Feature Img

Zobaida.edএক

রেশমারা্ বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে ওরা প্রমাণ করে পুঁজিবাদী দুনিয়াতে ওরাই বড় সত্য, এর চেয়ে বড় আর কোনোটি নয়। সাভারে রানা প্লাজা ধসের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া হাজারের বেশি লাশের বহর এখন পর্যন্ত আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্ট, যন্ত্রণার জায়গা। কিন্তু তবুও ঘটনার সতের দিন পর বাতাস ভারি করা দুর্গন্ধ, শেষ সম্বল ছবিটিকে বুকে আঁকড়ে স্বজনদের আহাজারি, হাড়গোড় আর কঙ্কালের ভিড় ঠেলে জীবিত রেশমা সকল উৎকণ্ঠা, জিজ্ঞাসা ও বিস্ময় পাশ কাটিয়ে হাজির হয়েছে।

রেশমা আমাদের কাছে ফিরে এসেছে এটাই বড় সত্য। তাই আমাদের চোখের সামনে যখন বারবার আগুনেপোড়া আর ধ্বংসস্তূপে চাপাপড়া জীবনগুলো ছাই হয়ে যায়, আমাদের স্বপ্ন্ থেকে ফসকে যায়, তখন আমরা কেবলই মানবিক হাহাকারের জপ তুলি। কিন্তু কিছুই বন্ধ হয় না। সবকিছু ছাপিয়ে আমাদের আন্দোলিত করে কিছু এজাজউদ্দিন কায়কোবাদের মতো মানবিক মানুষের মুখ। শাহীনার মৃত্যু কাঁদিয়েছে আমাদের, বিনম্র শ্রদ্ধায় চোখের জল আনিয়েছে কায়কোবাদের বিদায় সংবাদটি।

এতকিছুর মধ্যে রেশমার বেঁচে থাকা এবং উদ্ধার হওয়া সকল পুঁজিবাদী বায়নার বিপরীতে বিরাট অর্জন। বিয়াল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা অনেক। দক্ষ জনবলের বিপরীতে মানবিকতার ওপর ভর দিয়ে এদেশের মানুষ সাহসের যে লাঠিটি তুলে ধরেছে উদ্ধারকাজে তা বাংলাদেশ অনেকদিন মনে রাখবে।

15_Reshma_100513

দুই

প্রতিবাদী নারী গণসমাবেশ হয়ে গেল। এ সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রড-সিমেন্ট আর বড় বড় লোহার রডে ছিদ্র ও ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া জীবনগুলোর। আমাদের ভোঁতা হয়ে যাওয়া ইন্দ্রিয়গুলো অবসরে সচল হয়ে ওঠে, আমরা কেবলই লাশ দেখি, কেবলই বাঁচার আকুতি শুনি। আর এ আকুতি আমাদের নিয়ে যায় প্রতিরোধের দরবারে। এদেশের নারীর লড়া্ই বারোয়ারি। ঘরে-বাইরে তার লড়াই। শুধু পুরুষতন্ত্রই তার শত্রু নয়, তার শত্রু অনেক। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা বৈষম্যের উপাদান, সবকিছুই নারীর বিরুদ্ধে কাজ করে। পুঁজিবাদ, ধর্ম, বর্ণবাদ, জাতিভেদ সকল কিছুর সঙ্গে হাত ধরে এগিয়ে চলে পুরুষতন্ত্র আর ব্যবহৃত হয় নারীর বিরুদ্ধে। একেক জন এগোয় এগুলোকে বগলদাবা করে।

বাংলাদেশে যখন চলছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আন্দোলন, তখনই গজায় হেফাজতে ইসলাম। নারীবিদ্বেষী দুই দফা, সংবিধানবিরোধী আরও কয়েক দফা সম্বল করে দুই পর্বে আমাদের সামনে হাজির হয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। বিরোধী দলনেত্রী চোখ বুজে এ তের দফায় সমর্থনই শুধু দেননি, এ দেশের মানুষকে আহবান জানিয়েছেন হেফাজতের পাশে দাঁড়াতে। সরকারি দল সুযোগ করে দিয়েছে এ দফাগুলো প্রচার করার জন্য। কেউ রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেননি। নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করার পাশাপাশি হেফাজত প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ বন্ধের দাবি তোলে।

