Feature Img

Shamima Binte Rahman২০১৩ সালের নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় দেশে ছিলাম না। তখন অনলাইনে খবর পড়তাম, আর আতঙ্কে স্কাইপ করতাম ঢাকায়। বাসায় সবাই ঠিকঠাক আছে তো, বন্ধুরা সবাই ঠিক-ঠাক আছে তো। যাদের খোঁজ-খবর নিতাম তারা সবাই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বা শিক্ষিত উচ্চবিত্ত। তাদের গায়ে আগুনের আঁচ লাগেনি, কিন্তু আতঙ্কে গা ভার হয়ে গেছিল; আর মাথায় কোডের মতো ঢুকে পড়েছিল একটা শব্দ, ‘পেট্রোল বোমা’।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ইন্টারেকটিভ ক্লাসে এলেন নিতিন শ্রীবাস্তব, যিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ভারতীয় সাংবাদিক এবং মাত্র কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের নির্বাচন কাভার করে এসেছিলেন। ক্লাসে তিনি ২০১৩ সালের উত্তরাখণ্ড ভূমিধসের রিপোর্ট দেখানোর পর শুরু করলেন বাংলাদেশ নিয়ে তার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ প্রসঙ্গের আগেই, ইন্টারেকটিভ ক্লাস বলে রিপোর্টের ফুটেজ, স্ক্রিপ্ট, পিটিসি, মিড-পিটিসি, এন্ড-পিটিসি নিয়ে আমি অনেক প্রশ্ন করে মোটামুটি পুরা ক্লাস ইন্টারেকটিভ করে ফেলেছিলাম। উনি জানতেন না আমি বাংলাদেশের। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসতেই তিনি বলা শুরু করলেন: “এই রকম নির্মম, এত কম টাকায় মানুষ মেরে ফেলার ঘটনা আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনে দেখিনি।”

আমি তখন আড়ষ্ট। তিনি বলে যাচ্ছিলেন, “ওইখানে যা হয়েছিল নির্বাচনের আগে, আমি তো শুনেই থ। এরপর বিবিসি রেডিওর কাদির কল্লোলকে জিজ্ঞেস করলাম, এই পেট্রোল বোমাটা কী? তখন কাদির আমাকে জানাল যে, একটা ৫০০ গ্রাম কাঁচের বোতলে একটুখানি ফাঁকা রেখে বোতলটা পেট্রোল দিয়ে ভরে ফেলা হয় আর ব্যবহার করা হয় কাপড়। ইন্ডিয়ান রুপিতে সব মিলিয়ে খরচ ৩০ থেকে ৩৫ রুপি। ওইখানে নাকি ৪০০ বা ৫০০ টাকা ভাড়ায় এসব বোমাবাজদের পাওয়া যায়। মানে মাত্র ৩০ কী ৩৫ রুপি খরচ করে ওদের রাজনীতিকরা মানুষ মেরে ফেলছে।”

প্রিয় নারী ও পুরুষ পাঠক, ক্লাসরুমে বসে এই নির্মমতা, নৃশংসতার ভার অপমানের মতো, গা-জ্বালা করা অনুভূতির ভেতর দিয়ে সয়ে গেলেও, এখন দেশে বসেই দেখছি স্বল্প ব্যয়ে সবচাইতে দামি জীবনহরণের ঘটনা– জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ মেরে ফেলার সহিংসতা। ঘর থেকে বের হলেই মৃত্যুভয়। যেন ওঁত পেতে থাকা হাত থেকে এখুনি ছুঁটে আসবে পেট্রোল বোমা। চায়ের দোকানে, গলির মোড়ে, খাবার টেবিলে, সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে, লিফটে পারস্পরিক কথোপকথনে একই আলাপ– ঠিকঠাক জান নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারব তো! ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ, আশঙ্কায় আমরা সবাই জমে যাচ্ছি। আর পোড়া চামড়া; পোড়া মাংস; পোড়া মুখের গন্ধ পানে হাত-পা খুলে নাচছে কেবল হামলাকারীরা।

খানিকটা চলমান খবরের দিকে নজর দিই; ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি-জামাত জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সমাবেশ করতে না পেরে জ্বলে উঠলেন, ডাকলেন অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আর ফাঁকে ফাঁকে হরতাল। এই অবরোধ চলছেই, মাসখানেক হতে চলল। প্রকাশিত খবর জানাচ্ছে, পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে এবং বার্ন ইউনিটে মারা গেছে প্রায় ৬০ জনের মতো। আর পেট্রোলে পুড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াদের সংখ্যা হাতের আঙুলে গুনে শেষ করা যাবে না। এর আগে, ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিরতিহীন টানা অবরোধে পেট্রোল বোমায় পুড়ে মরেছে ১২০ জন।

