সত্যিই কি র‌্যাব আমাদের দরকার? র‌্যাব কি তার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে? এখনই কি সরকারের র‌্যাব গুটিয়ে নেবার সময়?

বক্তৃতায় যা ইচ্ছে তাই বলায় অভ্যস্ত রাজনীতিকরা প্রশ্নগুলোর খুব সহজ উত্তর দিয়ে ফেলেন।

বিএনপির প্রধান এখন র‌্যাবের বিলুপ্তির পক্ষে। ওদিকে সরকারের মন্ত্রীরা র‌্যাবের পক্ষ নিয়ে পাল্টা তীর ছুঁড়ছেন। খালেদা জিয়া যখন এ বাহিনী গড়ে তুলছিলেন, আজকের এই মন্ত্রীরাই তখন এর মধ্যে কোনো ন্যায্যতা বা যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি।

এসব বাদানুবাদে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তা হল র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সর্বজনীন অভিযোগটি। কেউ বলতেই পারেন, খালেদা জিয়া একসময় এটিকে ‘ব্যবহার’ করেছেন। আর এখন যে দল ক্ষমতায় আছে তাদের এই বাহিনীটিকে দরকার, তাই তারাও তাদেরকে কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, রাজনৈতিক ব্যবহার শব্দটি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন আপনি?

বিএনপির প্রধান এখন র‌্যাবের বিলুপ্তির পক্ষে, ওদিকে সরকারের মন্ত্রীরা র‌্যাবের পক্ষ নিয়ে পাল্টা তীর ছুঁড়ছেন

দেশের বড় বড় শহরে যদি তীব্র সহিংস কোনো বিক্ষোভ বা আন্দোলনে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তখন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে ত্বরিৎ পদক্ষেপ নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে, র‌্যাবকে যদি নৈরাজ্য দমনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, এককভাবে অথবা অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে, তাকে কি রাজনৈতিক ব্যবহার বলা যায়?

উগ্রপন্থীরা গত কয়েক বছরে যেভাবে সহিংসতা চালিয়ে প্রায়ই দেশ অচল করে দিয়েছে, তা দমনের জন্য নিয়মিত বাহিনীর চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী একটি বাহিনীর দরকার রয়েছে। অপারেশন পরিচালন ক্ষমতা ও দক্ষতার ব্যাপারে র‌্যাব উন্নততর। কারণ এ বাহিনীতে রয়েছেন সশস্ত্রবাহিনীর প্রশিক্ষিত সেনা ও কর্মকর্তারা। ফলে র‌্যাব অনেকের জন্যই ‘ত্রাস’ হয়ে উঠেছে।

কাজেই বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট দরকার। এই ইউনিটের হাতে থাকতে হবে উন্নততর সরঞ্জাম, বেশি কার্যকর অস্ত্রশস্ত্র এবং সবচেয়ে বেশি যেটি দরকার, আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি, যাতে তারা দ্রুত অপারেশন চালানোর ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ভুলে গেলে চলবে না যে, পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফৌজদারি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও কাজ করতে হয়।

যে কোনো সুশৃঙ্খল সমাজে পুলিশ এসব দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করে থাকে। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা, যাদের রয়েছে ‘হত্যা’ করার মতো প্রশিক্ষণও, তাদের পক্ষে কি ভালো পুলিশ কর্মী হওয়া সম্ভব, যেখানে পুলিশকে অপরাধ প্রতিরোধের জন্যই মূলত শিক্ষা দেওয়া হয়? র‌্যাবের শ্রেষ্ঠত্বের যে ধারণা রয়েছে, তা তো আসলে গড়ে উঠেছে র‌্যাবের বেশিরভাগ কমান্ডার সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেছেন বলে। শুধু সামরিক প্রশিক্ষণের কারণেই কি তারা ভালো পুলিশ কর্মকর্তা হতে পারবেন? কোনো একদিন হঠাৎ করে যদি তাদের বলা হয়, বেসামরিক কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে নিতে, তখন কি তাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি থাকে?

যে কোনো মূল্যে দ্রুত সাড়া দিতে গিয়ে র‌্যাবের কার্যক্রমে মাঝে মাঝে আইন রক্ষার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়। প্রয়োজনের বেশি শক্তি প্রয়োগের অভিযোগটি র‌্যাবের বিরুদ্ধে হরহামেশাই উঠেছে। সঙ্গত কারণেই র‌্যাব এমন একটি বাহিনী হিসেবে প্রচার পেয়েছে যেটি আদালতে প্রায়ই অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

আশির দশকের মাঝামাঝিতে, এইচ এম এরশাদ নিজের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তিনি সবকিছুতেই সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। প্রেসিডেন্টস সিকিউরিটি ফোর্স বা পিএসএফ গঠনের সময়ও তার ব্যত্যয় হল না। এই সামরিক শাসকের ক্ষমতাচ্যুতির পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ বাহিনীতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়। তখন সেটা ছিল শুধুমাত্র নামে– এটি হয়ে গেল স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ। এই বাহিনীর হাতে আছে সর্বাধুনিক অস্ত্র এবং অনেকটা সর্বময় ক্ষমতা। এর দক্ষতা ও অপ্রতিরোধ্যতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ধারণা তার মূল ভিত্তি হল ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করলে ওরা যে কাউকে গুলি হত্যা করতে পারে এবং সেটি নিয়ে তাদের আদালতে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না।

“>

[র‌্যাব-সংক্রান্ত এক টেলিভিশন সংলাপে; ১৩ মে, ২০১৪ তে প্রচারিত]

তার মানে, একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা অনেক সময় নির্ভর করে জনমনে ইতিবাচক ভাবমূর্তির ওপর। এই ভাবমূর্তি অনেকটাই খুইয়েছে র‌্যাব। তাদের বিচ্যুতির বিরাট তালিকায় নারায়ণগঞ্জ সর্বশেষ সংযোজন মাত্র।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের জন্ম এবং এর বিলুপ্তির দাবির মধ্যে সময়টা বেশি দিন নয়। গত মার্চে দশ বছর পূর্তি ঘটা করেই পালন করেছে এই বাহিনী। শুরু থেকেই ভালো দিক যেটা ছিল তা হল জাতীয় পুলিশ বাহিনীর মধ্যে একটি ইউনিট হিসেবে একে গড়ে তোলা। এদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেশের পুলিশ প্রধানের হাতে। পুলিশেরই একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই অভিজাত বাহিনীর প্রধান (মহাপরিচালক)। সেই সঙ্গে পুলিশের মধ্যম সারির কিছু কর্মকর্তাও বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই বাহিনীর অদূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতারা ভবিষ্যৎ দেখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারা বুঝতে চাননি যে, এক সময় সেনা অফিসারদের সবাইকে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে এবং পুলিশেরই চৌকশ কর্মকর্তারাই এই বাহিনীর পুরোপুরি দায়িত্বে থাকবেন। তাদের বুঝতে না পারার কারণ হল জাতি হিসেবে সম্মিলিতভাবে অনেক সময়ই এ বিষয়গুলো বোঝার ব্যর্থতা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে এটা স্বীকার করা হয়নি যে, আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ভিআইপিদের সুরক্ষা — সবগুলো কাজের ধরনই আসলে অসামরিক।

