Feature Img

shamaruhmirzaফটোগ্রাফির এনালেটিক্যাল কিংবা থিওরেটিক্যাল ব্যাপারগুলো খুব একটা না বুঝলেও এটা বোঝা কঠিন নয় যে, একটি ফটোগ্রাফ দর্শকের মগজে একটা গল্প তৈরি করে দেয় । একটা সময়ের গল্প, একটা মুহূর্তের গল্প, কখনও একটা জীবনের গল্প ।
একটি ফটোগ্রাফে কি ছবি তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে কিংবা পর মুহূর্তে কী ঘটেছিল তা জানা যায়? ফটোগ্রাফ কি ম্যানিপুলেট করা যায় না ? তবু সাধারণ মানুষের ধারণা, ছবি মিথ্যা বলে না! ফটোগ্রাফির শুরু হয়েছিল ১৮৩০ সালের দিকে , এবং সেই থেকে বদলে গেল মানুষের চোখে পৃথিবীকে দেখা! থেমে থাকা মুহূর্ত হয়েও একটি ফটোগ্রাফ মানুষের মগজে যুগের পর যুগ চলতে থাকে, তাই বিশ কিংবা তিরিশ বছর পরেও, এ্যালবামের পাতা উল্টালে নস্টালজিক মানুষ ফিরে যায় অতীতে, স্পর্শ করে ঘটনাটিকে । বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠে ।

ফটোগ্রাফ শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেই নয়, সাংবাদিকতারও একটা অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে আজ । ফটোগ্রাফ যেকোনো রিপোর্টের অক্ষরগুলোকে নিয়ে যায় আরেক মাত্রায়। রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যায় অনেক যখন পাঠক একটা ছবিও দেখে ভাষ্যের সাথে । কে না জানে; “Seeing is believing”।
১৯৯০ এর দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি এসে বদলে দেয় পুরো প্রেস ফটোগ্রাফি । ফিল্ম ক্যামেরার মতো সময় সাপেক্ষ প্রসেসিং নেই, তাই মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ছবি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । বিভিন্ন সেন্সর সাইজের নানান রকমের ক্যামেরা নিয়ে বাজারে উপস্থিত হোল হ্যাসেলব্লাড, লেইকা, নাইকন, ক্যানন, মামিয়া, পেনট্যাক্স আর সনি । ২০০০ এর দশকে এসে “SLR” এর জায়গা করে নেয় “dSLR”, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সাংবাদিকতায়। বিশ বছর আগে ডার্ক রুম ছাড়া যেখানে কোন সংবাদপত্রের অফিস কল্পনাই করা যেত না, আজ সেখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও ডার্ক রুম নেই ।

আধুনিক ফটো-সাংবাদিকতার জনক বলা হয় হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসোঁকে। ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার ব্রেসোঁর ছবি তোলার স্টাইলটি পরিচিত ছিল “স্ট্রিট ফটোগ্রাফি” নামে যা পরবর্তীতে বহু বিখ্যাত ফটোগ্রাফারের প্রেরণার উৎস। ব্রেসোঁর এক বিখ্যাত উক্তি – “To take photographs means to recognize – simultaneously and within a fraction of a second – both the fact itself and the rigorous organization of visually perceived forms that give it meaning. It is putting one’s head, one’s eye and one’s heart on the same axis”। ১৯৪৮ সালে গান্ধীর শেষকৃত্যের ছবি তুলে পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেন ব্রেসোঁ। এভাবেই শক্তিশালী ফটোগ্রাফ পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেয়, জাগিয়ে তোলে ঘুমন্ত বিবেককে । এমনি কিছু ছবির গল্প বলবো এই লেখাতে ।