প্রিয় পাঠক, খেয়াল করুন, এরা কিন্ত কেউই ক্ষমতাধর নন। রাজনৈতিক কর্মী আছেন কয়েকজন, কিন্তু রাজনৈতিক নেতা নন। তার মানে, এরা এলিট নন। এরা নিজেদের গাড়িতে চড়েন না, বাসে চড়ে চলাফেরা করেন। এরা সাধারণ মানুষ। খেটে খেয়ে, চাকরি-ব্যবসা করে, স্বামী-বউ-বাচ্চা নিয়ে ভালোবাসা-মায়াময় নির্ভেজাল জীবনই যাপন করতে স্বস্তি পান।

১৩ জানুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুরে চলন্ত বাসে ছুঁড়ে মারা পেট্রোল বোমায় যে ৬ জনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হল, এরা তো নিরীহ, নিতান্ত সাধারণ জনগণ; অথবা এই ৩ ফেব্রয়ারি কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে চৌদ্দগ্রামে যে ৭ জন পুড়ে কয়লা হলেন, এরা কি ক্ষমতাধরদের, এলিট রাজনীতিবিদদের কারও গা-জ্বালা করার মতো কিছু করেছিলেন? এরাও তো নিতান্ত সাধারণ জনগণ। ‘জনগণ’ শব্দটা এ জন্যই বার বার উচ্চারণ করছি যে, এই আপনারাই কথায় কথায় শব্দটা ব্যবহার করেন, যেন জনগণ ছাড়া আপনাদের আর ভাবনা নেই। পার্টি অফিস, সমাবেশস্থল থেকে টয়লেট পর্যন্ত, সবসময় যেন এদের কথাই আপনারা ভাবেন। অন্তত সমাবেশে-বক্তৃতা-বিবৃতিতে তাই-ই প্রজেক্ট করেন আপনারা।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবার কথা ছিল সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হবার আগে, একটা আশাবাদী ভাবনাই ঘুরে বেড়াচ্ছিল সবার ভেতর। নিশ্চয়ই এবার বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে অবরোধ প্রত্যাহার করবেন এবং হরতাল দিবেন না। কিন্তু হল উল্টা। গোপন স্থান থেকে বিবৃতি দিয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ঘোষণা দিলেন, পরীক্ষার মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার হবে না এবং ৭২ ঘণ্টার টানা হরতাল চলবে।

প্রিয় নারী ও পুরুষ পাঠক, একটু নিরাপত্তার বাস্তবতায় চোখ ঘুরিয়ে আসি। বাংলাদেশ পুলিশের ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পুলিশের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার এবং দেশের মোট জনসংখ্যা অনুযায়ী অনুপাত হল, ১ হাজার ১৩৩ জনের জন্য মাত্র ১ জন পুলিশ। এর বাইরে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য আনসার বাহিনী আছে। আনসার-ভিডিপির ওয়েব সাইট জানাচ্ছে, তাতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য আছে ৪০ হাজার। সাদা চোখেই বোঝা যাচ্ছে, নিরাপত্তা দিতে চাইলেও প্রায় ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে, এই নৃশংস নির্মমতায় সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় সরকারের পক্ষে– ইচ্ছা থাকলেও।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দু’বার নির্বাচিত হয়ে এবং একবার অনির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা যদি ভাবি যে, উনি জানেন না, ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের বাবা-মাসহ প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ সরাসরি পেট্রোল বোমা আতঙ্কে আছেন, সেটা কি অর্বাচীনের মতো কথা নয়? এরাই তো জনগণ, নাকি? এরাই তো ভোটার, নাকি? মাননীয় সম্মানিত নেত্রী, কর্মসূচির ধরন দেখে এটা মনে করা কি খুব অস্বাভাবিক যে, সাধারণ নারী-পুরুষ-শিশুর পাশাপাশি এই পরীক্ষার্থীদের পোড়া চামড়ার গন্ধ নেওয়াটা এখন আপনার একমাত্র টার্গেট! বিস্ময়বোধক চিহ্ন ব্যবহার করলেও আপনার কর্মসূচি এখন আর বিস্ময় তৈরি করছে না।

