সবিনয় অনুরোধ করি, প্রথমেই ধরে নেবেন না আমি দলীয় শ্লোগান দিচ্ছি। না, তা নয়। এ আমার হৃদয়-নিঃসৃত বর্ণমালা। জাতির এ মাহেন্দ্রক্ষণে ‘জয় বাংলা’-ই আমার গর্বিত উচ্চারণ। কেন তাই বলছি।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হবার পর থেকে রাতভর আমার মোবাইলে একের এক ম্যাসেজ আসতে থাকল। ফেইস বুকের ইনবক্সে ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ। অবাক হয়ে দেখলাম সব ম্যাসেজে একই কথা লেখা, খুবই সংক্ষিপ্ত একটি ম্যাসেজ ‘জয় বাংলা’। অথচ আমার পরিচিতজনের বেশিরভাগই স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি হলেও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আমি ডাক্তার, তাই বন্ধু-বান্ধব বেশিরভাগই ডাক্তার, রোগী বা এমন মানুষজন যারা সাধারণ জনগণের অংশ, যাদের বেশিরভাগই প্রচলিত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ।

কিন্তু কাল রাতে যেন এক ’৭১ ফিরে এসেছিল। সবার মুখে মুখে শুনলাম একই শ্লোগান ‘জয় বাংলা’। কেউ উল্লাস নিয়ে বলছে, কেউ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও ঘৃণা নিয়ে বলছে, কেউ কেউ প্রত্যয় নিয়ে বলছে, কেউ কেউ আশা নিয়ে বলছে। তাই আমিও তখন চোখের জলে বুক ভিজিয়ে উচ্চারণ করলাম– ‘জয় বাংলা’।

পাকিস্তান আমলে নিপীড়িত ও শোষণের যাঁতাকলে পড়ে বাঙালি বুঝতে পারল তার আত্মপরিচয় কী, তার জাতিগত পরিচয় কী। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ সুস্পষ্ট দাবি হয়ে উদ্ভাসিত হল ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে। এরপর বহু নির্যাতন, বহু আত্মত্যাগ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলমত নির্বিশেষে সবাই এ শ্লোগান নিয়েই স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিল। তরুণ, নবীন প্রাণ সামনে পড়ে থাকা একটি দীর্ঘ জীবনের মায়া তুচ্ছ করে ট্যাংকের নিচে আত্মবলি দিয়েছে এই শ্লোগান বুকে ধারণ করে। একথা বহুবার বলা হয়েছে। তাও আবার বলতে হবে, কারণ এই বিশাল আত্মত্যাগের যোগ্য মর্যাদা তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমাদের দিতেই হবে। এ আমাদের জন্মগত দায়বদ্ধতা, দেশের প্রতি, দেশের সূর্যসন্তানদের প্রতি।

আজ ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান একটি দলীয় শ্লোগান বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু শহীদ সন্তান হিসেবে আমি আজ তীব্র চিৎকারে বলতে চাই যে এ আমাদের পুরো জাতির শ্লোগান। আওয়ামী লীগ এটি ধরে রেখেছে। সেটা তাদের সাফল্য। আমরা সাধারণ মানুষ কেন ধরে রাখতে পারলাম না এ আমাদের ব্যর্থতা। এমনকি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বলে পরিচয় দেন এমন মানুষগুলোর তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতা’ ভ্রান্তির কারণে ও দলীয় সিল পড়ার ভীতির কারণে এ ‘শ্লোগান’ প্রাণে ধারণ করলেও মুখে উচ্চারণ করেননি। এ আমাদের ব্যর্থতা, এ আমাদের ক্ষুদ্রতা, এ আমাদের ভীরুতার পরিচায়ক।

 

Shahbag - 444
এ আমাদের জন্মগত দায়বদ্ধতা, দেশের প্রতি, দেশের সূর্যসন্তানদের প্রতি

 

যারা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর প্রবক্তা তারা আমার জাতিসত্তার চেতনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ জাতির বিরুদ্ধে এক নিগূঢ় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ বিপরীতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ তৈরি করেন। কিন্তু জাতিসত্তার পরিচয় তৈরি করার কোনো বিষয় নয়। এটা রক্তের উত্তরাধিকারের বিষয়, হাজার বছরের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা রক্তের পরিচয়।

কিন্তু ‘ন্যাশনালিটি’ আর ‘সিটিজেনশিপ’ অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ ও নাগরিকত্ব এ দুটোর পার্থক্য বোঝা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। আমার বাবা-মা একবার ছিলেন ব্রিটিশ, একবার পাকিস্তানি। বাবা বাংলাদেশি হবার সুযোগ পাননি, স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়েছেন। মা এখন বাংলাদেশি। তবে কি জাতীয় পরিচয় একটি পোশাকি বিষয় যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাবে? এই শিশুসুলভ যুক্তি বিশ্বাস করার পিছনে নির্বুদ্ধিতা কাজ করে, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

সুতরাং স্পষ্ট করে বলছি, বাংলাদেশের নাগরিক হবার সুযোগ না পেলেও আমার বাবা ছিলেন একজন বাঙালি। মা তখন ছিলেন বাঙালি, আজও বাঙালি। আমি বাঙালি। আমার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর যে দেশেই থাকুক সে হবে বাঙালি। যদি পরবর্তী প্রজন্ম বিদেশে থাকে তবে তার নাগরিকত্ব হবে দেশের কিন্তু জাতিপরিচয় হবে চিরকালই বাঙালি।

তবে সে বির্তক আজ নয়, দুটো রাজনৈতিক ধারার তুলনামূলক বিষয়ে কথা বলার দিনও আজ নয়। আজ দিন জয়গানের, আজ দিন সন্তুষ্টি আর কৃতজ্ঞতার বাঁধভাঙ্গা অশ্রুর। তাই আজ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি চারিদিকে সবাই বলছে ‘জয় বাংলা’। আমাদের যে কোনো জয়গানের উচ্চারণ যে ‘জয় বাংলা’, কাদের মোল্লার ফাঁসির পর আজ আবার আমি স্পষ্ট করে বুঝতে পারলাম।

কাল রাতে একজন সাধারণ নাগরিক আমাকে ম্যাসেজে লিখেছেন, ‘‘বিয়াল্লিশ বছর বঞ্চনার পর একজন যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি দেখলাম। এত আনন্দ, এত বেদনা, এত প্রশান্তি, এত অনুভূতি হচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মনে হচ্ছে শুধু দুটি শব্দই আমার অনুভূতির ধারণ করতে পেরেছে। তা হল ‘জয় বাংলা’, তাই শুধু সেটাই বারবার উচ্চারণ করছি।”

সেই ক্ষণে আমারও তাই মনে হল। এই তীব্র কষ্ট, আনন্দপ্রাপ্তির বিশালতা ধারণ করতে পারে তাহলে আজ বুঝি শুধু ওই দুটি শব্দেই সেই বিশালতা আছে। শহীদ সন্তান হওয়ার সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক সবাই জানতে চাচ্ছেন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এই প্রথম একজন যুদ্ধাপরাধীর মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শাস্তি কার্যকর হল। শহীদ সন্তান হিসেবে আমার কেমন লাগছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির এ দীর্ঘ সংগ্রামের ক্লান্ত অবসন্ন, অভিমানী বুক থেকে যে তীব্র দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে, সে কি অনুভূতির সমন্বিত ফসল তা আমি কীভাবে বুঝাই?

