Feature Img
ছবি: মুস্তাফিজ মামুন
ছবি: মুস্তাফিজ মামুন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন প্রফেসর ডক্টর ইউনূস। এই ক্ষেত্রে তাঁর দোষ বা অপরাধের মাত্রা কতটুকু নাকি পুরাটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিস্থিতির ফলাফল–সেই তর্ক বিস্তর করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা এখন হবে কূটতর্ক। তাঁর নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে অপমান করে তাড়িয়ে দেবার যে নজির আমরা দেখছি তার নিন্দা না জানিয়ে উপায় নাই। এটাও লক্ষ্যণীয় যে তাঁকে হেনস্থা করবার কৌশল হিসাবে আইন-আদালতের ঘাড়ের ওপর বন্দুক রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার আইন-আদালতকে নিজেদের স্বার্থে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এই নালিশ নতুন কিছু নয়। গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ১৪(ক) ধারাকে এবার কাজে লাগানো হয়েছে। ডক্টর ইউনূস জানিয়েছেন তিনি আইনী জায়গা থেকে লড়বেন। বলা হয়েছে তাঁর ৬০ বছর বয়স অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে, এখন তাঁর বয়স ৭০। আইন দিয়ে সব কাজকে যুক্তিসিদ্ধ করা যায় না। বাংলাদেশে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন মন্ত্রীও আছেন যাঁদের ৬০ বছর বহু আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়েও আমাদের কোন অভিযোগ নাই। অতি বিনয়ের সঙ্গেই বলছি, যদি আমাদের অর্থমন্ত্রী পুরা বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় সক্ষম হতে পারেন, তাহলে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডক্টর ইউনূস পালন করতে পারবেন না কেন? ডক্টর ইউনূস তাঁর পদ ধরে রাখতে চান বলে মনে হয় না, তিনি পরিষ্কার বলছেন, তিনি সুন্দরভাবে তাঁর নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসতে চান। এই ভদ্রতা ও সৌজন্য পাবার অধিকার তাঁর আছে। তাঁর সমালোচনা-পর্যালোচনা এক কথা, কিন্তু তাঁকে হেনস্থা করবার এই প্রক্রিয়াকে নিন্দা জানানো অবশ্যই দরকার। বিশেষভাবে আমরা যাঁরা ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর সমালোচক এবং এক এগারর ঘটনাঘটনে তাঁর ভূমিকা এবং সেই সময় তাঁর রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করেছি। তিনি সৎ ও সজ্জন। তাঁর ব্যক্তিগত সততা সম্পর্কে সন্দেহ অমূলক ও অর্থহীন। গ্রামীন ব্যাংক পরিচালনায় ভুলত্রুটি বা অনিয়ম ঘটেছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখবার ক্ষেত্রেও তিনি কখনই আপত্তি করেন নি।

মানি যে বাংলাদেশে সেনা সমর্থিত সরকারের ক্ষমতারোহনের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু তাকে সামনে রেখে সেনা সমর্থিত সরকার গঠনের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেন নি। যে কারণে ফখরুদ্দিন আহমদকে আমরা প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে পেয়েছি, ডক্টর ইউনূসকে নয়। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা যখন নিষিদ্ধ ছিল তখন নতুন দল করবার ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ তৎপরতার সুযোগ পাওয়াকে সহজভাবে নেবার সুযোগ খুব কম। কিন্তু তিনি তো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য সেই সময়টা তাঁর জন্য অসময় ছিল। আমরা আশা করতে পারি তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে উড়ে এসে জুড়ে বসার মত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সময়মত গুটিয়ে নিয়েছেন। এটাও ঠিক তাঁকে কেন্দ্রে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলোর চেষ্টা এতে বন্ধ হয়ে যায় নি। যে কারনে তারা জোট বেঁধেই ডক্টর ইউনূসের পক্ষাবলম্বন করছে। জোট সরকারের ওপর নানা ধরনের কূটনৈতিক চাপ দিয়ে চলেছে। ফলে অর্থমন্ত্রীকে সভা ডেকে ঢাকার কূটনৈতিক মহলকে বোঝাতে হয়েছে যে কোন বিদ্বেষবশত ডক্টর ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরানো হয় নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আর কোন উপায় ছিল না। এটা নাকি নিছকই আইনী ব্যাপার। বলাবাহুল্য, আমরা তাঁর কথা বিশ্বাস করতে পারি নি।

তাঁকে যখন “গরীবের রক্তচোষা” বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গালি দিলেন তখন আমার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল চার রকম বা চার ধরনের। প্রথমে খুবই খারাপ লাগলো। অন্য আরো অনেকের মতো আমি ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর সমালোচনা করে এসেছি বরাবরই। উন্নয়ন নীতি হিসাবে বা যদি আরো বৃহৎ পরিসরে বলি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর দূরে থাকুক এই কর্মসূচী দিয়ে ইতিবাচক অর্থনৈতিক সংস্কারের সম্ভাবনা কতোটুকু সেই বিষয়ে অনেকেই সবসময় সংশয় প্রকাশ করেছেন, সন্দেহ করেছেন। এতে গরিবী আসলে কমে কিনা সেটাও সংশয়াপন্ন। ক্ষুদ্র ঋণ বা সুদের কর্মসূচীকে নৈতিকতার জায়গা থেকে সমালোচনা করেও আমরা বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারব না। যেমন, বলা হয়ে থাকে, ডক্টর ইউনূস সুদখোর মহাজনের ভূমিকা পালন করেছেন। নৈতিক অধঃপতনের অধিক সমালোচনা বামপন্থীদের কাছ থেকেও আমরা পাই নি। নিউ লিবারেলিজম বা অর্থনৈতিক নয়া উদারনীতিবাদ বা অবাধ বাজার ব্যবস্থা যে যুগে আন্তর্জাতিক মূদ্রা ব্যবস্থা বা মূদ্রার বিচলনের মধ্য দিয়ে নিজের পুঞ্জিভবন নিশ্চিত করে সে দিকে নজর না দিলে আমরা ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্ম ধরতে পারব না। মুদ্রাপুঁজির যে বিশ্বব্যাপী চলন সে প্রক্রিয়া থেকে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী বিচ্ছিন্ন বা আলাদা কিছু নয়। একে কুসিদজীবিতা বলে নিন্দা করলে সুদ সম্পর্কে মোল্লা মওলানাদের সমালোচনার মতোই শোনায়। যেমন সুদ খাওয়া হারাম, ইত্যাদি।

প্রগতিশীল জায়গা থেকে মূল প্রশ্নটা সবসময়ই ছিল একটি সফল গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সকল প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক সমূলে উচ্ছেদ করে দিয়ে বাংলাদেশে পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের ‘দ্রুত ও ত্বরান্বিত’ বিকাশ কীভাবে সম্পন্ন করা যায়। যদি তা না হয় তাহলে পুঁজিতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া একটা দীর্ঘ, কষ্টকর ও নির্মম প্রক্রিয়ার মধ্যে খাবি খাবে এবং জাতীয় চরিত্র বর্জিত হবে। বাংলাদেশে প্রগতিশীল রাজনীতির ব্যর্থতা যে বিশাল ফাঁকি তৈরি করেছে তার মধ্যেই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির উত্থান এবং তার পেছনে ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলোর সমর্থনের রাজনীতি আমাদের বুঝতে হবে। এই তর্কগুলো আমরা জারী রাখতে পারি, কিন্তু এখন ডক্টর ইউনূস রাজনৈতিক কারনে যেভাবে হেনস্থা হচ্ছেন তাতে এই সকল জাতীয় প্রশ্নের কোন মীমাংসা হবে বলে মনে করবার কোন কারন নাই।

গরীবদের ঋণ দেবার জন্য একটি বিশেষ ব্যাংক তো থাকতেই পারে। ব্যাংকের শেয়ারের মালিক গরিবরাই কিনা, এতে গরিবী কমে কিনা বা গরিবের ক্ষমতায়ন হয় কিনা ইত্যাদি উন্নয়নবাদী তর্কেও যাবার দরকার নাই। ব্যাংক মাত্রই একটি পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যেই গরিবদের ঋণ দেয় এমন একটি ব্যাংক যদি গরিবদের টাকা ভাড়া দিয়ে সুদ তুলে সেই সুদ দিয়ে নিজেই নিজের খরচ চালাতে পারে, তাহলে সেটা কম কীসের! এর খারাপ দিক তো থাকবেই, এই ধরনের ব্যাংকের সুদের হার বেশী হতে বাধ্য। অন্য ব্যাংক নানানভাবে টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা করতে পারে বলে তাদের সুদের হার তারা কম রাখতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা সম্ভব কি? কিন্তু ডক্টর ইউনূস নিজে মুনাফা কামাবার জন্য বা নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন নি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদ মতলবে টাকা সরিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করাও কঠিন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকগুলো গরিবদের ঋণ দেয় না, তিনি একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন গরিবদের জন্যই। কিন্তু গরিবদের রক্ত চুষে নেবার জন্য তিনি নিজের জীবন ব্যয় করেছেন– এর চেয়ে নিষ্ঠুর কোন মন্তব্য আর হতে পারে না। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। তিনি গরিবের রক্তচোষার বিশ্বব্যবস্থা থেকে আমাদের নজর সরিয়ে এনে জনগণের ক্রোধ ব্যক্তি ইউনুসের দিকে ধাবিত করতে চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁকে মহৎ মনে হয় নি।

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া হোল এরকম: সরকার যদি বাংলাদেশে গরিবের রক্তচোষাদের আসলেই খুঁজে বেড়াতে চান তাহলে তো ভালই হয়। রাজনীতি ও ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে নিশ্চয়ই আরো ভয়ানক ও ভয়ঙ্কর ‘রক্তচোষা’-দের খুঁজে বের করা যাবে। তাহলে তো মন্দ হয় না। এটা করতে গেলে জাতীয় সংসদের পুরাটাই বোধহয় খালি হয়ে যাব। এমনকি ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আরো যে সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গরিবদের রক্ত চুষে বেড়াচ্ছে সরকার নিশ্চয়ই তাদেরকেও আচ্ছা শিক্ষা দেবেন, ব্যবসায়ী মহলেও তুমুল হৈ-হট্টগোল বাঁধবে। কিন্তু তেমন কোন তৎপরতা আমরা দেখলাম না। নিজের আশে পাশে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আর কাউকে খুঁজে পেলেন না। বেশ।

