Feature Img

Farid Ahmedসামান্য সময়ের ব্যবধানে দুদুটো আক্রমণ শাণিয়েছে বাংলাদেশের ইসলামি মৌলবাদীরা। প্রথম আক্রমণটা ছিল ধানমণ্ডির শুদ্ধস্বর অফিসে। তিন জনের একটা ঘাতক দল অফিসে ঢুকে শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়েছে। টুটুলের সঙ্গে ব্লগার ও লেখক রণদীপম বসু এবং কবি তারেক রহিম ছিলেন। ঘাতক দল তাদেরকেও রেহাই দেয়নি। এদের মধ্যে টুটুল ও তারেক রহিমের আঘাত গুরুতর। রণদীপম বসু অন্যদের তুলনায় একটু কম আহত হয়েছেন।

তবু মৃত্যু এদের কাউকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে কিনা, এখনও সেটা নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয় আঘাতে কিন্তু মৃত্যু এসেছে নিশ্চিতভাবেই। শাহবাগের আজিজ মার্কেটে অবস্থিত জাগৃতি প্রকাশনীর অফিসে ঢুকে এর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপনকে জবাই করে হত্যা করেছে ঘাতক দল। সামান্য কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানের এই দুই আক্রমণে একই ঘাতক দল ব্যবহৃত হয়েছে নাকি আলাদা আলাদা দল কাজ করেছে, সেটা জানা যায়নি এখন পর্যন্ত। তবে দুটো হামলাই যে একই সুতোয় বাঁধা, সেটা বুঝতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না আমাদের।

আহমেদুর রশীদ টুটুল মুক্তমনার স্রষ্টা অভিজিৎ রায়ের একাধিক বইয়ের প্রকাশক। এর মধ্যে রয়েছে ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ এবং ‘সমকামিতা’। অন্যদিকে, দীপনের জাগৃতি প্রকাশ করেছে অভিজিৎ রায়ের আলোচিত বই, ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’।

সেক্যুলার ব্লগার, লেখক বা প্রকাশকদের কুপিয়ে হত্যা নতুন কিছু নয় এখন আর। এই বছরেই মাত্র আট মাসের মধ্যে পাঁচ জনকে প্রায় একইভাবে হত্যা করা হল। এ বছর এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের প্রথম শিকার হন মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়। ফেব্রুয়ারি মাসের ছাব্বিশ তারিখে বই মেলা থেকে বেরিয়ে টিএসসি মোড়ে আসতেই চাপাতি হাতের ঘাতক দল অভিজিৎ রায় এবং তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমেদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই আক্রমণে অভিজিৎ নিহত হন। বন্যা হন গুরুতর আহত। হামলাকারীদের চাপাতির আঘাতে তিনি তাঁর বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলটি হারান। তবে মাথায়, ঘাড়ে ও কপালে মারাত্মক কোপের আঘাত নিয়েও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

অভিজিৎ হত্যার মাত্র এক মাসের মাথায়, দিনের বেলায়, প্রকাশ্য রাজপথে চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হয় ওয়াশিকুর রহমান বাবুর উপর। এতে অংশ নেয় হাটহাজারি মাদ্রাসার দুতিন ছাত্র। কোপের পর কোপ দিয়ে ওই স্থানেই তাঁকে মেরে ফেলা হয়। তৃতীয় লিঙ্গের কজন সাহসী মানুষ ধাওয়া করে খুনিদের দুজনকে ধরতে সক্ষম হয় এবং তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

মে মাসের বার তারিখে ঘাতকের চাপাতি থেকে রক্ষা পেতে জানবাজি রেখে ছুটতে হয়েছে অনন্ত বিজয় দাশকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। জলভরা দীঘি পথ আটকে দাঁড়ায় তাঁর। ঘাতকরা দীঘির পাড়ে চাপাতির অসংখ্য কোপে তাঁকে রক্তাক্ত করে চলে যায় নির্বিঘ্নে।

এর মাত্র তিন মাসের মাথায় নীলয় নীলকে তাঁর বাসায় ঢুকে চাপাতি দিয়ে দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে খুনিরা। নিলয়ের স্ত্রীকে বারান্দায় এবং শ্যালিকাকে বাথরুমে আটকে রেখেছিল ঘাতকরা হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময়টাতে।

