১.

বিতর্ক করা খুব ভালো, এমনকি অকারণ বিতর্কও। এটা আরও ভালোভাবে টের পাই যখনই কোনো দিবস পালিত হয়। একদঙ্গল মানুষকে খড়গ হাতে নেমে পড়তে দেখি সেই আচারের বিরুদ্ধাচরণে। এই যেমন ২১ জুন পালিত হল বাবা দিবস হিসেবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন দিনে এটি পালন করা হয়। একটুখানি গুগল করলেই যে কেউ তা জানতে পারবেন। অথচ দেখবেন এমন একটা নির্দোষ দিন নিয়েও এখানে আমরা কী দারুণ বিতর্কে (মতান্তরে বাদানুবাদে) জড়িয়ে পড়ছি।

এই দেখা-বোঝা আজকের নয়, বহুদিন থেকেই। সেই ১৯৭৬এ ক্লাস সিক্সে পড়তে প্রথম শুনলাম, ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ নাকি অনৈসলামিক। এটা পালন করা হারাম। গ্রানাডার মসজিদে মুসলমানদের পুড়িয়ে মারা উদযাপন করতেই এ দিবসের উদ্ভাবন। ওটা ঘটেছিল কোনো এক পয়লা এপ্রিলে।

তখন ইন্টারনেট ছিল না। তাই এই দাবি ভেরিফাই করার সুযোগও পাইনি। এখন বুঝি, কী অসদুদ্দেশ্যে সে সময় ঐ মিথ্যা চালু করে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল মন ও মননের উপর সিলগালা করার প্রচেষ্টা হয়েছিল। ঠিত তখনই ছাত্র সংঘ থেকে ছাত্র শিবিরে পুনরুত্থানের আগে, দিশারী থেকে ফুলকুড়ি সংগঠন গড়ে তুলে শিশু-কিশোরদের মনে প্রভাব বিস্তারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল জামায়াতে ইসলামী নামের দলটি। মগজ ধোলাইএর প্রথম পদক্ষেপ হল, চিরচেনা কিছু একটার চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ করা। আর তা করতে দরকার ছিল নতুন কোনো ধারণার আমদানি– তা সত্য হোক কী মিথ্যা– তার প্রচলন। আমাদের সেই সময়ের অতিপ্রিয় উপলক্ষ, ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ নিয়ে মিথ্যা প্রচার তেমন প্রচেষ্টার অংশ মাত্র।

 

‘এপ্রিল ফুলস ডে’ নাকি অনৈসলামিক, এটা পালন করা হারাম

 

কেন দিবসটি এত প্রিয় ছিল আমাদের? কারণ এই একটা দিনেই সবচেয়ে কঠিন মুখের মানুষ বা শিক্ষকের সঙ্গেও শিশু বা ছাত্রছাত্রীরা যে কোনো বুদ্ধিদীপ্ত প্র্যাকটিকাল জোক করতে পারত। তাতে উনি অবাক হন বা রেগে যান, কিছু আসে যায় না। শেষে বলে দিলেই হল, স্যার, আজ যেন কী দিবস… মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাসের চেহারা বদলে যেত তাতে। ঐ রাগী স্যারসহ পুরো ক্লাস হেসে উঠত।

ক্লাস টু থেকে ফাইভ পর্যন্ত কতই-না উৎসাহ আর ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে আমরা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে ঐ এপ্রিল ফুলস ডে পালন করে এসেছি। তার মধ্যে ছিল সহপাঠীদের বই বা খাতার মলাট উলটে দেওয়া, হোমওয়ার্ক খাতায় ‘এপ্রিল ফুল’ লিখে রাখা, টিফিন বাক্স বদলে দেওয়া ইত্যাদি।

