্যদের কাছে থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায় নি। ইতিমধ্যে জামায়াত বিভিন্ন দল ও গ্র“পের সাথে সমন্বিত কর্মসূচী নিতে থাকে। ঢাকায় তাদের নেতৃত্বে কমান্ডো কায়দায় ’জালাও, পোড়াও, হত্যা কর’ কর্মসূচী পালিত হয়। ওয়াকিফহাল কেউ কেউ মনে করেন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃস্টি করে নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নেপথ্যের কোন কোন মহলও তৎপর ছিল।

এসব বিভিন্ন ঘটনার পর পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সম্মিলিত গন উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টাও নানা কারনে ফলপ্রসূ হয় নি। অবশ্য ৫ ডিসেম্বর সিপিবির উদ্যোগে এবং ১৩ ডিসেম্বর সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, গনতন্ত্রি পার্টি, বাসদ প্রভৃতি দল যুক্তভাবে ঢাকার রাজপথে যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত শিবির পক্ষীদের বিরুদ্ধে পতাকা মিছিল বের করে।

অনেক বিলম্বে হলেও প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান সিপিবিকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আমন্ত্রন জানান। ১৯ ডিসেম্বরের সেই আলোচনায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। স্বভাবতই আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের মৌলিক নীতি ও কর্মধারা সম্পর্কে আমাদের মতভিন্নতা ও বিরোধীতা এবং বিকল্প চিন্তা ব্যাক্ত করা হয়। যুদ্ধাপরাধী বিচারের প্রশ্নেও সিপিবির সমালোচনা তুলে ধরা হয়। তার পরও যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের সামগ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনতাকে নিয়ে রাস্তায় থাকা এবং মাঠে ময়দানে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশিত হয়। একই দিন একই সময়ে লাখো মানুষের যুগপৎ মিছিলের ব্যাপারেও ঐকমত্য হয়।

মুক্তিযুদ্ধের নীতি আদর্শের প্রশ্নে পিছু হটে, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে খুশী করে বা নানা ধরনের সমযোতা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব নয়। মোস্তাকপন্থীদের চক্রান্ত প্রতিহত করে আপোষহীন যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করেছিলাম। আজও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের রাজনীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন গনসংগামের মধ্য দিয়েই আজকের লড়াইয়ে জিততে হবে। গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায়, ৭ জানুয়ারী জেলা সদর এবং ১১ জানুয়ারী উপজেলায় সিপিবি, ১৪ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে লাখো মানুষ নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাও ৩ জানুয়ারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সমাবেশ করেছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোন একটি দল বা একজন নেতার যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল একটি জনযুদ্ধ দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই মুক্তিযুদ্ধেরই একটি অসমাপ্ত কাজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আমাদের দেশের লাখো মানুষকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার এদেশের মাটিতেই হওয়াটা জরুরী। সেই বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে। যেমন করে জনগনকে নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।

মনজুরুল আহসান খান: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি।

Responses -- “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আমাদের করণীয়”

  1. অজিত চক্রবর্তী

    পঞ্চদশ সংশোধনীর মত বর্বর সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা বাংলাদেশের প্রগতিশীলতার কত বড় শত্রু। যে কারণে আমরা যুদ্ধাপরাধী আর মৌলবাদীদের রাজনীতির বিরুদ্ধে, সেই রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এই সংশোধনী, তাকে টিকিয়ে রাখার সকল বন্দোবস্ত বিএনপির মত আওয়ামী লীগও সাধ্যমত করেছে। আর তাদের সাথে যুদ্ধাপরাধী বিরোধী খেলা খেলা আন্দোলনে সামিল হয়ে সিপিবি প্রমাণ করেছে তারা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগেরই সাথী।