আমার মনে পড়ে যায় এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উচ্চারণও একসময় ছিল দুঃসাহসের পরিচয়। এদেশে আমার মতো হাজার হাজার অভাগা পিতৃহীন সন্তান আছে যারা পিতৃহন্তারককে শাসনক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করতে দেখেছে– যখন তারা ও তাদের মায়েরা রাস্তায় সংগ্রাম করছে টিকে থাকার। আমরা যারা আপনাদের সামনে কথা বলি তারা তাও হয়তো কিছুটা শক্ত মাটি পায়ের নিচে তৈরি করতে পেরেছি এতদিনে। কিন্তু জীবনসংগ্রামে পর্যুদস্ত লক্ষ লক্ষ শহীদ পরিবার আজও রাস্তায়– নিগৃহীত, অবহেলিত এবং প্রতিটি মুহূর্তে অপমানিত।

এ অপমান শুধু তাদের নয়, আমার নয়, আমার আপনার সকলের। সে অপমানের, সে অবহেলার, সে গঞ্জনার ক্রোধ আজও বুকে দাউ দাউ করে জ্বলছে। অন্তত একজন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর হতে দেখে তারুণ্য উল্লসিত, সমগ্র দেশ উল্লসিত। অনেক অপেক্ষার পরে এর বিচার যা একসময় মনে হত স্বপ্নাতীত। হাতে দুর্লভ হীরকখণ্ড পাওয়ার মতো অবস্থা সবার।

দুর্লভ হীরকখণ্ডই বটে। কিন্তু কেন? এ বিচার তো অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল। স্বাভাবিক মানবাধিকারের কারণে সহজাতভাবে এ বিচার হবার কথা ছিল। যে অপরাধ ছিল সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে তার বিচার করার কথা ছিল রাষ্ট্রের। এ তো কারও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসেব-নিকেশ নয়। আমার বাবা মারা গেছেন দেশের জন্য, তবে আমার কেন বিয়াল্লিশটি বছর চাইতে হল এ বিচার?

শুধু তাই নয় বিচার কেন করা উচিত তা নিয়ে আমাদেরকে অর্থাৎ শহীদ স্বজনদেরকে বারবার সকলের কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে। আমরা যারা অন্যায়ের শিকার আমাদেরকেই বারবার উত্তর দিতে হয়েছে কেন এত বড় একটি অন্যায়ের বিচার প্রয়োজন, কেন বিচার চাচ্ছি। শুধু তাই নয় এর উপরি পাওনা হিসেবে জুটেছিল টিটকারী, লঞ্চনা, গঞ্জনা। এগুলো সব অতীত ঘটনা। কেন অতীত নিয়ে টানাটানি করছি তার জন্য ব্যঙ্গ শুনতে হয়েছে। তারা ভুলে যেতে চেয়েছে যে, অন্যায় কখনও তামাদি হয় না। এটা আমার কথা নয়, এটা আইনের কথা।

যা ছিল আমাদের মৌলিক অধিকার তার জন্য এত কষ্ট কেন করতে হল, কেন দীর্ঘ সংগ্রাম, কেন এত অপেক্ষা, কেন এত অশ্রু? বিয়াল্লিশ বছর দীর্ঘ সময়। শহীদজায়া, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা কয়জন জীবিত আছেন? কয়জন দেখে যেতে পারলেন? এতবড় হত্যাকাণ্ড, এত ধর্ষণ যা বিশ্ববাসীর সামনে সংগঠিত হল তাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাকে অস্বীকার পর্যন্ত করার আস্পর্ধা দেখিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। শুধু তাই নয়, শহীদদের হত্যাকারীদের গাড়িতে শহীদের রক্তমাখা পতাকা তুলে দিয়েছে এদেশের শাসকগোষ্ঠী। তাই বুকের ভিতরে আছে অনেক ক্ষোভ, অনেক অভিমান, অনেক বেদনা।

 

ICT - 888
যা ছিল আমাদের মৌলিক অধিকার তার জন্য এত কষ্ট কেন করতে হল, কেন দীর্ঘ সংগ্রাম, কেন এত অপেক্ষা, কেন এত অশ্রু

 

এ বিচার নিয়েও কত বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, কত ‘কিন্তু’ ‘তবে’ জাতীয় পানি ঘোলা করার প্রচেষ্টা। শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে কত বিরোধিতা। শুধু বিরোধীদের কাছ থেকে নয়, সরকারকে এমনকি আমাদের থেকেও কত প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আজ সরকার ও সরকারপ্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কথায় নয় কাজে প্রমাণ করে দিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর কাছে।

কৃতজ্ঞতা জানাই বাঙালি জাতির কাছে। এদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমাদের দুঃখের সমব্যথী হয়েছেন। এক সময় দেশটি এমন ছিল, মনে হত আমরা শহীদস্বজনরা বোধহয় একা। কেউ স্বাধীনতা নিয়ে ভাবে না, যুদ্ধাপরাধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না, আমাদের অবহেলা করে। আজ বুঝতে পারছি বাঙালি আসলেই বীর জাতি। সহজ-সরল বাঙালি সময়ের প্রয়োজনে সর্বদা মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের ইতিহাস স্বীকার করে, শহীদদের সম্মান জানাতে পারে, বীরাঙ্গনাদের সম্ভ্রমহানির প্রতিশোধ নিতে জানে।

আজ কাদের মোল্লার ফাঁসির পরে তাই বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে সেই ধর্ষিত নারীর কথা যাকে কসাই কাদের নিজে ধর্ষণ করেছিল। তার সামনে তার মা ও বাবাকে হত্যার পরে বোনকে ধর্ষণ ও হত্যার পরে তাকেও সে হত্যা করে। আমাদের সেই বীরাঙ্গনা মা এত বছর পরেও সাহসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সেই অমানুষিক নির্যাতানের বর্ণনা দিয়েছেন ক্যামেরা ট্রায়ালে।

আজ বুকের রক্ত চোখের পানি হয়ে ঝরছে অঝোর ধারায় সেই বীরাঙ্গনা মায়ের জন্য। বার বার মনে হচ্ছে, আর কিছু না হোক এ স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত একজন বীরাঙ্গনা বেঁচে থেকে এই জীবনে দেখে যেতে পারলেন যে, তার প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে, অন্যায় করা হয়েছে সেজন্য তার ধর্ষককে তার দেশ সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে।

মনে হচ্ছে দেশ নয়, জাতি নয়, শহীদস্বজন নয়, মুক্তিযোদ্ধা নয়– আমাদের এই বিজয় বীরাঙ্গনাদের জন্য। বীরাঙ্গনা মা, তোমরা দেখ, তোমাদের দেশ, তোমাদের সন্তানরা, তোমাদের আত্মত্যাগ ভুলে যায়নি। তোমাদের প্রতি কৃত অন্যায়ের বিচার তারা শুরু করেছে। এ বিজয় তোমাদের। আমাদের এ সংগ্রাম তোমাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন। মা তোমরা বেঁচে আছ, নাকি নেই জানি না। প্রকাশ্যে আছ, নাকি লুকিয়ে রেখেছ এ দুঃখগাথা। মা, তোমরা যে যেখানেই আছ, তাকিয়ে দেখ আজ তোমাদের সম্ভ্রমহানির প্রতিশোধ নিয়েছি আমরা।

