ফরহাদ মজহার জ্ঞানীজন। তাঁর লেখা ‘বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাই না’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধ ঠিক এমন সময়ে প্রকাশিত হল যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে যে কোনো বিজ্ঞান বা মুক্তজ্ঞানের দাবিদারদের গয়রহ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। এ জন্যেই এই প্রবন্ধ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। হ্যাঁ, একে আমি প্রবন্ধই বলব। যদিও খুব স্পষ্ট কোনো থিসিস বা হাইপোথিসিস নেই, তবু প্রবন্ধের গুণাবলী ঠিক রেখেই তিনি অন্তঃস্রোতের মূল বক্তব্য খোলাসা করেছেন; তা হল, “বিজ্ঞান চাই কিন্তু বিজ্ঞানবাদিতা চাই না”। বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞান ভালো; কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে যারা বেশি কথাবার্তা বলে তা চাই না।

বিজ্ঞানবাদিতা কী? আমি ধরে নিচ্ছি, বিজ্ঞান যখন কোনো একটি ‘ইজম’এর মতো কাজ করে তাকে এখানে তিনি বিজ্ঞানবাদিতা বলতে চেয়েছেন। তিনি সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে:

“… বরং সেটা ঘটে বিজ্ঞানবাদিতার কারণে। বিজ্ঞানবাদিতা একটি মতাদর্শ। এই মতাদর্শ দাবি করে, আমাদের অন্য কোনো বৃত্তির দরকার নাই। সত্য নির্ণয়ের একটাই মানদণ্ড, সেটা হচ্ছে বিজ্ঞান। শুধু বিজ্ঞান, অতএব আমাদের চিন্তা ও চেতনা অধিকার করে রাখুক। আমাদের সমাজ, নীতি-নৈতিকতা, রাষ্ট্রনীতি সব বিজ্ঞান দ্বারা ঠিক হোক। বিজ্ঞানবাদিতার নানান রূপ আছে। রূপভেদে তার ক্ষতির মাত্রাও ভিন্ন। তার কারণেই এই বিপদ ঘটে।’’

আমি বিজ্ঞানবাদিতার এই সংজ্ঞার সঙ্গে সহমত পোষণ করি; কারণ তিনি এখানে ‘সত্য নির্ণয়ের একটাই মানদণ্ড সেটা হচ্ছে বিজ্ঞান’ বলেছেন। যদি কোনো ইজম বা বাদ বা মতাদর্শ সত্য নির্ণয়ের একটাই মানদণ্ড বলে দাবি করে তাকে আমিও সমর্থন করব না। কিন্ত আসলে বিজ্ঞান কি তা বলে? বলে না।

তার আগে বলে নিই, ফরহার মজহার এখানে বিজ্ঞানের যে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি উল্লেখ করলেন না তা হল, বিজ্ঞানমনস্কতা। আমি খুব সাধারণভাবে বলি, বিজ্ঞানমনস্কতা একটি দর্শন, একটি প্রসেস। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ে, এমনকি একটি পিএইচডি করেও তা তৈরি হয় না। বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া এক ধরনের সাধনা, পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে কঠিন, কঠোর সত্য গ্রহণ করার সাধনা।

এই সত্য কি স্থির বা স্থবির কিছু? না, বিজ্ঞান তা বলেও না। বরং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এ জন্যেই ‘ফলসিফিকেশনিজম’ বিজ্ঞানের একটি বৈশিষ্ট্য। সুতরাং তিনি বিজ্ঞানের ওপরে একটি মিথ্যা দোষ চাপালেন তাঁর বিজ্ঞানবাদিতার স্বআরোপিত সংজ্ঞা ‘ভিলেইন’ প্রমাণ করার জন্য। বিজ্ঞানে মানদণ্ডের ভিন্নতাতেই বরং গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়।

ফরহাদ মজহার তাঁর প্রবন্ধে উপকথা বা মিথগুলোর চমৎকার শৈল্পিক প্রয়োগ তুলে ধরেছেন। আমাদের লোকজীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই উপকথা বিরাজমান এবং এক অনির্বচনীয় জগত তা উন্মোচন করে দেয়। যেমন সূর্যের উপকথা। আগুনের উপকথা। আমি উপকথার অনুরাগী। আমার ‘অগ্নিবালক’ উপন্যাসে উপকথা আর সাইকোএনালিটিক্যাল তত্ত্বের মিলনও ঘটিয়েছি।