বরং মনোবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দই আপনার জন্য বরাদ্দ রাখতে চাচ্ছি এই দাহকালে; সেটা হল, ‘সাইকোপ্যাথ’। আপনি নিজে ক্ষমতায় থেকে থেকে সাধারণ মানুষ চুষে চুষে, দুর্নীতি করে করে এত আরাম পেয়ে গেছেন যে, ক্ষমতায় আবার বসতে না পেরে আপনার মানসিক অসুস্থতা আপনাকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বা ‘সোসিওপ্যাথ’ বানিয়ে ফেলেছে। আপনার কাছে মানুষের পোড়া চামড়ার গন্ধ এখন রাফ লরেনের পারফিউম রোমান্সের মতোই রোমাঞ্চকর।

কিন্তু পোড়া মানুষ নিয়ে আপনার রোমান্স আমার নয়, আমাদের নয়।

শামীমা বিনতে রহমান: লেখক ও সাংবাদিক।

১৪ Responses -- “মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি ও সাইকোপ্যাথ সমাচার”

  1. শাফি আমীন

    এটা অবশ্যই সত্যি যে হরতালে জনগনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এখন একটা স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্য ব্যাপার হয়ে গেছে। এটা মোটেও সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়। আমরা যদি এই মেনে নেয়াটাকে অসুস্থ মানসিকতা বলে না মানতে পারি, তাহলে মানতে হবে, আমরা স্বার্থপর এবং কাপুরুষ। যতক্ষন ক্ষতিটা আমার না হচ্ছে, ততক্ষন আমার কিছু যায় আসে না। পরের ক্ষতি হলে প্রতিবাদ করে, প্রতিকার চেয়ে, আমার কি লাভ? এটাই কি আমাদের মানসিকতা নয়?

    আমাদের চারপাশে এখনো বীরবিক্রম আর বিরোত্তমদের অভাব নেই, কিন্তু এই কথা বলার সাহস আর কারো হচ্ছে না…” তোরা থাম। সংলাপ, নির্বাচন, সভা, মিছিল, সব বন্ধ কর। এই মূহুর্তে পেট্রোলবোমায় যাদের হত্যা করা হয়েছে, এর প্রত্যেকটির বিচার না হওয়া পর্যত্ন অন্য আর কোন দাবী নাই”।

    এসবের বিচার হলেই ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদরা মানুষের জীবনের মূল্য বুঝবেন, নইলে না। আর যদি আমরা এই হত্যার বিচার না পাই, তাহলে ক্ষমতায় কে গেল, কে এল তাতে আমাদের কি?

    যে সমস্ত সুশীল কাপুরষরা এই হত্যার বিচারের চেয়ে যে কোন মূল্যে ক্ষমতালিপ্সুদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির আপসের পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা আর যা কিছু হতে পারেন, জনগনের আপন নন।

    Reply
  2. Al-Amin

    আমার সোনার বাংলা
    আসি তোমায় ভালবাসি…

    মা তোর বদনখানি মলিন হলে
    আমি নয়নজলে ভাসি…

    এতে নরপশুদের কী যায় আসে?
    ওদের ধিক শত ধিক…

    Reply
  3. Faruk

    সত্য উপলব্দি এবং বলার জন্য আবারো ধন্যবাদ, সত্যিই জনগণ অাজ অন্ধ ক্ষমতালোভী ভয়ংকর এক সাইকোপ্যাথের হাতে জিম্মি। দুঃখ অনুতাপ হয় যখন সুশীল/কুশীল রথি মহারথীরা সংলাপের জিগির তোলে। তার আগে তারা একবারও ভাবেনা যে এই গুলশানে ঘাপটি মেরে অমিত শাহ ভুয়া ফোনালাপ, কংগ্রেসম্যানদের নামে ভূয়া বিবৃতি ইত্যকার বিভিন্ন চালবাজি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তাদের মধ্যে নেই। প্রতিদিন রুটি রোজগারের সন্ধানে বের হওয়া নিরীহ মানুষ মর্মান্তিক নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। ঐ ঘৃণিত সুশীলদের মনে ঐ নিরীহ জনগণের জন্য দয়া না হয়ে গুলশানে কারেন্ট কত ঘন্টা বন্ধ, খাবার বন্ধ, মোবাইল বন্ধ নিয়ে মোটা মাথা ঘামায়, ঘৃণা করি তাদের –

