Feature Img

monjoree-fকেভিন কার্টারের নামটা সবার পরিচিত না হলেও সেই দুর্ভিক্ষের ছবিটি নিশ্চয়ই মনে আছে। সুদানের আয়ুদ’র দুর্ভিক্ষতাড়িত এক কালো শিশু কন্যার ছবি। হামাগুড়ি দিয়ে আগাচ্ছে আর পেছনে শকুন অপেক্ষা করছে শিশুটির মৃত্যুর। পুলিৎজার জেতা এই ছবি কেভিন কার্টারের। কেভিন ছবিটি তুলে বিশ্ব পরিচিতি পেয়েছিলেন ঠিকই, তবে আত্মহত্যা করেছিলেন ৩ মাস পরই। অনেক সংকটের ভেতর সবচেয়ে বড় সংকট ছিল মানবিক দায়বোধ এড়ানোর অনুশোচনা। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি শকুন ও শিশুর মধ্যে প্রত্যাশিত নৈকট্য পেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নিয়েছেন অর্থাৎ ইচ্ছে করলেই বাঁচাতে পারতেন মেয়েটিকে কিংবা ছবি তুলেই চলে এসেছেন, এরপর কী হয়েছিল? কেভিন কোন প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারেন নি। একপর্যায়ে কেভিন অনুশোচনার কথা স্বীকার করেছেন কিন্তু নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি।

বিশ্বজিৎ-শোক প্রথম দিনে অনেকটাই প্রদর্শণীর বিষয় এবং পরের দিনেই টি-টুয়েন্টির উত্তেজনায় পিং পং টেবিল টেনিসের বলে রুপান্তরিত হয়েছে। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে দেশে ১১১ জন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা দু’সপ্তাহের ব্যবধানে পুরনো স্মৃতির খাতায় চলে যায়, সেখানে এক বিশ্বজিৎ!

৯ ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ নিহত হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রীদের হাস্যকর বিবৃতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কিন্তু সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও প্রশাষনকে কিছু প্রশ্ন এড়ানো যাচ্ছে না। সুশীল সমাজ, আপনারা যারা মিয়ানমার সীমান্ত, শরনার্থী সমস্যা, রামুর ঘটনা বা তাজরিন গার্মেন্টস দুর্ঘটনায় সাময়িক হলেও প্রতিবাদ করতে নেমেছিলেন তারা কী ভূমিকা রাখলেন বিশ্বজিৎ হত্যার প্রতিবাদে? নাকি মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের মত আপনাদের কাছেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ? তাহলে জেনে রাখুন আরো এমন শত শত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে চলেছে নির্বাচন পর্যন্ত।

প্রশাসন, সেদিনতো আপনারা বিশ্বজিতের কয়েক গজের ভেতরেই ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, যে দোতলা ক্লিনিকে তাকে চাপাতি দিয়ে কোপানো হচ্ছিল তার নিচে পুলিশ এবং কয়েক গজ দূরের পেট্রোল পাম্পের কাছে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কিছু দেখেন নি আপনারা? হত্যাকারিরা সরকার সমর্থিত দলের ব্যানার নিয়ে এসেছিল বলে? সেই ব্যানারের প্রথম দিকেই দাড়িয়েছিল তারা। আপনাদের উপেক্ষা বা উপরওয়ালাদের নির্দেশে দর্জি দোকানি, পাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলা ছেলেটা প্রথমে হয়ে গেল শিবিরকর্মী তারপর নিহত বিশ্বজিৎ? প্রশাসনের চরিত্র হচ্ছে রাস্তার পাশের বিলবোর্ড, পোস্টারের মত বদলে যাওয়ার চরিত্র। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন- দু’ ধরনের পোস্টার থাকে, অত নং ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থেকে অমুক ভাইয়ের শুভেচ্ছা নেত্রীকে। অন্যটা হচ্ছে, তমুক ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। কথাগুলো একই থাকে; ক্ষমতা পাল্টালে শুধু নামগুলো বদলায়। প্রশাসনও তাই। সরকারি দলের কর্মী দেখলেই সানগ্লাস পরে দাড়িয়ে থাকবে আর বিরোধী পক্ষকে এক হাত নিবে বা তাদের হাতে হেনস্তা হবে। ঘটনা কিন্তু একই। মাঝখানে পরে থাকে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত বিশ্বজিৎরা। সেদিনের দৃশ্যপটে উপস্থিত প্রশাসন, সাংবাদিক ও সাধারণ জনতার মধ্যে বিশ্বজিৎকে বাচাঁনোর দায়িত্বটা কাদের ছিল প্রথম?

