Feature Img

pinaki-editedঠিক কোন যোগ্যতায় হামিদ মীর বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে নিয়মিত লিখে যেতেন সেটা এক রহস্য। আমরা ছাপার অক্ষরে যা দেখি সেগুলোতে অবলীলায় বিশ্বাস স্থাপন করার এক দুর্লভ গুণ আমাদের রয়েছে!

এই দুর্লভ গুণের ঘাড়ে সিন্দাবাদের মতো সওয়ার হয়ে কর্পোরেট মিডিয়াগুলো এতদিন আমাদের সাপকে দড়ি আর দড়িকে সাপ হিসেবে চিনিয়েছেন। মূলধারার মিডিয়ার পাশাপাশি ব্লগ আর সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মেষে এ চালাকিগুলো মাঝেমধ্যেই নগ্নভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ছে। হামিদ মীরের চালাকি সেটার সাম্প্রতিক উদাহরণ।

হামিদ মীরকে নিয়ে উচ্ছ্বাস তৈরি করে ‘প্রথম আলো’ আর ‘ডেইলি স্টার’। আমরা যারা সবসময় পত্রপত্রিকায় চোখ রাখি তারা নামটি কম-বেশি জানি। সে সময় তার বয়স হবে পঁয়ত্রিশের কাছাকছি। হামিদ মীরকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় একজন ব্যতিক্রমী বাংলাদেশপ্রেমী পাকিস্তানি হিসেবে যিনি কিনা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিচার চান।

হামিদের লেখা ধারাবাহিকভাবে পড়লে মনে হয়, তার আসল লক্ষ্য পাকিস্তান একাত্তরের গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাক। নিয়মিতভাবে এ ‘ক্ষমা-তত্ত্ব’ প্রচারের জন্য ‘প্রথম আলো’ লেখক হিসেবে হামিদ মীরকে এবং বিপরীতভাবে তিনিও ওই পত্রিকাটি বেছে নিয়েছেন।

পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর
পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর

বাবার কারণে বাংলাদেশে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। তার বাবাকে দেওয়া ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা`পুরষ্কার গ্রহণ করে তার সেই বাংলাদেশপ্রেমী ইমেজ উত্তুঙ্গ হয়েছে। পুরষ্কারটি বাবার পক্ষ থেকে হামিদই গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশে এসে। পিতার সম্মানের পুরো উত্তরাধিকারও ভোগ করেছেন তিনি। এটা তার ইমেজে নতুন একটি পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া হামিদ নাকি একবার বলেছিলেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তারাও করবেন। আর এ সব খবরই আমরা পেয়েছি দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর বরাতে। অর্থাৎ তাকে মোটামুটি বীরের মর্যাদায় স্থান দেওয়ার কাজটুকু কিন্তু আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো এবং বিশেষ করে ‘প্রথম আলো’ করে রেখেছে।

এ পর্যন্ত লিখতে পারলে বোধহয় ভালোই হত। কারণ সে ক্ষেত্রে হয়তো কিছু একটা লিখে উপসংহার টেনে দেওয়া যেত। কিন্তু বাদ সাধল অতিসম্প্রতি পাকিস্তানের দৈনিক ‘জং’-এ উর্দুতে লেখা হামিদ মীরের একটি কলাম।

তিনি যা লিখেছেন তার সারমর্ম করলে যা দাঁড়ায় তা হচ্ছে– গোলাম আযম হচ্ছেন একজন জাতীয় বীর আর বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার বিচার করা হচ্ছে। এছাড়াও লিখেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত নব্বই বছরের বৃদ্ধ গোলাম আযমকে বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানো!

উর্দুতে লেখা তার এই নিবন্ধ পড়তে গেলে হোঁচট খেতে হয়। কারণ তার লেখা বলে যে পদার্থগুলো আমরা এতদিন পড়ে এসেছি তার সঙ্গে এই লেখার একটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইংরেজিতে তার লেখার যে ধরন সেটির চেয়ে তার উর্দু লেখা ভিন্ন, ভাষা ভিন্ন, শব্দের ব্যবহার ভিন্ন, রেটরিক ভিন্ন।

