নিউইয়র্কে চিকিৎসার সময়টাতে জ্যামাইকার বাড়ির অ্যাটিকে সময় কাটানোর জন্য পুত্র নিষাদকে নিয়ে ছবি আঁকা শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর ভাষায় সেটা ছিল আঁকাআঁকি খেলা। নিজের আঁকা ছবির সবচেয়ে বড় ভক্ত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ, আর তাঁর ভাষায় সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিল তাঁর পুত্র নিষাদ। ছোট্ট নিষাদ বিজ্ঞের মতো ‘ছবি ভালো হয় নি’ বললে পুত্রকে খুশি করার জন্য সেই ছবি ছিঁড়ে ফেলে আবার আঁকতেন হুমায়ূন। বেশ কিছু ছবি আঁকা হলে প্রদর্শনী করার কথা ভাবেন তিনি। আর তাই দুটি ছবি ফ্রেমবন্দি করে দেখার ইচ্ছার কথা জানান।

তখন নিউইয়র্কের পুস্তক ব্যবসায়ী বিশ্বজিত সাহার স্ত্রী রুমা সাহা ছবি দুটি ফ্রেম করিয়ে আনলে হুমায়ূন আহমেদ খুব খুশি হন। কিন্তু ফ্রেম করার জন্য রুমা সাহার কাছে বিশাল খরচের হিসাব শুনে কিছুটা দমে যান তিনি। পরে একদিন নিউইয়র্কের ‘মাইকেলস’ নামক একটি দোকানে ছবি আঁকার সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে দোকানের ফ্রেম ডিপার্টমেন্ট দেখে অবাক হন হুমায়ূন আহমেদ। সেখান থেকে নিজেই পছন্দ করে ফ্রেম কিনতে শুরু করেন যা প্রথম দুটি ছবির ফ্রেমের খরচের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজের ছবির জন্য প্রায় ২৫-৩০টি ফ্রেম কেনেন তিনি।

অথচ বিশ্বজিত সাহা তার সম্প্রতি প্রকাশিত `হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ বইতে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দ করে কেনা ফ্রেমের কথা একবারও উল্লেখ করেন নি। বই পড়ে যে কারও মনে হবে হুমায়ূন আহমেদের আঁকা সবগুলো ছবির ফ্রেম করেছেন পুস্তক ব্যবসায়ীর স্ত্রী।

চিকিৎসা-বিরতিতে ঢাকায় আসার আগে ২৫টি ছবি আমি ও হুমায়ূন আহমেদ বিশ্বজিত ও তার স্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করি একটি প্রদর্শনীর জন্য। শুরু থেকেই ছবি বিক্রি করার চিন্তায় ব্যস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীর স্ত্রী বলে এসেছিলেন ছবি বিক্রির অর্থ শিল্পী আর এজেন্টের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন নিশ্চুপ। দেশে ফিরে হুমায়ূন আহমেদ আমাকে বলেন, ছবি তিনি এঁকেছেন নিজের ও পুত্র নিষাদের আনন্দের জন্য, বিক্রি করে অর্থ ভাগাভাগি করার জন্য নয়। তাই তিনি ছবি বিক্রির সিদ্ধান্ত বাদ দেন। আরও বলেন ছবি যদি বিক্রি করতেই হয় তাহলে সুস্থ হয়ে ক্যানসার হাসপাতালের ফান্ড তোলার সময় হয়তো বিক্রি করবেন।

পুরো পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছিল ৩ জুন ২০১২। চিকিৎসা-বিরতি শেষে হুমায়ূন আহমেদসহ আমরা যখন নিউইয়র্কে পৌঁছলাম, ঢাকায় ছাপা ও সঙ্গে নিয়ে আসা প্রদর্শনীর ক্যাটালগ বিশ্বজিতের হাতে তুলে দেওয়া হলো। ক্যাটালগে হুমায়ূন আহমেদ লিখলেন ‘ছবিগুলো বিক্রির জন্য নয়’। বিশ্বজিত ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল চড়া দামে ছবিগুলো বিক্রি করে ৪০ শতাংশ কমিশন নিবেন। ক্যাটালগ হাতে পাওয়ার পরও বিশ্বজিত ও তার স্ত্রী বহুবার আমাকে বলেছেন হুমায়ূন আহমেদকে বুঝিয়ে ছবি বিক্রিতে রাজি করানোর জন্য। কিন্তু আমার উত্তর ছিল একটাই- ছবিগুলো হুমায়ূনের সৃষ্টিকর্ম, তাঁর সন্তানের মতো। এ বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।

সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তারা যেন আমাদের চেনা কেউ থাকলেন না, দ্রুতই নিজেদের বদলে ফেলতে লাগলেন, দূরে সরে যেতে থাকলেন হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে। জুন-জুলাইয়ের ওই দিনগুলোতে যাঁরা হুমায়ূন আহমেদের কাছাকাছি ছিলেন তাঁরা সবাই তাদের এই দূরে সরে যাওয়াটা লক্ষ্য করেছেন, মর্মাহত হয়েছেন। দুঃখ পেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ নিজেও।

এ সব কিছুই বেমালুম চেপে গেছেন পুস্তক ব্যবসায়ী তার বইতে। ছবিগুলো আটকে রেখেছেন এখনও। গত আট মাসে বহুবার চেয়েও ফিরে পেলাম না বাবার সঙ্গে কাটানো ছোট্ট নিষাদের আনন্দময় স্বর্গীয় মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচিহ্ন এই ছবি। হুমায়ূন আহমেদের জীবনসায়াহ্নের এই স্মৃতিগুলো কি তবে জিম্মি হলো কোনো জীঘাংসার কাছে? পুস্তক ব্যবসায়ী তার লেখায় ছবির সংখ্যাও পাল্টে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। ২৫টি ছবি হয়ে গেল ২১টি ছবি।

নির্জলা মিথ্যাচার, নিজেকে গ্ল্যামারাইজ করার নানা অপকৌশল আর হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা বিষয়ে বহু গল্প ফাঁদার ব্যর্থ চেষ্টা আছে ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ বইতে। তাঁর চিকিৎসাতে পরিবারের কথিত অবহেলা আবিষ্কার করার প্রাণান্তকর চেষ্টা বইটির পুরোটা জুড়ে। এ যেন ‘মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ বাংলা প্রবচনকেও হার মানায়।

চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়া বিষয়ক কল্পিত ঘটনাকে সত্য প্রমাণের চেষ্টায় লিখেছেন বহু লাইন। প্রকৃত ঘটনার সময় সেই ঘরে ছিলাম শুধু আমরা দুজন- হুমায়ূন আর আমি। ২০ জুন বিকেলে প্লাস্টিকের একটি চেয়ারে বিশ্রাম করছিলেন হুমায়ূন, আর অন্যসব দিনের মতো তাঁর অবশ বোধ হওয়া হাতগুলো টিপে দিচ্ছিলাম আমি। ওই দিন সকাল থেকেই তাঁর অস্বস্তি বোধ ও ব্যথা হচ্ছিল। সামান্য জ্বরও ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম একাধিকবার। তিনি রাজি হন নি। বলেছেন এত বড় অপারেশনে ব্যথা হবেই। ডা: মিলারের সহকারী জ্যোতির সঙ্গে কথা বললে সে বলেছিল ব্যথা অনেক বেশি হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে।

হঠাৎ লক্ষ্য করলাম চেয়ারটির সামনের পা দু’টি ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং চেয়ারটি আস্তে আস্তে দেবে যাচ্ছে মেঝের দিকে। আমি চিৎকার করে উঠলে বাড়িতে উপস্থিত অন্যেরা দ্রুত সেই ঘরে আসেন এবং তাদের সহযোগিতায় চেয়ার থেকে বিছানায় নেওয়া হয় হুমায়ূনকে কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই। ২৯ জুন ডিলিরিয়াম হওয়ার আগ পর্যন্ত দেখা করতে যাওয়া বহু শুভাকাঙক্ষীর সঙ্গে অনেক বিষয়ে গল্প করেছেন হুমায়ূন। সেখানে চেয়ার থেকে পড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে হুমায়ূন আহমেদ হয়তো স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বেশ মজা করেই সেই ঘটনার কথা বলতেন সবাইকে। অথচ পুস্তক ব্যবসায়ী লেখক কিনা বাড়ির কাজের মেয়ের কথা উল্লেখ করলেন।

পুস্তক ব্যবসায়ী তার বইয়ের ৮৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন:

১৬ জুলাই ২০১২

ওইদিন সকাল ১০টায় আমি আর রুমা যাই স্যারকে দেখতে বেলভ্যু হাসপাতালে। গত কয়েকদিন ধরেই আমার আর ভালো লাগছিল না। সবকিছু কেমন হয়ে গেল। গেটে পাশ নিতে গিয়ে জানতে পারলাম ১০ জন ব্যক্তির নাম দেওয়া ছিল, তাতে রুমার নাম নেই। আমি ভেতরে ইতঃস্তত বোধ করলাম। রনি বড়ুয়াকে ফোন করলাম। দুজন একসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে গেলাম। হুমায়ূন আহমেদের পাশে সেদিন আর কাউকে দেখি নি।