    Reply
  4. mostafa kamal

    আই এস,আল কায়দা,হুজিি,আল্লার দল এবং কাঠ মোল্লা ইত্যদির জন্য যেমন ইসলাম দায়ি নয় তেমন খালেদা, জামাত, শিবির, পেট্রল বোমা, ককটেল বোমা সুশীল দাদা,সুজন ভাই এদের জন্য রাজনীতি খারাপ না। রাজনীতিকদের পরিত্যগ নয় বরং ৭১-এর পরাজিতদের দৃঢ়ভাবে পরিত্যাগ করি।

    Reply
  5. akil

    প্রথমে তিক্ত টা বলতে হয় ! দুই বার নির্বাচিত একবার অনির্বাচিত ! আইন কি বলে ? অথবা তখন কেউ যদি বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও অনির্বাচিত তাই পেট্রোল বোমা বন্ধের নৈতিক শক্তি রাখেন না ! যদি লেখক খালেদা জিয়ার ৯৬ তে কারচুপি করে অল্পদিনের প্রধান মন্ত্রী কাল বোঝান । সাংবাদিকতায় আবেগ না আসাই ভালো আইন বলে নির্বাচিত !
    আর ম্যাট্রিক বা এস এস সি !? আপনারা কেন বোঝেন না তিন বার প্রধানমন্ত্রী , দুই বার বিরোধী নেত্রী হওয়া গেছে ম্যাট্রিক ফেল করে ! আপনি বুঝি ম্যাট্রিক পাশ করে আরও বড় কিছু হবেন ? আর আমি সাইকোপাথ বলব না তবে আরও ১৫ লাখের ১২ লাখও পাশ করলে ওরা আমার চেয়ে বেশী শিক্ষিত হয়ে যাবে কেমন লাগে না ! নারী মনস্তত্ত্ব লেখিকা আরও ভালো বলতে পারবেন নিশ্চয়ই ! !

    Reply
  6. ashraful islam

    প্রায় একই রকম মনুষ্যসৃষ্ট মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে। পেট্রোল বোমার নির্মম আঘাতে অভাবনীয় কষ্ট ভোগ করে মরছেন নিরীহ মানুষ। রাজনীতি, ক্ষমতার চাইতে আজ অনেক বড় ইস্যু হল এটাকে কিভাবে বন্ধ করা যায়?

    ১- সরকার তার মেকানিজম, প্রচলিত আইন তথা দন্ডবিধি, বিষ্ফোরক আইন, সন্ত্রাস নির্মূল আইন ইত্যাদির যথাযথ প্রয়োগ করে এবং প্রশাসন, পেট্রোল-অকটেন বেচা-কেনা-পরিবহন-মজুদে নজরদারি করে এটা কমিয়ে আনতে পারেন।

    ২- পৃথিবীর দেশে দেশে সন্ত্রাসী হামলার পরে কেউ না কেউ এটার দায়িত্ব স্বীকার করে গোপনীয় (এমনকি কখনও কখনও প্রকাশ্য) বিবৃতি দিয়ে। আর তার পর গোপনে বা প্রকাশ্যে সরকারের সাথে চলে দর কষাকষি তথা সংলাপ। আমাদের জানামতে বাংলাদেশে সেটা এখন হচ্ছে না। তবে যারা হাতেনাতে ধরা পড়ছে তাদেরকে চাপ দিয়ে গোড়া বের করে যা করার করতে হবে যাতে এটা চুড়ান্তভাবে বন্ধ হয়।

    অর্থাৎ দুই ধাপে এই সন্ত্রাস বন্ধ করে সরকার জনগনের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন – এছাড়া ভিন্ন পথে গিয়ে পথ হারিয়ে বড় দুরবস্থা তথা আফগানিস্তান, ইসরাইলের অবস্থা হোক এটা কি কেউ চাইতে পারেন ?