তৃতীয় প্রতিক্রিয়া হোল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বৃত্তি বা নজরদারি সম্পর্কে। শেখ হাসিনা সম্ভবত ঠিকই ধরেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামাত জোট তাঁর প্রতিপক্ষ হবার মতো অবস্থানে সহজে যেতে পারবে না। দমন পীড়নের মুখে তারা দাঁড়াতেও পারছে না। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাবার জন্য জনগণ বিকল্প পথের সন্ধান খুঁজবে। সেই দিক থেকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে সেই এক এগারর সুশীল সমাজ। সে ক্ষেত্রে ডক্টর ইউনূস আসলেই এখনও রাজনৈতিক হুমকি হয়েই বিরাজ করছেন। ডক্টর ইউনূস রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাইতেই পারেন, ন্যাড়া বেলতলায় দ্বিতীয়বার যায় না, বলেছেন তিনি। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের তৎপরতা দেখে মনে হয় তারা এখনও আশা ছাড়ে নি। এই বিবেচনা থেকে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডক্টর ইউনূসকে জনগণের চোখে হেয় ও অপদস্থ করা রাজনৈতিক দিক থেকে দরকারী কাজ মনে করতেও পারেন। কিন্তু এর ফলে ডক্টর ইউনূসের প্রতি সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা বাড়বে। সরকারের আচরণকে ভালভাবে নেবে না সাধারণ মানুষ।

চতুর্থ প্রতিক্রিয়া হোল, এই মন্তব্যের ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণের রূপ কী হতে পারে? বলাবাহুল্য, বিএনপি এই সুযোগটা নিজেদের দলীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইবে। ডক্টর ইউনূসের পক্ষাবলম্বন করাটাই তাদের পক্ষে স্বাভাবিক। তারা সেটাই করেছে এবং করবে। এর ফলে তাদের রাজনীতির ঝুড়িতে নগদ কোন অর্জন জমা হবে হবে কিনা সেটা এই মূহুর্তে বলা মুশকিল। বাংলাদেশের জনগণের মন ডক্টর ইউনূস কতোটা জয় করতে সক্ষম সেটা তার রাজনৈতিক দল গঠন করার প্রচেষ্টার সময় আমরা দেখেছি। কিন্তু ইতোমধ্যে পানি অনেক গড়িয়েছে এবং বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া মহাজোট সরকারের রূপ ও চেহারাও জনগণ দেখছে। ডক্টর ইউনূস রাজনীতি করবেন না, ঠিক আছে, কিন্তু তিনি চান বা না চান তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনীতির একটা মেরুকরণ ঘটবে যেখানে পরাক্রমশালী দেশগুলো ভূমিকা রাখতে দ্বিধা করবে না। দ্বিধা করছেও না। ডক্টর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তারা যে খুব খারাপ চোখে দেখছে সেটা তো এখন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ্যেই তারা বলছে। তারা ‘অসন্তুষ্ট ও বিচলিত’ (দেখুন প্রথম আলো, ৪ মার্চ ২০১১)।

অনেকে এই বলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ডক্টর ইউনূসের অপসারণের নিন্দা জানাচ্ছেন যে এতে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এমনকি শুধু ডক্টর ইউনূস বা গ্রামীণ ব্যাংকও নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। সাধারণ মানুষের দিক থেকে যদি আমরা দেখি ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হোল, কিম্বা বিরোধী দল খুশিতে বগল বাজালো তাতে কী এসে যায়! অনেকের দাবি, তাঁকে দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের ‘ব্রান্ডিং’ করছি। কথাটা একদম উড়িয়ে দেবার নয়। কিন্তু এই ‘ব্রান্ডিং’ কাদের ব্রান্ডিং? সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য? নাকি বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার জন্য হাজির করছি ডক্টর ইউনূসকে যিনি এখন শুধু গরিবের জন্য ঋণের কথা বলেন না, বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও মুনাফা কামাবার সুযোগ করে দেবার জন্য ‘সোশ্যাল বিজিনেস’-এর কথাও বলেন। তিনি নোবেল পুরস্কার পান নি, পেয়েছেন নোবেল ‘শান্তি’ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। পরাশক্তির অন্দরমহলে তাঁর কদর নিয়ে তর্কের কিছু নাই। তাঁর আগে কোন বাংলাদেশী যেখানে ধারে কাছে পৌঁছাতে পারে নি সেখানে ডক্টর ইউনূস পরাশক্তির ঘরের মধ্যে স্থান পেয়েছেন। সেটা অবশ্যই তাঁর কৃতিত্ব। তাঁর এই অর্জনকে আমরা হাল্কা করে দেখব না। পরাশক্তির অন্দর মহলে যে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অবজ্ঞা করা হোত, যে বাংলাদেশ অনাহার, অপুষ্টি ও অসুখের দেশ, বন্যা ও দুর্যোগের দেশ ইত্যাদির অধিক কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে নি, সেখানে বাংলাদেশ ডক্টর ইউনূসের দেশ বলে এখন স্বীকৃত। ভাবমূর্তির এই দিকটাকে আমরা গৌণ করব না। কারন আমরা বাংলাদেশে এমন কোন মহাবিপ্লব করে ফেলতে পারিনি যাতে আমরা ভিন্ন কিছু নিয়ে জনগণের পক্ষ হয়ে গর্ব করতে পারি। ডক্টর ইউনূসকে সমালোচনা ও নিন্দা করা সহজ, কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতার দিকেও সমানভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
কিন্তু ভাবমূর্তির কথা তুললে প্রশ্ন ওঠে, কান টানলে মাথা আসে। ডক্টর ইউনূসের এই ভাবমূর্তি বাংলাদেশের পরাধীনতার প্রক্রিয়াকে বেগবান করবার কাজে লাগতে পারে, কিন্তু বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবার ক্ষেত্রে কী কাজে লাগবে? বিদেশী মোবাইল কোম্পানি বলি, হাইব্রিড বীজের কম্পানি বলি, বা দইয়ের কম্পানি বলি – ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির ওপর সোয়ার হয়েই তারা বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে, নিচ্ছে এবং নিতে থাকবে। ক্ষুদ্র ঋণই দারিদ্র বিমোচনের পথ কিনা সেই তর্কও আমরা তুলে রাখতে পারি না। ক্ষুদ্র ঋণে গরিব আরো গরিব হয়েছে, অনেকে কিস্তি দিতে না পেরে আত্মহত্যাও করেছে তার নজির আছে। অতএব ভাবমূর্তির কথা বলে ডক্টর ইউনূসকে সমর্থন করবার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

বরং আমাদের অবস্থান হবে সোজা এবং সিধা। অর্থমন্ত্রী ডক্টর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণের পক্ষে যে যুক্তি দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। ডক্টর ইউনূস রাজনৈতিক বিদ্বেষ বা আক্রোশের শিকার, এটাই বরং স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ডক্টর ইউনূস রাজনীতি করতে না চাইলেও বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের অজুহাত হয়ে ওঠেন, এটা আমরা চাই না। দ্বিতীয়ত, ডক্টর ইউনূস সম্মানের সঙ্গে তাঁর নিজের হাতে গড়া সংগঠন থেকে সরে আসতে চাইছেন। তাঁকে তার মত করে সম্মানজনকভাবে সরে আসার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। আইন-আদালত করে তাঁর এইভাবে বেরিয়ে আসতে হবে কেন?

এমনকি নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর একদমই বেরিয়ে আসারই বা কী দরকার? এই ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে সবচেয়ে ভাল পদক্ষেপ হবে তাঁকে পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে রাখা। পরিচালনা পরিষদ এরপর গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য একজন যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুঁজে বের করুক।

২০ ফাল্গুন, ১৪১৭। ৪ মার্চ ২০১১।

ফরহাদ মজহার : কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

ফরহাদ মজহারকবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক

৯৫ Responses -- “ডক্টর ইউনূস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিস্থিতির শিকার”

  1. Ershad Mazumder

    ধন্যবাদ ফরহাদ ভাই। আমি ক্ষুদ্রঋণের একজন সমালোচক। ক্ষুদ্রঋণ আমাদের গরীব মানুষের জন্যে একটা ফার্স্ট এইড মাত্র। এটা কোন সমাধান নয়। কিন্তু এখন প্রফেসর ইউনুসকে নিয়ে যা হচ্ছে তা স্রেফ রাজনীতি। আওয়ামী লীগ বা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ইউনুসের উপর ক্ষেপে গেছেন বুঝতে পারছিনা। আওয়ামী লীগ যা যা বলছে তা অশোভনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। আওয়ামী লীগের ইউনুস বিরোধী জেদ থামা উচিত্‍।

    Reply
    • আলী আকবর

      কেন বুজতে পারছেন না ? তিনি ও তাঁর মন্ত্রীগণ বার বার স্পষ্ট করেই তো বলছেন, আন্তর্জাতিক পুরস্কার……।

      Reply
  2. Mir Anwar

    It is very sad for us indeed. There are so many problems in Bangladesh to talk about but why our government is after Dr. Yunus…!!! What they are trying to achieve…??? I really don’t understand. All I know he is an internationally recognized person, he did something good for our country and I don’t know if he make any mistake or not. If you don’t like him for any reason then stay away from him. Hopefully people of Bangladesh will realize the truth and answer it democratic way.

    Reply
  3. morshedniaz

    Recently,Prime Minister said that previous BNP alliance came to power giving commitment of selling gas to India.(If she is correct) My question is”” Did Sk Hasina come to power giving commitment of Transit to India ?”.
    Good Luck Prof. Dr. Mohammad Younus the best ever Bangladeshi of thousand years.

    Reply
  4. S.M. Apel Mahmood

    1.ড. ইউনূস কিন্তু প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনেই কবুল করেছেন যে তাঁর কাজ হচ্ছে মুনাফার সাথে সংস্থা পরিচালনা করা। তাই ড. ইউনূস মুনাফা করতে চান না, এই বক্তব্য ধোপে টেকেনা।
    2.ওনার চিঠিটা পড়েছেন দয়া করে!!! দুইটা বিকল্প আছে, দুইটাতেই ওনাকেই চেয়ারম্যন করার প্রস্তাব করেছেন নিজেই!! আর কোন অল্টারনেটিভ নাই!!!এমডি পদ থেকে সরে চেয়ারম্যন হবেন,(সরে আসতে চান!)!!
    3.Elected or selected Minister & Service holder is not the same thing. Pls try to understand. Don’t misguide general people.
    4.কেন সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো ড.ইউনূসকে রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছে? পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের স্বার্থ রক্ষা করা ছাড়া, কবে কোথায় ন্যায় ও সততাকে সমর্থন করেছে?