আগের পৃষ্ঠাগুলোর বর্ণনা থেকে মনে হয় বিশ্বজিত প্রায়ই হাসপাতালে আসেন হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে। যদি পাঠক তা সত্য ধরে নেন, তাহলে হোঁচট খাবেন এই তথ্যে, ষোল জুলাই বিশ্বজিত জানলেন যে দশ ব্যক্তির জন্য পাশ ইস্যু করা হয় তাতে তার স্ত্রীর নাম নেই। আরেকটি কথা, তিনি লিখেছেন ‘হুমায়ূন আহমেদের পাশে সেদিন আর কাউকে দেখি নি।’ আমি, হুমায়ূন আহমেদের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন হক কিংবা পারিবারিক বন্ধু মাজহারুল ইসলাম- কাউকেই বিশ্বজিত দেখলেন না তা কী করে হয়! আদৌ কি বিশ্বজিত বেলভ্যুতে সেদিন গিয়েছিলেন?

বিশ্বজিতের বইটি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমি কথা বলি রনি বড়ুয়ার সঙ্গে। বই থেকে যখন পড়ে শোনাই, রনি চমকে উঠলেন। এত বড় মিথ্যাচার! আমার সঙ্গে কোনো কথাই হয় নি। দেখা তো দূরের কথা। রনি আরও জানালেন, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বজিত তার কাছে হুমায়ূন আহমেদের কোনো খোঁজখবরও নেননি।

১৯ জুন হাসপাতালের ১২ তলা থেকে হুইল চেয়ারে নেমে বন্ধু ফানসু মণ্ডলের গাড়িতে করে আমার সঙ্গে বাড়ি ফেরেন হুমায়ূন। (যদিও পুস্তক ব্যবসায়ী লিখেছেন হেঁটে এসে গাড়িতে উঠেছেন।) তাঁর চোখেমুখে তখন শুধু নিষাদ আর নিনিতের কথা। ৮ দিন তাঁকে না দেখে তাঁর ট্যানটা বাবা নিষাদ আর ঘ্যাংগা বাবা নিনিত (দুই ছেলেকে এভাবেই ডাকতেন তিনি) কেমন ছিল? সারাক্ষণ বাবার গায়ে লেপ্টে থাকা নিনিত আজ যদি বাবাকে দেখে ঝাঁপ দিয়ে কোলে উঠতে চায়! এমন অনেক গল্প।

বাসায় ফিরে দুই ছেলেকে নিয়ে কিছু সময় কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে আনা জেলো আর মুরগির স্যুপ খেয়ে বিশ্রাম করেন তিনি। শুভাকাঙক্ষীদের কেউ কেউ বাড়ি এসে খবর নিয়ে গেলেও দোতলায় ওঠেন নি। অথচ বইটিতে ১৯ জুন রাতের একটি মিথ্যা নিমন্ত্রণ প্রমাণের চেষ্টা হলুদ সাংবাদিকতাকে হার মানিয়েছে।

এছাড়াও সার্জারির সংখ্যা, জ্যামাইকা হাসপাতালে আমার বিকেলে যাওয়া, জাতিসংঘে হুমায়ূন আহমেদের সিনিয়র উপদেষ্টা হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা, প্রথম শ্রেণির টিকিটের কারণে দেশে ফিরতে দেরি হওয়াসহ আরও অনেক বিষয়ে মিথ্যাচার করেছেন বইটির পাতায় পাতায়। এমনকি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের কিছু পত্রিকায় যেসব হলুদ সাংবাদিকতা হয়েছে তাও সংযুক্ত করা হয়েছে এই বইতে, যা থেকে বোঝা যায় পুস্তক ব্যবসায়ীর অসৎ উদ্দেশ্য।

মৃত হুমায়ূন আহমেদের মুখচ্ছবি ছাপার মতো নিম্নরুচির কাজের পাশাপাশি চমক দেখিয়েছেন তিনি বইটিতে ছবি ছাপার ক্ষেত্রেও। ৭৫ নং পৃষ্ঠায় একটি ছবি ছেপেছেন, যার ক্যাপশন ‘চিন্তিত হুমায়ূন আহমেদ, ওজোন পার্কের বাড়ির পেছনে ১২ জুন প্রথম সার্জারির আগে।’ এই ছবিটি তিনি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন জানি না। ছবিটি ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে মাটিকাটা নামক জায়গায় টিভি নাটক ‘জোছনা ও জননীর গল্প’এর শুটিং চলাকালে তোলা।

