Feature Img

Arif Jebtik - 1গায়ে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট ও পায়ে চটি; কাঁধে একটি ব্যাগও রয়েছে তাঁর। খুবই সাধারণ খেটে-খাওয়া চেহারার এই যুবক ঢাকা শহরে এসেছেন এক অসাধারণ কাজ করতে। তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একটি প্ল্যাকার্ড; সেখানে লেখা, ‘ন্যায়বিচার চাই’। ২ আগস্ট, রোববার সকাল ৯টার দিকে গণভবনের ফটকের উত্তর পাশে ‘ন্যায়বিচার চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের এই মরিয়া চেষ্টা সাধারণ কাজ নয়, সাহসের কাজ। দলহীন, গোত্রহীন, সহায়সম্বল ও প্রতিপত্তিহীন আজাদ নামের এই যুবক সেই অসাধারণ কাজ করতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট থেকে চলে এসেছেন একা। ডিজিটাল প্রিন্টের এই যুগে যেখানে তস্য মহল্লার ফ্ল্যাট মালিক সমিতির উপ-সম্পাদকও নিজের ছবি দেওয়া দুটো ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যানার গলির মোড়ে ঝুলিয়ে নিজের প্রতিপত্তির জানান দেন, সেখানে আজাদের পক্ষে এক টুকরো সাদা কাগজে নিজ হাতে ‘ন্যায়বিচার’ চাই লেখার বাইরে কিছু করা সম্ভব হয়নি।

দলহীন, গোত্রহীন, সহায়সম্বল ও প্রতিপত্তিহীন আজাদ সেই অসাধারণ কাজ করতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চমীঘাট থেকে চলে এসেছেন একা
দলহীন, গোত্রহীন, সহায়সম্বল ও প্রতিপত্তিহীন আজাদ সেই অসাধারণ কাজ করতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চমীঘাট থেকে চলে এসেছেন একা

আজাদের আর কিছুই করার নেই। তাঁর মতো অনেক গরিব মানুষের কয়েক বিঘা জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিচ্ছে; স্থানীয় সব অনুনয়-বিনয় শেষ করে আজাদ শেষ পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের। রাজনৈতিক প্রতিপত্তি নেই, মিডিয়ায় যোগাযোগ নেই, এ রকম একেবারেই সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে গণভবনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এক সাহসী বিপ্লব।

গণভবনের সামনে কেন, জানতে চাইলে আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি গরিব মানুষ। আমাদের কথা কেউ শোনে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার কথা পৌঁছে দিতে চাই। তিনি যদি চান, তাহলে আমিসহ গ্রামের গরিব মানুষরা উপকৃত হব।”

কতদিন এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন, জানতে চাইলে আজাদ বলেন, “তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যতদিন শুনবেন না, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকব। প্রয়োজনে এখানে অনশন করব।”

পরে অবশ্য পুলিশ তাঁকে সরিয়ে দিলে তিনি কোনো বাধা সৃষ্টি না করে ভদ্রভাবেই সরে যান।

আমি খুব খুশি হতাম যদি দেখতাম প্রধানমন্ত্রী আজাদকে ডেকে নিয়ে তাঁর অভিযোগগুলো শুনেছেন এবং প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টি অনেক মানবিক হত। কিন্তু আজাদ ন্যায়বিচার পাননি, বরং পরের দিন র‌্যাব তাদের বাড়িতে গিয়ে হানা দিয়েছে। তাঁরা আজাদকে বেদম মারধর করে তাঁর ভাই ও চাচাকে ধরে নিয়ে গেছে। আজাদ অভিযোগ করেছেন, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁকে আর তাঁর পরিবারকে নির্যাতন করছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান অবশ্য জানিয়েছেন, যাকে ধরা হয়েছে সে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী! এতদিন জানতাম ইয়াবা মূলত শহর এলাকার বড়লোক-মধ্যবিত্তদের মাদক, একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে ইয়াবার এমন রমরমা ব্যবসা আছে এবং ভূমিদস্যুদের নির্যাতনের শিকার আজাদের ভাই এই ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত বলে ধরা পড়লেন, এটি ঘটনা হিসেবে বেশ কাকতালীয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাবের অতীত ইতিহাস যেখানে সুবিধাজনক নয়, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজস করে ৭ জন জলজ্যান্ত মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ইতিহাস খুব দূরে নয়, তখন আজাদের ভাইয়ের ব্যাপারটি প্রশ্নের উদ্রেক করে বৈকি।

