মূলত প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহী চৌধুরী এবং অংশত পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে আলাপচারিতার ভিত্তিতে ‘পানি পরিশোধন’ ও ‘পরিবেশ প্রকৌশলী’ ড. আঞ্জুমান ইসলাম বিডিনিউজ ২৪ ডটকমে “রামপাল: কিছু অভিযোগ কিছু উত্তর” নামে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধীতাকারীদের ‘অভিযোগের’ জবাবে ‘কিছু প্রশ্নের সদুত্তর’ তিনি হাজির করার চেষ্টা করেছেন।

দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, লেখাটিতে প্রশ্নগুলো যেমন সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি, উত্তরগুলোও তেমনি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক নয়। ফলে লেখাটি আরও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ড. আঞ্জুমানের লেখার প্রেক্ষিতে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবনের সম্ভাব্য বিপর্যয়ের বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য এখানে কিছু কথা বলা জরুরি মনে করছি।

১. লোকদেখানো ইআইএ প্রসঙ্গে:

ইআইএ সম্পর্কে প্রথম অভিযোগ হল স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পর ইআইএ সম্পন্ন করা হয়েছে। জবাবে, আঞ্জুমান ইসলাম অনেক কথাই লিখলেন কিন্তু সেখানে ইআইএ সম্পন্ন করার আগেই জমি অধিগ্রহণ করার কোনো যৌক্তিকতা পাওয়া গেল না!

আমরা বেশি কথা লিখব না, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে যে সকল ধাপ অনুসরণ করতে হয়, তা খোদ সরকারি ইআইএ রিপোর্টে কীভাবে আছে তা তুলে ধরব। ইআইএ রিপোর্টের ৯৭ পৃষ্ঠায় ধাপগুলো লেখা হয়েছে এভাবে–

5.8 Project activities

Pre construction phase
a) Selection of candidate sites
b) Environmental and feasibility study
c) Selection of site
d) Land acquisition & site establishment

অর্থাৎ সিকোয়েন্সটি হওয়া উচিত এ রকম:

RAMPAL-PROJECT

সম্ভাব্য একাধিক স্থান শনাক্তকরণ-> পরিবেশগত সমীক্ষা-> কোনো একটি স্থান চূড়ান্তকরণ-> জমি অধিগ্রহণ।

বাস্তবে এই প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়নি। আগে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারপর পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শুরু করা হয়েছে ২০১০ সালে। আর মতামতের জন্য ইআইএ ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে। শুধু তাই নয়, এরপর সেই ইআই-এর অসংখ্য অসঙ্গতি ১২ এপ্রিল, ২০১৩ বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত কথিত গণশুনানিতে তুলে ধরা হলেও এবং সেই ইআইএ রিপোর্টকে জাতীয় কমিটিসহ উপস্থিত প্রায় সকল সংগঠন ও বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হলেও, তাড়াহুড়া করে ২০ এপ্রিল এনটিপিসি’র সঙ্গে আরও তিনটি চুক্তি সম্পন্ন করা হয়।

এ সকল কারণেই কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইআইএটি লোকদেখানো, দায়সারা, যে কোনো মূল্যে প্রকল্প জায়েজ করার উদ্দেশ্যে প্রণীত।

২. সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কত দূরে হওয়া উচিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

আঞ্জুমান ইসলাম তার লেখায় ১০ কিমি দূরত্বের কথা বলে প্রমাণ হিসেবে যে লিংকটি দিয়েছেন, সেখানে ঢুকলে যে কেউই দেখতে পারবেন, এই গাইডলাইনটি তাপবিদ্যুৎ স্থাপন সংক্রান্ত নয়, এটি হল: Guidelines for diversion of forest land for non-forest purpose, অর্থাৎ বনভূমির কত দূরের ভূমি বনায়ন ব্যতীত অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে সে সম্পর্কিত গাইডলাইন।

প্রকৃতপক্ষে, ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংরক্ষিত বনাঞ্চল, শহর-বন্দর থেকে কত দূরত্বে স্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে আলাদা করে একটি ইআইএ গাইডলাইন আছে যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

“Locations of thermal power stations are avoided within 25 km of the outer periphery of the following:

– metropolitan cities;
– National park and wildlife sanctuaries;
– Ecologically sensitive areas like tropical forest, biosphere reserve, important lake and coastal areas rich in coral formation;”

সূত্র:


http://envfor.nic.in/sites/default/files/TGM_Thermal%20Power%20Plants_010910_NK.pdf

তাহলে, ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ সংক্রান্ত গাইডলাইনে যখন স্পষ্ট করে নগর, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা ইত্যাদির ২৫ কিমি সীমার মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে, সেখানে আঞ্জুমান ইসলাম কী কারণে বনভূমির অ-বনজ ব্যাবহারের গাইডলাইনটি বেছে নিলেন?

জানতে ইচ্ছা করছে, জনাব তৌফিক ইলাহী চৌধুরী কি তাকে এটার সন্ধান দিয়েছেন? সন্ধান দিলেই-বা উনি কেন যাচাই না করে লিখে বসলেন? নাকি জেনে-বুঝেই পাঠককে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এই কৌশল?

৩. সুন্দরবনকে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকা দেখানো প্রসঙ্গে:

এ বিষয়ে আঞ্জুমান ইসলাম লিখেছেন: “বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ অর্থাৎ ২০০৫ সালের বিধি-বিধান/ নির্দেশনা অনুযায়ী ইআইএ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এতে শহর/আবাসিক/গ্রাম্য এলাকাভিত্তিক কোনো Classification নেই।“

আমরা জানি না, আঞ্জুমান ইসলাম ইআইএ’র যে লিংকটি দিয়েছেন, সে লিংকের ইআইএ’টি তিনি পড়েছেন কি না! নাকি জনাব তৌফিক ইলাহীর কথার বশবর্তী হয়ে যাচাই-বাছাই না করেই তিনি এসব কথা লিখছেন! তার দেওয়া লিংক থেকে ইআইএটি ডাউনলোড করে ২৭৮ পৃষ্ঠায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে:

“The concentration of SO2 in the ambient air near Sundarbans region is found 8 to 10 μg/m3 (field monitoring data, see Table 6.5). Hence, it is found that the resultant concentration (24 hr average after emission contribution and only during November to February) from the power plant) of SO2 in the ambient air may be maximum 53.4 μg/m3 (see Table 8.3c) which is much below the MOEF’s standard (ECR 1997), 80 μg/m3 for residential and rural area.

Therefore, the concentration of emitted SO2 is very insignificant to have any impact on Air quality of Sundarbans.”

( সূত্র: রামপাল ইআইএ, পৃষ্ঠা ২৭৮)

অর্থাৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত SO2 এর কারণে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়ে সুন্দরবনের বাতাসে SO2 এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮ মাইক্রোগ্রাম থেকে বেড়ে ৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম হবে যা পরিবেশ আইন ১৯৯৭ (ECR 1997) অনুযায়ী আবাসিক ও গ্রাম্য (residential and rural) এলাকার জন্য নির্ধারিত মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৮০ মাইক্রোগ্রাম এর থেকে অনেক কম।

দেখা যাচ্ছে এখানে পরিবেশ আইন ১৯৯৭ এর কথা বলা হয়েছে এবং সুন্দরবন এলাকার জন্য আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকার মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে!

কিন্তু প্রশ্ন হল, সুন্দরবন কি আবাসিক বা গ্রাম এলাকা, নাকি পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর একটি এলাকা? তাহলে সুন্দরবনের মতো পরিবেশগত স্পর্শকাতর একটি এলাকার মানদণ্ড হিসেবে আবাসিক ও গ্রাম এলাকার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড বেছে নেওয়া হল কেন?

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৭ ঘাঁটলে যে কেউই কারণটা বুঝতে পারবেন। এই আইন অনুসারে পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার বাতাসে ‍SO2 ও NO2 এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রাম (30 μg/m3) এর চেয়ে বেশি থাকা যাবে না।

যেহেতু পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ডের (30 μg/m3) সঙ্গে তুলনা করলে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প কোনোভাবেই জায়েজ করা যাবে না, সেজন্য পরিকল্পিতভাবেই রিপোর্টজুড়ে সুন্দরবনের বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের ঘনত্বের মানদণ্ড হিসেবে আবাসিক ও গ্রাম এলাকার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে!

৪. ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ভরাট প্রসঙ্গে:

সীসা, পারদ, আর্সেনিক ইত্যাদি বিষাক্ত ভারি ধাতুসম্পন্ন ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ভরাট করার তথ্যটিকে তিনি সোজা অসত্য বলে দিয়েছেন! আচ্ছা, তিনি কি তার দেওয়া লিংক-এর ইআইএটি আসলেই পড়েছেন নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ইআইএ’র অস্তিত্ব আছে?

ইআইএর ১০৬ পৃষ্ঠায় তো দেখছি স্পষ্ট লেখা আছে:

“At first phase, only 420 acres of land will be developed for the main plant and township by dredged material and the rest area (1,414 acres) will be developed gradually with generated ash.”

অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে কেবল ৪২০ একর জমি মূল প্ল্যান্ট এবং টাউনশিপ-এর জন্য ড্রেজিং করা মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। আর বাকি এলাকা (১৪১৪ একর) উৎপাদিত ছাই দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভরাট করা হবে।

এই নগ্ন, নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জবাব কী হতে পারে?

৫. শব্দদূষণ প্রসঙ্গে:

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে শব্দদূষণের আশংকা উড়িয়ে দিয়ে আঞ্জুমান ইসলাম বলেছেন:
“সদরঘাটে নির্মাণকাজ চললে সেই শব্দ ১৪ কিলোমিটার দূরে মিরপুরে পৌঁছানোর ব্যাপারটি কি যৌক্তিক? সেখানে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো ৭২ কিলোমিটার দূরে।“

মুশকিল হল, গোটা সুন্দরবনটাই যেখানে পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা এবং কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবন থেকে ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত– সেখানে আলাদা করে ‘সুন্দরবনের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো ৭২ কিলোমিটার দূরে’ বলে উনি কি প্রমাণ করতে চাইলেন বোঝা গেল না!

যদি সুন্দরবনের স্পর্শকাতর জায়গা বলে ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বোঝাতে চান, তাহলেও বিপদ কমে না। কারণ কয়লাভর্তি বড় বড় জাহাজ চলাচল এবং কয়লা উঠানো-নামানোর কোল টার্মিনালটি একেবারে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের পাশেই পড়েছে। ফলে সরাসরি শব্দদূষণসহ অন্যান্য দূষণের শিকার হবে।

কাজেই সদরঘাটের নির্মাণকাজের শব্দ ১৪ কিমি দূরের মিরপুরে না পৌঁছালেও সেই নির্মাণকাজের মালামাল যদি মিরপুরের মধ্যে দিয়ে পরিবহণ ও লোড-আনলোড করা হয় তাহলে মিরপর শব্দদূষণের শিকার হবে বৈকি!

সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহণের রুট


৬. সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে কয়লা পরিবহনের বিপদ প্রসঙ্গে:

আঞ্জুমান ইসলাম বর্তমানে শত শত জাহাজ পশুর নদীর মধ্যে দিয়ে চলাচলের কথা উল্ল্যেখ করে বলেছেন: “বাড়তি দুটি জাহাজ চলাচলে কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।” তিনি আরও বলেছেন: “কয়লাবাহী জাহাজে উত্তাল সমুদ্রের মধ্য দিয়ে খোলা কনটেইনারে করে কয়লা আনা হবে যা থেকে ঝপাৎ ঝপাৎ করে কয়লা পানিতে পড়ে যাবে– এটি শুধু অমূলক দুশ্চিন্তাই নয়, কল্পনাপ্রসূতও বটে।’’

মুশকিল হল, ঝপাৎ ঝপাৎ করে কয়লা পানিতে পড়ে দূষণ হওয়া কিংবা কয়লা খোলা অবস্থায় পরিবহণ করার অভিযোগ কারা করেছে আমাদের জানা নেই, যেমন জানা নেই বর্তমানে যে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে তাতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এ রকম কথা কারা বলছে!

