সেই দুবছরে অন্তত দুশ শিরোনাম পাওয়া যাবে, যেখানে সাংবাদিকতার মান রক্ষা করতে পত্রিকাটি ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আট বছর পর মানুষ এখন কথা বলছে দুটি শিরোনাম নিয়ে। এর একটির বিষয়বস্তু শেখ হাসিনা; অন্যটি সম্ভবত খালেদা জিয়া ও তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মোসাদ্দেক আলী ফালুকে নিয়ে।

‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় গত ২৫ বছরে প্রকাশিত আরও শত শত শিরোনাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আরও বহু খবর আছে, যা তারা গোপন করেছেন; প্রশ্ন তোলা যায় তা নিয়েও। বাংলাদেশের যে সব সংবাদপত্র নৈতিকতার বুলি কপচায় অথচ নিজেরা তার চর্চা করে না, ‘ডেইলি স্টার’ কেবল তারই একটি।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ৪ ফেব্রুয়ারি ফেইসবুকে কথা বলতে গিয়ে তাঁর ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সেখানে তিনি সম্ভবত এক-এগারোর ক্ষমতা বদলের আগের ‘সুশীল সমাজের’ সেই প্রচারণার কথা বলেছেন, যা বিদেশি অর্থপুষ্ট ‘সিপিডি’, ‘ডেইলি স্টার’, ‘প্রথম আলো’ ও ‘চ্যানেল আই’এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। আসলে তারা চাচ্ছিল ‘মেরিটোক্রেসি’। তার জন্য দরকার বিরাজনীতিকীকরণ।

সেনাবাহিনীর বসানো সেই তত্ত্বাবধায়করা যদি তখন ক্ষমতা না নিতেন, সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইএর প্রভাবশালী কিছু দুর্বৃত্ত কর্মকর্তার নির্দেশে যা তারা করেছিলেন– তা যদি না ঘটত, তাহলে সে সময় পত্রিকা দুটিতে প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনগুলো হয়তো এ দেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক ইতিহাসের বিস্মৃত অধ্যায়েই পরিণত হত।

জয় মনে করছেন, ‘সুশীল সমাজের’ সেই প্রচার এবং ডিজিএফআইএর ছকে সাজানো সংবাদ প্রতিবেদনের কারণেই তাঁর মা এবং তাঁর মতো আরও অনেককে সে সময় গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল, মিথ্যা অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, নির্জন কারাগারে বহু মাস কাটাতে হয়েছিল।

ডিজিএফআইএর দেওয়া তথ্যে সেইসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুর্বল লেখা ‘ডেইলি স্টার’ একাই প্রকাশ করেনি– মাহফুজ আনামের এ বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত হবেন। ‘ডেইলি স্টার’এর সিংহভাগের মালিকের আরেকটি মালিকানাধীন পত্রিকা ‘প্রথম আলো’ও একই কাজ করেছিল। কখনও কখনও তারা আরও একধাপ এগিয়ে সেনাবাহিনী পরিচালিত যৌথবাহিনীর অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজটিও করেছে। তথাকথিত যৌথবাহিনী ওই সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচালিত হত মূলত ডিজিএফআইএর নির্দেশনায়।

অনেকেরই মনে থাকবে, সে সময় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় খবর আসত– অমুক অমুক রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীকে এবার বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই বিচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এর কারণ অংশত তদন্তকারীদের পেশাগত দক্ষতার অভাব; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগের আদৌ কোনো সত্যতা ছিল না।

সেই সব সংবাদের ভাষা, তথ্যের ফাঁকফোকর আর কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দেখে যে কোনো অভিজ্ঞ সাংবাদিক এর উৎস বুঝে ফেলতেন। খবরগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপনের খুব একটা চেষ্টাও পত্রিকাগুলো সে সময় করেনি। কাটতিতে শীর্ষে থাকা ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’এও সেই চেষ্টা দেখা যায়নি।

তখনকার একটি ঘটনায় আমরা সদ্য-বিদায়ী বিএনপি সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রীকে ‘টার্গেট’ হতে দেখি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে খবর ছাপতে ‘প্রথম আলো’এর পুরো প্রথম পৃষ্ঠা উৎসর্গ করা হয়েছিল। বিএনপির সেই নেতা ২০১০ সালের জুলাই মাসে মারা যান। এক-এগারোর পর তার অনেক সহকর্মীকে কারাগারে যেতে হলেও তাকে কখনও গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। বলা হয়, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ‘সংস্কারবাদী’ বনে গিয়েছিলেন। পরিণামে তিনি তার দীর্ঘ দিনের দল থেকেই বাদ পড়েন।

দুটি ভাষায় ২৪ ঘণ্টার সংবাদ লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে সামনের কাতারে চলে আসা নতুন একটি সংবাদমাধ্যমের জন্য কঠিন সময় গেছে সে সব দিনে। সূত্রের নাম প্রকাশ করে প্রতিটি তথ্য প্রকাশের প্রতিজ্ঞাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল সে সময়। ওই ধরনের কোনো খবরের সূত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমে তাদের নাম আসুক, ডিজিএফআই কর্মকর্তারা তা চাইতেন না। সাধারণ কাগজের ওপর সইবিহীন সে সব প্রতিবেদনের তথ্য সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করার কোনো যুক্তি দেশের প্রথম ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদপত্রটি সে সময় খুঁজে পায়নি।

‘দুর্নীতিবাজ’ ব্যক্তিদের ৫০ জনের প্রথম তালিকাটি ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অন্য সব সংবাদমাধ্যমের আগেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বার্তাকক্ষে পৌঁছেছিল।

কোনো লেটারহেড, সই বা ভূমিকা ছিল না ওই তালিকার সঙ্গে। ফলে যে অভিপ্রায় থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ওই তালিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ওই তালিকা না ছাপলেও অন্য সংবাদপত্রগুলো তা লুফে নিয়েছিল।

আট কলাম শিরোনামের সেই খবরে সেদিন কেউ সূত্র উল্লেখ করেনি। অথচ ৫০ জন ব্যক্তিকে সেখানে বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘দুর্নীতিবাজ’। সংবাদে অন্তত ‘সন্দেহভাজন’ শব্দটি ব্যবহার করা যেত, যা কেউ সেদিন করেনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমও পরদিন তালিকাটি প্রকাশ করে। ততক্ষণে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তখনকার উপদেষ্টা, যিনি আবার সেনাবাহিনী পরিচালিত দুর্নীতিসহ গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান, তিনি সেদিন নিশ্চিত করে বলেছিলেন– তালিকাটি কর্তৃপক্ষেরই তৈরি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে ওই তালিকার ব্যক্তিদের ‘সন্দেহভাজন’ বলা হয়েছিল। পরের দুটি তালিকা প্রকাশের সময় অন্য সংবাদ মাধ্যমগুলো অনুসরণ করেছিল সেই নজির।

বিবিসিতে প্রচারিত শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাতকারের বিষয়বস্তু খবর হিসেবে প্রকাশ করার পর তা সরিয়ে নিতে এক কর্নেলের কাছ থেকে ২৬ বার কল পেয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন বার্তা সম্পাদক। অন্য কোনো পত্রিকায় সেই খবর আসেনি। তিনি বলেছিলেন–- “এই নিয়ে ২৬ বার ফোন পেলাম। এখন আমি কী করব?”

সাংবাদিকের কাজ সংবাদ লেখা; শেষ পর্যন্ত তাই তিনি করেছেন, অন্য কিছু নয়।

তৃতীয় তালিকাটি প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেদের ফাঁদেই পা দিতে হয়েছিল ‘প্রথম আলো’কে। পত্রিকাটির মালিক লতিফুর রহমানের নাম এসেছিল ওই তালিকায়। তিনি ‘ডেইলি স্টার’এরও সিংহভাগের মালিক। সে সময় লতিফুর রহমানের সদ্য কিনে নেওয়া এবিসি রেডিওর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই ব্যবসায়ীকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন বলেছিলেন, সাংবাদিকতার সাধারণ নিয়মগুলো অনুসরণ করলেই ফাঁদ এড়ানো সম্ভব ছিল।

কিন্তু মাহফুজ আনাম (অথবা ‘প্রথম আলো’) সে সময় যা করেছিলেন, তার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল? অন্য অনেকের ক্ষেত্রে সেই কারণ স্পষ্ট; কিন্তু মাহফুজ আনাম বা ‘প্রথম আলো’?

তখনকার ঘটনাপ্রবাহ যারা খেয়াল করেছেন, এর উত্তর তারা জানেন। কিন্তু যাদের বয়স সে সময় ১৩ কী ১৪, অর্থাৎ এখন যারা বিশের ঘরে, তাদেরকে সেই ইতিহাস আবার শোনাতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, অন্যরা ছাপছে বলেই মাহফুজ আনাম বা ‘ডেইলি স্টার’ সে সময় প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করেছিল?

তারা কি অন্যদের অনুসরণ করছিল? নাকি নেতৃত্ব দিচ্ছিল?

‘ডেইলি স্টার’, মাহফুজ আনাম বা অন্য যারা সে সময় একই কাজ করেছেন, তার পেছনে কী প্রণোদনা ছিল?

অবশ্য অন্য কেউ তো আর নিজেদের কাজ ‘ভয় অথবা পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা’র উদাহরণ বলে দাবি করেননি।

যদি ধরে নিই যে, মাহফুজ আনাম সে সময় সত্যিই ভয়মুক্ত ছিলেন, তাহলে বলতে হয় তিনি সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তা সম্ভব ছিল, কেননা বৈধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের পরিচালিত এ ধরনের একটি সরকারের পক্ষে তিনি নিজেও কথা বলেছেন।

“এটা আমাদের সরকার… এই সরকার আমরা এনেছি… আমরা যা বলব, তা আপনাদের শুনতে হবে”– আলোচিত এই উক্তির বক্তা হিসেবে মাহফুজ আনামের নামই বলা হয়।

তখনকার তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টার সঙ্গে এক বৈঠকে ওই উক্তি করা হয়। আরও বহু সম্পাদক যেখানে উপস্থিত ছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া এক টক শোতে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদকে যখন জিজ্ঞেস করা হল, বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেলেন; বললেন, সেই বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, ‘আমার দেশ’এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আমানুল্লাহ কবীর তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করেন। ওই টিভি অনুষ্ঠানের দর্শকদের তিনি জানান, রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মতো তিনিও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই উক্তি মাহফুজ আনামই করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে এর কোনো প্রতিবাদ রিয়াজউদ্দিন আহমেদ করেননি।

‘ভয় অথবা পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতার’ প্রশ্নে ফিরে আসি। মাহফুজ আনাম যদি পক্ষপাত থেকে সেই সব কাজ না করে থাকেন, তাহলে তিনি তা করেছিলেন ভয় থেকে। কীসের ভয়ে ছিলেন তিনি? অর্থের অভাব তার ছিল না; সে সময় ‘ডেইলি স্টার’ ছিল আর্থিকভাবে সবচেয়ে ধনী পত্রিকা। তাদের মুনাফা ছিল ‘প্রথম আলো’এর চেয়ে অনেক বেশি, কেননা প্রচার সংখ্যায় অত্যন্ত কম হলেও প্রায় সমান বিজ্ঞাপন পেত ‘ডেইলি স্টার’। অথচ প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমকেই সে সময় অর্থসঙ্কটে পড়তে হয়েছিল। অনেক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল মাসের পর মাস কর্মীদের বেতন দিতে পারেনি।