বাংলাদেশ এখন পরিণত হয়েছে নৃশংস এক বধ্যভূমিতে। প্রতিনিয়ত রক্তের লাল স্রোত বয়ে চলেছে এর গা বেয়ে; খুনের নেশায় পাওয়ায় উন্মত্ত চাপাতির আঘাতে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে কোমল সব দেহ, অসাধারণ সব মেধা, অনন্য সব মানুষ। একদল নিশিতে পাওয়া নরপিশাচ ধর্মের নামে চাপাতির হিংস্রতা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে আমাদের সব কিছু। দুর্বিষহ এবং পচা দুর্গন্ধময় এক দুরাশয় সময় ধারণ করে চলেছি আমরা; চলেছি অন্তহীন এক আঁধার রাজ্যের অন্তিম সীমানার দিকে।

লেখালেখির ‘অপরাধে’ একের পর এক বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটছে, রক্তপাত হচ্ছে অনাবশ্যক এবং অবাঞ্চিতভাবে। কিন্তু এর কোনোটারই সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না; কাউকে ধরা হচ্ছে না সেভাবে; কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না গ্রহণযোগ্যভাবে। এটাই হত্যাকারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে চলেছে অবিরাম। আমরা দেখেছি, হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার হয়নি। রাজীব হায়দারের হত্যার হয়নি সুরাহা। কুলকিনারা করা যায়নি অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু কিংবা অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের।

বিচার না হবার যে ইতিহাস গড়ে উঠছে বাংলাদেশে, সেটা এবং সে সঙ্গে সরকারের এসব হত্যাকাণ্ডে গুরুত্ব না দেবার অদ্ভুত ও বিপদজনক যে প্রবণতা, এই দুইয়ে মিলে, একদিন আমরা জাতি হিসেবে বিকলাঙ্গ হয়ে উঠব। এটা বুঝতে পারা আমাদের জন্য জরুরি যে, অসংখ্য মৌলবাদী মানসিকতার জঙ্গি দেশের কোনো কাজে আসবে না। এরা সমাজ, দেশ, জাতির জন্য বরং বিশাল এক বোঝা, সভ্যতার জন্য ক্যান্সার-স্বরূপ।

কিন্তু যে মানুষদের এরা মুরগি কাটার মতো করে কেটে চলেছে নিত্য দিন, তাঁরা সবাই একেক জন প্রাজ্ঞ, প্রতিভাবান ও অসীম সম্ভাবনাময় মানুষ। অকাল ও অপঘাত মৃত্যুর কারণে শুধুমাত্র এরাই যে হারিয়ে যাবেন পৃথিবী থেকে তা নয়, মুক্তচিন্তার আলোকিত জায়গাটাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আসতেই সাহস করবে না। এঁদের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোর ঝর্ণাধারার শেষ স্রোতটা বন্ধ হয়ে যাবে; বর্ণ ও গন্ধ হারাবে ফুল; সবুজ বিদায় নেবে গাছ থেকে সকরুণ নেত্রে; অন্তহীন এক অন্ধকারের মাঝে পতিত হবে দেশ ও জাতি।

সে অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে আমাদের হয়তো অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে কয়েক যুগ, কয়েক শতাব্দী কিংবা কয়েক সহস্র বছর। মৌলবাদী জঙ্গিরা ঠিক এই কাজটাই করতে চাইছে আমাদের সমাজ নিয়ে। আলো থেকে বহু দূরে সরিয়ে নিয়ে, পিছন দিকে হাঁটিয়ে, নিয়ে যেতে চাইছে তমসাপূর্ণ এক সময়ে, আলোহীন এক জগতে। যেখানে নেই কোনো জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান-ভাবনা, যুক্তি-বুদ্ধির পরিচর্চা। এক দল ধর্মান্ধ মাতাল শুধু রক্তপায়ী ড্রাকুলার মতো অশ্লীল উল্লাস করবে সে আদিম অন্ধকারে।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর বলতে দ্বিধা নেই যে, বাংলাদেশে সুবুদ্ধিসম্পন্ন মুক্তচিন্তার লেখকদের এখন জান হাতে রেখে লেখালেখি করতে হচ্ছে। কারও নিরাপত্তা নেই। নিজস্ব মতপ্রকাশে সকলেই এখন সংকুচিত, সংশয়াপন্ন এবং দ্বিধাগ্রস্ত। কেউ কেউ প্রবলভাবে আতঙ্কিতও। তেমনটা হওয়াই স্বাভাবিক– না হওয়াটা মূর্খতার লক্ষণ। কখন কার ঘাড়ে চাপাতির ধারালো কোপ এসে পড়বে, কেউ যে তার হদিস জানে না। কেউ জানে না কখন কার জন্য মৃত্যুপরোয়ানা হাতে নিয়ে হাজির হচ্ছে কালো পোশাকের ইসলামি জঙ্গি-সেনা।

