শিক্ষা যেমন প্রায়ই পণ্য হিসেবে বিকোলেও, আদতে একটি সেবা; তেমনি চলচ্চিত্রও পণ্য হিসেবে দৃশ্যমান হলেও আদতে একটি শিল্প। শিক্ষার মতো চলচ্চিত্রেরও একটি ভাষা থাকে। এবং শিক্ষার মতোই, চলচ্চিত্রেও সেই ভাষিক মাধ্যমটি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি মন চাইলেই দু’দিন পর পর হিন্দি সিনেমা আমদানির আবদার তুলতে পারেন না।
বাঙালিকে বুঝতে হবে হিন্দুস্তান আর পাকিস্তান এগুলো কেবল অভিন্ন ভূখণ্ডই না, বরং একটি অভিন্ন মানসিক অবস্থাও বটে! ভূখণ্ড দু'টো বিহারের সীমান্তে এসে শেষ হলেও মানসিকতাটি বার বার চেষ্টা করেছে ওই সীমান্তটা ডিঙিয়ে বাঙালির মানসিক পরিসরে ঢুকতে। ক্ষেত্রবিশেষে সফলও হয়েছে। অনেকাংশে হয়ওনি! তো সেই মানসিকতাটা আসলে কী? খুব মোটাদাগে বললে– এটি হচ্ছে বাস্তুচ্যুত দখলদারদের মানসিকতা।
যদি এই আধুনিক সময়ে বাঙালি-বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ বাঙালির সংখ্যা হিসেব করা হয়, সে সংখ্যাটি কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন বা দুই কোটি ছাড়াবে গত মাত্র আশি বছরের ব্যবধানে। এরসাথে যদি সমকালীন বাস্তবতায় বারবার করে উন্নত বিশ্বের জলবায়ু সন্ত্রাসের বলি হওয়া সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালিকে বিবেচনা করা হয়, সেই সম্ভাব্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০০ মিলিয়নে।
গত কয়েকদিন যাবত সারাবিশ্বে এক অভূতপূর্ব প্রতিরোধের গল্প রচিত হচ্ছে। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ শিশু ও কিশোর নিজেদের শিক্ষাদিবস বিসর্জন দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে আসন্ন জলবায়ু বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে মনুষ্যসমাজের ঘুম ভাঙাতে। তারা এর নাম দিয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক বা বৈশ্বিক জলবায়ু অবরোধ। সিডনি, নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, অক্সফোর্ড, টরেন্টো, কলকাতা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল এমনকি সাতক্ষীরায় পর্যন্ত স্কুলগামী শিশু-কিশোরের দল কাতারে কাতারে যোগ দিচ্ছে এই কর্মযজ্ঞে।


