ভারত বাংলাদেশ ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে, দিচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে বসবাস করলে খাঁচায় বসবাসের অনুভূতি হয়, আমারও তাই হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বন্ধুত্বের আহবান নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কিন্তু খাঁচায় থেকে আমরা কী করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াব?

আমাদের সমুদ্রসীমায় ভারত দাবি জানিয়েছে, মায়ানমারও আমাদের সীমায় দাবি উপস্থিত করেছে, তাতেও মূল ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাই। ভারত ও মায়ানমারের এই দাবির ফলে আমাদের সমুদ্রসীমার এক বড় অংশ হুমকির মুখে। বঙ্গোপসাগরে একদিকে ভারত ও মায়ানমারের দাবি অন্যদিকে মার্কিনিদের হাতে সরকারের গ্যাসব্লক তুলে দেওয়ার ফলে পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশের সমুদ্রে বাংলাদেশেরই দাঁড়ানো অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

কাঁটাতার দেওয়া সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনও বন্ধ হয়নি। এখন আগ্নেয়াস্ত্রের বদলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বেয়োনেট ও লাঠি। নিহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারত রাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা সন্ত্রাসী কিংবা চোরাচালানি। দেশের মধ্যে রাবের হাতে যারাই খুন হয় তারা যেমন সন্ত্রাসী হয়ে যায়, সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতেও তেমনি। ১২ বছরের বালিকারও নিষ্কৃতি নেই এই অপবাদ থেকে। আর চোরাচালান কি এই গরিব মানুষেরাই করে? তাতে শুধু কি বাংলাদেশের লোকজনই জড়িত থাকে?

সীমান্তে কখনও বাংলাদেশ বাহিনীর হাতে ভারতীয় নিহত হয় না, কিন্তু নিয়মিতভাবে নিহত ও জখম হয় বাংলাদেশের কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের গরিব মানুষ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈধ বাণিজ্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। এর শতকরা ১০ ভাগ বাংলাদেশ রফতানি করে। ধারণা করা হয়, অবৈধ বাণিজ্য এর প্রায় সমপরিমাণ কিংবা আরও বেশি। এই বাণিজ্য ভারতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করছে, বাংলাদেশে তৈরি করছে তাদেরই বাজার। প্রাথমিক লাভ ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরই।

ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ অনেক উন্মুক্ত, অনেক উদার। বাংলাদেশে ভারতের পণ্য, বিনিয়োগ, শ্রম, পরিষেবা, প্রতিষ্ঠান আসায় কোন বাধা নেই, বাংলাদেশে ভারতের বহুসংখ্যক টিভি চ্যানেল দেখতে কোন বাধা নেই। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের পণ্য থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল পর্যন্ত সবকিছুতেই নানাবিধ বাধা আছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে আমরা অবিরাম ভারতে উৎপাদিত পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের বাজার সম্পসারিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেল ভারতে কার্যত নিষিদ্ধ থাকায় এখানকার পণ্যের খবর ভারতে যায় না। নৌপথে ভারত ট্রানজিট সুবিধা অনেক আগে থেকেই পাচ্ছে, এখন পেতে যাচ্ছে সড়ক ও রেলপথে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নেপাল বা ভূটানে যাবার জন্য ভারতের ৩০/৪০ কিমি ব্যবহার শুরু করতে পারেনি।

ভারতের জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যে ধরনের ‘ট্রানজিট’ প্রস্তুতি চলছে তার তুল্য দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই। একমাত্র কাছাকাছি হল দক্ষিণ আফ্রিকা দিয়ে চারদিকে ঘেরাও হয়ে থাকা লেসোথো। কিন্তু এটিও তুলনীয় নয়; কারণ, সোনার খনি নিয়েও লেসোথো রাষ্ট্র হিসেবে প্রায় ভেঙে পড়েছে, আয়ুসীমা ৩৪ বছর, মারিজুয়ানা চাষের উপর নির্ভর অনেক কর্মসংস্থান, আর লেসোথোর মানুষ নিজেরাই দক্ষিণ আফ্রিকার দশম প্রদেশ হবার আবেদন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও এর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না দুটো কারণে।

প্রথমত, দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে এতটা অসমতা নেই, যেটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আছে।

