সংসদে উত্থাপিত ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন- ২০১৬’ নামের আইনে পুরুষের বিয়ের নূন্যতম বয়স ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছর। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৮ বছরের কমবয়সী মেয়েদের বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে। যে কোনো আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে অভীষ্ট জনগোষ্ঠী এবং সমাজের কল্যাণ এবং উন্নয়ন। দুর্ভাগ্যবশত প্রস্তাবিত আইনটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই বৈষম্যমূলক এবং সমাজের জন্য পশ্চাৎপদমুখী। মেয়েদের বিয়ের বয়সের কারণে ইতোমধ্যে আইনটি ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত, তবে সে আলোচনায় পুরুষের বয়সের বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষিত।

জাতিসংঘ সনদ এবং আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে একজন ব্যক্তি পূর্ণবয়স্ক বলে বিবেচিত হয়। একজন স্বাভাবিক মানুষের বয়স, শারীরিক এবং মানসিক পরিপক্কতা এবং চাহিদা বিবেচনায় ১৮ বছরকে প্রাপ্তবয়স্ক হবার একক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বয়সে একজন ব্যক্তি আইনত ভোট প্রদানে এবং চাকুরী-ব্যবসায় কর্মজীবনে যোগদানে যোগ্যতাসম্পন্ন।

অথচ, প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনটিতে ২১ বছরের কমবয়সী পুরুষকে বলা হচ্ছে ‘অপরিণতবয়স্ক’ (Minor) বা নাবালক! অর্থাৎ, আইন করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে ‘অপরিণতবয়স্ক’ ট্যাগ দিয়ে তাদের যৌনঅধিকার হরণ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা মানবাধিকার পরিপন্থী।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কখন বিয়ে করবে তা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সমাজের সুস্থ বিকাশে প্রাপ্তবয়ষ্ক, সক্ষম ব্যক্তির বিয়ের স্বাধীনতা উপভোগের অধিকার থাকা বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া বিয়ের বয়স ১৮ হলেই যে সব পুরুষ এ বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেস তা ভাবার কারণ নেই। তবে এ বয়সে যে সকল পুরুষ নিজেদের বিয়ের যোগ্য মনে করবেন তাদের সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অন্যায্য। অধিকন্তু, পুরুষের বিয়ের বয়স ২১ করার সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের যৌক্তিকতা নেই বরং হিতে বিপরীত হবার আশঙ্কা বেশি।

একজন ১৮ বছর বয়সী পুরুষের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণবোধ এবং ভালোবাসাময় সম্পর্কে জড়ানো স্বাভাবিক ঘটনা। সঙ্গত কারণে আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি প্রাপ্তবয়ষ্ক নারী-পুরুষকে বিবাহ-বহির্ভূত একত্র বসবাস বা সহবাস করার অনুমোদন দেয় না। সে ক্ষেত্রে আইন করে বিয়ের অধিকার খর্বের ব্যবস্থা করা অমানবিক।

এটা ঠিক যে, বিয়ে এবং সংসারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে পুরুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন আশা করা হয়। কিন্তু আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কৃষি-কলকারখানায় কর্মরত অনেক পুরুষ আঠারতে প্রতিষ্ঠিত। সুনির্দিষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, পোষাক শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স বিশের মধ্যে। অনেক পরিবার বিশেষ কারণে আঠারর বেশি বয়সী ছেলের বিয়ে যথাকর্তব্য মনে করেন কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতায় তা সম্ভব হয় না। এছাড়া, ১৮-১৯ বছর বয়সী অনেক পুরুষই সমবয়সী নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে আবদ্ধ হন। এমন যুগল বিয়ে করতে চাইলে, উভয় পরিবারের সন্মতি থাকলেও এই আইন সেই শুভকাজ বাধাগ্রস্ত করে।