    Reply
    • Ershad Mazumder

      ধন্যবাদ। বাংলাদেশতো সাম্রাজ্যবাদীদের বন্ধু। আফগানিস্তান ইরাক লিবিয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনদিকে আছে, তা বিশ্ববাসী জানেন। নোবেলতো সাম্রাজ্যবাদীরাই দিয়ে থাকে। সেটা পেলেতো আমরা খুবই আনন্দিত হই। বাংগালীদের সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্য কিনা জানিনা। নোবেল বিজয়ী দুজনই সুদের ব্যবসা করতেন। একজন সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন, আরেকজন শান্তির জন্যে পেয়েছেন। সাম্রজ্যবাদের শান্তির সংজ্ঞাতো আপনারা ভাল করেই জানেন। যুদ্ধবাজরাও শান্তি পুরস্কার পায়।

      Reply
  5. আশেক ইব্রাহীম

    যথারীতি চমৎকার আলোচনা। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্টি এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রসঙ্গে এই সমস্ত আলোচনাই বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক শুন্যতার চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বরাবরই উপস্থিত। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের গরিব মানুষদের প্রতি এত ভালবাসার কারণটা বড্ডো জানতে ইচ্ছে করে। আরো জানতে ইচ্ছে করে, এইসব বুদ্ধিজীবিদের মম্তিষ্ক কোন ধরনের ধাতু দিয়ে তৈরি।

    আপনাদের কাছে আমার কয়েকটা প্রশ্ন আছে। উত্তরগুলো নিজেরা নিজেদের কাছে দিলেই হবে।
    ১. আপনারা কেউ কখনো ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতার পাসবই হাতে নিয়ে দেখেছেন?
    ২. আপনারা কি জানেন যে গ্রাহকের জমানো টাকা থেকেই আবার সেই গ্রাহককে টাকা ঋণ দেয়া হয়? জমানো টাকার সুদ দেয়া হয় ৬-১০শতাংশ আর সেই জমানো টাকা থেকে নেয়া ঋণ এর সুদ দিতে হয় ১৬ শতাংশের বেশি! এবং এই দুই ধরনের সুদের হিসাব দুইভাবে হয়! (আকাশ থেকে পড়বেন না প্লিজ। আপনার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়, আপনাদের অজানা কিছুই নেই)
    ৩. আপনারা কি জানেন একজন গ্রামীন ব্যংকের চাকরীজীবি ১২ বছর পর চাকরি ছেড়ে দিলে এককালিন কত টাকা পান, তার বেতনের কত গুন? প্রশ্ন হচ্ছে টাকাটা কার?
    ৪. বলা হয় গ্রামীন ব্যাংকের গ্রাহকেরা ব্যাংকের মালিক, ব্যাপারটা কী? মালিকেরা আবার ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করে কেন?

    Reply
    • S.M. Apel Mahmood

      আমি ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ২ বত্সর ১২০০/১৫০০ পরিবার নিয়ে কাজ করেছি । ২ বত্সরে ৫/৬ জনের মত সফল ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতার প্রতিবেদন বানিয়েছি যা দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন জায়্গায় ফলাও করে ছাপা হয়েছে । কিন্তু বাকি পরিবারগুলোর দুর্দশার কথা কেউ লিখেও না তাদের দিকে দেখার কেউ নাই। তাই এই কাজ ইচ্ছে করে ছেড়ে দিয়েছি।

      Reply
  6. probashi M

    PM hasina has once again proved what type of cruel, unpolished and unsophisticated person she is.

    But I expected dr. yunus would have resigned on time and keep himself away from these filthy people.

    best wishes.

    Reply
  7. probashi M

    Mahbub kabir has added strong comments:

    The questions are:
    1. Why didn’t you or your beloved politicians, busy with
    “digital Bangladesh” didn’t not take any initiative for
    the poor, since Jan, 1972?

    2. Removing poverty is not the lender;s responsibility, neither the
    saving/spending behaviour of the customers.

    3. Who asked for accountability of bank managers, who made millions in ’80s through unlawful bank loans, but did not care for not-so-rich applicants?

    4. Dr. Yunus may have faults in his solutions for poverty, but at least he has successfully motivated us to think about poverty and
    the poor.

    best wishes.

    khoda hafez.

    Probashi M

    Reply
  8. Golam Faruque

    I could not understand what you people want – legal outcome or sentimental outcome. You the people who writes are people from the better sects of the society and the beneficiaries of the so called social worker like Dr. Yunus are the other sects i.e the poor. Only poors know what they got from the social workers – burden of loan lead to more poverty. If legally Dr. Yunus need to be replaced everyone should accept that. At the end we can only rely on the law.

    Reply
  9. Hassan Rumee

    The whole game is quite complicated. The government is playing a dirty game, a vindictive game. The imperialists are playing a more obscure, calculated game. Dr, Yunus is a pawn at someone’s hand either intentionally or without knowing. Few instances of suicide does not proof the failure of a system or philosophy that is working for the last 30 years or so.

    The way the government is humiliating a Noble Laureate is shameful and will do no good to our image. After all, Dr. Yunus has built Grameen Bank, it is his baby. How come the government removes Dr. Yunus from his own organization? Did the government help in the past building this Bank?

    This government is making non-issues issues. They have a wrong focus. From economic development they have shifted to political issues, people care less about. People are hungry and jobless.They need food and jobs. I wonder who are around this government? Are they duffers?

    I fully agree with Farhad Mazhar that many `blood suckers’ are around the PM, They are more so around the opposition leader. The businessmen in the various chambers of commerce and and NGOs are no exception. Who will cry for the poor? They are the real unfortunate ones on whom these paradigms, politics, games and financial systems have been constructed.

    Reply
  10. জাহিদ সোহাগ

    কিন্তু সরকারের লক্ষ্য ক্ষুদ্রঋণের জাল থেকে মানুষেক বাঁচানো নয়। লক্ষ্য সম্ভাব্য পথের কাটা সরিয়ে ফেলা। এ কাজ আ’লীগ করতেই পারে। হাসিনা কেনোই-বা তার আশেপাশের(দলের) মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?
    ভালো কথা ও মিথ্যা বলা রাজনীতির অংশ। এসব করে যাচ্ছেতাই করার অধিকার সবার আছে। কেউ তা ঠেকাতে না পারলে এই ব্যথর্তা তাদেরই। এজন্য মায়া কান্না শোভা পায় না।

    ইউনুস খেলায় জিততে পারলে তাকে ওয়েলকাম। আর হারলে সরকারকে ওয়েলকাম। আমরা অস্ত্র-রাজনীতি-ক্ষমতা-এনজিও-পয়সাহীন আমজনতা। আমাদের কাজ লক্ষাস্থানের ক্ষত ঢেকে রাখা।

    Reply
  11. জাহেদ সরওয়ার

    ড. ইউনূস কি জাতীয় ঈর্ষার শিকার?

    ফরহাদ মজহারকে ধন্যবাদ জানাই। জাতি হিসেবে আমাদের সাম্প্রতিক মাতৃভাষা হচ্ছে অসহিষ্ণুতা ও অসহযোগিতা। পরস্পরের অর্জনে ঈর্ষা ও দখলেচ্ছা থেকে এর জন্ম। এই ঈর্ষাপ্রবণতা হোমোসেপিয়ান্সদের লক্ষণ। মনে হয় এখনো আমরা জাতি হিসেবে সভ্যতার প্রথম লগ্নে বাস করি। সেক্ষেত্রে আমরা প্রাপ্তমনস্ক নই। শিশুজাতি। একটা শিশু যেমন তার বাসনার জগতকেই একমাত্র আইন মনে করে। রাজনীতিবিদদের মধ্যেও এই চরম লক্ষণ দেখা যায়। মুখে জনগণ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান আর সুশাসনের বুলি, ক্ষমতায় গেলে জনগণের কাঁধে ফ্রাংকেনেস্টাইনের মতো চেপে বসা। ঠিক এভাবেই বিভক্ত পুরো জাতি। এর বাইরে নাই। এর বাইরে হলে তারা বাঁচতে পারবে না এখানে। এতেই আমরা অভ্যস্ত।
    এর উত্তর চার্লস ডারউইন মহাশয় দিয়েছিলেন ‘সারভাইবেল অব ফিটেস্ট’। অর্থাৎ যোগ্যতমের টিকে থাকা। পরিবেশ অনুযায়ী যোগ্যতার বিচার। বড় কোনো অর্জনকে আমরা সবসময় ঈর্ষা করে আসছি। এতে আমরা অভিজ্ঞ, দক্ষ। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু বিকৃত করেছি যারা এই অর্জনে নিজেদের জীবন দিয়েছিল। একটা সামগ্রিক অর্জনকে আমরা এখনো সামগ্রিকভাবে মেনে নিতে শিখিনি। এমনকি রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়াটাকেও আমরা কলঙ্কিত করেছি।
    প্রত্যেক মানুষের ভেতর শীর্ষে যাবার আকাঙ্কা আছে। যারা শীর্ষে যায় তাদের থাকে আলাদা কাঠিন্য, আলাদা পরিকল্পনা, আলাদা আপস। একে অস্বীকার করার উপায় নাই।
    মহামতি লেলিন বলেছিলেন ‘পথের প্রত্যেকটা বাঁকে বাঁকে আপস, আপসহীন কেবল লক্ষ্যে’।
    ইউনূস প্রেরিত পুরুষ নন। ইউনূস বহুদিন ধরে গ্রামীণের কাজকারবার করছেন দেশে, মাইক্রোক্রেডিট করছেন। লুকিয়ে চুরিয়ে করেন নাই। গোটা দেশ দেখেছে তার কর্মকাণ্ড। খোদ দেশের অধিকাংশ গরিব জনগণ নিয়েইতো তার কারবার। কিন্তু কোনো শাসক সম্প্রদায় এতদিন কোনো প্রতিবাদ করেছেন বলে মনে হয় না। বলেছেন বলে মনে পড়ে না ইউনূস গরিব ঠকিয়ে টাকা পয়সা করছেন। কিন্তু আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বলছেন গরিবের রক্ত চুষে ইউনূস নোবেল পেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে কোনো মানুষের বিষোদগার করা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের কাজ হতে পারে না। কারণ তিনি সকলের পিতা-মাতার মতোই। তাই বিষয়টা মানুষকে ভাবায়। ইউনূসের মাইক্রোক্রেডিট বাংলাদেশ ছেড়ে দুনিয়ার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। ক্ষুদ্রঋন নিয়া অনেক কথাবার্তা চলছে।
    ইউনূস নোবেল পাওয়ার পর থেকে এদেশে একশ্রেণীর মানুষ ঈর্ষায় ফুঁসছে। সম্প্রতি তার বিস্ফোরণ হয়েছে। ইউনূস গ্রামীণের সিও। তার গড়া প্রতিষ্ঠানের যেকোনো নতুন নতুন প্রোগ্রাম হাতে নেয়ার অধিকার তার আছে। তিনি একের ভেতর অনেক প্রতিষ্ঠান গড়তে পারেন।

    Reply
  12. Chowdhury

    As a nation why we are so self-destructive. Can’t we understand that the history of Bangladesh will always have Dr Yunus in it and Hasina with her wisdom will never understand how she will be placed in there. It can be the joke of the centuray that with her such a small profile she wanted to be nomineted for the Nobel prize. The problem is like Gaddafi she is always surrounded by her “followers’ like our finance minister who are continuously giving her that impression. She should be brought back to true reality where she is such a laughable joke for rest of the world.

    Reply
  13. Md. Moshiur Rahman

    Mr. Mozhar has written this article just to disclose the conspiracy of Govt for a specific and crisis matter regard Dr.Younus sacked. I think he is not blind fan of Younus and do not support him, but as it seems an injustice to him so he stand in favor of younus. I find no wrong here.It never prove that this script is biased. I belive if Dr Younus is sacked during the period of BNP in the same issue then Mr Mozhar also write so. I thinks there was a lot of thing to write about the matter which would clear the question about the matter.May mr. Mozhar has written it in briefly.Hope he will again write this type to clear all the fact he knows.

