১৯৭১ সালের ছাব্বিশে মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে দেশব্যাপী যে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় তাতে চট্টগ্রামের বীর জনতা অনন্য ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে উল্লেখ করতে হয়, পাকিস্তান থেকে অস্ত্র বোঝাই ‘সোয়াত’ জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে বাধা দিতে গিয়ে কয়েকশত শ্রমিক-জনতা ও বাঙালি সৈন্যের মরণপণ সংগ্রামের কথা।
সুবর্ণ জয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে রাজধানীর কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, মহান নেত্রী, ইন্দিরা গান্ধীর একটি ম্যুরাল বা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হোক। আমাদের আগামী প্রজন্ম এই মহান নেত্রীর বিষয়ে আগ্রহী হোক, মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের কথা দেশের মানুষ জানুক এবং সে সঙ্গে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করুক।
‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুধু দেশকে স্বাধীন করতেই যুদ্ধে গিয়েছি। নির্যাতিত জাতি থেকে মুক্তি পাব, একটা মুক্ত স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে বাঁচব– তখন এই চেতনা নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। কিছু চাওয়া-পাওয়ার আশায় তো মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। একাত্তরে আমরা দেশের জন্যই তো মরতে গিয়েছিলাম। বেঁচে আছি এটাই ভাগ্য।’
‘আমরা সারাদেশে শহীদদের স্মৃতিরক্ষায় স্তম্ভ নির্মাণ করতে পারিনি। জাতি হিসেবে এ বড়ই লজ্জার। ভারতের মিত্রবাহিনীও আমাদের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে। একাত্তরে এলেঙ্গার পুংলি ব্রিজের কাছে শহীদ হয় ইন্ডিয়ান প্যারা বিগ্রেডের ৯ জন সেনা। অথচ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও সেখানে একটা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়নি।'