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ-নারীর বিয়ে প্রতিহত করা মানে তাদের যৌন-অবদমনে বাধ্য করা অথবা বিয়ে-বহির্ভূত বিশেষ সম্পর্ক প্ররোচিত করা। অন্যদিকে, এ ধরনের সম্পর্কে কোনো এক পক্ষের পরিবারের আপত্তি থাকলে আইনত ছেলের বয়সের দোহাই দিয়ে অনেক অভিভাবক সে বিয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে প্রেমিক পুরুষটির বয়স ২১ বছর না হওয়া পর্যন্ত সেই যুগলকে অপেক্ষা করতে হয়। এই ফাঁকে মেয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে এই ছুতায় মেয়ের মা-বাবা নানা কূটকৌশল ও ইমোশোনাল ব্লেকমেইল করে তাদের পছন্দের কোনো ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। পরিণতিতে দুটো জীবনের সর্বনাশ ঘটে।

ব্যর্থ প্রেম-সম্পর্কের প্রভাব একেক জনের জীবনে একেক রকম। মর্মপীড়ায় অনেক পুরুষ কর্মে আগ্রহ হারান, অনেকে মাদকে আসক্ত হন– কেউ কেউ বিপদজনক মতাদর্শে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। আর মেয়েটির মানসিক দুর্দশা সহজেই অনুমেয়। এমন অনেক ঘটনা আমাদের আশেপাশেই বিদ্যমান।

অন্যদৃষ্টিতে, প্রস্তাবিত আইনের অপব্যবহারে নারীর প্রতি প্রতারণা এবং নিপীড়ন-বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন, ১৮ বছরের একজন পুরুষ এবং একই বয়সের একজন নারীর অন্তরঙ্গ সম্পর্কে মেয়েটি যদি গর্ভবতী হন তখন প্রেমিক পুরুষটি খুব সহজেই আইনের দোহাই দিয়ে বিয়ের দায়িত্ব এড়াতে পারেন। তখন সেই মেয়ের কী হবে? মেয়েটি গর্ভপাত করাতে পারেন অথবা মা হবার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু এর যে কোনোটি মেয়েটির ভবিষ্যত দুর্বিসহ করার জন্য যথেষ্ট।

আবার প্রেমিক মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গর্ভপাতে চাপ দিতে পারেন। গর্ভপাতের পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে অথবা প্রেমিকটি এই সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারেন। অথচ আইনে ১৮ বছর বয়সী পুরুষের বিয়ের অনুমোদন থাকলে এমন অবস্থায় বিয়ের মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

বলাবাহুল্য, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণে আমাদের দেশের অনেক পুরুষ যৌন-বঞ্চনার শিকার। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজে দৃশ্যমান। পুরুষের যৌন-অবদমনের সঙ্গে শিশুনিপীড়ন, ধর্ষণ, রাস্তাঘাটে নারীনিপীড়নের সংযোগ আছে বলেই মনে করি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার কাজে সাধারণত ১৮-২০ বছর বয়সী পুরুষের সংশ্লিষ্টতা লক্ষণীয়।

প্রসঙ্গক্রমে, দেশে বাল্যবিবাহের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে কন্যাশিশুর নিরাপত্তার অভাব। ধর্ষণ, নিপীড়ন এড়াতে অনেক মা-বাবা তাদের কন্যাশিশুর বিয়ের ব্যবস্থা করেন। সেজন্য, নারীনিপীড়ন প্রতিরোধে পুরুষের বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর করা জরুরি।

স্পষ্টতই, প্রস্তাবিত আইনটি অসঙ্গতিতে পূর্ণ। কারণ বাস্তবতা উপেক্ষা করে এ আইনে পূর্ণবয়স্ক পুরুষকে ‘নাবালক’ বিবেচনা করে তার বিয়ের বয়স ২১ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’এর অজুহাতে কন্যাশিশুর বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিণতিতে পুরুষ-নারী উভয়েরই কল্যাণ, সুখ ও সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে; বাড়বে সামাজি অনাচার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আইনটি বাল্যবিবাহ রোধে সহায়ক হবার কারণ নেই।