মা, এবার শান্তিতে ঘুমাও, আমি কাঁদি। কাঁদি তোমার জন্য, কাঁদি আমার জন্য, এ অভাগা দেশের জন্য, এ বীর জাতির জন্য, এই দায়মুক্তির সুযোগের জন্য।

তারুণ্য আজ উল্লাস করছে, এটা তাদের বিজয়। এ বিজয়ের উল্লাসে আমিও উল্লসিত। আমিও হাসছি, অথচ দুচোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রু ঝরে পড়ছে। অনন্য এক অনুভূতি। ’৭১-এর বিজয়ের অনুভূতি এমনই ছিল, যখন ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় লাভ করল ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে, ৪ লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে। আনন্দ-বেদনার এ কী অপূর্ব মিলন।

আজ কি বাতাসে অক্সিজেন একটু বেশি? বুকের ভিতর এত হালকা লাগছে কেন? কাঁধের উপর থেকে দায়বদ্ধতার বোঝো নেমে গেল কিছুটা। আহ, কী শান্তি। এত আবেগ আমি প্রকাশ করি কীভাবে? শব্দরাশির রাজ্যে শব্দ খুঁজে পাই না আজ আমার অশ্রুকে ব্যাখ্যা করার। কোনো শব্দই যেন যথেষ্ট বিশাল নয় আমার দীর্ঘশ্বাসের কথা বুঝিয়ে বলার জন্য। দীর্ঘ সংগ্রামের পরে এ বিজয়ের উল্লাসের যে তীব্রতা তাকে প্রকাশ করি কীভাবে? কী দিয়ে এ জাতির জয়গান করি? কী দিলে আমার কৃতজ্ঞচিত্তের আকুল নিবেদন আমি প্রতিটি মানুষকে বোঝাতে পারি যে, তোমাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কোন শব্দে আছে সেই বিশালতা আর ব্যাপকতা?

যেন শুধু একটি শ্লোগানই এই বিচিত্র, বিশাল অনুভূতিকে ধারণ করতে পারে। তা আমার পিতার শ্লোগান, তা আমার দেশের শ্লোগান। উচ্চকণ্ঠে বার বার বলে উঠি– ‘জয় বাংলা’।

ডা. নুজহাত চৌধুরীসহযোগী অধ্যাপক (চক্ষু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

৭৫ Responses -- “জয় বাংলা”

  1. মহাম্মদ ইফতেখারুজ্জামান (তপু)

    জয় বাংলা স্লোগান এর মর্যাদা
    আর জাতীয়তাবাদ এবং নাগরিকত্তের পার্থক্য বোঝার মত সামান্য সভ্য হতে আমাদের এখনো ঢের বাকি
    দীর্ঘমেয়াদের ভালোবাসার মূল শক্তি যেমন পাশের জনকে অসহ্য বা বিরক্তিকর না লাগা
    তেমনি রাষ্ট্র বা সমাজের ক্ষেত্রেও তাই, শুধু সময়ের ব্যাপ্তি কিছুটা বড়।
    মানুষের জীবন যেমন ১০০ বছরের মত হয়
    একটা রাষ্ট্র বা সমাজ হয় হাজার বা তার চেয়ে অনেক বেশি বছরের
    এর মধ্যে কোনটা নিজেদের জন্য ভালো কোনটা মন্দ তা বুঝলে আমাদের মঙ্গল,
    আর না বুঝতে চাইলে কেউ জোর করে বোঝাতে পারবে না
    নেতিবাচক দিকগুলো দেখে আমরা থেমে থাকব না
    ভাগ্য বা বিধাতার হাতে যদি ৫০% আর আমাদের হাতে যদি ৫০% থাকে
    তবে আমাদের হাতের ৫০% নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব
    কেননা বাকিটা আমাদের হাতে নেই
    তাই আমাদের হাতের ৫০% ই আমাদের ১০০%
    বাকিটা তার ইচ্ছা

    Reply
  2. এস.এম.নিজাম উদ্দিন

    আমার আব্বা ও আমার ছোট ভাই ১৯৭১ সনে ৬ই এপ্রিল এক সাথে, একই সময়ে শহীদ হয়ে ছিলেন
    দু:খের সাথে জানাতে চাই, অদ্যাবধি উনাদেরকে শহীদের খাতায় নাম লিখাইতে পারি নাই। কেহ কোন দিন খবরও নে নাই। স্বাধিনতা দিবসে হাসতে পারিনা,কান্না করি।

    Reply
  3. বিধান পাল

    বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ছাড়া ‘জয় বাংলা’ শব্দ কানে বাজে না কেন?

    Reply
  4. কুতুব

    আপনার লেখা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ি এবং আপনার লেখার মধ্যে খুঁজে পাই আমাদের অনেক হারানো ঐতিহ্য। আপনার লেখার মধ্যে যেমন থাকে সততা, তেমনি থাকে যুক্তি ও দেশপ্রেম। আপনি আরও অনেক অনেক লিখবেন এবং জাতিকে করবেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সে আশা করি।

    Reply
  5. Sade Uddin Ahmed

    সেই সঙ্গে একইভাবে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান তুলতে আমরা এখনও দ্বিধাগ্রস্ত। অথচ ৭১ এ যতবার ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উচ্চারিত হয়েছে ততবার ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ও উচ্চারিত হয়েছে।

    বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নন, পুরো জাতির। এটা বুঝতেও কি আমাদের আরও বিয়াল্লিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে????

    Reply
  6. mohd fazley rabbi

    আপু,

    আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। আপনি গ্রেট। আপনাকে দেখে লাখো বাঙালি সাহস পাবে ‘জয় বাংলা’ বলার।

    আপনাদের সবাইকে স্যালুট। আল্লাহ আপনাকে আরও সাহস ও শক্তি দান করুন।

    Reply
  7. Abul Hasan

    ‘জয় বাংলা’ কোনো দলীয় শ্লোগান নয়, এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাণের শ্লোগান।

    ‘জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা”জয় বাংলা’

    Reply
  8. shahed

    ড. চৌধুরী,

    আপনি কখন বাঙালি থেকে বাংলাদেশি হবেন? বাঙালিরা ভারতে বেশি ভালো আছে। তাই আমার মনে হয় আপনার একটি আইডিওলজি থাকা দরকার। তাহলে আপনি ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি ভালো ফলাফল দেখবেন।

    থ্যাংকস ফর ই্ওর লেটেন্ট পলিটিক্যাল এসটাবলিশমেন্টাল স্টেটমেন্ট।

    Reply
  9. মাহবুব কামাল

    কাদের কসাইর রায়ের পূর্বে বাস্তবিক অর্থে ভুলেই গিয়েছিলাম যে এদেশ আমাদের জয় বাংলা আমাদের স্লোগান। ধন্যবাদ আপু হৃদয় ছোঁয়ানো কথাগুলোর জন্য।