এই প্রসঙ্গ কেন টেনে আনলাম? আত্নপ্রচার করতে? না। একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে আমিও যে উপকথার এই শৈল্পিক রূপ আস্বাদন করি তা বুঝাতে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞান এবং উপকথার ফরহাদ মজহার কর্তৃক সৃষ্ট কৃত্রিম সাংঘর্ষিক রূপ ভুল প্রমাণ করে দিতে এবং এর তাত্ত্বিক দিকটি নিয়ে কথা বলতে।

উপকথা কী? সাধারণভাবে বললে, আদিকাল থেকে মানুষ যখন কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতে পারত না, তখন গল্পের মধ্য দিয়ে যা বিবরণ দিত তা-ই উপকথা। সমাজ বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন উপকথা হল মানুষের ভাষার রোগ। ভাষা যখন ততটা সক্ষম ছিল না তখন গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষ তাকে প্রকাশ করেছে। মানুষ মানুক আর নাই মানুক, ধর্মীয় কাহিনিগুলোর সবই এই উপকথার মধ্য দিয়ে তৈরি। এই উপকথার সঙ্গে বিজ্ঞানের সংঘর্ষ কোথায়? ফরহাদ মজহার সংঘর্ষ খুঁজে পেয়েছেন এবং মনে করেন যে এই সংঘর্ষ অসংখ্য শিশুর জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি বলেন,:

“বিজ্ঞানের প্রধান চরিত্র হচ্ছে প্রত্যক্ষ অন্বেষণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যকে জানা। তার ডমেইন বা সীমানা চিহ্নিত ও নির্দিষ্ট। কিন্তু বিজ্ঞানবাদিতা হচ্ছে এমন এক ব্যাধি যা মানুষের সব বৃত্তিকে নির্বিচারে বিজ্ঞানের অধিকারে ও দখলে নিয়ে আসতে চায়। যেমন ঈশ্বর আছেন কী নাই সেটাও বিজ্ঞানবাদীরা তাদের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে প্রমাণ করতে চায়। যখন পায় না, তখন নাই বলে ফতোয়া দেয়। যা বিজ্ঞানের অধীনস্থ করা সম্ভব না, তাকে অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, পশ্চাৎপদতা ইত্যাদি বলে বাতিল করে দেয়।’’

কথাটা কিন্তু বিজ্ঞানের সঙ্গে ঈশ্বর বিশ্বাসের একটি সরলিকরণ ব্যাখ্যা। যেমন ফরহাদ মজহার বা কোনো ধর্মীয় পণ্ডিত কখনও স্পষ্ট করে বলেন না ‘ঈশ্বর’ এবং প্রচলিত ধর্মগ্রন্থের ঈশ্বর এক কি না। প্রচলিত ধর্মগ্রন্থগুলোর ঈশ্বর নিজেদের বর্ণিত কথা বা বাক্যবিন্যাসেই নিজেদের অস্তিত্বের সংকট দেখিয়ে গেছেন। তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু বৈজ্ঞানিক দর্শন কি শুধু ঈশ্বরকে ল্যাবরেটরিতে দেখতে চায়? মোটেই নয়। বরং বিজ্ঞানের দর্শন দিয়েই মহাবিশ্বের এই অসীম শূন্যতায় বা অসীম সম্ভাবনায় এক মহাপরাক্রমশালীর সন্ধান পাওয়া যায়, কিন্তু তা কোনোভাবেই প্রচলিত ধর্মের ঈশ্বর নন। সে অর্থে একজন ধার্মিক না হয়েও এই মহাপরাক্রমশালী শক্তিকে বিশ্বাস করে‘ স্পিরিচুয়াল’ বা আধ্যাত্নিক হতে পারেন।

আমি কিন্তু বিজ্ঞানের সঙ্গে সেই আধ্যাত্নিকতার সংঘর্ষ দেখি না। আসলে বিজ্ঞানের দর্শনও তা দেখে না। ফরাসি মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং দার্শনিক জাঁক লাকাঁ মানব মনের গঠনের সঙ্গে ভাষার যে স্বরূপ দেখিয়েছেন সেখানে উপকথার সঙ্গে মানুষের মনোজগতের গঠনের বিশেষ করে ‘আনকনসাস মাইন্ড’ বা অজ্ঞান মনের সম্পর্ক দেখিয়েছেন। বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে দেখলে তাই উপকথা বা পুরাণেও নতুন আবিস্কার আমরা দেখতে পাই।

