স্বাধীনতা পদক হল বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। এই পুরস্কার জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের নাগরিক বা সংস্থাকে প্রদান করা হয়ে থাকে।

২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করে। একই বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পষ্টত এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের একজন জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ করার লক্ষ্যে বিএনপির একটি অপচেষ্টা।

২৪ আগস্ট জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একটি নথি কমিটিতে পাঠানো হয়; সেই নথিতে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদ, রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ এবং ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত অসাংবিধানিকভাবে ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি আদালতের রিট পিটিশন আদেশের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়।

আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের সুপারিশে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারী সাব্যস্ত করে বলেছে–

“সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তি পাওয়া উচিত। যেন মানুষ সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভয় পায়।”

স্বাভাবিকভাবেই অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রপরিচালনাকারী একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করা রাষ্ট্রের মূলনীতি ও আদর্শে আঘাত করার সামিল।

তাই জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তটি সময়োচিত এবং অতীতের ভুল শুধরানোর একটি যথাযথ প্রক্রিয়া। বিকৃত ইতিহাস প্রচার ও প্রতিষ্ঠার যে বিষবৃক্ষের বীজ বিএনপি রোপন করেছিল তাদের আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন হতে, সেই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে সঠিক ইতিহাস চর্চার ধারা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য এ কাজটি অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বিএনপি শুধুমাত্র মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। সেই সময় সরকারে থাকা বিএনপি জিয়াউর রহমানকে দেওয়া এই পুরস্কারের মেডেল ও সম্মাননাপত্র বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করে, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিতর্কিত এই ব্যক্তি বাঙালির জনমনে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। এ যেন গোয়েবলসীয় নীতি! মিথ্যাকে বার বার বললে, প্রচার করলে তা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়; বিএনপি ঠিক এই কাজটিই করেছিল।

ব্যক্তিগতভাবে, আমার কাছে জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক দেওয়া আর হিটলারকে ‘মানবতাবাদী’ বলা প্রায় সমকক্ষীয় ব্যাপার। কারণ, আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখব জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাঙালি জাতির প্রতি অন্যায় সংঘটনকারী একজন ব্যক্তি।

Ziaur Rahman - 888

১৯৭২ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পরে জিয়াউর রহমান নিয়ন্ত্রিত সরকার স্থগিত করে দেয় এবং আটককৃত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেয়। ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমান অধীনস্ত সরকারের ‘পাপেট রাষ্ট্রপতি’ আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েমের মাধ্যমে দালাল আইন বাতিলকরণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের কথা আগে থেকেই জানতেন জিয়াউর রহমান। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে তাঁর সমর্থনও ছিল এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাসকে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক ও আবদুর রশীদের সাক্ষাৎকারে বিষয়টি সুস্পষ্ট।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন জিয়াউর রহমান। তার শাসনামলে ১৯৭৬ সালের আগস্টে সব ধরনের রাজনৈতিক দলের রাজনীতি উন্মুক্ত করে ‘রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশ ঘোষণা’ করা হয়। তখন ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি’ নামক একটি দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী যুক্ত ছিল। পরে ১৯৭৯ সালের মে মাসে ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ গঠন করে প্রকাশ্যে স্বাধীনতার শত্রু ও যুদ্ধাপরাধী এই সংগঠন বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করে।

যুদ্ধাপরাধীদের নাটের গুরু গোলাম আযম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার সুযোগ পান জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। ১৯৭৬ সালের ১৮ জানুয়ারি তৎকালীন ‘জিয়াউর রহমান অধীনস্ত বাংলাদেশ সরকার’ এক প্রেসনোট জারি করে। তাতে ‘নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে’ এমন ব্যক্তিরা তাদের নাগরিকত্ব ফিরে পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবে বলা হয়। গোলাম আযম নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। গোলাম আজমের মতো ঘৃণ্য রাজাকারকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সাহস ‘জিয়াউর রহমান অধীনস্ত প্রো-পাকিস্তানি সরকার’ করেনি, তবে তারা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ পদ্ধতি অবলম্বন করে।

১৯৭৮ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সরকার গোলাম আযমকে তিন মাসের জন্য বাংলাদেশের ভিসা দেয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, তার মা অসুস্থ। ১৯৭৮ সালের ১১ আগস্ট গোলাম আযম পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পরে ধর্মনিরপেক্ষতার উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে বাংলাদেশ; এর নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা। ১৯৭৮ সালের ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সমর্থকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, হিন্দুর লেখা জাতীয় সঙ্গীত ও ইসলামী তাহজ্জীব ও তমুদ্দুনবিহীন জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা হবে।

জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়স্মৃতি তুলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানিদের হাতে। তার শাসনামলে ১৯৭৬ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ভাইকে তৎকালীন ছয় কোটি টাকা মূল্যমানের S.S. Lightening জাহাজটি উপহার দেওয়া হয়। এই জাহাজটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের একটি স্মৃতিচিহ্ন।

জিয়াউর রহমান নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘ক্লিনজিং’ চালিয়েছিলেন সামরিক বাহিনীতে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ১৯৭৮ সালের বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান সরকার সন্দেহের তালিকায় থাকা যে কারো বিরুদ্ধেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করত।

এমনকী পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে ভূমি নিয়ে যে বিরোধ ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির আগ পর্যন্ত বিরাজমান ছিল– যা চরম সহিংসতার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল– তার সূচনাও হয় জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। সেই সময় ভূমিহীন, বাস্তুহীন, নদীভাঙা পীড়িত ও দরিদ্র বাঙালিদের অপরিকল্পিত পুনর্বাসন দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে। ফলে শুরু হয় বাঙালি-পাহাড়ি জাতিগত সহিংসতার।

এ রকম আরও অসংখ্য ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাঙালি জাতি’-বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন জিয়াউর রহমান। এমন একজন কলঙ্কিত ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং জাতীয় নৈতিকতার স্খলন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই অবৈধ-অসাংবিধানিক শাসক জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সুপারিশ করার জন্য।

জাতীয় নৈতিকতা অক্ষুণ্ন রাখা ও সঠিক ইতিহাস জাতিকে জানানোর প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের মতো ব্যক্তির স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ ও যুগোপযোগী।

সাব্বির হোসাইনবাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক।

৫৩ Responses -- “জিয়ার পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত: ভুল শুধরানোর প্রক্রিয়া”

  1. monir

    পদক প্রত্যাহার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত হয় তাহলে জিয়ার বীরউত্তম খেতাবটাও কেড়ে নেওয়া হোক। সেই সঙ্গে তাকে খেতাব প্রদানকারী মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকারেরও বিচার করা হোক।

    Reply
  2. নিপীড়িত জনগন

    শুনেন ভাই, বড়শিতে টোপ দিয়ে যেমন মাছ ধরা হয় ঠিক তেমন এ ধরনের ফিচার দিয়ে জাতি-বিভেদ করা হয়। আপনি যতই ছদ্মনাম দিন না কেন, আপনার আইপি এড্রেস ও নেটওয়ারকিংএর কারcB আপনি মার্কড হয়ে গেছেন।

    তাই সাবধান! সার্ভার কিন্তু আপনার এগেইন্সটে…

    Reply
  3. Mir Shahed Rahaman

    লেখাটি পড়ার পর মনে হচ্ছে আমার জন্ম কেন আর ২০ বছর আগে হল না। তাহলে হয়তো সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য ফুটে উঠত। ইতিহাস বা রাজনীতি নিয়ে কথা না বলে পেট-নীতি নিয়ে আছি…

    Reply
  4. Mizan

    জিয়া স্বাধীনতা পদক পেতে পারেন না। কারণ যে স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হল, লক্ষ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত হারাল, আর সেই স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়ানো রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধী শাহ আজিজকে জিয়া বানালেন মন্ত্রী?

    সুতরাং জিয়া কীসের মুক্তিযোদ্ধা?

    Reply
  5. Md. Abdur Razzak

    ইঁট মেরে পাটকেল খাওয়া কিংবা পাটকেল খেয়ে ইঁট মারার ধারা এদেশে কত দিন চলছে জানি না। আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা মাত্র ৫০ থেকে ৬০ খানা বই পড়েছি। এত অল্প পড়ে এত বড় একটা ঘটনার তেমন কিছু জানা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও বলব, আমাদের মধ্যে্ অনেকেই অল্প পড়ে বেশি বলেন।

    লেখার চেয়ে এর মন্তব্যগুলো বেশি চিত্তাকর্ষক। মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হল, এদেশের জনগণ সুস্পষ্টভাবে দ্বিভাজিত। তবে লেখবের কাছে অনুরোধ থাকল নিজের তথ্যটির সূত্রটা উল্লেখ করার।

    ১৯৭৮ সালের ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সমর্থকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, হিন্দুর লেখা জাতীয় সঙ্গীত ও ইসলামী তাহজ্জীব ও তমুদ্দুনবিহীন জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা হবে।

    Reply
  6. সৈকত

    এখানে সত্য কথাই বলা হয়েছে… যারা ওনার পক্ষে বলছেন তাদের বলছি, ওনি তো মিথ্যা কিছু বলেননি।সবই তো সত্য। নোবেল কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? বহুদলীয় করেছেন নিজেদের লাভে, জামাতকে রাজনীতির সুযোগ দেওয়া আর নিজেই রাজাকার হওয়া!