অদ্ভুত এক আঁধার ছুঁয়ে গিয়েছে আজ বাংলাদেশকে। এর চারিদিকে এখন শুধু থিক থিক অন্ধকার। এর মাঝে কিলবিল করছে অসংখ্য প্রতিক্রিয়াশীল পুঁতিগন্ধময় পোকামাকড়। অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণা এমনই সর্বব্যাপী যে, বিপরীত কোনো ভাবনা– বিশেষ করে ধর্ম, আরও স্পষ্ট করে বললে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে সামান্যতম আলোচনাও এক শ্রেণির ইসলামি মৌলবাদী সহ্য করতে পারছে না কিছুতেই। প্রবলভাবে অসহিষ্ণু ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে তারা। আজ একদল রক্তপিপাসু ধর্মান্ধ মোল্লা ছড়ি ঘোরাচ্ছে আমাদের সবার মাথার ওপর।

সমাজও হয়ে উঠছে প্রবলভাবে ধর্মাচ্ছন্ন। পত্রিকায় নির্দোষ একটা কৌতুকের জন্যও তরুণ কার্টুনিস্টকে জীবন নিয়ে পালাতে হয়েছে দেশ ছেড়ে। ফেসবুকের সামান্য কো্নো একটা পোস্টে লাইক দেবার অপরাধে সরকারের বীর পুঙ্গব বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায় অল্পবয়েসী তরুণদের। সামান্য দুলাইনের স্ট্যাটাসের জন্য বন্দি হতে হয় সাতান্ন ধারায়। দিকে দিকে শুধু ধর্মানুভূতি আহত হবার জিগির উঠেছে যেন। মানুষের আরও কত কত ধরনের অনুভূতি রয়েছে, সেগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হয় না। কিন্তু এই অনুভূতি এমনই নাজুক, ভঙ্গুর ও স্পর্শকাতর যে, সেখানে আঘাত পাচ্ছে তারা মুহূর্মুহূ।

প্রত্যেক যুগে, সমাজে মুক্তচিন্তা যাঁরা করেছেন, মুক্তবুদ্ধি যাঁরা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, সমাজকে হাত ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছেন সামনের দিকে, গাঢ় অন্ধকার দূর করতে চেয়েছেন গভীর ভালোবেসে দীপ জ্বেলে, প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থপর গোষ্ঠী তাদের সহ্য করতে পারেনি। তারা ভয়ানক আক্রোশে ঘৃণার বিষবাষ্প নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আলোর মশাল নিভিয়ে দিতে, আলোময় আনন্দযাত্রা থামাতে। গাঢ় অন্ধকার এদের অনেক পছন্দ– অনেক ভালোবাসার ও ভালোলাগার। মুক্ত বাতাসের চেয়ে দমবন্ধ গুমোট পরিবেশই এদের বেশি কাম্য।

তাদের এই আক্রোশে মুক্তচিন্তকদের শরীর থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়েছে রুক্ষ কঠিন মাটিতে। বন্ধ্যা মাটি সে রক্তে হয়ে উঠেছে উর্বর, সুজলা-সুফলা। তাতে ঘন সবুজ শস্য ফলেছে, প্রজাপতি উড়েছে, এসেছে পাখির গান। মুক্তচিন্তকদের ঝরে পড়া রক্ত থেকে বের হয়ে এসেছেন আরও অসংখ্য মুক্তচিন্তার মানুষ।

