Feature Img

showkat-f131গোলাম আযম একাত্তরে যে অপরাধ করেছে তা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। তার অপরাধ অনেক বড় এবং একাধিক। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে সে। মুক্তিযোদ্ধা ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, লুণ্ঠন আর বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করে যে অপরাধ করেছে তার শাস্তি নব্বই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে না। একটি জাতির স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী সে, তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হ্ওয়া উচিত ছিল।

তা না হ্ওয়ায় আমি খুব মর্মাহত। বিচার বিভাগের কাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করা; সেখানে জাতি, ধর্ম, বয়স কোনো বিবেচ্য বিষয় হ্ওয়া ঠিক নয়। অখচ রায়ে বলা হয়েছে, অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি পাওনা হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীরা যখন গণহত্যা চালিয়ে নির্বিচারে ছেলে-বুড়ো হত্যা করেছিলে, শিশু-নারী খুন করেছিল– তখন কি তারা বয়স বিচার করেছিল? আমি মনে করি বিচারের এ রায় সঠিক হয়নি। আমরা সবাই জানি গোলাম আযম কেবল একজন যুদ্ধাপরাধী নয়, সে সকল যুদ্ধাপরাধীরের নেতৃত্ব দিয়েছে।

সুতরাং নিজে তো অপরাধ করেছেই, পাশাপাশি অন্যদেরও একই ধরনের অপরাধে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করেছে। তার ভূমিকা কোনো অনুমানভিত্তিক ব্যাপার নয়, এগুলো ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত সত্য।

পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যেসব যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে, ধরা যাক নাজিদের বিচার, ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল, কিংবা অন্য যেসব গণহত্যার বিচার হয়েছে তাতে কিন্তু কোনো বয়সের বিবেচনা করা হয়নি। সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে বয়স বিবেচ্য কিনা জানি না, কিন্তু এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যে বয়স কখনও এবং কোথায়্ও বিবেচনায় আনা হয়নি।

যার বিরুদ্ধে নরহত্যার সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণ রয়েছে তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়াটা ঠিক হয়নি ।

কর্নেল (অব.) শওকত আলী: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।

Responses -- “মৃত্যুদণ্ড না দেওয়াটা ঠিক হয়নি”

  1. sardar nahid niaz

    এ লজ্জা রাখার স্থান নেই স্যার। যে মানুষ বয়স, ধর্ম, নারী, শিশু কিছুই বিবেচনা না করে শুধু হত্যা, নির্যাতন আর ধর্ষন করে গেছে ৭১ এ, আজ তাকে বয়সের দোহাই দিয়ে আমরা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখছি। এ লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসে।

    Reply
  2. Rabbani

    যুদ্ধ… আমরা একটা নিশ্চিত গৃহযুদ্ধের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি।

    Reply
  3. শামসুজ্জোহা কবীর

    ধন্যবাদ স্যার। আপনার মতামতের জন্য। আপনারা আমাদের গর্ব।

    আমার জন্ম ১৯৮১ সালে। যখন থেকে বুঝতে পেরেছি মুক্তিযুদ্ধ কী, কেন, কীভাবে তখন থেকেই গোলাম আযম নামটি জেনেছি এবং তখন থেকে জেনেছি তিনি অন্যায় করেছেন। পলাশীতে মীরজাফরের নাম সবাই মনে রেখেছে। আমাদের ১৯৭১ সালের সঙ্গেও যে কজন খারাপ লোকের নাম মনে রাখা হবে, তার মধ্যে ‘গোলাম আযম’ সবার উপরে থাকবে।

    আজ রায় হল। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারব না। কিন্তু আমার মতো আমার প্রজন্মের সবার কাছে তিনি মৃত। তার ফাঁসি আমাদের কাছে হয়ে গেছে।

    আফসোস আজ থেকে ৫০-১০০ বছর পর যখন বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা হবে, তখন আমাদের দোষ দেওয়া হবে যে আমরা কিছু করতে পারিনি।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—