    Reply
  14. jamil

    awamileague ba sheik hasina bangladesher rajneetite tar kono protipokka rakte chan na.taroi dharabahikotay bnp,jamat,jatiyo partir por target silo dr.muhammed yunus.so nothing is impossible for our bangladeshi politicians.

    Reply
  15. মাহবুব কবীর

    লেখক কোন তাত্ত্বিক পাটাতনে দাঁড়িয়ে ‘সততা’ আর ‘সজ্জনতা’র সংজ্ঞা ঠিক করে নিয়েছেন? তার রাজনৈতিক গুরুত্ব কী? এমন দার্শনিক অবস্থান ধোঁয়াশা তৈরি করে কার স্বার্থ হাসিল করতে চান? লেখকগণ নির্মোহ নন। তাদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান আছে, আছে এজেন্ডা। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আপনার লেখার পাঠকের সিংহভাগই আমজনতা নয়। মন্তব্য বেছে বেছে জবাব দেবার কায়দাটাও বেশ লক্ষ্যণীয়। ইউনূস সাহেবের বহুজাতিক কোম্পানির সাথে যোগসাজশ করে দেশের সাধারণ মানুষকে ‘যোগাযোগ প্রযুক্তি’ দিয়ে উদ্ধার করেছেন, একচেটিয়া বাণিজ্যে এতই লাভ হয়েছে যে টেলিনর কোম্পানীরা বান্দার আমলের প্রতি তুষ্ট হয়ে একখান নোবেলও দিয়ে দিয়েছেন (উনি শান্তিতে নোবেল পান কী করে?)। এসব আপনার অজানা, আপনি ‘সরল মনে’ লিখেছেন বলবেন? কোন বিতর্কে না গিয়ে আপনি মহাজন (মহান যে জন?) ইউনুস সাহেবকে নিয়ে মহানুভব হতে আহ্বান জানিয়েছেন রাজনীতিকদের। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থক নই। তবু এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করি। নিজেকে কার কাতারে দাঁড় করাচ্ছেন, লেখক? আপনার এই লেখার সুবিধাভোগী কারা হল শেষমেষ? ব্যক্তি ইউনূসকে আলাদা করলেন সাম্রাজ্যবাদী ইউনূস থেকে? অথচ ‘পারসোনাল ইজ পলিটিক্যাল’ কত পুরোণো শ্লোগান। আপনাদের কাছেই শেখা। আমি চাই, দেশে এনজিও/ নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান (আপনার ভাষায়) পরিচালনার নীতিমালা তৈরি হোক। এনজিও-মালিকদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা উঠে যাক। কত লোভ আর উচ্চাভিলাষ থাকলে নোবেল পুরস্কার পাবার পরও কেউ একটা ব্যাংকের পরিচালক পদে বহাল থাকবার জন্য ৭০ বছর বয়সে আইনী লড়াই করতে চায়। এইসব লোকেদের নিয়ে জাতি হিসেবে গর্ব করে আমাদের কী ফায়দা হবে, লেখক?

    Reply
    • ami

      its like that, when Bangladesh got test status then some people were too crazy (!!), why should we get it, why? they seems to be too jelous after getting it!! so, when Yunus sir got most honourable prize, some people were and are too jelous!! why he got it!! why?? ha ha….we don’t know how to accept our success!! we don’t know how to behave with honourable person….shame….shame….

      Reply
      • Quazi Abdus Sobhan

        মাহবুব কবিরকে আন্তরিক ধন্যবাদ তার এই প্রতিবাদের জন্য।
        এইরকম অনেকেই ডাঃ ইউনূস সাহেবের জন্য মায়া কান্না কানছে। কী লজ্জা কী লজ্জা !!!!!

    • nilanto

      মাহবুব কবীর, ভাই আসাধারন বলেছেন। !!!!!!!
      আমরা যারা আম-জনতা, যারা সুশীল সমাজ, বা ঞ্জানীদের দলে নই, যারা আওয়ামিলীগ বা বিএনপি করি না, সহজভাবে বুঝি, তাদের মনের কথাই হলো আপনার এই লেখা। আজকে ফরহাদ মজহার এবং এম এম আকাশের লেখা পড়ে একমত হতে পারছি না।
      ……………………………………………….

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      সোনার কলমে লেখা! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মাহবুব কবীর। আমি আশা করেছিলাম, এই আলোচনাটি অন্যান্য মতামত বা আলোচনার মতো পেছনের তাকে ঠেলে না দিয়ে প্রকাশ্য রাখা হবে যাতে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উপর পলেমিক এবং সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের দূর্ভাগ্য, বাংলাদেশে আর কোন মানুষ ইনষ্টিটিউশন নেই। কেউ কেউ নিজেদের মহান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন ঠিকই, কিন্তু যখনই আপন গোষ্ঠির স্বার্থ বিপদাপন্ন হয়, তখন ঝাঁকের কই ঝাঁক বেঁধে বেরোয়। আমিও আওয়ামী লীগের সমর্থক নই এবং আওয়ামী লীগের ইউনূস বিরোধী ভুমিকার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করার চাইতে একজন মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে কী করে অনেক মানুষকে বোকা বানাচ্ছিলো তা উন্মোচন করাই জরুরী মনে করি। আওয়ামী লীগের এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দেবে কি দেবেনা তা নিয়ে লুটেরা মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিরা রোদন করুকগে, আমি তার ধার ধারিনা।

      Reply
    • আলী আকবর

      আমি একজন মুসলীম হিসেবে সকল সুদখোর এবং সকল দূর্নীতিজীবীদের ঘৃণা করি– পাশাপাশি তাদের সমর্থকদেরকেও। ঘৃণ্য বিষয়কে, ঘৃণ্য বিষয় দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা অধিকতর ঘৃণ্য। সকল সুদখোর ও দূর্নীতিবাজ নিপাত হোক।

      Reply
  16. Ferdous

    Reminds me of the Greek story of casting lots. The story goes that in ancient Athens once a year lots would be cast to vote people out of Athens. Two Athenians being in line one not knowing the other. Athenian #2 was a humble giving man well respected among all of Athens.

    While in line he happened to see his name on Athenian #1 pot shard. Perplexed he asked the other Athenian,

    #2: “I see you’re voting that Athenian #2 leave Athens. May I ask what he’s done?”

    #1: “Nothing actually. He’s perfect which is making me look bad. For this I wish him to leave.”
    Sure enough all of Athens voted the same. This is an important lesson in human behavior. If you’re too good a person the other monkeys will burn you as a sacrifice.

    Reply
  17. munna

    ডক্টর ইউনূছ ভালো মন্দ সেটা বড় কথা নয়। সারা বিশ্বে নোবেল বিজয়ীদের মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে সম্মান করে। দেশের জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। আমাদের উচিত তাকে নিয়ে গর্ব করা। উল্টো তাকে অপমান করে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছি। শেখ হাসিনা উনার আব্বাকে ছাড়া আর কাউকে সহ্য করতে পারেন না।

    Reply
    • nafis

      আপনি কীভাবে বলছেন যে, নোবেল-বিজয়ীদের পুরো বিশ্ব সম্মান করে? আমি নিশ্চিত যে, নোবেল পুরষ্কার সম্পর্কে বিশ্বের মোটমাট দশ-বারোটা দেশের সাধারণ মানুষ জানে, এর বাইরে নয়। ওই দেশগুলোই তথাকথিত উন্নত বা অভিজাত দেশ। একসময় কর্মসংস্থানের জন্য আমি কিছুদিন দক্ষিণ কোরিযায় ছিলাম। সেখানে নোবেল সম্পর্কে জানে এমন কাউকে পেলাম না। বিশ্বাস করুন, ওখানে শতভাগ লোক শিক্ষিত, তারপরও….

      তাই এটা খুব ফানি বিষয় যে, ড. ইউনূস নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন! কেন পেলেন? কার জন্য কী করেছেন তিনি? আমার উত্তর হল, যা করার নিজের জন্যই করেছেন তিনি।

      Reply
    • কিরণ

      নোবেল দিয়ে গুনী বিচার করতে হবে তা তো কেউ বলেছে বলে শুনি নাই। বরঙ শেখ সাদী বলেছিলেন, পোশাকে মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় না।

      Reply
  18. আহমদ শরীফ

    খেয়াল করলে দেখা যাবে, ডক্টর ইউনূসকে নিয়ে কিছু বলার ক্ষেত্রে সংযত হবার আহ্বান জানিয়ে বা প্রকারান্তরে ইউনূস প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ আঁটার হুমকি দিয়ে যে তের জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রায় সবাই বিভিন্ন এনজিওর নির্বাহী পরিচালক বা মুখ্য গবেষক ইত্যাদি। বর্তমান লেখকও সেই একই জায়গা থেকে এনজিও টাইকুন ডক্টর ইউনূসকে ডিফেন্ড করছেন বলে মনে করি। মূলত: এনজিও ঘরানার যে ব্যক্তিরা নিজেদের “অ্যাক্টিভিস্ট” বলে দাবি করেন তারা চান যে তাদের সাম্রাজ্যবাদী মুখোশ উন্মোচনের সাহস কেউ না পাক।

    Reply
  19. Miraj

    Making money is not a fool people job. You need to be a smart, very smart like devil. But in front you have to become angel like Bush. Now, if someone become that level like Mr Yunus also gone, it is better to respect as unite nation like America did always.

    may be many question regarding how he got noble and Norway have many influence regarding his noble, conflict with Nortel then suddenly his scandal came out all are in one single chain.

    At end, whatever he done but gain one pride which will be not only for him but for the nation.