যে কারণে কেভিন কার্টারকে দিয়ে শুরু করেছিলাম সে প্রসঙ্গে আসি। ঘটনার সময় কতজন সাংবাদিক ও ক্যামেরামান উপস্থিত ছিলেন? জানি, আপনাদের দায়িত্ব সত্যি ঘটনার পর্যবেক্ষণ এবং তা প্রচার করে মানুষকে জানানো। এও জানি যে বিশ্বজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অফিসিয়াল ডিউটিতে পরে না কিন্তু মানবিক দায়িত্বে? সত্যি যে বিশ্বজিৎকে বাঁচানোর বিষয়ে পুলিশি কেস, রাজনৈতিক পরিচিতির ঝামেলা, এমনকি নিজেদের দুর্ঘটনার আশংকাকেও উপেক্ষা করা যায়না কিন্তু তারপর? কেউ কি পারতেন না আপনাদের অফিসের গাড়ি দিয়ে ছেলেটাকে অন্তত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে? যেটা পেরেছিল একজন রিকশাচালক।

এরপরের দায়িত্বটুকু কাদের? একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বিশ্বজিৎ নিহত হওয়ার পর থেকে কোন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও তো চোখে পড়েনি। প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমে ডেজ ইভেন্ট হিসেবেই বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড কাভার করা হচ্ছে। বরাবরই তাই হয়। রুণী-সাগর হত্যাকাণ্ড, ইলিয়াস-সুরঞ্জিত-রোহিঙ্গা সমস্যা-রামু এমনকি তাজরীন গার্মেন্টসের ঘটনাতেও। কিছু প্রশ্ন নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে করতে চাই। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা সেদিন যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কেউ কি পুলিশ ডেকেছিলেন ( জানি এর ফলাফলও শূণ্যই), মন্ত্রী বলেছিলেন ৮ জনকে আটক করা হয়েছে, একই সময় সূত্রাপুর থানা পুলিশ বললো কাউকে আটক করা হয়নি। দ্বিতীয়বার মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছেন, কেন আটকের কথা বললো? যদি সত্যি তাই হবে তাহলে পুলিশ কেন মিথ্যে বলছে? ১৪ ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানার ওসিকে কেন বদলি করা হয়েছে এ প্রশ্নটা কোন সাংবাদিক তুলেছেন? আটককৃতদের মিডিয়ার সামনে আমরা প্রথম দেখলাম ১৩ তারিখ অর্থাৎ গ্রেপ্তারের ৩ দিন পর। তাও ৩ জনকে। এই ৩ দিনে সাংবাদিকরা কোন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন কেন মিডিয়ার সামনে আনা হচ্ছে না? আপনারা যদি মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে সঠিক জবাব না পান তাহলে সেটা নিয়েই প্রতিবেদন করতেন! মন্ত্রী দাবি করছেন হত্যাকারিরা কেউ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী নয় কিন্তু প্রত্যেকেরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেলো। মন্ত্রীকে কেউ তার স্টেটমেন্ট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন ?