    Reply
  10. najib

    একটি তথ্য দিয়ে রাখি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি প্রথম উচ্চারিত হয় দিল্লিতে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। আর বাংলাদেশে তা আমদানি করে বৈজ্ঞানিক সিরাজুল আলম খানের সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) … এনারাই ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বিপ্লব করে দেশের প্রথম সামরিক শাসন (জেনারেল জিয়া) জারির পথ প্রশস্ত করেন।

    ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে পাকিস্তানের যত সমস্যা, ভারতের সমস্যা আরও বেশি। বাঙালি জাতীয়তাবাদে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই, সমস্যা ভারতের। সেভেন সিস্টার্স, ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে আর বাঙালি জাতীয়তাবাদে তাই তারই বেশি আপত্তি, যিনি তালপট্টিতে ভারতীয় বাহিনীর প্রবেশে বাধা দেননি (১৯৮০-৮১), যিনি ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচারের সুযোগ দিয়েছেন (১৯৯১-৯৫), ভারতীয় গাড়ি-সিএনজি দিয়ে যিনি বাংলাদেশের রাস্তা ভরে ফেলেছেন, যার অঙ্গে ভারতীয় শাড়ি বেশি শোভা পায়।

    আর বন্ধুদের বাঁচাতে ভারতীয় মার্কিনি জাতিসংঘওয়ালারাই দৌড়াদৌড়ি করে (দেশাই-পিল্লাই)।

    Reply
  11. najib

    আমি যখন ‘বঙ্গবন্ধু’ বলি তখন আপনি আমকে আওয়ামী লীগার বলেন; আমি যখন ‘জয়বাংলা’ বলি আপনি তখন আমাকে আওয়ামী লীগার বলেন; আমি যখন বলি ‘৭২-এর সংবিধানের মূলনীতিতে’ ফিরতে হবে আপনি তখন আমাকে আওয়ামী লীগার বলেন; আমি যখন ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ নিয়ে নাড়াচাড়া করি তখন আপনি আমাকে আওয়ামী লীগার বলেন; আমি যখন বলি ‘দেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান’ তখন আপনি আমাকে আওয়ামী লীগার বলেন।

    জানি আমার এসব কর্মকাণ্ডে আপাতত আওয়ামী লীগ লাভবান হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিরোধীরা, কেঁচো খুড়বার আশায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে যাত্রা শুরু করেছিলাম ১৯৮৫-৮৬ তে। দেখি আমি হাত দিয়ে ফেলেছি সাপের গর্তে…

    ‘জয় বাংলা’ বলা না বলাটা অপরাধ নয়, ‘জয় বাংলা’ (এ শ্লোগানের জন্ম ৬৯/৭০ এর গণআন্দোলনে) কেউ বললে তাকে আওয়ামী লীগার ভাবাটা অপরাধ। কারন জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান, আওয়ামী লীগ কখনেওই এটা আমাদের শ্লোগান এই দাবি করে অন্যকে এ শ্লোগান দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে এমন দাবি কেউ করতে পারবে না।

    উল্টো আমি নিজেই সাক্ষ্য দিতে পারি এ শ্লোগানের বিপরীতে ৭৫-৮০ সময়কালে প্রচুর (এমনকি মসজিদেও) অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আর একটি তথ্য দিয়ে রাখি– ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি প্রথম উচ্চারিত হয় দিল্লিতে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি– আর বাংলাদেশে তা আমদানি করে বৈজ্ঞানিক সিরাজুল আলম খানের সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এনারাই ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বিপ্লব করে দেশের প্রথম সামরিক শাসন (জেনারেল জিয়া) জারির পথ প্রশস্ত করেন…

    আর মুজিব প্রসঙ্গ: অনেকই বলে ‘তার জন্য উনার যে সম্মান প্রাপ্য তা তিনি আজীবন পেয়ে যাবেন আমার কাছে। কিন্তু সেটা বিফোর লিবারেশন তার কর্মকাণ্ডের কারণে। আফটার লিবারেশন তার অনেক কর্মকাণ্ড আমি পছন্দ করি নাই।’ তারা যদি আফটার লিবারেশন কর্মকাণ্ডের একটি তালিকা দেন ভালো হয়… সেটা আদালত বা আইন মেনে বুঝে দরকার নেই কিন্তু অবশ্যই রাষ্টবি্জ্ঞান বুঝে যেন হয়… না হলে এ তালিকা নিছক নির্বোধ বা শয়তানের (মূলত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের) অপপ্রচার।

    আপনারা ‘বঙ্গবন্ধু’ ‘জয় বাংলা’ বললে আওয়ামী লীগার বলা বন্ধ করুন। বঙ্গবন্ধু খণ্ডিত থাকবেন না… আওয়ামী লীগের থাকবেন না… জয় বাংলা আওয়ামী লীগের থাকবে না… কোনো আওয়ামী লীগ নেতা তো আমাকে আজ পর্যন্ত বলল না আমি আওয়ামী লীগার, আপনারা বলেন…. বাচ্চাদের চোখে এটা ধরা পড়ে … শুধু আপনাদের চোখে পড়ে না।

    মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পোস্টার নিয়ে টি-শার্ট, গুলি যখন প্রকাশ করি- ১৫ ডিসেম্বর ২০০৬ রাত ৯টায়, ৩ কলেজপড়ুয়া ছাত্র অর্ধবন্ধ সাটার ঠেলে দোকানে ঢুকল এবং শেষ তিনটি টি-শার্ট (তার একটি ছেড়া ছিল, একটি ছিল

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=233503863427650&set=a.233503693427667.47372.232524160192287&type=3&theater) কিনে নিল।

    কৌতূহলবশতই জানতে চেয়েছিলাম রাজনৈতিক পরিচয়– আজও আমার চোখে পানি চলে আসে, সে ঢাকা শহরের বিখ্যাত একটি কলেজের ছাত্রদল কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর একজন। সে ছেলেটি হয়তো পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সারাদিনও টি-শার্টটি পরে থাকার সুযোগ পায়নি, কারণ আপনি তাকে ‘তুই আওয়ামী লীগার, তুই আওয়ামী লীগার’ বলে মাতম শুরু করে দিয়েছেন…

    রাস্তায় ট্রাফিক আইন না মানার পক্ষে (আইন ভঙ্গকারী বা অপরাধী/ক্রিমিনাল হিসেবে) আমাদের অনেক কুযুক্তি আছে…

    আমরা সেই মানসিকতারই প্রকাশ করি অন্যান্য ক্ষেত্রেও, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুজিবের অবদান মানতে আমাদের কষ্ট হয়। তাই আমরা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলি না, এতদিন ছিল ‘ওনার যে সম্মান প্রাপ্য তা তিনি আজীবন পেয়ে যাবেন আমার কাছে। কিন্তু সেটা বিফোর লিবারেশন তার কর্মকাণ্ডের কারণে। আফটার লিবারেশন তার অনেক কমকান্ড আমি পছন্দ করি নাই’ (আফটার লিবারেশন কর্মকাণ্ডটা কিন্তু অজ্ঞাত এবং বানোয়াট)… এখন যুক্ত হয়েছে ‘জোর করে সম্মান আদায় করতে চাইলে সেই ব্যক্তিটিকে অসম্মানই করা হয়’…

    যদি সত্যি বাংলাদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন, মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাসকে বিকৃত করবার চেস্টা বন্ধ করুন…