সত্যটা যে কেউ বুঝে নিতে পারেন, সেই সেনা-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কোনো চাপের কারণে মাহফুজ আনাম সে সব করেননি। বরং তিনি সমর্থন জুগিয়েছেন, একই কাজ করেছেন তাঁর মতো আরও অনেকে। বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনীতিবিদমুক্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়তে যারা কাজ করে আসছেন, মাহফুজ আনাম তাদের একজন। এটা কি অপরাধ? বিস্ময়কর বিষয় হল, এ প্রশ্নে বাংলাদেশ কখনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করে, শহুরে অভিজাতরাই বুদ্ধিজীবী, আমলা আর ব্যবসায়ীদের নিয়ে আরও ভালোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে। মাহফুজ আনাম তাদেরই একজন। ঠিক এ কারণেই মুহাম্মদ ইউনূসের মতো লোকদের তিনি সমর্থন দিয়ে গেছেন। আবার এমন লোকও আছেন, যারা সে ইসব ‘অর্ধশিক্ষিত’ রাজনীতিবিদের ওপরই আস্থা রাখেন, যারা যুগ যুগ ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন ত্রুটিপূর্ণ এক ভোটিং ব্যবস্থায়, যেখানে সুষ্ঠু ভোট মানে সবার জন্য কারচুপির সমান সুযোগ।

মাহফুজ আনাম যা করেছেন, সে জন্য তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া চলে বহু কারণে।

‘ডেইলি স্টার’ সম্পাদক কেবল অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার ভালো একটি সুযোগ তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন। সমস্যা ছিল কেবল একটি। তিনি এবং তাঁর সুশীল সমাজের কমরেডরা রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার জন্য পথের কাঁটা সরাতে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের কালিমালিপ্ত করার সহজ পথটি বেছে নিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক দল খোলার ব্যর্থ চেষ্টার সঙ্গে মাহফুজ আনামের যোগাযোগের কথাও অনেকের জানা। গোপন বৈঠকগুলো কাদের আয়োজনে হত এবং সেখানে কোন বিষয়ে আলোচনা হত– তাও অনেক সাংবাদিক জানেন। প্রস্তাবিত সেই রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য বৈঠকগুলো হত সেনা-পরিচালিত প্রশাসনের বদান্যতায়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর প্রকাশ্য কার্যক্রম তখন নিষিদ্ধ, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ নেতাও কারাগারে।

মাহফুজ আনামের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পক্ষে যুক্তিতে সমর্থকরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এ রকম বহু নজির আছে। অন্যদিকে সমালোচকদের ভাষ্য, সে সব নজিরের সবগুলোই অনুসরণযোগ্য নয়।

সংবাদপত্রের উপসম্পাদকীয়তে অনেকেই লিখছেন, মাহফুজ আনামের সেই সব কর্মকাণ্ড ছিল সরল বিশ্বাস থেকে। সুতরাং তাঁকে দায়ী করা চলে না। তিনি মনে করেছিলেন, ওই পরিস্থিতিতে সেটাই ছিল সঠিক পদক্ষেপ। সমস্যাটা হল, একজন সাংবাদিকের কাজ যে এগুলো নয়– তা তিনি জানতেন না, অথবা বুঝতে পারেননি। কেবল প্রশ্নের মুখে পড়ার পরই তিনি ভুলটা ধরতে পেরেছেন।

যেহেতু সাংবাদিকতায় মাহফুজ আনামের অভিজ্ঞতা নিতান্তই স্বল্প, সংবাদ সংগ্রহের কোনো অভিজ্ঞতাই যেখানে তাঁর নেই, ব্যবস্থাপনার বাইরে সংবাদকক্ষের কাজেও কোনো সময় যেহেতু তাঁর কাটেনি, এসব বিবেচনায় তাঁকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া যায়। চলুন আমরা ‘দ্য গার্ডিয়ান’এর খ্যাতিমান সম্পাদক সিপি স্কটের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করি: ‘‘মতামত (স্টার সম্পাদক যা লিখতে উপভোগ করেন) সহজ, কিন্তু তথ্য পবিত্র।’’

‘ডেইলি স্টার’ সম্পাদক তাঁর ‘ভুলগুলো’ স্বীকার করে নেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, সন্দেহাতীত প্রমাণ হাজির করার পরই ওই স্বীকারোক্তি তাঁর কাছ থেকে এসেছে। এটিএন নিউজ টকশোর নাটকীয় ওই সময়টায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলে দাবি করে আসছিলেন।

অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, মাহফুজ আনাম যখন বিষয়টি ‘স্বীকার’ করে নিলেন, তখনই তাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ অন্যরা তাও করেনি।

এরপর আরও তিনটি প্রশ্ন সামনে এসে যায়: ১. এত বছর পর কেন; ২. অন্য কাউকে কেন একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে না এবং ৩. আর কারও নাম কেন বলা হচ্ছে না।

পাল্টা যুক্তি খুবই সরল: মাহফুজ আনাম ভয় ও পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা করে আসার উন্নাসিক দাবি তুলে যে ভুল করেছেন, অন্যরা তা করেননি। নিজের পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঠিক আগে টক-শোতে হাজির হয়ে তিনি ওই বিষয়ে কথা বলতে গেছেন। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর মাহফুজ আনাম নিজেই দিয়েছেন– “সে সময় সবাই একই কাজ করেছে।” অবশ্য পরমুহূর্তেই তিনি বলেন, “সবাই নয়।”

মাহফুজ আনামকে ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের ঈর্ষার বিষয়ও রয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন– স্টার সম্পাদক নিজের যোগ্যতার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকার পরও নিজের পেশার শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন এমন ব্যক্তি মাহফুজ আনামই প্রথম নন। এই দেশে তাঁর মতো উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে। তাহলে শুধু মাহফুজ আনামকে কেন অভিযুক্ত করা?

‘ডেইলি স্টার’এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এস এম আলীর অকালমৃত্যুর পর মাহফুজ আনাম যথেষ্ট ভালো করেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্রগুলো যখন একে একে হারিয়ে যাচ্ছিল, নিজের পত্রিকাকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন শীর্ষে। তাঁর ওই সাফল্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবদানও কম নয়। তারা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারতেই ব্যস্ত ছিল।

মাহফুজ আনাম হয়তো সুসাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি, কিন্তু বাংলাদেশের একমাত্র ইংরেজি দৈনিক হিসেবে ‘ডেইলি স্টার’কে একটি পর্যায় পর্যন্ত তিনি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন– এ যুক্তি ঠিক। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল– বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনি অন্য পত্রিকাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি লাভ এনে দিতে পেরেছেন।

‘নিউ মিডিয়া’র আগমনে ‘ডেইলি স্টার’এর মুদ্রিত সংস্করণ চাপের মধ্যে রয়েছে। সব ধরনের সহযোগিতাই তাঁর এখন দরকার। আর ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা না করে কথা বলা উচিৎ প্রতিষ্ঠান নিয়ে। আসুন আমরা কাগজটি বাঁচানোর চেষ্টা করি।

যেভাবে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে, তা আমরা সমর্থন করি না। যতগুলো মামলা তাঁর বিরুদ্ধে হয়েছে, সেই সংখ্যা আতঙ্কজনক; সব মিলিয়ে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এটা যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিষয়ে পরিণত না হয়।

কেউ কেউ বলছেন, মড়ক যদি লাগে একটি ছাগল কাটলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। অন্যপক্ষের যুক্তি, একটি আক্রান্ত হয়েছে বোঝা গেলে ব্যবস্থা নিতেই হবে, অন্যগুলো চিহ্নিত করার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।

যারা মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন, তাদের আমরা নিষেধ করতে পারি না, ক্ষতির বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে পারি না। তবে এর পেছনে সরকারের হাত থাকার যে অভিযোগ এসেছে, তা সত্যি হলে আমরা বলব– এসব থামান।

যারা ক্ষমতায় আছেন, সেই রাজনীতিবিদদের আমরা বলব, আরও উদার হতে হবে, প্রতিশোধপরায়ণ নয়। চোখের বদলে চোখ নেওয়ার নীতি এখানে খাটে না। তাদের ক্ষমা করতে জানতে হবে।

মাহফুজ আনামকে শাস্তি দেওয়ার ভার পাঠকের ওপরই ছেড়ে দিন; অথবা পত্রিকার মালিকপক্ষই তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক। আমরা ‘ডেইলি স্টার’ কর্তৃপক্ষকে একটি সুষ্ঠু সম্পাদনা নীতি-প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানাব, যার অভাব কাগজটিতে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘ভুল’ এড়াতে তা হবে দীর্ঘমেয়াদী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ। পত্রিকাটি আমাদের বাঁচাতে হবে।

বিষয়টি আমরাই প্রথম প্রকাশ্য আলোচনার টেবিলে এনেছিলাম বলে কেউ কেউ আমাদের দোষ দিতে চাইছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি টক শোর উপস্থাপক ওই প্রসঙ্গ তোলার পর আমারই এক সহকর্মী মাহফুজ আনামকে কঠিন সেই প্রশ্নগুলো করেছিলেন। সেই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে স্টার সম্পাদক ডিজিএফআইএর গছানো খবর ছেপে দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে তাঁর ওই স্বীকারোক্তির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরাই প্রথম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করি, যদিও আমাদের মতো আরও অনেকেই মাহফুজ আনাম ও অন্যদের সেইসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল।

একজন ব্যক্তির পেছনে লাগার অভিযোগ যারা আমাদের বিরুদ্ধে করছেন, তাদের শুধু এটুকু বলব– আমরা কেন মাহফুজ আনাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপিনি, সেই অভিযোগও আমাদের শুনতে হয়। বলা হয়, অনুসন্ধান না হওয়ায় স্টার সম্পাদক ও তাঁর স্ত্রী, যিনি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন চালান, তাঁরা বড় ধরনের ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।

আমরা যদি সবাই সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসএর নীতিমালা মেনে চলি, গণমাধ্যমের অনিয়মের বিষয়েও ওয়াচডগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হই, তাহলে আমাদের এই প্রিয় কর্মক্ষেত্র আরও অনেক ভালো একটি জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে এটুকুই বলব, আমরা মাহফুজ আনামের পাশে আছি।

[ইংরেজি থেকে অনূদিত]

তৌফিক ইমরোজ খালিদীপ্রধান সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

৭৪ Responses -- “মাহফুজ আনামকে হয়রানি বন্ধ করুন”

  1. খন্দকার হাবীব আহ্‌মেদ

    লেখাটি পড়লাম। লেখক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে সুষ্ঠু সাংবাদিকতার নিরিখেই লেখাটি লিখেছেন এবং শেষে তার মতামত হিসেবে উল্লেখিত সাংবাদিকের পাশে থাকার কথা বলেছেন। উপরে অনেক মন্তব্য এসেছে, বেশ ভাল।

    তবে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রায়ন জরুরী। নব্বই এর পর এতে নতুন কিছু তেমন হয়নি। এর দায় কিন্তু নিতে হবে যারা ড্রাইভিং বসেন তাদেরকে। এ দিকটা ফোকাস করলে লেখকের যুক্তি আর প্রবল হত বলে আমি মনে করি। ধন্যবাদ।

    Reply
  2. লালন

    লেখক কি কোন কারণে আগে থেকেই মাহফুজ আনাম বা ডেইলি স্টারের উপর ক্ষেপে ছিলেন আর সুযোগ বুঝে (এতদিন চুপ থাকার পর!) এতদিনের জমানো সব ক্ষোভের উন্মত্ত প্রকাশ ঘটালেন?