    Reply
  7. R Masud

    সব চাইতে ভয়ের কথা হলো, জনগণ পেট্রোল বোমার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া।
    যেমন অভ্যস্ত হয়েছে, গাড়ী ভাংচুর এর সাথে। আজকাল মানুষ মনে করে, হরতালে দিনে রাস্তায় গাড়ী ভাঙ্গা বা আগের দিন দুপুরে নিজের পাকিংয়ে রাখা গাড়ী পোড়ানো টাই স্বাভাবিক–
    হরতালে গাড়ী ভাংচুর কিন্তু একটা ফৌজদারি অপরাধ।
    আমাদের দেশের পত্র পত্রিকার, তথাকথিত সুশীল সমাজের এই সহজ শিক্ষাটা, জ্ঞান টাই নেই।
    পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে আলোচনা কর আলোচনা কর।
    হরতাল বন্ধ হয়ে আলোচনায় গেলে এই যে ৭০ জনেরও বেশী লোক মারা হলো তার বিচার এর কথা কেঊ কোন্দিন মুখেও আনবেনা ।
    সহজ কথায়, ৭০ জন মানুষ পুড়িয়ে মারাটা কে অপরাধ নয় বলে স্বীকৃতি দেওয়া–
    – ৭০ জন মানুষ পুড়িয়ে মারাটা কে অপরাধ না বলে আলোচনা করতে বলা এই লোক গুলো, পত্রিকা গুলো – জনগণকে এদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে প্রথমেই –

    Reply
  8. অপু

    এটা একটা যুক্তি হল? ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় সরকারের পক্ষে? সরকার চাইলে পারে না এমন কিছু আছে নাকি?

    আপনারা সাংবাদিকরা পুলিশ, প্রশাসন আর মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেন। অপরাধীদের ধরা হচ্ছে কিনা, শাস্তি হচ্ছে কিনা, বোমার উপকরণ সন্ত্রাসীরা পায় কিভাবে এসব বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করেন। নিজেরাও তদন্ত করে দেখেন। দেখেন না তাতে বোমাবাজি বন্ধ হয় কিনা?

    যারা পয়সার জন্য (বা হয়ত অন্য কারণে) মানুষ পোড়াতে পারে তাদের জন্য ডেসপারেট খালেদা ত উপলক্ষ মাত্র।

    Reply
    • শাফি আমীন

      “সরকার চাইলে পারে না এমন কিছু আছে নাকি?”
      আপনার অবগতির জন্য, সরকার স্বার্থপর আর কাপুরুষদের ত্যাগী আর বীর বানাতে পারে না।

      Reply
  9. SAA Castro

    ১৯৬৮ সালের কথা ।পশ্চিম পাকিস্তানে চাকুরী করি ।প্রতি সাপ্তাহিক ছুটির সময় পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনিতীর লেকচারার সিদ্দীকি ভাইর কাছে বেড়াতে যাই । তার সাথে লান্ডি কোটালে কেনা কাটা করতে যেতাম ।তাঁর কাছথেকে একটা গল্প শুনেছিলাম । যার সাথে বাংলা দেশের খালেদার মানসীকতার মিল দেখতে পাই । ঘটনাটি অনুরুপ । একজন পাকিস্তানি বন্দুক দিয়ে একজন মানুষ হত্যা করে । মৃত ব্যক্তির পাশে বসে সে কান্না করতে থাকে । সবাই মনে করে সে অনুশোচনায় কাঁদছে । একজন তাকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই তুমি কাঁদছো কেন? উত্তরে খুনি বলে যে, ‘তাকে গুলি করে মেরে তার পকেট হাতিয়ে সে মাত্র চার আনা পয়সা পেয়েছে । এ’দিয়ে তার গুলির দাম ও উঠানো গেলোনা’ । দেশবাসী অপেক্ষা করছে, কবে খালেদা কান্না করে বলতে থাকবে যে, সে টোকাইদের পয়সা দিয়ে যে সব পেট্রল বোমা মারাচ্ছে, তার দামতো উঠেই নাই, বরং কাদের মোল্লার ফাঁসিররজ্জু তার গলায় ও উঠতে আর বেশী দেরী নেই ।কারণ সে হুকুমের ও অর্থায়নের আসামি হিসেবে এই সব খুনের সমস্ত দায় দায়িত্ব থেকে বাঁচতে পারে না ।

    Reply
  10. কাশেম

    আপনার লেখায় আমার মনের কথাই প্রতিফলিত হয়েছে।আসলে খালেদা জিয়া ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তার তো মানুষের প্রয়োজন নেই। ক্ষমতাই সব।

    Reply
  11. ahsan habib

    দেশের কথা ,মানুষের কথা রাজনীতিকরা ভাবেন না । তাদের মানুষ চাইনা । চাই ক্ষমতা ।আমাদের উাচৎ এই নষ্ট স্বভাবের রাজনী তিক দের পরিত্যাগ করা । আসুন আমরা বাই করি ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—