    আমি খুব স্পস্ট করেই বলছি… আপনার অবশ্যই স্বাধীনতা আছে বাংলাদেশের নাগরিক না থাকার, আপনি পাকিস্তান, ভারত, চীন যে কোন দেশের নাগরীকত্ব নিতে পারেন, তবে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবী করেন তবে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান, নেতৃত্ব, যোদ্ধা, বিরুদ্ধ গোষ্ঠি সম্পকে জানতে হবে, মানতে হবে।

    Reply
  12. সাইফ খান

    জাতীয়তা (Nationality) আর জাতীয়তাবাদে অনেক ফারাক। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বাঙালিকে অবাঙালি বলা হয়নি– বাংলাদেশের নাগরিক বাঙালি ও অবাঙালি মিলে বাংলাদেশি জাতীয়তা।

    মণিলাল চাকমাকে বাঙালি জাতীয়তা গ্রহণ করতে বলা সচেতন মানুষকে মানায় না। উনি ঠিক বলেছেন– এ দিনে এই আলোচনা নয়।

    তারপরও লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  13. মোশফিকুর রহমান কাজল

    এ এক অতুলনীয় লেখা। পেশায় একজন ডাক্তার হয়েও আপনি যে লেখায় আপনার অনবদ্যতা দেখিয়ে গেলেন, সত্যিই তার প্রশংসা করার ধৃষ্টতা আমার নেই।

    শুধু এটুকুন বলি, যে দেশপ্রেম আপনার পাঁজরভাঙ্গা বুকে আগলে রেখেছেন, তার জন্যে রইল আমার লাল সালাম।

    ভালো থাকবেন সবসময়। আপনাদের পরিবারের মানুষদের প্রতি আমাদের বাঙালির ভীষণ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা যুগ যুগ অনন্তকাল ধরে থাকবে।

    Reply
  14. আবু এম ইউসুফ

    জয় বাংলা, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান। আর মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া।

    Reply
  15. M Shafiul Islam

    সমস্যা হল, আমরা যারা এই শ্লোগানকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার অংশ বলে মনে করি, তারা সাধারণ মানুষকে এ চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করিনি। তাই সাধারণ মানুষ এটা ধরে রাখতে পারেনি, এ আমাদের ব্যর্থতা।

    আর এ জন্যই কাদেরের ফাঁসিতে অসংখ্য তরুণকে প্রতিবাদ করতে দেখলাম যাদের প্রকৃতপক্ষে আমাদের সঙ্গে থাকার কথা ছিল।

    Reply
  16. ম্যানিলা নিশি

    আমি বাংলাদেশি নাকি বাঙালি? বিশ্বদরবারে আমার নাগরিকত্ব নাকি জাতীয়তার পরিচয়, কোনটি সবার আগে তুলে ধরা উচিত?

    ‘বাংলাদেশ’ শব্দটির সঙ্গে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম সরাসরি জড়িয়ে আছে, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যেটি বিশ্বমানচিত্রে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

    আর তাই বিশ্বদরবারে আমার নাগরিক পরিচয়টি সবার আগে তুলে ধরায় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ নাগরিকতার এই পরিচয়টিই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আর বীরাঙ্গনার ইতিহাস ধারণ করে চলেছে।

    আমি অবশ্যই একজন গর্বিত বাংলাদেশি।

    Reply
  17. Fazlul Haq

    বাঙালির সঙ্গে আছে গারো, চাকমাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী। বাংলাদেশ আমাদের সবার; আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা সবাই বাংলাদেশি।

    একমাত্র রাজাকাররা ছাড়া; ওরা বেজাত। বাংলাদেশে ওদের স্থান হতে পারে না।

    Reply
  18. Faisal Ahmed

    আপনার মতো সচেতন নাগরিক অনেক বেশি সংখ্যায় দরকার। যখন কিছুই ভালো হচ্ছে না, তখন লেখাটি খুব ভালো হযেছে। ভালো লাগল।

    Reply
  19. Rex

    সকল রাজাকারের ন্যায্য বিচার যেদিন হবে সেদিন আমি সাব্বিরও এমন আবেগ প্রকাশ করব ‘জয় বাংলা’ বলে৷ আর সেই দিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নেতা শেখ মুজিবর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ মানতে গর্ববোধ করব কথা দিলাম, আর কথা রাখবই৷

    রাজাকারের বিচার আমিও চাই, তবে দলীয় বিচার নয়৷ ম খা আলমগীর ও খন্দকার মোশাররফ, যদি তারা রাজাকার হয়ে থাকেন তাহলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হল না কেন???

    আওয়ামী লীগ ভাইয়াদের বলছি– আমাকে ভুল বোঝেন, নো প্রবলেম, আমার কোনো কিছু যায় আসে না৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করব যদি সুযোগ পাই৷ কারণ সত্য সত্যই।

    আমার উত্তর দরকার, জানা দরকার।

    Reply
  20. Shameem Ibrahim

    মা, এবার শান্তিতে ঘুমাও, আমি কাঁদি। কাঁদি তোমার জন্য, কাঁদি আমার জন্য, এ অভাগা দেশের জন্য, এ বীর জাতির জন্য, এই দায়মুক্তির সুযোগের জন্য।

    Reply
  21. Mizan

    ডা. নুজহাত,

    যতবার ‌’জয় বাংলা’র শ্লোগান করছেন ততবার কি আল্লাহু আকবার বলেছেন? মুক্তিযুদ্ধ কি আল্লাহর চেয়ে বড় হয়ে গেল? কই, একবারও তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেননি যিনি আকাশ ও পৃথিবীকে কালের ৬ টি অধ্যায়ে সৃষ্টি করেছেন।

    আপনার বক্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে যে, আপনার পুরো স্বত্ত্বা জুড়ে আছে কেবলই বাঙালি জাতীয়তাবাদ! সেখানে আল্লাহর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    ভুলে গেছেন যে, ৭১-এর অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন মুসলমান? একজন মানুষের জন্য মহামহিম আল্লাহর দেওয়া পরিচয় মুসলিমের চেয়ে বড় কিছু কি হতে পারে।

    Reply
  22. saiful alam chowdhury

    লেখাটি খুব সুন্দর। কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।

    যারা একাত্তরের পর বাকশাল কায়েম করে তাদের ব্যাপারে তো কিছু বলেন না! বর্তমানে দেশে ৭১ শতাংশ মানুষ আওয়ামী চেতনার বিরুদ্ধে, তাহলে ওরা সবাই দেশের শত্রু?

    আমার পরিবার তো একাত্তরে পাক হানাদার বহিনীর হাত থেকে একটি উপজেলাকে বাঁচিয়েছে। কই, আমরা তো ঢাক-ঢোল পিটাচ্ছি না …..

    Reply
  23. R. Masud

    কোথায় যেন একটা চমৎকার উদ্ধৃতি পড়েছিলাম….

    ‘রাজাকার কোনোদিন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা সহজেই রাজাকার লেভেলে চলে যেতে পারে।’

    যারা আজ মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপ্রদীপ ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে না, করতে চায় না, তাদেরকে কি ওই রাজাকার লেভেলে ফেলা যায় না????

