ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজের অভ্যন্তরীন একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। পাশের সহযাত্রী চট্টগ্রামের স্থানীয় এক সংসদ সদস্য। সাক্ষাতের পর তিনি জানতে চাইলেন, “ক্যা-নে চলর অ ভ্যাই?” (কীভাবে চলছে ভাই?)

খুব স্বাভাবিকভাবেই এর উত্তর দিলাম। বিমানবন্দরে নামার পর লাগেজ বেল্টে অল্পপরিচিত এক কর্মচারী জিজ্ঞেস করল, “ক্যা-নে চলর অ ভ্যাই?”

মেজাজটা হঠাৎ তিরিক্ষী হয়ে উঠল। বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরছি। জিইসির মোড়ে খেয়াল করলাম বাসের এক হেলপার এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করছে, “ক্যা-নে চলর অ ভ্যাই?”

এবার বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করলাম। পরিচিত কয়েকজনকে ফোন করলাম এ সম্পর্কে জানার জন্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই একটি লাইন চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে। চট্টগ্রামের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষত সৌদি আরবে চট্টগ্রামের লোক-অধ্যুষিত অঞ্চলে এটা মোটামুটি ভাইরালে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছে সংলাপটি।

Bulbul Chowdhury - 1

সহকর্মী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগোযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব নন্দীর লেখায় জানতে পারলাম, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিবিরহাটে এই সংলাপের সূচনা। মূলত ১:৫৬ মিনিটের এক কল-রেকর্ড থেকে এর সূত্রপাত। এছাড়াও ডব্লিউডব্লিউএফএর জনপ্রিয় বক্সার জন সিনা ও রুসেফের ১:০৩ মিনিটের ডাবিংকৃত এক ভিডিও ইউটিউবে ভাইরাল হয়ে সংলাপটির ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। খুলশী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন, বহদ্দারহাট থেকে বন্দর, গার্মেন্টসকর্মী থেকে শুরু করে অভিজাত চট্টগ্রাম ক্লাব, সর্বত্রই এক গুঞ্জন, ‘ক্যা-নে চলর অ ভ্যাই’। বিষয়টা একদিকে যেমন সাধারণের মাঝে নির্মল আনন্দের, অন্যদিকে এটা নিয়ে হয়েছে ব্যাপক ঝগড়া-মারামারি; কখনও-বা ইভটিজিংএর মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি শিরোনাম হয়েছে পত্রিকার পাতায়। চট্টগ্রামের শীর্ষ দৈনিক আজাদী, পূর্বদেশ প্রথম পাতায় নিউজ করেছে এই সংলাপ নিয়ে।

হঠাৎ করেই এই হালকা চটুল কথাটি সর্বসাধারণের মুখে মুখে কেন, খুব স্বভাবতই এমন প্রশ্ন জাগে। এ ধরনের চটুল স্থূল কথার ঝোঁক আঞ্চলিক ভাষার সহজাত প্রবণতা। যা এর আগে অনেকবার দেখা গিয়েছে। তবে এবারের মতো এত বেশি ভাইরাল আর কখনও হয়নি। সম্ভবত সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমের কারণে এটা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ছিল একসময় বিপ্লবীদের জনপদ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জনপদ। বন্দরনগরী হিসেবে নানা দেশের নানাভাষী মানুষের পদচারণায় মুখরিত জীবন পূর্ণতা পেত নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। নাচ, গান, কবিতা, পাঠচক্রে প্রাণচাঞ্চল্য পেত চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের সূচনা এই শহরে। এই জনপদের ছেলে নকীব খান, আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, নাসিম আলী খানের সুরের মুর্ছনায় আমাদের প্রজন্মের বেড়ে ওঠা। ছিলেন শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের মতো আঞ্চলিক গানের শিল্পী। চট্টগ্রামের নিজস্ব কবিয়াল গান ছিল সংস্কৃতির অনন্য ভাণ্ডার। কবিয়াল রমেশ শীল পরিণত হয়েছিলেন কিংবদন্তীতে। মনসুরুল করিম, সৈয়দ ইকবালের মতো গুণী চিত্রকরের জন্ম এই চট্টগ্রামে। বিপ্লবী কল্পনা দত্তের মতো বলতে ইচ্ছে হয়, ‘সে চট্টগ্রাম আর চট্টগ্রাম নাই, বদলে গেছে অনেকখানি’।