তবে সবচেয়ে ভালো জিনিস যেটা ছিল তা হল, শিক্ষকগণ আমাদের এপ্রিল ফুল প্রচেষ্টাগুলো শুনতেন, এরপর বুঝিয়ে বলতেন ওগুলো থেকে কোনটা করা ঠিক হয়নি কোনটা বুদ্ধিদীপ্ত ও শিক্ষণীয় ছিল সে সব। পুরো ব্যাপারটা বুদ্ধিবৃত্তিচর্চার পাশাপাশি ন্যায়-অন্যায়বোধ জাগাতেও ভূমিকা রাখত।

বিপত্তি বাঁধল ক্লাস সিক্সে ধানমণ্ডি বয়েজ স্কুলে ভর্তি হবার পরপরই। গ্রানাডা হত্যার প্রতিবাদে এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হল ঐ দিবস পালন। এখন বুঝি, এর আরেকটি কারণ ছিল, ঐ স্কুলে জামায়াত ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষকদের সংখ্যাধিক্য। সবাই মিলে এমন ভীতিকর একটা পরিবেশ বেশ সাফল্যের সঙ্গে তৈরি করে ফেলা হল যে, এপ্রিল ফুলস ডে পালন আর ক্রুসেডে যোগদান করে ইসলাম ধ্বংস করা প্রায় সমার্থক হয়ে উঠল।

এটা তারা এতটাই সফলভাবে শিশুমনে, অস্থি ও মজ্জায় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিল যে, বছর কয়েক আগে যখন জানলাম, গ্রানাডা হত্যার সঙ্গে এপ্রিল ফুলস ডের কোনো সম্পর্ক নেই– বরং এর রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইতিহাস– সেটা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল।

শুরুতে যা বলছিলাম, মিথ্যা বিতর্কও ভালো কেন? এপ্রিল ফুলস ডে নিয়ে যারা মিথ্যা তর্কে নেমেছিল, কয়েক দশক পরে হলেও তাদের উদ্দেশ্যের সততা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। আবার এপ্রিল ফুলস ডে তার স্বমহিমায় আসবে কী আসবে না, সেটা ঐ ডে পালনের প্রয়োজনীয়তা বলে দেবে। কিন্তু যারা চালবাজি করতে গিয়ে নির্দোষ অনেক বিষয় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাদের কোনো কথাই যে আর বিনা প্রশ্নে ছাড়া যাবে না, সেটা নিশ্চিত করা গেছে। আমার ধারণা, বড় একটা জনগোষ্ঠী আজকাল জামায়াত-শিবিরের প্রচারণাগুলোয় খুব গুরুত্ব দেন না। তাদের এই ক্রেডিবিলিটি হারানো তাদের ঐসব ছোট ছোট মিথ্যাচার স্পন্সর করার কারণেই।

২.

একটু আগে বললাম, দিবস পালন করার সঙ্গে সেটা পালনের প্রয়োজনীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় যে, কোনো একটি দিবস পালন করতে গেলে সেখানে নানা ফ্যাক্টর কাজ করে। শুনেছি, কোনো কোনো দেশে ‘হুইস্কি দিবস’, ‘হ্যামবার্গার দিবস’ পালন করা হয়। আমাদের দেশে এগুলো পালন অবান্তর এখনও। তবে যারা এসব দিবসও পালন করেন, তাদের জন্য তা বাস্তব বলেই তারা তা করছেন বলে মনে করি।

এখান থেকে দিবস পালনের একটা ফ্যাক্টর কিন্তু আমরা পেয়ে গেলাম। পালনকারীদের জন্য পালনীয় দিবসটির বাস্তব অস্তিত্ব থাকা চাই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমানে পালন করা দিবসগুলি ছাড়াও বন্ধু দিবস, শিক্ষক দিবসেরও বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু বাস্তব অস্তিত্ব থাকাটাই যে পালনের একমাত্র অনুষঙ্গ নয়, তার প্রমাণ হল পালনের তালিকা থেকে এই দুটি দিবসের উপস্থিতি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাওয়া। কী তাহলে সেই ফ্যাক্টরগুলি? আমার ধারণা, সর্বজনীনতা ও স্বপ্রণোদিত ফান্ডিংএর সম্ভাব্যতা।