এরই প্রতিবাদে ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে নারীরা প্রতিবাদী সমাবেশ-মিছিল বের করে। আজকের এ নারী মহসমাবেশ হেফাজতের নারীবিদ্বেষ কেন্দ্র করে হলেও এ পাটাতন বাংলাদেশের অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয়ের ফয়সালা স্পষ্টতই চায়। বাস্তবতা পাশ কাটিয়ে নয় বরং নারীবিদ্বেষের সকল দ্বারকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই লড়াই-এর ময়দানে থাকতে চায় নারী। আর চায় বলেই এ ময়দানের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক এবং সমতার বাংলাদেশ তৈরি করা নারীর মতাদর্শিক জায়গা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও ওই সমতার জায়গাটি তৈরি করার জোর তাগিদে এ সমাবেশ। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, একজন শহীদ পিতার সন্তান হিসেবে আমরা যে গর্ববোধ করি, একজন বীরঙ্গনার সন্তান হিসেবেও পরিচয়ের সমপরিমাণ গর্ব আমরা চাই। মুক্তিযুদ্ধের পৌরুষদীপ্ত ইতিহাসের বিপরীতে লৈঙ্গিক সমতাভিত্তিক ইতিহাস এ নারীরা তৈরি করবেন।

সমাবেশ আরও বলছে নারীনীতির কথা, তা বাস্তবায়নের কথা। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরষের সমঅধিকারের কথা, বলছে সিডও সনদ বাস্তবায়নের কথা। নারীর বিরুদ্ধে সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়নের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কথা। আরও বলছে নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের কথা, মতের কথা, ঈর্ষণীয় সংগ্রামের কথা।

22_nari somabesh press club_110513

তিন

ইবসেনের নোরা সংসার থেকে বের হয়ে গিয়েছিল পুতুলঘরে থাকবে না বলে। আর সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর জমিলা ধর্মীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধাচরণ করে থুতু ছিটিয়েছিল মজিদের মুখে। সুলতানার স্বপ্ন এখনও এ দেশের নারীর আরাধ্য। তবু এ দেশের নারীই পারে সন্তান বুকে নিয়ে, কোলে নিয়ে শরণার্থী হয়ে শিবিরে শিবিরে দৌড়াতে, পারে ভেঙে যাওয়া ভেসে যাওয়া ঘরখানির টুকরো খুঁজে এনে আবার সংসার গড়তে। কলাগাছের ভেলায় কিংবা টিনের চালে বসে খড়কুটো সংগ্রহ করে রান্না করে সকলকে বাঁচিয়ে রাখার স্পর্ধা দেখাতে।

এত সামর্থ আছে বলেই নারীর ঘরে-বাইরে এত শত্রু। আর তাদের মোকাবেলা করেই তাকে টিকে থাকতে হয়। এ জন্য এ দেশের সকল সংগ্রামী নারীর জীবন এত সমৃদ্ধ, এত দৃঢ়। জীবনের বিস্ময় কাটে না এ সংগ্রামী নারীদের পথ দেখে জীবন চিনে নেওয়ার, ছেনে নেওয়ার দুর্দমনীয় সাহস দেখে। শ্লোগানে শ্লোগানে মানবিকবোধের জয়গান শুনে।

আর রেশমাদের সতের দিন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা পড়ে।

জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Responses -- “লড়াকু রেশমা আর সুলতানা-জমিলাদের প্রতিবাদ”

  1. মোতালেব হোসেন

    নারীকে সব সময় শৃঙ্খলিত করার চেষ্টা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। তবে এটা কখনওই সফল হবে না। এতে নারীর শক্তি আরও বাড়বে এবং নারী এগিয়ে যাবে সকল বাধা অতিক্রম করে।

    লেখাটি চমৎকার এবং এ জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    Reply
  2. Shohel

    লেখাটি পড়লাম। একটা কথা জানা প্রয়োজন, সেটা হল হেফাজতের দাবিগুলো আমি বারবার পড়েছি। সেখানে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন, সত্যি নারীবিদ্বেষমূলক কোনো কথা পেয়েছেন কি? পেলেও সেটার অর্থ আদৌ বুঝতে পেরেছেন কি? আমরা নিজেদের ভালো যদি নিজেরা না বুঝি তাহলে আমাদের মেধাগত অবস্থান কোথায় ভাবতে পারেন?