তিনি দুই ভাষায় লিখেন। ইংরেজিতে লেখার উদ্দেশ্য থাকে পাকিস্তানের উর্দু না-জানা শিক্ষিত সমাজ আর আন্তর্জাতিক পাঠক। পুরোমাত্রায় সেকুলার ঘরানার ইংরেজি লেখায় তাকে একজন আধুনিকমনস্ক অগ্রসর মানুষ মনে হবে। আর উর্দুতে লিখেন ইংরেজি না-জানা পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য, যেখানে তিনি পুরোদস্তুর প্রতিক্রিয়াশীল। এভাবেই উনি তার পাঠককুলকে আলাদা করে দু পক্ষকেই খুশি করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তালেবান-ঘনিষ্ঠ বলে হামিদ মীরের সমালোচনা রয়েছে। তালেবানরা যে তাকে বিশ্বাস করে সেটার প্রমাণ এটাই যে তিনিই প্রথম সাংবাদিক যিনি একাধিকবার ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এমনকি তোরাবোরা পর্বতগুহায় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া ওসামার শেষ সাক্ষাৎকারটাও নিয়েছিলেন হামিদ। এসব সাক্ষাৎকার তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি দেয়।

তবে হামিদের তালেবান-ঘনিষ্ঠতা প্রমাণিত হয় ২০১০ সালে, যখন তালেবানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড উসমান পাঞ্জাবির সঙ্গে অপহৃত সাবেক আইএসআই এজেন্টের মুক্তি বিষয়ে তার টেলিফোন-সংলাপ ফাঁস হয়। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয় সে খবর

ওই সংলাপে খুব স্পষ্টভাবে হামিদ মীর অপহৃতকে ‘একজন বিশ্বাসঘাতক ব্যাড মুসলিম’ বলে অভিহিত করে তার মুক্তির বিরোধিতা করেন। এরপর অপহৃতের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফাঁস হওয়া টেলিফোন-সংলাপ নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, তার ভয়েজের স্যাম্পল নিয়ে এ কথোপকথন কৃত্রিমভাবে বানানো হয়েছে। আমরা সাঈদীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর জানি সেটা করা সম্ভব নয়।

দু দিকে রিভার্স খেলা এবং আন্তর্জাতিক আগ্রহ ধরে রাখার জন্য মাঝেমাঝেই ইস্যু লাগে। যখন তাকে নিয়ে আলোচনায় ভাটা পড়ে তখন তিনি নিজেই ‘আল কায়েদার কাছে তিনটি আণবিক বোমা থাকার তত্ত্ব’ হাজির করেন। তিনি বললেন, সেসব বোমা ছোঁড়া হবে লন্ডন, প্যারিস ও লস অ্যাঞ্জেলসে।

গত বছর হঠাৎ তার গাড়ির নিচে বোমা পাওয়া যায়। আবারও তিনি আলোচনায় আসেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে অনেক সহিংসতা ঘটলেও গাড়ি-বোমার ব্যবহার সেটাই প্রথম। অনেকের ধারণা এটাও একটা সাজানো নাটক।

‘জং’-এ প্রকাশিত হামিদ মীরের লেখাটির বাংলা অনুবাদ ‘প্রথম আলো’ না ছাপালেও তাদের প্রিয় সাংবাদিকের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। ৩১ জুলাই, ২০১৩ হামিদের ই-মেইলের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, তিনি বিহারীদের বীর বলেননি। এ বিবৃতি বিশ্বাস করার মতো আস্থা আন্তর্জাতিকভাবে হামিদ মীরের নেই।

হামিদ সম্পর্কে এফবিআইয়ের কর্তাব্যক্তি পল উইলিয়ামস যা বলেছেন আগ্রহী পাঠকরা সেটি পড়ে দেখতে পারেন। তিনি বলেছেন, “হামিদ মীর অনেকবার তার বিবৃতির উলটো কথা বলে পার পেতে চেয়েছেন, লোকটা ভয়ানক মিথ্যাবাদী।“

বাংলাদেশের প্রধান মিডিয়ার জন্য দুঃসংবাদ, এতদিনে তিলতিল করে গড়ে তোলা হামিদ মীর নামের ‘ডিপ-কভার’ এজেন্টের কলঙ্কিত প্রস্থান ঘটল। মীরকে দিয়ে করাতে চাওয়া এজেন্ডার বাস্তবায়ন তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ল!