সর্বজনীনতা এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এতে ইন্টারেস্ট গ্রুপটা বড় হয়ে যায়। বিরাট একটা ইন্টারেস্ট গ্রুপের ছোট ছোট অংশ মিলেও বড়সড় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। শিক্ষক দিবস এ কারণই মার খেয়ে গেছে। বর্তমানের শিক্ষার্থীরা ছাড়া খুব বেশি মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করা যায়নি। সে দিক থেকে দেখলে বন্ধু দিবসটির টিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক বেশি সর্বজনীন হলেও এটা টেকেনি অর্থায়নে কর্পোরেটদের অনীহার কারণে।

৩.

যে কোনো দিবস উদযাপনের সঙ্গেই বাড়তি কিছু ব্যয়ভার বহনের ব্যাপার জড়িয়ে যায়। এটা করতে কে কতটা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উৎসাহী, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এই মুহূর্তে জনপ্রিয় ও টিকে থাকা আনঅফিসিয়াল দিবসগুলি, অর্থাৎ ভালোবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস কী কারণে টিকে গেছে সেটা আশা করি পাঠক অনুমান করতে পারছেন।

তবে এখনও যে এই দিবসগুলি পালনের সময় বিতর্কের চেষ্টা চলে না, তা নয়। এই বিতর্কের কিছু কিছু এমন: ১) এটা আমাদের কালচার কিনা; ২) এটা ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত কিনা; ৩) মা বাবা কি একদিনের যে একদিন তা পালন করলাম, আর বাকি তিনশ চৌষট্টি দিন ভুলে থাকলাম?

দিবস পালন নিয়ে কালচার টানাটানি অনর্থক। নাম উল্লেখ না করেও বলা যায়, এই মুহূর্তে শুধু অনানুষ্ঠানিক নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে পালন হওয়া অনেক দিবসই ভিন্ন কালচারের। সেগুলো পালন করার কারণ কালচার নয়, বরং কালচারাল ডাইভার্সিটি অর্জন। আর কালচারের উৎকর্ষতায় রক্ষণশীলতা নয় বরং ডাইভার্সিটি বেশি ভূমিকা রাখে।

দিবস পালনের ধর্মীয় দিক নিয়ে, এমনকি একুশে ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে বিতর্ক তো সেই অ্যাত্তোটুকুন বয়স থেকেই দেখে আসছি। কই, তাতে খালি পায়ে প্রভাত ফেরি করা থামেনি; বন্ধ হয়নি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া। বরং উৎসাহের সঙ্গে দিবসটি পালনের প্রথা জেঁকে বসেছে। আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর এখন তো একুশে ফ্রেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বের জন্য অবশ্যপালনীয় একটি দিবস।

 

তাতে খালি পায়ে প্রভাত ফেরি করা থামেনি; বন্ধ হয়নি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া

 

বছরে একটা দিন ঘটা করে দিবস পালনের সঙ্গে প্রতিদিনের সম্পর্কের কি কোনো সংঘর্ষ রয়েছে? তা যদি না থাকে, এই অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন আসছে কেন? বছরে একদিন ঘটা করে বাবা বা মা বা অন্য কোনো প্রিয়জনের কাছে গিয়ে তার জন্য বিশেষ কিছু একটা করা উভয়ের জন্যই আনন্দের। এর ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় না যে, সারা বছর আর কোনো দায়িত্ব পালন থেকে আমরা দূরে থাকি। বরং বছরে একদিন একটি বিশেষ দিবস ঘটা করে পালনের সময় দেওয়া বাড়তি ইফোর্টের কারণে অনেক নতুন নতুন আগ্রহ-জাগানিয়া বিষয় যে সামনে এসে পড়ে, সেটা আজকাল খুবই আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করি।

৪.