দ্বিতীয়ত, সেখানে কোন দেশই অন্যদেশের ভূমি বা নৌপথ ব্যবহার করে নিজদেশেরই অন্য প্রান্তে যায় না, যায় তৃতীয় কোন দেশে।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে অবাধ যোগাযোগ ভারতের জন্য অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সবদিক থেকেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি ভারতকে এই সুবিধা দেয় তাহলে ভারতের পরিবহণ ব্যয় কমে যাবে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি, অর্থাৎ আগে যে পণ্য পরিবহণে খরচ হতো ১০০ টাকা তার খরচ দাঁড়াবে ৩০ টাকারও কম। এছাড়া সময় লাগবে আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ, বা চারভাগের এক ভাগ। এই সময় ও অর্থ সাশ্রয় বহুগুণে তাদের অর্থনেতিক সম্পদ ও সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে। ভারতের এত লাভ যেখানে, বাংলাদেশের সেখানে প্রাপ্তি কী? আমাদের সার্ভিস ও অবকাঠামোর সুযোগ ব্যয় কত? কী কী লাভ, আর কী কী ক্ষতি বা সমস্যা? কোনটার চাইতে কোনটা বেশি?

‘ট্রানজিটের’ লাভক্ষতি নিয়ে সরকার থেকে কোন হিসাবনিকাশ আমাদের জানানো হয়নি। অথচ মন্ত্রী কিংবা বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বহুবার বলা হয়েছে ট্রানজিট বাংলাদেশের জন্য খুব লাভজনক, দেয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার লাভের অংক। কীভাবে ট্রানজিট বিষয়ে দুইদেশের সরকারের বিস্তারিত সিদ্ধান্তের আগে এবিষয়ে অংক দেয়া যায় তা আমার বোধগম্য নয়। বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে ভারতের সাথে সব চুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টা বিশেষভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাঁরা ইতিমধ্যে অনেক কথা বলেছেন, তা থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, যেকাজে তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাতে বাংলাদেশের স্বার্থ বিষয় তাদেঁর কাছে বোধগম্য নয়। আরও পরিষ্কার হয়েছে যে, তাঁরা যেকোন মূল্যে চুক্তি করতে অতি আগ্রহী, এবং নিশ্চিত যে, ভারতই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে।

উপদেষ্টা মশিউর রহমান এতদূর বললেন যে, সভ্যদেশ হিসাবে বাংলাদেশ ট্রানজিট ফি চাইতেই পারে না। অবশ্য পরে ফি নির্ধারণের জন্য কমিটি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রানজিট নিয়ে নতুন কোন চুক্তিরই দরকার নেই, ১৯৭২ সালেই সব চুক্তি করা আছে! যাদের দরকষাকষি করবার কথা, তারাই যদি আগে থেকে বলতে থাকেন এতে বাংলাদেশেরই লাভ হবে, তাহলে দরকষাকষির আর কী সুযোগ থাকে?

শুধু গাড়িভাড়া বন্দরভাড়া হিসাব করলেই তো হবে না। আগপাছ বিচার না করে শুধু টাকার জন্য নিজের যেকোন কিছু ভাড়া দেয়া একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব নয়। সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তো তা আরও অচিন্তনীয়। তাই শুধু টাকার প্রশ্ন নয়, বাংলাদেশের জন্য আরও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন আছে।

প্রথমত, বাংলাদেশের জমি সীমিত, আবাদী জমি নষ্ট করা তাই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের ক্রমবর্ধমান পণ্য পরিবহণ করতে গিয়ে যে সড়ক স¤প্রসারণ ও সংযোজন করতে হবে তা কত কৃষিজমি জলাভূমি বিনাশ করবে? এরফলে খাদ্যসহ অন্যান্য কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র কত বিনষ্ট হবে? কত পরিবেশ দূষণ হবে? 

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের নিজের পণ্য পরিবহণ ভবিষ্যতে অনেক বাড়বে। এখনই বিভিন্ন রাস্তায় জটের কারণে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হয়, পচনশীল দ্রব্য বিনষ্ট হয়, দ্রব্যমূল্য বাড়ে। ভারতকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে আমাদের পণ্যপ্রবাহে কীরকম সমস্যা তৈরি হতে পারে?