বিজ্ঞানের জগতের শিশুরাও কি নতুন উপকথা শিখছে না পড়ছে না? বিজ্ঞান কি শুধুই ইন্দ্রিয় উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ খুঁজে বেড়ায়? ফরহাদ মজহারের তো অজানা থাকার কথা নয় যে, দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেল তাঁর ‘প্রবলেম অব ফিলোসফি’ গ্রন্থে অনেক আগেই ইন্দ্রীয় উপাত্তের সঙ্গে কোনো কিছুর অস্ত্বিত্বের সম্পর্ক নেই তা দেখিয়েছেন; আবার তারপরও কিন্তু বাইবেলের ঈশ্বরকে মেনে না নিয়ে লিখেছেন, “হোয়াই আই অ্যাম নট আ ক্রিশ্চিয়ান’।

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগের শিশু কিশোরেরা কি ‘হ্যারি পটার’ পড়ছে না? আধুনিক পুরাণ কি তৈরি হচ্ছে না? আসলে কিন্তু বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ (এখন পর্যন্ত) পর্যায়ে অনেক তত্ত্বই আছে যা কোনে রকমের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ দিয়ে গ্রহণ করা হয়নি। বিজ্ঞান তো সাহিত্য-শিল্প থেকে আলাদা হয়েও একই সত্য অন্বেষণের আরেকটি পথ। এ কারণেই এই যুগের ডরিস মেসিংএর গল্প হয়ে ওঠে উপকথার মতো, বিজ্ঞান উপকথার মতো।

ফরহাদ মজহার এক কথায় রায় দিয়ে দিলেন:

“আধুনিক মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হচ্ছে সে তার মিথ বা পুরাণকে হত্যা করেছে এবং নিত্যদিন নিজেকেই নিজে সে শহীদ করে, নিজেই সে জানে না।’’

এখানেও দেখতে পাই ফরহাদ মজহারের মধ্যেও বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব। তা না হলে তিনি এক কথায় “সবচেয়ে বড় ট্রাজিডি” বলতে পারতেন না। কারণ, পৃথিবীতে ট্রাজেডির মতো বিষয়কে সবচেয়ে বড় বলা অবৈজ্ঞানিক, বরং অনেকগুলো বড় ট্রাজেডির মধ্যে এটা অন্যতম হতে পারে। অর্থাৎ তিনিও কিন্তু তাঁর বর্ণিত বিজ্ঞানবাদিদের মতোই কথা বললেন। সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি যদি মিথ বা পুরাণ হত্যা হয় তবে নতুন নতুন মিথ তৈরি হচ্ছে কীভাবে? এক যুগে সূর্য বা অগ্নি যেমন মিথের উপকরণ ছিল; এখন ইন্টার গ্যালাকটিক ট্রান্সপোর্ট মিথ হিসেবে তৈরি হচ্ছে। ফরহাদ মজহার কি সেই সম্ভাবনা দেখেন না?

অন্যদিকে কিছু মুর্খের দল বলা শুরু করে, বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, তাই তা না মানাই ভালো। যার পরিবর্তন হয় না তা তো স্থবির। মানব জীবন, জগত, সত্য কোনোটাই স্থির নয়। যা স্থির, পরিবর্তনহীন তা কী করে মানুষকে উন্নত করবে, সামনে নিয়ে যাবে? এটাই হল বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব। কারণ, বিজ্ঞান অর্থই হল প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল জগত এবং সম্ভবত মানব মনও; অপেক্ষাকৃত ভালো, গ্রহণযোগ্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করে গ্রহণ করা।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, কোনটা অপেক্ষাকৃত ভালো এবং গ্রহণযোগ্য? হ্যাঁ, সেটাই হল বিজ্ঞানের দর্শনের আলোচনার বিষয়।

ফরহাদ মজহার আরও বলেন:

“বিজ্ঞান যদি তার নিজের জগতে বিরাজ করে, তাহলে এখানে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরির কারণ ঘটে না। কিন্তু বিজ্ঞান যদি বলে, পুরাণ বা মানুষের মিথ বা কল্পনার জগৎ স্রেফ কুসংস্কার, সূর্যের আবার ঘোড়া কী?… বিজ্ঞানের এই সন্ত্রাস ভয়ানক। বিজ্ঞানের সম্ভাবনা বা অর্জন এখানে তর্কের বিষয় নয়।’’

এখানে আমার আপত্তিটা হল, সূর্যের ঘোড়াকে কুসংস্কার বলায় বিজ্ঞানকে সন্ত্রাস মনে করা। কেন, বিজ্ঞান বিজ্ঞানের মতো বলবে, যা সত্য তা জেনেও তো আমরা উপকথার স্বাদ নিয়ে পারি। আমি যখন বিজ্ঞানের কার্যকরণ দিয়ে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের সামাজিক এবং মনোবৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজছি, ঠিক তখনই আবার “প্রোজেক্ট ভূতং আধুনিকং” কিম্বা “অগ্নিবালক” লিখছি না? আমার বিজ্ঞানমনস্কতা তো সাংঘর্ষিক হয় না। কারণ, আমার কাছে বিজ্ঞানমনস্কতা একটি দর্শন।

তিনি বলেন:

“না, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে নয়; কিন্তু বিজ্ঞানসর্বস্ব আর অতিশয় বুদ্ধিমান হওয়ার ভুল শুধরে। এ কারণে সেই বুদ্ধিকেই একালে ‘মুক্তবুদ্ধি’ বলা হয়, যে বুদ্ধি বুদ্ধিসর্বস্বতার সীমা সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে। বিজ্ঞানবাদিতা পরিহার করা এবং যুক্তি ও বিজ্ঞানের সীমা সম্পর্কে হুঁশে থাকাটাই মুক্তবুদ্ধির চর্চা…… বিজ্ঞান এখন আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার অধীন, কারণ একালের বিজ্ঞান নির্দোষ চর্চা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কর্পোরেট স্বার্থ, বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফা, যুদ্ধকৌশল ও প্রযুক্তি।’’

এখানে ফরহাদ মজহার কিছু সত্য আর কিছু ধোঁয়াটে বিষয় মিশিয়ে একাকার করে দিলেন।

“বিজ্ঞানসর্বস্ব আর অতিশয় বুদ্ধিমান”, এই বাক্যাংশের অর্থ কী? যিনি বিজ্ঞানমনস্ক তিনি তো কখনও অতিশয় বুদ্ধিমান হতে বা ভাবতে পারবেন না। কারণ বুদ্ধিও আপেক্ষিক এবং স্থান-কাল ভেদে পরিবর্তনশীল। একজন মহাপণ্ডিত যখন সাঁতার জানেন না তখন মাঝির সামান্য বুদ্ধি বা জ্ঞানের কাছে পরজিত হন ঝড়ের নদীতে। বাবুর ষোল আনাই মিছে হয়ে যায়। একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ তা জানবেন এবং মানবেন। তাহলে?

ফরহাদ মজহার কুর্ট গোডেলের “ইনকমপ্লিটনেস থিওরম” থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং বলেন:

“কুর্ট গোডেলের (১৯০৬-১৯৭৮) ইনকমপ্লিটনেস থিওরম গত শতকের ত্রিশ দশকে আবিষ্কৃত হওয়ার পর যুক্তি, গণিত ও বুদ্ধির সীমা বিজ্ঞানের নিজেরও জানা হয়ে গেছে। এতে বিজ্ঞান ছোট হয়ে যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞান যা না, নিজেকে সেভাবে হাজির করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অস্বস্তি বেড়েছে। বিজ্ঞানের যে অহংকার উনবিংশ ও বিংশ শতকে মহামারীর মতো দেখা গিয়েছিল, বিশ শতকের শেষের দিকে তার তেজ কমতে শুরু করে। বিজ্ঞান নিজেই উপলব্ধি ও বুঝতে শুরু করে যে, বিজ্ঞান সার্বভৌম সত্য প্রকাশক নয়। আর ‘সত্য’ নিজেও এমন একটি ধারণা, যা এখনও দর্শনে তর্কাধীন। নিজেই বিজ্ঞান উপলব্ধি করতে শিখেছে যে, দেশকালের অধীন ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষ বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানের কারবার, হোক তা দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক, চার কিংবা তারও অধিক। কিন্তু তার বাইরেও জগত আছে, তার বাইরেও বিষয় আছে, মানুষ যেসব বিষয়ে ভাবতে সক্ষম। বিজ্ঞান যেখানে যায় না বা যেতে পারে না; কিন্তু মানুষের কল্পনা ও চিন্তার শক্তি সেখানে যেতে পারে, মানুষ দেশকালে সীমিত হয়েও অসীমকে তার চিন্তা, ভাব, কল্পনা ও সংকল্পের বিষয়ে পরিণত করতে পারে। নইলে শিল্প-সাহিত্য থাকে না, দর্শনের সমুদ্র শুকিয়ে যায় এবং নতুন জগতের কল্পনায় বিদ্যমান ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটানোর জন্য বিপ্লবও অসম্ভব হয়ে পড়ে। যে সত্য নির্ণয়ের পদ্ধতি বিজ্ঞানের অজানা, সেই সত্য প্রতিষ্ঠা করার দাবি সত্যিকারের বিজ্ঞানীরা এখন আর করেন না।’’