    Reply
  7. সাইফুল

    জিয়াকে ’বাই চান্স’ মুক্তিযোদ্ধা বলাতে অনেকেই ক্ষেপেছেন। কিন্তু জিয়া যে তা নন সে সম্পর্কে কোন তথ্য বা যুক্তি হাজির করতে পারেননি, শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া। জিয়া হচ্ছে সেই ব্যাক্তি যিনি আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতাকে ঝেটিয়ে বিদায় করছেন। যার ফল আমরা আজো ভোগ করছি। অবশ্য আপনারা যারা সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন তাদের কথা আলাদা। তারাই জিয়ার অনুচর। তবে আশার কথা আমাদের সম্মানিত আদালত জিয়াকে ’খুনি’ হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন! বাকি সিদ্বান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আগামীর সুশিক্ষিত এবং ইতিহাস সচেতন প্রজন্মের হাতে…

    Reply
  8. ওয়াদুদ

    একজনকে সম্মান দিলে নিজে ছোট হয় না বরং আরো বেশি সম্মানিত হয়। তাই প্রতেকের উচিৎ সম্মান কেরে নেওয়ার কথা না বলে নিজে কিভাবে সম্মানিত হওয়া যায় তার চিন্তা করা

    Reply
  9. AH

    “আর যেই জিয়া পাকিস্থান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিল তিনি কিনা স্বাধীনতা পদকের যোগ্য না ???” হয় এরা জ্ঞানহীন নয়তো জ্ঞানপাপী।

    Reply
  10. রাশেদুল ইসলাম।

    লেখক বলেছেন “ইসলামী তাহজ্জীব ও তমুদ্দুনবিহীন জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা হবে।” এটা একটা বিবেকবোধের সিদ্ধান্ত! কারণ, এই দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাছাড়া এটা ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশ। আরে আপনাদের কথা কি বলব? সত্যকে মিথ্যা করা আপনাদের কাজ!

    Reply
  11. মানিক

    পদক প্রত্যাহার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত হয় তাহলে জিয়ার বীরউত্তম খেতাব টাও কেরে নেয়া হোক, সেই সাথে তাকে খেতাব প্রদানকারি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকারের ও বিচার করা হোক।

    Reply
  12. বাবু

    অনেক কথা যায়না বলা মুখ বুজে সইতে হয়, বাতাসের মাঝে এমন গনতন্ত্রের হরেক গন্ধ ছড়ায়। ——-হায়রে নিয়তি মোদের।

    Reply
  13. মোঃ ইমরান হোসেন

    লেখাটা পক্ষপাতিত্বের এক অপূর্ণ উদাহরণ। সরকারের পূজা করা হয়েছে এখানে.. .

    Reply
  14. আলম

    লেখাটি অত্যন্ত সুন্দর। যুদ্ধকালীন আচরণ বিতর্কিত, কুট কৌশলে ক্ষমতাদখল যা মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশের, দেশের মানুষের মঙ্গলজনক কিছু করেননি। বরং স্বাধীনতা্ বিরোধীদের নিয়ে দলগঠন, স্বাধীনতা ভূলন্ঠিত করার জন্য রাজাকারদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া সব মিলিয়ে বুঝতে আর কষ্ট হয় নি যে তিনি আর যাই হোক না কেন- দেশপ্রেমিক নয়। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিলে এবং বাস্তবায়ন করলে অন্তর থেকে ভীষণ ভাল লাগবে।

    Reply
  15. Razz

    আর যেই জিয়া পাকিস্থান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিল তিনি কিনা স্বাধীনতা পদকের যোগ্য না ???
    বাকসাল থেকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র উন্মুক্ত করল এটাই তাঁর দোষ ???
    আর তাঁর প্রবর্তন করা স্বাধীনতা পদক অন্য সবার জন্য তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে জিয়া প্রবর্তিত স্বাধীনতা পদক দেওয়া বন্ধ করেন ।