    Reply
  24. তপন

    ডা. নুজহাত চৌধুরী,

    আপনার লেখা পড়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। কিন্তু নিজের মনের কাছে একটি প্রশ্ন জাগল, আপনার মনের ভিতর দ্বীন বা ইসলাম থাকলে আপনি কখনও জয় বাংলা শ্লোগান দিতে পারতেন না। কারণ এই জয় বাংলা শ্লোগানধারীরা হাজার হাজার আলেম হত্যাকারী, একজন ইসলামি নেতার হত্যাকারী।

    Reply
  25. Mahfuz

    আপনার লেখাটি আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা এ দেশের স্বাধীনতার পরবর্তী নাগরিক হয়ে আপনাদেরসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। মাকে কলঙ্কমুক্ত করার পক্ষে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। এ এক কঠিন পথ। তাই প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ থাকা। ধন্যবাদ।

    জয় বাংলা …

    Reply
    • khokon

      সরি, আপনার সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের ব্যাপারে একমত নই। প্রথমত, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে বাঙালির সংখ্যা অনেক বেশি। ভারতের বাঙালিরা তো আমাদের সঙ্গে এসে যুক্ত হচ্ছে না যখন আমরা ‘জয় বাংলা’ বলছি। আমরা চাই না যে দেশটা বাঙালিদের একটি ‘নাজিভূমি’ত পরিণত হোক।

      তাছাড়া এদেশের চাকমাসহ আদিবাসীরা, ঢাকাইয়া, সিলেটি ও চাটগাইয়াদের কী হবে যারা বাঙালি নয়….

      Reply
  26. Himu

    আফসোস, স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পরও আমরা বাঙালি রয়ে গেলাম, এখনও বাংলাদেশি হতে পারলাম না!

    Reply
    • নাছির

      বাংলাদেশি হল আপনার নাগরিকত্বের পরিচয়, আর বাঙালি হল আপনার জাতিসত্তার পরিচয়। পাকিস্তান আমলে আমরা কোন দেশের নাগরিক ছিলাম? পাকিস্তানের। কিন্তু জাতিতে আমরা ছিলাম বাঙালি, তাই নয় কি? কাজেই নাগরিকত্ব আর জাতিসত্তা দুটা আলাদা জিনিস।

      উদাহরণ দিই– আপনি মাইগ্রেশন করে কানাডার নাগরিকত্ব পেয়ে গেলেন এবং কানাডার পাসপোর্ট বহন করলেন। তখন আপনার নাগরিকত্ব হবে কানাডিয়ান, কিন্তু জাতিতে আপনি কী? ওইই বাঙালিই, যেটা আপনি কোনোদিনও পরিবর্তন করতে পারবেন না।

      আশা করি বুঝবেন এইবার।

      Reply
    • GAZI ALAUDDIN

      ভাই ইমন ও হিমু,

      আপনারা বাঙালি ও বাংলাদেশির মধ্যে পার্থক্য বোঝেন কি? আমরা জাতিগতভাবে বাঙালি, এটা সত্য। আর বাংলাদেশি বলা শুরু ১৯৭৬ সাল থেকে। আপনারা যদি বিদেশে আসেন, তাহলে বুঝতে পারবেন।

      যে কোনো লোক যদি বাংলাদেশে ১৮২ দিন অবস্থান করে দরখাস্ত করে তবে তার বাংলাদেশি হতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সে বাঙালি হতে পারবে না।

      যদি বিভিন্ন দেশের ইতিহাস পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন। আল্লাহ আপনাদের বোঝার তৌফিক দান করুন।

      Reply
    • আফতাব

      বাংলাদেশে জন্মেছে বলেই যে কেউ বাঙালি তা নয়। বাংলা ভাষার ভেতর দিয়ে মানুষের চিত্তলোকে যাতায়াতের বিশেষ অধিকার পেয়েছে বলেই সে বাঙালি। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

      Reply
    • সাজ্জাদ কাজী

      ডা. নুজহাত চৌধুরী খুব পরিষ্কারভাবে ‘ন্যাশনালিটি’ আর ‘সিটিজেনশিপ’ অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ ও নাগরিকত্ব এ দুটোর পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। একটি উদাহরণ উপস্থাপন করলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে।

      যেমন– জিয়াউর রাহমান ১৯৮১ সালে গোলাম আযমকে পাকিস্তানি পাসপোর্টসহ বাংলাদেশে ফেরত আনেন এবং তিনি পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামের আমীর নির্বাচিত হন। এই বিবেচনায় তাকে (গোলাম আযম) বাংলাদেশি বলা যায় কিন্তু বাঙালি বলা যায় না। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী ও অনুগত ছিলেন না।

      একইভাবে অনেকে আছেন যারা জন্মগতভাবে বাংলাদেশি কিন্তু উনার মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য প্রকাশ করেন না। তাদেরকে বাংলাদেশি বলা গেলেও বাঙালি বলা যাবে না।

      আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন।

      Reply
  27. shafiul alam

    আপু,

    আপনার কথার সঙ্গে আমি কিছুটা একমত, কিন্তু পুরাপুরি নই। কারণ এই দেশে কি শুধু বাঙালিরাই আছে, আর কোনো জাতিগোষ্ঠী নেই, যুদ্ধে কি শুধু বাঙালিরাই শহীদ হইসে, একজন অবাঙালি কি শহীদ হয় নাই? আমেরিকা, ভারতের মতো দেশে দেখেন, অইখানে কত জাতিগোষ্ঠী কিন্তু ওরা কী বলে নিজেদের পরিচয় দেয়?

    একটি দেশ গড়তে হলে সমস্ত জাতিসত্তা এবং সমস্ত ধর্মকে একই ছায়াতলে নিয়া আসতে হয়, না হলে দেশ গড়া যায় না। আজ স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পরও এই সত্য উপলব্ধি করতে পারিনি আমরা। একজন ডাক্তার হিসেবে আপনি যেমন রোগীদের মধ্যে জাত বিচার করতে পারেন না, তেমনি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি অন্য নাগরিকদেরকেও সমানাধিকার দিতে বাধ্য।

    Reply
    • নাছির

      ভারতে অনেক ধর্ম-বর্ণের লোক আছে। তাদের জাতীয়তা হচ্ছে ‘হিন্দুস্তানি’, নাগরিকত্বে তারা ভারতীয় বা ইন্ডিয়ান।

      আমাদের তাই অনেক উপজাতি আছে, কিন্তু আমাদের জাতীয়তা বাঙালি। পাহাড়িরা জাতীয়তায় চাকমা, মারমা বা মগ– কিন্তু নাগরিকত্বে বাংলাদেশি।

      Reply
    • bmvbutton

      ‘‘অন্য কোনো জাতিগোষ্ঠী নেই, যুদ্ধে কি শুধু বাঙালিরাই শহীদ হইসে, একজন অবাঙালি কি শহীদ হয় নাই ‘’

      — আপনার কথার উত্তর হল, হ্যাঁ, ১৭০০ ভারতীয় সৈন্যও আমাদের যুদ্ধে মারা গেছে। কিন্তু আমি ঠিক স্পষ্ট না যে আপনি কী বলতে চাচ্ছেন।