আমার বেড়ে-ওঠার শহর, আমার প্রাণের শহর চট্টগ্রামের সঙ্গে আজকের চট্টগ্রামকে মেলাতে পারি না। কোথায় যেন একটি সাংস্কৃতিক শূণ্যতা। একদিন যে চট্টগ্রাম অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির চারণভূমি ছিল, সেই জনপদ হয়ে উঠছে ক্রমশ সাম্প্রদায়িকতার কেন্দ্র। তবু সুখের বিষয়, প্রায় নিভৃতেই বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। চেষ্টা করছে গৌরবের সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যেতে। দৃষ্টি, প্রমা, ফুলকি, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এরপরও কেন যেন একটা শূণ্যতা।

অনেকে চট্টগ্রামকে ওয়াজ মাহফিলের শহর বলে থাকেন। এর পাশাপাশি শতবর্ষ ধরে এখানে আরও নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সচল ছিল। গ্রামে গ্রামে যাত্রা হত, নাটক হত। বসত বৈশাখী মেলাসহ নানাবিধ গ্রামীণ মেলা। সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও ঐতিহ্যবাহী এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই জনপদের সাংস্কৃতিক জীবনে মোটামুটি খরা বিরাজ করছে। এখানেও বর্তমানে সংস্কৃতির বাহন হয়ে গেছে স্টার জলসা, স্টার মুভিজ। দেশীয় সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই জনপদ। দেশের সার্বিক জিডিপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অগ্রগতি। পোশাক শিল্প ও প্রবাসী আয়ে দেশের যে কোনো অঞ্চলের চেয়ে চট্টগ্রামের অবদান অনেক বেশি। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে লোকজনের মাথাপিছু আয়, জীবনযাপনের মানে রয়েছে বৈচিত্র্য।

Pritilata Waddedar - 111

একটা দীর্ঘ সময় ধরে বৈচিত্র্য ছিল এই জনপদের সাংস্কৃতিক জীবনেও। এই বৈচিত্র্যের হাত ধরেই সাতকানিয়ার অজঁপাড়াগায়ের সাধারণ এক কিশোর বুলবুল মাত্র তেইশ বছর বয়সে নৃত্য দিয়ে বিশ্ব জয় করেছিল। আজকের বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) যার স্মৃতি বহন করে। ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদে প্রথম কবিতা লিখেছিলেন চট্টগ্রামের এক কবি। স্কুলের তেইশ বছর বয়সী এক মাস্টার মশাই বিপ্লবী হয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারের ভিত। একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাক্কালে সাধারণ শ্রমিকরা বিদ্রোহ করেছিলেন সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামানোর প্রতিবাদে।

দ্রোহ আর সশস্ত্র বিপ্লবের ইতিহাসে উজ্জ্বল চট্টগ্রাম। মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা, স্বদেশ রায়রা একদিন প্রাণ দিয়েছিলেন ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের প্রতিটি বাঁকে রয়েছে এই জনপদের ভূমিকা। মানিক চৌধুরী, আতাউর রহমান খান কায়সার, জহুরুল হক, এম এ হান্নান, আবদুল্লাহ আল-হারুনের মতো ত্যাগী রাজনীতিবিদদের পদচারণায় মুখরিত হত এখানকার রাজনৈতিক ময়দান। সব কিছুর মতো এখানেও পচন ধরেছে। রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে হচ্ছে আদর্শিক নেতৃত্বের। সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে নব্য ধনিক শ্রেণি, ব্যবসায়ী ও সুবিধাবাদীরা। স্থানীয় ছাত্ররাজনীতি পথ হারিয়েছে অনেক আগেই।