হত্যাকাণ্ডের ছবি বিষয়ে বলি। হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তাতে পাবলিক সেন্টিমেন্ট পাওয়া গেছে এবং নিউজের কাটতি বেড়েছে। কেউ কেউ এক্সক্লুসিভ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে নিজের সাংবাদিকতার বিজয়ী মুকুটে আরো একটি পালক গুজতে পেরেছেন কিন্তু একবার কি ভেবেছেন যে ছেলেটা ক্রিকেটে বাংলাদেশ জেতার আনন্দে আগের রাতে বিশ্বজিতের হাত থেকে পতাকা নিয়ে উড়িয়েছে তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে? শরীয়তপুরে বিশ্বজিতের সাথে যারা ঝাপিয়ে পুকুরে নেমে শৈশব পার করেছেন তাদের অবস্থা? পরিবারের কথাতো বাদই দিলাম! এক ফটো সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই ফুটেজ কি এভাবে দেখানো উচিত? সে বলেছে হ্যাঁ, মানুষের ভেতর তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে আরো অনেক অনেক বেশি দেখানো উচিত, আমার প্রশ্ন, কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে মানুষের মধ্যে? মানুষতো সেদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সামনেই ছিল। কী করতে পারে মানুষ ধারালো অস্ত্রের মুখে আর দুর্বিনীত ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হওয়া ছাড়া? টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ছবি দেখেছেন সবাই, মার্কিন গণমাধ্যম কি বিধ্বস্ত ভবনের ভেতরের ছবি প্রকাশ করেছে? নরওয়েতে ব্রেইভিকের হত্যাকাণ্ড বা যদি শুক্রবার কানেকটিকাট স্কুলে ২৮ জন নিহত হওয়ার কথা বলি, একটা মৃতদেহের ছবি পাবলিশ হয়েছে?

যুবলীগ কর্মীদের দেয়া আগুনে শাহবাগ মোড়ে ১১ জন পুড়ে মারা গিয়েছিল। কতদিন ধরে আগুনের ছবি দেখানো হয়েছিল? এমনকি অভিযুক্ত বর্তমান সরকারের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে ইন্টারোগেশনে নেয়ার পর স্বীকারও করেছিলেন কৃতকর্মের কথা। কী হয়েছে ? অভিযুক্তদের বিচার হয়েছে? বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ৮ দিনের রিমাণ্ড শেষ হতে হতে নতুন হরতাল এবং নতুন সহিংস কোন ঘটনায় চাপা পরে যাবে বিশ্বজিৎ। সাংবাদিকেরাও তখন ছুটবেন নতুন ছবি নতুন খবরের পেছনে। কবে যে এইসব হত্যাকারীরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে জানবেওনা মানুষ। বছরখানেক পর শুনবেন, বিশ্বজিতের পরিবার হুমকির মুখে। ২০ বছর পর দেখবেন এই হত্যাকারীদের কেউ কেউ মন্ত্রী মিনিষ্টার হয়ে গেছে। বুদ্ধিজীবি দিবসের দিনেইতো ছাড়া পেলো হত্যাসহ ১২ মামলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ‘বিকাশ’। অতএব বলি কী, বিশ্বজিত নিহত হওয়ার দৃশ্যটার আর প্রদর্শনী করবেন না বরং সম্ভব হলে হত্যাকারীদের ছবি বারবার দেখান। একযুগের বেশি সময় ধরে এ দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল নির্ভর হলেও এখন পর্যন্ত কোন নীতি নির্ধারণী তৈরি হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালের ১১ এর (বি) ধারা অনুযায়ী প্রণীত সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় যে নীতিমালা যেটা ২০০২ সালে সংশোধিত হয়েছে এর কয়েকটি নিয়মের মধ্যে একটি, ‘জনগণকে আকর্ষণ করে অথচ জনস্বার্থ পরিপন্থী চাঞ্চল্যকর মুখরোচক কাহিনীর মাধ্যমে পত্রিকার কাটতির স্বার্থে রুচিহীন ও অশালীন সংবাদ ও অনুরূপ ছবি পরিবেশন না করা।’
যদি বলি আমাদের সংবাদ প্রচারের পেছনে থাকে শুধুই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য। সেখানে কোন মানবিকতা নেই, তদন্ত নেই, ডেজ ইভেন্ট ছাড়া কোন ফলোআপ নেই, ক্ষমতাসীন নেতা-কর্মীদের মত সংবাদ কর্মীদের কাজের ধরণেই বিশ্বজিৎদের মৃত্যৃও তাই পরিণত হয় ঠাট্টায়, ভুল বললাম?