আমরাও বারবার ভুল মানুষের উপর আস্থা আনি, ভালোবাসি, প্রতারিত হই, আবার আস্থা আনি…।

কোনটা যে চন্দ্রমল্লিকার ফুল
আর কোনটা যে সূর্যমুখী–
বারবার দেখেও
আমার ভুল হয়ে যায়,
আমি আলাদা করতে পারি না৷
ওলকপি এবং শালগম,
মৃগেলের বাচ্চা এবং বাটামাছ,
মানুষ এবং মানুষের মতো মানুষ–
বারবার দেখেও
আমার ভুল হয়ে যায়,
আমি আলাদা করতে পারি না৷

পিনাকী ভট্টাচার্য: ব্লগার, লেখক ও শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী।

২০ Responses -- “হামিদ মীর: একজন ভুল মানুষের প্রস্থান”

  1. আকাশ

    বিষয়টাতে আলোকপাত করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ড. পিনাকী। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, হামিদ মীর ইস্যুতে ‘প্রথম আলো’র কোনো গোপন এজেন্ডা আছে। গত মাসে ‘প্রথম আলো’ পড়া বন্ধ করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমার লেখা অন্য মন্তব্যের প্রায় সবই প্রকাশ করলেও, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের তথ্যবিকৃতকারী হামিদ মীর সম্পর্কে করা আমার একটা মন্তব্যও তাদের অনলাইনে প্রকাশ করেনি।

    হামিদ মীরের উর্দু ভাষায় লেখা নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে উইকিপিডিয়া জুলফিকার আলী ভুট্টোর উপর লেখা আর্টিকেলে আমাদের জানাচ্ছে যে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর শেখ মুজিব ভুট্টোর সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে রাজি হয়েছিলেন যাতে ভুট্টো হবেন প্রেসিডেন্ট আর শেখ মুজিব হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর পুরো ব্যাপারটায় মধ্যস্থতা করেছেন ভুট্টোর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ড. মুবাশ্বির হাসান।

    ‘টেরোরিজম এক্সপার্ট’ হামিদ মীরের বরাতে উইকিপিডিয়া আরও জানাচ্ছে যে ভুট্টো তার সবচাইতে বিশ্বস্ত মুবাশ্বির হাসানকে শেখ মুজিব এবং তার ইনার সার্কেলের কাছে পাঠান। মুবাশ্বির হাসান ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করতে শেখ মুজিবকে রাজি করান এবং পাকিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে শেখ মুজিব ভুট্টোর সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনে রাজি হন যাতে শেখ মুজিব হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    শেখ মুজিব ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন কিনা সে সম্পর্কে ধারণা পেতে ড. মুনতাসির মামুন ও জনাব মহিউদ্দীন আহমেদ সম্পাদিত ‘পাকিস্তানিদের দৃষ্টিতে একাত্তর’ বইটাতে ড. মুবাশ্বির হাসানের যে সাক্ষাতকার আছে সেটা দেখা যেতে পারে। সাক্ষাতকারে ড. মুবাশ্বির হাসান সরাসরি স্বীকার করেছেন যে শেখ মুজিব উনাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেননি। উনার দলীয় সহকর্মী মুস্তাফা খারের সঙ্গেও না। ভুট্টো ও শেখ মুজিবের মধ্যেও কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

    ড. মুবাশ্বির হাসানের ভাষ্যমতে, ভুট্টো প্রেসিডেন্ট হাউসে শেখ মুজিবকে লনের একপাশে নিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু কী হয়েছিল তা উনি জানতে পারেননি।

    অথচ হামিদ মীর এবং উইকিপিডিয়া ড. মুবাশ্বির হাসানের বরাতে জানাচ্ছে যে ড, মুবাশ্বির হাসান শেখ মুজিবের সঙ্গে শুধু সাক্ষাতই করেননি, ভুট্টোকে প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্য শেখ মুজিবকে রাজিও করিয়েছিলেন।

    হামিদ মীর উর্দু দৈনিক জং-এ কী লিখলেন আর ‘প্রথম আলো’য় কী লিখছেন সেটার তুলনামূলক বিশ্লেষণ খুব আকর্ষণীয় হওয়ার কথা।

    Reply
  2. ফারজানা মৌ

    ছি ছি ছি। ‘‘আমি নিজেও হামিদ মীরের লেখা একাধিক কলাম ‘প্রথম আলো’তে পড়েছি এবং মনে মনে তাকে বীরের আসনে বসিয়েছি। কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক সত্যি খুঁজে বের করা কঠিন। আমি খুবই দুঃখিত। প্রমাণিত হল প্রত্যেক মানুষের উপরের চেহারার ভিতরে আরও একটা মানুষ বাস করে।’’

    কিন্তু এ কী দেখলাম!