প্রকৃতপক্ষে, পুরুষ-নারী উভয়ের জন্য বৈষম্যহীন এবং সমাজবান্ধব একটি আইন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আশা করি সরকার প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনা করে শর্তহীনভাবে পুরুষ-নারীর বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর করার পদক্ষেপ নেবেন।

সীনা আক্তারসমাজবিদ, প্যারেন্টিং পেশাজীবী

৭২ Responses -- “‘নাবালক’ পুরুষের বিয়ের বয়স”

  1. Nazmul Hasan Zebon

    ইসলাম ধর্ম বলে সাবালক ও সাবলম্বি বা বউ কে চালানোর যোগ্যতা থাকলেই বিয়ে করিয়ে দেওয়া উচিত এতে ছেলেদের বয়স নিয়ে কোনো মাপ কাঠি নেই , না হয় নিজেকে সংযত রাখ

    Reply
  2. ড. মোঃ এমদাদুল হক, সহকারী অধ্যাপক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বেরোবি।

    আপনার লেখাটি পড়ে ভাল লাগল। আমি এর সাথে আর যোগ করতে চাই যে, ২১ এর পূর্বে যেহেতু পুরুষ নাবালক, তাহলে ২১ এর পর তাদেরকে ভোটার করা হোক। যাকে নাবালক বলেছি তাকে কেন ভোটাধিকার দিচ্ছি। বিষয়টি ভেবে দেখা উচিৎ বলে মনে করি।

    Reply
  3. saiful islam

    বর্তমান যুগের যে অবস্থা তাতে এই আইন যত দ্রুত সম্ভব প্রনয়ন করা উচিত,,,,কেননা ক্লাস সেভেন এইট এর মেয়ে ছেলেরা আজকাল প্রেম লিলা ও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত,,এছাড়া আর একটি কাজ অত্যাবশ্যক সেটি হলো মাধ্যমিক পর্যায় এর বই গুলো থেকে যৌনরোগ যৌবন যৌনাঙ্গ যৌনমিলন যৌনকামনা,,, এসকল বিষয় তুলে দেয়া উচিত,,,,তাতে করে১৩-১৪-১৫- বছরের ছেলে মেয়েরা যৌনতা সম্পর্কে কম জানতে পারবে এবং এর প্রতি আগ্রহ কমবে,,,,,,,,,,,,,

    Reply
  4. Akram Hossain

    আপনার লেখাটিতে দুটো জিনিস ভালোই লিখেছেন: নাগরিকত্বের দিক থেকে এবং বয়সের দিক থেকে।

    Reply
  5. M. Zohurul Alam

    This is failure of our law maker. Obviously, this is their responsibilities to consider every things in equal respect. In other sense, this is lacking of knowledge, wisdom, etc of our law maker.

    Reply
  6. A. Salam

    লেখিকার সাথে একমত । প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে পারেন ।

    ডিসেম্বর ২8, ২০১৬

    Reply
  7. Masud Rana

    I think you have given a perfect conception. Because in our country maximun thinkers tring to be famous by showing extra for the women. this time they forget man and women are equal in rights. Our honourable primeminister felt this but the thinkers didnt give her opportunity to implementation this….. thats sorrow .

    Reply
  8. Jamal Khan

    বিবাহ বর্হিভূত যৌনতাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আইনটি উপযুক্ত। আইন করার আগে মাথায় রাখা উচিৎ ছিল এটা মুসলিম দেশ আর ইসলামে ফ্রি সেক্স নিষিদ্ধ।

    Reply
  9. kamal

    apni tu bollen school gami meyer 18-20 bochorer chalera tease kore , ekta school gami moyer boyos 15 r niche ,, ekhaneo 4 bochor gap. aber ekta maayer masik suru hoi 10-12 bochore aber chaleder khatree spam create hoi 15 bochorer por , tohole sexuality soman boyse ki kore ase? chaleder shorire sex aser mai biye kora noi.. He has to take many responsibilities not she, this age not enough for male to marry. likely student leader of school or college is not perfect to lead whole country or presidential post!