চট্টগ্রামের মেজবানি, বিয়ে, যৌথ পরিবার কিংবা খাবারের সংস্কৃতি অন্য অঞ্চল থেকে একে আলাদা করবে সবসময়। এগুলো আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তার পরিচায়ক। এ নগরী সবসময় জড়িয়ে ছিল বাঙালি জাতির উত্থানের ইতিহাসের সঙ্গেও। ইতিহাসের সেই সব স্মৃতি কতটা ধরে রেখেছে এই জনপদ? সেখানে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে সড়ক রয়েছে। কিন্তু মাস্টারদা সূর্যসেনের নামে কি আছে? নেই! অথচ ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে বলতে দ্বিধা নেই, চট্টগ্রামের ইতিহাস মানেই সূর্যসেন।

যাত্রা মোহন সেন সংক্ষেপে চট্টলবাসীর কাছে জে এম সেন নামে পরিচিত, তাঁর কথা তরুণ প্রজন্মের কে জানে বলুন? অথচ জে এম সেন চট্টগ্রামে নারীশিক্ষার বিস্তারের জন্য শ্বশুরের নামে ডা. খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় এবং পুত্রবধুর নামে কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চট্টগ্রামে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চেষ্টা করেছিলেন সমাজ সংস্কারের। প্রীতিলতার বীরত্বের গল্প, কিংবা কল্পনা দত্তের দুঃসাহসিক অভিযাত্রা যদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করা না যায় তাহলে তাদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ থাকে কোথায়?

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা এই জনপদের গর্ব। এই কথ্য ভাষাতেই রচিত হয়েছে গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, কবিগানসহ নানা কিছু। তিনটি পার্বত্য জেলাসহ পাঁচ জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষের মুখের ভাষা এটি। কথ্য ভাষার নানা কিছু জনপ্রিয় হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ‘ক্যানে চলর অ ভ্যাই’ সংলাপটি আপাতদৃষ্টিতে খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় হলেও, চটুল এই মজাদার সংলাপের জনপ্রিয়তা সমাজের মৌলিক দুটি ত্রুটি আমাদের সামনে তুলে ধরছে। এক, বর্তমান এই জনপদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে। অর্থাৎ একটি প্রতিকূল সময়ে সাধারণ জনগণের আক্ষেপের প্রতিধ্বনি এটি। আবার অন্যদিকে মৌলিকতা-শূণ্য চট্টগ্রামের নিরস সাংস্কৃতিক চর্চার দৈন্যও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

তবু আমরা এক সুন্দর জনপদের স্বপ্ন দেখি। আমার হারানো গৌরবের চট্টগ্রাম ফিরে পেতে চাই। গর্ব করতে চাই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা আর নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে। চাই আমাদের জনপদে আবার সুদিন ফিরে আসুক। সাম্প্রদায়িকতার রাহু গ্রাস থেকে মুক্ত হোক চট্টলবাসীর জীবন। এ জনপদের ওপর সরকারের শুভদৃষ্টি থাকুক সবসময়। উন্নয়নে থাকুক বিশেষ দৃষ্টি। সাংস্কৃতিক জীবনে ফিরে আসুক পূর্বের গৌরব।

তাহলেই প্রকৃত অর্থে ভালো চলবে আমার প্রাণের শহর চট্টগ্রাম।

চৌধুরী শহীদ কাদেরজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক

৬৩ Responses -- “‘ক্যা-নে চলর অ ভ্যাই’ ও বদলে যাওয়া এক জনপদের গল্প”

  1. দিলীপ বড়ুয়া

    দারুণ আপনার অভিব্যক্তি। সাম্প্রতিক চলমান সংলাপটা শুনলাম কয়েকদিন আগে। তবে যেটা দৃশ্যমান – নিছক স্থূল কথার প্রবণতা বলে মনে হচ্ছে । তবে কাউকে টিটকারি দিয়ে সংলাপটা বলা উচিত নয় বলে মনে করি। কারণ এতে চট্টগ্রামের ঐতিয্য-ইতিহাসকে ছোট করা হয় ।