আমাকে তাড়িত করেছে সাংবাদিকের কাছে দেওয়া আজাদের কথাগুলো। তিনি আকুল হয়ে বলছেন, ‌“সবাই যখন নিরব ছিল, আমি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি। এটাই কি আমার অপরাধ? আমি তো কিছু করিনি, শুধু চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার কথা পৌঁছে দিতে। আমি এখন কী করব ভাই? আমি কি ঢাকায় চলে আসব? আমি গরিব বলে কি প্রতিবাদও করতে পারব না?”

আজাদের এই উক্তি ছোট করে দেখলে সরকার ভুল করবেন।

আমার ধারণা, গত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবিরের মরিয়া চেষ্টায় রাজপথে যে নৃশংস তাণ্ডব হয়েছে, তা মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিকতায় একটি বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। তারা আগের তুলনায় আরও বেশি মারমুখী হতে পারেন, একটি যুদ্ধাবস্থা মোকাবেলা করলে এ রকম মানসিক বিবতর্নের সম্ভাবনা সমাজবিজ্ঞানীরা উড়িয়ে দেবেন না।

কয়েক বছর রাজপথে যে তাণ্ডব হয়েছে, তা মোকাবেলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিকতায় বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে
কয়েক বছর রাজপথে যে তাণ্ডব হয়েছে, তা মোকাবেলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিকতায় বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে

জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী নৃশংসতা, হেফাজতের ঢাকা-তাণ্ডব, বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা অবরোধে পেট্রোল বোমার আক্রমণে শতাধিক মানুষ হত্যা– এসব নানা কারণে মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষদের মাঝে র‌্যাব-পুলিশের সকল কার্যক্রম চুপচাপ মেনে নেওয়ার একটি প্রবণতা আমি খেয়াল করেছি। মানুষ যে কোনো মূল্যে নিরাপত্তা চায় এবং সেই নিরাপত্তা অর্জন কীভাবে হবে, সেটির দায়িত্ব তারা সরকারের কাঁধে চাপিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে পুরোপুরি দায়িত্বশীল থাকে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী-ভূমিখেকো-মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কোথাও তাদের কোনো যোগসাজস যাতে না থাকে, সেটি কঠোরভাবে নজরদারি করার এখনই সময়। বিরোধী দলের তাণ্ডব মোকাবেলার অভিজ্ঞতা আর অর্জিত শক্তি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলে কিছু হবে না, এ রকম মানসিকতা যদি কোথাও জন্মাতে থাকে, সেটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে হবে। আর সাধারণ মানুষের কথা শুনতে হবে, তাদের জন্য নূন্যতম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে সাম্প্রতিক বিশ্বের দুটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই।

প্রথম ঘটনাটি ২০১০ সালের, মিশরের। খালেদ সায়ীদ নামের এক তরুণের নেশা ছিল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, বসেছিলেন স্থানীয় এক সাইবার ক্যাফেতে। সেখানে হানা দেয় পুলিশ। খালেদ সাঈদের উপর নেমে আসে নির্যাতন। সেই বীভৎস নির্যাতনে মারা যান তরুণটি। পুলিশ দাবি করে, তাঁর পকেটে গাঁজা পাওয়া গেছে (মিশরে সম্ভবত ইয়াবার প্রচলন নেই), তাই তাঁকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল তারা এবং তিনি মারা যান।

হাজার হাজার মানুষ তাঁর ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন
হাজার হাজার মানুষ তাঁর ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন

মিশরের সাধারণ মানুষ এই গপ্পো বিশ্বাস করেনি। খালেদ সায়ীদের পোস্টমর্টেমের ছবি ভাইরাল হয়ে যায় ইন্টারনেটে। হাজার হাজার মানুষ তাঁর ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ফেসবুকে তৈরি হয় ‘উই আর খালেদ সায়ীদ’ নামের গ্রুপ। লাখো মানুষ নিজেদেরকেও খালেদ সায়ীদ দাবি করে সেই পাতায় যুক্ত হন। মিশরে তখন ক্ষমতাসীনদের পুলিশি নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। প্রত্যেক সাধারণ মানুষই তাই নিজেকে খালেদ সায়ীদের মতো নির্যাতিত ভাবছিলেন, ক্ষমতার পেষণে নিষ্পেষিত অনুভব করছিলেন।

খালেদ সায়ীদের মৃত্যুর জন্য মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক সরাসরি দায়ী ছিলেন না, কিন্তু এর দায় চুকাতে হয় তাকেই। দীর্ঘ ৩০ বছরের ইস্পাত-কঠিন শাসনের যে নিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাবোধে ছিলেন তিনি– ছোটবেলায় এতিম হয়ে যাওয়া দলহীন, গোত্রহীন খালেদ সায়ীদের লাশের ছবি সে দেয়ালে ফাটল ধরায়। সে এমনই এক ফাটল, যেটি দিয়ে লাখো জনতা হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের শাসন তুলোর মতো উড়িয়ে দেয়। সেই যে রাজনৈতিক অস্থিরতা মিশরে তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে আজও দেশটির মুক্তি ঘটেনি।

দ্বিতীয় ঘটনাটিও একই বছরের, তিউনিশিয়ায়। ২৬ বছর বয়সী মোহামেদ বোয়াজিজি ছিলেন মফস্বল শহরের রাস্তার ধারের এক গরিব সবজিওয়ালা। এক মহিলা পুলিশ তাঁর সবজির ঝুড়িটি ছিনিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে তাঁর মা-বাপ তুলে গালিও দেয়। এর আগেও পুলিশ তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছিল। তরুণ বোয়াজিজি ন্যায়বিচার দিতে গেলেন স্থানীয় পৌরসভায়; সেখানে সবাই তাঁকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল।

সে এমনই এক ফাটল, যেটি দিয়ে লাখো জনতা হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের শাসন তুলোর মতো উড়িয়ে দেয়
সে এমনই এক ফাটল, যেটি দিয়ে লাখো জনতা হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের শাসন তুলোর মতো উড়িয়ে দেয়

ক্ষুব্ধ তরুণ বোয়াজিজি এক ঘণ্টা পর ফিরে গেলেন সেই পৌর অফিসে, দুঃখে অভিমানে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিলেন তিনি। বোয়াজিজির ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ ঐ ছোট শহরের সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করে তুলল। তারা পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলেন। ব্লগ আর ফেসবুকের পাতায় পাতায় সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। ১৯ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন বোয়াজিজি। কিন্তু তিনি রচনা করে গেলেন এক আগুনমুখো বিদ্রোহের। যার আগুনে পুড়ে ছাই হল প্রেসিডেন্ট বেন আলির মসনদ। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে কোনো শক্তি প্রয়োগ বাদ রাখেননি প্রেসিডেন্ট, কিন্তু সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের স্রোতে সব নির্যাতনই তু্চ্ছ হয়ে গেল, কচুরিপানার মতো ভেসে গেল তার ১৩ বছরের শক্ত শাসন।

তরুণ বোয়াজিজি ন্যায়বিচার দিতে গেলেন স্থানীয় পৌরসভায়; সেখানে সবাই তাঁকে তাড়িয়ে দিল
তরুণ বোয়াজিজি ন্যায়বিচার দিতে গেলেন স্থানীয় পৌরসভায়; সেখানে সবাই তাঁকে তাড়িয়ে দিল