    Reply
  3. অলমিডিয়ালিঙ্ক

    পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। খুব ভালো লাগল। কিন্তু ‘প্রথম আলো’ মনে হয়, হামিদ মীরকে বাঁচাতে চাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

    Reply
  4. koustuv

    দারুণ লেখা। তবে শিরোনামটা ভুল ধারণা দিচ্ছে একটু।

    ‘ভুল মানুষের প্রস্থান’ বললে প্রথমেই মাথায় আসছে “যার চলে যাওয়ার কথা নয় বা যাওয়া উচিত নয় এমন মানুষের প্রস্থান।”

    Reply
  5. ইনামএজাজুর হক

    ‘প্রথম আলো’ আর ‘ডেইলি স্টার’ আজকে কাদের সাপোর্ট করে মানুষজন তা জানে। আজকার মিডিয়ার আসল চেহারা উন্মোচন করতে ফেসবুকই যথেষ্ট।

    Reply
  6. কাজি জহির

    পিনাকি’দার লেখায় সত্য উন্মোচন হল। পর্দা সরে গেল। ভুল ধারণাগুলো বিদায় নিচ্ছে।

    গোলাম আযমদের দোসর কারা আর বুঝতে বাকি নেই। ‘প্রথম আলো’র ভূমিকা দেশ-দশের জন্য কতটুকু উপযোগী দেশবাসী কিছুটা হলেও তা বুঝতে পারলে ভালো।

    Reply
  7. বাংগাল

    ‘প্রথম আলো’তে হামিদ মীরের লেখা পড়ে আমিও বিগলিত হয়েছি। শয়তান কিন্তু মানুষের সামনে শয়তান রূপে প্রথমেই হাজির হয় না।

    ‘প্রথম আলো’র সঠিক রূপটি আমার চোখে ধরা পড়েছে কানিজ আলমাসের পার্লারে গোপন ক্যামেরায় বিবস্ত্র নারীদের দৃশ্যধারণের ঘটনার সময়। পত্রিকাটি তখন তাকে সাপোর্ট দিল।

    Reply
  8. Sohail Ahmad

    হামিদ মীর বহু বছর যাবত ডবল এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে কাজ করে যাচ্ছেন। বছর ১০/১২ আগে তিনি ছিলেন মার্কিনবিরোধী নিবেদিতপ্রাণ তালেবানপন্থী। পরবর্তীতে বহু তালেবান নেতা গ্রেফতারের পিছনে তার হাত ছিল বলে মনে করা হয়।

    এখন তিনি মার্কিনপন্থী মৌলবাদবিরোধী উদারপন্থী পাকিস্তানিদের মুখপাত্র হয়ে বসে আছেন। উনি নদী আর স্রোত বুঝে কলম ধরেন। তাই যে দেশের পত্রিকা সেই দেশের পাঠকদের কথা বিবেচনা করে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

    বাংলাদেশের ‘প্রথম আলো’ কিছু আন্তর্জাতিক ‘বাংলাদেশ-বন্ধু’ খুঁজতে গিয়ে পাকিস্তানি হামিদ মীরকে আবিষ্কার করে নিয়ে এসেছে এবং তার লেখা বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছে মূলত ইংরেজি থেকে, উর্দু থেকে নয়। আর এই বস্তাপচা লেখাগুলোকে এমনভাবে চাপাচ্ছে আমাদের ওপর যে, তাতে মনে হয় হামিদ মীর পাকিস্তানি হলেও আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়েও বড় মুক্তিযোদ্ধা!

    এটা এক ধরনের অসততা যেটা ‘প্রথম আলো’ তার পাঠকদের সঙ্গে করছে। আমি কিন্ত দোষ দেব ওই পত্রিকাটিকেই বেশি। আমাদের তো ‘পাকিস্তানিদের’ কাছ থেকে কোনো সমর্থনের দরকার নেই।

    মনে রাখবেন, ভুট্টো পাকিস্তানের সেক্যুলার দল পিপিপির নেতা ছিলেন, কোনো মৌলবাদী দলের নন। আর একাত্তরে তার ভূমিকার কথা তো সবাই জানে।

    Reply
  9. সালেক খোকন

    কর্পোরেট মিডিয়াগুলো এতদিন আমাদের সাপকে দড়ি আর দড়িকে সাপ হিসেবে চিনিয়েছেন। লেখাটি ভালো লাগল। লেখককে সাধুবাদ।

    Reply
  10. রণদীপম বসু

    হা হা হা ! একই সঙ্গে হামিদ মীর ও ‘প্রথম আলো’ উভয়েরই বস্ত্র উন্মোচন হল!

    তবে নিজেকেই বেশি দিগম্বর মনে হচ্ছে। কারণ আড়ালে সমস্যা আছে তা আশঙ্কা করলে এরা এতটা মিথ্যুক, ভণ্ড আর প্রতারক তা জানতাম না বলে!