এখানে তিনি কুর্ট গোডেলের তত্ত্ব দিলেন, কিন্তু সেই তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা আবার দিলেন না। সকল এক্সিওম এই ত্তত্বের হাইপোথিসিস খুশি করতে পারে না সে কথা বললেন না। কিন্তু আমি ওপরের অনুচ্ছেদের বেশিরভাগ কথার সঙ্গেই সহমত পোষণ করি।একেই আমি বিজ্ঞানমনস্কতা বলব। এ কারণেই বিজ্ঞান শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, এমনকি দর্শনগতভাবে তা হয়ে উঠতে পারে পরিপূরক। কিন্তু এই সত্য কথার আবরণে তিনি আসল চেহারাটা প্রকাশ করলেন। লিখলেন:

“কিন্তু পৃথিবীতে সব সময়ই আহাম্মকেরা ছিল এবং তাদের সংখ্যাও কম নয় যারা নিজেদের বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেওয়াকে অভিজাত ব্যাপার বলে গণ্য করে।’’

ফরহার মজহার যদি সত্যিই বিজ্ঞানমনস্কতা বুঝে থাকেন তাহলে তো বোঝা উচিত ছিল বিজ্ঞানমনস্কতায় ‘অভিজাত’ বলে কিছু নেই। সুতরাং কারা তাহলে প্রতিপক্ষ এখানে কারা আহম্মক এখানে? তিনি যদি তাঁর লেখায় একবারও বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বিজ্ঞানবাদিতা আলাদা করতেন তাহলে আমার এই লেখার প্রয়োজন বা গুরুত্ব থাকত না। না করাতে তিনি বিজ্ঞানীদের এক ধোঁয়াটে অবস্থানে রেখে সমানে নিজের আক্রমণটি চালালেন এবং বললেন:

“বিজ্ঞান চাই, কিন্তু বিজ্ঞানবাদিতা চাই না। বুদ্ধি চাই, কিন্তু বুদ্ধিসর্বস্বতা নয়; কারণ অতি বুদ্ধি আমাদের বুদ্ধিমান নয়, আহাম্মকে পরিণত করে। অতি বুদ্ধির গলায় দড়ি কথাটা বোধ হয় এ কারণেই আমরা বলি।“

অবশ্যই বিজ্ঞানের সুফল তো আপনি ভোগ করবেন, আপনার ভক্তেরাও করবে। কিন্তু যদি মিথ বা পুরাণের নামে নয়, বরং কোনো ঐশ্বরিক বাণির বিরুদ্ধে কেউ কুসংস্কারের অভিযোগ তোলে, তাহলে অনায়াসেই তাদেরকে আপনার এই বক্তব্যের ফ্রেমে ‘অতিবুদ্ধিমান আহম্মক’ বলা যাবে। অনায়াসেই ঐশ্বরিক কোনো বাণীর অনুসারীরা হয়ে উঠবে এই যুগের নির্যাতিত মানব। যেমন মানুষের জিনেটিক বা বংশগতিবিদ্যার উৎকর্ষের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি কী রোগ কখন হয় বা কোন রোগের প্রতিকার কীভাবে সম্ভব।