মিথ্যাচার আর বানোয়াট গল্পের কমতি নেই বইটিতে। আদতে ভাববার বিষয়, ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত এমন নির্জলা মিথ্যাচারকে কি আদৌ ‘বই’ বলা যায়? আসলে এটা প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের প্রিয়জনদের প্রতি এক জঘন্য আক্রমণ। এই রকম ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কিংবা হুমায়ূন আহমেদের ছবিগুলো জিম্মি করে শেষ পর্যন্ত সফল হওয়া যাবে বলে আমি মনে করি না।

মেহের আফরোজ শাওনঅভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী ও নাট্যনির্দেশক

২২ Responses -- “জিম্মি হুমায়ূন আহমেদের ছবি, আক্রান্ত তাঁর প্রিয়জন”

  1. Parvez

    I know ” Bishawjit ” and his ” Muktodhara ” for over two and half decades, since I moved from Bangladesh to NYC.
    I know him very well.
    Shawon is right ( yes I read the whole story )

    Reply
  2. Boomerang

    প্রতিবাদী অনলাইন জনতা,

    আপনারা ছবিগুলো এনে দেখান তো, পারবেন না। বিক্রি হওয়া থেকে বাঁচান তো, পারবেন না। আচ্ছা, নিশাদ আর নিনিতের আনন্দ পাওয়ার জন্য আঁকা হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবি, নিশাদ আর নিনিতের হাতে ছবিগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করুন তো, পারবেন না।

    🙂

    কী বলব, সব বাদ… পারলে একটু হুমায়ূন আহমেদকে সম্মান করুন তো।

    শ্রদ্ধেয় শাওনবিদ্বেষী জনতা, মাথায় রাখুন, শাওন হুমায়ূন আহমেদের অর্ধাঙ্গিনী। সে হিসেবে সম্মান দেখাতে না পারলে চুপ থাকুন। কারণ আপনারা তো ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা!

    Reply
  3. Mizanur Rahman (Kiron)

    ছবি বিক্রি করে টাকাগুলো হাসপাতাল নির্মাণের কাজে খরচ করলেই হুমায়ূন আহমেদের আত্মা শান্তি পাবে।

    Reply
  4. মুরুব্বী

    আমি ওয়েট করছি একটা বিশেষ ঘটনা কবে ঘটে তার জন্য। আর তা হচ্ছে, শাওনের দ্বিতীয় বিবাহ। কেন জানি মনে হচ্ছে সেই সময়ও একটা নাটক হবে। অভিনেত্রী বলে কথা!

    অভিনয় কিন্তু ভালো হওয়া চাই মেয়ে…

    Reply
    • akash

      যে যে রকম আসলে সে অন্যকেও তার নিজের মতো ভাবে।

      থিংক পজিটিভ, ম্যান…..

      Reply
  5. Paccha Sahon

    সম্পত্তি পেয়েছেন? যক্ষের ধনের মতো সবার সম্পত্তি আগলে রেখেছেন। শীলাদের ভাগ কোথায়? নাকি সব তহুরা বেগমরাই নিবে???

    Reply
  6. Engr. Mehedi Hasan

    হুমায়ুন আহমেদের প্রয়ান নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাল ‘বাংলা প্রকাশ’ প্রকাশিত বিশ্বজিত সাহার বই ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’। বইটির জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন। বইটিতে আছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে ২৯ জুলাই ২০১২ পর্যন্ত লেখককে ঘিরে সকল ঘটনা ও তাঁর সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে জড়িত প্রায় ১২০ জনেরও বেশি চরিত্র। অবাক হচ্ছি শাওনের প্রতিক্রিয়া দেখে। কেননা বইটিতে শাওন সম্পর্কে ভালো ভালো কথাই লেখা হয়েছে।

    Reply
  7. Sohail Ahmad

    প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক-নাট্যকার-চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর পরিবার নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। ৯ এপ্রিল ২০১৩ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘‘সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বজিত্ সাহা রচিত ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো’ নামের বইটিতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। জুড়ে দেওয়া হয়েছে লেখকের মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের কোনো কোনো পত্রিকায় ছাপা নোংরা লেখালেখি ও ব্যক্তিগত কুৎসা, যেগুলোতে সত্যের লেশমাত্র ছিল না। এগুলো হলুদ সাংবাদিকতার নমুনা। এ ধরনের গ্রন্থ প্রকাশ তাঁর প্রতি চরম অবমাননার শামিল।’’ বিবৃতিতে বইটি থেকে আপত্তিকর অংশগুলো বাদ দেওয়ার জন্য লেখকের প্রতি আহবান জানানো হয়।

    বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী, হায়াত্ মামুদ, রাবেয়া খাতুন, গোলাম মুরশিদ, গোলাম সারওয়ার, শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, রাশেদা কে চৌধুরী, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আনোয়ারা সৈয়দ হক, পূরবী বসু, ফরিদুর রেজা সাগর, ইমদাদুল হক মিলন, জুয়েল আইচ, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী।

    আমার কথা >

    শাওনের পক্ষে ২০ জন বুদ্ধিজীবী যে বিবৃতি দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে বলব, বিশ্বজিতের একমাত্র অপরাধ তিনি বইটিতে শাওন ছাড়াও অন্যদের তথা ডাক্তার নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ ০ নুহাশ হুমায়ূনের ছবি ছাপিয়েছেন। তাতে তহুরা আলী “রাগ” করেছেন। শাওন আবার কান্নার অভিনয় শুরু করেছেন। আমার অবাক লাগছে, ওই বুদ্ধিজীবীরা এ মুহূর্তে দেশের এত জটিল অবস্থায় এমন একটি বিষয়ে বিবৃতি দেন কীভাবে! তারা দেশের মূল ইস্যু নিয়ে কিছু বলছেন না। হুমায়ূন আহমেদ সৃজনশীল কাজের পাশাপাশি নিজে কিছু অসৃজনশীল কাজ করে নিজেকে ছোট করেছেন। মূলত ৫৭ বছর বয়সে নিজ মেয়ের ২৪ বছর বয়সের বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্য ৩০ বছরের সুখ-দুখের সঙ্গে ৪ সন্তানের মা গুলতেকিন খানকে তালাক দিয়ে।

    এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমি একমত যে “একটিবার ভেবে দেখুন, গুলতেকিন ও তাঁর সন্তানরা পিতার সুবাদে তখন সেলেব্রিটি , কীভাবে তারা ওই দুঃসময়টা মোকাবেলা করেছিলেন? বাবার পরিচয়ে মেয়েরা কতখানি বিব্রত ছিলেন? সমাজ কি গুলতেকিনকে কথা শুনায় নি? হুমায়ূনের কীর্তির ভার যে গুলতেকিনকেও সহ্য করতে হয়েছিল! বাবার দেওয়া আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল কোমল তিনটি কিশোরীর প্রাণ। বলুন সোহেল, আজকে না হয় তারা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত, তাদের সে দুঃসহ বেদনা কি অভিশপ্ত দিনের কথা মনে করিয়ে দেয় না?”

    কিন্তু এখানে ঠিক “জয়” বা পরাজয়ের” কিছু নেই। এমনকি আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় লেখক সাহেবও কিন্তু “গর্তজীবি” হয়ে ছিলেন প্রায় বছর চার/পাঁচেক, অপমান আর ঘৃণা নিয়ে কাছের অনেক অনেক বন্ধুর কাছ থেকে দূরে সরে। আর লাভের লাভ হয়েছে মাজহার, শাওন ও সাগরদের। ওদের উদ্দেশ্যই ছিল ব্যক্তি হুমায়ূকে নিয়ে ব্যবসা করা। “কিছু” একটা প্রাপ্তিযোগ।

    কেননা শাওন ও তার মা তহুরা আলী আর অন্যপ্রকাশের মাজহার মিলে গত ১০ বছর ধরে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ২রা জুন ২০০৪ সালে হুমায়ূন যখন লালমাটিয়ায় উকিলের অফিসে গিয়েছিলেন গুলতেকিনকে তালাকের নোটিশ দেওয়ার জন্য, তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাজহার। আবার ১২/১৩ নভেম্বর ২০০৪ সালে নুহাশ পল্লীতে যখন শাওনকে বিয়ে করছেন তখনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাজহার। যার অনিবার্য পরিণতি হল মাত্র ৭/৮ বছরের মধ্যে হুমায়ূনের ১০০-এর বেশি বইয়ের প্রকাশক আজ তিনি। এর মধ্যে অনেক অনেক বই আছে যা প্রকাশিত হয়েছিল গুলতেকিন আহমেদের কপিরাইটে, এখন যা মেহের আফরোজ শাওনের নামে!