সম্প্রতি পুলিশ বাহিনী সোয়াট বা এসপিবিএনের মতো ইউনিট গড়ে তুলেছে। সোয়াট হল ‘স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস’ ইউনিট; এটি ঢাকা-ভিত্তিক এলিট ট্যাকটিক্যাল ফোর্স। ২০০৯ এর শুরু থেকে কাজ করছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অংশ হিসেবে। পুলিশ অফিসাররা বলেন, দেশে-বিদেশে সোয়াটের যে প্রশিক্ষণ রয়েছে, তা দিয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রতিরোধ বা জিম্মি উদ্ধারের মতো কাজ দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব।

স্পেশাল আর্মড ফোর্স বা সাফের ইউনিট রয়েছে দেশের চৌষট্টি জেলাতেই। বিশৃঙ্খলা ঠেকানো, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা, এমনকি সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের মতো জরুরি পরিস্থিতির উপযোগী করে ইউনিটটি গড়ে তোলা হয়েছে।

এই তো মাত্র ২০১২-তেই, কেবল পুলিশ বাহিনীর লোকজন দিয়ে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন’ বা এসপিবিএন গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য ভিভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়া। আশা করা যেতেই পারে, ভিভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো একদিন এই বাহিনী সেনা-নিয়ন্ত্রিত এসএসএফের স্থলাভিষিক্ত হবে।

তবে যতদিন না এ বাহিনীগুলোর পুরোপুরি অসামরিকীকরণ সম্ভব হচ্ছে, ততদিন র‌্যাবকে তার সেনা-নিয়ন্ত্রিত কাঠামো নিয়েই পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট হয়ে হয়তো থাকতে হবে। এই বাহিনীর অনেক দোষত্রুটি থাকলেও সেগুলো কমিয়ে আনা সম্ভব, চেষ্টা এবং আন্তরিকতা থাকলে।

বিভিন্ন কথিত এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাব যতগুলো খুন করেছে সেগুলো তাদের ‘গৌরবময়’ দশ বছরের ইতিহাসে একেকটি কালো অধ্যায়

এজন্য যা যা করা দরকার সে তালিকা দীর্ঘই হবে; তবে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। তিন বছরের জন্য কোনো জুনিয়র বা মধ্যম সারির সেনা কর্মকর্তাকে যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে হয়, তাহলে বিষয়টি আসলে কী দাঁড়ায়? ওই সেনা কর্মকর্তার কাজের মূল্যায়ন ওই পুলিশ কর্মকর্তা কার্যত কতটা করতে পারবেন? এ জন্যই কি চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটছে? নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় পুলিশকে কেন সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার বা আটক করতে অন্য কারও অনুমতি নিতে হল? ওদের ধরতে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে অবহিত করতে হতেই পারে, এ ক্ষেত্রে যেমন সেনা ও নৌবাহিনীকে করা হয়েছে। এই একটি ঘটনাই কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে যেখানে আসলে চেইন অব কমান্ড কাজ করে না।

এটা ঠিক যে, আমাদের ব্যস্ত সড়ক বা অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো কালো পোশাক পরিহিত অস্ত্রধারী এই বাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট অপরাধ ঠেকায় এবং যে কারও মনে র‌্যাব হেফাজতের ভয় ধরিয়ে দেয়।

কিন্তু বিভিন্ন কথিত এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাব যতগুলো খুন করেছে সেগুলো তাদের ‘গৌরবময়’ দশ বছরের ইতিহাসে একেকটি কালো অধ্যায়। তাদের এসব খুনের প্লটও বেশ কাঁচা– এমন সব মস্তিষ্ক থেকে এসব বেরিয়েছে যাদের এটা বিশ্বাস করতে শেখানো হয় যে, পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির অবস্থান তাদের নিচে (তাদের চেয়ে অনেক কম বোঝে)। সমস্যা হল, গত কয়েক বছরে র‌্যাব এসব দায় থেকে পার পেয়ে গেছে রাজনৈতিক পালাবদলে পাল্টে যাওয়া ক্ষমতাসীনদের সমর্থনের কারণে। তাদের এভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার নীতি আসলে হিতে বিপরীত হয়েছে। এখন র‌্যাব অনেক কম বিশ্বাসযোগ্য। আর সাধারণ মানুষের আস্থা হারালে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সাধনও কঠিন হয়ে যায়।

কার্যত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এই বাহিনীকে একদিন বিলুপ্ত করতেই হবে। যত তাড়াতাড়ি হয়, তত মঙ্গল। কারণ র‌্যাবের এই ধরনের কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীই দুর্নাম কুড়াবে। সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ– বাংলাদেশের মতো গরিব দেশকে সেনাবাহিনী গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থাপনায় বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। সরকার যদি র‌্যাবকে যেমন আছে তেমন রেখে দিতে চায়, তাহলে দ্রুতই এই বাহিনীর ভাবমূর্তি ঠিকঠাক করতে হবে– কেননা এটার সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। এলিট ফোর্সটির সুনাম ক্ষুণ্ন করছে যেসব অশুভ উপাদান, তাদের শেকড় যেখানেই হোক সেসবের সমূলে উৎপাটন জরুরি।

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে একটি সহজ প্রশ্ন, যে সব কারণে এ রকম একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আপনি অনুভব করেছিলেন, তার কতটুকু পাল্টে গেছে? একই প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, ২০০৪ সালের চেয়ে কি এখন দেশের অবস্থা বেশি খারাপ?

তৌফিক ইমরোজ খালিদীপ্রধান সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

৪৯ Responses -- “র‌্যাব থাকবে কি থাকবে না”

  1. Fazlul Haq

    রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। কিন্তু নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ নিরসন ছাড়া নিরাপত্তা বিধান স্থায়ী হয় না।

    জানমালের নিরাপত্তার হুমকিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়—

    ১. মৌলিক হুমকি–

    (ক) জীবনধারণের পরিবেশ যেমন জলবায়ু, সবুজ বন, নদী, জলাশয়, ভূমি, জীববৈচিত্র প্রভৃতি (হ্যাবিটাট) নষ্ট হলে জীবন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়;

    (খ) মৌলিক চাহিদা, যেমন, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি পূরণ না হলে জীবন রক্ষা হয় না।

    ২. সামাজিক হুমকি–

    (ক) রাষ্ট্রীয়-সামাজিক (Socio- Political) এবং আর্থ-সামাজিক (Socio- Economic) কারণে এই হুমকি সৃষ্টি হয়। আর্থ-সামাজিক লাভ ও আধিপত্য অর্জনের জন্য রাষ্ট্রীয়-সামাজিক ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন হলে সমাজে ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-অপহরণ, গুম-খুন, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ইত্যাদি ঘটে। এগুলিকে অভ্যন্তরীন হুমকি বলা হয়;