    Reply
  10. গীতা দাস

    পুরুষরা যে আজীবনই নাবালক থেকে যায়! জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপত্থাপিত হয়েছে লেখাটিতে।

    Reply
  11. ইমরান

    খুব সুন্দর লিখছেন। একজন মহিলা হয়ে পুরুষের বিষয় টি উপল্বদি করার জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  12. Qudrate Khoda

    খুবই চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা!
    বিডি নিউজকে ধন্যবাদ এরকম একটি সময়োচিত লেখা প্রকাশের জন্য।
    লেখিকাকে আন্তরিক অভিনন্দন!

    Reply
  13. Joynul Abedin Khan

    আমার কথা হল, যে বয়সে একটি মেয়েস মাসিক হয় সেই বয়সে কি একটি ছেলের স্বপ্নদোষ হয়? মোটেও না। যে বয়সে একজন নারী সন্তান জন্ম দিতে পারে তার থেকে তিন বৎসর পরেও পরুষের শুক্রই সৃষ্টি হয় না। কাজেই মাসিক আর স্বপ্নদোষের পার্থক্য ঠিক করেই মনে হয় আপানাদের প্রতিবাদ করা উচিৎ। ইসলামের ইতিহাসে আলী রাঃ এর বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ২১ বৎসর অপর পক্ষে ফাতেমা রাঃ বয়স ছিল ১৫ বৎসর। ……………………………।।

    Reply
    • Md. Kamruzzaman

      ইসলাম ধর্মে ছেলেদের বিয়ের বয়স কত বলা আছে? ইসলাম ধর্ম মতে সম্ভবত বলা আছে যে, ছেলে এবং মেয়ে বিয়ের জন্য ‘সক্ষম’ হলে বিয়ে করতে পারবে। এই সক্ষমতা মানে শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, নারী-পুরুষ প্রত্যেকের সাংসারিক দায়-দায়িত্ব পালনের মানসিক ও আর্থিক সক্ষমতাও বটে। তাই, নির্দিষ্ট কোন বয়স বলা আসলে কঠিন। সেই সাথে শারীরিক সক্ষমতার বিষয়ে আপনি যা বললেন যে, ছেলেরা ২১ বছরের আগে সামর্থ হয় না, এটাও মনে হয় ঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২১ বছরের অনেক আগেই ছেলেরা শারীরিকভাবে সক্ষম হয়, যদিও বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তা ভিন্ন হতে পারে।

      Reply
    • ইমরান

      বিষয়টি স্বপ্নদোষ বা গুণের নয়। ১৮ বছরে একজন ছেলে পরিপূর্ণ পুরুষ এতে কোনো সন্দেহ নেই।

      Reply
    • আব্দুল্লাহ

      @Joynul Abedin, আরে ভাই একটা ছেলের কি ১৫ বছর বয়সে সপ্নদোষ হয় না? তো এখানে বিয়ের আইন ২১ বছর করলো কেনো যেখানে কুরআন হাদীসে বিয়ের কোন বয়সই নির্ধারন করা হয় নি, আপনার সরকার কি আল্লাহর থেকে বেশি বুঝে ? মানুষ যাতে খুব অল্প বয়সেও বিয়ে করতে পারে এই জন্য আল্লাহ তা’য়ালা বিয়ে কোন ধরাবাধা বয়সই নির্ধারন করেননি । একটা ছেলে ১২-১৬ বছর বয়সের মধ্যেই যৌবনে উপনীত হয় , তো এখন আপনার শয়তান সরকার বিয়ের বয়স ২১ বছর করলো কেনো ?
      .
      আর বিয়ে মানে কি শুধু যৌনতা নাকি? এখানে মানসিক প্রশান্তিও জড়িত ।
      তাই যে কোন ছোট বয়সেও বিয়ে হতে পারে , পাত্রপাত্রীর কে বড় কে ছোট এটা কোন বিষয় না ।

      আরে ভাই ছেলে মেয়ের যৌবনের শুরুর বয়সের কথা বলেছেন আপনি । পরে যদি ছেলের থেকে মেয়ের বয়স বেশিও হয় কিংবা একই হয় তাতে কোন সমস্যা আছে কি?
      এমনটা তো না যে সবসময় মেয়ের থেকে ছেলের বয়স তিন বছর বেশি হতে হবে , আপনার লেখা পড়ে তো তাই বুঝলাম , হা হা হা । মহানবী (সা:) এর প্রথম বিবাহের কথা কি ভুলে গেছেন?