    চ্যানেল আই-এর এম ডি ফরিদুর রেজা সাগর এখন হুমায়ূনের ৮ ছবিসহ শতাধিক টিভি নাটকের মালিক। এমনকি প্রথম সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবি “আগুনের পরশমণি” ছবিটিরও। যদি গুলতেকিন তাঁর সঙ্গে থাকতেন তাহলে এসব হত না। মাজহার-সাগর-শাওনদের যা যা দরকার তা পাওয়া হয়ে গেছে। তাই তো চ্যানেল আইয়ের এত আগ্রহ শাওনকে নিয়ে।

    পুরো ব্যাপারটা একটা “মিডিয়া প্রচারণা” যার মূল উদ্দেশ্য শাওনকে প্রমোট করা। যা হচ্ছে তার সবই স্বল্পস্থায়ী। আমি হুমায়ূনকে একজন শিশু বলে মনে করি যিনি গত ১০ বছরে অসৎ সঙ্গে নিজেকে নস্ট করেছেন।

    আপনার অভিমত জানালে খুব খুশি হব। আরেকটি কথা, কোনো বিবৃতিই ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ হওয়া উচিত নয়।

    Reply
    • রানা আজাদ

      আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত, হুমায়ুন ছিলেন শিশু (অবুজ শিশু) তাকে এক মাত্র পরিচালনা করতে পারতেন গুলতেকিন তাই তিনি আজ পরবাসী, শাওন হলো ব্যাবসায়ি আজ তাই তিনি আলোচিত।

      Reply
  8. তানভীর রাব্বানী

    মুক্তধারা আয়োজিত হুমায়ূন আহমেদের ৬৩তম জন্মদিনে মধুসূদন বিশেষজ্ঞ গোলাম মুরশিদ ( ড. মুরশিদকে “গল্প পঞ্চাশৎ”-এর উৎসর্গপত্রে এভাবেই সম্বোধন করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ) এসেছিলেন লেখকের “রঙ পেন্সিল” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে। অনুষ্ঠান শেষে কথায় কথায় ড. মুরশিদ উল্লেখ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদনকে নিয়ে “আশার ছলনে ভুলি” বই লিখতে গিয়ে তাঁর দীর্ঘ ২০ বছরের (১৯৮৬-১৯৯৫) গবেষণা এবং অধ্যবসায়ের গল্প। আজ থেকে ১০০ বছর পর যিনি ড. মুরশিদের মতো হুমায়ূননামা লিখতে বসবেন তাকে আগাম সুসংবাদ দিচ্ছি। আপনার জন্য বিশ্বজিত সাহা “হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো” শিরোনামে একখানা গ্রন্থ রেখে যাচ্ছেন। না, কোনো অনুমাননির্ভর গল্প নয়, বরং তথ্য-উপাত্ত, দলিলপত্র এবং দুর্লভ ছবির সমন্বয়ে বিশ্বজিত সাহা হুমায়ূন আহমদের শেষ দিনগুলোকে এঁকেছেন ২৭৯ পৃষ্ঠার ক্যানভাসে।

    নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসাকালীন দিনগুলো- তাঁর ভক্তদের জন্য ছিল মর্মস্পর্শী উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষার কাল। পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্যে প্রতিটি পত্রিকাই ধারাবাহিকভাবে ছাপছিল হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা-সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য। সত্য, মিথ্যা কিংবা গুজব– ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকার ভিন্ন ভিন্ন তথ্যে পরিচিতজনেরা যখন সন্দেহ আর বিশ্বাসের দোলাচলে দুলতে দুলতে আমার কাছে সত্য ঘটনা জানতে চাইত তখন আমার তথ্যের উৎস ছিলেন বিশ্বজিত সাহা; যিনি নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তার চেয়ে তথ্যের বিশ্বস্ত উৎস আর কে হতে পারে? হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যু নিয়ে যখন নানা বিভ্রান্তি ডালপালা মেলল তখন আমার মতো অনেকেই বিশ্বজিত সাহাকে অনুরোধ করেছিলেন বিভ্রান্তি নিরসন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে। এ বই হয়ত সে অনুরোধের ফসল।

    বইটি হাতে পাই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। তখন আমি নিউইয়র্ক গণজাগরণ মঞ্চের উন্মাদনায় ব্যস্ত। বইটি পড়ব পড়ব করেও পড়া হচ্ছিল না। কারণ ২৭৯ পৃষ্ঠার বই শেষ করার জন্যে আলাদা মনোযোগের দাবি রাখে। কিন্তু পড়তে গিয়ে ভুল ভাঙ্গে। প্রথমেই দেখতে পাই সময়সচেতন বিশ্বজিত সাহা বইটি উৎসর্গ করেছেন শাহবাগের আন্দোলনরত তরুণদের উদ্দেশ্যে। হুমায়ূন-সংস্পর্শ কিনা জানি না, বিশ্বজিত লিখে গেছেন হুমায়ূনের মতো সহজ ভঙ্গিতে। মাথার ভিতরে গেঁথে থাকা স্মৃতিকোষের সাজানো দৃশ্যপট থেকে তুলে দিয়েছেন একের পর এক। দিন-তারিখসহ ঘটনার ডিটেইলের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন অসংখ্য ছবি। ফলে পাঠক কেবল বই পড়েন না, নিজেও অংশ হয়ে দাঁড়ান সে সব ঘটনার। শুধু চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য নয়, হুমায়ূন আহমদের জীবনের শেষ ১০ মাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও এর পর্যায়ক্রমিক বিবরণ পাওয়া যায়। দেখতে পাই বিশ্বজিত সাহার মতো মানুষেরা কীভাবে দূর পরবাসে হুমায়ূন আহমদের চারপাশে ভালবাসার দেয়াল তুলে তাঁর কর্কট রোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন। টের পাই কর্কট রোগ থেকে লেখককে মুক্ত করতে পারলেও তাঁকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে না পারার কষ্ট।