১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার একটি ছবি তুলে এ. পি.’র ফটোগ্রাফার নিক উট জিতে নেন পুলিত্জার পুরস্কার । ছবিটি ’৭২ সালে World Press Photo of the Yearও মনোনীত হয় । নিকের বিখ্যাত ছবির সেই মেয়েটি ছিল থি কিম ফুক । দক্ষিণ ভিয়েতনামের ত্রাং বাঙ গ্রামে থাকত ফুক । সেদিন ছিল ৮ই জুন, ১৯৭২ সাল । ৯ বছর বয়সী ফুক এবং আরো অনেকে পালিয়ে যাচ্ছিল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে । শত্রু সৈন্য সন্দেহে ফুকের দলটির উপরে নাপাম বোম ফেলে এয়ার ফোর্স । মুহূর্তেই মারা যায় ফুকের দুই আত্মীয় এবং আরো দুই গ্রামবাসী । ফুকের পুরো শরীর পুড়ে যায়, উলঙ্গ হয়ে মেয়েটি দিগ্বিদিক ভুলে দৌড়াতে থাকে রাস্তায় । চিৎকার করতে থাকে, “নং কুয়া, নং কুয়া”(প্রচণ্ড গরম, প্রচণ্ড গরম)। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিকের ক্যামেরার শাটার ক্লিক করে ওঠে, সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক ফটোগ্রাফের । ছবিটি মানবজাতিকে আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রাজায়-রাজায় যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব । মজার ব্যাপার হলো, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সন্দেহ ছিল এই ছবিটির সত্যতা নিয়ে! তিনি মনে করতেন ছবিটি বানোয়াট! যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে প্রেসিডেন্টরা চিরকালই বোধ হয় মগজহীন-হৃদয়হীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়!

(ছবিটি দেখতে পারেন http://www.gallerym.com/work.cfm?ID=280 লিঙ্কে গিয়ে ।)
সময়টা ১৯৮৯ । স্টুয়ার্ট ফ্রাঙ্কলিনের একটি ছবি পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে স্পর্শ করে গভীরভাবে । শুরুটা হয়েছিল মাত্র তিন হাজার ছাত্রের অনশন দিয়ে । সাত সপ্তাহে সেটা পরিণত হয় লাখো মানুষের মুক্তি সংগ্রামে! স্থান তিয়েনান্ম্যাম স্কয়ার ; ট্যাঙ্কের পর ট্যাঙ্ক এগিয়ে আসছে ছাত্রদের দিকে । হঠাৎ একটি ছেলে দাড়িয়ে গেল ট্যাঙ্কের সামনে, একা, নিরস্ত্র, দৃঢ়, হাতে শুধু ছোট্ট দুটো ব্যাগ । ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা সৈন্য স্তম্ভিত । ছেলেটির প্রচণ্ড সাহসের কাছে নতজানু হয়ে সৈন্য তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় । বিশাল, ভয়ংকর ট্যাঙ্কের সামনে অটল দাড়িয়ে থাকা শীর্ণকায়, ছোটখাটো এই ছেলেটির ফটোগ্রাফ দেখে পুরো পৃথিবী চমকে যায় । বাজার ফেরত ছেলেটি কে ছিল আমাদের আজো জানা হয়নি, কিন্তু তার আকাংখার সাথে নিজেকে রিলেট করতে মোটেও অসুবিধা হয় না । মানুষের চিরকালের আকাংখা, মুক্তির আকাংখা । এর তীব্রতায় মানুষ যে মহামানবে পরিণত হয়, ফ্র্যাঙ্কলিনের এই ছবিতে তাই যেন আবার প্রমাণিত হয় ।

ছবিটি দেখতে পারেন http://www.worldsfamousphotos.com/index.php/2007/03/21/tiananmen-square-1989/ লিঙ্কে গিয়ে ।
কিছুদিন আগেই তিউনিসিয়ায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে গেল । এক একটি ছবি দেখছিলাম আর মর্মে মর্মে অনুভব করছিলাম তিউনিসিয়ার বিপ্লবের উত্তাপ । ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তির মত বিস্ময়কর আর কিছুই বোধ হয় নেই পৃথিবীতে ! চোখ আটকে যায় একটি ছবিতে । ছবিটি ইমেদ-এর বাসার লিভিং রুমের। দেখলে মনে হয় যেন যুদ্ধ ক্ষেত্র ! ছাদ ভেঙ্গে পরেছে, বিশাল পিলারগুলো বিধ্বস্ত, কোথাও কোন আসবাবপত্র অবশিষ্ট নেই। গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনতার ব্যাপক লুণ্ঠনের শিকার হয় শাসক গোষ্ঠীর বিলাসবহুল ভিলাগুলো। ছবিটির পরতে পরতে জনতার ঘৃণা মূর্ত। পালিয়ে যাওয়া তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলীর স্ত্রী লায়লা ত্রাবেলসি । লায়লারই ভাগ্নে হলো ইমেদ । ২০০৬ সালে ৩ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট হারিয়ে যায় কোর্সিকার কোস্ট থেকে । এক সপ্তাহ পরে ইয়টটি দেখা যায় তিউনিসিয়ার সমুদ্র সৈকতে, তাতে নতুন রংয়ের প্রলেপ । ধারণা করা হয়, ইমেদ ছিল এই ইয়ট হাইজ্যাকের পিছনে। ইমেদের দুর্ভাগ্য, ইয়টটির মালিক ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট সারকোজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুনো রজার । অতএব, এক লক্ষ ডলার দেয়া সত্ত্বেও ইয়টটি ইমেদের হজম করা হয় নি ।