    ওয়ান ইলেভেন ঘটার পরে মাননীয় শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া ভয় পেয়েছিলেন কি না জানিনা। কিন্তু শেখ হাসিনা সেদিন বহু বার বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে এই সরকার (ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন) কে বৈধতা দিব। এসব মনে রাখতে হবে।

    লেখকের শরীরে কর্টিসলের মাত্রা হাই ছিল মনে হচ্ছে।

    Reply
  3. আব্দুল মুক্তদির

    খালিদী সাহেব আমার খুব প্রিয় সাংবাদিক – – কিন্তু তিনি এক মুখে দুই কথা কেন বলছেন?
    ভুলের জন্য সাংবাদিকদের সচরাচর ফাঁসী হয় না, যেটা হয়ঃ১-পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া, ২-ক্ষমা চাইতে বলা হয়, ৩-পদত্যাগ, ৪-জরিমানা ইত্যাদি – – তাহলে জনাব মাহফুজ আনাম আদালত মোকাবিলা করে যে কোন একটি ফয়সালা মেনে নিতে পারেন
    জনাব খালিদী, আপনিই বলছেন “সন্দেহভাজন” না বলে উড়ো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দূর্ণিতিবাজ বলা ঠিক হয়নি এবং বিডিনিউজে আপনি একদিন পরে ৫০জনকে সেনাসমর্থিত সরকারের প্রভাবে সরাসরি দূর্ণিতিবাজ না বলে “সন্দেহভাজন দূর্ণিতিবাজ” বলেছেন আর ডেইলী স্টারসহ অনেক পত্রিকা দ্রুত সরাসরি দূর্ণিতিবাজ বলেছে।
    তাহলে দুনিয়া-আখেরাতের বিচারে ফয়সালা পেতে জনাব মাহফুজ আনামকে আইনী পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে আপনি এসব কেন লিখছেন?
    আমি আরও একটি কথা বলব বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে নিজ দলের সাবেক নেতাকে প্রদান উপদেষ্টা বানানো এবং ঢাকা-১০ আসনে ফালু মার্কা উপ-নির্বাচন করার পরেও এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাস্তবতা বিবর্জিত ধারণার বিকল্প হিসেবে শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের ধারণা (যেটি বিএনপিও “প্রায়” মেনে নিয়ে তারয়ানকোর মধ্যস্থতায় অনেক সংলাপ করেছিল) গ্রহণযোগ্য করতে কলম ধরেননি কেন সাংবাদিক সমাজ? পেট্রোল বোমার ভয়ে ? নাকি বিএনপি-জামাতকে ক্ষমতায় বসিয়ে বিষেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য? আমি তো মনে করি তারানকোর মধ্যস্থতা মেনে নিয়ে সব দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন করলে রাজনৈতিক সংকট তখনই সমাধান হয়ে যেত — প্রথম আলো-ডেইলী স্টারসহ বারবার কলম ধরেছে ত্রুটিপূর্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে — এদের সমর্থনের কারণে আশাবাদী হয়ে বিএনপি অতি বিপ্লবী হঠকারী পথে গিয়ে আজ নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে আর এসবের জন্য ইতিহাস কি কোনদিন ক্ষমা করবে জনাব মাহফুজ আনামসহ ‘অতিমাত্রিক’ বুদ্ধিজীবীদের ?

    Reply
    • আলমগীর কবির

      সংবাদপত্রের জরীপে( প্রথম আলোতে প্রকাশিত ৮০% সমর্থন) উল্লসিত হয়ে বিএনপি হাবুডুবু খাচ্ছিল, তাই লাগাতার অবরোধ দিয়ে দেশে পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস ডেকে আনে। আর এখন ‘খেসারত’ দিচ্ছে আর সমস্যায় ডুবে ‘খাবি’ খাচ্ছে!
      জনহয়রানীতে অতিষ্ঠ দেশবাসী (যদি সময় থাকতে সরকার পুলিশি হয়রানি, যানজট, ফুটপাথে অচলাবস্থা, বেকার সমস্যা,চাদাবাজি যদি যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়) যখন আওয়ামী লীগের থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেবে তখন বিএনপি সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়েও যখন পারবেনা, তখন অতীতের ব্যর্থতার জন্য আলো-স্টার গোষ্ঠির সতর্কতার উপদেশবিহীন ঢালাও সমর্থনের জন্য মাহফুজ আনামকেই দায়ী করবে, আর একইসাথে–
      আওয়ামী লীগের তৃণমূল সমর্থকরা দায়ী করবে অন্যান্য সাংবাদিকদের যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার প্রয়োজন থাকলেও করছেন না , জনহয়রানীগুলো তুলে ধরছেন না !!!!!!

      Reply
  4. R. Masud

    সৈয়দ আলী সাহেবের কমেন্টের জবাব দেবার পর উনি আবার জবাব দিলেন, অথচ সেখানে জবাব দেবার যায়গা রাখলেন না। ভয়ে?
    তাই নূতন কমেন্ট করেই জবাব দিচ্ছি!!
    তা দাদা আমার গায়ে লাগে তখনই যখন মাথার গিলু লুজ হওয়া ( অন্য কথায় মগজের কয়েকটা স্কুরু খুলে পড়ে যাওয়া) এফফেক্ট থেকে আসা আপনার লিখা কমেন্ট দেখে।
    মাথার গিলু লুজ হওয়ার প্রমান,
    ১) ২০০১-২০০৬ এর বিভীষিকা ময় শাসন কাল আর্মিদের হস্তক্ষেপে শেষ হওয়ার পর বলা কথাটাকে ঘুরিয়ে বলাটা মাথার গিলু লুজ হওয়ার প্রমান। সেই শাষন ২ বছর চলবে তার জন্য বলা কথা নয় পাগলেও বুঝে? আপনি বুঝেন না —
    আরেক প্রমান–
    ২) যেমন সৈয়দ আলী সাহেবেরা বলে থাকেন, বঙ্গবন্ধু তো যুদ্দুপরাধীদের আর পাকিস্তনি আর্মি দের ক্ষমা করে গেছেন। তাহলে এখন যুদ্দ অপরাধীদের বিচার কেন হচ্ছে ? আরে , মহাশয়, ১১ হাজার যুদ্দ অপরাধীর বিচার আর ১৯৫ জন পাকি র বিচার তো বঙ্গবন্ধুই শুরু করেছিলেন, সেই কথাটা জেনেও না জানার লক্ষন ইবলিসের কর্ম!!
    জেনে শুনেই পাপ করছেন মহাশয় – গিলু লুজ হওয়া বলেই কি?

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      প্রথমেই বলে নেই, শব্দটি ‘গিলু’নয়। ঘিলু। কম দুঃখে বলিনি আগে শুদ্ধ বাংলা লিখতে শিখুন, পরে হেদায়েত করতে আসুন। ভাষায় দখল যখন আপনার নেই, অন্য বিষয়ে যে কতটুকু আছে তা খুবই সন্দেহের বিষয়।
      এবার আপনার পয়েন্ট দু’টি নিয়ে কিছু বলা যায়, যদিও বলার মতো কিছু আছে আছে কি না তাতেও আমি নিশ্চিত নই। বিডিনিউজ২৪.কম এ মতামত দেয়ার ব্যবস্থাপনার কারনেই আমার জবাবের পর আর পাল্টা জবাব দেয়া যায়নি। সে দোষটিও আমার জেনে খুব আমোদ পেলাম।
      ১. আপনার নেত্রী কথাটি কখন বলেছেন তার চাইতে বড় প্রশ্ন তিনি তা বলেছেন কি না। আপনাদের দাবী অনুযায়ী ১/১১তে আপনাদের নেত্রীই সবচেয়ে বেশী নিগৃহিত হয়েছেন। তাই কি? বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিদেশ সফর-টফর করে ঘুরে-ফিরে বেড়ানো নিগ্রহের নমুনা বৈ কি। তাঁকে কোন বিমান পোত যেন বহন না করে মর্মে মৈনুদ্দিরা আদেশ দিলেও তিনি ঠিকই দেশে এসেছিলেন। আসেন নি? কোন শর্তে তিনি আসতে পেরেছিলেন? কেনই বা এসে মৈনুদ্দি সরকারের সব কর্মকান্ডকে বৈধতা দেবেন বলে ঘোষনা করলেন। খামাখা ঘাটাবেন না, আরো কথা বেরোবে। তা আপনাদের পক্ষে যাবেনা। 🙂
      ২. আমি (আমার সাথে অন্য কোন সাহেবরা নেই) কোথায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করার জন্য শেখ মুজিবকে দোষারোপ করেছি আর কখন যুদ্ধাপরাধীদের (যুদদুপরাধী বানানটি ভুল। শুদ্ধ বানান হলো যুদ্ধাপরাধী)। বিচারের সমালোচনা করেছি? আমার মুখে একটি বানোয়াট কথা বসিয়ে দিলেই হলো? আপনার কথায় “আরে , মহাশয়, ১১ হাজার যুদ্দ অপরাধীর বিচার আর ১৯৫ জন পাকি র বিচার তো বঙ্গবন্ধুই শুরু করেছিলেন, সেই কথাটা জেনেও না জানার লক্ষন ইবলিসের কর্ম!!” তো সে বিচারের ফলাফল কি হলো? চিকন আলি রাজাকার শেষমেশ ছাড়া পেলো। আর কারো বিচারের ঘটনা বলবেন? পাকি ১৯৫ জন গেলো কোথায়? [বর্তমানে যে ১৯৭১ সালের খুনীদের বিচার হচ্ছে তাতো একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দায়িত্ব যা আওয়ামী লীগ ৪২ বছর পরে হলেও পালন করছে]।
      আপনি কেন মূল আলোচনা ছেড়ে লাফ দিয়ে আমার ঘাড়ে পড়লেন সেটি একটু বলবেন? ধন্যবাদ।

      Reply
      • R. Masud

        আমিতো মহাকাব্য লিখতে বসেনি , বানান ভুল হলেও ঠিকই তো বুঝছেন কি বলেছি— তাহলে অমন অপ্রাসঙ্গিক ব্যাপার নিয়ে টানা টানি সুরু করলেন!! কি সুবিধা করতে পারছেন না? আমার বিবিও মাঝে মধ্যে অমন করে –

    • সৈয়দ আলি

      R Masud মহাশয়, আমি অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ এনেছি? বাহারে। অন্য পাঠকেরা নিশ্চয়ই কেউ না কেউ লক্ষ্য করছেন যে কে লাফ দিয়ে প্রসঙ্গ বদলে ভিন্ন কথা বলছেন। আর বলবেনই না কেন? যুক্তির যেটুকু রেশ ছিলো তা তাও শেষ।
      আপনার স্ত্রী অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেন কি না আমাদের জানা নেই। তবে আপনার মতো এক মালের সাথে তাঁর টিকে থাকার সাফল্যের জন্য তাঁকে আন্তরিক প্রণতি জানাচ্ছি।

      Reply
  5. Simon

    Mr. Anam deserves thanks for admitting the wrongdoing. As a citizen of the country he has every fundamental human rights not to be harassed and/or embarrassed in any way. It is a state’s responsibility to protect and defend these rights of every citizen. But as a professional journalist Mr Anam had failed to uphold the principles of free and fair journalism as well as to uphold the principles of fundamental human rights of others which had putted other people’s life in danger and had caused unjustified sufferings. Those people has every rights to seek justice and in such case Mr. Anam must face justice.