      একটা মেয়ের ১৬ বছর আর একটা ছেলের ১৩ বছর, তাদের মধ্যে বিয়ে হলে কোন সমস্যা আছে কি?

      আর আপনি আপনার ছেলের সপ্নদোষের অপেক্ষায় থাকবেন নাকি? আর আপনার উচিত যাতে করে সপ্নদোষই না হয় তার জন্য অনেক আগে থেকেই তার বিয়ে দিয়ে দিবেন তা না হলে সে মানসিক তৃপ্তি লাভের জন্য অবৈধ পেমে জড়িয়ে পড়বে, এই জন্য দ্রুত বিয়ে । চোখ কান তো খোলা রাখেন, কি নোংরামী হচ্ছে বর্তমান শাসকদের কারনে ।
      আর আপনি যদি ঐ নাদানদের মতো হোন যারা গরীব হয়ে যাওয়ার ভয়ে ছেলে মেয়ের বিয়েই দিতে চায় না তাহলে অপেক্ষা করুন আল্লাহ তা’য়ালার শাস্তির ইহকালে এবং পরকালে ।

      Reply
    • মোনেম শাহরীয়ার

      মহানবী সঃ এর থেকে তার স্ত্রী ২০ বছরে বড় ছিল। এটাকে কেমন ভাবে দেখছেন আপনি? আসলে বিয়ের ক্ষেত্রে বসয়টাকে বিবেচনা না করে তাদের সম্মতি ও অসম্মতির দিকটাই বিবেচনা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

      Reply
  14. Mesbah Minar

    যথাযথ যু্ক্তিপূর্ন বিষয়টি, সরকারের এই আইনের আবার বিশ্লেষন করা উচিৎ এতে করে সমাজের ধর্ষনের হার কমবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করলে ভালোটাই বেশি হয় যদি পুরুষের বিয়ের বয়স ১৮ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ (তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তারচেয়ে কম বয়সেও বিয়ে দেওয়ার বিধান রাখা অনুমতি সাপেক্ষে)।

    Reply
  15. হাছান

    এ আইনটিই সঠিক মনে হয় না , আমাদের দেশে আইন সব সময় কিন্তু সঠিকভাবে তৈরী হয় না, গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই বিজ্ঞ ব্যক্তিরা আইন প্রনয়ন করবেন , এটা আশা করি , বিচার বিভাগের অ্ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ও একটি বিশেষ বিচারের ক্ষেত্রে বিচার চলাকালিন অবস্হায় আইন রচনা করা হয়েছিল , যাতে ঐ আসামীকে ফাঁসীতে ঝুলানো যায় , করা ও হয়েছিল তাই । আইন চিরন্তনী , সাময়িক হতে পারেনা ।

    Reply
  16. কষ্ট

    একমত,গবেষণাময় যৌক্তিক লেখা,যা বর্তমানের পরিবর্তিত শিল্পায়নের সমাজে প্রযোজ্য

    Reply
  17. শেষ জামানার মুসাফির

    বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন মেয়ের বিয়ের বয়স শিথিল করা হয়েছে তেমনি ছেলের বিয়ের বয়সও শিথিল করা হউক।

    Reply
  18. Fb te Niropekkho Pola

    আপনার সাথে একমত । সর্বশ্রেষ্ট জীবনবিধান ইসলামে, ছেলেদের বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স নেই । ইসলামি মতে ছেলেদের বিয়ের যোগ্যতা – শারীরিক , মানসিক ও আর্থিক যোগ্যতা ।