    (খ) বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে তাকে বহিরাগত হুমকি বলা যায় যা থেকে রক্ষা পেতে সামরিক বাহিনী নিয়োগ করা হয়।

    সাধারণত অভ্যন্তরীন হুমকি তথা ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-অপহরণ, গুম-খুন, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ইত্যাদি থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করা হয় এবং প্রয়োজনে আধা-সামরিক বা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করারও আইন আছে। আলেচিত র‌্যাব পুলিশ বাহিনীর অন্তর্গত, তবে বিশেষায়িত কনসেপ্ট হল দ্রুত ও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ।

    সকলেরই জানা আছে যে, দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা অনিষ্ট করে। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দ্বৈত শাসন ট্রাজিক হয়। আনসার ও বিডিআরে একাধিক বিদ্রোহের অন্যতম কারণ আর্মি থেকে অফিসার নিয়োগ। আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, বিজিবি, পুলিশ সব বাহিনী নিজ নিজ আইনের (Act) অধীনে গঠিত। তাদের ডিসিপ্লিন, ক্যারিয়ার সবকিছু উক্ত আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সিভিল আইনের সঙ্গে পুলিশ আইন কিছুটা সমতুল্য হলেও, সামরিক বাহিনীর আইন (অ্যাক্ট) ফৌজদারি (সিভিল) আইন থেকে একেবারেই ভিন্ন।

    ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টের অধীনে বিভিন্ন (আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, পুলিশ) বাহিনী থেকে অফিসার ও ম্যান নিয়ে গঠিত হওয়ায় ডিসিপ্লিন ও আইনের দিক থেকে র‌্যাব একটা জগাখিচুড়ি বাহিনীতে পরিণত হয়। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দায়বদ্ধতা সামরিক অ্যাক্টের অধীনে তাদের প্যারেন্ট অরগানাইজেশনে থাকায় যখন তাদেরকে পুলিশ আইনের অধীনে আনা হয় তখন দ্বৈত শাসন সৃষ্টি হয়।

    নিজস্ব আইনের অধীনে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করে ইউনিফাইড কমান্ড কন্ট্রোল, অপারেশন ও পরিচালনা সঠিক হতে পারে। তবে সবার আগে জনগণের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যবহৃত না হলে যে কোনো বাহিনী গণবিরোধী, অত্যাচারী ও নিপীড়ণমূলক বাহিনীতে পরিণত হয়।

    গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় তিনটি–

    ১.

    (ক)— রাষ্ট্রের অধিবাসীদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বজনগৃহীত (গণভোটের মাধ্যমে অনূন্য ৭৫% জনসমর্থনে অনুমোদিত) আইনের মূলস্তম্ভ বা উৎস (সংবিধান) রচনা করা। সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা, জাতি, গোষ্ঠী, ভাষা, সংস্কৃতি, দলমত ইত্যাদি হিসেবে যারা সংখ্যালঘিষ্ট (মাইনরিটি) তারা যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা উপেক্ষিত ও নিপীড়িত না হয় তার জন্য তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও ধর্মকর্ম, ভাষা-সংস্কৃতির অধিকারের গ্যারান্টি (গ্যারান্টি ক্লজ) থাকতে হবে;

    (খ) রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য আইন প্রণয়নে সকল দলমত বিবেচনায় নিতে হবে এবং স্থানীয় সংসদ (ইউনিয়ন সংসদ, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ) ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল জনগণের অংশগ্রহণে আইনের খসড়া অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে যথাযথ পদ্ধতিতে আইন পাশ করতে হবে।

    ২. প্রণীত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য–

    (ক) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাষ্ট্রকাঠামো এমন হবে যেন রাষ্ট্রীয় বিভাগসমূহ কর্তৃক ক্ষমতা ব্যবহারে বিভাজন ও বণ্টননীতি অনুসৃত হয়। বিশেষ করে আইন প্রণয়ন (সংসদ), আইন প্রয়োগ (নির্বাহী), আইনভঙ্গের প্রতিকার (বিচার) এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্ধারণ (লজিস্টিক) বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং প্রত্যেক বিভাগ যাতে পরস্পর স্বাধীনভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে;

    (খ) জনগণের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রের সকল স্তর ও বিভাগ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে পরিচালনার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্তরে সংসদ, নির্বাহী, বিচার ও লজিস্টিক (জনবল ও অর্থসম্পদ) বিভাগ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

    ৩. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা—

    (ক) রাষ্ট্রের সকল অধিবাসী আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে আইনের কাছে জবাবদিহি করবে;

    (খ) স্থানীয় সংসদ (ইউনিয়ন সংসদ, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ) এবং কেন্দ্রীয় সংসদ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী ও রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহারকারীগণের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    Reply
  2. সৈয়দ আলী

    আমি একটি প্রশ্ন করছি। জানি না মডারেটর ছাপানোর অনুমোদন দেবেন কি না। জানি, একই সঙ্গে অজস্র মানুষ আমার বক্তব্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া জানাবেন। তবুও প্রশ্নটি করছি।

    বাংলাদেশে র‍্যাব তো বটেই, সেনাবাহিনীর আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে কি? জানি আবেগ বলবে অবশ্যই, কিন্তু মস্তিষ্কও কি তা বলছে? আমি তো জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীতে সেবা করা ছাড়া সত্যিকার অর্থেই সেনাবাহিনী পোষার আর কোনো কারণ দেখি না!

    কাউকে আহত করার জন্য নয়, মনের কথা সরাসরি লিখলাম।

    ধন্যবাদ।

    Reply
    • সালেক খান

      আমি ইতোপূর্বে অনেকবার আপনার নামে লেখা মন্তব্য পড়েছি। কিন্তু এহেন মন্তব্য এত সাদামাটাভাবে লিখে আপনি মোটেও ঠিক করেননি। আর মডারেটর কি রসিকতা করে এটি প্রকাশ করে ফেললেন!

      সেনাবাহিনীর কাজ শুধু জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনী নয়, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান–

      ১. বহিঃশত্রু যে কোনো সময় আক্রমণ করলে যাতে দেশরক্ষা করা যায়, সে জন্য অবিরাম প্রশিক্ষণ;

      ২. প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত জনগণের পাশে এগিয়ে আসা;

      ৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম বা অনুরূপ দুর্গম অঞ্চলে দেশরক্ষাসহ জনকল্যাণে সচল থাকা;

      ৪. বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ, যেমন সেতু, মহাসড়ক, নদীশাসন (উদাহরণ যমুনা সেতু, পদ্মাসেতু, হাতির ঝিল, বন্দর নির্মাণ ও রক্ষায় সেনা ও নৌবাহিনী)।

      উপরে উল্লিখিত কোন কাজটিতে সশস্ত্রবাহিনীর কিছুমাত্র ব্যর্থতা আপনার চোখে ধরা পড়েছে, দয়া করে বলবেন কি?