    “হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো”– বইটি কেবল হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলোর ঘটনাপঞ্জী কিংবা তাঁর সম্পর্কিত স্মৃতিকথার লেবেলে বন্দী থাকেনি। শেষ দিনগুলোর পাশাপাশি হুমায়ূন আহমদের পূর্বের আমেরিকা ভ্রমণ, নিউইয়র্কে মুক্তধারা আয়োজিত বইমেলায় হুমায়ূন-সম্পর্কিত স্মৃতি বিশ্বজিত সাহা নির্মোহ ভঙ্গিতে পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে “চিত্রকর হুমায়ূন আহমেদ” আধ্যায়ে হুমায়ূন আহমেদের জলরংয়ে আঁকা ২৩ রঙ্গিন ছবি বইটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা; হয়ে উঠেছে সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।

    Reply
  9. লালন

    মুক্তধারার বিশ্বজিত সাহা নিউইয়র্কের শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা বাঙালিদের কাছে খুব পরিচিত একটি নাম। কর্মপটু লোক, সফল ব্যবাসায়ী। তবে ধুরন্ধর হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে তার। কেউ কেউ জোক করে তাকে ‘বিশ্ব চিট’ বলে থাকেন। 🙂

    Reply
  10. Bithi Banerjee

    “যারা হুমায়ূন স্যারকে সত্যিকার অর্থে পছন্দ করে তারা কখনওই স্যার কিংবা তাঁর পরিবারকে ছোট করতে পারে না।’’ কিন্তু কথা হল, শাওন যে হুমায়ূন আহমেদের ঠিকমতো চিকিৎসা করেননি এটা কে না জানেন! বিশ্বজিত সাহা ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ বইতে এক অর্থে হাটে হাঁড়িই ভেঙ্গেছেন। তিনি অনেক সত্য প্রকাশ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ অপারেশনের পর ক্যান্সার থেকে সুস্থ হয়েই উঠেছিলেন। কিন্তু পরে চিকিৎসার গাফিলতির জন্যই মারা গেছেন।

    শাওন তাই শেষ দু’সপ্তাহে মিডিয়াকে মিথ্যে কথা বলেছেন। এমনকি বিবিসিকেও। আর এসব সত্য তুলে ধরার জন্যই কি বিশ্বজিতের শাস্তি হওয়া উচিত?

    বিশ্বজিত সাহা রচিত ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি ‘ বইটি পড়লেই পাঠক অনেক সত্য জানতে পারবেন।

    Reply
  11. Ruchira Rahman

    হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে মাজহারুল ইসলাম, শাকুর মজিদ, ইমদাদুল হক মিলন বা সালেহ চৌধুরীর লেখা পড়েছি। তবে বিশ্বজিৎ সাহার লেখা ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ বইটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। এটি না পড়লে নিউইয়র্কে জীবনের শেষ দশ মাস অবস্থানকালে হুমায়ূন আহমেদ প্রবাসীদের কাছ থেকে যে ভালবাসা ও সমর্থন পেযেছেন তা আমাদের অজানা থেকে যেত। বইটির জন্য ধন্যবাদ বিশ্বজিত ও তার প্রকাশক ‘বাংলা প্রকাশ’কে।

    বইটিতে শাওন সম্পর্কে অনেক অনেক ভালো কথা লেখা হয়েছে। তাই উনার ‘উগ্র’ প্রতিক্রিয়া দেখে অবাক হচ্ছি!

    Reply
  12. কান্টি টুটুল

    লেখাটিতে ছবির ফ্রেম-বিষয়ক আলোচনায় আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিচয় পেলাম!