কেভিন, আফসোস হচ্ছে আপনার জন্য। ভুল সময়ের মানুষ ছিলেন। এই সময়ে ছবিটি তুলে পাঠিয়ে দিলে পুলিৎজার পেয়ে যেতেন, হয়তো আপনার ছবি দেখে নোবেল কমিটি ভাবতো ফটোগ্রাফিতে নোবেল দেয়া উচিত কিন্তু কেউ মানবিক দায়িত্ব বোধ নিয়ে প্রশই তুলতো না আর আপনিও অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করতেন না।
১৬ ডিসেম্বর ২০১২

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম:সাংবাদিক ও লেখক।
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সাংবাদিক ও লেখক

৪৬ Responses -- “মৃত্যু ও ঠাট্টা”

  1. দেবু ফরিদী (DEV D NIPUN)

    লেখক, আপনার কথাগুলো বাস্তব ও স্পষ্ট। একজন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মানুষ হয়েও আপনি যেভাবে সহজ-সরল ভাষায় সাংবাদিকদের, প্রশাসনের, সর্বোপরি দেশের সাধারণ জনগণের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। অনেক সময় অনেক কিছুই আমরা বুঝি, বলতেও চাই অনেক কিছু- কিন্তু বাস্তবতার খাতিরে বা ক্ষমতার বলি হওয়ার ভয়ে কেউ কিছুই বলতে পারি না। তবুও কিছু কিছু মানুষ সামাজিক দায়িত্ব এড়াতে পারেন না বলেই সব চোখ-রাঙানি উপেক্ষা করে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। তাদেরই একজন হিসেবে আপনাকে জানাই সংগ্রামী শুভেচ্ছা।

    আসলে বিশ্বজিত প্রসঙ্গে নতুন করে বলার কিছু নেই। রাজপথে এমন ঘটনা নতুন নয়, এ সরকারের আমলেও নতুন নয়। রগকাটা রাজনীতিও দেশ দেখেছে। তবে বিশ্বজিত-হত্যার ঘটনা মিডিয়ায় যেভাবে লাইভ দেখানো হয়েছে এমনটা বোধকরি এবারই প্রথম। সরকার এখন শেষ সময়ে এসে উভয় সংকটে পড়ে গেছে। বিশ্বজিতের ঘাতকদের বিচার যে সরকারের কেউ চায় না, সেটা বিশ্বাস করার মতো নয়। তবে আমজনতা বলে, ঘটনাটা যে বা যারাই ঘটিয়ে থাকুক সেটার দায় সরকার এড়াতে পারছে না।

    এ অবস্থায় জড়িতদের বিচার করলে দেশের জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে রাজপথে শিবির ঠেকানোর লোকের অভাব পড়তে পারে। লোকমুখে এমনই শোনা যাচ্ছে এখন। তবে ঘটনা যেদিকেই মোড় নিক না কেন, বিশ্বজিত হত্যার বিচার হোক, আর যেন কারও ভাগ্য এমন না হয়, আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয় সে কামনা করি।

    Reply
  2. Ashraf

    লেখক এবং যারা এর সমালোচনা করেছেন সবাই ঠিক বলেছেন। আমরা এধরনের ঘটনা মেনে নিতে পারছি না। মিডিয়া অনেক কিছু করেছে এটা ঠিক কিন্তু বিশ্বজিতকে বাঁচাতে কী করেছে সেদিন? আমি এই ফুটেজগুলো দেখে সইতে পারি না। এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