    Reply
  20. সৈয়দ আলি

    ব্র্যাকের ফজলে হাসান আবেদ ড.ইউনুসের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরের স্থানে তিনি যে একজন “স্যার” এই কথাটি উল্লেখ করতে ভুলেন নি। যেন তার ব্রিটিশ লর্ড সভার সদস্য হওয়াতে বাংলাদেশের মানুষের কিছু আসে যায়। তবুও তিনি চতুর মানুষ, একথা ভালো জানেন যে বাংলাদেশে বিগম্যান কপ্লেক্সে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অসংখ্য এবং তারা সবাই তাঁর “স্যার” পদবীতে ইম্প্রেসড হয়ে তার বক্তব্যকে গুরুত্বের সাথে নেবে। এই মহামান্য “স্যার” বাংলাদেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত বলে দাবী করেন, কিন্তু বাংলাদেশের সংষ্কৃতিতে যে সম্পৃক্ত নন তা তার বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সদস্য সংখ্যা ৮৩ লাখ না বলে ৮.৩ মিলিয়ন বলাতেই বোঝা যায়।

    Reply
    • hassan rabiul

      listen bro, u should not point out those lame things, come to the major poitns, and figurre out the problem, its not d issue of grameen bank, its all abt political dilemma between two people

      Reply
  21. Jannatul Mawa

    ”কিন্তু ডক্টর ইউনূস নিজে মুনাফা কামাবার জন্য বা নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন নি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদ মতলবে টাকা সরিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করাও কঠিন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকগুলো গরিবদের ঋণ দেয় না, তিনি একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন গরিবদের জন্যই। কিন্তু গরিবদের রক্ত চুষে নেবার জন্য তিনি নিজের জীবন ব্যয় করেছেন– এর চেয়ে নিষ্ঠুর কোন মন্তব্য আর হতে পারে না। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। তিনি গরিবের রক্তচোষার বিশ্বব্যবস্থা থেকে আমাদের নজর সরিয়ে এনে জনগণের ক্রোধ ব্যক্তি ইউনুসের দিকে ধাবিত করতে চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁকে মহৎ মনে হয় নি।”– লেখকের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক একটা দিক উল্লেখ করা দরকার।

    বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতির মধ্যে দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক আশির দশকের তর্কগুলা খেয়াল করলে ইউনূসের ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের চরিত্র কেন এমন হল সেটা বুঝা যাবে। সেইসময়, দারিদ্র বিমোচন নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্কের যে ইনকাম জেনারেটিং মডেল প্রয়োগ করা হচ্ছিল তাতে ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক কোন কর্মসূচী ছিল না। খেয়াল করতে হবে, বিশ্বব্যাঙ্কের কোন মডেলই একক কোন দেশের জন্য হয় না। একই বর্গের মধ্যে যারা পড়ে সেইসব দেশসমূহে, অভিন্ন কমসূচী প্রয়োগ করা হয়। ফলে আমরা ক্ষুদ্রঋণ নামক এ উদ্যোগটিকে দেখলাম একমাত্র বাংলাদেশে এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মডেলের বাইরে থেকেই চালু হতে। ব্যাক্তিগতভাবে ইউনূস নিজে দারিদ্র সমস্যা বা এর সমাধানের জন্য যে বিবেচনা প্রয়োগ করেছেন এটা তার একান্তই নিজস্ব। তিনি ভেবেছেন, হাতে কিছু টাকা দিলে প্রত্যেকেই সেটা কারবারে খাটিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা তৈরি করতে পারবে। এই চিন্তার সমস্যা কিম্বা অকার্যকারিতা এবং এর ফলে বহুমানুষের জীবন দুর্বিষহ করার দিকটা অবশ্যই আছে। গরীবদের উপর নীপিড়নও কম হয়নি। সেটা আমরা জানি।

    কিন্তু যদি বুঝতে চাই, উন্নয়ন চিন্তার মূলধারার বাইরে এসে ড. ইউনূস কেন একক উদ্যোগে এরকম একটা ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেন। কেন তিনি বিশ্বব্যাঙ্কের মডেল থেকে নিজেকে আলাদা করে দারিদ্র বিমোচনের একটা পরীক্ষানিরীক্ষা করতে উদ্যেগী হলেন? তাহলে আমরা বুঝব যে, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেই তিনি এটা করতে গিয়েছিলেন। তার সাথে ডোনার অর্গানাইজেশানগুলার মতভিন্নতাও ছিল। পরে এক সময় তারা মেনে নেয়, ইউনূসের উদ্যোগের সাফল্য আসছে। কিন্তু এরপরও ইউনূস বিশ্বব্যাঙ্কের সাথে কাজ করেত রাজি হননি। ফলে তারা, আলাদা করে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্রঋণ মডেল প্রয়োগের দিকে যায়। সরকারিভাবে একে কর্মসূচী হিশাবে গ্রহণ করা হয় বিশ্বব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে। এখান থেকে অন্যান্য দেশেও একে ছড়িয়ে দেবার প্রয়াশ নেয়া হয়।

    যারা সারাদিন বিশ্বব্যাঙ্কের গালাগালি করেন, তাদেরকে কখেনা এইদিকটা নিয়া কথা বলতে শুনিনা। গালাগালি আর ফর্মূলায় ফেলে কাউকে দালাল বলার মধ্যে বিশেষ কোন কৃতিত্ব নাই। সন্দেহ আর ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বাইরে এসে ইউনূসের চিন্তার সমালোচনা নির্মোহভাবে কখনোই খুব একটা হয় নাই।

    মাইক্রোক্রেডিট এখন বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত জাতীয় উন্নয়ন নীতি ও দারিদ্র বিমোচন কৌশলের অংশ। অথচ ব্যক্তি ইউনূসকে আলাদা করে সুদখোর বলে গালি দিয়ে বাহাবা নিচ্ছেন সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা। তারাই বা কেন সুদখোর নয়? প্রধানমন্ত্রী আপনি ইউনূসের তত্ত্ব নিজেই সরকারী নীতির আওতায় প্রয়োগ করার পরও কি আপনাকে ”রক্তচোষা” বলা অন্যায় হবে?

    Reply
    • raju

      আপনার কমেন্ট পড়ে ভালো লাগল। ধন্যবাদ।
      ইউনুসকেন্দ্রীক ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো সত্যি-ই অসাধারণ।
      অনুমান আর কল্পনার এই বাড়াবাড়ি আমাদের ভাবনার শূন্যতাকেই কেবল নির্দেশ করে।

      Reply
  22. bashar bhuiyan

    ধন্যবাদ ফরহাদ মজহারকে চমৎকার লিখাটির জন্য । আসলে ইউনুস সাহেবকে যেভাবে অপমান করে তারই নিজের গড়া ব্যাংক থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তার সমালোচনা করার ভাষা আমার নেই । তবে কেনো কী জন্য ওনার সাথে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামিলীগ এই আচরন করেছেন আমাদের বোধগম্য নয় ? আশাকরি ইউনুস সাহেব ব্যাপারটা খোলাসা করবেন । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওনাকে “গরীবের রক্তচোষা”বলে গালি দিয়েছিলেন । উনিই কি শুধু গরীবের রক্তচোষছেন ? আপনারা রাজনীতিবিদরা কি গরীবের রক্তচোষছেননা ? শেয়ার বাজার থেকে কারা ৮৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছেন তাদের বিচার করুন । সেটা কি বড় লোকের টাকা ছিল ? ফরহাদ সাহেবের কাছে জানতে চাই সুদ হারাম না হালাল আপনি জানেন না ? আপনি মোল্লা-মৌলবীদের বিষয়ে যেভাবে লিখছেন এটা মোল্লা-মৌলবীদের অপমান করার সামিল। এটার জন্য ধন্যবাদ দিতে পারছি না । আপনি তৃতীয় প্রতিক্রিয়া যেটা করেছেন আমার ধারনা এটাই সত্য; আওয়ামিলীগ এমন কোন ম্যকানিজম করছেন যেটার জন্য ১/১১ এর মতো ঘটনা ঘটবে যার কারনে আবারও ইউনুছ সাহেব সামনে চলে আসবেন। এই জন্যই আগে থেকেই ওনাকে সামনে থেকে সরানো হয়েছে । সবাইকে ধন্যবাদ ।

    Reply
  23. নাসিফ আমিন

    লেখক বলছেন,”তিনি সৎ ও সজ্জন। তাঁর ব্যক্তিগত সততা সম্পর্কে সন্দেহ অমূলক ও অর্থহীন।”
    লেখক যদি দার্শনিক প্রশ্ন আকারে তরজমা করতে চান তা হলে কিছু সওয়াল মোটাদাগে তুলে রাখতে চাই।

    ১। চিন্তা আর তৎপরতার বাইরে ব্যক্তি কতটুকু আলাদা ব্যক্তি?
    ২। চিন্তা আর তৎপরতা মোতাবেক ডঃ ইউনূস কতটুকু সৎ ও সজ্জন?
    ৩।নিজের প্রতিষ্ঠানের সাথে ফরহাদ মজহারের সম্পর্কের বাইরে কি দার্শনিক ফরহাদ মজহারকে বিচার করা সম্ভব?
    ৪। ব্যক্তি আর ব্যক্তির চিন্তা-তৎপরতার মাঝখানে কি কোন ফারাকরেখা আঁকবার ফুরসত আছে?

    Reply
    • azmal

      আমার মনে হয় আপনি লেখকের বক্তব্যকে কনটেক্সটের বাইরে নিয়ে দেখছেন। ফলে আপনার ‘দার্শনিক প্রশ্ন’ তার পথ হারিয়েছে।
      উনি কি এখানে ড. ইউনূসের চিন্তা ও তৎপরতা আলাদা করেছেন ? পুরো লেখা জুড়েই তো ‘দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ জাতীয়’ ধারনার একজন প্রবর্তক হিসাবে ইউনূসের প্রতি ক্রিটিকাল আছেন। উনি তো আলাদা করেননি।

      তার প্রতি অসততা’র যেই অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেমন আইন লংঘনের অভিযোগ অনুযোগ, সেসব ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্বের জায়গায় তাকে সত বলা হচ্ছে । এই তো দেখলাম।

      Reply
  24. belal

    there should be lots of way to manage this situation smoothly. my understanding is that it’s political.
    Dr Yunus is not safe in this country, so what about us?

    please don’t comment like our politician.

    Reply
    • nazmul

      we are vary disappointed for replace honorable Dr Yunus….
      we gave vote awamilig for develop this country but not this kind of work….
      they are not working for our country. they are busy for replacement and replacement……

      please don’t do this because …””Dr Yunus is a world peaceful leader”…..every body respect Dr Yunus and i also salute Dr Yunus……

      Reply
  25. মুঃ মাহবুব আলম

    ডঃ ইউনূস একজন কর্মবীর বুদ্ধিমান ও পেশাদার মানুষ, দেশ-বিদেশের বহু বুদ্ধিদীপ্ত পেশাদার ব্যক্তিদেরকে, ভিন্নমতের বহু জাঁদরেল ব্যক্তিদের মতামতকে উপেক্ষা করে কিম্বা তাঁর কার্যক্রমকে দারিদ্র বিমোচনের জন্য একটি উপায় হিসেবে প্রমান করতে তাঁকে অনেক কঠোর পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা করতে হয়েছে।

    কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে কিম্বা দেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে তাঁকে এত বেশি পরিশ্রম কিম্বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়নি, এজন্য তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর কুচক্রি ঘাতকদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনাই যথেষ্ট ছিল। তাই এদেশে নিজ গুনে এবং কঠোর পরিশ্রম করে স্ব স্ব ক্ষেত্রে যারা প্রতিষ্ঠালাভ করেছেন তাঁদের মর্যাদা বোঝা ওনাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এটা বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি দুর্ভাগ্য। আপনি (ফরহাদ মাজহার) ডঃ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মসূচী সম্পর্কে একজন ভিন্নমতাবল্বী সমালোচক হলেও বর্তমান বিশ্ব-অর্থব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ডঃ ইউনূসের কার্যক্রমের মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার পক্ষে বুঝা সম্ভব হলো না এটা আমাদের জাতির জন্য বিরাট দূর্ভাগ্য।

    Reply
    • yousef

      Dr. younus is just another Hamid Karzai and he will open his mask in due course of time.
      Poverty alleviation by microcredit is now a myth. I am not sure about the real intention of Dr. Yunus.