    Reply
  6. মোঃ আব্দুস সোবহান নিপুণ

    আপনার লেখাটা পড়লাম বেশ মন দিয়ে। আপনার লেখা নিয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত মতামত নিম্নে দিলাম, আশা করি আপনি সহজ ভাবে নিবেন:
    ১. লেখাটিতে আপনি চেষ্টা করেছেন আপনাকে ও আপনার প্রতিষ্ঠানকে সাধু বানানোর।
    ২. লেখাটিতে আপনি মাহফুজ আনামের উপর ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। সেক্ষেত্ত্রে আপনি সাপ মরবে লাঠি ভাঙ্গবে না পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন ।
    ৩. আমার ধারণা ডেইলি স্টার এর সম্পাদক হওয়ার সুপ্ত বাসনা আপনার মধ্যে ছিল একসময়, কিন্তু মাহাফুজ আনামের কারণে হতে পারেননি।
    ৪. আপনি লেখার মধ্যে নিজেকে সরকারের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা ভোগের জন্য।
    ৫. মাহাফুজ আনামের যোগ্যতা দক্ষতা নিয়ে আপনি কথা বলেছেন। যেটা আপনাকে হীন মানষিকতাযুক্ত একজন মানুষ হিসেবে প্রমাণ করেছে।
    ৬. মাহাফুজ আনাম দোষ করলে তার শাস্তি হবে এটা হওয়া উচিতও। কিন্ত আপনাদের মধ্যে এতবেশি মতদৈত্য দেখে আমি শংকিত মিডিয়ার ভবিষৎ নিয়ে।
    ৭. পরিশেষে সকল সংবাদপত্র ব্যবসায়ীদেরকে অনুরোধ করব দলবাজী ছাড়ৃন। নিরপেক্ষ থাকুন। সংবাদপত্রের আদশিক জায়গায় থাকুন। তা না হলে আমরা সাধারণ মানুষ আপানদেরকে আস্তাকুড়ে ফেলে দিব একদিন।

    Reply
  7. বিপ্লব

    আমাদের মনে রাখতে হবে, দুটি পত্রিকা “দি ডেইলী স্টার” ও “প্রথম আলো” অত্যন্ত সুক্ষভাবে দেশের সংবাদপত্রসেবী মানুষের চিন্তাধারাকে স্ট্যাডি করে তাদেরকে নিজের কব্জায় আনার সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে বহুপূর্বে মাঠে নেমেছিলো এবং সফল হয়েছে একথা অনস্বীকার্য। বাংলা দৈনিকের মধ্যে প্রথম আলো আর ইংরেজী দৈনিকের মধ্যে দি ডেইলী স্টার সর্বাধিক প্রচারিত, এমনকি অনলাইন পত্রিকাগুলোর মধ্যেও এ দুটিই প্রথম ৫টির মধ্যে আছে। এ দুটির সম্পাদনার দায়িত্বে আছে দুজন তারা হলেন মিঃ মতিউর রহমান ও মিঃ মাহফুজ আনাম। বাংলাদেশে এ দুজন সম্পাদক এমন অবস্থানে পৌছে গেছেন যে, তাদের স্ব স্বীকৃত অন্যায়গুলোও আমরা বিচারের আওতায় দেখতে চাচ্ছি না। আমাদের দেশে অন্য যে কোনো পেশার লোকদের যেভাবে বিচার করা সম্ভব, কিন্তু সাংবাদিকতা পেশার লোকদের কি সেভাবে বিচার করা সম্ভব? আসলে পুলিশে ছুলে ১৮ ঘা, আর সাংবাদিক ছুলে ৯৮ ঘা। মিঃ মতিউর রহমান ও মিঃ মাহফুজ আনাম এই দুজনে কি এমন মহাপুরুষ যে তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না?

    Reply
    • R. Masud

      ঠীকই বলেছেন ভাই।
      তাছাড়া সবাই তো ব্যাক্তি মাহফুজ আনামকে টানছে, ডেইলি স্টারকে নয় ।
      যারা মাহফুজ আনামের শাস্তির বিরুদ্ধে তারা ডেইলি স্টারকে মাহফুজ আনামের সম্পত্তি বলে মনে করছেন?

      Reply
  8. জুলফিকার রায়হান

    “…মাহফুজ আনামের পক্ষে বিবৃতি দানকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মামলা দেয়ার জন্য এত দুঃখ করে বেড়াচ্ছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন— ১১ মাস যদি আপনাদের সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখা হয়, মিথ্যা মামলা দেয়া হয়, অপবাদ দেয়া হয় এবং আমার ছেলেমেয়ে, বোনের ওপর যে মানসিক চাপ, একই ঘটনা যদি তাদের বেলায়ও হয়, তাহলেও কি তারা বিবৃতি দেবেন?”…

    আর কিছু না হোক, অন্তত এই একটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীর (শেখ হাসিনা নয়) নিশ্চয়ই রয়েছে। সুশীল বাটপাড়দের (মুনতাসীর মামুনের ভাষায়) পক্ষে আজ যারা এত সময় শ্রম কাগজ কালি আর মেধা ব্যয় করছেন, আশা করি এ প্রশ্নের জবাব তাঁরা দেবেন।

    তথাকথিত ক্ষমার ঔদার্য্য প্রদর্শনের নোংরা বুলি ব্যতীত বলার মতো আর কিছু যদি না থাকে তাহলে অনুগ্রহপূর্বক বোবা দর্শকের ভূমিকা পালনপূর্বক আমাদের মতো আম-জনতাকে বাধিত করবেন, যেমন করেছিলেন তৎকালীন সময়ে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      চমৎকার ও স্বচ্ছ যুক্তিমালা।
      যে ভদ্দরলোকের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি পরিপূর্ণ যৌবন বয়সে পিতার চাকুরী রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধ যোগ দেননি। এখন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রবক্তা এবং ডাকসুতে শেখ মুজিবের আজীবন সদস্যপদের সনদ ছিঁড়ে এখন দেবীর পদমূলে শরণ নিয়ে বড় বড় বাতেলা মারছেন।

      Reply
      • R. Masud

        সৈয়দ আলি সাহেব
        —যে ভদ্দরলোকের কথা উল্লেখ করেছেন—
        এই কথা যদি মুনতাসীর মামুন কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়ে থকে,
        তাহলে তোমার সাথে এই পর্যন্ত যে সব জবাব আদানপ্রদান করেছি সে গুলি তুলে নিচ্ছি — কারন তোমার মত গরুর সাথে এসব করা সময়ের অপচয় ,
        চ্যাঁই (Ash) এর উপর পেশাব করা সম
        তুমি আরও ৫০ বার জন্ম নিলেও মুনতাসীর মামুন স্যারের পায়ের কনে আঙ্গুলের সমান হতে পারবেনা!!

  9. শাব্বীর

    কেউ অন্যায় করলে তার বিচার প্রার্থনা করা বা বিচার চাওয়া যদি হয়রানি হয়, তাহলে দেশে কোনো অপরাধীর বিচার কি চাওয়া যায়? মাহফুজ আনাম সাংবাদিক বলে কি বিচারের উর্ধ্বে? তার চক্রান্ত যদি সেদিন সফল হত, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থান আজ কোথায় থাকত, কেউ কি একটু চিন্তা করেছেন?

    আপনি সম্পাদক, তাই আর এক সম্পাদক মাহফুজ আনামের পাশে আছেন, মানে কি এই নয় আপনি তার কর্ম সমর্থন করছেন?

    এখানে ষদি বলতেন, সেদিন মাহফুজ আনাম একা নন, আরও অনেকেই জড়িত ছিলেন। যদি বিচার করতে হয় তাহলে সবারই বিচার করতে হবে। নাকি লোম বাছতে কম্বল উজাড় হবার আশংকায় অপরাধীর পক্ষ নিচ্ছেন?

    পৃথিবীতে একটি দেশও কি দেখাতে পারবেন, যেখানে সাংবাদিককা বিচারের বা জবাবদিহিতার উর্ধ্বে?

    Reply
  10. মোঃ রাজীব রায়হান

    বুঝি না কিছুই বুঝি না। অডিও টেপ প্রকাশ করে পত্রিকা হয় বন্ধ, সম্পাদক যান জেলে। টেপের কুশীলবদের কিচ্ছু হয় না।

    অপরদিকে বিডিনিউজ যখন অডিও টেপ প্রকাশ করে তখন বাহ বাহ পায়, আর কুশীলব বিনা বিচারে জেলে পচে, বর্তমানে এটাই চলছে। আজ যদি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘প্রথম আলো’, ‘ডেইলি স্টার’ থাকত, তাহলে তৌফিক ইমরোজ খালিদীরা মাতোয়ারা থাকতেন।

    আমার প্রশ্ন, ১/১১ কি মাহফুজ আনামরা এনেছেন নাকি হাসিনা-খালেদারা এনেছেন???

    কোনো স্বৈরশাসক দেশে বাকশাল আনেনি।

    Reply
    • Golam Mostofa

      বাকশাল নিয়ে কি জানেন আর কতটুকু জানেন? আর আর্মী বাগড়া না দিলে আজকের বাংলাদেশ আরো একটু এগিয়ে থাকতো? আপ্নি কি জানেন জিয়াউর ও বাকশালে যোগ দিয়েছিলো এবং বাকশালের গুন গেয়ে কলাম লিখেছিলো?