অন্যদিকে এই জিনেটিক আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে স্বতঃসিদ্ধ সত্যের মতো যে মানুষের বা অন্য প্রাণিদের বিবর্তন হয়েছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বলে দিচ্ছে যে, সব মানুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে এবং আদি মাতা বা পিতা কোনোভাবেই শুধু দুজন মানুষ থেকে আসছে না। এখানে বিজ্ঞানের সুফলটুকু নিচ্ছি কিন্তু এই সত্য কথাগুলো বললেই সে হয়ে ওঠে ‘অতিবুদ্ধিমান আহম্মক’ বা বিজ্ঞানবাদী! আর ঐ আহম্মক অতিবুদ্ধিমানদের আজকাল আর গলায় দড়ি পড়ে না, মাথায় চাপাতি পড়ে।

আমিও আপনার লেখার শিরোনামের সঙ্গে সহমত হয়ে এভাবে বলতে চাই, বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানমনস্কতা চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাই না। চাই না অন্য কোনো বাদিতাও।

সেজান মাহমুদলেখক, গীতিকার ও কলামিস্ট

২০ Responses -- “ফরহাদ মজহারের ‘বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাই না’ প্রসঙ্গে”

  1. NAYEEM

    ইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বলে দিচ্ছে, সব মানুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে এবং আদি মাতা বা পিতা কোনোভাবেই শুধু দুজন মানুষ থেকে আসছে না।

    সব মানুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে, এটা প্রমাণিত ?

    1/ Minoans ককেশীয় ছিল: ইউরোপেরর প্রথম উন্নত সংস্কৃতি আফ্রিকা থেকে যে দীর্ঘদিনের তত্ত্ব– ডিএনএ Evidence সে তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করল।

    Reply
  2. Anwar A. Khan

    I know this Mr. Forhad Mozhar for a long time, read his articles since long. He is a devil like person, a communal and an evil force, a bitter enemy of humanity and has still been standing beside the war criminals and their party – Jamaat-e-Islami and its killing outfits, Al-Badrs and Al-Shams Bahinis, Hefajat-E-Islam, another violent religious trader and he is a staunch supporter of them all. He is also a staunch supporter of their sister organization, BNP and its supremo who has been giving us so much miseries since long.

    The right place for Mr. Forhad Mozhar like people is the outfall. Let us send these vile-looking evil forces there to take good smells from there to change their minds and hearts to become good citizens! One of my friends says : “Blach will take no other hue.” He was the Guru of all misdeeds committed by Mr. Mahmudur Rahman, the so-called journalist, Editor of Amardesh during the year 2013 and during that time, their skulduggaries tried the best to get occurred communal riots in the country to suck enough human bloods to meet their thirsts. The government then took the right decision to quell them. But I was surprised to have seen that this extremely wicked guy has still remained untouched by the concerned government machineries! The old adage has aptly said : “Deal with a knave as a knave” and this is correctly applicable to Mr. Forhad Mozhar like people!

    Mr. Sezan Mahmud : You have wriiten an excellent piece: your logic is appropriate in all respects; your language is extraordinarily rich; your writing style is excellent; and finally, you have given a very fitting reply to Mr. Mozhar’s write-up. I thank you very much form the core of my heart. I would love to read similar type of rich articles from you when this type of evil force writes anything to let them understand that they will not go away without getting a jaw-breaking response!