    Reply
  3. অদ্রি আরিফ

    দেশটা তো গোপাল ভাঁড়ের। তাই আমরা সহজেই মৃত্যু নিয়ে ঠাট্রা ও মৃত্যু-মৃত্যু খেলা করতে পারি! কবে যে আমাদের বিবেক, মূল্যবোধ জাগ্রত হবে! সুন্দর একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

    Reply
  4. pavel

    লেখককে ধন্যবাদ দিতে চাই। আরও লেখা দেখতে চাই…

    আপনি একটি বই লিখবেন, আমাদের দেশের এসব নোংরা রাজনীতি নিয়ে লিখুন…

    Reply
  5. সোলাইমান

    লেখক সাংবাদিক বন্ধুদেরকে কিছুটা একহাত নিয়েছে বলা যায়। তবে যিনি লিখেছেন তিনিও সাংবাদিক। তারপরও তাঁর মতো আমরাও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চেষ্টা করতে দোষ কী? এভাবে একজন একজন করে আমরা সবাই তো বদলে যেতে পারি, পাশে দাঁড়াতে পারি সে হামাগুড়ি দিয়ে এগুনো কালো-শিশুটির।

    Reply
  6. tariq newaz

    মানুষের নিষ্ঠুরতার একটি বড় উদাহরণ ছিল বিশ্বজিত-হত্যাকাণ্ড। সাদিয়ার অন্যতম সেরা লেখা এটি। ধন্যবাদ।

    Reply
  7. জুন

    পৃথিবী থেকে আকাশ অনেক সুন্দর। কিন্তু কাছ থেকে শুধুই অন্ধকার। দুর থেকে সমালোচনা করে বাহবা পাওয়া যায় কিন্তু দায়িত্বপালন হয় না। আমিও পালন করিনি। এ জন্য আমি লজ্জিত। আপনি? যদি প্রশ্ন রাখি এই লেখা ছাড়া আপনি আর কী দায়িত্ব পালন করেছেন? কী প্রতিবাদ করেছেন?

    আমি জানি না। আপনার মতো অ‍ন্য সাংবাদিকরাও লিখেছেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে। ঘটনার পর কোন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট আপনার চোখে পড়েনি। তাহলে কী করে জানলেন বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত? কী করে হ্ত্যাকারীদের নাম পরিচয় জানল দেশবাসী? কীভাবেই-বা নির্দোষ কয়েকজনকে ফাঁসানোর কথা জানা গেল?

    আপনার লেখার মধ্যেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব এড়ানোর অভিযোগের উত্তর আছে। আপনি লিখেছেন, “কী করতে পারে মানুষ ধারালো অস্ত্রের মুখে আর দুর্বীনিত ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হওয়া ছাড়া?”

    Reply
  8. baishakhi ghosh

    আমি জানি না কেন সাংবাদিকরা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাচ্ছেন? যারা এত বড় একটা ঘটনা নিজের সামনে হতে দেখেও কোনো সাহায্য না করে ছবি তুলেছিলেন তারা তো সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডেরও ছবি তুলতেন? তাই না?

    Reply
  9. আলমগীর হক

    লেখক নিজের পেশায় বসে সঠিক কাজই করেছেন। দুর্দান্ত লেখা। এর ফর্ম আর উপস্থাপনাসহ অনেক কিছুই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু বিষয়ী উপস্থাপনা ও রুঢ়কণ্ঠে সতেজ ভাষ্যে নির্মম হত্যাযজ্ঞের অনেক ক্যাটালগিং ঘুরে-ফিরে এনেছেন লেখক। প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে যেন তুলে ধরা হয়েছে ঘটনার ডায়ালেক্টিক্স। ধন্যবাদ।

    Reply
  10. Blackboy

    আমরা বাঙালি জাতি অল্প সময়ে সবকিছু ভুলে যাই। আপনার সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  11. মাসুদ রানা