      পুলিশ বা সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে জড়িয়ে অতীত ও বর্তমানের কিছু দুর্ভাগ্যজনক বিচ্যুতির কথা আপনি অবশ্যই বলতে পারেন। সে সবের জন্য পরবর্তীতে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিতে সশস্ত্রবাহিনীকে কখনও পিছপা হতে দেখেছেন কি?

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        ধন্যবাদ সালেক খান, আপনার প্রতিক্রিয়ার জন্য। মডারেটরের রসবোধের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, তাই আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবও আমার কাছে নেই, দুঃখিত। তবে আপনার অন্য প্রশ্নগুলোর জবাব আমি ক্রমানুসারে দিচ্ছি–

        ১. পৃথিবীর সব দেশে সেনাবাহিনী পালন করা হয় বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য, এ আর বিচিত্র কী? কিন্তু বাংলাদেশের বহিঃশত্রু কারা হতে পারে তা আমাদের ভাবতে হবে। সেই বহিঃশত্রুর সঙ্গে লড়ার সামরিক শক্তি আমাদের কতটুকু আছে তা আগ্রহের বিষয়। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ক্রয় ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয় জনগণের অর্থের বাজেট থেকে। এই অর্থের পরিমাণ কখনওই স্পষ্ট করে জানানো হয় না। এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অন্যায়।

        ২. সেনাবাহিনী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগিয়ে আসবে এটিই বাঞ্ছনীয়, কিন্তু আমাদের দেখা তেতাল্লিশ বছরে জনগণ এবং বেসামরিক কর্মীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা সাগরের তুলনায় গোস্পদ মাত্র। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবকেরা সামুদ্রিক ঝড় আসার আগে হাতমাইক নিয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও প্রবল হাওয়ার মধ্যে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে যেভাবে আহ্বান ও সাহায্য করেন তা অবিশ্বাস্য। আমি এ রকম উপকূলীয় এক ঝড় নিজের চোখে দেখেছি কিন্তু সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখিনি। জাতীয় বাজেটের আনুমানিক ২২% (সঠিক পরিমাণ কখনওই প্রকাশ করা হয় না) ব্যয় করে পালন করা একটি বাহিনীকে শুধুমাত্র দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তার জন্য ব্যবহার করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

        ৩. পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। পাহাড়ি জনগণকে যুগ যুগ ধরে শোষণ ও বঞ্চনার প্রতিক্রিয়ায় যদি তারা সশস্ত্র বিদ্রোহী হয়ে উঠেন, তবে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করার ও ক্ষতিপূরণ করা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের (যেমন, শেখ হাসিনার পূর্ববর্তী সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল কিন্তু তা রহস্যজনক কারণে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বা করতে দেওয়া হয়নি)।

        ৪. বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যদি সেনাবাহিনীরই প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের পেশাদারদের বিদায় করে দেওয়াই ভালো।

        আপনি যদিও আপনার প্রশ্নের তালিকায় উল্লেখ করেননি, তবু আমি স্বেছায় কিছু মন্তব্য করছি।

        (ক) জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীতে যোগ দিলে সেনাবাহিনী যে অর্থোপার্জন করে, তার চেয়ে ঢের বেশি অর্থ সেনাকর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে উপার্জন করেন;

        (খ) সেনাবাহিনীকে বেসামরিক মানুষদের সংশ্রবে আনলে সেনাবাহিনীর নৈতিকতা, সততা ও সামরিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে বাধ্য (এর কি কোনো উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন আছে);

        (গ) স্বাধীনতার পর থেকে সেনাবাহিনীর উচ্চাকাঙ্খী কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। কারণ, সেনাকমান্ড পরিচালনা আর রাষ্ট্রপরিচালনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়;

        (ঘ) এই ব্লগটিতে চমৎকার মন্তব্য করেছেন MASUd SORBOG, তিনি যথার্থই বলেছেন, “তদুপরি সামরিক বাহিনীর (লেখকের মতে, যাদের এটা বিশ্বাস করতে শেখানো হয় যে, পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির অবস্থান তাদের নিচে এবং তাদের চেয়ে অনেক কম বোঝে) ……।” এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয় যখন সেনাশৃঙ্খলা ভেঙে সেনা কর্তারা ব্যক্তিগত কর্মাদি সম্পাদনের জন্য অবৈধভাবে নিজের পদ-পদবী ব্যবহার করেন।

        আমার লেখার শুরুতে আমি অনুরোধ করেছিলাম, আবেগ নয়, মস্তিষ্ক দিয়ে আমার বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে। সেনাবাহিনীর একাংশ র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার কথা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক যে আক্রমণের শিকার হয়েছেন, সে তুলনায় আমি তুচ্ছ একজন মানুষ যে আরও বেশি আক্রমণের শিকার হব তা তো বলাই বাহুল্য!

        ধন্যবাদ।

      • সালেক খান

        আপনাকে আবার লিখছি–

        ১. আমাদের প্রতিবেশি প্রধানত ভারত অনেক বিষয় আমাদের সঙ্গে অমীমাংসিত রেখেছে এবং আমাদের নদীমাতৃক দেশ কীভাবে মরুভূমি হচ্ছে তা আপনি নিশ্চয়ই জানেন। আমদানি-রফতানিতে ভারসাম্যহীনতা, সীমান্তে চোরাচালান, সব বিবেচনা করুন। সেনাবাহিনীকে দুর্বল করলে (আপনি বলছেন পুরোপুরি উঠিয়ে দিতে) ভারত কীভাবে সব দিক থেকে চরম সুবিধা নিয়ে শুধু পানিশূন্য নয়, প্রাণশূন্য করার দিকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে নিয়ে যাবে তা কি ভেবে দেখেছেন? আর মায়নমারই-বা কতটুকু কী করতে পারে, তাও ভাবুন তো?

        ২. আপনি কি জানেন পার্বত্য বা সমুদ্রের দূর্গম অঞ্চলে সেনা-সহায়তা ছাড়া প্রকৌশলী বা পেশাদাররা কখনও কোনো দেশে খুব বড় প্রকল্পের কাজ করেন না?

        ৩. আর যদি খরচের কথা বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য যা খরচ হয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জন্য খরচ হয় তার কমপক্ষে দশগুণ। এমনকি ইউরোপের শান্তিবাদী (!) দেশগুলোতে শত শত গুণ খরচ করতে হয়। আমেরিকার সেনাবাহিনীকে তো এই মূহূর্তেই নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ সামরিক খাতে তাদের মাথাপিছু ব্যয় লক্ষ লক্ষ ডলার!