আমাদের বক্তব্য হল, কয়লা যতই ঢেকে পরিবহণ করা হোক কিংবা জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হোক, তাতে জাহাজের কয়লাস্তূপ থেকে চুইয়ে পড়া কয়লা-ধোয়া বিষাক্ত পানি (বিলজ ওয়াটার), অ্যাংকরেজ পয়েন্টে কয়লা লোড-আনলোড করার সময় সৃষ্ট দূষণ, কয়লার গুড়া, জাহাজ-নিঃসৃত তেল-আবর্জনা, জাহাজ চলাচলের শব্দ, ঢেউ, বনের ভেতরে জাহাজের সার্চলাইটের তীব্র আলো, জাহাজের ইঞ্জিন থেকে নির্গত বিষাক্ত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদির ক্ষতিকর প্রভাব দূর হয়ে যায় না।

আর বর্তমানে যে জাহাজ চলাচল করছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজ, কয়েকশো টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। সেগুলোর প্রভাবে ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের ক্ষতি হতে শুরু করেছে, সে বিষয়ে পত্রপত্রিকায় রিপোর্টও বেরিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার কথা বলেছেন।

যেমন ১৫ মার্চ, ২০১৩ প্রথম আলো “সংকটে সুন্দরবন, সেই নৌপথ বন্ধ হয়নি” শীর্ষক রিপোর্টে লিখেছে: “সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চালু হওয়া নৌপথের কারণে পূর্ব সুন্দরবন প্রাণিশূন্য হতে শুরু করেছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি বিশাল আকৃতির নৌযান বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এসব নৌযানের ঢেউ, ফেলে যাওয়া বর্জ্য তেল ও শব্দদূষণের কারণে বনের দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃক্ষ, লতা, গুল্ম মরতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে বনের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”

সাধারণ নৌযান চলাচলের ফলেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে দুষণকারী কয়লাভর্তি বড় বড় জাহাজ চলাচল করলে কিংবা সেই কয়লাভর্তি জাহাজডুবি হলে (কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এ রকম একটি ঘটনায় স্মার্ট নামের কয়লাভর্তি জাহাজডুবি হয়ে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ হচ্ছে) সুন্দরবনের কী অবস্থা হবে সেটা কিন্তু আসলেই চিন্তার বিষয়।

৭.পানি উত্তোলন ও নদীদূষণ:

পানি উত্তোলন ও নদীদূষণ সম্পর্কে তিনি ইআইএ’তে বলা কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন, আশ্বস্ত করেছেন যে উত্তোলিত পানির পরিমাণ পশুর নদীর মোট পানিপ্রবাহের তুলনায় এতই কম যে, কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৯১৫০ ঘন মিটার হারে পানি প্রত্যাহারের ফলে পানির লবণাক্ততা, নদীর পলিপ্রবাহ, প্লাবন, জোয়ার-ভাটা, মাছসহ নদীর উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ ইত্যাদির উপর কেমন প্রভাব পড়বে তার কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি এই যুক্তিতে যে, এই পানি পশুর নদীর শুকনো মৌসুমের মোট পানিপ্রবাহের ১ শতাংশেরও কম।

দুর্ভাবনার বিষয় হল, প্রত্যাহার করা পানির পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম দেখানোর জন্য পানিপ্রবাহের যে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে তা সাম্প্রতিক সময়ের নয়, ৮ বছর আগে, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সংগৃহীত। (রামপাল ইআইএ পৃষ্ঠা ২৮৫)

অথচ এই ইআইএ রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে, নদীর উজানে শিল্প, কৃষি, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নদী থেকে দিনে দিনে পানি প্রত্যাহারের পরিমাণ বাড়ছে যার ফলে শুকনো মৌসুমে দিন দিন পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে যা পশুর নদীর জন্যও একটি চিন্তার বিষয়।(রামপাল ইআইএ পৃষ্ঠা ২৫০)।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের সময় লাগবে সাড়ে ৪ বছর এবং অপারেশনে থাকবে অন্তত ২৫ বছর। তাহলে এই দীর্ঘ সময় জুড়ে পশুর নদীর পানিপ্রবাহ ইআইএ রিপোর্ট অনুসারেই ২০০৫ সালের অনুরূপ থাকার কথা নয়।

ফলে ওই সময়ে পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৪ হাজার মিটার পানি প্রত্যাহার করলে তা পশুর নদীর পানিপ্রবাহের উপর কী কী প্রভাব ফেলবে তার গভীর পর্যালোচনা ছাড়া স্রেফ নদীর হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্টের কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে (may not be changed) জাতীয় কথাবার্তা বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আর যতই পানি পরিশোধনের কথা বলা হোক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন হলে তাতে বিভিন্ন মাত্রায় দূষণকারী উপাদান থাকবেই। যে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেলায় ‘শূণ্য নির্গমণ’ বা ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অবলম্বন করা হয়। যে এনটিপিসি রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে, সেই এনটিপিসি যখন ভারতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তখন ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অনুসরণ করে।

যেমন: ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়গড়ের কাছে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে:

Zero Discharge concepts will be followed

(সূত্র: রায়গড় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ, এক্সিকিউটিভ সামারি, পৃষ্ঠা ই-১২)

অথচ রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ই্আইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে:

To meet the water demand for plant operation, domestic water, environmental management 9,150 m3/hr (equivalent to 2.54 m3/s) surface water will be withdrawn from the Passur river and after treatment water shall be discharged back to the Passur river at the rate of 5,150m3/hr

অর্থাৎ “প্ল্যান্ট পরিচালনা, ঘরোয়া ব্যবহার, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি পশুর নদীতে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে।“

কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন করা হলে নির্গত পানির তাপমাত্রা, পানি নির্গমণের গতি, পানিতে দ্রবীভূত নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পানি দূষণ ঘটাবে যা গোটা সুন্দরবন এলাকার পরিবেশের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠবে।

৮. বড় পুকুরিয়ার পরিবেশ দূষণ:

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে আঞ্জুমান ইসলাম বলেছেন: “বড়পুকুরিয়া সাব-ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় ৭-৮ বছর চালু আছে। কিন্তু কোনো প্রকার এসিড বৃষ্টি আজ পর্যন্ত হয়নি বা হওয়ার প্রশ্নই উঠেনি। বর্তমানে রামপালের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুপার-ক্রিটিক্যাল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এসিড বৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা একবারেই নেই। বরং দারিদ্র্যপীড়িত এ এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে অত্র এলাকার আমূল উন্নতি সাধিত হবে, এখানকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের উপরে নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সম্পদ রক্ষা পাবে।“

এই বক্তব্যের মধ্যে অনেকগুলো ভুল ধারণা আছে।

প্রথমত, ধরে নেওয়া হয়েছে যে বড়পুকুরিয়ার কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীও রামপাল উদ্বোধনের বেলায় একই কথা বলেছেন। আমরা জানি না কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে তারা এই কথা বলছেন।

বাস্তবে কেউ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে গেলেই দেখতে পাবেন পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ উদাহরণ। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশের কৃষিজমি কয়লা দূষণে রীতিমত কালো রঙ ধারণ করেছে, মাটির নিচের পানির স্তর নেমে গেছে, ছাইয়ের পুকুরে গাদা করে রাখা বিদুৎ কেন্দ্রের ছাই পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সুপার-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি সম্পর্কিত ভুল ধারণা। বাস্তবে সুপার-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজিতে সাব-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির তুলনায় মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ দূষণ কম হয় যা মোট দূষণকে সামান্যই হ্রাস করবে।

তাছাড়া বছরে ৫২ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড, ৩১ হাজার টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সাড়ে ৯ লক্ষ টন ফ্লাই অ্যাশ ও বটম অ্যাশের প্রাক্কলন করা হয়েছে তা এই সুপার-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি বিবেচনায় নিয়েই। অর্থাৎ সুপার-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করার পরেও এই পরিমাণ দূষণ হবে।

তৃতীয়ত, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনা করাই সঠিক নয়। কারণ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছোট আকারের এবং বড়পুকুরিয়ার পাশে সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর বনাঞ্চল নেই।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ২৫০ মেগাওয়াট যার মধ্যে আবার কার্যত ১২৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিটই কেবল চালু থাকে। অথচ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট যা বড়পুকুরিয়ার কার্যকর (১২৫ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ গুণেরও বেশি। ফলে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে তার দশগুণেরও বেশি ক্ষতি হবে।

চতুর্থত, ধরে নেওয়া হয়েছে যে, দরিদ্র জনগণই সুন্দরবনের জন্য মূল বিপদ! এই ধরনের বক্তব্য আমরা সরকারি প্রেসনোটেও দেখেছি। বাস্তবে দরিদ্র জনগণ অর্থাৎ মৌওয়াল, বাওয়ালি, জেলেসহ সুন্দরবন অঞ্চলের দরিদ্র জনগণ সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে সুন্দরবনের সঙ্গে সহাবস্থান করছে।

সুন্দরবনের আসল বিপদ হল বিভিন্ন লুটেরা কর্তৃক সুন্দরবনের গাছ লুট, বাঘ-হরিণ শিকার, বন্যপ্রাণি পাচারসহ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো কথিত উন্নয়ন প্রকল্প যেসবের হাত থেকে প্রিয় বনবিবিকে রক্ষা করতে সুন্দরবনের দরিদ্র মানুষ প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।

৯. ছাইয়ের ব্যবহার:

কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি বড় সমস্যা হল উৎপাদিত বিষাক্ত ছাইয়ের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা ও তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা। ইআইএ রিপোর্টের মতো আঞ্জুমান ইসলামও ছাই বাতাসে ছড়াবে না এবং সিমেন্ট কারখানায়, রাস্তানির্মাণ ইত্যাদি কাজে ছাইয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। অথচ ‘কিছু উড়ন্ত ছাই’ বাতাসে মিশবে স্বীকার করা হয়েছে খোদ ইআইএ রিপোর্টে:

“Despite efficient ash management system, some fugitive ash might be produced and dispersed to the surrounding area” (পৃষ্ঠা ২৭১)

“Very little portion of this ash might escape from the system as waste.” (পৃষ্ঠা ২৮৫)

আর ছাইয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে আশ্বস্ত হওয়ার আগে, তৌফিক ইলাহীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আঞ্জুমান ইসলাম বড়পুকুরিয়া থেকে উৎপাদিত ছাইয়ের ব্যাবহার সম্পর্কে একটু খোঁজ-খবর করে নিলে ভালো হত! বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত দৈনিক ৩০০ মেট্রিক টন বর্জ্য ছাই কোনো সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহারের বদলে ছাই-এর পুকুর বা অ্যাশ পন্ডে গাদা করে রেখে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে।

২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চার বছরে ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৬১৩ টন ছাই পুকুরে জমা করে পুকুরের প্রায় পুরোটাই ভরে ফেলা হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যও ১০০ একরের ছাইয়ের পুকুরের পরিকল্পনা করা হযেছে। অ্যাশ পন্ড বা ছাইয়ের পুকুরে গাদা করে ছাই বাতাসে উড়ে, ছাই-মিশ্রিত পানি চুইয়ে মাটির নিচে ও আশপাশের জলাভূমিতে বিষাক্ত ভারি ধাতুর মারাত্মক দূষণ ঘটাবে।

১০. সুন্দরবনের দিকে তিন মাসের বায়ুপ্রবাহ:

এছাড়া আঞ্জুমান ইসলাম বছরে মাত্র তিনমাস বায়ুপ্রবাহের দিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সুন্দরবনের দিকে প্রবাহের কথা বলে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন: “শীতকালে (৩ মাস) বাতাস উত্তর দিক হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অর্থাৎ সুন্দরবনের পূর্বদিকে সামান্য অংশে প্রবাহিত হয় বলে সুন্দরবনের ক্ষতির আশংকা নেই বললেই চলে।“

প্রথমত, তিন মাস নয়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি– এই চার মাস ধরে বাতাস উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব দিকে প্রবাহিত হবে (শুধু দক্ষিণ-পূর্ব দিক নয়)।

“During November to February, maximum prevailing wind flows from north and north-west to south and Southeast direction and for rest of the period it flows from south.”