      Reply
    • R. Masud

      পুরানো পছে গাওয়া কাসুন্দি আর ঢালবেন না, মহাশয়।

      অন্যদের সমালোচনা করে যারা পেটের খোরাক যোগান (সারকথা পেশা যাদের সাংবাদিকতা) তারা যদি সমালোচনা করার মতো সামান্য কিছু করেন সেটা অতি উত্তাপ পাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

      মাহফুজ আমান গংরা যা করেছেন এটা তো সামান্য কিছু ছিল না্। এটা ছিল দেশকে সামরিক বাহিনীর অধীনে ঠেলে দেওয়া। ঐ গংদের মধ্যমণি তো ছিলেন ‘ডেইলি স্টার’ আর ‘প্রথম আলো’র দুজন সম্পাদক।

      Reply
  11. সাজ্জাদ রাহমান

    মিডিয়া যেমন কখনও কখনও রাজনীতিবিদদের কাছে চিন্তার বা কথার বিষয়বস্তু তুলে দেয়, আবার রাজনীতিবিদরাও অনেক সময় সুকৌশলে মিডিয়ার খোরাক তৈরি করে দেন, যাতে তারা কিছুদিনের জন্যে ব্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। একটি ইস্যু মুছে ফেলার জন্যে আরেকটি নতুন ইস্যুর জন্ম দেন, যাতে মানুষ আগের বিষয়টি ভুলে যায়। আমার কাছে মাহফুজ আনামের বিষয়টি সে রকমের একটি বিষয়বস্তু বলেই মনে হয়েছে।

    আমার মতে, মিডিয়াকে রাজনীতিবিদ কিংবা ডিজিএফআইএর মতো প্রতিষ্ঠনসমূহের দাবার গুটিতে পরিণতঃ না হয়ে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে সামনে নিয়ে আসা উচিত।

    ওয়ান ইলেভেনের পরিস্থিতিটাি আমাদের ব্যর্থ রাজনীতির ফসল। সহজ কথায় আমাদের রাজনীতিবিদদের চালে কিছু ভুল ছিল যার কারণে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। আর মাহফুজ আনামের মতো অনেকে দুটো বড়ো রাজনৈতিক দল কর্তৃক বিভিন্ন কারণে (সেটা ব্যক্তিস্বার্থের কারণেও হতে পারে) ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলেন।

    যার ফলে তারা দেশ উদ্ধারের নামে সেনা সরকারের স্তাবকে পরিণত হয়েছিলেন। একটা সময় পর্যন্ত তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে, এই দুটি বড় রাজনৈতিক দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

    ফলে অতিউৎসাহী হয়ে কিছু কাজ করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে, সংবাদপত্র অনেকাংশে জনমত প্রভাবিত করতে পারে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের পর সে সময় জনমনে এক ধরনের কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল বটে, কিন্তু সেটা দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    উপরন্ত সেনা-সমর্থিত সরকারের ব্যর্থতা এবং আম-জনতার অজ্ঞতার ফলে মাহফুজ আনাম গংএর পরিকল্পনা নস্যাত হয়ে গিয়েছিল।

    আমরা সাধারণ মানুষরা মোটা দাগে যত দিন সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারব, সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা বলুন আর কিংবা সুশীল সমাজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বলুন কোনো কিছুই ফল পাবে না।

    মিডিয়া যেহেতু জনমতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনের নিয়ে এসে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্যে কাজ করতে পারে, সে কারণে যে সংবাদই আসুক না কেন, তার সূত্র না থাকলে প্রকাশের প্রশ্ন তো আসেই না। বরং সূত্র যাচাই, পূর্ণ যাচাইয়ের পাশাপাশি তার মোটিভটা কী, সেটা যাচাই করে তারপর প্রকাশ বিবেচনায় নিয়ে আসা উচিত।

    Reply
  12. বিবেক

    If I had to choose between government without newspapers, and newspapers without government, I wouldn’t hesitate to choose the latter ——— Thomas Jefferson

    স্বৈরাচারের দিনগুলোতে সাংবাদিকতা!!!

    RIP journalism

    Reply
  13. তাবাসসুম রিমি

    খালিদী সাহেব,

    এই দুর্নীতিবাজ লোকটির জন্য আপনার এত সহমর্মিতার কারণ কী? শুধু স্বনামধন্য একটি পত্রিকার সম্পাদক আর দোষ স্বীকার করেছেন বলে ওনার সব অপরাধ ক্ষমা করতে হবে?তাহলে তো দেশে আইন-আদালতের কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ খুন করে, চুরি করে, বিভিন্ন অপরাধ করে সবার সামনে স্বীকার করবে, তারপর সব অপরাধ মাফ করবেন, কারণ তারা অপরাধ স্বীকার করেছে!!!

    সাংবাদিকদের দায়িত্ব সত্য প্রকাশ করা। সেখানে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ নাগরিকেরও সম্মানহানি করার অধিকার তিনি রাখেন না।

    প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় নিজেকে ভেবে দেখুন। আপনার নামে দেশের প্রথম সারির দৈনিকে কুৎসা রটনা করা হল, আপনাকে পুলিশি জেরা আর কারাবাসের সম্মুখীন হতে হল। তারপর ঐ পত্রিকার সম্পাদক স্বীকার করলেন, তিনি আপনার সম্পর্কে ভিত্তিহীন সংবাদ ছাপিয়েছিলেন। তখন কেমন লাগত আপনার? তখনও কি এভাবে একজন দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক সম্পাদককে সমর্থন করে কলাম লিখতেন?

    অন্যায় সমর্থন করে আপনি নিজেই নিজের পেশা, সমাজের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

    Reply
  14. debabratha chakraborty bishnu

    ভাই, সালাম। যা লিখেছেন, তাতে আর কিছু লাগে না। এই দেশে কারা র্সাংবাদিকতাকে পণ্য বানাচ্ছে, তা তো অনেক আগেই পরিস্কার হয়ে গেছে।

    ভালো থাকুন।

    Reply
  15. R. Masud

    বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো সত্যের চাইতেও নিজেদের পছন্দ অপছন্দের দাম দেয় অনেক বেশি। এ ব্যাপারে ‘প্রথম আলো’ আর ‘ডেইলি স্টার’ সবচাইতে বেশি সংরক্ষণপ্রবণ। আমার অভিজ্ঞতা থেকেই শুধু বলছি, অন্যের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে তা আমি মানি।

    যেমন ধরুন, খালিদী সাহেবের লেখার উপর আমার যে কমেন্টটা বিডিনিউজ প্রকাশ করল, একই কমেন্ট যখন ‘প্রথম আলো’তে পাঠাই, সঙ্গে সঙ্গে তা ডিলিট করা হয়। অন্যদিকে ‘প্রথম আলো’র গুণগান গাওয়া কমেন্ট করলে সেটা প্রকাশ করা হয়। ‘ডেইলি স্টার‘এর বেলায়ও তাই।

    তাই বলছি, ‘প্রথম আলো’ আর ‘ডেইলি স্টার‘ নোংরাভাবে সংরক্ষণপ্রবণ।

    Reply
  16. শরীফ

    @ তৌফিক ইমরোজ খালেদী,

    আপনার ব্যক্তিগত মতামতের উপসংহারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। আপনি হয়রানি বন্ধ করুন না বলে, “সুষ্ঠু এবং উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করুন” বললে সঠিক হত।

    ১) মাহফুজ আনামের ভুল হয়েছে, এটা বলা আরও একটা ভুল। তার বলা উচিত ছিল, তার অপরাধ হয়েছে এবং দেশের মানুষের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী এবং সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করলে হয়তো সঠিক হত।

    ২) নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি বিভিন্ন জায়গায় কেস্ করা হত, তাহলে একে হয়রানি বলতে পারতেন। কিন্তু মাহফুজ আনাম, সাধারণভাবে দেখলে নিরপরাধ নন।

    ৩) আপনাদের সাংবাদিকতার মান গড়পড়তার হিসাবে বিশ্বমানের নয়। বিশেষ করে কোনো কোনো সাংবাদিক যখন পুলিশের মতো চাঁদা দাবি করেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না। কীভাবে খুব দ্রুত বড়লোক হওয়া যায়, এর গুরুর খেতাব সাংবাদিক মাহফুজ আনামকে দেওয়া উচিত। একজন সম্পাদক ‘স্টার সম্পাদক’ কীভাবে হন, এটাই বুঝলাম না। যদি কেউ দাবি করেন তাহলে বুঝতে হবে, সেখানে কোনো ঘাপলা আছে।

    ৪) রুপার্ট মারডকের বিরুদ্ধে যখন যুক্তরাজ্যে বিচার তোলা হয়, তখন তো কোনো সাংবাদিক তার সম্পাদকের পাশে থাকেননি। তাহলে আপনি কোন সাংবাদিক নীতির কারণে মাহফুজ আনামের পাশে থাকছেন?

    ৫) আপনি বলতে পারতেন, ‘মানুষ হিসেবে মাহফুজ আনামের পাশে আছেন, কিন্তু তার কোনো অপরাধমূলক কাজের প্রতি সমর্থন নেই’।

    Reply
  17. Abdullah Al Imran

    অবাক লাগে!

    এত দরদ কেন মাহফুজের জন্য? তিনি যখন মিথ্যাচার করেছেন, মানুষের চরিত্রহনন করেছেন, তখন মনে ছিল না? তাদের মতো লোকের কাছে জনগণ সত্য ও প্রমাণ-নিভর্র সংবাদ আশা করে। কিন্তু তিনি এখানে ব্যর্থ এবং জাতির কাছে অপরাধী। তার বিচার হওয়া উচিত।

    তা না হলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং বারবার জাতি বিভ্রান্ত হবে এদের মতো লোকের কাছে।

    Reply
  18. Kabir Chowdhury Tanmoy

    ধন্যবাদ তৌফিক ইমরোজ খালিদী ভাইকে। অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্লেষণটি উপস্থাপন করার জন্য।

    কিন্তু আমার আপত্তি ”সবশেষে এটুকুই বলব, আমরা মাহফুজ আনামের পাশে আছি” এই জায়গায়।

    যেখানে আপনি নিজেই মাহফুজ আনামের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিব্রত বা সাংবাদিকতার কোনো দক্ষতা, অভিজ্ঞতার বলয় নেই উল্লেখ করেছেন, সেখানে আপনি ‘ডেইলি স্টার’ এর পাশে না থেকে আবার সেই মাহফুজ আনামের পাশে থাকার অভিমত প্রকাশ করেছেন!