    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সত্যি কথা বলার জন্য। এ প্রশ্নগুলোই আমাদের মনের মধ্যে বারবার জেগে ওঠে। কিন্তু আমরা প্রকাশ করতে পারি না বা প্রকাশিত হয় না। আমরা জাতি হিসেবে খুব গর্ব করি। এটা কি গর্ব করার মতো কোনো ঘটনা? মাঝে-মাঝে খুব কষ্ট হয় এত অন্যায়-অবিচার দেখে।

    জাতি হিসেবে আমরা আসলেই খুব নিরীহ। তা-নাহলে আমরা এসবের বিরুদ্ধে কবে রুখে দাঁড়াতাম!

    Reply
  12. Hafiz

    লেখাটা পড়ে এটুকু নিশ্চিত হলাম যে, অন্যভাবে না হোক, লেখা দিয়ে প্রতিবাদ করার মতো মানুষ এখনও আছে। আমি মনে করি লেখাটা সবার পড়া উচিত।

    Reply
  13. Omanush

    @সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম, আপনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাধা তৈরি করছেন!!!

    @Biplob Sarker আপনি এখনও বেঁচে আছেন?

    Reply
    • Sadia Mahjabin Imam

      সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম, আপনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাধা তৈরি করছেন!!!

      আমাকে বলবেন কি, কোন লাইনটি পড়ে আপনার এমন মনে হল?

      Reply
  14. Kazi Rafi

    আপনি আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের আবেগ ও অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেছেন। ধন্যবাদ মাহজাবিন।

    Reply
  15. atmkader

    আমার শুধু ইচ্ছে করে সুইফটের মতো করে বলি,”আমি হেইট করি সেদিন সেখানে উপস্থিত মানুষ নামের সব দু’পেয়ে জানোয়ারদের আর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সবাইকে যারা পরে দায় না নিতে মরিয়া চেষ্টায় রত ছিল।”

    লেখাটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

    Reply
  16. রমাপ্রসাদ বাবু

    সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম

    ধন্যবাদ আমাদের বিবেক জাগিয়ে দেওয়ার জন্যে। আসলে আমাদের মাঝ থেকে প্রতিদিন এত বিশ্বজিত হারিয়ে যাচ্ছে যে অনুভূতিগুলো ক্রমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর অধপতন ঘটছে আমাদের…অন্তত আমি সামনে খুবই অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।

    ভালো থাকুন…

    Reply
  17. আরিফ

    চমৎকার লিখেছেন।

    দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ মনে করেন, বিশ্বজিতের নির্মম মৃত্যুতে মানবতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের অশুভ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বহির্বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
    তীব্রভাবে ঘৃণা জানাই রাজনীতিবিদ, পুলিশ-র‍্যাব ও কলুষিত প্রশাসনের প্রতি।

    ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  18. মামুন

    বোন, তোমার লেখাটি একটি আঙ্গিকে যুক্তিযুক্ত। তবে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে নির্লিপ্ত ছিল, ছবি প্রকাশ না করলে হয়তো আরও নির্লিপ্ত থাকত ওরা। বিশ্বজিতের খবর হারিয়ে যেত দুদিন পরই বা হত্যাকারীরা পার পেয়ে যেত সহজেই।

    এরকম হরহামেশা হচ্ছে আমাদের দেশে। বাংলাদেশ বলে কথা, সুবিচার যেখানে দুর্লভ। বিচারের নামে হয়রানি-অবিচার আমাদের রক্তে ঢুকে গেছে। ক্ষমতা আর টাকার কাছে হার মানে আমাদের নীতি-নৈতিকতা।

    তাই এখানে এটা দরকার ছিণ।

    Reply
  19. কামরুল হাসান

    অসাধারণ এক লেখা। মানবিক স্পর্শে ঋদ্ধ, মমতাময় লেখা। সাদিয়া মাহজাবীন ইমামকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আরো লেখা চাই আপনার কলম থেকে।