    Reply
  19. saleh

    পুরুষেরা 21 বৎসরের কমে বিয়ে করতে পারবেনা, এতে যোন অধিকার হরণ করা হলো সমাজে যোন অপরাধ বাড়াবে ।

    Reply
  20. দোলন চাঁপা

    আমি ও রাইটার এর সাথে সহমত। তবে কিছু বিষয়ে আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। আঠারো বছরের একজন যুবক কিভাবে তার জীবিকা নির্বাহ করবে কিংবা তার আর্থিক সংস্থান কি হবে তাও বিবেচনা রাখতে হবে। নারী সাধারণত পুরুষের উপর নির্ভরশীল। তাই নারীদের ষোলো কিংবা আঠারো যে কোন বয়সে বিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু পুরুষেরা আর্থিক সংস্থান না করে, যদি যৌনতার দিক থেকে বিবেচনা করে বিয়ে করতে চায়, তাহলে সেই কিভাবে তার বউ এর খরচ মেটাবে? যে বয়সে সে অন্যের উপর নির্ভরশীল, তারতো বিয়ে করার প্রশ্ন উঠেনা। যে পুরুষের আর্থিক সংস্থান নেই, সে তো অনেকটা পরগাছা জীব এর মতো। বেকার কোন পুরুষের হাতে কেউ তার সন্তান কে নিশ্চয়ই তুলে দিতে চাইবেনা, এটাই হচ্ছে সরল সমীকরণ।

    Reply
    • আব্দুল্লাহ

      আরে ভাই সবাই কি আপনার মতো অভাবী নাকি ?
      আর একটা মেয়েকে কি হাতি মনে হয় আপনার?

      আর আঠারো বছর বয়সে অবশ্যয়ই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা দেখাশোনা করা যায় , আপনি নিজেকে আঠারো বছর বয়সে বুদ্ধু বা বোকা মনে করতে পারেন কিন্তু সবাই আপনার মতো বদ্ধু বা বোকা না ।
      .
      আর বর্তমানের Education system তো ফাদ তৈরী করেছে আউল ফাউল বই ঢুকিয়ে, শুধু সময় নষ্ট করছে যুবকদের আর যাতে করে যুবকরা বিয়ে থেকে দূরে থাকে ।

      Reply
  21. M EAKUB ISLAM MAM

    কথাটা যদি সরকার বিবেচনা করে দেখেন।তাহলে হয়তো দেশের কিশোর অপরাধ কিছুটা হ্রাস পাবে।

    Reply
  22. toukir

    যখন থেকে ছেলে বা মেয়ে প্রজননের উপর্যুক্ত হয় তখন থেকে তাদের বিয়েতে আইনি বাধা না থাকাই উচিত।কারন সরকারি আইন থাকা সত্তে প্রতিনিয়ত বিয়ে হয়ে থাকে।তাছাড়া আইনি বাধা না থাক লে যৌন আপরাধ কম হবে।
    আইনি বাধা নই মানুসের সচেতনতাই বাল্য বিবাহ নিরাসনে সহায়ক।

    Reply
  23. toukir

    যখন থেকে ছেলে বা মেয়ে প্রজননের উপর্যুক্ত হয় তখন থেকে তাদের বিয়েতে আইনি বাধা না থাকাই উচিত।কারন সরকারি আইন থাকা সত্তে প্রতিনিয়ত বিয়ে হয়ে থাকে।তাছাড়া আইনি বাধা না থাক লে যৌন আপরাধ কম হবে।

    Reply
  24. মাইনুল ইসলাম হাসান

    চৎমতকার কলাম। এই কলামটি কুরআন হাদিস ,বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে সমর্থনযোগ্য।