    অজিত, খুলনা

    Reply
  2. Altaf

    ১৯৭১ সালের সমস্ত যুদ্ধাপরাধের অন্তত পক্ষে শতকরা ৫০ ভাগের ভাগীদার হলো এই গোলাম আজম। তার অনুপ্রেরনা ও পরিকল্পনাতে জামাতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্র সংঘ (এখনকার ছাত্র শিবির)থেকে গঠিত রাজাকার আলবদর ও পাকসেনারা জঘন্য যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘৃন্য অপরাধিদের সমর্থকরা বার বার ১৯৫ জন পাকি যুদ্ধাপরাধিকে ছেড়ে দেবার কথা বলে। এটা হলো তাদের জঘন্য মিথ্যাচার ও বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করার কূটচাল। ১৯৫ জনকে কখনই মাফ করে দেয়া হয়নি। যুদ্ধের পর পাকিস্তানে প্রায় ৪ লাখের মত নীরিহ বাঙ্গালি সিভিলিয়ান আটকা পড়ে ছিল যাদের কোনভাবেই ফেরত আনা যাচ্ছিল না পাকিস্তানিদের চাপে। ভন্ড মিথ্যুক ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান ওয়াদা করেছিল তারা ১৯৫ জন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধিদের তাদের হাতে ছেড়ে দিলে তারা নিজেরা বিচার করবে তাদের দেশের মাটিতে (যেটা তারা করেনি এবং তার কারনে আল্লাহর বিচারে পুরো পাকিস্তান জাতি এখন দোজখের আগুনে জলছে!) এটার বিনিময়ে তারা বাঙ্গালি সিভিলিয়ানদের ছেড়ে দেয়। আর এখন জামাত শিবিরের প্রপাগান্ডা মেশিন দেশে বিদেশে একই মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কোন লাভ হবে না, ইনশা-আল্লাহ এই বিচার হবেই।

    Reply
  3. Gias Uddin Bhuiyan

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আমাদের করণীয় : দেশের আপামর জনসাধারণ ১৯৭১ সালেও যেমন চেয়েছিল দেশ স্বাধীন হউক এখনও তেমনি চায় যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হউক। তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, শুধু জামায়াত করলেই যে যুদ্ধাপরাধী হবে তা নয়। আওয়ামীলীগেওতো যুদ্ধাপরাধী থাকতে পারে, তাদের আগে খুঁজে বের করুন এবং তাদেরকেও বিচারের শামীল করুন। যদি তা না করতে পারেন তাহলে জাতির কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে এই বিচার সম্পকের্। তাই এখন সরকারের দায়িত্ব হল আসল যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের করা, শুধু জামায়াতপন্থী যুদ্ধাপরাধীদেরই নয়। ধন্যবাদ!

    Reply
  4. নাসরিন

    আব্দুস সালাম ও জহিরউদ্দিন সাহেব, আপনারা যে কি বুঝলেন আর কি বললেন, তা বুঝিনি তা বলব না। কারণ মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ এই সব বিষয় স্পষ্ট পক্ষপাতের বিষয়। আপনি কি চান, তা অস্পষ্ট রাখার কোন সুযোগ নেই। কার কথার উত্তরে আপনি কোন ব্যক্তি উত্তর দিচ্ছেন, তা একটু ভেবেচিন্তে করুন।

    Reply
  5. zahiruddin Mohammed Babar Faruki

    আপনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাচ্ছেন?
    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করার অপচেষ্টার ফল আওয়ামীলীগ আগামী নির্বাচনেই পেয়ে যাবে ।
    যে কোন অপরাধের প্রধান আসামীদের বিচার হয় আগে। এখানে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর সবাইকে জামাই আদরে ছেড়ে দিয়েছে কারা। তাদের বিচার কি হবে না?ওরাই বলে দেবে ও আমার সহযোগী ছিল। সুতরাং দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। আন্তর্জাতিক আদালত, আবার বিদেশী কোন আইনজীবী আনা যাবে না। আসলে বিরোধী মতকে ঘায়েল করার জন্য এই আয়োজন। বিপক্ষে থাকলে যুদ্ধাপরাধী আর পক্ষে থাকলে তত্বাবধায়ক সরকারের রুপকার গোলাম আজম, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য আবার পায়ে ধরেও সালাম।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—