(সূত্র: ইআইএ পৃষ্ঠা ১৩০)

আর এই টানা চার মাস ধরে শুষ্ক মৌসুমে সালফার ও নাইট্রোজেনসহ বিষাক্ত গ্যাস একটানা সুন্দরবন অঞ্চলে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে বলে সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য এই চার মাসই যথেষ্ট।

দ্বিতীয়ত, বাকি ৮ মাস ধরে বিষাক্ত বাতাস দক্ষিণ থেকে উত্তরে অর্থাৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে খুলনা-বাগেরহাট শহরের দিকে প্রবাহিত হবে যা খুলনা-বাগেরহাটের জনবসতির জন্য বিপর্যকর হবে। কারণ খুলনা-বাগেরহাট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি বিপদসীমার মধ্যে পড়েছে।

তৃতীয়ত, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ শুধু বায়ুবাহিত নয়, যে বাতাস চার মাস ধরে সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত হবে বলে কেবল চার মাসই পরিবেশ দূষণ ঘটবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানিদূষণ, শব্দদূষণ, ছাইয়ের দূষণ, কয়লা পরিবহণের কারণে দূষণ সারা বছর ধরেই ঘটবে যার সঙ্গে বাতাসের দিকের কোনো সম্পর্ক নেই।

আসলে, যে প্রকল্পের ফলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে বলে সারা দেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে তীব্র প্রতিবাদ হচ্ছে, সেই প্রকল্পের সপক্ষের দুজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে, তাদের বক্তব্যের সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই বিভ্রান্তির এই ‘কিছু অভিযোগ, কিছু উত্তর’ লেখাটির মাধ্যমে ড.আঞ্জুমান ইসলাম তার ‘পানি পরিশোধন ও পরিবেশ প্রকৌশলী’ পরিচয়ের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বলেই মনে হয়।

কল্লোল মোস্তফারাজনৈতিক কর্মী ও গবেষক

৯১ Responses -- “রামপাল: বিভ্রান্তিকর ‘কিছু অভিযোগ, কিছু উত্তর’”

  1. shamsulhoque basunia

    Please stop blame game,creating anarchic situation,endangering the life of the people———–government may call the national round table dialogue on the issue so that we all may have the right solution. Ignoring the public opinion government should not do anything alone on this point.

    Reply
    • modi cohen

      @shamsulhoque basunia,
      Rampal project will produce power for areas on western side of Padma river. Opponents of project should have come up with alternate proposal instead of joining with Khaleda Zia. Now the matter has become Hasina vs Khaleda. Khaleda has sided with Anu Ahmed hoping Anu Ahmed will be able to start a movement that will topple Hasina. Just you wait to see govt. reaction to Anu Ahmed’s next action.

      Reply
  2. modi cohen

    আমার আগের মন্তব্য ছাপে নাই / যারা পাঁচ বছরে এক মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি তারা অবশ্যই সব ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরোধী হবে /

    Reply
  3. আসাদুজ্জামান আজিম

    এখানে যারা রামপাল-এর পক্ষে লিখেছেন, তাদের একটা অনুরধ করবো, ভাই আমি আপনাদের সাথে একটা ব্যবসা করবো যার টাকা আপনাকে ব্যাংক থেকে লন করতে হবে, আর লাভের ভাগ হবে ৫০-৫০, আর যদি লস হই পুরা দায় আপনার, যদি কেও রাজি থাকেন তবে আজকে থেকে আমি ও রামপাল-এর পক্ষে, আর যদি কেও রাজি না থাকেন তবে একটা কথা বলবো, না বুঝে ফালাফালি করবেন না…

    Reply
    • ARIF

      ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই কিল দেবার গোসাই। যারা ক্ষমতায় থাকতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদন করতে পারেনি তারা আবার বিরোধীতা করে।এদের কোনো লজ্জা শরম নাই।

      Reply
  4. ARIF

    মূল কথা হচ্ছে, এই বিদ্যুত কেন্দ্রটা আওয়ামীলীগ সরকার করছে তাই এলার্জিটা ওখানেই।

    Reply
  5. ARIF

    রামপালে করা যাবেনা বাঁশখালীতে করা যাবেনা সবখানেই পরিবেশের ক্ষতি হবে, শুধু বলে অন্য কোথাও করেন, এই অন্য কোথাওটা বাংলাদেশের কোন জায়গায় সেটা বলছেননা কেন? কল্লোল মোস্তফার কাছে জানতে চাই, রামপালের মতো একটা বিদ্যুত কেন্দ্র করতে যেসমস্ত facilities প্রয়োজন ওই রকম একটি লোকেশন আপনারা দেখিয়ে দিন, শুধু সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে, মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে এই সমস্ত কথা বা রিপোর্ট চাপিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেননা। বাঁশখালীতেও একই রকম গাঁজাখুরি গল্প বানিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মাঠে নামিয়েছিল এইবলে- জীবনেও সূর্য দেখা যাবেনা, গর্ভবতীর বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে, ছাইয়ের কারণে মানুষ চলাফেরা করতে পারবেনা, দশ বর্গকিলোমিটার এলাকা ব্যাপী মানুষতো দূরের কথা কোনো গাছপালাও থাকবেনা অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে, আরো কত কিছু ভাই. কিন্তু দুঃখের বিষয় আনু মোহাম্মদ, সুলতানা কামালের মতো স্বনামধন্য ব্যক্তিরা পর্যন্ত বাঁশখালীতে গিয়ে ওই বিভ্রান্তিতে শামিল হয়েছিল। আপনারা যারা এই বিদ্যুত কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন করছেন তারা একটি উদাহরণ দেখাক যে, বিশ্বের অনেক দেশ বিশেষ করে আমেরিকা, চীন, ভারত, হংকং এরকম আরো অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র আছে যেখানে পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে বা জীব বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে।

    Reply
    • Asad

      You want electricity at the cost of the Sundarbans!!! But its our pride.People all over the world are trying to increase the population of tigers.There are only about 3000 tigers in the world.In our country we have less than 100. If this Rampal power plant is established perhaps, we will have to lose this few number of tigers that is left with us within a very short period! And that will happen all because of people like you!

      Reply
    • mostaq ahmed

      আরিফ ভাই, জেগে ঘুমালে তো আর ঘুম ভাঙ্গানো যাবে না!! আপনি নিয়মিত বিভিন্ন চ্যানেলের সংবাদ সমূহ দেখুন, প্রতিদিন উন্নত বিশ্বের প্রজেক্টগুলোর চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। আর ওয়েবসাইট তো আছেই, জাস্ট একটু কষ্ট করে পড়তে হবে আর কী। সবচেয়ে বড় কথা দাদা’রা যে প্রজেক্ট যে কারণে বাদ দিলো আমাদের দেশের বেলায় তা গ্রহণ যোগ হয় কেমনে? ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে এক্সিম ব্যাংক এর নিকট বাংলাদেশ মটগেজ দিবে ভারত নয়, অথচ এটি একটি যৌথ প্রকল্প……ভাই একটু জাগবার চেষ্টা করুন

      Reply
  6. Peter Mondol

    বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ এবং নাজুক বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যাবস্থার কারনে System Loss এর হার অতিমাত্রাই বেশী । সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে প্রতি বছরেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতিয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে অথচ দেশের এক বিরাট অংশের জনগন Load Shedding এর হাত থেকে পরিত্রান পাচ্ছে না ।

    দেশে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি আছে এ কথা অনস্বীকার্য এবং এই ঘাটতি কমানোর জন্য নুতন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে কাররই দ্বিমত আছে বলে আমার মনে হই না । এমতাবস্থাই আমাদের মতন অনেকেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পক্ষে এবং বিপক্ষে বিভাজন সৃষ্টি করে চলেছেন । বিদ্যুতের যেমন প্রয়োজন আছে তেমনভাবে পরিবেশ এবং প্রতীবেশ রক্ষা করার ব্যাপারটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমান পরিস্থিতিতে মুল প্রতিপাদ্য বিষই হচ্ছে কিভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জনগনের ঘরে ঘরে সরবরাহ করা যাই ।

    আমার মতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মতন বিতর্কিত এবং ব্যায়বহুল প্রকল্প কে আস্তাকুড়ে ফেলে দিয়েও বিদ্যুৎ সরবারহ বাবস্থার উন্নতি সাধন করা সম্ভব, যদি কিনা আমাদের বিদ্যুৎ বাবস্থার হর্তা কর্তা গন শুধুমাত্র System Loss টাকে সহনীয় মাত্রার মধ্যে রাখতে পারেন । বর্তমানে দেশে সর্বমোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রাই 10,000MW/h এবং যতদূর জানি System Loss এর হার 20% এরও উপরে ( যা কিনা সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশী )

    এখন সহজ গানিতিক হিসাবে বিষয়টিকে বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে,
    10,000 MW/h উৎপাদিত বিদ্যুতের 20% System Loss এর পরিমান দাঁড়াচ্ছে 2,000 MW/h . উন্নত বিশ্বে System Loss এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা 5% এবং যদিও আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন অবস্থাতেই 5% Loss এর লক্ষ্যমাত্রাই পৌঁছানো প্রাই অসম্ভব তার পরেও System Loss টা কে 10% ( গ্রহণযোগ্য মাত্রার দ্বিগুণ ) এ নামিয়ে আনাটা আমার মনে হই না যে অলিক কল্পনা।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে System Loss টাকে 20% থেকে 10% এ নামিয়ে আনতে পারলে নুতন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা ছাড়াই আমাদের হাতে আসছে 1,000 MW/h বিদ্যুৎ, যা কিনা প্রকল্পিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনের কাছাকাছি । এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতার ( 1,320 MW/h) 20% System Loss ধরলে আমাদের হাতে থাকবে মোটামুটি 1,000 MW/h বিদ্যুৎ । তাহলে কোনটা আমাদের জন্য শ্রেয় ? নুতন বিদ্যুৎ উতপাদন কেন্দ্র নির্মাণ আগে না System Loss এর দিকে নজর দেয়া টা আগে ?

    বাস্তবে হইতবা কিছু হেরফের হতে পারে তবে আমাদের মতন ছা পোশা বান্দাদের মাথাই যে চিন্তাটা আসে, বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার মহারথিদের মাথাই এটা কেনো যে আসেনা সেটা একটা বড় ধরনের রহস্যই বটে ।

    সব শেষে কোনরকমের বিতর্কে না গিয়েই বলতে পারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে “কয়লা পরিতাজ্জ্য ” ।

    Reply
  7. Rakibul Hassan

    জনাব কল্লোল মোস্তফা, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সত্য-সাহসী-গবেষণাপ্রসূত লেখাটির জন্য।

    আমরা আশাহত নই, তবে সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমরা কি সক্ষম হব এ প্রকল্পটি বন্ধ করতে? আমি নিজেও একজন উন্নয়নকর্মী। এখন পর্যন্ত তো কোনোটি বন্ধ হতে দেখলাম না। আসলে কি সম্ভব?