    সমাবেশের মাধ্যমে আমরা কী বোঝাতে চেয়েছি? সমাবেশের বত্তব্যগুলো খেয়াল করে শুনুন আর গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো বক্তব্যগুলো কি পুরুষবিদ্বেষমুলক নয়? এভাবে কি প্রতিবাদ জানানো যৌক্তিক?

    আমি হেফাজতের হয়ে দালালি করছি না। নিরপক্ষ অবস্থান থেকেই বলছি, যদি ওই ১৩ দফা দাবি বুঝতে পারেন তাহলে এ সমাবেশের কোনো মানে হয় না। আর যদি দাবিগুলো না বুঝে থাকেন তাহলে হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা করুন।

    একবার ভাবুন তো, দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দল রাজপথ দখল করে সভা-সমাবেশের নামে মানুষের ঘৃণা-আতঙ্ক-রক্ত ছাড়া কিছু পায়নি- সেখানে নারীসমাবেশ কতটা গ্রহণয়োগ্য?

    Reply
  3. A. A. SOHAG

    আপনি যা বলতে চেয়েছেন সেটার কততম পুনরাবৃত্তি হল আমার ক্ষেত্রে জানি না। এসব কথা তো আপনারা যেসব মহারথীর বিশ্লেষণ আত্মস্থ করে করে নৃবিজ্ঞান পড়াতে বোর্ডের সামনে দাঁড়ান, তাঁরা অনেক আগে থেকেই বলছেন। আপনাদের আওয়াজ পাই যখন আপনাদের ব্যক্তিগত প্রাপ্তির সম্ভাবনা উজ্জল হয়ে ওঠে তখন। নারীর কোনো রকম অসুবিধায় যদি আপনারা ঠিকমতো পাশে দাঁড়াতেন তাহলে হেফাজতের দুই দফা আজ দেখতে হত না।

    নারীর অসুবিধায় পাশে দাঁড়াতে হলে আগে বুঝতে চেষ্টা করুন- অবরুদ্ধ নারী মানে ঘর অথবা বোরকা দিয়ে অবরুদ্ধ নারী নয়, রাস্তাঘাটে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত আপাতদৃষ্টে মুক্ত অথচ অবরুদ্ধ নারীকে। আপনাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে নিজেদের পরিশ্রমী করে তুলুন।

    আর হ্যাঁ, এ সমাজে আপনারা যারা নারীর ব্যর্থতায় রচিত মহাসমুদ্রের নীল জলরাশিই শুধু দেখে থাকেন, তাদের উচিত হবে, নারীর প্রাপ্তির একটা তালিকাও তৈরি করা। নয়তো আন্দোলন নারীবাদ থেকে স্ত্রীবাদে পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা গুরু হবে।

    Reply
  4. falguny

    অনেক ভালো লাগল লেখাটি পড়ে। কবে যে নারীকে মানুষ ভাবতে পারবে এ সমাজ!

    Reply
  5. hasan sardar

    যে নারী মৃত্যুর পূর্বে পা দেখিয়ে এ সমাজকে ধিক্কার জানায়, সে নারী ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থেকে জানান দিল এ ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থা তাদের মেরে নিঃশেষ করতে পারবে না।

    জয় তাদের হবেই।

    Reply
  6. Mr. Coy

    রেশমার অবিশ্বাস্যরকম বেঁচে থাকা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। চারদিকে তার জয়জয়কার। বিবিসি-সিএনএন থেকে শুরু করে এমন কোনো প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া নেই যেখানে তার নাম উচ্চারিত হয়নি। সবাই তাকে ‘মিরাকল লেডি’ নামে ডাকছেন। রেশমার এ অভূতপূর্ব বেঁচে থাকার কারণ উদঘাটনে মুন্নি সাহার কয়েকটি প্রশ্ন আজ সবার মুখে মুখে।

    এতদিন যারা মুন্নি সাহার নামে পাগল ছিলেন, এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তারাই তাকে হেয় করতে পিছপা হচ্ছেন না! তার প্রশ্নগুলো যৌক্তিক কিনা কেউ ভাবছেন না। অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নখ-চুল কেটে দাঁত ব্রাশ করে সতেজ ইস্ত্রি করা কাপড় পরা যায়, তাও আবার ওড়নাসহ যেটি এমন সুন্দর করে ঘুরিয়ে গলার মধ্যে রাখা হয়েছে যে মনে হচ্ছে তার ভাঁজটাও নষ্ট হয়নি!

    এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে তার সাক্ষাৎকারটি খুবই উপযোগী হবে বলে মনে হয়।

    সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। সংবাদপত্র বলতে টেলিভিশন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে বুঝানো হয়েছে। সংবাদিকরা দর্পণটিতে যখন বাস্তব চিত্র তুলে না ধরে সাজানো ও বানোয়াট চিত্র আঁকেন- সত্যকে মিথ্যায় রুপান্তরিত করেন, তখন তাকে ‘ইয়্যেলো জার্নালিজম’ বা হলুদ সংবাদিকতা বলে। বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খবরগুলো হলুদ সংবাদিকতায় ভরপুর।

    তার কারণ হল, সাংবাদিক হতে হলে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না, চাইলেই যে কেউ সাংবাদিক হতে পারেন। তাই তারা নিজেদের চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য মালিক বা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কথামতো মিথ্যা, বানোয়াট বা ভুয়া রিপোর্ট লিখেন।

    আরেক দল সাংবাদিক আছেন যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মেধা ও ক্রিয়েটিভিটি অনেক। কিন্তু বাড়ি, গাড়ি আর ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্সের লোভে তারা হলুদ সংবাদিকতা করছেন। যেখানে কিছু সাংবাদিক বাসাভাড়া আর বাজারখরচ জোগাড় করতেই হাঁপিয়ে উঠছেন- সেখানে আরেকদল কোটি টাকা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন।

    সাভারের ব্রিফিংয়ের মাঝখানে রেশমাকে উদ্ধার করে চমক সৃষ্টি করার যখন ইচ্ছে ছিল, তখন এটিএনকে বলে মুন্নি সাহাকে ম্যানেজ করা দরকার ছিল। রেশমাকে উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। তার মুঠোফোন দিয়ে রেশমা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। নানক বলেন, “রেশমা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায় তাকে উদ্ধারের জন্য। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে হাজার হাজার মানুষ উদ্ধার হয়েছে তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য সে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানায়।”

    বাহ! রেশমা তো দেখছি ১৭ দিন বিল্ডিংচাপা থাকার সময়কার উদ্ধারঅভিযানের খবরও জানে? কতজন জীবিত মানুষ উদ্ধার হয়েছে তাও জানে! শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উদ্ধারকাজ হয়েছে তাও জানে!

    এখন দেখছি আদার ব্যাপারী জাহাজের ড্রাইভারের নাম এবং জাহাজ চলার রুট সম্পর্কেও ধারণা রাখে! আর রাখবে নাই-বা কেন? সব অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করার দেশ তো বাংলাদেশ!

    সকালে ইস্ত্রি দেওয়া আমার ফ্রেশ কাপড় ৮ ঘন্টা কাজের পর আরেকটা শিফট ওভারটাইম করতে গেলে ছিরিছাদ হারায়। কিন্তু রেশমা ১৭ দিন অন্ধকার গর্তে কাটালেও তার ওড়নার ভাঁজ নষ্ট হয়নি! তার কাপড়-চোপড় এত ফ্রেশ মনে হচ্ছে যেন এ মাত্র লন্ড্রির ব্যাগ খুলে গায়ে দিয়েছে? ১৭ দিন একজন মানুষ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি থাকার পর তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে তার উত্তর খুঁজতে হলে যাকে দুর্ঘটনার ৫-৭ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে তাকে জিঞ্জেস করতে হবে।

    গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সবাই দলবেঁধে কাজ করে বলে যখন মরে দলবেঁধেই মরে। যদি বাঁচে মৃত্যুর ভেলা ঠেলেই কয়েকজন বাঁচে। যেখানে একা থাকার কোনো সুযোগ নেই সেখানে রেশমা একা এল কী করে?

    এ সাধারণ প্রশ্নগুলো যে কারও মনেই উদ্রেক হতে পারে। মুন্নি সাহাকে দোষারোপ করার আগে দেখে নিন এসব প্রশ্ন না করাটা সঠিক কিনা।

    Reply
  7. reshma

    সামর্থ্য আছে বলেই নারীর ঘরে-বাইরে এত শত্রু। তাই বলে ঘরে বসে থাকলে কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব হবে না। সকল বাধা অতিক্রম করে নারী-পুরুষ হাতে হাত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই হবে। তবেই দেশ সমৃদ্ধির পথে যাবে।

    Reply
  8. kamal

    সাবাস আমার দেশের মা-বোনেরা… আপনাদের পাশে থাকব।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—