    একক কোনো ব্যক্তির একক অপরাধ খুব বেশি সমস্যা সৃষ্টি না করলেও ঐ ব্যক্তি যদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করে তা পুরো দেশ ও জাতির জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে।

    আর জনাব মাহফুজ আনাম ভুলে হোক কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হোক, অপরাধ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, ‘ডেইলি স্টার’এর পাঠকদের সঙ্গে, দেশের সঙ্গে…

    এক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করেনি বরং এই হত্যার সংস্কৃতি সৃষ্টি বা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে।

    আমিও ব্যক্তিগতভাবে চাই, মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ হোক কিন্তু তাঁর অপরাধের বিচার হোক। তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    Reply
  19. কমল সরকার

    আসলে আমরা কিন্তু জানি না, মাহফুজ আনাম কিংবা মতিউর রহমান ভয়ে ভীত হয়ে এটা করেছের নাকি স্বতস্ফূর্তভাবে করেছেন। আমি মনে করি সরকারি বিজ্ঞাপনই এর মূল কারণ। তখন দুটি পত্রিকা আজকের অবস্থানে ছিল না। ওই সময়টার কারণে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তখন দেশের সবচেয়ে দুর্দান্ত পত্রিকা ‘আজকের কাগজ’ বন্ধ হওয়ার সুবিধাটা নিতেই এমনটা করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

    আর একটা কথা, ক্রাইম জাতীয় কিংবা কোনো দুর্নীতির নিউজ ছাপা হতে বিভিন্ন সংস্থার বক্তব্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেমন, বর্তমানে দুদকের ক্ষেত্রে করা হচ্ছে, তারা যা দেয় তাই ছেপে দেয় পত্রিকাগুলো। আর এসবের দায়বদ্ধতা সব থেকে বেশি বার্তা সম্পাদকের।সম্পাদকেরা অতটা খেয়াল করেন না এ বিষয়গুলোতে।

    এখন যতটা সিরিয়াস মনে হচ্ছে তখন এতটা সিরিয়াস মনে হয়নি। কারণ তখন এত মামলা-হামলা হয়েছে যে এগুলো নিত্যদিনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মনে হয়েছে।

    পত্রিকাগুলো পাঠকের হাতে নিজেদের লোগো দেখতে খুব ভালোবাসে। যে যত স্পর্শকাতর নিউজ করবে তার পত্রিকা পাঠকের হাতে যাবে বেশি, এই প্রবণতা থেকেও এটা হতে পারে। কারণ দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ব্যক্তি শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। পাঠক ভালো এবং খারাপ যে ধরনের নিউজ হোক কেন, এই দুই ব্যক্তির নিউজ সবচেয়ে বেশি পড়ে। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে, সুনামধারী মানুষের দুর্নাম রটাতে মানুষ মজা পায়।

    দ্বিতীয়ত, পাঠক এ ধরনের খবর পড়তেও আগ্রহ দেখায়। আর যে প্রচার করে তাকেও মানুষ খুব বেশি মনে রাখে। পত্রিকা দুটি নিজেদের অবস্থান পাঠকের কাছে পাকাপোক্ত করতেই বিবেচনা না করে নিউজগুলো প্রচার করেছে।

    তবে মনে রাখা দরকার, একটা গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ মানুষ, অপরাধী, দুর্নীতিবাজ সবারই গণতান্ত্রিক সুবিধা ভোগ করার অধিকার আছে। বিনা অপরাধে কারও করুণ অবস্থার সৃষ্টি করাটাও মস্তবড় অপরাধ। কিন্তু কথা হল, তখন তো গণতন্ত্রই ছিল না। পত্রিকা দুটিও গণতান্ত্রিক নিয়মগুলো মাথায় নেয়নি। এই প্রবণতাগুলোও একটা কারণ হতে পারে।

    মনে হয় না যে, গোপন আঁতাত কিংবা সর্বোচ্চ ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই দুই সম্পাদকের মনে।

    Reply
  20. মোঃ হেলাল উদ্দিন

    সারা দেশে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে কেঊ বুঝে আবার কেঊ না বুঝেই হইচই করে যাচ্ছে। একবার নিজেদের দিকে তাকান। ১-১১এর সরকারের সময়কালে ডিজিএফআইএর সরবরাহ করা সংবাদ ছাপাননি বা টিভিতে প্রচার করেননি এমন কথা বুকে হাত দিয়ে কজন বলতে পারবেন?

    অথচ তখন ফকরুদ্দিন, মইনউদ্দিনদের একটু আদর একটু অনুকম্পা পাওয়ার জন্য যাদের ইঁদুর দৌড় দৌড়াতে দেখা গেছে, তারাই আজ মাহফুজ আনামের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করছেন।

    তবে কি মাহফুজ আনাম এটিএন নিউজে মুন্নি সাহার অতি আক্রমণাত্মক প্রশ্নের উত্তরে যে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল?

    কই, অন্যরা তো ভুল স্বীকার করার সাহসটুকুও দেখাতে পারল না।

    ১-১১এর সরকারের সময়কালে কারা কী করেছেন দেশের সচেতন মানুষ কিন্তু কম-বেশি তা জানেন।

    তাই বলি কী, এখন যত ঘাঁটবেন তত পুরনো গন্ধ বের হবে। খুলে যাবে অনেক তৈল মর্দনকারী অতি-গণতন্ত্রপ্রেমীদের কুৎসিত চেহারা।

    সত্য স্বীকার করার সৎসাহসের জন্য ধন্যবাদ মাহফুজ আনামকে।

    এদেশের মিডিয়ার কাজের পেছনে কোনো এজেণ্ডা নেই এ কথা বোধহয় আজ কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

    তাই বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

    Reply
  21. গাজী পলাশ

    পর্যালোচনাটি করতে চেয়েছেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেখলে ওনাকে আরও সাহসী সত্য তথ্য ও উপাত্তসহ বলা ও লেখা উচিৎ। কারণ আজকে যার ২০ বছর বয়স তাদের কাছে এখনও বিষয়গুলো পরিষ্কার নয়।

    সমাজ রাষ্ট্রে প্রতিটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক খেলা খেলে। আর দেশ ও জনগণ মগজে বিষের জ্বালা নিয়ে বেঁচে থাকে।

    Reply
  22. মনিরুজ্জামান বাদশা

    সম্পাদক সাহেবরা কি আইনের উর্ধ্বে? তিনি মামলা মোকাবিলা করুন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারও বিরুদ্ধে মামলা করার মৌলিক অধিকার সকলের রয়েছে।

    Reply
  23. Ak A Hossain

    A brilliant, analytical piece by Imran Khalidi. Usually during any major changes, most of the people of importance, journalists included, rush to carry favor form the newly powerful. In 2007-2008 period, people of Bangladesh were tired of the two ladies, and Army take over was welcomed. It is a very well known character of Bangladeshi people that they rush to ” Chatukari”; Mooen was well received; his civilian advisers were talking tough; AL was happy to see BNP gone, etc, etc. But Moeen was was nervous; his army brash over reached; not knowing that Bangladeshi people are very volatile; usually don’t like army rule. In addition to this, army was involved in huge extortion. So, Moeen U Ahmed , instead of trying to become second father of the nation, rushed to save his ass and arranged a highly rigged election and transfer power. This is in a nut-shell the story of BD 1/11. Truths are stranger than fictions!

    Reply
  24. রশিদ মামুন

    তৌফিক ইমরোজ খালিদী, আপনি একজন সম্পাদক। মাহফুজ আনাম (তিনিও সম্পাদক) যাই করুন তাকে ক্ষমা করতে হবে এই চাওয়াটা ঠিক কী? আপনার দৃষ্টিতে তিনি সুবোধ বালক। সংবাদের কিছু বোঝেন না কিন্তু গুড ম্যানেজার। এ জন্য কি দিনের পর দিন একই ধরনের কাজ করলেও ক্ষমা করে দিতে হবে?

    তিনি তো নিজে মনে করেন দেশের সবচেয়ে বড় সাংবাদিক। স্টার সম্পাদকের চেয়ারে বসছেন। কিন্তু আপনি বলছেন লোকটা আসলে ভিতরে ভিতরে অতটা জানাশোনা নন। কিন্তু পাঠক তো জানেন না।

    তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাহেব, আপনার ভাই কেমন সেটা আপনি জানেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের তো তা জানার কথা নয়। ধরুন পাঠক যদি এই বক্তব্যর পর ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা করে, মামলার বিষয় যদি হয় ‘পত্রিকা কেনা বাবদ টাকা এবং মিথ্যে সংবাদ পড়ায় সময়ের অপচয় হয়েছে বলে আমার দরুণ মানসিক অশান্তি বেড়েছে’– তাহলে তার ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেবেন, আপনারা সম্পাদকরা কি ভেবে দেখেছেন?

    আবার ধরেন, আপনি যদি খুন করে বলেন ‘বুঝিনি মইরা গেছে’ আদালত তাহলে ছেড়ে দেবে? হ্যাঁ, আপনার সরলতার জন্য সাজা কিছুটা কম হতে পারে।

    এদেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র দিনের পর দিন যা তাদের দায়িত্ব নয় তাই করে আসছে। সাংবাদিকদের বাধ্য করা হয় তাদের (মালিকপক্ষ) পছন্দ অনুযায়ী সংবাদ তৈরি করতে। তাদেরও মাহফুজ আনামের মতো কিছু করার থাকে না।

    সারা বিশ্বেই হয়তো এই সব হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি পত্রিকা আছে নিজের এজেন্ডার বাইরে খবর প্রকাশ করে না।

    ধরুন কোনো ব্যাংকে ঋণ চেয়ে পায়নি, এবার শুরু হয় ধারাবাহিক প্রতিবেদন ওই ব্যবস্থাপনা পরিচালক কত খারাপ। কত জনের কাছ থেকে ঘুষ খেয়েছেন, তার বউ তার মায়ের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে, তার কাজের মহিলার চেহারা কেমন, এই সব লেখা। আবার মন্ত্রীর কাছে কিছু চেয়ে পায়নি। তখন ওই মন্ত্রী কবার বিদেশ গেল, এপিএস বন্দরের গাড়ি ব্যবহার করে কি না ইত্যাদি।

    এসব খবর ঠিক আছে কিন্তু খবরটি কেন করা হচ্ছে তার খবর পাঠক জানেও না। এর থেকে মুক্তি মিলবে এটা ভাবাও বোকামি। কিন্তু মাহফুজ আনামের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে এসব করতে অন্যরা কিছুটা হলেও ভয় পাবে। আর তা না হলে আপনার বক্তব্য ‘‘আমরা যদি সবাই সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসএর নীতিমালা মেনে চলি, গণমাধ্যমের অনিয়মের বিষয়েও ওয়াচডগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হই, তাহলে আমাদের এই প্রিয় কর্মক্ষেত্র আরও অনেক ভালো একটি জায়গা হয়ে উঠতে পারে’’ কোনো দিন সম্ভব হবে না।

    এক একটা ঘটনার পর তৌফিক ইমরোজ খালিদী লিখে যাবেন। আমাদের সময় নষ্ট করে তা পড়তে হবে, মন্তব্য লিখতে হবে। কিন্তু যদি কিছু না-ই হয় তাহলে পড়ে আর লিখে লাভটা কী?

    Reply
  25. R. Masud

    ” মাহফুজ আনাম স্যার সত্যি কথা বলে দোষ স্বীকার করেছেন তাই উনাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে” এমন এডবোক্যেসি আসা টা সমাজের এক অংশের নৈতিকতার পছন ধরা ছাড়া আর কিছু ভাবা যায়না। তাহলেতো যে কোন দোষীই , যেমন হবি গঞ্জের ৪ শিশু হত্যা কারীরা, ৭১এর জামাতে ইসলাম, যুদ্দু অপোরাধীরা সবাই উনার মত মাফ পেতে পারেন।
    আরও একটা ব্যাপার আজগুবি বলে মনে হচ্ছে, তা হলো
    অনেকেই বলতে দেখি, ”মাহফুজ আনাম যেই দোষ করেছেন সেই দোষ আরও অনেক সম্পাদকই করেছেন, তাহলে খালী মাহফুজ আনামের বিচার চাওয়া কেন”?এই যুক্তিটা।
    দোষ যখন অনেকেই করেছেন তখন সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় আনার জন্য যেখানে স্বর উঠা উচিৎ, সেখানে সবাই যখন করেছে সুতরাং এটাকে দামাচাপা দাও তাই বুঝি সঠীক?
    তাহলেতো, সব রাজনিতিবিদরা ,সব সরকারী চাকুরি জীবিরা, যত সব কুকর্ম করেন তাদেরও তো মাফ পাওয়া উচিৎ।
    এসব হলে দুর্নীতি উঠানোর জন্য যেই সব কলরব শুনা যায় তার সবই হাম্বা রব ছাড়া আর কিছু নয় কি?
    বাংলাদেশের সব কিছুই সঠীক পথে আসবে যদি সমাজের উপর থেকে, রাজনিতিবিদদের উপর থেকে, সামরিক বাহিনীর আধিপত্য/প্রভুত্ব/দৌরত্ব কমানো যায়। যেমন এবিসির নিঊজ প্রতিবেদনে লিখা দেখলাম
    ”বাংলাদেশে এখনো সেনাবাহিনী এতটাই ক্ষমতাবান যে চাইলেই তারা শেখ হাসিনাকে পদচ্যুত করতে পারে এবং খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসাতে পারে”

    এ কেমন দেশ এই দেশই কি আমরা চেয়েছিলাম??