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        আপনি ঠিক বলেছেন। ড.ইউনূস অবশ্যই বাংলাদেশের কারজাই। আর ড. ইউনূসের আসল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের বৈশ্বিক পুঁজির লুন্ঠনে যদি কোন বাঁধা আসে তাহলে তাঁর যে ইমেজ তৈরি করা হয়েছে তা ব্যবহার করে সেই বাঁধা অপসারণ করা। দুর্ভাগ্য ড. ইউনূসের, তার গ্রহ-নক্ষত্র বিগড়ে গেছে, বাংলাদেশে কিছু পাজি মানুষ তার উদ্দেশ্য ফাঁস করে দিয়েছে এবং এখন সরকারও তাঁর পিছে লেগেছে।

  26. তায়েফ আহমাদ

    গ্রামীন ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসের অপসারণ প্রক্রিয়ায় যেন সরকারী দলের বহুদিনের পুরানো আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাচ্ছি, সেইসাথে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে স্বার্থ শিকারের নতুন আবিষ্কৃত পন্থারও পুনরাবৃত্তি চোখে পড়েছে। দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে কোন পক্ষেরই কোন চিন্তা নেই।
    ব্যবস্থাপক পদে থাকা-না থাকা নিয়ে গত বছরের ১৫ মার্চ সরকারের কাছে ড. ইউনূস কর্তৃক লিখিত পত্রের কী হলো-তা কিন্তু আমরা আজো জানতে পারি নি! ইউনূসকে চেয়ামরম্যান হিসেবে রেখে দেয়াটা খুবই ভাল প্রস্তাব বলে মনে হচ্ছে।

    Reply
  27. এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো

    সরকার বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসকে ১৯৯৯ সালে যখন গ্রামীন ব্যাংকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, সেটি ছিল অবৈধ। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ইউনূসের বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বেশ কিছু তথ্য এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে- গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা সরিয়ে গ্রামীণ ট্রাস্টে হস্তান্তর, মুদ্রণকাজ অবৈধভাবে পৈত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ইত্যাদি। সর্বশেষ প্রকাশ পেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার নিয়োগের বৈধতা বিতর্ক। এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, তার বেশিরভাগই ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল সেই আমলের। শেখ হাসিনা তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন; অর্থমন্ত্রী ছিলেন এএসএম কিবরিয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-ও আওয়ামী সরকারের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের গর্ভনিং বডিতেও আওয়ামী লীগের লোকজন ছিল। সুতরাং স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যায়, সেই সময়ে যারা সরকারে ছিল, তারা কী এইসব দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিল না? গ্রামীণ ব্যাংকের গর্ভনিং বডিতে আওয়ামী লীগের আমলারা কি বসে বসে ঘাস চিবুচ্ছিলো? বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা তখন কী কাজে ব্যস্ত ছিল? তখনকার অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেননি কেন?

    ড. ই‌উনূসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কি ফ্রিগেট ক্রয়ে দুর্নীতি বা মিগ কেলংকারীর চেয়েও ভয়াবহ?

    সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ ব্যাংক ডঃ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অপসারন করে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১’-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে। ‘ব্যাংক কোম্পানি’ আইন গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য নয়, কারণ গ্রামীন ব্যাংক শিডিউল ব্যাংক নয়। অতএব, ডঃ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক হতে অপসারণের আদেশটি ‍অবৈধ। হাসিনার আগে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এবং দেশ বিদেশে হাসিনার চেয়ে খ্যাতিমান হওয়াই ইউনূসের বড় অপরাধ। তা না হলে তাঁকে আরো সম্মানজনকভাবেও বিদায় দেয়া যেত।

    Reply
      • এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো

        Why should say anything about Tareq Zia? It is Hasina who praised for Dr. Yunus in 1997 saying, ‘We in Bangladesh are proud of the outstanding work done by Professor Mohammad Yunus and the Grameen Bank he founded. He has demonstrated to the world that the poor have the capacity to productively use even a small credit and change their fate.’ But after a decade she become resentful of Yunus when he received the Nobel Peace Prize, in October 2006 – Hasina is said to believe that the prize was rightfully hers (!). In her first term of government, following the signing of a peace treaty in the Chittagong Hill Tracts, Hasina had sent emissaries around the world to lobby international statesmen, including Nelson Mandela, to nominate her for the prize. When, five years after she left power, it was Yunus who received the prize, she apparently did not take it well.

      • Saku Swapan

        জনাব Ziaul Hoque Mukta, হাসিনার চুরি ধরিয়ে দিলেই আপনার মত আ‌ওয়ামী লিডাররা তারেক জিয়াকে টেনে আনেন কেন? তার মানে বলতে চান যে, তারেক জিয়া খারাপ কাজ করেছে বলে হাসিনার খারাপ কাজ বৈধ? এখানে তুলনা হচ্ছে হাসিনার সাথে ড. ইউনূসের। দেশ-বিদেশের যে কোন ভালো মানুষই মনে করে হাসিনার চেয়ে ড. ইউনুস অনেক বেশি ভালো।

  28. azmal

    একে কুসিদজীবিতা বলে নিন্দা করলে সুদ সম্পর্কে মোল্লা মওলানাদের সমালোচনার মতোই শোনায়। যেমন সুদ খাওয়া হারাম, ইত্যাদি। ফরহাদ ভাই, আপনার এই কথাটার কোন মানে হয় না। আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানেন না। সুদের ব্যাপারে ইসলামের কঠোরতার জ্ঞান নাই বলেই আপনি এই কথা বলতে পেরেছেন। কিন্তু একটা সত্য কথা বলি, এই দেশে একমাত্র আপনার ভাষায় মোল্লা-মৌলবীরাই সুদের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন। একটা সমাজ ব্যবস্থায় সুদ যে কতটা ক্ষতিকর প্রভার রাখতে পারে তা আমরা জানি, তবে এটা ঠিক মোল্লাদের কথায় আমরা কান দেই নাই। কিন্ত আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ বলেন আর নয়া উদারনৈতিকতাবাদের কথা বলেন এসবের বিরুদ্ধে একমাত্র মোল্লা মৌলভীরাই কথা বলে গেছেন। আপনার এই কথাটা তাদের প্রতি একটু হেয়ালী তুলে ধরছে। এর মানে হচ্ছে তাদের এই সাম্রাজ্যবাদ এবং নয়া উদারনৈতিকতাবাদের বিরুদ্ধে করা জিহাদকেও আপনি হেও করেছেন।

    Reply
    • Farhad Mazhar

      বামপন্থীদের সমালোচনা প্রসঙ্গে মোল্লা মওলানাদের কথাটা এসেছে, কিন্তু কোন পক্ষকেই ছোট করবার জন্য নয়। “ক্ষুদ্র ঋণ বা সুদের কর্মসূচীকে নৈতিকতার জায়গা থেকে সমালোচনা”-র সীমা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কথাটা বলেছি। কিম্বা সুদ বা মহাজনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধর্মতাত্ত্বিক সমালোচনার সীমা প্রসঙ্গেও। যেমন, আমরা বলি ‘সুদ খাওয়া হারাম’। কিন্তু যে সুদ নিয়ে আমরা কথা বলছি সেই সুদ তো বিশ্ব পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্তর্গত ব্যাপার, পুঁজির চরিত্র ব্যাখ্যা বা পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিচার কি আমরা হালাল আর হারামের তর্ক দিয়ে সম্পন্ন করতে পারবো?
      সুদের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর অবস্থান সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল। কিন্তু ইসলামের নানান বয়ান আছে, নানান ব্যাখ্যা নানান ভেদ, পার্থক্য, বিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। মোল্লা মৌলবিদের মধ্যেও পার্থক্য আছে। কিন্তু “আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ বলেন আর নয়া উদারনৈতিকতাবাদের কথা বলেন এসবের বিরুদ্ধে একমাত্র মোল্লা মৌলভীরাই কথা বলে গেছেন” – কথাটা কি ঠিক?
      কিন্তু আপনার প্রতিক্রিয়া থেকে আমি বুঝতে পেরেছি ‘মোল্লা মওলানাদের মতো’ বলার মধ্যে আমাদের সমাজে মোল্লা মওলানাদের প্রতি যে তাচ্ছিল্য থাকে তার রেশ রয়েছে। এটা একদমই অনিচ্ছাকৃত। অন্যদিকে বামপন্থীদের মধ্যেও ব্যতিক্রম রয়েছে। আসলে “মুদ্রাপুঁজির যে বিশ্বব্যাপী চলন সে প্রক্রিয়া থেকে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী বিচ্ছিন্ন বা আলাদা কিছু নয়” — এই দিকটা আমরা বাংলাদেশে এখনও পরিষ্কার করে তুলতে পারি নি। যে কারণে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। এই দিকটা আশা করি আপনি বুঝবেন।

      Reply
      • আমিনুল বারী শুভ্র

        “যে কারণে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি।” আপনার মূল লেখাতে কিন্তু ব্যবস্থার চেয়ে ব্যক্তি ইউনূসই প্রাধান্য পেল ।।
        আমি আওয়ামী লীগার বা এ ঘরানার রাজনীতির সমর্থক নই।। তবু ভাবছিলাম, বিএনপি-জামাত জোটের সময় ঘটনাটা ঘটলে এ লেখাটি বিপ্লবের গন্ধ ছড়াতো কি না ।।

      • Mohammad Zakaria

        সাংগঠনিক পুঁজিবাদ-আমাদের প্রাইভেট ব্যাংকগুলির মালিকরা কিংবা গ্রামের মহাজনরা সূদের টাকা নিজেরা ভোগ করেন। ক্ষুদ্র খণের সুদের টাকা দিয়ে কী করা হয়? যদি এনজিও মালিকরা পকেটস্থ করে তাহলে এক রকম ব্যাখ্যা হবে।যদি বেকারের কর্ম সংস্থান হয়?আবার ক্ষুদ্র ঋণ হয়ে আবার গরিবের কাছেই ফিরে যায় তাহলে ভিন্ন বিষ্লেষণ হবে।।
        সবাই মতামত দিতে অতি আগ্রহী।এখন আমাদের দরকার বিশ্লেষণ।

    • S.M. Apel Mahmood

      সাবাস !!!! সাবাস !!! সুদও খাবেন আবার জিহাদও করবেন। যিনি খুব সহজে গরিবের টাকা দিয়ে পুঁজিপতি হবার পথ দেখিয়ে দিল তাকে নবেল দিবেন ।

      Reply
  29. Rahul

    We want to see you (Dr. Younus) as a next prime Minister. Hi Dr. Younus, please save your country. Please change your mind to join Politics to save our nation. I think you are the perfect person. We can’t see any political party in our country working for my Bangladesh. In this moment we need a very good leader for Bangladesh. When we will get a perfect Leader for Bangladesh?