আবার তার সৌভাগ্যও বটে যে বেন আলী, সারকোজির ঘনিষ্ঠ মিত্র । তাই ইমেদ আর তার ভাই ময়েজ ইন্টারপোলের লিস্টে থাকা সত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি । ইমেদ থেমে থাকে নি । থেমে থাকেনি ইতালি থেকে তার জন্য দামী সুট আসা । থামেনি দামী সিগার উপভোগ এবং ফ্রেঞ্চ ওয়াইন পান । প্রায়ই বিলাসবহুল, জাঁকজমক পার্টি হতো তার প্রাসাদোপম ভিলায় অথবা লা-গুলোতের একটি রেস্তোরাঁয় । এখানে জেনে রাখা ভালো, ইমেদ নিজেই ছিল লা-গুলোতের মেয়র । ইমেদের একটি দাতব্য সংস্থা ছিল; “নুর” তার নাম । “নুর” গরীব বাচ্চাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করত । অতি উত্তম! অবশ্য দুষ্টজনের (!) মুখে শোনা যায় অন্য কথা । “নুর” ছিল আসলে একটি আগাগোড়া চাঁদাবাজ সংস্থা । “নুর”কে ব্যবহার করে ইমেদ চাঁদা আদায় করত ধনী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ।

স্বৈরাচারী বেন আলী, তার ক্ষমতাধর স্ত্রী লায়লা এবং দুর্নীতির বরপুত্র ইমেদের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র আক্রোশ শুধু তাদের ভিলা লুট করার মধ্যেই থেমে থাকে নি। বেন আলী ও তার পরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জানা যায়, গত ১৪ই জানুয়ারি, পালাতে গিয়ে তিউনিসিয়া বিমানবন্দরে ধরা পরে ইমেদ, এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

প্রচুর সিনেমা দেখত ইমেদ । সহচরদের “গড ফাদার” সিনেমার একটি উক্তি প্রায়ই মনে করিয়ে দিত সে – “Never hate your enemies, it affects your judgement “!
ইমেদের বাসার লিভিং রুমের ছবিটি দেখতে পারেন http://www.newstimes.com/news/article/Tunisians-hail-fall-of-ex-leader-s-corrupt-family-961033.php লিংকে গিয়ে।
এবার অন্য একটি ছবির গল্প । ছবিটি জেতে নি কোনো পুরস্কার । ২০১১ সালের জানুয়ারি মাস । একটি ভারতীয়, দু-তিনটি বাংলাদেশী দৈনিক পত্রিকা আর কিছু অনলাইন সাইটে একটি ফটোগ্রাফ দেখা গেল । কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছে পনের বছরের এক কিশোরীর প্রাণহীন শরীর । পরনে তার উজ্জ্বল লাল-নীল জামা । কাছেই এক সৈন্য দাঁড়ানো । জানা গেল, ছবির সেই মেয়েটির নাম ফেলানি । বর্ডার পার হয়ে, বছর দশেক আগে সে দিল্লি গিয়েছিল তার পরিবারের সাথে । বোধ হয়, মঙ্গা থেকে বাঁচতে ! দিল্লিতে ফেলানি ইট ভাঙত । কিছুদিন আগে ফেলানির বাবার হঠাৎ উপলব্ধি “মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে”! মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদ নূর ইসলাম ফিরছিল বাংলাদেশে । কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে যায় নূর ইসলাম । দুরুদুরু বুকে ফেলানি বেড়ায় ওঠে , হঠাৎ কাঁটাতারে আটকে যায় ওর লাল-নীল জামা । ভয়ে চিৎকার করে উঠে । সঙ্গে সঙ্গে বি.এস.এফ.-এর গুলি। জানা যায়, গুলি লাগার পরেও চার ঘণ্টা বেঁচে ছিল ফেলানি । যেভাবে বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে ঝুলতে থাকে দাঁড় কাক, একইভাবে ফেলানি ঝুলছিল আর পানি, পানি করে চিৎকার করছিল । ফেলানিকে নিয়ে কোনো গল্প লেখা হবে না কিংবা বেলি রোডের নাটকপাড়ায় ফেলানি হবে না কোনো চরিত্র । সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে থাকলে হয়তোবা লিখতেন আরেকটি গান – “আহ ফেলানি” !

(বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধর্ষিত এবং নিহত ইয়াসমিনকে নিয়ে ১৯৯৬-এ সঞ্জীব লিখেছিলেন- “আহ ইয়াসমিন”, গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল)
জানা হয় নি ফেলানির এই ছবিটির ফটোগ্রাফার কে ছিলেন । তবে আমার ধারণা, ছবিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে পুলিত্জার না হলেও, ছোটখাটো পুরস্কার বোধ হয় ঠিকই জিততেন ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক । কেনইবা নয়? দারিদ্র্য, মৃত্যু, নো ম্যানস ল্যান্ড , এ সবকিছুই তো ফটোগ্রাফির চমৎকার সব সাবজেক্ট ! কাঁটাতারের বেড়ায় যখন মেয়েটির প্রাণহীন শরীরটা ঝুলছিল, একটি বিখ্যাত আলোকচিত্রের কি জন্ম হচ্ছিল ? ভারতের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা, সরকারের ভূমিকা, বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা, কি করা যেতে পারে কিংবা কি করা যেতে পারত—সবকিছু ছাপিয়ে ছবির সেই মেয়েটির প্রাণহীন দেহের একমাত্র অভিমানী উচ্চারণ – “একটি পাসপোর্টের জন্য?” নাকি “দারিদ্র্যই অভিশাপ” ?

একটি ফটোগ্রাফ একটি সময়কে ধারণ করে । ভিয়েতনামের রাস্তায় পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে ফুকের ছুটে যাওয়া আমাদের চাক্ষুষ করা হয় নি , শোনা হয় নি তার চিৎকার ” খুব গরম, খুব গরম”- , তবু ছবিটি দেখলে চলে যেতে হয় ফুকের পাশে, তার শরীরের পুড়ে যাওয়া ক্ষত যেন আমাদের স্পর্শ করে । এখানেই একটি শক্তিশালী ফটোগ্রাফের ক্ষমতা । একেকটা ছবি, একেকটা ইতিহাস ।
আর আমাদের ছবির সেই মেয়েটি, একান্তই আমাদের ফেলানি, সেও হয়ে যায় ইতিহাস ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার – ফাহাম আব্দুস সালাম, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত টেকনিকাল তথ্যগুলোর জন্য) ; Newsweek এর ৩১শে জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (তিউনিসিয়ার বিপ্লব সম্পর্কিত তথ্যের জন্য); আনন্দবাজার পত্রিকার ৮ই জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (ফেলানির ছবিটির জন্য); বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সাইট।
শামারুহ মির্জা :শিক্ষক ও গবেষক।

২৪ Responses -- “চারটি ছবির গল্প”

  1. Suman

    এখনও আপনার লেখার বটম লাইন খুঁজে বেড়াচ্ছি। এটাকে সুন্দর বলে দাবি করা যেতে পারে, কিন্তু টেকনিক্যাল স্টাফ নিয়ে লিখতে গেলে সবসময় সাবধান থাকবেন…

    Reply
  2. Hajee Rafique

    হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসোঁ আধুনিক আলোকচিত্রের জনক। ১৯৪৮ সালে গান্ধীর শেষকৃত্যের ছবি তুলে পৃথিবীজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ফেমাস। শিল্পকলার যতটুকু খবর আছে তাতে আমরা জানি যে পিকাসো’র ব্রেকফাস্ট টেবিল-এর ছবি তুলে তিনি আলোচিত। পিকাসো দুজন শিল্পীর কাজ পছন্দ করতেন, একজন ব্রেসোঁ, অপরজন জা দুবুফে।