    Reply
  26. ্মিজানুর রহমান

    মাহফুজ আনামকে কমপক্ষে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পরে অতিরিক্ত সময় জেলে রাখলে একে হয়রানি বলা যাবে।

    আপনি অন্যকে হয়রানি করবেন, আর সাংবাদিক বলে সব মাফ পেয়ে যাবেন, এটা কী করে হয়?

    Reply
  27. M. Hifzur Rahman

    I do agree with some points of Mr. Khalidi. My point is, if Mahfuz Anam is tried for publishing those defaming news, why not others, who did the same. Politics should not dominate the media or any other things. The way the PM is reacting after many years that should not continue. She is the guardian of the country and democracy of this country. Kind of resilience has to be with her.

    Reply
    • R. Masud

      Dear Mr. H. Rahman
      Your comment should be as such ” along with Mr. Mahfuz Anam other editors should bring to justice for their wrong doing”.
      There is no option in the law that if many people do the same crime it is merciable. The wrong doing that these editors had done was a severe crime, for which our country could had turned to a military states like Pakistan , Egypt or Afganistan.

      Reply
  28. Shahriar

    আপনারা কি সে সময়ের গোল টেবিল আলোচনা যেটি ‘প্রথম আলো’ প্রকাশ করেসিল তার লিংক দিবেন? কারণ সে নিউজটি পড়লে পাঠক বুঝতে পারবেন কী ভূমিকা পালন করেছিল ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’।

    Reply
  29. সাগর কান্তি দাশগুপ্ত

    আপরি নিজে বললেন ‘ডেইলি স্টার’ কর্তৃপক্ষকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে। আবার বললেন আপনি মাহফুজ আনামের পক্ষে আছেন। ধরুন, ‘ডেইলি স্টার’ কর্তৃপক্ষ জনাব মাহফুজ আনামকে বহিস্কার করল। তখন আপনার ভূমিকা কী থাকবে? সাংবাদিক হিসেবে পাশে থাকবেন?

    যদি থাকেন তাহলে আপনার এ লেখা পরস্পরবিরোধী হয়ে যাবে না? কারণ আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি দুই দলকে ধ্বংস করার চক্রান্তে ছিলেন…

    Reply
  30. সৈয়দ আলি

    মাহফুজ আনাম বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে পারেন না, এটি সত্য। একই সঙ্গে চারদিকে হুল্লোড় তুলে যেভাবে তাকে মিডিয়া ট্রায়ালে ফেলে দেওয়া হয়েছে বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে অফিসিয়ালি সম্পর্কহীন তথ্য উপদেষ্টাসহ অন্যরা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। যদিও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটবমের প্রধান সম্পাদক যে আশঙ্কা করেছেন, ‘এটা যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিষয়ে পরিণত না হয়’– তাই সত্য হচ্ছে।

    আজ প্রধানমন্ত্রীও মাহফুজ আনামের নাম ধরে তার সমালোচনা করেছেন। অর্থাৎ মাহফুজ আনাম একটি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পরিণতির দিকে এগোচ্ছেন। মাহফুজ আনামের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্ত হওয়ায়, এই পরিণতির বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

    আজ মাহফুজ আনামকে যেমন গ্রিল করা হচ্ছে, এর বিপরীতে তথাকথিত ১/১১ এর মূল কুশীলব মৈনুদ্দিন-ফকরুদ্দিন ও তৎকালে সবচেয়ে উৎসাহী মেজর জেনারেল মাসুদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন? এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও মাসুদের রাষ্ট্রদুত পদে দুবার এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছে। আমরা কি প্রশ্ন তুলতে পারি, কোন কার্যকারণে একই যাত্রায় পৃথক ফল হবে?

    যে সরকারকে ‘আমাদের আন্দোলনের ফসল’ অভিহিত করা হয়েছিল, কিংবা ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে ১/১১ এর কুশীলবদের বিচার হবে না’ বলা হয়েছিল, সেই সরকারের আদেশ আপন স্বার্থে পালনের দায়ে কেন মাহফুজ আনামকে আক্রমণ করা হবে?

    Reply
    • R. Masud

      সৈয়দ আলী সাহেবের মাথা খানা একদম গেছে।
      আপনার লিখা নিছের বাক্য থেকেই, মাহফুজ আনাম কে এক কথায় রাস্ট্রদ্রোহী বলা যায়।
      ঃঃ — মাহফুজ আনামের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্ত হওয়ায়, এই পরিণতির বাস্তবায়ন সহজ হবে না—–
      এই কথা সত্য হলে তার অর্থ কি সেই টুকুন ও বুঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন?
      একজন এডিটর কিভাবে বিদেশের কারনে এত শক্তিশালী হতে পারেন, যাকে তার নিজের দেশের সরকার কিছু করার খমতা রাখেনা ????
      পাগল কোথাকার—!!!!

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        গায়ে লাগলো দাদা? আবার জিজ্ঞেস করি, মাসুদ চৌধুরীকে এক্সটেনশন কি মাহফুজ আনাম দিয়েছেন? গাল ফুলিয়ে কে বলেছিলো, ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল’?। ইউনুসের পেছনে লেগে যেমন ইউনুসকে কিছু করতে পারেনি, সে ইউনুসের ‘ফুলের মত চরিত্রের’কারণে নয়, পেছনে শক্ত খুঁটির জোরে।
        সম্পাদক হিসেবে কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও মাহফুজ আনাম হঠাৎ ডেইলি স্টারের সম্পাদক বনে গেলেন, শুধু তার কন্যা ইংরেজি ভাষায় উপন্যাস লিখে বলে? আপনার মগজ থাকলে আপনি তা বুঝতে পারতেন। সবার কমেন্টে জবাব দিয়ে বেড়ালেই জ্ঞানের পরিচয় দেয়া হয়না।

      • সৈয়দ আলি

        R. Masud, লোকজনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করাতো আপনাদের খাসলৎ। এটি আমরা জানি যে যুক্তি যেখানে অনুপস্থিত, কুশ্রাব্য বাক্যই তখন একমাত্র পাথেয়। যেমনটি আপনাদের নেত্রী অহরহ করেন। কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো নাগরিকের নাম ধরে প্রকাশ্যে কটু-কাটব্য করে বলতে পারবেন?
        আপনার জন্য আমার পরামর্শ, আগে শুদ্ধ বানানে বাংলা লিখতে শিখুন তারপরে শিক্ষিত মানুষের ফোরামে এসে কথা বলুন।

    • M Zaman

      মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন কিংবা জেনারেল মাসুদের টিকিটিও সরকার ধরার ক্ষমতা রাখেনা। আর সেজন্যই মাহফুজ আনাম। হ্যাঁ, ১/১১ সফল হলে হয়ত মাহফুজ আনাম আমাদের সামনে কিভাবে হাজির হতেন সেটা কল্পনা করা যায়না কিন্তু ১/১১’র সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় এসে মূল কুশীলবদের পাশ কাটিয়ে একজন ধানকাটা কর্মীকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করা সত্যিই বেমানান।
      যদি পারেন মাহফুজ আনামের সাথে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনকেউ ট্রাই করুন………… বুঝা যাবে আপনারা কতটা দেশপ্রেমিক!!

      Reply
  31. habib

    মাহফুজ আনাম সাহেব ভুল স্বীকার করেছেন ভেবেছেন? এটা হল ড. ইউনূসের আরেকটা চাল।

    DGFI এর দেওয়া নিউজ ছেপেছেন মাহফুজ আনাম, তাহলে কি DGFI খালেদা জিয়ার নামে কোনো তথ্য লিখতে বলেনি? গ্রেফতার তো তাকেও করা হয়েছিল।

    মাহফুজ আনাম জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করল, কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, কেন?

    তার মানে কি এই নয় যে, ১/১১ এ খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ছিল শুধু আই-ওয়াশ? ব্যালেন্সের রাজনীতি। আসল টার্গেট ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিন, আওয়ামী লীগ???

    এত বছর পরে এসে বলছেন, ‘ওহ, ভুল হয়ে গেছে!’ কিছু লোক বলছেন, ‘ব্যস, হয়ে গেছে’।

    জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনা অপরাধে বিনা বিচারে ১১ টা মাস আটকে রেখে সারা দুনিয়ার সামনে চোরের অপবাদ দিল তার কি কোনো বিচার হবে না? জননেত্রী শেখ হাসিনা কি এই দেশে বিচার পাবেন না?

    DGFI এর দেওয়া নিউজ ছেপেছেন মাহফুজ আনাম, এটা আরেকটা মিথ্যা কথা। উনি নিজে এই সব বাজে কথা বানিয়ে ছেপেছেন আর উনার সঙ্গে ছিলেন ‘প্রথম আলো’এর মতেউর রহমান। ঐ সময় DGFI এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন এবং বারীকে উল্টা এই সব ফাউল তথ্য দিয়েছেন এই দুজন। সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন, ড. কামাল হোসেন ও ড. ইউনূস। এরা মিথ্যাবাদী, ভণ্ড, এরা নিজ মাতৃভূমির সঙ্গে চোগলখুরি করেছেন। ইতিহাস একদিন এদের মীরজাফরের কাতারে দাঁড় করাবে। আমি দাঁড় করাব।

    একদিকে মাহফুজ আনামের ভুল স্বীকার অন্যদিকে কুলদীপ নায়ারের ইউনূসকে সরকারের বিশেষ দুত করার চাপ-রিকোয়েস্ট কি আসলে ভুল স্বীকার নাকি নতুন চাল??