তৃতীয়ত, যে রাজ্যগুলোতে ভারত পণ্য নিয়ে যাবে, সেসব রাজ্য এতদিন ছিল বাংলাদেশের বহু শিল্পপণ্যের বাজার। সেই বাজার সংকুচিত হয়ে যাবে, সম্ভাবনা বিনষ্ট হবে। তার ক্ষতি কত?

চতুর্থত, যেখানে ভারত বাংলাদেশকে ‘সন্ত্রাসী’ বিবেচনা করে তিনদিকে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে রাখে, সেখানে বাংলাদেশ ভেদ করে তার পণ্য পরিবহণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কে করবে? কী পণ্য ভারত নিয়ে যাচ্ছে তার তদারকির ব্যবস্থা কী থাকবে? পঞ্চমত, নদী, সমুদ্র, কাঁটাতার, অসম প্রবেশাধিকার, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আগে সমাধান কেন নয়?

এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ভারতের কাছ থেকে কঠোর শর্তযুক্ত ঋণ নেবার চুক্তি হয়েছে তাদেরই কাঙ্খিত পণ্য পরিবহণব্যবস্থা দাঁড় করবার জন্য। মাত্র ১০০ কোটি ডলারের এরকম শর্তযুক্ত ঋণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কমই আছে, যেখানে সবকিছু ভারত থেকে কিনতে হবে, সব সিদ্ধান্ত তাদের। বাংলাদেশের দায়িত্ব শুধু তাদের নির্দেশমতো কাজ করা এবং সময়মতো সুদসমেত ঋণের টাকা ফেরত দেয়া। এই ঋণকেই বিশাল অর্জন বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

ট্রানজিট নিয়ে লাভের নানা কাল্পনিক হিসাব দিতে ব্যস্ত না থেকে নীতিনির্ধারকরা নানা সমাধান খুঁজতে পারতেন। ভারতের প্রয়োজন ও বাংলাদেশের জটিলতায় না পড়বার মতো একটা সমাধান হতে পারতো– সীমান্ত জুড়ে বাংলাদেশের প্রান্তে বিশাল শিল্প বেল্ট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ। কাঁচামাল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এবং বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারে ভারত যদি অনুকূল অবস্থান নেয়, তাহলে বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী কিংবা যৌথ উদ্যোগে এই রাজ্যগুলোর চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের বিস্তার খুবই সম্ভব। বর্তমানে এসব রাজ্যে বাংলাদেশের শিল্পপণ্য সরবরাহ সাফল্যে এই সক্ষমতার ইঙ্গিত আছে। ভারতকে তাহলে এতদূর পণ্য টেনে আনার কষ্ট করতে হতো না, বাংলাদেশের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হতো, আবার উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর অর্থনীতিও চাঙ্গা হতো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ নেই এরকম কোন কিছুই আলোচনার টেবিলে নেই।

শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, আমি উন্মুক্ত বিশ্বের পক্ষে। আমি চাই, সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত থাকুক, সারাবিশ্বও বাংলাদেশের কাছে উন্মুক্ত হোক। আমরা ভারত চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের শক্তিশালী ও ক্ষমতাবানদের জন্য দরজা জানালা সব খুলে দিলাম, আর এসব দেশে বাংলাদেশের পণ্য ও মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিতই থাকলো- এটা উন্মুক্ত হওয়া নয়। উন্মুক্ত হওয়া আর আত্মসমর্পণ কিংবা অধীনস্থ হওয়া এক কথা নয়। এই দুইএর পার্থক্য বোঝার মতো আত্মসম্মানবোধ আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া দরকার।

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

২৫ Responses -- “উন্মুক্ত হওয়া আর অধীনস্থ হওয়া এক কথা নয়”

  1. Gazi tanvir

    আমরা আর কত এভাবে চলে যাব? আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কী এভাবেই চলবে? ওরা এখন টিপাইমুখে বাঁধ দিতে চাচ্ছে, আরও দিবে—–
    আমাদের কী কোনই ভাষা নেই?