পরম প্রহসনের এক বিচারের মাধ্যমে সক্রেটিসকে হেমলক পান করে মৃত্যুবরণ করে নিতে হয়েছিল প্রাচীন গ্রীসে। হাইপেশিয়াকে আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় হায়েনার হিংস্রতায় ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে। ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে জ্বলন্ত আগুনে। গ্যালিলিওকে বন্দি করে রাখা হয়েছে অন্ধকার কারাকক্ষে। অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে। হুমায়ূন আজাদকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কোপের পর কোপে।

তারপরও মুক্তবুদ্ধির চর্চা, প্রগতিশীল আন্দোলন থামানো যায়নি কখনও। যাবেও না।

মানব সমাজের নিয়মবদ্ধ নিয়ম এমনই যে, এটি সামনের দিকেই শুধু এগোবে। পিছন থেকে একে যতই টেনে ধরে রাখার চেষ্টা করা হোক না কেন, এর অগ্রযাত্রা বন্ধ করা যাবে না। রাশ টেনে ধরে এর সম্মুখ সাময়িকভাবে হয়তো ব্যাহত করা সম্ভব, সম্ভব স্বল্প সময়ের জন্য পিছনের দিকেও কিছুটা নিয়ে যাওয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরিভ্রমণে এর অগ্রযাত্রা অনিবার্য। নিশ্চিত পদক্ষেপে এটি এগিয়ে যায় পূর্ব দিগন্তের দিকে।

প্রতিক্রিয়াশীলরা এটা খুব ভালো করেই জানে। তাই সব সময় তারা থাকে মরিয়া। যতখানি সম্ভব অঙ্গহানি ঘটিয়ে থামিয়ে দেবার চেষ্টা করে সমাজের চাকা। প্রতিক্রিয়াশীল আর প্রগতিশীলের এই দ্বন্দ্ব তাই সব সময় সুতীব্র, সর্বব্যাপী, সর্বনাশা, রক্তক্ষয়ী। তবে এ রক্তক্ষয় হয় শুধুমাত্র একটা তরফ থেকেই। প্রগতিশীলদের দেহ থেকেই রক্ত ঝরে চুইয়ে চুইয়ে– কখনও-বা ফিনকি দিয়ে, কখনও-বা লাভার স্রোতের মতো তীব্র বেগে। প্রতিক্রিয়াশীলদের মতো খুন, জখম, মারামারি করার মতো মানসিকতা, ইচ্ছা, আগ্রহ, এর কোনোটা প্রগতিশীলদের নেই। অস্ত্রের চেয়ে কলমের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাস তাদের। যুক্তির লড়াইয়ে সামিল হতেই বেশি আগ্রহ তাদের। প্রত্যেক অনাহুত লড়াইয়ে তাই একতরফাভাবে রক্ত দিতে হয় তাদেরকেই।

অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাশ, রাজীব হায়দার থাবা বাবা, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় নীল, ফয়সাল আরেফিন দীপনদের মতো তরুণ-যুবকরা যে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে আসে আমাদের জন্য, আমাদের সমাজের জন্য, এই ধরিত্রীর জন্য, সেটা পরম মমতা ও গভীর ভালোবাসায় কাজে লাগানো উচিত আমাদের। তাদেরকে এমন একটা নির্ভাবনাময় পরিবেশ ও নিশ্চিন্ত একটা বাগিচা দেওয়া দরকার যেখানে তারা ফাগুনের ফুল হয়ে ফুটতে পারবে।

তার বদলে যদি এদেরকে আমরা কিছু মূর্খ ও ধর্মান্ধের হাতে নিশ্চিহ্ন করে দেবার সুযোগ করে দিই, তবে অকালেই আমরা হারাব তাদের সুগন্ধ। একদিন আফসোস আর আক্ষেপ ছাড়া আমাদের কিছু করার থাকবে না।

পরিস্থিতি এ রকম পর্যায়ে চলে গিয়েছে। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি আমরা এখন। যে কোনো মুহূর্তেই ঘটবে চূড়ান্ত পতন। আমাদের হাতে সময় খুব অল্প। সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের সবাইকে এখন একাট্টা হয়ে থামাতে হবে এ পতন। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে আন্তরিকতা নিয়ে। সব কিছু ধসে যাবার পর আফসোসে পোড়ার চেয়ে, আসুন সবাই মিলে শেষ চেষ্টাটা করে দেখি।