      ‘‘একটি দেশ গড়তে হলে সমস্ত জাতিসত্তা এবং সমস্ত ধর্মকে একই ছায়াতলে নিয়া আসতে হয়, না হলে দেশ গড়া যায় না। আজ স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পরও এই সত্য উপলব্ধি করতে পারিনি আমরা। একজন ডাক্তার হিসেবে আপনি যেমন রোগীদের মধ্যে জাত বিচার করতে পারেন না, তেমনি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি অন্য নাগরিকদেরকেও সমানাধিকার দিতে বাধ্য।’’

      — আপনার এ উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ। একাত্তর সাল থেকে আমরা একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলে আসছি, আপনার বক্তব্যেও সেটাই উঠে এসেছে।

      Reply
  28. Goutam Halder

    এই সময়ে আমি চাই সমস্ত মাপকাঠি দূরে ফেলে রেখে এগুতে। এখন একটাই মাপকাঠি– দেশরক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা। আর তাই বর্তমান সরকারকেই ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

    কারণ বিএনপি আর জামাত সমার্থক। ওরা এই দেশটাকে নিজের দেশ/বাংলাদেশ ভাবে না, ওরা ভাবে এটা ‘ফাকিস্তান’।

    তাই সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুল বুঝাবুঝি দূরে রেখে লীগ সরকারকে ফেরত আনতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

    Reply
    • R. Masud

      আপনার সঙ্গে একমত এক শর্তে।

      একটা দেশের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য। হোক না তা আজকের বিএনপি, কিন্তু শক্তিশালী বিরোধী দল তৈরি করতেই হবে। অবশ্যই সেই দলকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।

      কারণ আজকের গণজোয়ারে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এলেও তাদের মাঝে পচন ধরতে পারে। তার জন্যই শক্তিশালী বিরোধী দল।

      সেই বিরোধী দলই কেবল সেই পচন ঠেকাতে পারবে ….

      Reply
  29. জাহিদ হোসেন

    জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ– তিনটি স্তম্ভ যার উপরে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বমানচিত্রে আমাদের এই ভূখণ্ড বাংলাদেশ নামে– যাকে ত্রিচক্রযানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এর একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হলে যানটি চলবে না তার স্বাভাবিক নামে। দ্বিচক্রযান হিসেবে চালানো যায়, তবে তার নাম আর ত্রিচক্রযান হবে না বরং বাইক হবে– যে দুটির মধ্যে গুণগত অনেক তফাত আছে। তাই বাংলাদেশকে চিন্তা করতে হলে এই তিনটি স্তম্ভকে অবশ্যই প্রাথমিকভাবে মেনে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

    ‘জয় বাংলা’ হল ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সবচে বড় শ্লোগান যার বিরুদ্ধে সবচে বেশি খেপেছিল তখনকার সময়ের পাক নীতিনির্ধারকরা। পাকসেনারা ধরা পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বলত–“ইয়ে তো জয় বাংলা কা আদমী হ্যায়, শালে কো মার ডালো।’’

    ‘বঙ্গবন্ধু’ হল শেখ মুজিবুর রহমানের উপধি যা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তখনকার সমস্ত বাঙালির পক্ষ থেকে এবং তা ছিল তখনকার সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মনের কথা। এই উপাধিরও সবচে বেশি বিরোধী ছিল পাকিস্তানিরা। তাই তাঁকে যুদ্ধের দশ মাসই আটকে রাখা হয়েছিল দেশদ্রোহী হিসেবে। এর আগেও দেশদ্রোহিতার সমস্ত সরকারি মামলার প্রধান আসামী ছিলেন এই শেখ সাহেব। এ কারণে যদি কাউকে ফাঁসি দেওয়া হত তাও ওই বঙ্গবন্ধু নামের শেখ মুজিবকেই সবার আগে।

    পাকিস্তানিদের সবচে অপ্রিয় বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি যার বর্ণনা দেওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না।
    তাই মুক্তিযুদ্ধের সূচনাই এই তিনটির উপর ভিত্তি করে যা পাকিস্তানের সবচেয়ে অপ্রিয় বস্তু ছিল। পাকিস্তানের ‘বাংলা’ নামক ভূখণ্ডটিকে আক্রমণের মূল কারণও এই তিনটি বাগধারা। এই তিনটিকে চিরতরে ডিলিট করাই ছিল তাদের মূল টার্গেট।

    এর বিপক্ষে তখনকার জামাত, মুসলিম লীগ ছাড়া কেঊই ছিল বলে জানা নেই। অতএব এই তিনটি শব্দই আমাদের স্বাধিকারের আপ্তবাক্য। একথা মনে হয় পাগলেও স্বীকার করবে। তাই বাক্য তিনটি এই পৃথিবী মায়ের তিনটি সন্তান। এর একটিকে অস্বীকার করলে সে হবে অবাস্তব চিন্তার কোনো প্রাণী যাকে অন্ততপক্ষে সুস্থচিন্তার একজন মানুষ বলা ভুল হবে।

    এদেরকে ‘প্রায় মানুষ’ বলা যায় যারা ত্রিচক্রযানকে দ্বিচক্রযান বা ভিন্ন্ কোনো অমানবীয় ইতর দৃষ্টি দিয়ে দেখে থাকে। কিন্তু মানুষ যে হয় সে যার যে রূপ সেভাবেই তাকে দেখে ও বলে। কারণ বস্তুর নাম মানুষই দিয়ে থাকে, আর তা তাদের চিন্তার সঙ্গে এক হয়ে যায়।

    ‘প্রায় মানুষ’ জাতীয় প্রাণীরা মানুষের দেখা জিনিস ও দেওয়া নামকে ভিন্নরূপে দেখে ও মূল্যায়ন করে থাকে। যা শুধু জামাত ও মুসলিম লীগ জাতীয় ‘প্রায় মানুষ’দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য………………

    Reply
  30. Dr.A.H.M.Zehadul Karim

    প্রথমত, লেখককে তার সুন্দর লেখার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি।

    দ্বিতীয়ত, তার প্রতি আমি আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, কারণ তিনি শহীদ ডা. আলিম চৌধুরীর কন্যা, যিনি একজন বিখ্যাত ডাক্তার ছিলেন– আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র।

    আল্লাহ তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি দিন। লেখাটি পড়ে আমি আমার একাত্তরের স্মৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে পেরেছি।

    ভালো থাকুন। জয় বাংলা।

    — ড. এ এইচ এম জেহাদুল করিম
    বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।

    Reply
  31. সিরাজ

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমরা যারা আওয়ামী লীগকে খোলামেলা সমর্থন করি তাদের অনেকেই যে চরম দুঃসময়ে বাঙালি জাতির হৃদস্পন্দনটুকু ধরে রাখার জন্যই করি এটুকু বোঝার জন্য…

    Reply
  32. Hira

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই মর্মস্পর্শী লেখাটির জন্য। আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই এই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিস্ট বিচারক ও সাক্ষীদের, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

    Reply
  33. selim

    আপনি কাঁদলেন, আমাদেরও কাঁদালেন। আপনার আশাই পূর্ণ হোক, সবার ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে।

    জয় বাংলা ….