    লেখাটি অনেক ইনফরমেটিভ, বিপিএস অথবা পাঠশালা’র নবীন আলোকচিত্রীদের কাজে লাগবে।

    Reply
  3. Aminul Islam Sujon

    লেখাটি পড়তে গিয়ে খুব উপকৃত হলাম। কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহুর্তের ছবি দেখলাম।ঐসব ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিককালের ফেলানীর গুলিবিদ্ধ ও মারা যাবার ঘটনার আলোকচিত্রের যে সাবলীল সংযোগ করেছেন, তা অসাধারণ। আর আলোকচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম-এ লেখায় তা যথার্থরূপে ফুটে উঠেছে। বলা হয় “একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়েও শক্তিশালী”।
    ধন্যবাদ আপনাকে।আরো লেখা পড়বার অপেক্ষায় রইলাম।

    Reply
  4. জেমস্‌

    দিদিমণি,
    তোমার লেখাটি আমার অন্তরকে ঝড়সম নাড়া দিয়েছে। আমার চোখে গড়িয়েছে জল। ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম না ভারত নামক দেশটির কা-পুরুষগুলির নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করার। অসভ্য এই অপরাধীদের যত শীঘ্র শাস্তি দেয়া যায়, তত তারাতারি মনের আগুন কমবে।
    – জেমস্‌।।

    Reply
  5. Ferose

    অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে ম্যাডাম শুধু সংেক্ষেপ বলি – এ রকম তথ্য সম্বলিত লেখা পড়তে চাই।

    Reply
  6. ROKON

    একটি ফটোগ্রাফ যদি প্রতিশোধ নিতে পারত তাহলে আর ফেলানির অপমৃত্যুর মত ঘটনা ঘটতনা !!!!

    Reply
  7. Kazi Riasat Alve

    একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে লেখাটি পড়ে খুবই ভাল লাগল কিন্ত আমি মনে করি লেখিকা বোধহয় আরো বেশ কিছু কালজয়ী ছবির কথা বলতে ভুলে গিয়েছেন…..তাছাড়া আমাদের দেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বেশ কিছু কালজয়ী ছবি এখনো আমরা গণমাধ্যমে দেখতে পাই, সেরকম কয়েকটি ছবি নিয়ে এ লেখায় আলোকপাত করা যেত আমি মনে করি।

    Reply
  8. আরেফ

    আপনার লেখাটা বড় অগোছালো, আপনি খুব সম্ভবতঃ এই বিষয়ের মানুষ না।
    লিখতে হলে সেই বিষয়ের হতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই, তবে ঠিকমতো পড়াশোনা না করে লিখতে বসা কি ঠিক?
    আরও লিখুন, আরেকটু পড়ে লিখুন
    শুভেচ্ছা..

    Reply
  9. Umar Faruk,

    এখানে আপনার যে সুন্দর ও বিনয়ী ছবিটা দেখতে পাচ্ছি সেটাই আমাকে লেখাটি পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

    Reply
  10. সাঈদুজ্জামান

    “একটি ফটোগ্রাফ একটি সময়কে ধারণ করে” কথাটি সত্যের অর্ধেক মাত্র। একটি ফটোগ্রাফ অনেক সময় অতিতের বহু দূর এবং ভবিষ্যতের বহু দূরের কথা বলে দিতে পারে। শামারুহ মির্জাকে ধন্যবাদ তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ বিশ্লেষণমূলক লেখাটির জন্য। হতভাগ্য ফেলানির অপরাধ সে একটি দরিদ্র দেশের দরিদ্র উপায়হীন পিতার অতি আদরের কন্যা। শুধু দু মুঠো খাবার কিংবা একটা কাজ জোগাড়ের জন্য তথাকথিত বেআইনি পথে দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে চলেছে তারা। এটি বড় কষ্টের কথা। মানুষ কতটা অসহায় আর অভাবী হলে এমন ঝুকিপূর্ণ পথে পা বাড়ায় – ভাবা যায় না।
    ফেলানির ঝুলন্ত লাশের ছবিটি ভারত-বাংলাদেশের অদূরদর্শী নেতৃবৃন্দের বহু বছরের ব্যর্থতার কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তাঁরা জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। উপমহাদেশের নেতৃবৃন্দের বর্তমান পারফরমেন্স বলে দেয় আরো অন্তত অর্ধ বা এক শতাব্দী পর্যন্ত আশার কোন আলো নেই। তাই বলা যায় একটি ফটোগ্রাফ অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বহু কথা বলে দিতে পারে।