দেশ বাঁচুক, দেশের মানুষ বাঁচুক, অনাগত সময়ের আমাদের যে সন্তানরা জন্ম নেবে এ দেশে, তারা একটা আলো-ঝলমল, অপার সুগন্ধময় স্বদেশ পাক।

ফরিদ আহমেদ: মডারেটর, ‘মুক্তমনা’।

১৪ Responses -- “আবারও রক্তক্ষয় অতঃপর নীরবতা”

  1. জাহেদ আহমদ

    যুক্তি আর বিজ্ঞানের আলোকে সমাজ-ধর্ম-সংস্কারকে বিশ্লেষণ করার চর্চা সভ্য সমাজের মানুষ আগে করেছে, এখন ও করছে, এবং ভবিষ্যতে ও করবে। এ জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিতে হয় না কোন খৃস্টান দেশে, কোন বৌদ্ধ প্রধান দেশে, এমন কি কদাচিৎ হিন্দু প্রধান কোন দেশে। বলুন তো, মুসলিম প্রধান দেশে কেন মানুষ মানুষকে মেরে ফেরে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার কারণে?

    আমার চিন্তা মুক্তভাবে প্রকাশ করলে আপনার ভাল না লাগতে পারে। সেটা অন্যায় নয়। মানুষ অনুভূতিহীন প্রাণী নয়, তার অনুভূতি আছে এবং সে অনুভূতিতে আঘাত লাগতে ও পারে। সে জন্য বিতর্ক করুন, আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন, কিংবা ইগ্নোর করুন। কিন্তু একেবারে কতল করে ফেলবেন? সেটা কোন এ যুগে কেবল মুসলমানরা করে থাকে? ধর্মকে বেশি ভালবাসে বিধায়, নাকি সভ্যতার ছোঁয়া এখন ও বেশিরভাগের গায়ে লাগেনি? এমন অসভ্যতা একসময় খৃস্টানরা করেছে শত শত বছর ধরে কিন্তু সেসব তো কয়েক শ’ বছর আগের কথা।

    ইসলাম ‘শান্তির ধর্ম’ করে এত জোরে চিৎকার করছেন, হাদিস আর কোরানের রেফারেন্স দিচ্ছেন, কিন্তু কেউ দ্বিমত প্রকাশ করলে জানে মেরে ফেলছেন, এতে কি প্রমাণিত হচ্ছে?

    আমরা ইসলাম ধর্ম শিখতে গিয়ে জেনেছি, ক্বোরানের এর হেফাজতকারী যদি স্বয়ং ‘আল্লাহ’। যারা আল্লাহর দায়িত্ব নিজ হাতে নিচ্ছেন, তাঁরা কি আল্লাতে আর বিশ্বাস করতে পারছে না?

    Reply
    • সাদেক আহমেদ

      আজকের (৪নভেম্বর২০১৫) ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় ‘বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন’ এর বিজ্ঞাপনটি পড়ুন। ওতে লেখা আছে এভাবে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা ইসলাম বিরোধী। নাস্তিকতাবাদ ঠেকানোর জন্য দরকার কলমের লড়াই, হত্যা নয়।

      Reply
  2. ryan

    it will not never be changed until the state will come forward to provide the freedom of free thinking,until state stop political agenda with religion and religious people.why people should care about the heaven after death if they would make the earth as hell by brutality,,,,,,,,,,,,,Just think yourself…stand infront of your mirror..take a deep breath and try to discover who you really are……….homo sapiens…or something stranger……

    Reply
  3. হতাশ

    we want a progessive Bangladesh, no doubt. but sometimes feel like wnat NOSHHOR said, we dont need free thinking. this country seems to be destined to be doomed.not just it should be. our forefathers didn’t dream to create such a chapaticracy.

    Reply
  4. Mazid

    Mr Abid,
    I agree with you. I would like to ask you a question and to the people who believe same way like you that what Actually Avijit Roy wrote in his books that upset many people?
    What he really wrote which cost his life? I tried to ask many people but no body could explain this to me.

    It’s remind me the story about bird taking ear and everyone running after the bird but not checking whether ear actually taken or not.

    I will ask you guys to read Avijits Roy’s book first before blame him that he insulted Islam.

    Mazid

    Reply
  5. Md. Yar Hossain

    মুক্ত চিন্তার লেখকরা কি লেখেন? মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই লিখতে পারা কি? আসলে শয়তানরাই শয়তান মারে?