    Reply
  3. রতন জ্যোতি

    মানুষের জীবনে প্রাথমিকভাবে একান্ত বিশ্বাস পেয়ে বসে পারিবারিকভাবে যা পরবর্তী জীবনে থেকে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে গিয়ে অথবা নতুন ঘটনা, পরিবেশের সম্মুখীন হলে পূর্ব বিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটে, এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। “জোর যার মুললক তার” শাসন ব্যস্হায় পরিবর্তিত আধুনিক/বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসকে গ্রহন করতে না পারার খেসারত দিতে হয় যখন দেখা যায় পূর্ব বিশ্বাস অসংখ্য মানুষের গ্রহণযোগ্য হয়ে আছে সবক্ষেত্রে। বাক স্বাধীনতা পরিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্হায় এটাকে ভালো চোখে দেখা হয়, কিন্তু বাস্তবতাকে মাথায় রেখে, আধুনিক বৈজঞানিক চিন্তাকে মানুষের মাঝে পৌঁছাতে। সেই আধুনিক রাষ্ট্র/সমাজ/পরিবার জ্ঞানবিকাশের পথ ঠিক রাখতে বাক সবাধীনতা দেয় আর সহিংসতাকে কখনো প্রশ্রয় দেয় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেই বাকস্বাবিকতাপূর্ণ বাংলাদেশে পণ্ডিত ফরহাদ মজহার ক্রমাগত পরিবর্তিত বিশ্বাসের গুণগান গেয়ে যান, বলেন, বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাইনা। উনি তো পণ্ডিত মানুষ, নিশ্চয় জানেন বাকস্বাবিকতাপূর্ণ দেশে একজন মেধাবী বলতেই পারে, বিজ্ঞানবাদিতা চাই, অহিংসভাবে। আর একজন জ্ঞানি, পণ্ডিত সত্য বললেই গণমানুষের প্রচলিত বিশ্বাস পরিবর্তিত হয়ে যায় রাতারাতি, এটা কোনকালেই হয়নি, আগামীতেও হবে না কেননা প্রচলিত বিশ্বাসটি মানুষকে নিত্যদিনের জীবনযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপকারী হয়। পাণ্ডিত্য অধিকারী যারা হন, বিশ্বাস যতোবারই পাল্টাক না কেনো, একটা অহিংসচর্চার আহবান, সহিংসতার বিরোধী অবস্হান তাঁর অপরিবর্তিত থাকে। পণ্ডিত ফরহাদ মজহার সে অবস্হানে আছেন, সেরকম কোনো প্রদ্রশনী কী করেছেন? কোথাও কী লিখেছেন? যখন ‘বিজ্ঞানবাদী চাই’ মানুষ সহিংসতায় আক্রান্ত হয়। এখন প্রশ্ন, পণ্ডিত আর পাণ্ডিত্য কী আসলে?

    Reply
  4. সাহানা মৌসুমী

    ভাল লাগল লেখাটা। নিখুঁত যুক্তি উপস্থাপন আর সংযত ভাষা। অনেক ধন্যবাদ লেখক সেজান মাহমুদকে।

    Reply
  5. সাহানা মৌসুমী

    ভাল লাগল লেখাটা। অনেক ধন্যবাদ লেখক সেজান মাহমুদকে।

    Reply
  6. Zashim-ur-Rahman

    Mr. Sezan Mahmud : I thank you very much for presenting such a brilliantly written piece.

    Mr. Farhad Mozhar tries to make believe with the intent to deceive; put forward a claim and assert right or possession of a delusion (common in paranoia) that he is much greater and more powerful and influential than he really is! But he actually moves or causes to move in a sinuous, spiral, or circular course.

    If someone opposes his views, he becomes offensively malodorous and he leaves no stone unturned to brand him as RAW agent. Once upon a time, I also came under his virulent attack ( I praised his power of analysis in writing articles and as I pronounced :”I did never find any conclusions (final say) in your articles and your many write-ups also prove that you were a staunch supporter of the Jammmati butchers, he then became very angry with me and made a foul comment that there were so many RAW agents in Bangladesh and you belonged to that category. And I gave him a very befitting response and he then fled away like a petty larceny!

    Reply
    • Masud Mahmud

      There are some educated but foul and wicked people in our society and this Forhad Mozhar is one of the worst of them. I also picked up a big quarrel with him in the past on several issues he wrote in his several articles. He is extremely intolerant who opposes his opinions. His deep friendship with the rotten Jamaat-e-BNP politicians is well-known to every one in the country. It may not be untrue when some people say he is funded by the Jamaati gangsters! In fact, he is a person without any personality and human qualities!

      Down with him!

      Reply
  7. Mousumi Biswas

    ভাল লাগলো লেখা টা।
    “আধুনিক বিজ্ঞানের যুগের শিশু কিশোরেরা কি ‘হ্যারি পটার’ পড়ছে না? আধুনিক পুরাণ কি তৈরি হচ্ছে না? আসলে কিন্তু বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ (এখন পর্যন্ত) পর্যায়ে অনেক তত্ত্বই আছে যা কোনে রকমের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ দিয়ে গ্রহণ করা হয়নি। বিজ্ঞান তো সাহিত্য-শিল্প থেকে আলাদা হয়েও একই সত্য অন্বেষণের আরেকটি পথ। এ কারণেই এই যুগের ডরিস মেসিংএর গল্প হয়ে ওঠে উপকথার মতো, বিজ্ঞান উপকথার মতো।”

    Reply
  8. আব্দুর রশীদ খান

    বিজ্ঞান একটাই, আর সেটা হল বাস্তবকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করা। যার ভিত্তিতে মানুষ তাঁর বৈষয়িক কাজগুলো করে থাকে। এখানে ‘বাদী’ বা ‘মনষ্ক’ ইত্যাদির কোন সুযোগ আছে কি?