    Reply
  2. দূরদর্শী

    অনেক অজানা তথ্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে আসকার দিঘীর নাম অনেকে জানেন। বিশাল দিঘী। এই দিঘীতে একসময় বন্ধুরা মিলে অনেক বার গোসল করেছিলাম। কিন্তু আর সেই স্বচ্ছ পানি নেই। চারিদিকে বস্তিবাসী আর ময়লা আর্বজনা। এইটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ে যদি সংস্কার করে চারিদিকে হাঁটার রাস্তা করে দিতে পারত তাহলে পরিবেশেরও অনেক ভারসাম্য রক্ষা হত।

    Reply
  3. Rafia Khan

    একটি অনবদ্য লেখা। লেখক চট্টগ্রামের যে সমস্যাটি তুলে ধরেছেন এটা অনেকদিন ধরেই অনুভব করছিলাম। আমাদের সময় আমরা কত কিছুর সাথে জড়িত ছিলাম। সংগঠন করেছি, পাড়ায় ক্লাব চালিয়েছি, রাতে ফুল চুরি করে সকালে প্রভাতফেরিতে ফুল নিয়ে গিয়েছি। এখনকার ছেলেরা ভাবতে পারে। লেখককে ধন্যবাদ। আপনি সবচেয়ে বড় সত্যটি তুলে ধরেছেন সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকার বিষয়টা। আসলেই স্পেসের বড় অভাব। আমরা একটি সুন্দর চট্টগ্রাম চায় সাংস্কৃতিক বলয় যুক্ত এবং রাজাকার মুক্ত।

    Reply
  4. বিশ্বজিৎ চৌধুরী

    কলকাতায় সূর্যসেনের নামে মেট্টো স্টেশন আছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম সূর্যসেন ষ্ট্রিট। কিন্তু সেই সূর্যসেনের জন্মস্থান চট্টগ্রামে তাঁর নামে কিছু নেই কেন? হিন্দু বলে?

    Reply
  5. আহমদ।

    একটা মৌলিক ব্যপার আপনাদের দৃষ্টিতে আনতে চাই, সেটা হলো, চট্টগ্রামে চাটগাইয়াদের সং্খ্যা।এর শতকরা হিসাব কত কে জানে। এই জগাখিচুড়ি পরিস্থিতির জন্য চট্টগ্রামে সেটেল্ড লোকেরাও কম দায়ী নয়, যাদের চট্টগ্রামের সংস্কৃতির প্রতি কোনরকম দরদ নেই, নিজেরাও চট্টগ্রামের কিছুই ধারন করে না, শুধুমাত্র উপার্জন করাই যাদের মুল লক্ষ্য।

    Reply
  6. Badrur C howdhury

    তবে ফ.কা. চৌধুরীর নামে চটগামে কোন রাস্তা নাই। যেটা আছে , তা খান বাহদূর ফজলুল কাদের চৌধূরীর নামে।

    Reply
  7. এ এস জিসান

    খুব ভাল লাগলো… Thanks vai
    এসলে এই যে কথাটা এটা আমাদের
    সমাজে ভাইরাস হিসেবে পরিনিত হয়েছে।
    …………………. ……←↓↑→ …………………
    এই কথাটা কি আমরা না বললেই নয়….