    তবে চেষ্টা তো থাকছেই!

    Reply
  8. Arifur Rahman

    রাজনীতিবিদরা দেশ বা মানুষের ভালোর জন্য কিছু চায় না। তারা কেবল চায় ‘টাকা’। ভারত তাদের তেমন কিছু বড় অ্যামাউন্ট দিয়েছে। তারা এমনকি দেশও বিক্রি করে দিতে পারে। তারা সুন্দরবন নিয়ে ভাবে না। কারণ তারা এর কাছে থাকে না। এটা ধ্বংস হয়ে গেলেও ওদের ক্ষতি নেই।

    তারা মনে করে, সুন্দরবন তো অনেক বড় জায়গা, সামান্য কিছু জায়গা নষ্ট করলে আর কী হবে? সুন্রবনে পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে যদি আমি কিছু টাকা কামাতে পারি তো ক্ষতি কী?

    টাকা যেদিকে বেশি তাদের উপদেশটাও সেদিকে যায়। একবার শুধু তাদের কোয়ালিফিকেশনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন।

    Reply
  9. সিয়াম

    আমি তো ভাই বেশি কিছু বুঝি না। পরিবেশ ধ্বংস করে এ পর্যন্ত অনেক কাজই হচ্ছে, সব ঠিক আছে। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপালে আমরা কতটুকু বিদ্যুৎ পাব, আর ভারত পাবে কতটুকু? এত বড় অসম চুক্তি কি মেনে নেওয়া উচিত? পরিবেশ ছাড়াও এই ‘অসম চুক্তি’ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।

    Reply
  10. ডক্টর আলী আসগার

    কয়লাতে ভীষণ রকম দূষণের কারণে দুনিয়া থেকে যখন কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথা উঠে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশের মতো করাপশনে জর্জরিত দেশে কয়লায় বিদ্যুৎ তৈরির কথা শুনলেই মনে হয় কেউ বা কারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য এটা করার চেষ্টা করছে। মীরজাফরের গলিত লাশ থেকে এখনও নিত্যনতুন মীরজাফর গজিয়ে উঠতে দেখে স্বভাবতই শঙ্কিত না হয়ে পারি না।

    কয়লার বিদ্যুতের সর্বাত্মক বিষয়ে ধ্বংসাত্মক আশঙ্কা তৈরির চেয়ে অন্ধকারে থাকা অনেক ভালো বলে বিশ্বাস করি।

    Reply
  11. Mohamed S Rahman

    বিএনপি বিরোধী দল এবং তাই কোনো কিছুর বিরোধিতা করা– সে ভালো হোক কী মন্দ– তাদের অন্যতম কাজ। আওয়ামী লীগ সরকারের আরও অনেক প্রজেক্টের তারা বিরোধিতা করেছে। পরে ক্ষমতায় গিয়ে তারা সেসব প্রজেক্ট শেষ করেছে।

    এটার বেলায়ও তাই ঘটবে।

    Reply
  12. ashraful

    বাঙালি বেশিদিন কিছু মনে রাখে না। একদিন সুন্দরবনে হাউজিং প্লট বিক্রি হলেও দেখবেন বাঙালি বলবে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতিই তো হয়নি!

    Reply
  13. সলিমুল্লাহ

    লেখক নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ও গবেষক বলে দাবি করেছেন। তাকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মানতে আমার আপত্তি নেই। তারা হরতাল, লং মার্চ অনেক কিছুই করছেন।

    তবে কীসের ভিত্তিতে লেখক নিজেকে গবেষক দাবি করছেন এটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আশা করি আত্নপরিচয় নিয়ে উনি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন না। উনার গবেষণার বিষয় কী এবং কোন পিয়ার রিভিউড জার্নালে উনার কী কী গবেষণা পাবলিশ হয়েছে তা এখানে জরুরি।

    আর নয়তো গবেষক হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়া একটি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার হয়।

    Reply
    • মুশফিক

      এই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার পরও ওনাকে কি আপনার গবেষক মনে হচ্ছে না? আর একজন গবেষকের কি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না?

      Reply
    • হেলাল মহিউদ্দীন

      গবেষক হতে হলে পিয়ার রিভিউড জার্নালে গবেষণা পাবলিশ হওয়া লাগে– কথাটি ১০০ ভাগ নির্জলা মিথ্যা। বিডিনিউজে এই যে ছাপা হল, এটা তো পিয়ার রিভিউড। এমনকি এই যে আপনার আমার মন্তব্য সবই পিয়ার রিভিউড হয়েই ছাপা হয়, যদিও মতামত বিষয়ে সম্পাদনা পর্ষদ দায়িত্ব নেন না। তা একাডেমিক জার্ণালের সম্পাদনা পর্ষদও ছাপানো ব্যতীত বিশেষ দায়িত্ব নেন না।

      Reply
  14. মোহাম্মদ

    ‘জাতীয় কমিটি’ রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চায় না– সেটা বুঝলাম।

    কিন্তু এত এত যে বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তাহলে এটা কেন প্রস্তাব করছেন না যে খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য কোথায় প্রকল্প নেওয়া উচিত? আপনাদের উদ্দেশ্য কি শুধুই বিদ্যুৎ-বিরোধিতা, সমাধানের বিষয়ে কি আপনাদের কোনো দায়িত্ব নেই?

    আপনারা রাজনৈতিক কর্মী। আপনাদের সকল মিটিং-মিছিলে লাল পতাকা দেখা যায়। সুতরাং আপনাদের মতামত এবং অ্যাকটিভিজম একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহৃত হবে সেটা বোঝা যায়। তবে সত্যিকার অর্থে দেশের জন্যে কিছু করতে চাইলে, সমাধানের কথাও বলুন। না হলে মেনে নিতে হবে শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা। ভোটের রাজনীতিতে প্রভাবের উদ্দেশ্যে বিরোধিতা।

    সুন্দরবন রক্ষা করে খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের ব্যপারে আপনাদের কোনো আগ্রহ নেই।

    Reply
    • রাসেল রহমান

      বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে জাতীয় কমিটির সাত দফা দাবি রয়েছে।

      Reply
  15. মোহাম্মদ নুরুল কবির

    জনগণকে শুধু বিভ্রান্তই করতে পারেন আপনারা। আমাদের সুন্দরবনও লাগবে, বিদ্যুতও লাগবে। অতএব বিরোধিতা না করে কোথায় করলে, কীভাবে করলে সুন্দরবনও বাঁচবে, বিদ্যুত কেন্দ্রও হবে সেটা বলেন। দেশে কোনো একটা সমস্যার সৃষ্টি হলে শুধু সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সমাধানের কথা কেউ বলে না।

    Reply
    • সাইফ

      অন্যখানে করলে বেশি খরচ পড়বে, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকারীদের লাভ কম হবে। এ খরচটুকু বেশি করতে রাজি থাকলে বিকল্প অনেক সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য যথার্থ। তবে বিকল্পসমুহের আলোচনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সে সুযোগ রাখা হচ্ছে না। সুযোগ তৈরি হলে বিকল্পের সন্ধান পাওয়া কষ্টকর নয়।

      Reply
    • রাসেল রহমান

      নিচের লিঙ্কে গিয়ে আপনার উদ্বেগের বিষয়গুলোর সমাধান পাবেন আশা করি।
      দেশপ্রেমের জন্য আপনাকে আন্তরিক সাধুবাদ।

      http://ncbd.org/

      Reply
  16. রাফাত

    “বাকি ৮ মাস ধরে বিষাক্ত বাতাস দক্ষিণ থেকে উত্তরে অর্থাৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে খুলনা-বাগেরহাট শহরের দিকে প্রবাহিত হবে যা খুলনা-বাগেরহাটের জনবসতির জন্য বিপর্যকর হবে।”

    কিন্তু জনবসতির উপর এসিড বৃষ্টির প্রভাব কমাতে হলে এমন জায়গায় এই মানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে হবে যেখানে জনবসতির ঘনত্ব খুবই কম। দুর্ভাগ্যজনক (!) বিষয় হচ্ছে নদী, আমদানিকৃত কয়লা আনলোড করার বন্দর, তেমন কম ঘনত্বের জনবসতি একসঙ্গে একমাত্র দেশের দক্ষিণাঞ্চলেই (যাতে সুন্দরবনের আশপাশও পড়ে) পাওয়া যায়।

    আপনার কাছে সুন্দরবন বাদে আর কয়টা এমন স্থানের লিস্ট আছে?

    Reply
  17. zaki

    আপনারা কেবল সমস্যা আর পরিবেশের কথা বলছেন, কিন্তু কোনো বিকল্পের কথা বলছেন না। কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার জন্য যদি আপনার জমি অধিগ্রহণ আপনাকে আপনার বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয় তখন কী করবেন…

    Reply
  18. ইম্রান ওয়াহিদ

    একটা ব্যাপারে আমরা সবাই নিশ্চিত যে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

    একই সঙ্গে এটাও আমাদের মানতে হবে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের জন্য অতিআবশ্যকীয়।

    আপনারা দয়া করে রামপালে কেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে না তা নিয়ে চর্বিতচর্বন না করে বরং বিকল্প কোথায় সেটা স্থাপন করা যায় তা নিয়ে একটু গবেষণা এতদিনে করলে কি ভালো হত না?

    Reply
  19. kamal

    বিএনপি-জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা ভারতের গন্ধ খুঁজে পান। ওইসব দালালাদের উপদেশ দিচ্ছি, পাকিস্তান থেকে এমন একটা প্রজেক্ট নিয়ে আসুন না…

    Reply
  20. Saju Goffar

    আমার বিশ্বাস, সুন্দরবনের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি মানুষও নেই। ঠিক তেমনি আবার বিদ্যুতের ঘাটতি এটা কতজন সহজভাবে নিতে পারি? নিজেরাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি বলেই দোষ অন্যদিকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি কি?

    স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সম্পন্নকরণ সুন্দরবনের জন্য ইররিভার্সিবল ড্যামেজ নয়। সুন্দরবনের জন্য ইররিভার্সিবল ড্যামেজ ঘটতে না দেওয়া আর রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এক নয়।

    অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের ভাষায়, ভারতের সমর্থনলাভের আশায় রামপাল চুক্তি, মার্কিন সমর্থনলাভের আশায় টিকফা!!!

    আপনাদের কথাগুলো তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ নয়। এ এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে অত্র এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে, আমূল উন্নতি সাধিত হবে। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের উপরে নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সম্পদ রক্ষা পাবে।

    বিভ্রান্তি আর রবিভ্রান্তির বিভ্রান্তি নয়…..

    বিদ্যুৎ চাই! বিদ্যুৎ চাই! বিদ্যুৎ চাই!