      • সৈয়দ আলী

        দুঃখিত, জনাব সালেক খান। আপনার তিনটি মন্তব্যের একটিকেও আমার কাছে প্র্যাগম্যাটিক বলে মনে হল না, তাই একমত হতে পারছি না।

        ১. ভারতের বর্তমান সামরিক শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক শক্তির তুলনা করাই হাস্যকর। ধরা যাক, ভারত যদি বাংলাদেশ আক্রমণ করে তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণকেই এই যুদ্ধে যোগ দিয়ে একটি জনযুদ্ধের রূপ দিতে হবে।

        একই সঙ্গে আপনার মন্তব্যের অন্য অংশ তো আরও মজাদার। আপনি বলছেন, ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে পানি ও সম্পদশূন্য করছে। হক কথা। কিন্তু আপনার কথা মেনে নিলে এর সমাধান হবে ভারতের বিরূদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ। এটি কি যৌক্তিক সমাধান? আবার সামরিক শক্তির তুলনা এসে পড়ছে, তাই বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই।

        ২. আমি খুব ভালো করে জানি পার্বত্য চট্টগ্রাম বা অন্যান্য প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে কতটুকু ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুতে সেনাবাহিনীকে কতটুকু ব্যবহার করা হয়েছে, অথবা ঢাকার ফ্লাইওভারগুলোতে। আপতকালীন বেইলি ব্রিজ তৈরি করা বা কুঁড়েঘর নির্মাণ প্রকৌশলগত জ্ঞান নয়। সেনাবাহিনীকে সেভাবে প্রস্তুতও করা হয় না।

        ৩. আপনি বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর পেছনে ব্যয়কে তুলনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে। তাদের বিশ্বব্যাপী (অপ)কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড কী করে তুল্য হয়?

        আপনাকে ধন্যবাদ।

      • SORBOG

        জনাব সালেক খান,

        দয়া করে শতকরা (%) ও সর্বমোটের প্রায়োগিক অর্থটি বুঝতে চেষ্টা করুন। আমেরিকার সেনাবাহিনীর মোট খরচের বিষয়টি অবশ্যই অনেক বেশি, কিন্তু শান্তিকালীন সময়ে (যখন তারা কোনো যুদ্ধেই জড়িত নয়) সেনাবাহিনীর খরচ তাদের মোট বাজেটের শতকরা কতভাগ?

        দয়া করে এসব বিষয়ে পাকিস্তানের উদাহরণ না দেওয়াই ভালো। অতীত অভিঞ্জতা থেকে দেখেছি, একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাই পাকিস্তানের উদাহরণ দিতে পছন্দ করে।

        আপনি বোধকরি সেই বাহিনীর সদস্য নন…

      • SORBOG

        সালেক খান,

        বাংলাদেশকে ভারত কর্তৃক পানিশূন্য করবার এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিরোধমূলক কোনো অপারেশন পরিচালনের উদাহরণ দয়া করে দেবেন কি?

  3. JAHIR

    আমাদের সৈন্যদের ভাবমূর্তি ও অবদানের মূল্য রক্ষা করার জন্য এখন আমাদের র‌্যাব বিলুপ্তি অত্যাবশ্যক ।

    Reply
  4. rased mehdi

    খালিদী ভাই দুর্দান্ত কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন, দারুণ একটি লেখা।

    একটা প্রশ্ন সঙ্গে যোগ করছি, বর্তমান কাঠামো নিয়ে র‍্যাবের পক্ষে পেশাদার হওয়া সম্ভব কিনা। একাধিক বাহিনী থেকে অফিসাররা আসছেন কিছু সময়ের জন্য, আবার চলে যাচ্ছেন। এভাবে আসা-যাওয়ার মাঝে দশ বছর পার হল, র‍্যাবের নিজস্ব রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম, স্কুলিং কিছুই গড়ে ওঠেনি।

    এর ফলে যদি ব্যাপারটা এমন হতেই পারে যে, বিভিন্ন অর্ন্তবর্তীকালীন বাহিনীর থেকে আসা সদস্যরা ভালো টু-পাইস কামানোর একটা অর্ন্তবর্তী সময় হিসেবে র‍্যাবে দায়িত্বপালনের সময়টা বেছে নিচ্ছেন?

    নারায়ণগঞ্জের নৃশংস সাত খুনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থেকে এ ধারণার পক্ষে জোরালো যুক্তি তৈরি হয়!

    আগে পুলিশ কোনো অপরাধ করলে সেটা নিয়ে বড় তদন্ত হত। যেমন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রুবেল হত্যার ঘটনায় এসি আকরামকে জেলে যেতে হয়েছিল। জামাল ফকির হত্যার ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু র‍্যাবের ক্রসফায়ার তত্ত্ব চালু হওয়ার পর পুলিশের সদস্যরাও ক্রসফায়ার করছেন, থানা হেফাজতে মারছেন, থানার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মারছেন এবং বিচারের উর্ধ্বে থাকছেন!

    অপরাধ করে র‍্যাব-পুলিশের সদস্যদের আইনের উর্ধ্বে থাকার এই সংস্কৃতি দেশে আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের জন্য বড় একটা বিপর্যয়। র‍্যাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে ক্রসফায়ারের পর মিথ্যা গল্প প্রচারের সুযোগ দেওয়া। মিথ্যাচারের অবাধ সুযোগ যেমন একজন ব্যক্তিকে চরম অনৈতিক করে তুলতে পারে, একটি বাহিনীকেও সেটা করতে পারে, তার প্রমাণ র‍্যাব।

    এখন পর্যন্ত মিথ্যাচার থেকে র‍্যাব সরে এসেছে কিংবা সরে আসার লক্ষণ আছে বলেও মনে হয় না। র‍্যাব জঙ্গী দমনে সাফল্য দেখিয়েছে, র‍্যাবের ক্রসফায়ারে বড় বড় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, এটা যেমন সত্য, একই সঙ্গে র‍্যাবের ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন রামপুরার সাংস্কৃতিক কর্মী বাপ্পীর মতো নিরীহরাও।

    ঝালকাঠির কিশোর লিমনকে গুলি করে পঙ্গু করার পর তার পুরো পরিবারের প্রতি বাহিনী হিসেবে র‍্যাবের চরম নিষ্ঠুর আচরণ পুরো জাতিকে মর্মাহত, হতবাক করেছে, আর র‍্যাবের কর্তাব্যক্তিরা সর্বশক্তি দিয়ে পুরো জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লিমনকে সন্ত্রাসী প্রমাণের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন!

    লিমনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাহিনী হিসেবে র‍্যাবের অপেশাদার আচরণ। একই সঙ্গে র‍্যাবের জনবিরোধী নিষ্ঠুর মানসিকতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    ফলে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‍্যাবের জড়িত থাকার বিষয়টি একবার উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তা একবাক্যে বিশ্বাস করেছে। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে অনেক নিষ্ঠুর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, উঠছে।

    এটা বোঝা উচিত ছোট্ট দেশে একটা বাহিনী যতই গায়ের জোর দেখাক, যতই সাজানো গল্প প্রচার করুক, অপরাধের শিকার মানুষের সংখ্যা যখন অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, জনগণের আস্থায় থাকা যায় না।

    এ ধরনের পরিস্থিতিতে র‍্যাব নিয়ে ভাবা দরকার। বড় অপরাধ দমনে র‍্যাবের মতো একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন আছে, কিন্তু এই বাহিনী রাখতে হলে ধার করা বাহিনীর পরিবর্তে নিজস্ব রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম, স্কুলিং-এর মাধ্যমে পেশাদার জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    Reply
  5. Moshiur Rahman Khan

    বাংলাদেশে র‌্যাব থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বাহুডোরে যে বাহিনী এত লালিত-পালিত হয়েছে, তা বন্ধ করা জরুরি। অন্যায় আবদার রাখতে যেন ভবিষ্যতে কখনও এই বাহিনীকে ব্যবহার করা না হয়।

    দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নইলে এই বাহিনীর সুনাম ফিরে আসবে না। তা যদি না করা হয় তাহলে মনে রাখতে হবে, একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর গায়ে কালিমা লেপনের জন্য বর্তমান সরকার ও তার নীতিনির্ধারকরা আজীবন দায়ী থাকবেন।

    Reply
  6. MASUd SORBOG

    লেখককে ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখার জন্য।

    র‌্যাব নিয়ে শুরু থেকে নানা মতামতে সম্ভবত তিনি প্রথম আমাদের দৃষ্টিতে আইন-শৃঙ্খলা প্রশাসন ও যুদ্ধ প্রশাসনের পার্থক্য তুলে ধরবার চেষ্টা করলেন, যা আমাদের রাজনীতিবিদ ও পরিকল্পনাকারীরা বুঝতে পারেন না। তারা সামরিক সরকারগুলির মতো সব সমস্যায় হত্যা ও সামরিকীকরণকেই সমাধান মনে করে, যা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনে না।

    তদুপরি সামরিক বাহিনীর (লেখকের মতে, যাদের এটা বিশ্বাস করতে শেখানো হয় যে, পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির অবস্থান তাদের নিচে এবং তাদের চেয়ে অনেক কম বোঝে) একটি ঝোঁক আছে, কারণে-অকারণে সরকারের মাথায় কাঁঠাল রেখে তাদের কাজ বাদ দিয়ে অন্য কাজে আগ্রহী হওয়া– সম্ভবত শান্তি অবস্থা বিরাজ করায় তারা নিজেদের কাজ আর উপভোগ করছেন না।

    লেখককে আবারও ধন্যবাদ প্রকৃত দার্শনিক বিষয়টি এবং আমাদের পরিকল্পনাকারীদের জ্ঞানের বিশাল বহরটিকে আমাদের সামনে তুলে ধরবার জন্য (শোনা যায়, যে দুজন মানুষ এবং যে গোষ্ঠীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই বাহিনী, তাদের সবার লেখাপড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত, হাহাহা)।

    দার্শনিক বটে!

    Reply
  7. rohel ahmed

    র‍্যাব এই দেশের মূল্যবান সম্পদ, র‍্যাব সাধারণ জনগণের বন্ধু…

    Reply
  8. adnan kabir

    র‍্যাবের সৃষ্টির জন্য ‘আমরা অনেকেই এবং আওয়ামী লীগ’ একযোগে বিএনপিকেই দায়ী করছি এবং বিএনপিরও তা অস্বীকার করার কিছু নেই।

    কিন্তু প্রশ্ন একটাই, র‍্যাবের অপব্যবহার। যা মূলত দুভাবে। প্রথমত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে। এই কাজটি বিএনপিও করেছিল। আর তখন আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেই তীব্র প্রতিবাদ করেছিল।

    দুঃখের বিষয়, ক্ষমতায় গিয়ে একই কাজ আওয়ামী লীগ করছে। অথচ তাদের উচিত ছিল র‍্যাবের অতীত ভুল-ভ্রান্তি বা বাড়াবাড়ি বিচার-বিশ্লেষণ করে র‍্যাব নিয়ে যা দরকার তা করা। তা কি হয়েছিল?

    দ্বিতীয়টি আরও গুরুতর। দুর্নীতি ও জনহয়রানি। একই অভিযোগ পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের বিরুদ্ধেও রয়েছে। আর বেশিদিন হয়ে গেলে মিলিটারি প্রশাসনও করে বলে অভিযোগ আসে। কাজটি করা হয় ভয়-ভীতি দেখিয়ে বা অন্য কারও স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে নিরীহ জনগণ (ধনী বা গরীব) থেকে টাকা খাওয়া (আর প্রয়োজনে বা বিফল হলে ক্ষতি করা, গুম-খুন করা)।

    এসবের জন্য দরকার আইনের শাসন, মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং সচেতন জনগণের এগিয়ে আসা।

    আর র‍্যাবের ব্যাপারে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতেই হবে। বিডিআর বিদ্রোহের পরে নাম পাল্টিয়ে বিজিবি করা হয়েছে, বিচার হয়েছে, কিছু সংস্কারও হয়েছে। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে তো আর বাতিল করা চলে না। কিন্তু শ্রদ্ধেয় খালিদী সাহেবের লেখায় অনেক কিছু জানা গেল।

    র‍্যাবের যে কাজ তা করার জন্য প্রথমত আছে পুলিশ (পেনাল কোড সংস্কার সাপেক্ষে তা সহজেই করা যায়)। পাশাপাশি আছে– লেখককে উদ্ধৃত করছি–

    “সম্প্রতি পুলিশ বাহিনী সোয়াট বা এসপিবিএনের মতো ইউনিট গড়ে তুলেছে। সোয়াট হল ‘স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস’ ইউনিট; এটি ঢাকা-ভিত্তিক এলিট ট্যাকটিক্যাল ফোর্স। ২০০৯ এর শুরু থেকে কাজ করছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অংশ হিসেবে। পুলিশ অফিসাররা বলেন, দেশে-বিদেশে সোয়াটের যে প্রশিক্ষণ রয়েছে, তা দিয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রতিরোধ বা জিম্মি উদ্ধারের মতো কাজ দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব।

    স্পেশাল আর্মড ফোর্সেস বা সাফের ইউনিট রয়েছে দেশের চৌষট্টি জেলাতেই। বিশৃঙ্খলা ঠেকানো, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা, এমনকি সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের মতো জরুরি পরিস্থিতির উপযোগী করে ইউনিটটি গড়ে তোলা হয়েছে।”

    — তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, সমান্তরালভাবে সমাধান করার পথগুলো চালুই আছে। এমনকি প্রতিস্থাপন করে একটা বাহিনীকে ভিন্নতর কিছু দিয়ে সমাধান করার দৃষ্টান্তটিও দৃশ্যমান।

    লেখক লিখেছেন–

    “এই তো মাত্র ২০১২-তেই, কেবল পুলিশ বাহিনীর লোকজন দিয়ে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন’ বা এসপিবিএন গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য ভিভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়া। আশা করা যেতেই পারে, ভিভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো একদিন এই বাহিনী সেনা-নিয়ন্ত্রিত এসএসএফের স্থলাভিষিক্ত হবে।”

    — সবশেষ কথা হল, সেনা সদস্যদের দুর্নাম থেকে বাঁচাতে এবং নিজেদের আচরণের ভিতরে (সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে মানব চরিত্রের দুর্বলতা থেকে নিজেদের চরিত্রে যেভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে) মন্দ জিনিস যাতে না আসে, সেজন্য অবিলম্বে পুলিশ বাহিনীর সোয়াট বা সাফকে কাজে লাগিয়ে র‍্যাবকে বাতিল করতেই হবে।

    লেখকের শেষ মন্তব্যটি কি সরকার বা উঁচুমহলের নীতিনির্ধারকরা দয়া করে পড়ে দেখবেন?