    Reply
  6. noshsor

    ফরিদ ভাই, এই জাতির জন্য মুক্তবুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নেই । এই জাতির ধ্বংস হয়ে যাওয়া উচিত ।।

    Reply
  7. Shaikh Azizur Rahman, India

    Dear Farid Ahmed,

    Ami akjan India-based sangbadik. Interview nite chai apnar. Apni ki amake apnar email address of Skype ID pathate paren?

    Shaikh Azizur Rahman
    aziz dot news at yahoo dot com

    Reply
  8. Abid

    জনাব ।
    লেখা টা ভালই লিখেছেন । তবে আপনাকে কিঞ্চিৎ শুধরে দিতে চাই । মুক্ত চিন্তা ধারা নিয়ে লিখে জাওয়া টা তেমন অপরাধ এর কিছু নয় । তবে সেই মুক্ত চিন্তা যদি অন্য কাওকে আঘাত করে তবে সেই ধরনের চিন্তা ধারা অবশ্যই প্রকাশ যোগ্য নয় বলে আমি মনে করি । বাংলাদেশ ৯০ ভাগ এর বেশী মুসলমান এর দেশ । সুতরাং এ দেশ এ ইসলাম ধর্ম কে আঘাত করে কথা বলা টা কতটুকু বুদ্ধিমান এর কাজ সেটা আপনার বিবেক এর উপর ই ছেড়ে দিলাম । আমি স্বীকার করি প্রতিটি মানুষ এর মত প্রকাশ এর স্বাধীনতা আছে । তবে তাঁর মানে এই না আপনি আপনার মত প্রকাশ করে অন্য কাও কে আঘাত করবেন । আজ আমি যদি রাস্তায় এক টা মেয়ে দেখে একটা বাজে মন্তব্য করি সেটা ও তবে আমার মত প্রকাশ এর স্বাধীনতা । কেননা আমি তো সেখানে ওই মেয়ের নাম উল্লেখ করে কিছু বলি নি তাই না ? তবে সেটাকে ইভটিজিং বলা হবে কেন ?

    তাই বলে আমি বলছি না এভাবে মানুষ খুন করা আমি সমর্থন করি । এটা নিঃসন্দেহে এক টা জঘন্য তম কাজ । তবে যদি তারা ইসলাম কে আঘাত করে কথা বলে থাকেন তবে সেটাও তাদের চরমতম গর্হিত কাজ ছিলো ।

    আমি ছোট মানুষ এসব বিষয়ে তেমন অভিজ্ঞতা নেই । আপনার লেখা টা দেখে আমার যে প্রতিক্রিয়া শুধু সেটা বেক্ত করলাম । ভুল কিছু বললে আশা করি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন ।

    ধন্যবাদ ।

    Reply
    • মুখপোড়া

      আজকাল বানান (জাওয়া, কাও কে, বেক্ত) দেখে এমনকি কমেন্টের শেষে ‘ধন্যবাদ’ দেয়া দেখেও ল্যাঞ্জা চেনা যায়।

      আমি ছোট মানুষ, এসব বিষয়ে তেমন অভিজ্ঞতা নেই। আপনার কমেন্টটা দেখে আমার যে প্রতিক্রিয়া শুধু সেটা ব্যক্ত করলাম। ভুল কিছু বললে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

      ধন্যবাদ।

      Reply
    • Fazlul Haq

      পবিত্র কোরাণে বলা হয়েছে ইসলামের হেপাজতকারী আল্লাহ স্বয়ং। ধর্ম বিশ্বাসে আঘাৎ করার অজুহাত তুলে যারা নরহত্যা করছে তারা নরাধম এবং ইসলামের বিচারে অবশ্যই কাফের। কারণ তারা আল্লাহর অঙ্গীকার অমান্য করে ইসলাম রক্ষার অজুহাতে নরহত্যা করছে এবং আল্লাহর দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর আদেশ অমান্য করছে।

      Reply
    • Monir

      You said you are a small person but you are talking big! Did your read what did bloggers or writers write for that they were sacrificed brutally. Even you are a small person before your write or criticize please read and be informed what you will be talking about. If you have read those books and articles the bloggers wrote, then my sincere apology and please forgive me. But if you didn’t, then you have no right to open your mouth.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—