    Reply
  25. Aman Ullah

    সঠিক একটি পয়েন্ট ধরেছেন, ছেলেদের বিয়ের বয়স, , , চিন্তার বিষয় এই যে একটি ছেলে ১২- ১৬ বছরেই সাবালক হয়ে যায়, , তার পর হতে জীবন টা কিভাবে কাটাই সেটি শুধু একটি ছেলেই ভাল জানে, , , , এই জন্য অবাদ মেলামেশা প্রেম খেলা চলে আমাদের সমাজে , , প্রেম ভালবাসা বিয়ের আগে সেক্স করা সরকারি ভাবে অনুমতি দেওয়া হোক, এতে পুরুষ সমাজের দুস কি, এটা যে তার শারিরিক চাহিদা, , , , , বয়স ২১ পর্যন্ত যত পাপ হয় তার দায় ভার সরকারের উপর পরবে, , আর একুশের পর ছেলেরা যত পাপ করবে তার দায় ভার মা বাবার উপর পরবে, , আর ছেলে যদি নিজে থেকে ইচ্ছে করে দেরিতে বিয়ে করে, এবং নিজেকে নিজে অত্যাচার করে তবে তার পাপ তাকেই বহন করতে হবে, , , , , , তবে আর হেন্ডজব করে নিজেদের কে নিজেরাই শেষ করার মানে হয় না

    Reply
  26. আব্দুর রহমান

    আমার মনে হয় এই আইন টি কার্যকর হলে সামাজিক অনাচার কিছুটা হলেও কমবে

    Reply
  27. ইনজামুল হক

    এখানে যদি একজন পুরুষের নুন্যতম বয়সের সাথে সাথে নুন্যতম ইনকামের কথা বলা হত তাহলে আইনটি বাস্তব সম্মত হত।কেননা অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ছাড়া বিয়ে প্রেম যৌনতা সবকিছু অচল।

    Reply
  28. আজিজুল ইসলাম

    আমার আসল বয়স ২৩ বছর। কিন্তু কলেজ সার্টোফেকিটে বয়স ১৮ বছর ৬ মাস। আমি পারিবারিক ও আর্থিক ভাবে সাবলম্বি। আমার পরিবারে মহিলা সদস্য ১ জন। তিনি আমার মা। মা অসুস্থ তাই আমি বিয়ে করতে চাইতেছি কিন্তু আইনের কারনে বিয়ে করতে পারছি না।

    Reply
  29. আস্তিক বনাম নাস্তিক নিরপেক্ষ মতামত

    পশ্চিমা সমাজে পরিবারপ্রথা বিলুপ্তির পথে|তথাকথিত নারী নেত্রী ও উদার বুদ্ধিজীবীদের(!)কল্যানে নারী স্বাধীনতা,নারী অধিকার,নারীর মনোন্নয়ন,নারীকে স্বাবলম্বী করা ইত্যাদি প্রতারনাপূর্ন এজেন্ডার মাধ্যমে সেই ঢেউ আমাদের সমাজেও লেগেছে! পাশ্চত্যের ন্যায় আমাদের মাঝে ও এ এ্যানথ্রাক্চ জীবানু ছড়ানোর চেষ্টা চলছে যে,পরিবার মানে কেবল স্বামী,স্তী| বাবা মা,দাদা দাদী,নানা নানী সেখানে কোন স্থান নেই| এভাবে আমিত্বের বিষবাষ্পে জর্জরিত করে পরিবারকে ধ্বংশের পাঁয়তারা চলছে!

    Reply
  30. সাইফুল আলম

    লেখিকার সাথে একমত । প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে পারেন ।

    Reply
  31. Md munsur

    আমাদের সামাজিক এবং ধর্মীয় পেক্ষাপট ও কিন্তু এই আইনকে সমর্থন করে না। লেখাটি খুবই যুক্তি সম্মত।

    Reply
    • Aman Ullah

      ইসলাম ধর্ম বলে সাবালক ও সাবলম্বি বা বউ কে চালানোর যোগ্যতা থাকলেই বিয়ে করিয়ে দেওয়া উচিত এতে ছেলেদের বয়স নিয়ে কোনো মাপ কাঠি নেই , না হয় নিজেকে সংযত রাখ

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—