    উদ্ধৃত করলাম–

    “কার্যত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এই বাহিনীকে একদিন বিলুপ্ত করতেই হবে। যত তাড়াতাড়ি হয়, তত মঙ্গল। কারণ র‌্যাবের এই ধরনের কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীই দুর্নাম কুড়াবে। সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ– বাংলাদেশের মতো গরিব দেশকে সেনাবাহিনী গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থাপনায় বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। সরকার যদি র‌্যাবকে যেমন আছে তেমন রেখে দিতে চায়, তাহলে দ্রুতই এই বাহিনীর ভাবমূর্তি ঠিকঠাক করতে হবে– কেননা এটার সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। এলিট ফোর্সটির সুনাম ক্ষুণ্ন করছে যেসব অশুভ উপাদান, তাদের শেকড় যেখানেই হোক সেসবের সমূলে উৎপাটন জরুরি।”

    Reply
  9. কিসমত

    র‌্যাব অবশ্যই থাকবে। র‌্যাবের যে ভুলগুলি আছে, সেগুলি সমাধান করা হোক।

    Reply
  10. মোস্তফা

    — যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফোর্স দীর্ঘমেয়াদে/অব্যাহতভাবে অভ্যন্তরীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা পারঙ্গম?

    — আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ২০০৪ সালের পর আইন-শৃঙ্খলার কতটুকু উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে?

    — অপরাধ জগতের গডফাদারদের নির্মূলে কতটুকু সফলতা এসেছে?

    — ব্যক্তিগত লাভের আশায় রক্ষক এতটা নৃশংস ভক্ষক অতীতের কোনো সময়ে ছিল কি?

    — টাকার বিনিময়ে গুম-খুন পুলিশের দেড়শ বছরের ইতিহাসে কোথায় আছে?

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশই শতভাগ সফল হত যদি সঠিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হত। এলিট ফোর্স থাকুক, তবে তা শতভাগ পুলিশের দ্বারা গঠিত দক্ষ ও যোগ্য অফিসার ও ফোর্স দ্বারা পরিচালিত হোক।

    সামরিক সরকারগুলো যেভাবে দেশকে একশ বছর পিছনে নিয়ে গেছে, একইভাবে বেসামরিক প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদী/স্থায়ী সামরিক অনুপ্রবেশ civil service এর professionalism নষ্ট করবে।

    পাকিস্তানে কী হচ্ছে?

    Reply
  11. rupom

    আমি যেমন দেখছি, পৃথিবীতে যেভাবে চলছে। আমার প্রশ্ন, এত এত গ্রুপ কেন তৈরি করা হচ্ছে? পুলিশ-ই থাক, পুরো পাওয়ার নিয়ে। তাদের উপর পুরো টপ লেভেল থেকে অবসারভেশন থাকবে, ক্যামেরা উইদ ভয়েস রেকর্ডার (আমেরিকান স্টাইল)। তাহলে আর এত কিছু লাগবে না…

    Reply
  12. Enayet Kabir

    প্রিয় পাঠক,

    সবগুলো কমেন্ট পড়েছি। আমাদের অতীত ভুলে যাবেন না দয়া করে। র‌্যাব একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের একে সম্মান করতে হবে। তারা অনেক কিছু করেছে। র‌্যাবের ভেতরে কিছু দুষ্কৃতকারী থাকতে পারে। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে জাতির স্বার্থে দরকারি পদক্ষেপ নেবেন।

    আরও আশা করি, বর্তমানের সংকটের পরও র‌্যাব তার রুটিন ওয়ার্ক চালিয়ে যাবে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে, তারা দেশের স্বার্থে সততার সঙ্গে নিজেদের সব ত্যাগ করতে প্রস্তুত।

    Reply
  13. তারিক মুনাওয়ার ইলিয়াছ

    র‌্যাবের মতো একটি এলিট ফোর্স অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে একান্ত প্রয়োজন। যেহেতু র‌্যাব গঠন ও ড্রাইভ সঠিক ও সময়োপযোগী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অনৈতিক ও একান্ত রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় এর গুরুত্ব ও ভাবমূর্তি ম্লান হয়েছে।

    এমতাবস্থায় হয় র‌্যাব বিলুপ্ত অথবা পূর্ব অবস্থানে ফিরে আনতে হবে। কিন্তু পচা মাছ রাঁধলেও খাওয়া যায় না। যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। কর্তৃপক্ষকে সব নিরীক্ষা করতে হবে, যাতে বুমেরাং না হয়।

    Reply
  14. সাজ্জাদ হোসেন

    র‌্যাব অবশ্যই থাকবে। তবে এর জনবল কাঠামো সংশোধন করা যেতে পারে। জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের দোসররা র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবি করছে।

    Reply
  15. Rehan

    র‌্যাব থাকুক, কিন্তু বিএনপির সময় যেমন ছিল তেমন হতে হবে। বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে বিএনপি বা লীগ দেখা হয়নি!

    Reply
  16. সৈয়দ হারুনুর রশীদ

    র‌্যাব থাকবে, কিন্তু তাদের মধ্যে যারা অপরাধ করছে তাদের বিচার করতে হবে।

    Reply
  17. ISRAT SHARMIN

    কত সালে কতজন নিহত হল এই গ্রাফটা বড় কথা নয়। কনসিডার করার বিষয় হল কেন কী কারণে কে মারা গেল।

    আগে যখন সন্ত্রাসীরা মারা পড়ত, সাধারণ মানুষ এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করত। কিন্তু আজ যখন মানুষ জানতে পারল, র‍্যাব ভাড়াটে গুণ্ডার কাজ করে, তখন প্রশ্ন তো আসবেই।

    আমার মনে হয়, আবার বিডিআরের মতো একটি বাহিনীর পোশাক বদল করিয়েই সরকার তার দায়িত্ব শেষ করবে।

    Reply
  18. বদরুল হাসান লিটন

    অপরাধীরা পুলিশের চেয়ে র‌্যাবকে বেশি ভয় পায়। র‌্যাব না থাকলে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    র‌্যাবের বিলুপ্তি নয়, সংস্কার প্রয়োজন…

    Reply
  19. limon

    র‌্যাব বিলুপ্ত করলেই কি দেশ থেকে খুন-গুম বন্ধ হয়ে যাবে? সন্ত্রাস বন্ধ হবে? ডাকাতি বন্ধ হবে?