মিশর আর তিউনিশিয়ার এই ঘটনাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আপাতদৃষ্টিতে দলহীন-গোত্রহীন, একেবারেই সাদামাটা সাধারণ মানুষের শক্তি অস্বীকার করার উপায় নেই। এরা বিচ্ছিন্ন, দুর্বল, ভীত-সন্ত্রস্ত, কিন্তু এদের বুকের ভেতরও আছে রাগ-ক্ষোভ-অভিমান। ন্যায়বিচার না পাওয়ার সেই ক্ষোভ যদি একের পর এক জমতে থাকে, তাহলে এক স্ফুলিঙ্গই সেই বারুদে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

আশা করব নারায়ণগঞ্জের সুদূর সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট এলাকার প্রতিবাদী সেই তরুণ আজাদের আকুতি বিফলে যাবে না। রাষ্ট্র ও সরকার তাঁর যৎসামান্য ভূমিটুকু রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। যে ‘ন্যায়বিচার’এর আশায় তিনি এই রাজধানী শহরের ফুটপাতে একা দাঁড়িয়ে থেকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন, সেই দৃষ্টি তিনি আকর্ষণে সমর্থ হবেন। গভীরভাবে আশা করে আছি, পরের বার আজাদের বাড়িতে র‌্যাব নয়, বরং ‘ন্যায়বিচার’ আগে গিয়ে পৌঁছাবে।

তা যদি না হয়, তাহলে সে বড় অন্যায় হবে। এই অন্যায়গুলো যদি জমতে থাকে, তাহলে তার মূল্য চোখ-কান বন্ধ রাষ্ট্রকেই একদিন চুকাতে হবে। আমি চাই না আমার দেশে একজন খালেদ সায়ীদ কিংবা বোয়াজিজির জন্ম হোক।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ অস্বীকার করে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে না এই বোধ সবার মাঝে জাগ্রত থাকাটাই মঙ্গল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিশ্ব ইতিহাসে এ রকম প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই যখন রয়ে গেছে।

আরিফ জেবতিক: সাংবাদিক, ব্লগার।

আরিফ জেবতিককথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও ব্লগার

১৪ Responses -- “আজাদের হাতের এক টুকরো কাগজ ও মিশর-তিউনিসিয়ার ইতিহাস”

  1. রশীদুল হক

    “আমি খুব খুশি হতাম যদি দেখতাম প্রধানমন্ত্রী আজাদকে ডেকে নিয়ে তাঁর অভিযোগগুলো শুনেছেন এবং প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টি অনেক মানবিক হত। কিন্তু আজাদ ন্যায়বিচার পাননি, বরং পরের দিন র‌্যাব তাদের বাড়িতে গিয়ে হানা দিয়েছে। তাঁরা আজাদকে বেদম মারধর করে তাঁর ভাই ও চাচাকে ধরে নিয়ে গেছে। আজাদ অভিযোগ করেছেন, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁকে আর তাঁর পরিবারকে নির্যাতন করছে র‌্যাব।”
    – আপনার লেখার এই অংশটি সবাইকে পড়ার এবং উপলব্ধি করার বিনীত অনুরোধ করছি। ঐ ভূমিদস্যু অমল বাবুকে সবাই চেনে – তিনি অন্যের জমি দখল করে নিজের নামে কারখানা করছেন আর প্রশাসনের সবাই তাঁকে সহায়তা দিচ্ছেন। পরবর্তী খবর হলঃ র‍্যাব এখন আজাদকে ইয়াবা ব্যবসায়ী প্রমানের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

    আমি জানি না নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর এই অত্যাচার কবে থামবে?

    Reply
  2. কাজী রাশেদ

    আমরা অনেক অবিচার আর অন্যায়ের পরও চুপ করে থাকি কারণ আমাদের প্রতিবাদের, প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সত্রুরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে। তাই বলে মানুষ বেশীদিন চুপ করে থাকবে না। রাজন, রাকিব আর মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ অসময়ের শিশু আমাদের সহ্যের সীমাকে প্রতিদিনই শেষ প্রান্তে নিয়ে চলেছে। সময় এখনো আছে। এসবের লাগাম টেনে ধরার। নইলে আবার সব চলে যাবে নষ্টদের হাতে, স্বাধীনতা বরোধী শকুন উল্লাস আবার শুরু হবে আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশে।