    Reply
  2. Sumon

    কাঁটাতারের বেড়ায় কী সমস্যা তা বুঝলাম না। এটা সমস্যা হলে, এটাতো তাদের জন্যও সমস্যা। সীমান্তে ফেন্সিডিলের কারখানা বানিয়ে এদেশে প্রবেশ করানোতে কি আমাদের পক্ষের কারো সহযোগিতা নেই? আসলে আমরা যদি বিজাতীয় পন্য/সংস্কৃতি বর্জন করার মানসিকতা অর্জন করতে পারি তাহলেই বোধ হয় এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল বন্ধ করে দিতে সমস্যা কোথায়। আমাদেরটা না দেখালে ওদেরটাও দেখানো হবে না।

    Reply
  3. Muhammad Nurullah

    ভারত এমন কোন অর্থনৈতিক পরাশক্তি অথবা উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ নয় যে, বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশকে তারা সহায়তা/সাহায্য করতে পারে বা চালাতে পারে। প্রতিবেশী দেশের সাথে অবশ্যই সুসম্পর্ক থাকবে। তাই বলে এই নয় যে, ভারতের মতো অনুন্নত দেশকে আমার ঘরের/বাড়ীর দরজা-জানালা সব খুলে দিয়ে আমাকে বেপর্দা হয়ে উজার করে দিতে হবে। ভারতে দারিদ্রের সংখ্যা, অনুন্নত জনপদের সংখ্যা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের কোন কোন প্রদেশে এখনো দুর্ভিক্ষ হয়–আমাদের হয় না। ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। ভারত এক জায়গায় এগিয়ে আছে আমাদের চেয়ে আর তা হলো- ভারতের রাজনীতিবিদরা আমাদের রাজনীতিবিদদের চেয়েও অনেক সভ্য ও দেশপ্রেমিক। ভারতে আন্না হাজারের মতো মানুষ আছে- অমাদের নেই। বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে শুধু এদেশের রাজনীতিবিদদের কারনে। ভারতের ১২০কোটি জনগন সেদেশের রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি নয়-কিন্তু বাংলাদেশের ১৬কোটি মানুষ, মানুষের ভাগ্য, দেশের উন্নয়ন দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলিগ আর বিএনপির হাতে জিম্মি। বাংলাদেশের কোন কিছুর অভাব নেই। অভাব শুধু দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলিগ আর বিএনপির মধ্যে সততার আর দেশপ্রেমের। মনমোহন দাদার আগমন উপলক্ষ্যে বাড়াবাড়ি করে যে পরিমান রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে তা কোন রাজনীতিবিদদের অর্থ নয়-এদেশের জনগনের করের টাকা। সোনিয়া গান্ধীকে ব্যায়বহুল স্বর্ণের রাষ্ট্রীয় উপহার দেয়া-আওয়ামীলিগের রাজনীতিবিদদের টাকায় নয়,এদেশের জনগনের করের টাকা। এদেশের জনগনের করের টাকায় ভারতীয় রাজনীতিবিদদের খুশি করানোর বিষয়টি দাদারা ভালোই এনজয় করেন আওয়ামীলীগের রাজনীতবিদদের বোকামী ভেবে। এদের আচরনে জনগন লজ্জা পায়। মনমোহন দাদা আসলেন, মনে হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আসছেন। ভারতের সাহায়্যের কোন প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের জনগনের-যদি শুধু এদেশের দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলিগ আর বিএনপির রাজনীতিবিদদের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম উদয় হয় আর রাজনীতিবিদরা সততার পরিচয় দেন। মমতা ব্যানার্জীর মুনাফেকী আচরন থেকে আশা করি আওয়ামীলিগের রাজনীতিবিদরা আর এদেশের আওয়ামী বুদ্ধিজীবি ও সাংস্কৃতিবিদরা দেশপ্রেম কাকে বলে আশা করি শিখতে পেরেছেন।

    Reply
  4. Saiful Islam Sekul

    আনু মুহম্মদের লিখাটিকে শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না ভেবে সরকারের উচিৎ এ থেকে কিছুটা হলেও শিক্ষা নেয়া। যাতে দেশের অর্থনৈতিক লাভালাভসহ আত্মমর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    Reply
  5. Mirjumla

    তিস্তা চুক্তির ব্যাপারটা আরো বিপজ্জনক।
    ভারত তো আমাদের এমনিতেই পানি দিচ্ছে না।
    সেখানে এমন এক পরিস্থিতি করা হল যেন, তিস্তা হল না বলেই ট্রানজিট হল না।
    অথচ ট্রানজিটের গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশী।
    বিপরীত দিকটা ভাবুন।
    কাল যখন তিস্তা চুক্তি হবে, তখন ট্রানজিট চুক্তি লাগাম পরতে হবে।