শুধু মানুষ নয়, যে কোনো প্রাণির প্রজাতিটি উন্নততর হয়ে টিকে থাকবে কি না সেটা নির্ভর করে ঐ প্রজাতির নারীদের আগ্রহের উপর। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক নিম্নশ্রেণির নারী জাতীয় প্রাণি জেনেটিকভাবে দুর্বল পুরুষ সঙ্গীদের চিনতে পেরে তাদের প্রত্যাখ্যান করে। প্রজাতির অধঃপতন ঠেকাতেই তারা কাজটি করে। এর অর্থ হল, একটি প্রজাতি টিকবে না কী নিঃশেষ হয়ে যাবে, সেটা ঐ প্রজাতির নারীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

নারী দিবস পালন, তাই বলা যায়, কেবলই নারীর অধিকার আদায়ের জন্য নয়, বরং মানবপ্রজাতিকে উন্নততর করা বা রক্ষা করতে নারীজাতির মহান দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা তর্পণের জন্যও।

এ তো গেল দলগতভাবে দিবস পালনের সময় জানা আগ্রহের বিষয়গুলো। এবার শুনি ব্যক্তিগত উদযাপনে কিছু আগ্রহ-জাগানিয়া কথা। গেল মা দিবসে আমার একসময়কার ছাত্রী সাবিহা রহমান জিতুর একটি লেখা খুব ভাবাল। সে মা দিবস পালনের যথার্থতার ব্যাখ্যায় যা লিখেছে তা মোটামুটি এই:

 

যে কোনো প্রাণির প্রজাতিটি উন্নততর হয়ে টিকে থাকবে কি না সেটা নির্ভর করে ঐ প্রজাতির নারীদের আগ্রহের উপর

 

মা দিবস মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রদর্শনের দিবস নয়। এই দিবসটি কেবলই মায়েদের জন্য। নয় মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে; নিজের শরীর থেকে তার সন্তানের খাদ্যপুষ্টি নিশ্চিত করে; নিজের বিন্দু বিন্দু রক্ত, ক্যালসিয়াম, পুষ্টি দিয়ে একটা পরিপূর্ণ হৃৎপিণ্ডধারী মানবসন্তান ভুমিষ্ঠ করেন মা। তারপরও সন্তানের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার কথা ভাবেন; ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ান; টিকা দিয়ে নিয়ে এসে জ্বর আসার ভয়ে বিনিদ্র রাত্রি কাটান। মা-ই তো কথা বলা, হাঁটা, গানের ছলে ছড়া, প্রথম পাঠ শিখান সন্তানকে। সন্তানের ভাষা, তা সে মুখেরই হোক কী মনের, বুঝতে পারেন মা-ই। স্কুলগামী সন্তানকে স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দেন; প্রতিদিনের ভিন্ন ভিন্ন টিফিনের বাহানা মিটান মা। প্রতিবেলা খাওয়া নিয়ে হাজারটা বায়নাক্কা সহ্য করতে হয় তাকে। সন্তানের পেটের সমস্যা, ঠাণ্ডার সমস্যা নিয়ে নিয়মিত ডাক্তারবদ্যি করতে করতে খানিকটা ডাক্তারই হয়ে ওঠেন মা। কর্মজীবী মাকে আবার সামলাতে হয় ঘর-বার দুটোই।

এভাবে সন্তানের সব দিক সামলাতে গিয়ে এক সময় সন্তানের প্রতি ‘ওভার-প্রোটেকটিভ’ বা ‘ওভার-পজেসিভ’ আখ্যা পেয়ে যান কোনো কোনো মা। পান থেকে চুন খসলে সেই মাকেই আবার দোষীর কাঠগোড়ায় দাঁড় করানো হয়। এত কিছুর মধ্যে নিজের সত্তাই হারিয়ে ফেলেন মা।

এমন যে মা, তাকে বিশেষ একটি দিবসে সেলিব্রেশন করা হলে অন্তত মায়েরা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যের বাইরে বেরিয়ে নিজেদের ক্ষমতা, ত্যাগ, অবদান ও আত্মবলিদানের বিষয়টি উপলব্ধি করেন। জিতু প্রশ্ন রাখে, ‘‘কী ক্ষতি তাতে?”