    Reply
  3. ড মোঃ আনোয়ার হোসেন

    প্রিয় আরিফ জেবতিক,

    আপনার সময়োচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানাই। খুব আশা করছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে লেখাটি পড়বে এবং আজাদের অভিযোগ বিষয়ে আশু সুদৃষ্টি দেয়া হবে। আজই বিডি নিউজের খবরে দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর সচিব আজাদের সাথে কথা বলবেন। ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ সুশাসনের অন্যতম অনুষঙ্গ। সচিব মহোদয়ের সাথে পূর্ব পরিচয় থেকে ধারনা করি আজাদের সুবিচার পাওয়ার বিষয়ে তিনি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। এমনটাই আমরা দেখতে চাই।

    Reply
  4. রাশেদ মেহেদী

    এখন র‌্যাব বলেন, আর পুলিশ বলেন, ক্রসফায়ারের মতই ইয়াবার গল্প বানিয়ে দিচ্ছে….এর আগে বৃত্তান্ত একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা কেও ধরে নিয়ে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজানো হয়েছে…আজাদকে ধরে নিয়ে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজানোর মধ্য দিয়ে প্রশ্নটি সত্যিই খুব জোরালো হয়ে ওঠে, এদেশে সত্যিই কি ন্যায় বিচার আছে…? এ দেশের আইন শুধুমাত্র কিছু দুর্বৃত্ত লুটেরার জন্য. ন্যায় বিচার প্রার্থী সাধারনের জন্য নয়…

    Reply
  5. Enamajazul Haque

    সময় মত সরকার যদি তার নিজেদের প্রসাশন এবং দলীয় লোক দ্ধারা ঘটে চলা সন্ত্রাসের লাগাম কঠিন হস্তে টেনে ধরতে না পারে তবে বিগত সরকারের মতই অবস্থা অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে । সেখানে দুঃখ যেমন তাদের জন্যে, তেমনি আমাদের জন্যেও বটে ।

    Reply
  6. সৈয়দ আলি

    “বজ্র কহে, দূরে আমি থাকি যতক্ষণ
    আমার গর্জনে বলে মেঘের গর্জন,
    বিদ্যুতের জ্যোতি বলি মোর জ্যোতি রটে,
    মাথায় পড়িলে তবে বলে–বজ্র বটে!”

    Reply
  7. R. Mausd

    এই ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাতে প্রস্নবোধক বিষয় টা না টেনে সরাসরি তার দাবীকে সাপোর্ট করা আমাদের দেশের গন মাধ্যমের রোগ হয়ে দাড়িয়েছে। এটাতে ব্যাবসা হয় তা বুঝি, তাহলে আমে ওষুধ দেয়, সেই ব্যাবসায়ী দের দোষ কোথায়–
    গণমাধ্যমের উচিৎ আজাদের অভি্যোগা টা সত্যি কি মিত্থ্যা তার খোঁজ নেওয়া। তারপর তা প্রচার করা। নিউজ প্রচার করেই যেহুতু গণমাধ্যমের ব্যাবসা, সে যা প্রচার করে তার কোয়ালিটি কে গ্যারান্টি দেওয়া তার দায়িত্ব – যেমন দেয়, টিভি তৈয়ারির কোম্পানী, গাড়ী বানানোর কোম্পানীরা–

    আবার ১০০শ কদম পিছিয়েও যদি ধরে নেই, র‍্যাব এর কথা সত্যি ? তাহলে এই প্রচার এর অর্থ কি দাঁড়াবে?
    একজন গনভবনের সামনে দাড়ালেন আর সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী তার সাথে দেখা করলেন, তাহলে প্রতিদিনই কেউ না কেউ দাঁড়াড়াব -যে দেশে অসৎ মানুষের অভাব নেই – তাই এটা কোন বাস্তবতা হতে পারেনা।
    লিখককে বলবো, সময় হলে উপরের কথা গুলো ভেবে দেখবেন —
    সব শেষে বলবো, আজাদের অভিযোগ মিত্থা তা একেবারেই বলছিনা, শুধু তার সত্যতা যাছাই করা ফরজ যে কোন কেউ কোন কমেন্ট করার আগে–