    Reply
  21. R. Masud

    ধন্যবাদ কল্লোল মোস্তফা সাহেব, খুব ভালো একটা সমালোচনার জন্য। এর বিপক্ষের যুক্তিও আসবে আশা করি। সবার উপরে যা সত্য তা হল, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ অপরিহার্য, তার জন্য বিদ্যুৎ আমাদের চাই। কল্লোল মোস্তফাও বলবেন না যে, দিনে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও আমার চলবে, তারপরেও আমি সুন্দরবন রক্ষা করব। তিনি যদি তাও বলেন, আমি বলব মিথ্যা কথা বলছেন।

    তাই জানতে চাচ্ছি, রামপালের বিকল্প লোকেশন কোথায় হতে পারে, তার উদ্ভাবনটাও দিতে হবে। তা না হলে, এই সমালোচনা অর্থহীন হয়ে যাবে। সমালোচনা সবাই করে, এমনকি কবিগুরুর লেখা নিয়ে সমালোচনা করার লোকও আছে এবং আপনি তাদের দলের হয়ে যাবেন।

    Reply
  22. Engr. Rana

    রামপালে এ পাওয়ার স্টেশন করার মূল কারণ হল সমুদ্র দিয়ে কয়লা পরিবহণের সুবিধা। তবে বিতর্কটি দেখা দিয়েছে সুন্দরবনের কারণে। অন্যদিকে দেশে বড় বড় পাওয়ার স্টেশনও জরুরি।

    তাহলে আমার কথা হল, কেন আমরা এ পাওয়ার স্টেশন বরিশাল, ভোলা, পতেঙ্গা বা আনোয়ারার মতো উপকূলীয় এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছি না?

    Reply
  23. ফারুক আহমেদ মজুমদার

    প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা অনেকটা গোয়ার্তুমি করে তার যুক্তি উপস্থাপন করলেন।

    আপনি বলেছেন, “বাকি ৮ মাস ধরে বিষাক্ত বাতাস দক্ষিণ থেকে উত্তরে অর্থাৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে খুলনা-বাগেরহাট শহরের দিকে প্রবাহিত হবে যা খুলনা-বাগেরহাটের জনবসতির জন্য বিপর্যকর হবে। কারণ খুলনা-বাগেরহাট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি বিপদসীমার মধ্যে পড়েছে।”

    আমার উত্তর: তাহলে কি বাংলাদেশে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব? বাংলাদেশে এমন জায়গা (পর্যাপ্ত পানিসহ) পাওয়া সম্ভব?

    মংলা বন্দরে আগত অসংখ্য জাহাজ পরিবেশের জন্য যতটুকু ক্ষতিকর এবং কয়লাবাহী জাহাজের চলাফেরার ক্ষতি প্রায় ১৯-২০ তা আপনি প্রকারান্তরে স্বীকার করেছেন এবং আপনার কথায় সহজেই অনুমেয় যে, মংলা বন্দরটিও বন্ধ করে দেওয়া হোক। তাহলে দেশ কীভাবে চলবে? আর আমাদের সমুদ্রতীরবর্তী একটি বিশাল অংশ জুড়েই আছে সুন্দরবন। তাহলে তো নতুন বন্দর করাও অনেকটা অসম্ভব।

    কিছুদিন আগে একাত্তর টেলিভিশনে আপনার দেওয়া এক বক্তব্যে বুঝা গেল, প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় বসে রামপাল উদ্ভোধন করলেন এতে সরকার বিরাট অন্যায় করে ফেলেছে। কুষ্টিয়া যাওয়ার কারণে কি সুন্দরবনের দূষণ আরও বেড়ে যাবে? অথবা আপনারা বোঝাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী রামপালে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

    আপনাকে বলছি, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। উনাকে রামপালে যাওয়ার জন্য বাধা দেওয়ার ক্ষমতা আপনি বা আপনাদের আছে কিনা সেটা একবার সুস্থ মস্তিষ্কে ভেবে দেখবেন।

    জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু।

    Reply
  24. তানভীর

    চায়নিজদের ভাড়ায় খাটা কল্লোল মোস্তফাদের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এত এত যুক্তি হাওয়া হয়ে যেত যদি রামপালের কাজটা ভারতীয়রা না পেয়ে চায়নিজরা পেত….. এদের মতো ভাড়া-খাটাদের কথায় কান দিয়ে কিছু মাথামোটারা অযথা হাউকাউ করছে যাতে দেশের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নেই।

    আসল কথা হল দেশে বিদ্যুতের জন্য কয়লা-বেইজড প্ল্যান্টের বিকল্প নেই এবং মংলা বন্দরের কাছে রামপালই পারফেক্ট প্লেস।

    Reply
  25. মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

    মোস্তফা কল্লোল বলেছেন–

    ‘‘তাহলে, ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ সংক্রান্ত গাইডলাইনে যখন স্পষ্ট করে নগর, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা ইত্যাদির ২৫ কিমি সীমার মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে, সেখানে আঞ্জুমান ইসলাম কী কারণে বনভূমির অ-বনজ ব্যাবহারের গাইডলাইনটি বেছে নিলেন?’’

    আমার মতে–

    ক) বাংলাদেশ ও ভারতের হিসেব এক নয়। কেন ভারতের আইন দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করতে হবে?

    খ) এড়িয়ে চলার (are avoided) রিকোমেন্ডেশন দেওয়া হয়েছে, বলা হয়নি যে ‘করাই যাবে না (cannot be implemented)’। দুটোর মধ্যে বিস্তর ফারাক।

    গ) Guidelines for diversion of forest land for non-forest purpose অর্থাৎ বনভূমির কত দূরের ভূমি বনায়ন ব্যতীত অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে সে সম্পর্কিত গাইডলাইন। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাপবিদ্যুত প্রকল্প কি ‘non-forest purpose’ এর আওতায় পড়ে না? আবার তাপবিদ্যুত সম্পর্কে আলাদা গাইডলাইন আছে। দেখা যাচ্ছে, দুটো গাইডলাইনে দু ধরনের কথা বলা আছে। এখন আন্দোলনকারীরা যেমন তাপবিদ্যুত গাইডলাইনের স্ট্যান্ড নিতে পারেন, তেমনি সরকারও পারে ‘non-forest purpose’ গাইডলাইনের স্ট্যান্ড নিতে। উভয়েই গাইডলাইন এবং কোনো গাইডলাইনকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। আসল কথা হলো, গাইডলাইন দুটো একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ঘ) ৯০ এর দশকে বলা হত, গ্রিনহাউজ এফেক্টের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাংশ ২০১৫-২০২০ সালের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যাবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বইগুলোতে এসব লেখা ছিল। এখন ২০১৩ শেষ প্রায় এবং এসব হাইপোথেটিক্যাল কথাবার্তার কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

    মূল কথা হল, পরিবেশবাদীরা এ রকম অনেক থিওরিই দেন যার বাস্তব কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। হাইপোথেটিক্যালি সুন্দরবনেই অনেক ক্ষতির কথাই বলা যেতে পারে, বাস্তবে সেগুলো হয় না।

    Reply
  26. মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

    মোস্তফা কল্লোলের মতে–

    ‘‘সিকোয়েন্সটি হওয়া উচিত এ রকম:

    সম্ভাব্য একাধিক স্থান শনাক্তকরণ-> পরিবেশগত সমীক্ষা-> কোনো একটি স্থান চূড়ান্তকরণ-> জমি অধিগ্রহণ। বাস্তবে এই প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়নি। আগে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারপর পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শুরু করা হয়েছে ২০১০ সালে।’’

    আমার মতে, এসব বিষয় উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। উনি স্রেফ পয়েন্ট বাড়ানো বা লেখা বড় করার জন্য এই কথাগুলো বলছেন। উনি কি প্রমাণসহকারে বলতে পারবেন যে পরিবেশগত সমীক্ষা না করেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে? পরিবেশগত সমীক্ষার জন্য সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তথাকথিত জাতীয় কমিটি নয়।

    সুতরাং পরিবেশগত সমীক্ষা না করেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এই দাবি যেমন মোস্তফা কল্লোলেরা করতে পারেন, তেমনি সরকারও দাবি করতে পারেন পরিবেশগত সমীক্ষা করেই তবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোতে সরকার/জাতীয় কমিটি কোনো পক্ষেরই নিজ দাবির পক্ষে প্রমাণের কোনো সুযোগ নেই।

    অথচ এমন ভিত্তিহীন পয়েন্ট দিয়ে মোস্তফা কল্লোল তার লেখা শুরু করেছেন। এই কারণে সুন্দরবনে রামপাল প্রকল্পের বিরোধী কাজী আহমদ পারভেজও মন্তব্য করেছেন–

    “এ রকম একটা ইররেলিভেন্ট, টোটাল ট্রাশ দিয়ে জবাবের সূচনা দেখে খুউব-ই হতাশ হলাম। থিংক ট্যাঙ্কে ভালোই টান পড়েছে বোঝা যাচ্ছে। এইসব ছেলেভুলানো ভুজুং-ভাজং দিয়ে আর কত?”

    Reply
    • সাইফ

      সরকার এই দাবি করতে পারে না যে, ইআইএ করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইআইএ করা হয়েছে ২০১২ সালে আর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০১০ সালে। এ ব্যাপারটি ইআইএর রিপোর্টয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

      Reply
  27. amarbangla

    ভাই, এত মাতামাতি বাদ দিয়ে চলেন আমরা আবার আদিম যুগে ফিরে যাই, কোন বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে না, প্রযুক্তির দরকার নেই। আমাদের টাকা দিয়ে সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করবে তাও হবে না।

    Reply
    • রাসেল রহমান

      তার চাইতে চলেন ভবিষ্যৎ জীবনে চলে যাই।
      যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় সূর্যের আলো থেকে, বাতাস থেকে, পানি থেকে।
      কেমন হয়?

      Reply
  28. Md. Rahaman

    বিশ্লেষণমূলক ও অতিজরুরি এ আর্টিকেলের জন্য ধন্যবাদ। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুতে সরকার আশা করি পজিটিভ মোটিভ নিয়ে রিঅ্যাক্ট করবেন।

    Reply
  29. Waliul Islam

    লেখক বলছেন “তৃতীয়ত, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনা করাই সঠিক নয়। কারণ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছোট আকারের এবং বড়পুকুরিয়ার পাশে সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর বনাঞ্চল নেই।”

    আমার প্রশ্ন তিনি কি বড়পুকুরিয়ার চারপাশটা ঘুরে দেখেছেন? বড়পুকুরিয়া ঘিরে ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুরে যে বন বিভাগের শালবন আছে সেগুলো কি তার চোখে পড়েনি? তাই আমরা সঠিক বক্তব্য আশা করি।

    Reply
    • হুলিও মার্কেস

      বন বিভাগের বন, শালবন ইত্যাদি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুন্দরবনের স্পর্শকাতরতার সঙ্গে তুলনা করা কি ঠিক? সুন্দরবনের পরিবেশের সঙ্গে নদী, বনজ গঠন এবং এলাকার সমস্ত প্রাণিজীবন জড়িত!

      Reply
    • রাসেল রহমান

      ……………. স্পর্শকাতর বনাঞ্চল নেই।”
      খেয়াল করবেন প্লিজ।

      Reply
  30. Kazi Abu YOUSUF

    ধন্যবাদ। আপনার লেখার মাধ্যমে কথিত পানি পরিশোধন ও পরিবেশ প্রকৌশলীর ভুলে ভরা লেখার সময়োচিত জবাব পেলাম। যেখানে দেশের পরিবেশবিদ, প্রকল্প স্থানের লোকজন সবাই এ প্রকল্পবিরোধী– সেখানে সরকারের তড়িঘড়ি প্রকল্পের উদ্বোধন মানুষের মনে আরও বেশি সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

    তাছাড়া সুন্দরবন ধ্বংস হলে জনাব তৌফিক এলাহীর কিছু যায় আসে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু যায় আসে? বা আমাদের কোনো রাজনীতিবিদদের কিছু যায় আসে?

    দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রভাবশালীদের মুনাফার ক্ষুধা মেটাতে ধ্বংস হয়ে গেছে রামপাল-মংলাসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার পরিবেশ-প্রতিবেশ। অপরিণামদর্শী চিংড়ি চাষের ধকল কাটিয়ে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না প্রকৃতি। ফলে আগে থেকেই সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট এসব এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে– যেসব ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। সেখানে ১৩৫০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে পুরো অঞ্চলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়।

    সরকার বা আঞ্জুমানের মতো বিশেষজ্ঞরা ভুলে গেলেন কীভাবে যে, বৃহত্তর ওই এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় আগে থেকেই আমাদের ভাবনার বিষয়?

    ধন্যবাদ কল্লোল। সত্য দিয়ে স্বার্থন্বেষীদের জবাব দেওয়ার জন্য।(সংগৃহীত তথ্যগুলো কপি করে দিলাম.. সহমতের জন্য)

    Reply
  31. Faiz

    in reply to কাজী আহমদ পারভেজ ::

    আপনি কিছুটা ভুল করেছেন বলে মনে হচ্ছে। কল্লোল মোস্তফার লেখাটি ড. আঞ্জুমানের লেখার একটি উত্তর। কল্লোল যেসব সিকোযেন্স প্রভাইড করছেন সেগুলো গুরুত্বের বিবেচনায় করা হয়নি, আঞ্জুমান যা দিয়েছেন তার ভিত্তিতে করা হয়েছে। আঞ্জুমানের যুক্তিগুলো তিনি শুধু খণ্ডন করেছেন।

    আগের আর্টিকেলটি পড়ে না থাকলে বিডিনিউজের মতামত-বিশ্লেষণে খুঁজে দেখুন।

    Reply
  32. বাকী বিল্লাহ

    বিষয়বস্তুকে ঘুরিয়ে কীভাবে আড়াল করতে হয় কাজী আহমেদ পারভেজের মন্তব্য তার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল। কল্লোলের লেখায় প্রসঙ্গটি এসেছে আঞ্জুমানের প্রত্যুত্তর হিসেবে। সেটাকে ঘুরিয়ে পারভেজ বললেন, “আমি তো জানতাম তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের প্রধান অভিযোগ ইররিভার্সিবল ড্যামেজ নিয়ে, তা ঘটতে না দেওয়া সম্পর্কে। স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সম্পন্নকরণ কবে থেকে সুন্দরবনের জন্য ইররিভার্সিবল ড্যামেজ বলে বিবেচিত হচ্ছে, বুঝলাম না।“

    না বোঝার কী আছে? অবশ্যই আমাদের মৌলিক গুরুত্বের পয়েন্ট সুন্দরবন এবং তার ক্ষতি নিয়ে। তাই বলে জমি অধিগ্রহণের বিষয় আলোচনা করা যাবে না? স্থান নির্বাচনের প্রসঙ্গ আলাদা। কিন্তু যখন জমি অধিগ্রহণ করে চুক্তি করে ফেলে তারপর চাপের মুখে পরিবশে সমীক্ষা রিপোর্ট করা হয়, তখন বোঝা যায় যে এটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

    শেষ প্যারায় পারভেজ অনেক নসিহত দিলেন। তার সঙ্গে টিভি টকশোতে সুভাষ সিংহ রায়ের ভাষ্যের মিল পেলাম অনেকটা। তিনি বলেছিলেন- সুন্দরবনের অনেক ক্ষতি সাধন গত ৫০ বছরে হয়েছে। এখন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আর এমন কী হবে?

    আরে ভাই, আগে অনেক ক্ষতি হয়ে আছে বলেই তো সুন্দরবনকে আর এক ফোঁটাও ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না…

    Reply
  33. Rashed

    আমি ড. আঞ্জুমান ইসলাম ও কল্লোল মোস্তফার বিশ্লেষণ পড়লাম। ড. আঞ্জুমান প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহী চৌধুরী এবং পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে আলাপচারিতার বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। কল্লোল মোস্তফা তার বিরোধিতামূলক, আংশিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তবে ড. আঞ্জুমান ইসলামের বিশ্লেষণ থেকে কল্লোল মোস্তফার বিশ্লেষণ ভালো লাগল।

    কিন্তু আমরা (যারা সাধারণ জনগণ তারা) আপনাদের মতামত পড়ে কনাফিউসড্ হয়ে গেলাম, সরকার সঠিক না আমরা (যারা এর বিরধিতা করছি)তারা সঠিক? আমার মতো যারা মোটামাথার মানুষ, তাদের মতে, সুন্দরবনের কাছাকাছি এত বড় প্রজেক্ট না হওয়াই ভালো। আবার আমাদের দেশে যে বিদ্যুতের এত খারাপ অবস্থা তাতে প্রজেক্ট বাতিল করাও ঠিক হবে না।

    কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত বলতে শুনলাম না যে রামপালে প্রজেক্ট না করে অন্য কোথাও সুবিধাজনক স্থানে প্রজেক্ট করা হোক। আমরা কি শুধু আলোচনা সমালোচনা করে যাব, নাকি উত্তর খুঁজব? পরিবেশবাদীদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব আমি এখনও শুনতে পারিনি যে অন্য কোনো স্থানে এই প্রকল্প চালু করা হোক (আমার জানা নাও থাকতে পারে)। আর পরিবেশবিদরা কোনো সঠিক স্থান উল্লেখ করতে পারেননি বলে সরকার তার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করছেন।

    আমি সবাইকে বলব যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তারা ভালো বলতে পারবেন। আমরা শুধু গলা চিল্লায়ে বা শুধু আর্টিকেল লিখে কোনো লাভ নেই। সরকারকে সুপরামর্শ যদি দিতে পারি তাহলে আমাদের লাভ হবে।

    আর সরকারের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয় আমাদের দেশে মানুষ মরার আগে তার ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তাই ইআইএ বা এর সংস্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থার কথা বলে কোনো লাভ নেই। সরকার যদি মনে করে আমার যা ইচ্ছা তাই করব তাহলে, আমাদের বুকের উপর গুলি ছুঁড়তেও সরকারের হাত কাঁপবে না।

    (আমার যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা করবেন।)

    Reply
  34. Shoaib Pathan

    কম্পিউটার সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ওমর শেহাব এবং পানি পরিশোধন ও পরিবেশ প্রকৌশলী ড. আঞ্জুমান ইসলাম লিখেছেন “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন: কিছু কৌতূহল”!!!

    পরিবেশ বিশেষজ্ঞ+ কম্পিউটার সায়েন্স বিশেষজ্ঞ= মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। দলীয় লেজুড়বৃত্তির একটা সীমা থাকা উচিত।

    Reply
  35. সিরাজ

    কল্লোল মোস্তফা,

    আপনার বক্তব্য পরিষ্কার নয়। আপনার বেশিরভাগ যুক্তিই আধুনিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপক্ষে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে ক্ষতি তা মেনে নিয়েই আমেরিকাতে ৬০০টি, ভারতে ৬০টি, জার্মানিসহ উন্নত বিশ্বে তা চলছে। সুতরাং আধুনিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।

    সুন্দরবনের কাছে হওয়াতে বন ও বন্যপ্রাণির যে ক্ষতি হতে পারে তাতে সুনির্দিষ্ট থাকুন। এই দুটো একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলে আপনি সরকারকে সুযোগ করে দিচ্ছেন বিরোধিতাকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক আথ্যা দিতে।

    আপনি নিজেই বলছেন– “প্রধানমন্ত্রীও রামপাল উদ্বোধনের বেলায় একই কথা বলেছেন। আমরা জানি না কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে তারা এই কথা বলছেন।”

    অথচ আপনি যখন বলছেন–“বাস্তবে কেউ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে গেলেই দেখতে পাবেন পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ উদাহরণ।”

    এটা কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে বলছেন তা কিন্তু বলেননি। পত্রিকার পাতায় আমরা বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের বসবাসকারী ও কৃষকদের মারাত্মক বিপর্যয়ের কথা দেখি না।

    নানা রকম কল্পিত, আধাসত্য, পুরানো, বিভ্রান্তিকর অভিযোগ না তুলে সুন্দরবনের প্রকৃত ক্ষতির কারণগুলো তুলে ধরলে আন্দোলনটা কার্যকর হবে, নতুবা সত্য-মিথ্যামিশ্রিত অভিযোগ সরকারকেই সুযোগ করে দেবে সব ভুয়া বলে বাতিল করে দিতে।

    Reply
    • হেলাল মহিউদ্দীন

      আমেরিকার পরিসংখ্যানটি আগের, হালনাগাদ নয়। জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো সবই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ারর উদ্যোগ নিয়েছে। এবং দ্রুতগতিতে প্রক্রিয়াটি চলছে। ২০১০ হতে ২০১৫ সালের মধ্যে আমেরিকা ৭৬% ভাগ বন্ধ করেছে। সম্পূর্ণ ফেজ-আউটের লক্ষ্যবর্ষ ২০৩০ সাল, সম্ভব না হলে বড়জোর ২০৩৫ সাল। দেখুন এই লিংকটি https://www.e3g.org/docs/USA_G7_Analysis_September_2015.pdf

      Reply
  36. বাকী বিল্লাহ

    দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রভাবশালীদের মুনাফার ক্ষুধা মেটাতে ধ্বংস হয়ে গেছে রামপাল-মংলা সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার পরিবেশ-প্রতিবেশ। অপরিণামদর্শী চিংড়ি চাষের ধকল কাটিয়ে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না প্রকৃতি। ফলে আগে থেকেই সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট এসব এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে– যেসব ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। সেখানে ১৩৫০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে পুরো অঞ্চলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়।

    সরকার বা আঞ্জুমানের মতো বিশেষজ্ঞরা ভুলে গেলেন কীভাবে যে, বৃহত্তর ওই এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় আগে থেকেই আমাদের ভাবনার বিষয়?

    ধন্যবাদ কল্লোল। সত্য দিয়ে স্বার্থন্বেষীদের জবাব দেওয়ার জন্য।

    Reply
  37. enam

    ডক্টরেট ডিগ্রিধারীর সংখ্যা যত বাড়ছে দেশের সমস্যা তত ঘনীভূত হচ্ছে!

    Reply
    • imtiaj

      কথাটা পুরো সত্য নয়। যেসব ডক্টরেট ডিগ্রিধারিরা দু নম্বরী পন্থায় ডিগ্রি অর্জন করেছেন, অর্থাৎ নিজ যোগ্যতাবলে নয়, বরং অন্যের উপর ভর করে, তারাই সমস্যা করছে।

      Reply
  38. Anirudhya

    এবার বাঙালি পড়েছে মহাফাঁপরে! এমন একটা ইস্যু যা হয়তো অনেকেরই ধারণা নেই। আমরাও নেই। পক্ষে যেমন যাচ্ছে, বিপক্ষেও তেমনই যাচ্ছে। তো আমরা যাব কোথায়? আমি বিশ্বাস করি সুন্দরবনের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি মানুষও নেই। ঠিক তেমনি আবার বিদ্যুতের ঘাটতি এটা কতজন সহজভাবে নিতে পারি? হয়তো আমরা নিজেরাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি বলেই দোষ অন্যদিকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।

    যাই হোক, এই রকম আরেও কিছু বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকলাম। লিখিয়েদের প্রতি একটা অনুরোধ, যা-ই লিখবেন, যেটুকু লিখবেন– দেশকে ভালবেসে লিখবেন, কারেও প্ররোচনায় পড়ে নয়।

    Reply
  39. Jewel Rana

    এক্সিলেন্ট প্রতিউত্তর। সুন্দরবন আমাদের হার্ট, ধূসর হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য প্রধান সবুজ বনাঞ্চল। কিছু সংখ্যক লুটেরার হাত থেকে একে বাঁচান…

    Reply
  40. hasan sardar

    ধন্যবাদ। আপনার লেখার মাধ্যমে কথিত পানি পরিশোধন ও পরিবেশ প্রকৌশলীর ভুলে ভরা লেখার সময়োচিত জবাব। যেখানে দেশের পরিবেশবিদ প্রকল্প স্থানের লোকজন সবাই এ প্রকল্পবিরোধী সেখানে সরকারের তড়িঘড়ি প্রকল্পের উদ্বোধন মানুষের মনে আরও বেশি সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

    অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের ভাষায়, ভারতের সমর্থনলাভের আশায় রামপাল চুক্তি, মার্কিন সমর্থনলাভের আশায় টিকফা….