    Reply
  8. আমিনুল ইসলাম

    সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ রাজনীতি। চট্টগ্রামের রাজনীতি যে ক্ষয়ে যাচ্ছে তা আপনার লেখায় আরেকটু গুরুত্ব পেলে খুশি হতাম। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটি লেখা। জাতীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকার পরেও আপনি চট্টগ্রাম শহরকে যে মনে রেখেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। আপনার মতো আমিও স্বপ্ন দেখি স্বপ্নিল চট্টগ্রামের।

    Reply
  9. Akther Hossain

    ক্যানে চলর অ ভাই?….ভালো ছিল, অনেক কিছু জানলাম,অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ধন্যবাদ ধন্যবাদ ধন্যবাদ..

    Reply
  10. আমরিন হোসাইন

    অ ভাই ভালা ন চলের।
    চট্টগ্রাম এক সময় কী পরিচ্ছন্ন শহর ছিল। এখন অপরিকল্পিত নগরায়নের শহর। আমাকে কেউ বলতে পারেন বহদ্দার হাট ফ্লাইওভার দিয়ে দিনে কতটা গাড়ি চলে। যে ওভারব্রীজ(যদিও নাম ফ্লাইওভার) গুলো বানানো হচ্ছে সব অপরিকল্পিত। চট্টগ্রামের অধিকাংশ সড়ক যে কোন গ্রামের সড়কের চেয়ে খারাপ। আর ময়লা তে তো শহরে হাটা যায় না। বিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই। আছে শুধু প্যানা আর প্যানা।

    Reply
  11. Rubayet

    জে এম সেনের অবদানের কথা আপনার লেখায় জানতে পারলাম। খাস্তগীর স্কুল এর সামনে থেকে চেরাগী পাহাড় পর্যন্ত সড়কটির নাম জে এম সেনের নামে করার অনুরোধ সরকারের কাছে করছি।

    Reply
  12. মো:রফিক

    সত্যি চট্রগ্রামের অনেক রুপকথা জানতাম না আজ অনেক রুপকথা রহস্য জানতে পারলাম।ভাই আপনাকে ধন্যবাদ

    Reply
    • জে. এম. আল আজাদ

      এই উক্তিটি আমাদের সমাজে জনসাধারণ এর মুখে মূখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তা অনেকে ইতি বাচক করে নিলেও অনেকে নেতি বাচক দিক বিবেচনা করে অন্যের উপর বাক্যটি ছুরে মারে।ফলে তা বিভিন্ন আসমাজিক কার্যকলাপে জডিয়ে পডে। যেমন ইভটিজিং, মারামারি, দাঙা হাঙামা ইত্যাদি। তাই আমাদের সমাজে অরাজকতা বিরাজ করছে। নস্ট হচ্ছে সামাজিক শান্তি, সংঘ। নেমে আসছে অশান্তি।

      Reply
    • জে. এম. আল আজাদ

      কে নে চলর অ ভাই…..এই উক্তিটি আমাদের সমাজে জনসাধারণ এর মুখে মূখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তা অনেকে ইতি বাচক করে নিলেও অনেকে নেতি বাচক দিক বিবেচনা করে অন্যের উপর বাক্যটি ছুরে মারে।ফলে তা বিভিন্ন আসমাজিক কার্যকলাপে জডিয়ে পডে। যেমন ইভটিজিং, মারামারি, দাঙা হাঙামা ইত্যাদি। তাই আমাদের সমাজে অরাজকতা বিরাজ করছে। নস্ট হচ্ছে সামাজিক শান্তি, সংঘ। নেমে আসছে অশান্তি।
      তাই আমাদের চট্টলার প্রান প্রিয় ভাই দের অনুরোধ,
      কথাটি বলা বন্দ করে সামাজকে সুন্দর ও শান্তিতে রাখি।।।।

      Reply
  13. শিশির ভট্টাচায‍র্্য

    হায় চট্টগ্রাম! কী ছিল আর কী হয়েছে! নিউমার্কেট, জুবিলি রোড, লাল দিঘী… সব নষ্ট হয়ে গেছে… অথচ চট্টগ্রামবাসীরা মনে করে তাদের শহরের অনেক উন্নতি হয়েছে… একটু রুচিও কি থাকতে নেই!