    Reply
    • রশীদুল হক

      জনাব মাসুদ,
      আপনি তা হলে এ ধরনের প্রতিবাদ পছন্দ করেন না ?
      আমি তো খুব পছন্দ করি, নিজের পক্ষে এ ধরনের সুন্দর , অহিংস এবং সাহসী প্রতিবাদ করার সাহস না থাকলেও আজাদকে আমার সহস্র সালাম।

      সত্য মিথ্যা যাচাই তো হবেই, এ ক্ষেত্রেও ইতোমধ্যে হয়ে গেছে এবং জানা গেছে অমল বাবুর গুন্ডামীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে র‍্যাব এবং স্থনীয় প্রশাসনের কেউ কেউ – জনতার আদালতে তাঁরা ধরা পড়ে গেছেন

      আর

      এখন দেখার বিষয় হল- সদাশয় সরকার কি করেন!

      Reply
      • R. Masud

        অনেক ধন্যবাদ জবাব দেবার জন্য।
        আমার বলতে চাওয়া কথাটাকে এই ভাবে বললে বোধ হয় বুঝা সহজ হতো–
        ধরুন আমি যদি বলি
        ” মিস্টার আরি-জেব আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে, পুলিশের কাছে গিয়েছি কিন্তু আরি-জেব সরকারী দলের লোক বলে পুলিশ মামলা গ্রহন করেনাই, আমি এর ন্যায্য বিচার চাই” এমন একটা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে, সুপ্রিমকোর্ট এর সামনে দাঁড়িয়ে যাই।
        পর দিন কি আমন একটা আর্টিকেল লিখবেন??
        অবশ্যই আপনার জবাব, খোজ খবর নিয়েই লিখবো –তাইনা!!
        সব অভিযোগ এর বেলায়ই তা হওয়া উচিৎ মানে সত্যতা যাচাই ফরজ।
        আজাদের বেলায় পরে প্রমান হয়েছে তা কিন্তু যথোপযুক্ত জবাব হয়না—
        যেহুতু, সংবাদ মাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করে পেট চালান, তাদেরও বলা কথা, লিখা কথা গুলোর দায়িত্ব নিতে হবে, তানাহলে, খবর বলে আয় করাটা যে হারাম হয়ে যাবার কথা—

  8. s m shaheen akther

    লেখাটা পাঠ্য-সুন্দর কিন্তু আরিফ ভাই, আজাদের জীবনের এতে কোন পরিবর্তন আসলেও আসতে পারে। ও্ঁনাদের তো কেউ কিছু বলার নেই। তাঁরা তো মহান।

    Reply
  9. Zia

    I am totally speechless! Only consolation is goes around comes around. Anyways thanks to Arif for bringing this to everyone’s attention. I am sure someone from the administration would look into the issue, all the problems should NOT go Prime Minister.

    Reply
  10. Fazlul Haq

    খালেদ সাইদ, বোয়াজিজি, আজাদের প্রতিবাদ নিপীড়িত মানুষের বিপ্লব যা অন্ধ ও বধির হয়ে যাওয়া ক্ষমতাসীনদের আসন টলিয়ে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকার রাষ্ট্রের সশস্ত্র শক্তির আড়ালে নিরাপদ থাকতে চাইলে তা হবে চরম বোকামি। রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর উপর সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার নির্ভরতা দেশ, জনগণ ও সরকার সবার জন্য অতিশয় বিপজ্জনক।
    ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা ও প্রতিবাদ সরকারের চোখ ও কানে না ঢুকলে সেটা বিপদের অশনিসংকেত। গণঝড় শুরুর আগে সাবধান না হলে তাসের ঘরের ন্যায় সব ভেঙ্গে পড়বে। সরকার ও মন্ত্রীগণ চাটুকারদের ঘেরা দেয়াল থেকে মাথা গলিয়ে কি উপলব্ধি করবেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—