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      হেঃ হেঃ হেঃ ব্রাদার Rahul সে চেষ্টা আপনার প্রিয় নেতা ড. ইউনুস করেছেন, এবং একদম ফাকা মাঠে, বিশ্বের বিপুল শক্তিমান সকল সাম্রাজ্যবাদী দেশ এবং সাম্রাজ্যবাদী হতে ইচ্ছুক দেশগুলোর সহায়তায়। মনে নেই? কিন্তু বাংলাদেশের নিরক্ষর তথাপি স্থিতধী, প্রাজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক জনগন বিন্দুমাত্র সাড়া দেয়নি। তাইতো আপনার নেতা প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে লিটারেলি কান ধরে বলেছেন, ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। তবে আপনাদের এখনো সুযোগ আছে। সামনে হিলারীর সাথে ড. ইউনুসের শলাপরামর্শ করার দিন ঠিক করা আছে। সেদিন ইউনুস যদি হিলারিকে বলে কয়ে বাংলাদেশে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তাকে ক্ষমতা দিয়ে দেয়, তাহলেই আপনার স্বপ্নপূরণ হবে। এছাড়া ড. ইউনুসের বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার আর কোন উপায় তো দেখছিনা 🙂

      Reply
      • Mithu

        মিগ কেলেংকারী, ফ্রিগেট কেলেংকারী, গ্যাস ব্লক ইজারা দিয়ে এবং ক্রস ফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যা করে হাসিনা যদি ভারত মার্কিনের লেজ ধরে ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে ড. ইউনূসকে নিয়ে আপনার এত আপত্তি কেন সৈয়দ আলি সাহেব?

        হাসিনা-খালেদার চেয়ে ড. ইউনুম অনেক ভালো মানুষ। অনেক পরিষ্কার মানুষ।

      • সৈয়দ আলি

        Mithu, আপনি ঠিকই ধরেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা এখন রাজনীতি করেন বিনিয়োগের পদ্ধতি হিসেবে। তাইতো লুটেরা ব্যবসায়ীরা সব এখন রাজনীতিবিদ। আমরা ধরেই নেই রাজনীতিবিদ হলেই সে তার বিনিয়োগ ও মুনাফা তুলে নেবে এবং তা আমাদের গাসহা হয়ে গেছে। একই সাথে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের অপ্রতিহত বিজয়ের কালে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লেজ ধরেই ক্ষমতায় আসতে হবে। কিন্তু আপনাদের ভক্তিভাজন ড. ইউনূসকে নিয়ে যে প্রামানিক তথ্যাদি এখন প্রকাশ পাচ্ছে, তার দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে গেছে। তিনি যে সফেদ দরদী হিসেবে জ্যোতির্ময়রূপ ধরে নাজেল হয়েছিলেন, তা খসে পড়ছে। প্রতিমার মাটি-রং খসে কাঠ-খড় দেখা যাচ্ছে। তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লেজ ধরে আছেন না, বরং তার নায়েব মোক্তার হিসাবে বিরাজ করছেন।

      • SAM

        আপনার হাসিনার গায়ে যে দুর্নীতির গন্ধ তার তুলনায় ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে ওঠা অপ্রমানিত দুর্নীতির অভিযোগ (যেহেতু দাতা সংস্থা নিজেই বলেছে দুর্নীতি হয় নি)রীতিমত হাস্যকর। এই লেখার অর্ধেক মন্তব্যই আপনার করা। দেখা যাচ্ছে হাসিনা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লেজ ধরেই ক্ষমতায় আসলে আপনার আপত্তি নেই!! এর কারণ সহজ বোধ্য। তখন যে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি (মিগ, ফ্রিগেট, গ্যাস ব্লক, শেভরন, এয়ারটেল, ভিওআইপি)করার সুযোগ থাকে আর থাকে বখরার সম্ভাবনা। ধন্য আপনার দেশপ্রেম। ধন্য আপনার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান।

  30. abdullah

    “ডক্টর ইউনূস তাঁর পদ ধরে রাখতে চান বলে মনে হয় না, তিনি পরিষ্কার বলছেন, তিনি সুন্দরভাবে তাঁর নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসতে চান।” তাই মনে হয়!!!
    ওনার চিঠিটা পড়েছেন দয়া করে!!! দুইটা বিকল্প আছে, দুইটাতেই ওনাকেই চ্যয়ারম্যন করার প্রস্তাব করেছেন নিজেই!! আর কোন অল্টারনেটিভ নাই!!!এমডি পদ থেকে সরে চেয়ারম্যন হবেন,(সরে আসতে চান!)!!

    Reply
  31. সৈয়দ আলি

    অনেক লিখে ফেলেছি, তারপরেও এটুকু যোগ করা প্রয়োজন মনে করছি। ১/১১ সৃষ্টি হয়েছিলো রাজনৈতিক সংষ্ষ্কারের নামে আই-ওয়াশের মধ্য দিয়ে বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে laissez-faire লুন্ঠন চালানোর সুযোগ দেয়ার জন্য। যেসব চুক্তি মইন-ফখরু সরকার করে গেছে, তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে, তাই মুহিত দেশের অর্থমন্ত্রী, তাইতো সংবিধান সংশোধনের নামে সকল চুক্তি সংসদে পেশ করার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হচ্ছে যাতে সুদূর ভবিষ্যতেও আর সেসব চুক্তি দিনের আলোর মুখ না দেখে। এই সরকারের এখন চোরের কিল খেয়ে হজম করার দশা!!

    Reply
  32. সৈয়দ আলি

    যথারীতি ভারী চমৎকার রচনা। ধন্যবাদ ফরহাদ মজহার। তবে তাঁর এই রচনাতে আমি কিছু স্ববিরোধিতা এবং ভ্রান্তি লক্ষ্য করেছি, যা আমার ধারনা এই রচনাটি তিনি যথেষ্ঠ মনোযোগ ও আন্তরিকতা থেকে লিখেন নি। কিছুটা যেন ফরমায়েশি কাব্যমঙ্গলের মতো। তিনি শুরুতে বলেছেন,”তিনি সৎ ও সজ্জন। তাঁর ব্যক্তিগত সততা সম্পর্কে সন্দেহ অমূলক ও অর্থহীন।”, ” কিন্তু ডক্টর ইউনূস নিজে মুনাফা কামাবার জন্য বা নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন নি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদ মতলবে টাকা সরিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করাও কঠিন। “। আবার শেষাংশে তিনিই বলছেন,”অনেকের দাবি, তাঁকে দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের ‘ব্রান্ডিং’ করছি। কথাটা একদম উড়িয়ে দেবার নয়। কিন্তু এই ‘ব্রান্ডিং’ কাদের ব্রান্ডিং? সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য? নাকি বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার জন্য হাজির করছি ডক্টর ইউনূসকে যিনি এখন শুধু গরিবের জন্য ঋণের কথা বলেন না, বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও মুনাফা কামাবার সুযোগ করে দেবার জন্য ‘সোশ্যাল বিজিনেস’-এর কথাও বলেন। তিনি নোবেল পুরস্কার পান নি, পেয়েছেন নোবেল ‘শান্তি’ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়।”। এই স্ববিরোধিতা কেন? বাংলাদেশের সব মানুষ গাড়ল নয়, আমরা জানি ফরহাদ মজহার সঠিকই বলেছেন, বৈশ্বিক পুঁজির একজন মুজাহিদ হিসাবেই ড. ইউনুস বাংলাদেশে কর্মরত। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উৎপত্তি সম্পর্কে এই বিভাগেই সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার লিখে সবাইকে জানান দিয়েছেন। কী ভাবে সরকারের মালিকানার অংশ হ্রাস পেল? ড. ইউনুস গ্রামীণ ব্যাঙ্কের নামে আসা ফান্ড গ্রামীন ব্যাঙ্কে জমা না দিয়ে নিজের “সোশ্যাল বিজিনেস” করার জন্য সৃষ্ট কোম্পানীতে জমা করে সেখান থেকে গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে ঋণ নিতে বাধ্য করেছেন। “সোশাল বিজিনেস” করার জন্য যেসব কোম্পানী তিনি সৃস্টি করেছেন, তা তাঁর একক কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়, সাথে আছে তার পরিবারের সদস্যরা। জনাব ফরহাদ মজহার কী আমাদের বিশ্বাস করাতে চান যে ড.ইউনুস একজন naive, সৎ ও সজ্জন মানুষ? কেন গ্রামীন ব্যাঙ্ক তার ইন-হাউজ ম্যগাজিনে তাদের প্রথম গ্রাহক সুফিয়াকে সফল ঋণগ্রহিতা বলে দাবী করে অন্যের দালান তার নামে দেখিয়ে সাফল্যের কল্পকথা প্রচার করেছে? যখন সুফিয়া ভিক্ষুক হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে গ্রামবাসীদের দয়ায় একটুকরো কাফনের কাপড় পেয়েছে? সেকি ড.ইউনুস সৎ ও সজ্জন বলেই গ্রামীণ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁর অজান্তে ওই ম্যাগাজিন ছাপিয়ে ফেলেছিল? ঝিনাইদহের ঋষিপাড়াকে হিলারিপাড়া নামকরন করে সেখানে ড. ইউনুসের ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে ভয়াবহ পরিনতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তার পরেও বলতে হবে ড.ইউনুস সৎ এবং সজ্জন? ফরহাদ মজহার, আপনার চেয়ে ভালোও আর কে জানে, “অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয়না”। যে কোন কারনেই হোক, আপনাকে এই নিবন্ধ রচনা করতে হয়েছে, তাইতো ড.ইউনুসকে যে মহাব্যবস্থাপক পদ থেকে নয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, এতো বড় ভ্রান্তি আপনার নিবন্ধে মাথা উঁচু করে বিরাজ করছে। মনের মধ্যে কোন দ্বৈরথ নিয়ে আপনাকে এই নিবন্ধ লিখতে হয়েছে, ফরহাদ মজহার? এই সরকার ড. ইউনুসকে নিয়ে যে নাটক করছে, তা ভিন্ন বিষয়, কিন্তু এই সুযোগে ড.ইউনুসকে অপাপবিদ্ধ, সৎ ও সজ্জন বানানোর চেষ্টাকে রুখতে হবে।

    Reply
    • Farhad Mazhar

      আমার “কিছুটা” স্ববিরোধিতা ও ভ্রান্তি কোথায় তা আন্তরিক ভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। তবে বুঝেছি যে আমার অপরাধ কেন ডক্টর ইউনূসের ‘ব্যক্তিগত সততা’ সম্পর্কে আমার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছি। বুঝেছি, তাঁকে ‘সৎ ও সজ্জন’ বলাও দোষের হয়েছে। বলেছি, কারন ক্ষমতাসীনদের আক্রমণ ব্যক্তি ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে – ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর বিরুদ্ধে নয়, কিম্বা এক এগারোর সময় তাঁর ভুমিকা, পরাশক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর পিঠে বসে বহুজাতিক কোম্পানির বাজার দখল ও বিস্তার ইত্যাদি কোনটির বিরুদ্ধেই নয়। ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের এই আক্রোশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমি প্রয়োজন মনে করেছি। তাঁকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল ও সুশীল সমাজের যে রাজনীতি তার বিরোধিতা করবার জন্য তাঁকে পাপী, অসৎ ও দুষ্ট প্রমাণ করার আমি কোন প্রয়োজন দেখি না। বরং এই পথ পরিহার করাই এখন সঠিক রাজনৈতিক পথ, এই পথ সংকীর্ণ। “মনের মধ্যে কোন দ্বৈরথ নিয়ে” আমি এই লেখা লিখি নি। ডক্টর ইউনূসকে নিয়ে যে সকল অভিযোগ তিনি তো তার তদন্ত করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান নি। কিন্তু তাঁর ‘বিচার” তো আমরা আগেই করে বসে আছি!