    Reply
  6. haji abdus sobhan

    আমাদের দেশে পণ্ডিতের অভাব নাই, দেশ সম্পর্কে বেশি মাথা ঘামায়,এই পণ্ডিতরা দেশের কত যে ভাল চায়, তা বলা মুস্কিল।

    Reply
  7. maruf

    আনু মুহাম্মদ আমার কাছে যেমন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি আর যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে তাদের কাছেও একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি, তার কারণ আনু মুহাম্মদের মত আরো যারা আছেন যেমন ড.আসিফ নজরুল, নুরুল কবির, নাইমুল ইসলাম খান আরো অনেকে যারা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে।আমি আমার বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে কোন কর্মকাণ্ডে আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ তারা সবসময় প্রতিরোধ করবোই।

    Reply
  8. Drubo

    সবই বুঝার চেস্টা করছি, সমাধান কীভাবে হবে? জনাব আবু আহমেদ স্যার পররাস্ট্র মন্ত্রী হলে কি করতেন তাই ভাবছি!!

    Reply
  9. Mark

    দেশ বিক্রি কাকে বলে আগে বুঝতাম না। আ,লীগ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে দেশ বিক্রি করতে হয়।

    Reply
    • Khan Helaluzzaman Ayon

      আমাকে একটু ডিটেইলস-এ বলবেন? কেননা, ‘দেশ বিক্রি’– এই টার্মটা আপনাদের মত কিছু বুদ্ধিজীবীদের কাছে থেকে শুধু শুনি তো। বিশ্বের কোনো দেশের ইতিহাসে দেশ বিক্রি শব্দটা শুনি নাই। ভালোই হবে আপনার কাছ থেকে নুতুন কোনো শব্দ শিখলে।

      Reply
    • রবি রয়

      সিনেমা তো মাত্র শুরু হলো, শুধু চোখে আঙ্গুল দিয়ে নয়, আমাদের সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে দেখানো হবে একটা জাতিকে কিভাবে পরাধীন করতে হয় |

      Reply
  10. dew314

    ‘এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ভারতের কাছ থেকে কঠোর শর্তযুক্ত ঋণ নেবার চুক্তি হয়েছে তাদেরই কাঙ্খিত পণ্য পরিবহণব্যবস্থা দাঁড় করবার জন্য। মাত্র ১০০ কোটি ডলারের এরকম শর্তযুক্ত ঋণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কমই আছে, যেখানে সবকিছু ভারত থেকে কিনতে হবে, সব সিদ্ধান্ত তাদের। বাংলাদেশের দায়িত্ব শুধু তাদের নির্দেশমতো কাজ করা এবং সময়মতো সুদসমেত ঋণের টাকা ফেরত দেয়া। এই ঋণকেই বিশাল অর্জন বলেছেন অর্থমন্ত্রী।’-

    ঋণের বিশাল বোঝা এইদেশের জনগণের কাধেঁ আর লুটপাট করবেন কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিক বলয়। পুরো জাতিকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়ার চরম আধুনিকায়ন!!!!!! ধিক এইদেশের রাজনীতিবিদদের…।।

    Reply
  11. haris uddin

    সরকার সব কিছু উজার করে দিচ্ছে ভারতকে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেল তা নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই । একতরফা সম্পর্ক রক্ষা করতেই সরকার ব্যস্ত ।

    Reply
  12. মাসুদ করিম

    আপনার আত্মসম্মানবোধটা সবসময়ই একটু বেশি বেশি। এখানে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির মধ্যে অধীনস্থ হওয়ার কিছু ঘটছে না। আপনার ধারণার যে উন্মুক্ত বিশ্ব সেখানে পৌঁছাতে এর মধ্য দিয়েই যেতে হবে। সেই উন্মুক্ত বিশ্ব কথনো আসতে পারে নাও আসতে পারে — তাই বলে জেদ ধরে বসে থাকলে তো হবে না। আমাদের আগাতে হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      ঠিক বলেছেন, আত্মসন্মানবোধ দিয়ে কী হবে? তার চেয়ে আসুন এগিয়ে যাই, এবং এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে ন্যাংটিটা খুলে দিয়ে দেবো।