    Reply
  34. ronald

    ‘জয় বাংলা’ এদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। যে যাই বলুক না কেন, এ শ্লোগান ছাড়া স্বাধীনতা লাভ করা শুধু অসম্ভবপর নয় বরং কঠিন ছিল। তাই ‘জয় বাংলা’ আজও বাংলাদেশের সকল শক্তির উৎস।

    Reply
  35. R. Masud

    ‘মামদোর পুনর্জন্ম’-তে সৈয়দ মুজতবা আলী যে কথাগুলো বলে গেছেন তা আর একবার টেনে এনে
    দেখি–

    ‘‘বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান। তার অর্থ এই যে, কী রাজনীতি, কী ধর্ম, কী সাহিত্য, যখনই যেখানে সে সত্য শিব সুন্দরের সন্ধান পেয়েছে তখনই সেটা গ্রহণ করতে চেয়েছে এবং তখন কেউ গতানুগতিক পন্থা, প্রাচীন ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে সে প্রচেষ্টায় বাধা দিতে গেলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং তার চেয়েও বড় কথা– যখন সেই বিদ্রোহ উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিণত হতে চেয়েছে, তখন তার বিরুদ্ধে আবার বিদ্রোহ করেছে। এই বিদ্রোহী চরিত্র বাঙালির জন্মগত চরিত্র, ধর্ম দিয়ে তাকে ভাগ করা যায়নি, ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।’’

    আমরা বাঙালিদের জীবনে মুজতবা আলীর এই অনুধাবনটা / বিভাবটা (পারসেপশনটা) সত্যি হতে চলেছে!

    Reply
  36. Imrul Khan

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পক্ষপাতহীন লেখা।

    আশা করি আমাদের মধ্যে যাদের এখনও মনটা নষ্ট হযে যায়নি তবে কিছুটা দ্বিধা ছিল.., তাদের জন্য এই লেখাটি প্রণোদনা জোগাবে।

    ধন্যবাদ। চালিয়ে যান।

    Reply
  37. Susanta K Das

    এ লেখা নয়, এ যেন শহীদের সন্তানের হৃদয়মথিত রক্তস্নাত শব্দমালা। আমরা যারা যুদ্ধে গিয়েছিলাম, হারিয়েছি অনেক সহযোদ্ধাকে, তাদের আজ আর কিছু চাইবার নেই জাতির কাছে। কারণ আমাদের সন্তানেরা জাতির দায় নিয়ে নিয়েছে তাদের কাঁধে, এবার আমরা ঘুমাতে যাব।

    জয় বাংলা।

    Reply
  38. abdul moyeen

    আপনার লেখা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ি এবং আপনার লেখার মধ্যে খুঁজে পাই আমাদের অনেক হারানো ঐতিহ্য। আপনার লেখার মধ্যে যেমন থাকে সততা, তেমনি থাকে যুক্তি ও দেশপ্রেম। আপনি আরও অনেক অনেক লিখবেন এবং জাতিকে করবেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সে আশা করি।

    Reply
  39. Saju Goffar

    ‘‘ ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান আমাদের পুরো জাতির শ্লোগান। এটি দলীয় শ্লোগান বলে বিবেচিত হত। আওয়ামী লীগ এটি ধরে রেখেছে। সেটা তাদের সাফল্য। আমরা সাধারণ মানুষ কেন ধরে রাখতে পারলাম না এ আমাদের ব্যর্থতা।’’

    — ঠিক বলেছেন।

    Reply
  40. আশিস বড়ুয়া

    সুন্দর এবং আন্তরিক এ লেখাটির জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, ডা. চৌধুরী।

    ঠিকই বলেছেন আপনি, বাতাসে আজ অক্সিজেনের মাত্রা অনেক বেশি, আকাশটাও অনেক বেশি নীল। পাতাঝরার এই দিনেও প্রকৃতি অনেক সবুজ, নদীর জলও স্ফটিক স্বচ্ছ, হেমন্তের নবান্নের উৎসবও হবে মনে হচ্ছে।

    আর এসবই দেশে বা বিদেশে, বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা বাঙালির আয়ু একদিনের জন্য হলেও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ হৃদরোগীর নিতে হয়নি কোনো হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ। ক্যান্সারের রোগী তার থেরাপি না নেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে। যে রোগীর আজ ক্যাটারাক্ট অপারেশন করানোর কথা, সেও অনুপস্থিত থাকার সাহস দেখিয়েছে। মাদকাসক্তরাও আজ মাদক না নেওয়ায় অটল থাকতে পেরেছে। আরও কত কী!

    এ সম্ভব হয়েছে শুধু একজনের এবং তাঁর সরকারের অনমনীয় ও স্বাধীনচেতা দুঃসাহসিক ভুমিকার জন্য। তিনি হলেন দৃঢ়চেতা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকার। আজ লাখো শহীদের আত্মা, অত্যাচারিত মা-বোনেরা এই মহাপৃথিবীর এপার-ওপার, সবখান থেকেই তাঁকে আশীর্বাদ করছেন, আমরাও তাঁর সুস্থতা ও নিরাপদ জীবন কামনা করছি। কারণ এখনও আমাদের অনেকদূর যেতে হবে। এই শ্বাপদসংকুল, হিংস্র হায়েনাদের নির্মূল করার দুরুহ মিশন সফল করার লক্ষ্যে।

    জয় বাংলা।

    Reply
    • এম রায়হান

      আমাদের হৃদয়ের কথামালায় রাজনীতি না আনি …. নিঃশ্বাসটা স্বাভাবিক রাখি।

      Reply
  41. faiz

    “আজ ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান একটি দলীয় শ্লোগান বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু শহীদ সন্তান হিসেবে আমি আজ তীব্র চিৎকারে বলতে চাই যে এ আমাদের পুরো জাতির শ্লোগান। আওয়ামী লীগ এটি ধরে রেখেছে। সেটা তাদের সাফল্য। আমরা সাধারণ মানুষ কেন ধরে রাখতে পারলাম না এ আমাদের ব্যর্থতা। এমনকি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বলে পরিচয় দেন এমন মানুষগুলোর তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতা’ ভ্রান্তির কারণে ও দলীয় সিল পড়ার ভীতির কারণে এ ‘শ্লোগান’ প্রাণে ধারণ করলেও মুখে উচ্চারণ করেননি। এ আমাদের ব্যর্থতা, এ আমাদের ক্ষুদ্রতা, এ আমাদের ভীরুতার পরিচায়ক।”

    — ভালো বলেছেন।

    Reply
    • ena

      আপনারা যে অন্যদের ‘বাংলাদেশি’ বলেই মনে করেন না!

      আর বিয়াল্লিশ বছর ধরে শুধু জয় বাংলা নিয়ে পড়ে থাকুন … দেশ আগাবে ..

      Reply
      • ashis

        বিয়াল্লিশ বছর কেন, হাজার বছর ধরে ‘জয় বাংলা’ থাকবে। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই শ্লোগান ছিল সবার। অতীত অস্বীকার যারা করে তারা নিজের দাদা, বাবা অর্থাৎ নিজ পূর্বপুরুষকেই কি অস্বীকার করে না?

        যারা কাজ করে তারা জয়বাংলা নিয়ে পড়ে থাকে না, অন্য কাজও করে। যেমন করেন অধ্যাপক জাফর ইকবালের মতো মেধাবী মানুষেরা।

      • শরিফ

        ২৮ বছরে ‘জয় বাংলা’ মুছতে চেয়েছিল যারা, তারা দেশকে এগিয়ে কোথায় নিবে ….?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—