    ভুল স্বীকার করিয়ে বাঙালিকে বুঝ দেওয়া যেন বাঙালি চুপ থাকে, আর সেই ফাঁকে উনার আক্রমণটা সেরে ফেলবেন-– এই হল ভুল স্বীকারের প্রথম প্যাচ। আরও কী বাকি আছে আল্লাহই ভালো জানেন।

    ১/২ টা পত্রিকার রিপোর্ট এবং শেখ হাসিনা সম্পর্কে মিথ্যাচার কিন্তু মাহফুজ আনামের পুরো অপরাধ নয়। আর সেই জন্যে কিন্তু এত কথা বলা হয়নি। তিনি ১/১১ কে সমর্থন দিয়ে এই দেশের গণতন্ত্রকে এবং আওয়ামী লীগকে হত্যার ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল।

    শেখ হাসিনাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারে সহযোগিতা এবং দীর্ঘ ৯ মাস বিনা বিচারে আটকে রাখার ব্যাপারে এমন কোনো সহযোগিতা নেই ইউনূসের ইশারায় মাহফুজ আনাম করেননি। এটা কি সাংবাদিকতা নাকি সাংবাদিকতার ভুল? এটা পরিস্কার অন্যায়, যা তারা করেছে।

    তখনকার প্রেশারের কথা বলছে এখন, এখন আমরা প্রেশার দিচ্ছি তার কী হবে? আসলে এই প্রেশার-ট্রেশার এসব শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। ডাহা মিথ্যা কথা একটা পত্রিকার রিপোর্ট তো স্যাম্পল মাত্র। আওয়ামী লীগকে হত্যার পুরো নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। পরাজিত হয়েছে।
    এক পাতা মিথ্যা কথা লেখার জন্যে তাকে সাংবাদিকতা ছাড়তে বলা হয়নি।

    ১/১১ ছিল ইউনূসের আওয়ামী লীগকে হত্যার আক্রমণ। মাহফুজ আনাম লোভ-ক্ষমতা দখল এবং লুটপাটের জন্যেই ১/১১এর সঙ্গে ছিলেন এবং এখনও এই ভুল স্বীকার নাটক ও লিগেসি অব বাটপাড়ির অংশ মাত্র।

    তার পিতা আবুল মনসুর একজন চোর ছিলেন যিনি এই দেশে চুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মাহফুজ আনামও তার ব্যতিক্রম নন।

    Reply
  32. Golam Mostofa

    প্রিয় খালিদী ইমরোজ,

    চোখের বদলে চোখ নয়, এই নীতি রাজনীতিবিদরা অনুসরণ করলেও ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’ গংএর লোকজনেরা মনে রাখবে না সেই নিশ্চয়তা কোথায়? আমরা, সচেতন পাঠকরা এই দুই পত্রিকার রিপোর্টিং খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করেছি এবং সচেতনভাবেই জানি এদের এজেন্ডা এবং শেষ লক্ষ্য কী।

    এই অসুর গ্রুপের কাছে থেকে দেশ রক্ষা করা এখন অনেক কঠিন! কিছুটা আওয়ামী লীগ ও এই গংদের মাঝে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছে।

    Reply
    • habib

      আপনি ঠিক বলেছেন। আপনি ঐ লোককে ক্ষমা করতে পারেন না যিনি ক্ষমা করার সঙ্গে সঙ্গে একই অপরাধ আবার করবে।

      Reply
  33. shondhani

    মিডিয়াকে আশ্রয় বা ব্যবহার করে বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গেলে তা খুব বেশি দিন লুকানো যায় না। সম্পাদক বা মিডিয়া কর্ণধার যে কেউ রাজনীতির কোনো না কোনো ধারায় বিশ্বাসী এবং এটাই স্বাভাবিক। কারণ তাদের রাজনীতি বা ভোটাধিকার কোনো আইনে কেড়ে নেয়নি। এই পথে চলতে গিয়ে তারা কোনো না কোনো মতামত জোরালোভাবে তুলে ধরেও জনগণের মতামত নামে চালিয়ে দেন যা প্রকারান্তরে নিজেদেরই এজেন্ডা।

    গণতন্ত্রের ধারায় যে কোনো মিডিয়া তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিতে পারে ও সপক্ষে প্রচার চালাতে পারে। কিন্তু রাজনীতির বাইরে গিয়ে অরাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সরকার পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য রাজনীতিবিদদের সন্মান হরণ, বিশেষ গোষ্ঠীকে ইন্ধন যোগানো এবং নিজেদের “খায়েশ” মেটানো কোনোভাবেই সাংবাদিকতার নৈতিকতার মাঝে পড়ে না। যে পেশাতে মানুষ নৈতিকতা দেখাতে পারে না, সে পেশার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ থাকে না। তখনই তারা তাদের নিজেদের বিশ্বাসমতে স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে।

    মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম গংরা নিজেদের মনে করতেন তারা মিডিয়া মোগল, তাদের সাম্রাজ্যে কখনও চিড় ধরবে না। কিন্তু কী আশ্চর্য্য! একজন অপেক্ষাকৃত তরুণের প্রশ্নবাণে নিজেরাই নিজেদের মিথ্যার ভিত্তি নড়িয়ে দিলেন।

    ধন্যবাদ জনাব তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাহেবকে, অন্তত প্রচলিত প্রবাদ তিনি মিত্থ্যা প্রমাণ করেছেন, যেমন,”দইওয়ালা নিজের দই কখনও খারাপ বলে না”।

    Reply
  34. আশরাফুল ইসলাম

    পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে জনাব তৌফিক ইমরোজ খালিদী এই অভিপ্রায় তুলে ধরেছেন-অন্তত আমি তাই মনে করি

    Reply
  35. Md. Maniruzzaman

    খালিদী সাহেব,

    মাহফুজ অানাম ডিজিএফআইএর হয়ে নীতিবিবর্জিত কাজ করেছেন। তেমনি অাপনিও নীতিহীন লোকটির জন্য ওকালতি করে নিজের পেশা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন কেন?

    Reply
  36. লতিফুল কবির

    সেই সময়ের সম্পাদকগণ– যাদের অন্যতম মাহফুজ আনাম এবং মতিউর রহমান– যে অপরাধ করেছেন, তার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে বাসের ভেতরে আটকে রেখে কোনো নারীকে গণধর্ষণ করার বিষয়টির। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে আলোচিত সম্পাদকগণ বলাৎকার করেছেন। তাদের একজনও এ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেননি, সেটাই আশ্চর্য।

    হতে পারে, তাদের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে এবং তারা আশাবাদী তাদের ষড়যন্ত্রের সফলতা বিষয়ে।

    আমরা আপনার মতো মানুষকে মাহফুজ আনামের পাশে দেখতে চাই না।

    Reply
  37. রামারাও সিদ্ধা

    ধন্যবাদ তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে তাঁর মতামত তুলে ধরার জন্য।

    খুবই চমৎকার করে শুরু করে বিশ্লেষণটাও চমৎকার করেছেন। কিন্ত বিপত্তিটা হল উপসংহার নিয়ে।

    সব কিছুতে মাহফুজ আনামকে অপরাধী হিসেবে চিহৃিত করার মতো উপকরণ ও যুক্তি দিয়ে শেষে এসে ক্ষমা কেন করে দিতে বললেন, সেটাই বোধগম্য হল না। কেউ অপরাধী হলে তার যুক্তিসঙ্গত শাস্তিটা অবশ্যই কাম্য ও প্রাপ্য।

    তাহলে এ ক্ষেত্রে কি মাহফুজ আনাম আলাদা কেউ? কেন তাকে ক্ষমা করে দিতে হবে?

    নাকি কাক কাকের মাংস না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে বসে আছে। আর তাই ক্ষমার বিষয় সামনে আসছে?

    Reply
  38. MD SHAHIDUL ISLAM

    খুবই নিন্মমানের পর্যালোচনা আর নিজের গল্প! যে রাজনীতিবিদরা নিজেরা দায় স্বীকার করেছেন তাদের কি মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে বলার কোনো নীতিগত কোন জায়গা আছে?

    বিডিনিউজ যদি মনে করে ১/১১এর মামলাগুলো সাজানো, তবে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের মামলাগুলো নিয়ে সরকার যে এখনও খেলছে, তা নিয়ে লেখা কি সাংবাদিকতার দায়িত্বে পড়ে না???

    নাকি শুধু জয় সাহেবের মায়ের ব্যাপারটাই মুখ্য???

    Reply
    • Golam Mostofa

      সরকার খেলছে বললে আসলে আদালত অবমাননা হয়। মামলা তো আওমী লীগ সরকার করেনিই। তাই তুলে নেবার দায়িত্বও সরকারের নয়। আর আওয়ামী লীগের বিএনপিকে ধরাশায়ী করবার জন্য পেট্টল বোমা মামলাই যথেষ্ট।

      Reply
    • R. Masud

      জনাব SHAHIDUL,

      রাজনীতিবিদদের ধরে নিয়ে টর্চার করে কথা আদায় করা আর মাহফুজ আনামের ভয় একই পাল্লার? আজগুবি মানুষ বটে মশাই। সামরিক বাহিনীর ভয়ে লিখে থাকলে ‘নিউ এইজ’এর সম্পাদক না লিখে থাকতে পারলেন কীভাবে?

      তাছাড়া ‘ডেইলি স্টার’ আর ‘প্রথম আলো’ যেভাবে সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তার গুনগুন করে জপ করতেন অমন কেউ করেননি। হ্যাঁ, এটাও ঠিক, এখনও যেমন ৫০টা সরকারবিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে হুট করে একটা গুনগান করেন, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উল্টোটা করেছিলেন।

      এসব হল সাধু সাজার দুষ্ট বুদ্ধি—

      Reply
    • naser

      Mr Shahidul Islam, if someone does that, Prime Minister Hasina will tear his beard and mustache. Tawfique Khalidi obviously knows how to handle it. In fact the article is not in favor of Mahfuz Anam, who thinks that he is the only person, who can’t make any mistake. Now he is so restive that he even can’t think how to deal with the situation.

      Reply
  39. Rownok

    একবার বললেন Daily Star পেপারটি কে বাঁচাতে হবে, আবার শেষে গিয়ে লিখলেন, “আমরা মাহফুজ আনামের পাশে আছি”– তার মানে কী??? বুঝলাম যে পেপারটি কোনো দোষ করেনি। কিন্তু মাহফুজ আনাম??

    খুব কি তাড়াহুড়ো করে এই লেখাটি লিখেছেন?? কোনো কারণ?

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      দুর্ভাগ্যজনকভাবে সব সম্পাদক মাহফুজ আনামের পক্ষে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। সকলেই বলে নিচ্ছেন, ‘‘হ্যাঁ, মাহফুজ আনাম ভীরুতা ও অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন।’’

      (স্মরণে রাখা দরকার, ‘নিউ এজ’ সম্পাদক নুরুল কবীর ডিজিএফআইয়ের পরিবেশিত কোনো সংবাদই ছাপাননি। ইতিহাস নুরুল কবীরকে মনে রাখবে, মাহফুজ আনাম বা মতিউর রহমানকে নয়)।

      তারপরেই সম্পাদকেরা বলছেন, ‘না না, মাহফুজ আনামকে ওভাবে আক্রমণ করা ঠিক হচ্ছে না।’

      কোন রসুনের গোঁড়া কোথায়?

      Reply
    • কবীর

      লেখক এখানে মাহফুজ আনামের ‘ভুলের’ শাস্তির বিরোধিতা করেছেন কি? যেভাবে তাকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে- উনি তার বিরোধিতা করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। সেই অর্থে পাশে থাকার কথা বলেছেন।

      এক জায়গায় তৌফিক ইমরোজ খালিদী রাজনীতিবিদদের ক্ষমাশীল হতে বলেছেন। উনি কিন্তু বিচারকদের তা বলেননি। ডেইলি স্টার সম্পাদক দোষী হয়ে থাকলে আদালতে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার করা যায়।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—