    হবে না। বেড়ে যাবে আরও। তখন এগুলো বন্ধ করার জন্য নতুন বাহিনীর প্রয়োজন হবে। র‌্যাবের বিকল্প র‌্যাব। তা না করে র‌্যাবকে রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করে সমাধান বের করার চেষ্টা করুন। এতেই জাতির মঙ্গল হবে।

    দেশের সাধারণ মানুষ এটাই চায়…

    Reply
  20. শামসুল আলম

    রাজনীতিবিদরা মূলত দেশপ্রেমিক নন, সবাই নিজ নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। তাই আজ খালেদা জিয়া র‌্যাব বিলুপ্তির কথা বলছেন, অথচ তিনিই অহেতুক এই বাহিনী গঠন করেছিলেন। মূলত যখন যিনি বিরোধী দলে থাকেন, তিনিই দেশপ্রেমিক হয়ে যান। আর সরকারি দলে গেলে নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝতে চান না।

    র‌্যাব ২০০৪ সালে যা করেছে, এখনও তাই করছে। অথচ তখন বিএনপি এর পক্ষে ছিল আর আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেছে। এখন তার উল্টোটা। র‌্যাবের তখনও প্রয়োজন ছিল না, এখনও নেই।

    Reply
  21. ali hossain

    এত সহজে র‌্যাব বিলুপ্ত করা ঠিক হবে না। কারণ তাহলে সন্ত্রাসীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

    একটাই সমাধান, আমি মনে করি, যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরতে পারে।

    Reply
    • রোহিত

      আমাদের দেশে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে, তার প্রতিকার না করে বরং উল্টো সমাধান খোঁজা হয়। এটা উচিত নয়। মাথাব্যথা হলে অষুধ না খেয়ে মাথা কেটে ফেলবেন, এটা কি সমাধান হতে পারে? নিশ্চয়ই নয়।

      র‌্যাব বিলুপ্ত করা যাবে না। যদি বিলুপ্ত করা হয় তবে সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে তারা দুর্নীতি, অপরাধ করতে না পারে। এসব বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

      Reply
  22. alo

    র‌্যাব থাকুক, তবে জানোয়ার দিয়ে নয়!

    প্রকৃত মেধাবী, দক্ষ ও নিরপেক্ষ লোক দিয়ে র‌্যাব চালাতে হবে, যারা দলীয় লেজুড়বৃত্তি করবে না।

    কোনো মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়কে ‌র‌্যাবে নেওয়া যাবে না, সে নিয়মও করতে হবে।

    Reply
  23. Mamun

    র‍্যাব যে উদ্দেশ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল তার পুরোটাই তারা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তারা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেনি। অন্ততপক্ষে আমার কোনো উপকারে আসেনি। যেমনটি আসছে সেনাবাহিনী বা পুলিশ।

    বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লিমনের উদাহরণই যথেষ্ট।

    তাই আমি মনে করি, সাধারণ মানুষের জন্য র‍্যাবের প্রয়োজন নেই। তবে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নিমিত্তে এর দরকার আছে!

    Reply
  24. md alamgir

    র‌্যাব থাকবে… তবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা থাকতে হবে…

    Reply
  25. mirza saleh ahmed

    যে বাহিনীর ওপর নির্ভর করে অপরাধ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন করা– আজ সেই বাহিনী স্বয়ং সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে!

    তাই এই র‌্যাবের আর কোনো প্রয়োজন নেই, একে বিলুপ্ত করা উচিত।

    Reply
  26. abdul.mazed

    আমি আপনার সঙ্গে একমত।

    র‌্যাব থাকবে, কিন্তু র‌্যাবের মধ্যে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে।

    Reply
  27. রেজুয়ান ইসলাম

    মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম র‌্যাব। এই বাহিনী মানুষের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মানুষজন এখন সন্ত্রাসীদের যতটা না ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় এই বাহিনীকে!

    যদি মানুষের মঙ্গলের জন্য এই বাহিনী তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

    অন্যথায় এই বাহিনীর বিলুপ্তি অত্যাবশ্যক….

    Reply
  28. সৈয়দ আলী

    যেদিন স্কলাস্টিকার ছাত্রছাত্রীরা র‍্যাবকে ‘পছন্দ’ করে ‘থাম্বস আপ’ দেখানোর দায়ে র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিল, সেদিনই বোঝা গিয়েছিল এই বাহিনীর মানসিকতা কী রকম।

    তেনারা থাম্বস আপকে ‘কাঁচকলা’ মনে করেছিলেন!

    Reply
    • জিনিয়া

      বলেন কী, সৈয়দ সাহেব? এই কাহিনী কবে হয়েছিল! জানতাম না তো!

      এদেশে সব-ই সম্ভব, খালাম্মা…

      Reply
  29. Sajid Mahbub

    স্বল্প সময়ের মধ্যেই একে বিলুপ্ত করে দেওয়া উচিত। কোনো পরিবারে যদি ডিফেন্সের লোক থাকে, তবে তারা সবসময় অন্য পরিবারগুলোর জন্য হুমকি হয়ে থাকে। কেবল বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাতেই এসব সম্ভব। অনেক ডিফেন্স অফিসার বেসামরিক নাগরিকদের হুমকি দিয়ে থাকে ইনডিরেক্টলি। তাহলে র‌্যাবে কেন সেই ডিফেন্সের লোক থেকে ৪৪ শতাংশ?

    উন্নত সমাজে কেউ ডিফেন্স বা পুলিশের সদস্যদের ভয় পায় না। সবাই আইন মান্য করে চলে। এসব কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব!

    এখন কিন্তু তরুণ প্রজন্ম শিক্ষিত হচ্ছে। তারা অনেক কিছু দেখছে, শেয়ার করছে অনলাইনে। তারা জেনে যাচ্ছে যে, একমাত্র বাংলাদেশেই ডিফেন্স সেক্টর ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

    Reply
  30. humayun kabir

    আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সৈন্যদের ভাবমূর্তি ও অবদানের মূল্য রক্ষা করার জন্য এখন আমাদের র‌্যাব বিলুপ্ত করতে হবে।

    Reply
  31. Badsha

    ‘‘সত্যিই কি র‌্যাব আমাদের দরকার?….. এসব বাদানুবাদে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তা হল র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সর্বজনীন অভিযোগটির।’

    কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন এই রাজনৈতিক অপব্যবহার? এই অপ-রাজনৈতিক ব্যবহার থেকে কি বের হওয়া সম্ভব নয়?

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র চালাতে এ ধরনের রাজনৈতিকভাবে অনুগত গেস্টাপো বাহিনীর উপস্থিতি অবশ্যই থাকতে হবে। ইতিহাসের পাতায় একটু চোখ বোলান। পাতায় পাতায় পাবেন।

      Reply
  32. homayun kabir

    র‌্যাব থাকবে, কিন্তু র‌্যাবের মধ্যে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে।

    Reply

Leave a Reply to মোস্তফা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—