      Reply
      • sabina

        এগিয়ে যাওয়ারও তো একটা নিয়ম আছে।বিরোধী দলের সাথে তো বটেই, সরকারের উচিত ছিল ট্রানজিটের মত বিশাল ইসু নিয়ে সবার সাথে ব্যাপক আলোচনা করা। জনগনের মতামত নেয়া। কীভাবে,কোন কোন ধাপ পার হয়ে কত দিনে এটা দেয়া যায়, পরীক্ষামূলকভাবে শুরুতে কতদিন দেয়া যায় এগুলো নিয়ে আলপ আলোচনা করা।এমনকি পরিবেশ ,আবাদি জমি, জাতীয় নিরাপত্তা এগুলো নিয়ে সরকারের কি কোন রকম সার্ভে হয়েছে? দেশকে কীভাবে ভালবাসতে হয় তা ভারতের কাছ থেকে শিখুন, মমতার কাছ থেকে শেখার চেসটা করুন।

  13. Rifat

    “ভারতের প্রয়োজন ও বাংলাদেশের জটিলতায় না পড়বার মতো একটা সমাধান হতে পারতো – সীমান্ত জুড়ে বাংলাদেশের প্রান্তে বিশাল শিল্প বেল্ট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ। কাঁচামাল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এবং বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারে ভারত যদি অনুকূল অবস্থান নেয়, তাহলে বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী কিংবা যৌথ উদ্যোগে এই রাজ্যগুলোর চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের বিস্তার খুবই সম্ভব। বর্তমানে এসব রাজ্যে বাংলাদেশের শিল্পপণ্য সরবরাহ সাফল্যে এই সক্ষমতার ইঙ্গিত আছে। ভারতকে তাহলে এতদূর পণ্য টেনে আনার কষ্ট করতে হতো না, বাংলাদেশের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হতো, আবার উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর অর্থনীতিও চাঙ্গা হতো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ নেই এরকম কোন কিছুই আলোচনার টেবিলে নেই।”
    আপনি যতটুকু যুক্তি ও স্বদেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিয়ে কথাগুলো চিন্তা করেছেন, তার কিয়দংশ যদি সরকারে বসে থাকা বিক্রি হয়ে যাওয়া মানুষগুলো চিন্তা করত, তবে এদেশ অনেক এগিয়ে যেত।

    Reply
  14. shakil

    “আগপাছ বিচার না করে শুধু টাকার জন্য নিজের যেকোন কিছু ভাড়া দেয়া একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব নয়। সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তো তা আরও অচিন্তনীয়।”

    -একমত এবং আমি গভীরভাবে ভাবছি।

    Reply
      • Kamruzzaman

        কিসের দুর্বলতা ??? নদীর পানি প্রকৃতিক ; যা আমাদের অধিকার । ট্রানজিট রাজনৈতিক যা ভারতকে দিতেও পারি, দেশের লাভ না হলে নাও দিতে পারি । ভারত আসলে চাপ দিয়ে প্রথমে আমাদের কাবু করে নিচ্ছে । বাংলাদেশ এক খন্ড শুকনা রুটি নয় যে সবাই ছিড়ে ছিড়ে খাবে । আমার সোনার বাংলা – তার এক খন্ড জমি বাতাস পানি আমার মায়ের শরীরের অঙ্গের মত সেখানে শক্তিশলীরা হাত দিবে ? আমাদের সবার মরনের পরে যেন তা হয় । পনের কোটি মানুষ যেখানে আছে সে দেশ ছোট হতে পারে না । আমাদের রাজনীতি যারা করে করে তাদের দূর্বল হলে চলবে না । মনে রাখবেন ভোট দেয় জনগন ভারত কিংবা মার্কিনিরা নয় ।

  15. আলতাফ পারভেজ

    ভারত যা চাচ্ছে সেটা ট্রানজিট নয়;করিডর, সে সত্যটা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলা দরকার। ট্রানজিটের মাধ্যমে উন্মুক্ত হওয়া আর করিডরের মাধ্যমে উন্মুক্ত হওয়া বিস্তর ফারাক।
    আলতাফ পারভেজ

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—