    Reply
  16. সাবিকুল ইসলাম

    ধন্যবাদ সরকারকে । জিয়ার স্বাধীনতার পুরুষ্কার কেড়ে নিলে চলবে না। তার মরণোত্তর বিচার করতে হবে । সে দেশে রাজাকারদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে পুূর্ণবাসন করছে, মুক্তিযোদ্ধােদর হত্যা করেছে ।

    Reply
  17. মোহাম্মদ জাকায়েত উল্লাহ

    পদকটা লেখককে দেওয়া জরুরি।
    রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে পেলে অনেক তথ্য উপত্তি গেটে, না খেয়ে না পরে ইতিহাস চর্চার করে করতে করতে মাথার চুল সব পাকা করে ফেলেছে।

    সরকারের কাছে কেউ অনুরোধ পাঠিয়েন। পদক টা লেখকের কাছে হস্তান্তর করার জন্য।

    Reply
  18. M. Rana

    “”””
    ১৯৭৮ সালের ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সমর্থকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, হিন্দুর লেখা জাতীয় সঙ্গীত ও ইসলামী তাহজ্জীব ও তমুদ্দুনবিহীন জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা হবে।
    “”””
    উপরের কোটেশন ভিতরের অংশটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে লেখকের দেওয়া আরো শক্তিশালী পয়েন্ট গুলোকে বাদ দিলেও জিয়ার মরণোত্তর বিচার করার জন্য যথেস্ট। হযরত ওমর (রাঃ) যেমন মারা যাবার পরও অপরাধীর কবরের উপর দোররা মেরে শাস্তি কার্যকর করেছিলেন, তা জিয়ার উপর করা যায়।

    কিশোর বয়স পার করে যৌবনে পা দিতে যাবো সেই সময়টা ছিল জিয়ার শাসন আমল। ঐ সময় দেখা জিয়া আর কালুরঘাট থেকে সংবাদ পাঠকের মত আওড়ানো স্বাধীনতার ঘোষনা পড়া জিয়াকে তুলনা করার সুযোগ পেয়েছিলাম —
    সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, জিয়ার মত এমন নিমকহারাম বান্দা খোদার দুনিয়াতে ২য় জন পয়দা হয়নি – সেই জিয়ার ডিএনএ কে যখন দেখি এই দেশটাকে জ্বালায় , মনের জালাটা হাজারো গুন বেড়ে যায় — কারন, তার বিবি এবং পোলাপাইন গুলো জিয়ার বদমাইশির সীমাকেও ছাড়িয়ে চলছে —

    Reply
  19. Shiplu

    লেখাটি পুরোপুরি আওয়ামী-পূজারীদের জন্য! Reza

    জিনি যুদ্ধ করলেন তিনি এখন সতরু হলেন, হায়রে দেশ …

    Reply
  20. আরিফ

    আরিফ
    100% Pure Non-Veg আওয়ামী-পূজারীদের সহজাত মানসিকতা।
    আর যোগ করি..শরিফ ভাই ও Syed Anwar Hossain লেখা…
    ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাসীনরা যেমন কত কথা বলতে পারেন, কত কী করতে পারেন, তেমনি ক্ষমতার পক্ষের লোকজনও কথা বলায় হিরো বনে যান।
    যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই তারা বলবে বাকশাল গঠন করার জন্যে পদক ফিরিয়ে নেওয়া হল! এই যে দেওয়া এবং নেওয়ার সাংস্কৃতি বন্ধ ও চালুর বিষয় আমাদের সামনে না আনাই ভালো।

    Reply
    • আরিফ

      আরো একটি কথা শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল গঠন করা খুব যথাযথ ও যুগোপযোগী ছিল , বর্তমান আওয়ামী লীগের সরকার তা প্রমান করেছে।

      Reply
  21. ইফতিখার

    লেখাটির লেখককে আমার আন্তরিক অভিনন্দন । এটা মোটেও আওয়ামী বা বিশেষ কোনো পূজারীদের জন্য না । এখনই সময় বিকৃত ইতিহাসকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার । লেখককে আবারো অভিনন্দন ।

    Reply
  22. শামীম

    মিথ্যাকে বার বার বললে, প্রচার করলে তা সত্যের মত শোনালেও, তা কখোনও সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

    Reply
  23. রাইয়ান মাহমুদ

    হুম, জিয়া কে অবশ্যই রাজাকার ঘোষণা করতে হবে। উনি সাহস পেলেন কীভাবে আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে অন্য সংগঠন করার!