    Reply
  41. Dipak

    ড. আঞ্জুমান ইসলামের লেখাটিতে একজন পরিবেশবিদ ও প্রকৌশলী হিসেবে নিজস্ব কোনো ব্যখ্যা আসেনি, শুধুমাত্র কিছু প্রশ্নের উত্তর ছিল। প্রয়োজন ছিল প্রত্যেকটি উত্তরের পিছনে বিশেষজ্ঞ হিসেবেেউনার মতামত দেওয়া। যাক, সে দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে। কারণ এ জাতীয় বিশেষায়িত ব্যাপারে অনেকটা সাক্ষাৎকারধর্মী লেখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার তার উদ্দেশ্য যাই হোক, এ লেখার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিষয়ে যে সুন্দর এবং উপযুক্ত বিশ্লেষণ আপনি দিয়েছেন সেটাই তো এ সময়ে প্রয়োজন ছিল।

    ফলে যতটুকু বিভ্রান্তি তিনি তৈরি করেছেন, আশা করছি আপনার লেখার পরে তা কেটে যাবে। চমৎকার ও প্রয়োজনীয় এ লেখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। এ বিষয়ে আরও কিছু উদাহরণসহ এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের আরও লেখা আশা করছি।

    Reply
  42. সাবিনা

    অনেক ধন্যবাদ এই প্রবন্ধটির জন্য।

    গতকাল ড. আঞ্জুমানের লেখাটা পড়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম এর বিপরীতে যুক্তিযুক্ত উত্তরের জন্য। তাই আবারও ধন্যবাদ।

    Reply
  43. Shishir

    প্রিয় কল্লোল ভাই,

    ধন্যবাদ এই অসাধারণ লেখার জন্য। আপনার মতো অনুপ্রেরণাদানকারীদের দেখে গর্ব অনুভব করি। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ বদলে যাবে। আপনাদের মতো লোকেরা আমাদের পাশে থেকে সব বদলে দেবেন।

    বেশি দূরে নেই সে দিন….

    Reply
  44. বিপ্লব রহমান

    প্রভু-স্বার্থরক্ষার জনবিরোধী সরকারি বুলির বিরুদ্ধে যুক্তযুক্ত দরকারি নোট। সাবাস কল্লোল।

    রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণকারী সংস্থা এনটিপিসি ভারতে একই রকম বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করতে গিয়ে একই রকমভাবে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে পড়েছে। এ নিয়ে সেদেশে মামলাও হয়েছে।

    লং মার্চের একটি শ্লোগান মনে পড়ছে:

    ”নিজের দেশে পারো না/ আমাগো দেশে আইছো ক্যান?”

    শ্লোগানে নিহিত জবাব খোঁজা জরুরি। চলুক।

    Reply
  45. sarowar

    আওয়ামী লীগের এই ধরনের মিত্থ্যাচারে আমি অন্তত অবাক নই। একটি উদারনৈতিক দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের মৃত্যু ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে সঙ্গেই ………… ! এখনকার যে আওয়ামী লীগ তা তো মিথ্যার উপরেই দাঁড়িয়ে। সুতরাং রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে তারা মিথ্যাচার করবে এটা তো খুবই স্বাভাবিক।

    আর তাছাড়া, সুন্দরবন ধ্বংস হলে জনাব তৌফিক এলাহীর কিছু যায় আসে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু যায় আসে? বা আমাদের কোনো রাজনীতিবিদদের কিছু যায় আসে?

    Reply
  46. সৈয়দ আলি

    ড. মিজ আঞ্জুমান ইসলাম আওয়ামী লীগ বা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরীর প্রপাগান্ডিস্ট নন ধরে, তার কাছ থেকে কল্লোল মোস্তফার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের উত্তর চাই। তবে ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরীর মতো কল্লোল মোস্তফাকে দেশদ্রোহী বা ভারতবিরোধী (আঞ্জুমান এর আগে একবার তা করেছেন) বলে চিহ্নিত করবেন না। এটি একটি বৈজ্ঞানিক পলেমিক, আমরা এখানে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সত্য আলোচনা চাই।

    ধন্যবাদ।

    Reply
  47. কাজী আহমদ পারভেজ

    কল্লোল মোস্তফার প্রথম অভিযোগ–

    “ইআইএ সম্পর্কে প্রথম অভিযোগ হল স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পর ইআইএ সম্পন্ন করা হয়েছে। জবাবে, আঞ্জুমান ইসলাম অনেক কথাই লিখলেন কিন্তু সেখানে ইআইএ সম্পন্ন করার আগেই জমি অধিগ্রহণ করার কোনো যৌক্তিকতা পাওয়া গেল না!”

    আমি তো জানতাম তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের প্রধান অভিযোগ ইররিভার্সিবল ড্যামেজ নিয়ে, তা ঘটতে না দেওয়া সম্পর্কে। স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সম্পন্নকরণ কবে থেকে সুন্দরবনের জন্য ইররিভার্সিবল ড্যামেজ বলে বিবেচিত হচ্ছে, বুঝলাম না। সনির্বন্ধ জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে–

    ১) স্থান যেমন চূড়ান্তকরণ করা যায়, তা তেমনি বাতিলকরণও সম্ভব।
    ২) জমি যেমন অধিগ্রহণ করা যায় তা তেমনি বিমুক্তকরণও সম্ভব।
    ৩) চুক্তি যেমন সম্পন্নকরণ করা যায় তা তেমনি বাতিলকরণও সম্ভব।

    কোনোটাই আপনাদের প্রধান আক্রমণস্থল, “ইররিভার্সিবল ড্যামেজ” নহে।

    ইআইএ করার আগে ওইসব করে এমন কোনো মহাভারত অশুদ্ধ হয়নি। আর আপনাদের কনসার্নের মূল ক্ষেত্র ইররিভার্সিবল ড্যামেজের তো কিছুই হয়নি।
    এ রকম একটা ইররেলিভেন্ট, টোটাল ট্রাশ দিয়ে জবাবের সূচনা দেখে খুউব-ই হতাশ হলাম। থিংক ট্যাঙ্কে ভালোই টান পড়েছে বোঝা যাচ্ছে। এইসব ছেলেভুলানো ভুজুং-ভাজং দিয়ে আর কত?

    এইবার শুনুন আমার যুক্তি। IEE করা এই তিনটা ফলের যে কোনো একটা পাবার আশায়–

    ক) পরিবেশগত কারণে প্রকল্প একদমই বাস্তবায়ন অযোগ্য।
    খ) পরিবেশগত ঝুঁকি আছে, তবে ইআইএ-র মাধ্যমে মিটিগেশন অপশন দেখা দরকার।
    গ) পরিবেশগত ঝুঁকি নেই, ইআইএ-র ও কোনো প্রয়োজন নেই।

    রামপালে কোনটা হয়েছে IEE-র পর, সেটা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। মূলত EIA চাওয়ার অর্থই হল এটা জানানো যে প্রজেক্ট করা যাবে। আর ইআইএ অনুমোদন মানে হল ‘মিটিগেশন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য’, একইভাবে ইআইএ অননুমোদন মানে হল, ‘মিটিগেশন প্রস্তাব এইভাবে গ্রহণ করা যাচ্ছে না, (এটা আরও ইমপ্রুভ করে আনুন)’, ইআইএ অননুমোদন এটা কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে “প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে”।

    তাহলে এই যে ধরে নিচ্ছেন, ইআইএ অনুমোদন না হলে কিছুই শুরু করা হারাম, এটা কতটা ঠিক?

    আমি তো বরং মনে করি আইইই-তে ইআইএ করতে বলাকে প্রজেক্টের নীতিগত অনুমোদন ধরে নিয়ে ইআইএ প্রস্তুতির, অনুমোদনের আগে যত বেশি কাজ এগিয়ে রাখা যাবে প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্তৃপক্ষকে তত বেশি বাহবা দেওয়া উচিত। মিটিগেশন পরিকল্পনা পছন্দ না হওয়ায় একবার কেন সাতবারও যদি ইআইএ রিভিউ করতে হয়, রিজেক্ট হয় চিন্তার কিছু নেই। কারণ এটা প্রজেক্ট বাতিল বুঝায় না এবং কাজ যত এগিয়ে রাখা যাবে ইআইএ অনুমোদনের পর (যা আজ হোক কাল হোক, হবেই) তত দ্রুত প্রজেক্ট সম্পন্ন করা যাবে।

    উত্তর লেখক কল্লোল মোস্তফাকে বলছি, ভাই কিছু সিরিয়াস ইস্যু সামনে আনেন যেগুলার কারণে সত্যিই সুন্দরবন ‘ধ্বংস হতে পারে। কী সব গ্রামার ধরাধরি করতেছেন, এইসব গ্রামারের ভুলে প্রজেক্ট আটকে থাকবে না, বলে রাখলাম। তখন কিন্তু বাঘেদের আভিশাপ থেকে আপনাদেরও নিস্তার থাকবে না।

    Reply
    • রিয়াজ উদ্দীন

      আপনার উত্তর পড়ে মনে হয়েছে আপনি ধরতে পারেননি EIA করার আগে প্রকল্পের পত্তনমূলক এতগুলো কাজ এগিয়ে নেবার সমস্যা কোথায়? EIA করার আগেই জমি অধিগ্রহণ করার মাধ্যমে প্রকল্প সম্পর্কে বাস্তবায়নাকারী সংস্থার এক ধরনের পক্ষপাতমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। EIA করার শুরুতে কারিগরি দিক থেকে কোনো রকম পূর্বানুমান থাকাটা এই ধরনের স্টাডির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। গবেষণার পদ্ধতির দিক থেকে এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা থেকে এই প্রবণতাটি বেশ গুরুতর।

      যখন একটি প্রকল্পের পত্তনমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে EIA করা হয় তখন এটা একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এমন মনে হবার সুযোগ তৈরি হয়। আর পত্তনমূলক কাজের তালিকায় যেগুলো উঠে এসেছে অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো বেশ কঠিন কাজ। খেলাচ্ছলে এগুলোকে রিভার্স করা যাবে মনে করে করার আগে আপনি একটু দয়া করে বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণের কাজের পেছনের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা সম্পর্কে ধারণা নেবার চেষ্টা করবেন।

      তবে ইররিভার্সিবল ড্যামেজ প্রসঙ্গে আপত্তিটা কোন কনটেক্সটে বলা হয়েছে সেটা আপনি উল্লেখ করেননি — বলেছেন আপনি ‘জানতেন’। কিন্তু পরিবেশ নিয়ে যখন কথা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে “irreversible damage” কথাটি মূলত পরিবেশের ক্ষতির প্রসঙ্গেই বেশি প্রযোজ্য। এখানে প্রকল্পের ধাপ প্রসঙ্গে যে কথাগুলো বলে হচ্ছে সেগুলো যতটা না ইররিভার্সিবল ড্যামেজ তার চাইতে বেশি ইরররিভার্সিবল প্রস্তুতি — যেটা প্রকল্প সম্পর্কে সরকারের পক্ষপাতের সাক্ষর বহন করে।

      Reply
      • কাজী আহমদ পারভেজ

        উত্তরটির জন্য ধন্যবাদ।

        ১) ‘পক্ষপাত’– এই ব্যাপারটা তখনই আসে যখন একাধিক সম-সামর্থের পক্ষ একটি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। প্রকল্প প্রস্তাব করছে একটাই ব্যক্তি-চালিত পক্ষ। অন্য পক্ষগুলো হয় জেলা প্রশাসন নয়তো নৈর্ব্যক্তিক প্রকৃতি অথবা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ। এখানে পক্ষপাতের সুযোগ কোথায়?