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        ধন্যবাদ ফরহাদ মজহার যে আমাদের মতো অকিঞ্চন পাঠকদের রচনা প্রয়াস আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। আমার মন্তব্যে আমি সরকার যে নাটক করছে তাকে একটি পৃথক বিষয় বলে উল্লেখ করেছি। মার্কিন-ইজরেল-ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এই সরকারের ক্ষমতা দখল এবং পরতে পরতে তা উন্মোচিত হচ্ছে। নিম্নরুচি ও অশিক্ষা সরকারের মূল শক্তি। কিন্তু আমরা সরকারের ভাষ্যের ধার ধারি না, বরং ড. ইউনুস বাংলাদেশের একজন ইনষ্টিটিউশন না হয়ে বাংলাদেশের লুটেরা ব্যবসায়ীদের মতো অসততা ও দুর্জনতা দেখিয়ে ব্যাক্তিগত সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

      • Rony

        ইজরাইলের কী কী এজেন্ডা আছে আসলে বাংলাদেশ নিয়ে একটু জানাবেন? আপনার তথ্যের সূত্রগুলো কী কী?

  33. আহমদ শরীফ

    “গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ১৪(ক) ধারাকে এবার কাজে লাগানো হয়েছে। ডক্টর ইউনূস জানিয়েছেন তিনি আইনী জায়গা থেকে লড়বেন। বলা হয়েছে তাঁর ৬০ বছর বয়স অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে, এখন তাঁর বয়স ৭০। আইন দিয়ে সব কাজকে যুক্তিসিদ্ধ করা যায় না। বাংলাদেশে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন মন্ত্রীও আছেন যাঁদের ৬০ বছর বহু আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়েও আমাদের কোন অভিযোগ নাই। অতি বিনয়ের সঙ্গেই বলছি, যদি আমাদের অর্থমন্ত্রী পুরা বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় সক্ষম হতে পারেন, তাহলে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডক্টর ইউনূস পালন করতে পারবেন না কেন?”
    এত বিনয় দেখানোর দরকার কী ? আপনিও ড. ইউনূসের মত আইনী জায়গা থেকে বলেন না। তা না করে স্বক্ষমতা আর অভিযোগের মত অদরকারি প্রসঙ্গ কেন তুলছেন ?

    “বলাবাহুল্য, আমরা তাঁর কথা বিশ্বাস করতে পারি নি।”
    কেন ? পুরো লেখায় কোথাও তো উত্তর পেলাম না। আমরা মানে কারা ?

    “নৈতিক অধঃপতনের অধিক সমালোচনা বামপন্থীদের কাছ থেকেও আমরা পাই নি”।
    আনু মুহাম্মদ এবং আপনার রাজনৈতিক মিত্র বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে লিখছেন। আপনার কি সেগুলোকে “অধ:পতন” এর অধিক মনে হয় নি ? নাকি আপনার বদরুদ্দিন উমরকে বামপন্থী মনে হয় না ?

    “কিন্তু ডক্টর ইউনূস নিজে মুনাফা কামাবার জন্য বা নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন নি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদ মতলবে টাকা সরিয়েছেন সেটা বিশ্বাস করাও কঠিন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকগুলো গরিবদের ঋণ দেয় না, তিনি একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন গরিবদের জন্যই। কিন্তু গরিবদের রক্ত চুষে নেবার জন্য তিনি নিজের জীবন ব্যয় করেছেন– এর চেয়ে নিষ্ঠুর কোন মন্তব্য আর হতে পারে না। ”
    মুনাফার জন্য যে করেন নি, তা আপনি কীভাবে জানলেন? বদ মতলবে টাকা সরানো বিষয়ে আপনার অবিশ্বাস ধুয়ে কি জনগণ পানি খাবে ?

    “নিষ্ঠুর মন্তব্য”, “বিশ্বাস করা কঠিন” এই জাতীয় বিশ্লেষণ (!) আর অজস্র অনুমান ভরা এই লেখা আপনাকে নিচে নামিয়ে এনেছে।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      আপনার মন্তব্য সঠিক এবং আমি ঐকমত্য পোষন করছি। একই সাথে যোগ করতে চাই যে ড. ইউনুস কিন্তু প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনেই কবুল করেছেন যে তাঁর কাজ হচ্ছে মুনাফার সাথে সংস্থা পরিচালনা করা। তাই ড. ইউনুস মুনফা করতে চান না, এই বক্তব্য ধোপে টেকেনা।

      Reply
  34. rony

    শ্রদ্ধা,বন্ধুত্ব আর বিশ্বাস- এই তিন বিষয় ছাড়া ইউনুসের সাথে মার্কিন রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের আর কোন ব্যখ্যা যে থাকতে পারে তা বাংলাদেশের তথাকথিত ক্রিটিক্যল স্কুলের লোকদের চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত না হলে যানা যেত না। ওই তিন জিনিষের যথেষ্ট অভাব এই সমাজে আর তা অর্জন করবার মত মানুষের সংখ্যাও কম। খুব স্বাভাবিক যে ইউনুসের প্রতি মার্কিন সমাজের শ্রদ্ধাকে আমরা তাদের স্বার্থের প্রকাশ হিসেবেই দেখবো। আর ইউনুসের ভাবমূর্তি যে দেশের পরাধীনতার গতি বেগবান করতে সহায়ক হচ্ছে তা বলার মাধ্যমে মজহার সাহেব হাসিনাকেও ছাড়িয়ে গেলেন।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      শ্রদ্ধা,বন্ধুত্ব আর বিশ্বাস- এই তিন বিষয় ছাড়া ইউনুসের সাথে মার্কিন রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের আর কোন ব্যখ্যা যে থাকতে পারে তা বাংলাদেশের তথাকথিত ক্রিটিক্যল স্কুলের লোকদের চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত না হলে যানা যেত না।” এর চেয়ে হাস্যকর এবং ইতিহাস বিরোধী বক্তব্য আর হতে পারেনা। পৃথিবীর তাবৎ স্বৈরাচারীগন, স্বদেশ বিরোধী (মতিয়া চৌধুরীর ভাষায়) মাথা বিক্রি হওয়া “বড়” মানুষ, সবার সাথে মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের “বন্ধুত্ব” তখনই হয় যখন এরা সবাই মার্কিন তথা বৈশ্বিক পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করে। এটি এতই স্বতঃসিদ্ধ যে এখন আর তা প্রমান করাও লাগেনা।

      Reply
      • raju

        ১৯৭১ সাল থেকে কেনেডী পরিবারের কারো-কারো সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব-কে কীভাবে দেখা যেতে পারে? বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে যেসব সিনেটর কংগ্রেসে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন তাঁদেরকে আমরা কীভাবে দেখতে পারি?
        জয়ের মার্কিন বন্ধুদের সম্পর্ক আমরা কীভাবে ব্যখ্যা করব?
        আসুন মার্কিন জনগনকে আমরা বুঝাই ওনারা বাংলাদেশের দালাল।
        দরিদ্রের সাথে ভালো সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব, প্রভাবশালীদের সাথে বন্ধুত্বের নাম দালালি।
        এটাই মনে হয় সতঃসিদ্ধ।
        ইউনুসের মার্কিন দালালির কিছু তথ্যভিত্তিক প্রমান দিন। (আশা করি তথ্য শব্দের অর্থ জানা আছে)।

      • সৈয়দ আলি

        প্রিয় রাজু, কোন বিষয় নিয়ে পলেমিক চালানো একটি একাডেমিন বিষয়, এখানে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন বা হেয় করার প্রবনতা খোদ প্রবনতাকারীর যোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। যাহোক, তথ্য শব্দের অর্থ আমার জানা আছে,নিরেট মূর্খ নই। ড. ইউনূসের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার প্রভু বৈশ্বিক পুঁজিবাদের খাস দালালী করার এতো বেশি প্রামান্য তথ্য আছে, যে আমি যদি তার কিয়দংশও এখানে উল্লেখ করি, তাহলে বিডিনিউজ২৪.কম তাদের মেগাবাইট খরচ করার অপরাধে আমাকে কান ধরে এই ফোরাম থেকে বের করে দেয়ার সম্ভাবনা। বরং বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখলেই ল্যাঠা চুকে যায়। কেন সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো ড.ইউনূসকে রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছে? পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের স্বার্থ রক্ষা করা ছাড়া, কবে কোথায় ন্যায় ও সততাকে সমর্থন করেছে? অলমিতি বিস্তরেন।

      • Rony

        আমার মনে হয় না এখানে কোন মন্তব্যকারীর তির্যক মন্তব্যকে যোগ্যতা আর মূর্খতার অভিযোগ হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে। বরং আলাপটাকে আনন্দের সাথে দেখা উচিত। টেক্সট-এর জন্য তেমন মেগাবাইট আসলে খরচ হয় না। আপনি বরং কিছু ‘তথ্য’ দিন। কথা হচ্ছিল ইউনূসের কিছু দালালির প্রমান দেবার, যেটা অনুমান ভিত্তিক নয়।

      • Raju

        আমি তো জানতাম একাডেমিক আলোচনায় পলেমিক্স যত কম থাকে ততই ভালো। রাজনৈতিক আর সাহিত্যিক বিতর্কে পলেমিক্স মানায়। আপনারটাও মানাচ্ছে। আপনার যোগ্যতা বিষয় নিয়ে আমার কোন কমেন্ট ছিল না, থাকবেওনা। সার্কাজমের ব্যবহারটা ছিল আপনার আলাপে তথ্যবিহীন ঢালাও অভিযোগের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ।

      • রনি

        আরেকটা বিষয় বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। দু’লাইন কমেন্ট লিখে কারো ভাবা উচিৎ না তিনি আহামরি কোন একাডেমিক আলোচনার সামিল হয়ে গেলেন। লোক সম্মুখে এসব ভাব গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ।

  35. Amin

    apni bolchen j, awami league still think that, Dr Yunus is threat for them. tahole question, government ki eta confirm j arekta 1/11 asbe and then ‘third force’ will take power?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—