    Reply
  11. MD NAZRUL ISLAM

    মি. পিনাকী ভট্রাচার্য

    আপনার লেখাটি খুব সাবলীল এবং ইনফরমেটিভ। অনেক তথ্য না জানলে কারও উপর বিশ্বাস আনা ঠিক নয়। আমিও হামিদ মীরকে বাংলার বা বাঙালির বন্ধু মনে করতাম। কিন্তু উর্দু লেখায় তিনি যদি গোলাম আযমকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন, তাহলে তাকে বাঙালির বন্ধু মনে করার সত্যিকারের কোনো কারণ নেই।

    আমারও মাঝেমধ্যে মনে হত, একজন তালেবান-ঘনিষ্ঠ লোক কীভাবে বাঙালির বন্ধু হতে পারেন!

    Reply
  12. Fazlul haq

    ছদ্মবেশী রাজাকাররা তাদের গোত্রের লোকদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারদর্শী৤

    Reply
  13. R-Masud

    ‘প্রথম আলো’ আগামীতে সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় আনতে চেষ্টা করছে এটা স্পষ্ট। বিভিন্ন সোর্সের কাছে তাদের খুব ভালো ব্যাকআপ আছে। এসব সোর্স থেকে আর্মিকে সক্রিয় হয়ে ক্ষমতা দখল করতে বলা হচ্ছে। আসল পরিকল্পনার পেছনে ক্যামোফ্লেজ তৈরি করতে তারা ড. ইউনূসকে সামনে নিয়ে আসছে।

    Reply
  14. Jui Mony Das

    আমাদের ভুল হয়ে যায়। এই লেখা আবার মনে করিয়ে দিল খবরের কাগজে আমরা যা দেখি তা সামনের খবর। ভেতরের খবর পেতে হলে বসে থাকতে হয় এমন আরেকটি লেখার জন্য।

    Reply
  15. Uttam

    ‘প্রথম আলো’ নয়, ওটা ‘প্রথম অন্ধকার’। আর এই ‘অন্ধকার’ যাদের ‘বীর’ বলে তারা বিনা বিচারে পরিত্যাজ্য।

    Reply
    • MORTUZA

      আপনি একদম ঠিক বলেছেন। ‘প্রথম আলো’ আসলে ‘প্রথম অন্ধকার’।

      পুরোটাই অন্ধকার!!!

      Reply
  16. সরদার আমিন

    খুবই দুঃখজনক। তিনি কয়েকদিন আগে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানী পিতার পক্ষে গ্রহণ করতে এসেছিলেন। ডাবল স্ট্যান্ডার্ডরা একসময় ধরা খায়ই। ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ও ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলে তাদের সঙ্গে হামিদ মীরের খুব মিল। পাকিস্তানের ওই সয়েলের ইতিহাস দেখুন– দখল, জবরদখল, ভোগবিলাস, ধর্মকে কাজে লাগানো, নিষ্ঠুর সব ঘটনা– এসব পাকিস্তানের মানুষকে একটি বৈশিষ্ট্য দিয়েছে যাতে ওরা আসলে আর প্রকৃত খোলা মনটা হারিয়েছে যা একজন উন্নত মানুষের থাকে।

    সেটাই এখানে প্রমাণ হল।

    Reply
  17. Shaheen

    আমার কাছে হামিদ মীর একটা বুলশিট, কর্পোরেটের বাই-প্রডাক্ট। তিনি কী লিখলেন সেটা নিয়ে হুজুগ থাকবেই। পাতানো ক্রিকেট খেলার মতো।

    ধন্যবাদ পিনাকীদাকে এই তথ্যগুলো তুলে ধরার জন্য। এটা হয়তো অনেকের চোখ খুলে দেবে।

    Reply
  18. Md. Abdul Gafur

    খুবই খারাপ সংবাদ। আমি নিজেও হামিদ মীরের লেখা একাধিক কলাম ‘প্রথম আলো’তে পড়েছি এবং মনে মনে তাকে বীরের আসনে বসিয়েছি। কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক সত্যি খুঁজে বের করা কঠিন। আমি খুবই দুঃখিত। প্রমাণিত হল প্রত্যেক মানুষের উপরের চেহারার ভিতরে আরও একটা মানুষ বাস করে।

    Reply
  19. Md. Abdul Gafur

    তাই? তাহলে আমরা বলতে পারি ‘প্রথম আলো’ ভুল মানুষ নির্বাচন করেছে। খুবই আহত হলাম। ‘প্রথম আলো’তে তার লেখা অনেক কলাম পড়েছি আমি নিজেও।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—