    Reply
    • Amzad hossain

      মনে হয় আপনার এক মতামতে পুরাই চট্টগ্রাম নষ্ট হয়ে গেছে?

      আপনি ক্যানে চলর অ বইন?(শিশির)

      Reply
  14. এরফানুর রহমান

    খুব খুব ভালো লাগলো আপনার লেখাটি , অত্যন্ত ধন্যবাদ খুব সুন্দর ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার জন্য।

    Reply
  15. মুঽাম্মদ রিদুয়ান

    তাই আমাদের আজকের নেতৃত্বের দিকে থাকিয়ে বলতে ঽয়, “চাক্কা চারা চলির অ্ ভাই”।

    Reply
  16. চট্টগ্রাম আবার তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক এই আশায় আমরা চট্টগ্রামবাসী।

    চট্টগ্রাম তার আগের ঐতিহ্য ফিরে পাক এই আশায় আমরা চট্টগ্রামবাসী।

    Reply
  17. অপ্সরী

    আমাদের এখন আর বাঙালি সংস্কৃতি বলতে কিছু আছে নাকি? পোশাক, নাম,ধাম,চলন সবেই তো বিজাতীয় আরবিয় আতলামি। সব হারিয়েছি আমরা।

    Reply
      • Imran

        আমরা জাতিয়বাদি, বাঙ্গালিরা রেসিয়ালি ইনফেরিয়র একটা জাতি………। অধিকাংশ চট্টগ্রামের মানুষ আরিয়ান বা নর্দিক জিন বহন করে……।। যেটি রেসিয়ালি সুপিরিয়র একটি জিন………

  18. সিম্পল গার্ল

    চট্টগ্রামের ইতিহাস মানেই একমাত্র সূর্যসেন?! তাই?! এখানে তাহলে আর কোন ইতিহাস নেই?! জে এম সেন-এর খাস্তগীর ও কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয় দেখলেন ফজলুল কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি দেখলেন না?! ফজলুল কাদের চৌধুরীর শুধু ১৯৭১ দেখলেন এর আগে কয়েকদশক ধরে কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্লান্ট, দেশের একমাত্র ফুয়েল রিফাইনারী ইস্ট্রার্ন রিফাইনারী, শিক্ষা ক্ষেত্র সহ চট্টগ্রামের বিশাল বিশাল উন্নয়নের জন্য তার কোন ভুমিকা আপনার চোখে পরলো না?! তার নামে একটি রাস্তার নাম থাকলে অপরাধ হয়ে গেল?! ফজলুল কাদের চৌধুরী সহ আরো অনেক মুসলিম নেতার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন আপনার চোখে পরলো না? শুধুই চোখে পরলো সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত?! এভাবেই আপনারা ইতিহাস শিখেন ও পড়ান?! এর নাম ইতিহাস?!

    Reply
    • মুখপোড়া

      সবার কমেন্ট পড়তে পড়তে নামছিলাম আর খুঁজছিলাম সিম্পল গার্ল নামের বরাহনন্দনটি কই?

      Reply
    • বাপ্পি, আগ্রাবাদ, চট্রগ্রাম

      উনি শুধু হিন্দু নেতা চিনেন, মুসলিমদের চিনে না । লেখায় হিন্দু ইতিহাসের গন্দ………।।

      Reply
    • আমিনুল ইসলাম

      জে এম সেন নিজের টাকায় স্কুল করেছে। আর ফকা সরকারের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। এই সামান্য জ্ঞান আপনার নেই দেখে আহত হলাম। আপনার মতো সাম্প্রদায়িক মানুষের জন্য আজ এই দশা। দেশের কোন বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়, িইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিকেল নেই? এতে ফকার ভূমিকা কি?? কুমিল্লা থেকে রাতারাতি তাঁর গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাওয়া। উদার হোন, ধার্মিক হওয়ার আগে মানুষ হোন।