    আর মানুষ ‘বিজ্ঞান’ এবং তাঁর ‘মন’ এই দুইয়ের সমন্বয়ে চলে – এখানে সমন্বয় কথাটি লক্ষ্য করুন। মন যা চায় তা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়া করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে বুঝেই মানুষ বিজ্ঞান দিয়ে যাচাই করে। এখানে ‘বাদী’ বা ‘মনষ্ক’ কথাগুলো কেউ কেউ তুলতে পারেন, কিন্তু যদি যথার্থই বিজ্ঞান চর্চা করা হয় তাতে ‘বাদী’ বা ‘মনষ্ক’ এসব দিয়ে কিছুই আসে যায় না।

    একটি আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক মনে করিঃ সেটা হল ধর্মের অপব্যবহারের ফলে অনেকে বীতশ্রদ্ধ হয় এবং ক্রমে ক্রমে নাস্তিকতার দিকে ঝুকে পড়ে। এটার জন্য কেউ কেউ বলতে চান বিজ্ঞান মানবো কিন্তু ‘বাদী’ বা ‘মনষ্ক’ হব না। আসলে বিজ্ঞানকে খন্ডিত দৃষ্টিতে না দেখে সরাসরি বলুন বিজ্ঞান মানেন কি মানেন না? কাজের খাতিরে অবশ্যই বিজ্ঞানকে ইচ্ছায় অথবা ‘ঠেকে ঠেকে’ সবাই মানেন। সুতরাং ধর্ম বা অন্য কোন কিছুর সাথে বিজ্ঞানের বিরোধ নেই।

    ধর্ম শুধু মানুষই পালন করে। ধর্ম, অতীত ইতিহাস জানা ও চর্চা এগুলো শুধু মানুষই করে অন্য কোন প্রাণির ক্ষেত্রে এসবের কোন সুযোগ না থাকলেও অন্য সব প্রানীরাও বিজ্ঞানের সূত্র মেনেই নিজ নিজ কাজ করে বুঝে বা না বুঝে। ‘বাদী’ বা ‘মনষ্ক’ যাই থাকুক মানুষ তাঁর স্মৃতিকে কাজে লাগায়, বিশ্বাসকে লালন করে। একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন মানুষকে কোন ধর্ম বা বিশ্বাস কি খারাপ কাজ করতে নির্দেশ দেয়? কিন্তু মানুষ অনেক সময়েই হত্যা-খুন-ধর্ষনের মত কাজ করেও ধর্মকে বর্ম হিসাবে ব্যবহার করতে চায়, যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আর ধর্মের সেই বানোয়াট বিধানটিও তথ্য প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। এক কথায় লেবাসধারী ভন্ড পাপিষ্ঠ কিছু বদমাইশ এবং অত্যাচারী শাসক ধর্মকে অপব্যবহার করেছে এবং তাতে অনেকেই ধর্ম থেকে দূরে সরে গেছে।

    Reply
    • সেজান মাহমুদ

      আপনি লিখেছেন “একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন মানুষকে কোন ধর্ম বা বিশ্বাস কি খারাপ কাজ করতে নির্দেশ দেয়?”
      হ্যাঁ, দেয়। আপনি পুরাতন ধর্মগ্রন্থগুলো দেখুন, ভাল করে দেখুন মানুষ কে খুন, হত্যা, শাস্তি দেয়া এগুলোর নির্দেশ আছে কি না ভাল করে দেখে বলুন।

      Reply
  9. মাসুদ রানা

    ধন্যবাদ, লেখাটির জবাব দেয়ার জন্য। ফরহাদ মজহার হলো পন্ডিত, কিন্তু জ্ঞানপাপি। উনি বাতাসের স্রোতে প্রবাহিত হোন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—