    Reply
  11. Major Siddique retd

    ফটোগ্রাফী নিয়ে লেখাটি উপভোগ করলাম।শামারুহ মির্জাকে অভিনন্দন।

    নতুন করে উপস্থাপিত হয়েছে যুদ্দ,সিমান্ত,রাজনীতি,দারিদ্র্য,ফেসিবাদ,জীবন-জীবিকা,সমসাময়িক
    গণজাগরন এবং ইতিহাস—
    মানবতাকে নিয়ে ভাবনা—–

    আর আমাদের ছবির সেই মেয়েটি, একান্তই আমাদের ফেলানি, সেও হয়ে যায় ইতিহাস ।
    আরও লেখা পড়তে চাই–

    Reply
  12. Fazlul Hoque Saikat

    ফটোগ্রাফি, মানুষের ব্যক্তিগত অনুভব আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়াদির বিবরণ ভালো লাগলো।
    মির্জা আপা আপনাকে ধন্যবাদ।
    আমারও বিশ্বাস, আলোকচিত্রের পেছনে যে গল্প থাকে, তার আবেদন অনেক।
    চিন্তার জায়গাগুলোকেতো প্রবলভাবে নাড়া দেয় ছবিগুলো।

    লিখুন, আরো আরো বিশেষ বিশেষ বিষয়ে।

    ড. ফজলুল হক সৈকত
    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

    Reply
  13. M. Masud Alam

    লেখাটি পড়ে জানা বিষয় গুলো দারুন ভাবে জানলাম। ধন্যবাদ এমন সুন্দর লেখার জন্য। ফেলানি আমাদের হতে পারতো দেশ-মাতৃকার ভালোবাসার চিহ্ন , আগ্রাসী ভারতের বিরুদ্দে এই দেশের আপামর জনতার প্রতিবাদের শান্তিময় অশ্রু, সারা বিশ্বের কাছে প্রতিবাদের আওয়াজ যা প্রতিবেশির সাথে হিংস্র ভারতের কুৎসিত চেহারাটাকে স্পশ্ট করতো। কিনতু না, খুবই পরিতাপের বিষয় এই যে আমাদের তথাকথিত বুদ্বিজীবিরা এতোই শোকাবিভূত বা মুহ্যমান হলেন ,প্রতিবাদের কোন ভাষা আমরা লক্ষ্য করলাম না। অবাক হলাম, দেশপ্রেম মুক্তিযুদ্ব নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত, সচেতন কিছু জাতীয় দৈনিকের ভূমিকা দেখে..একদম চুপ থাকল তারা।কিন্তু কেনো ? উওর পেতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে,তবে উওর পাওয়া যাবে নিঃশ্চিত। কিনতু লক্ষ্য করুন হেনার ঘটনাটা নিয়ে ঐ সব জাতীয় দৈনিকের ভূমিকাটা ( আমিও চাই হেনার অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক) । ফেলানির ছবিটা হতে পারে আমাদের দেশপ্রেমের আজন্ম প্রেরনা। আবারো ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য। মাসুদ আলম, শাবিপ্রবি,সিলেট।

    Reply
  14. Ershad Mazumder

    ধন্যবাদ মির্জা সাহেবা। আপনার লেখাটি খুবই ভাল লেগেছে। আপনার অনুভুতি গুলোরও পরশ পেলাম। আমরা যখন সাংবাদিকতায় আসি তখন শুনেছি একটি ছবি মানে এক হাজার শব্দ। সংবাদপত্রে ছবি নিয়ে কেলেংকারী তখনও ছিল এখনও আছে।

    Reply
    • Ferose

      আপনি সাংবাদিক বলেই বলছি, এখনকার চিত্র সাংবাদিকরা কোন মেলায় বা অনুষ্ঠানে গেলে শুধু সুন্দর মেয়ে দের ছবি তুলে। অনেক কে জিজ্ঞেস করেছিলাম সবাই বলে পাবলিক খায়। সাধুবাদ জানাই তাদের যারা সুন্দর মুখের ছবি না তুলে পুরস্কৃত হয়েছে,
      অনেক কষ্ট বোধ থেকে লিখলাম আপনাকে, যদি কোন উত্তর থাকে জানােবন Please.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—