      Reply
      • সিম্পল গার্ল

        সরকারী টাকা-দল-নেতা তো ১৯৭১ সালের পর আরো অনেক এসেছে-গিয়েছে। কিন্তু আপনারা যাদের বিকৃত নামে ডাকেন তারা যা করে দিয়েছিল এর বাইরে নিজেরা তো আর একটিও করে দেখাতে পারলেন না। হয়ছে চট্টগ্রামে আরেকটি ভাল মানের সরকারী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়? ১৯৭১ সালের আগে যে মানের প্রতিষ্ঠান ওরা করে দিয়েছিল সেই মানের আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পেরেছেন? ওই “ফকারা” যা করে দিয়ে গিয়েছিল তাই রয়েছে। তাই সরকারী টাকা ও নেতা থাকলেই সবাই সবকিছু করতে পারে না-করে না। আন্তরিকতা থাকতে হয়। দেশ ও জনগণের প্রতি টান থাকতে হয়। লুটপাটের মানসিকতার উর্দ্ধে উঠে জনগণ ও দেশের স্বার্থ দেখতে হয়। যা তথাকথিত চেতনাজীবিদের নেই। সে জন্য নিজেরা করতে পারে না এবং অন্যেরা করলেও তা স্বীকার করে না।

    • আরিফুল ইসলাম

      @সিম্পল গার্ল, আপনি কি মহিলা শিবির কর্মী? হারামজাদা ফকা (ফজলুল কাদের চৌধুরী) তো বিশিষ্ট রাজাকার, আমাদের স্বাধীনতার বিরোধীতা করছে। রাজাকার সাকার বাপ, সাকা কে চিনেন তো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে লটকায়ে দিছে। বাংলার মাটিতে যার “সোনা” কেটে “লাল” করে দেওয়া হয়েছে।

      Reply
  19. তরুণ চৌধুরী

    ক্যানে চলর ও ভাই
    চাকরি – বাকরি নাই,
    বারটা বাজে ঘুমত্তুন উডর
    ইনকামের ঠিক নাই।
    মোবাইল চালর দুও আ, তিন ন ও আ
    পরিবার বড়,
    স্থায়ী কোন ব্যবসা নাই
    নিশ্চয়ই, দু’নম্বরই কর।
    ফ্যাশন অর অভাব নাই
    জাদু আছে কথায়,
    ঘুরি- ঘুরি দাওয়াত খাও
    টাকা পাও কোথায়?

    Reply
    • ঘুনপোকা

      হা হা হা …কবিটা টা বেশ মজার @ তরুণ 🙂

      কাদের ভাই লিখাটা অনেক ভালো হয়েছে….”এক, বর্তমান এই জনপদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে। অর্থাৎ একটি প্রতিকূল সময়ে সাধারণ জনগণের আক্ষেপের প্রতিধ্বনি এটি। আবার অন্যদিকে মৌলিকতা-শূণ্য চট্টগ্রামের নিরস সাংস্কৃতিক চর্চার দৈন্যও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।”

      Reply
  20. তরুণ চৌধুরী

    ১/হ্যা,আপনি যথার্থই বলেছেন। তখনকার সংস্কৃতি আর এখনকার, এক নয়।
    ২/যেখানে শিক্ষার গুনগত মান ঠিক নাই,সেখানে এরকম পরিবেশ সৃষ্টি হবেই।
    ৩/দু:খের বিষয়, নাই লেখা -পড়া, নাই সংস্কৃতি,নাই শিক্ষার পরিবেশ।

    Reply
  21. অমিত

    ধন্যবাদ, অনেক কিছু জানলাম, আমারা সআমাজিক মাধ্যম কে নিজেদের ভাষা এবং সাংস্কৃতিকে বিকৃত করতে ব্যাহার করছি অনেক ক্ষেত্রে ।

    Reply

Leave a Reply to মুখপোড়া Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—