    Reply
    • Nino Atamari

      ফ্রেম-বিষযক আলোচনা জরুরি ছিল। কারণ লেখাটির একটি বড় বিষয় হল হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবি। আর সে জন্য লেখকের মানসিকতাকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে দেখার কী আছে? লেখককে যে বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তখন যেতে হচ্ছিল সেটা তিনি তুলে ধরেছেন মাত্র।

      আপনার উটকো মন্তব্যে আমরা সাধারণ পাঠকরা আপনার মানসিকতারও পরিচয় পেলাম।

      Reply
      • ম্যানিলা নিশি

        ছবির ফ্রেম-বিষয়ক আলোচনার সারমর্ম টাকার অংকে এসে দাঁড়ায় যা দুটিমাত্র কেনা হয়েছিল।

        লেখিকা হুমায়ূন অসুস্থতাকালীন সময়ের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন বলছেন !!

        “হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি” বইটির সমালোচনায় দশ মাস আগে কেনা দুটি মাত্র ফ্রেম তথা টাকার প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসা কোন সময়ের বাস্তবতা নির্দেশ করে?

      • ম্যানিলা নিশি

        ফ্রেম-বিষয়ক আলোচনার সারমর্ম টাকার অংকে এসে দাঁড়ায়, শিশুসুলভ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করা বিষয়টি বেশ দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।

  13. Nino Atamari

    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। মানুষ আর কত জঘন্য আচরণ করবে আপনার এবং আপনার পরিবারের সঙ্গে! এসব প্রপাগান্ডার জন্য বিশ্বজিতের শাস্তি হ্ওয়া উচিত।

    Reply
    • Permita Ahmed (Dinajpur)

      সবাইকে একটি অনুরোধ জানাতে চাই, আপনারা ‘বাংলা প্রকাশ’ প্রকাশিত বিশ্বজিত সাহার বই ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ ভালোভাবে পড়ুন। খুব ভালো একটি বই। মেহের আফরোজ শাওন যে কথা লিখেছেন, মানে হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবি প্রসঙ্গে, বিশ্বজিত সাহা বইতে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি ড. জাফর ইকবালের নির্দেশক্রমে ছবিগুলো তাদের মা আয়েশা ফয়েজের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। শাওন ও তার মা তহুরা আলী চান ছবিগুলো তাদের কাছে থাকুক। তাই শাওন এটি লিখেছেন।

      শাওনকে অনুরোধ করব, আপনি বরং বিষযটি নিয়ে জাফর ইকবালের সঙ্গে আলাপ করুন। পারিবারিকভাবে এর সমাধান করুন। কেননা বইটিতে এমন অনেক কথা আছে যা সত্যি হোক কী মিথ্যা, আপনার বিপক্ষেই যাবে। মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি হুমায়ূন আহমেদের মা-ভাই-বোন আর সন্তানদের বিপক্ষে যাবেন না। এতে আপনার নিষাদ-নিনিতেরও ক্ষতি হবে। ওরা তো এমনিতেই আপনি আর আপনার মায়ের জেদের কারণে পিতৃকূলের স্নেহের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠছে। আপনার ‘হালকা’ জেদ ও ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’ আপনার ও আপনার ছেলেদের ক্ষতি করছে। কারণ আপনাকে বুঝতে হবে যে, মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে আপনি যে সাতান্ন বছর বয়সের এক চার সন্তানের পিতাকে বিয়ে করেছেন- আমাদের সমাজ একে ভালো চোখে দেখে না।

      তাই আপনার একজন শুভানুধ্যায়ী হিসেবেই বলছি, সবকিছু নিজের কাছে রাখতে চাইবেন না। নোভা, শীলা, বিপাশা, নুহাশেরও অনেক প্রাপ্য আছে। হুমায়ূনের মা এখনও জীবিত। হুমায়ূনের দুই ভাই জাফর ইকবাল ও আহসান হাবিব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ ও রোখসানা আহমেদ কি তাঁর কেউ নন? হুমায়ূনের মৃত্যুর পর তাঁর লাশ দাফন নিয়ে আপনার ‘নাটক” জাতি বুঝতে পেরেছে!

      Reply
  14. Asraf

    যারা হুমায়ূন স্যারকে সত্যিকার অর্থে পছন্দ করে তারা কখনওই স্যার কিংবা তাঁর পরিবারকে ছোট করতে পারে না। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হওয়ার কথা নয়। শাওনকে ধন্যবাদ ভণ্ডদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য।

    ট্যানটা বাবা আর ঘ্যাংগা বাবাকে আল্লাহ ভালো রাখুন।

    Reply
    • Saba Sadek

      ভাই, আপনি কি বইটি পড়েছেন? পড়লে বুঝতে পারতেন যে বিশ্বজিৎ সাহা হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কোনো ক্ষতি করেন নি! মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, ছবিগুলো তিনি হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু শাওন চাচ্ছেন ছবিগুলো কেবল তাকে দেওয়া হোক!

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—