    Reply
  24. মোস্তফা

    লেখক সাব্বির হোসেনের ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। যেহেতু সে তেমন কেউ না, তাই তাকে নিয়ে সমালোচনা করার গুরুত্ববোধ করছি না। তবে, পত্রিকার দায়িত্ব ছিলো লেখাটি বিচার বিশ্লেষণ করা।

    Reply
  25. Md. Gias Uddin

    আপনার লেখাটাকে পুরোপুরি সমথর্থন করতে পারলাম না। কারণ এটা একপেষে হয়ে গেছে এবং ক্ষমতাসীনদের খুশী করার মতো। বতর্তমান প্রধানমন্ত্রী যা যা করছেন তা তার কী সবগুলোই সঠিক হচ্ছে বা সফলতা পাবেন। না ক্ষমতার পালা বদল হলে তাঁরও সমালোচনা হবে এবং তাঁরও ইতিহাস রচিত হবে। আজকে যারা বলছে তারাই কালকে বলবে, অন্য সরকারকে খুশী করার জন্য। তাই যখনই লেখনী লেখা হউক না কেন যার সম্বন্ধে লিখছি তার অবদানকে অস্বীকার করে নয় অবদানকে স্বীকার করেই লিখতে হবে। নাহলে একপেষেপ হযে যাবে।

    Reply
  26. জাবির

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করা হলে, উনার প্রবর্তীত এই স্বাধীনতা পদক ও বাতিল করা দরকার। আজ পর্যন্ত যারা এই পদক পেয়েছেন তাদের পদক ও কেড়ে নেওয়া উচিত!

    যিনি এই পদকের প্রবর্তক তিনিই যদি যথাযথ সম্মান না পান, তাহলে পদক প্রাপ্তদের সম্মান দিয়ে কী লাভ!

    Reply
  27. শরিফ

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যতটা পারা যায় নিরপেক্ষ লেখাটা সবচেয়ে বেশি বরণীয়, কারণ আমরা মনে করি সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার মানসিকতা সহজাত হওয়া খুবই প্রয়োজন একজন নাগরিক হিসেবে। দলমত ভিন্ন থাকবেই। যেমন এই লেখন লিখেছেন পদকের বিষয়ে। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই তারা বলবে বাকশাল গঠন করার জন্যে পদক ফিরিয়ে নেওয়া হল! এই যে দেওয়া এবং নেওয়ার সাংস্কৃতি বন্ধ ও চালুর বিষয় আমাদের সামনে না আনাই ভালো। কারণ, এগুলো আমরা জানতেও চাইনি বুঝতেও চাইনি। তবে বলব, এই সিদ্ধান্তটা সময়-উপযোগী নয়।

    Reply
    • হাসিব মুহম্মদ

      বাকশাল অসাংবিধানিক নাকি?
      বাকশাল সম্পর্কে প্রথমে জানুন, তারপর মন্তব্য করুন।

      Reply
  28. সাইফুল

    যারা এই লেখার বিরূপ সমালোচনা করছেন, তারা এই লেখার কোন তথ্যকে ভুল বলে প্রমাণ করতে পারবেন? আমি লেখকের সাথে সহমত পোষণ করে আরো যোগ করছি যে, জিয়া হচ্ছে একজন by chance মুক্তিযোদ্ধা।

    Reply
    • Md. Gias Uddin

      সাইফুল ভাই বাইচান্স মুক্তযোদ্ধা বলছেন তখন আপনি কোথায় ছিলেন? বা আপনার পরিবারের কতজন যুদ্ধ করেছেন বলতে পারবেন কি? ভাই হীনমনত্যতার পরিচয় না দিয়ে অবদানকে স্বীকার করে চাটুকারিতা থেকে বিরত থাকুন এবং দেশে শান্তি বজায়ের পক্ষে থাকুন। যারা বড় বড় লেখা লেখেন তারা কী কখনও আন্দোলন করে দেখেছেন?

      Reply
  29. Md. Ahsan Uddin

    জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক দেওয়া যথাযথ ও যুগোপযোগী।
    স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তটি জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং জাতীয় নৈতিকতার স্খলন।

    Reply
  30. Syed Anwar Hossain

    ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাসীনরা যেমন কত কথা বলতে পারেন, কত কী করতে পারেন, তেমনি ক্ষমতার পক্ষের লোকজনও কথা বলায় হিরো বনে যান।

    খেলা রাম খেলে যা…

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—