        ২) প্রকল্প প্রস্তাবকারীর কোনো প্রতিপক্ষ যদি থেকেও থাকে তা হল মূলত পরিবেশ ও প্রকৃতি। আমি যেটা বলতে চেয়েছি তা হল, ক) আইইই রিজেক্ট করার অর্থ হত প্রকৃতি বিজয়ী, প্রকল্প-প্রস্তাবকারী পরাজিত, প্রকল্প হবে না। খ) আইইইই অ্যাকসেপ্ট করার (রেডবিহীন) অর্থ হল প্রকৃতি পরাজিত, প্রকল্প-প্রস্তাবকারী বিজয়ী।
        অনতিবিলম্বে প্রাপ্ত টিওআর অনুযায়ী প্রকল্প শুরু হবে, ইআইএ-র দরকার নেই। গ) গোলটা বাধে তখনই, যখন ইআইএ-র শর্তে আইইই গ্রহণ করা হয়। প্রকৃতি নামক নৈর্ব্যক্তিক এনটিটির জন্য প্রকল্প-প্রস্তাবকারী নামক ব্যক্তিচালিত এনটিটির সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের অসম যুদ্ধ তখনও বাকি থাকে। অসম বলছি এ জন্য যে, ব্যক্তি (এখানে প্রকল্প-প্রস্তাবকারী) আরেকটা সুযোগ পায় আপত্তিগুলো নিস্পত্তির। এই যে ব্যক্তিকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হল, এটা অবশ্যই এক ধরনের পক্ষপাত, কিন্তু এর উদ্দেশ্য কি অসৎ? আমার কিন্তু তা মনে হয় না।

        আরেকটা কথা। প্রকল্প-প্রস্তাবকারীর এই সুযোগ কিন্তু ওপেন-এন্ডেড। যতবারে খুশি সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে মিটিগেশন এফর্টের মাধ্যমে পরিবেশ-সম্পর্কিত কনসার্ন দূর করার জন্য।

        প্রকল্প-প্রস্তাবকারীকে ‘ইআইএ নিয়ে আসুন’ বলার মধ্য দিয়ে তো এই বার্তা কিন্তু দেওয়া আছেই যে, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য’ যদিও শর্তসাপেক্ষে এবং সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব।

        জমি অধিগ্রহণ এবং ভরাটকরণকে প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধরে নেওয়াটায়ও টেকনিক্যাল এরর রয়ে গেছে। অন্য ক্ষেত্রে কী হয়, সেটা এখানে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রের ঘটনা যা সেই অনুযায়ীই মূল্যায়ন করাটা উচিত।

        প্রকল্পের মালিক যৌথ মালিকানার একটি কোম্পানি। তারা জেলা প্রশাসন থেকে জমি ভাড়া (পড়ুন লিজ) নিয়ে এই প্রকল্পটা বাস্তবায়ন করবেন। আমি যদি ওই জমির মালিক হতাম আর তারা ইআইএ তৈরির অবস্থানে এসে বলত ‘জমি রেডি শুরু করেন’, তাদের জন্য তা রেডি শুরু করা কি অন্যায় হত? আমার কিন্তু মনে হয় না।
        তাহলে জমি সরবরাহকারী, এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের জন্য তা অন্যয়, এটাও যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না।

        কারণ এ কথাটাও তো ঠিক যে জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আর প্রকল্প-প্রস্তাবকারী কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা এনটিটি। এইজন্য জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন করার মাধ্যমে প্রকল্প-প্রস্তাবকারী ইআইএ-র শর্ত ভেঙেছেন, এই অভিযোগ কতটা সঠিকভাবে করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

    • monir

      এটা এমন যেন আপনি সন্তান নিচ্ছেন বিয়ের আগে….. বিয়ের পর নিলে সেটা হবে বৈধ।

      একইভাবে ভূমি অধিগ্রহণ হবে পরে, আগে নয়…

      Reply
      • কাজী আহমদ পারভেজ

        কাব্যিক উদাহরণ কিন্তু আমিও জানি।

        যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, আপনার হিসেবে তার সঙ্গে শপিং-এ বের হওয়াও তো তাহলে গর্হিত অপরাধ, হারাম। আপনার এনালজিটা ভুল এই কারণে যে আপনি একটি অবৈধ কাজকে বৈধ কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

        জমির মালিক (এখানে জেলা প্রশাসন) জমিভাড়া (পড়ুন লিজ) দেবে একটি প্রকল্পে। তারা যদি কনভিনসড হন যে প্রকল্পটা হবে এবং এজন্য তাদের প্রস্তুতিস্বরূপ তাদের বৈধ করণীয়গুলো (এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ, ভরাট) করেন, একে অবৈধ কাজের (আপনার হিসেবে বিবাহ-পূর্ব সন্তান গ্রহণের) সঙ্গে তুল্য মনে করাটায় হয় বোঝার ভুল না হয়তো সদোদ্দেশ্যের ঘাটতি আছে।

      • তারেক

        কাজি ভাই, আপনি মেয়ে দেখবেন, মেয়ের পরিবারের খবর নেবেন, মেয়ের পরিবার খবর নিবে, তারপর দুই দিকের সম্মতি হলে তখন শপিংএ বের হবে।

        আমি জানলামই না এই জায়গা কি সুরক্ষিত কি না! কী কী সুবিধা হবে, আর এখানে অসুবিধা কী। তার খবর না নিয়ে আমি জায়গা দিয়ে দিব?

        আপনার যুক্তি মেনে নিলে দাঁড়াচ্ছে মেয়ে দেখতে এসে মেয়েকে নিয়ে শপিংএ বের হওয়া খোঁজ নেওয়ার দরকার নাই। এটি কি আসলেই যুক্তিযুক্ত?

    • sarowar

      কাজি ভাইয়া

      একটু খেপে গেলেন মনে হচ্ছে? নিজেকে কি বড় একা মনে হচ্ছে? শান্ত হোন! বাঙালি বেশিদিন কিছু মনে রাখে না। একদিন সুন্দরবনে হাউজিং প্লট বিক্রি হলেও দেখবেন বাঙালি বলবে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতিই তো হয়নি!

      =D

      Reply
    • জগলু খাঁ

      কয়লার প্লান্ট হইল রেড-ক্যাটাগরি প্রজেক্ট। এইখানে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আইইই এবং ইআইএ দুইটাই করতে হবে।

      “এইবার শুনুন আমার যুক্তি। IEE করা এই তিনটা ফলের যে কোনো একটা পাবার আশায়– ক) পরিবেশগত কারণে প্রকল্প একদমই বাস্তবায়ন অযোগ্য।
      খ) পরিবেশগত ঝুঁকি আছে, তবে ইআইএ-র মাধ্যমে মিটিগেশন অপশন দেখা দরকার গ) পরিবেশগত ঝুঁকি নেই, ইআইএ-র ও কোনো প্রয়োজন নেই।”

      — আপনে সরকারের নিয়ম না জাইনা এই কথার মাধ্যমে আমাগো গ্রামার শিখাইতেছেন, আবার কল্লোলরে দুষ দিতাছেন যে হে নাকি গ্রামার ধরে।

      মিয়া, নিজে আগে ভালো কইরা গ্রামার শিখেন।

      Reply
    • দেব কান্তি

      পরিবেশ দূষণ, নদীদূষণের মতো এত বিধ্বংসী সিরিয়াস ইস্যু কেন আপনার চোখে পড়ল না, সেটা বোঝা গেল না। লেখক নিশ্চয়ই তার পুরো লেখায় খালি গ্রামার নিয়ে আলোচনা করেননি….

      Reply
    • রুমকি

      কোনো কিছু না জেনে মন্তব্য করাটা কতটুকু নৈতিক? আপনার মন্তব্য এটা নিশ্চিত করেছে যে আপনার ইআইএ, আইইই কোনো কিছু সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

      দলবাজি করে কত আয় করবেন আর? নব্য রাজাকার…

      Reply
    • জগলু খাঁ

      @কল্লোল, বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী সাইট ক্লিয়ারেন্স পাইতে হইলে সম্ভবত নিচের ডকুমেন্টগুলি ডিওই-তে জমা দিতে হয়:

      ১। ফিজিবিলিটি স্টাডি
      ২। আই.ই.ই
      ৩। ই.আই.এ
      ৪। ই.এম.পি
      ৫। একটা এন.ও.সি
      ৭। পলিউশন মিনিমাইজেশন প্লান
      ৮। আউটলাইন অব রি-লোকেশন প্লান

      এই বিষয়টা ক্রস চেক কর। যদি ঠিক হয়, তাইলে এই গ্রামার টিচারের কথার জবাব পেয়ে যাইবা।

      Reply
    • শিশির

      লেখক কল্লোল মোস্তফাকে বলছি–

      ভাই আপনার উত্তরগুলো কীভাবে বিজ্ঞানসম্মত তাই তো বুঝতেছি না। আমাদের মংলা সমুদ্র বন্দরে কি কোনো জাহাজ নোঙর করে? দিনে, সপ্তাহে কয়টা জাহাজ নোঙর করে? নাকি ওটা সরকার বন্ধ করে দিছে?

      আমরা তো শুনেছি সরকার ওটাকে উন্নত করার জন্য অনেক নির্মাণকাজ, নদী ড্রেজিং, জেটি নির্মাণ করছে। এই কাজগুলোতে পরিবেশের উপর কোনো প্রভাব ফেলে? আপনার কী ধারণা?

      আর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন কয়টা জাহাজ আসবে? কিংবা রামপালের অবস্থানই-বা কোথায়?

      আমরা তো জানতাম ওটা মংলা বন্দর থেকে আরও উত্তরে।

      Reply
    • HR

      প্রিয়, একদম পাজলড হয়ে গেলাম। সবাইকে অনুরোধ করব যেন এ বিষয়ে স্পষ্ট ও সত্যবাদিতার সঙ্গে মতামত দেন….

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      প্রজেক্ট যে আটকে থাকবে না তা কি আর আমরা জানি না? তবে সে প্রজেক্ট যে ধুলিস্যাৎ হবে সেটিও নিশ্চিত।

      মার্কিন পাসপোর্টধারী বীরোত্তম জ্বালানি উপদেষ্টা কী করবেন তাই-ই এখন ভাবছি 🙂

      Reply
    • সাইফ

      IEE কখন করা হয়েছে এই প্রকল্পের? আর জমি অধিগ্রহণ শুরু করা হয়েছে কবে? নিজেই দেখে ভাবনাটা পরিস্কার করে নিন না.. এটা ভুল ধরার বিষয় নয়। প্রকল্পের ব্যাপারে কেন্দ্র স্থাপনকারীদের পরিবেশগত বিষয়ে কোনো গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি সামনে আনা প্রয়োজন। আশাকরি আলোচনা ও আইনগত বাধা আসার সম্ভাবনার কোনো পর্যায়ে অনিচ্ছাসহ IEE/EIA করা হয়েছে; সে বিষয়টি আপনার জানা আছে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—