আসলেই তো, যাদের জন্য দিবস, তাদেরও কিছু ভাবনা-চিন্তা থাকতে পারে। তাদের বিশেষত্ব তুলে ধরার থাকতে পারে। অকারণ বিতর্ক করে এটা ভুলে থাকা কি ঠিক? আর যদি টেকার মতো না হয় তবে কোনো দিবস পালন বন্ধ হয়ে যাবে, তাতে কেউ বাধা দিতে পারবে না।

কাজী আহমদ পারভেজফ্রিল্যান্স লেখক ও গবেষক

Responses -- “অনানুষ্ঠানিক দিবস পালন নিয়ে কথকতা”

  1. আব্দুর রাজ্জাক খান

    আমরা বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করিনা, আজকের তারিখটি কত তাও ঠিকভাবে বলতে পারব না। কিন্তু বাংলা মাসের নাম গুলো আমাদের খুব প্রিয়। তাই আমি মনে করি ইংরেজীর পাশাপাশি মাসগুলোকে বাংলা নামে সাজালে কেমন হয় ? অনেক দেশেই খৃষ্টিয় পঞ্জিকার মাসের নাম তাদের ভাষায় দেয়া। তাই আসুন আমরা বলি জানুয়ারী=মাঘ, ফেব্রুয়ারী=ফাল্গুন,মার্চ=চৈত্র, এপ্রিল=বৈশাখ, মে=জৈষ্ঠ, জুন=আষাঢ়, জুলাই=শ্রাবণ, আগস্ট=ভাদ্র, সেপ্টেম্বর=আশ্বিন, অক্টোবর=কার্তিক, নবেম্বর=অগ্রহায়ন, ডিসেম্বর=পৌষ।
    একইভাবে আমরা পহেলা বৈশাখ পালন করতে পারব আরও ১৪ দিন আগে অপেক্ষাকৃত ভাল আবহাওয়া। ফলে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ক্লান্ত হবেন কম – অঘটন নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হবে। বাংলা মাস এগিয়ে আনলে কৃষি ক্ষেত্রেও তা অনুকুল হতে পারে, ভেবে দেখুন!

    Reply
    • কাজী আহমদ পারভেজ

      এই আইডিয়াটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।
      এরকম হলে তো তা বেশ হয়…

      Reply
  2. Mohammad Mohiuddin

    ভাই আপনার অনেক দীর্ঘ লেখাটা পড়লাম। আপনি এপ্রিল ফুল’স ডে নিয়ে শুরু করলেন এর বাবা দিবস দিয়ে শেষ করলেন। কিন্তু কোন দিবসের উতপত্তি কেন হল টা বল্লেননা। আপনারা বুদ্ধিজীবিরা অনেক বিষয়ে বিতর্ক করেন। কিন্তু সত্য কথা বলতে চান না। আপনার কাছে আমার অনুরোধ এপ্রিল ফূল’স দে এর স্ত্যিকার ইতিহাসটা জনগনকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

    Reply
    • কাজী আহমদ পারভেজ

      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
      লিখাটা কষ্ট করে পড়ার জন্যেও।
      কোন দিবসের উতপত্তি কিভাবে, সেটা জানানো আমার উদ্দেশ্য ছিল না।
      তাছাড়া সামান্য গুগল করে তা ভালই জানা যায়।
      যেকোন দিবস পালনে যে কারোরই যে স্বাধীনতা আছে আর অকারন সমালোচনার কোন অধিকারও যে কারো নাই, সেটাই বলতে চেয়েছি।
      আশাকরি বুঝতে পেরেছেন তা।
      সাথে থাকার জন্য আবারও ধন্যবাদ…

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—