    সত্যিই তো আমাদের চোখের উপর একের পর এক অনাচারগুলো ঘটে চলেছে, অথচ আমরা নির্বিকার! আমরা গ্যালারিতে বসে মজা-পাওয়া দর্শকের ভূমিকা পালন করছি।

    Reply
  20. Pori

    ওহ, আরেকটা কথা, আপনি উন্নত বিশ্বের কথা বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটে নিহত বা নরওয়েতে ব্রেইভিকের হাতে নিহতদের কোনো ছবি ছাপানো হয়নি। সত্যি কথা। শুধু ফুল, মোমবাতি, বেলুনের ছবি দেখতে পাচ্ছি আমরা। কিন্তু এ সাংবাদিকরাই যখন গাজায় নিউজ করতে যান, ছিন্নভিন্ন মৃতদেহের ছবি আপ করেন।

    কিচ্ছু না, ডেইলি মেইল নামে একটা ট্যাবলয়েড আছে, ওটার ওয়েবসাইটে একবার কানেটিকাট-ট্র্যাজেডি লিখে সার্চ দিবেন, ফুল-বেলুন-মোমবাতির ছবি দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যাবে। গাজা লিখে সার্চ দিবেন, শিশুদের ছিন্নভিন্ন লাশ দেখে আঁতকে উঠবেন। অফিসের এএফপি কিংবা রয়টার্ সার্ভারেই দেখতে পারেন।

    বড় দেশে বড় নিয়ম। ওই খুনটা একজন আমেরিকান করেছে, আমেরিকানরা খুন হয়েছে, তাই। নোবেলের দেশে বিশিষ্ট একজন ব্যক্তি ৭৭ জনকে খুন করেছিল, তাই খুনিকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ প্রমাণ করে শাস্তি থেকে বাঁচানোর চেষ্টাও করা হয়েছে।

    তাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা একদম যায় না ম্যাডাম!!!

    Reply
    • Sadia Mahjabin Imam

      ফুল, বেলুন দেখে হৃদয়জুড়ানো- এগুলো স্ট্যান্টবাজি-টাইপ শব্দ। শুনতে ভালো কিন্তু অতিপ্রয়োগে কথার অর্থ যেন বদলে না যায় সেটা মনে রাখা উচিত। কী বলেন?

      ব্রেইভিককে কেন নরওয়ের গর্ভণমেন্ট সেফ করবে? আমি যতটা জানি, নরওয়েতে ডেথ-পেনাল্টি নেই, আছে যাবজ্জীবন কারদণ্ড।

      উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি, দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। তাদের মতো আমরা সভ্য হতে চাইব, ইংলিশ ব্যাকগ্রাউন্ডকে ভিত্তি হিসেবে ধরে নেব- কিন্তু কিছু শিখতে গেলে সেটা দেশপ্রেমের পরিপন্থী হযে যাবে এটা সংকীর্ণতা। যেখানে এ দেশে নতুন টিভি চ্যানেলের স্টুডিও বানানোর সময় বিবিসি, সিএনএন-এর স্টুডিও দেখে অনুকরণ করা হয়- ড্রেস কোড তাদের মতো হয়- কিন্তু ওসব চ্যানেলের পরিমিতিবোধ বা লিমিটেশনের বিষয়টি আপনার কাছে অনুকরণীয় মনে হবে না কেন?

      তাহলে বলতে হবে মৃত্যু-উল্লাসে আপনিও আনন্দ পান!

      Reply
  21. Pori

    ম্যাডাম, আপনার পরিচিতি দেখে বুঝলাম আপনি পেশায় সাংবাদিক। যেভাবে ঢালাও অভিযোগ করে গেলেন- কেভিন আত্মহত্যা করেছেন বলে তাকে মহান করে তুললেন- বিষয়টা ভালো লাগল না। মুদ্রার অন্য পিঠও আছে।

    মিডিয়া হাউসগুলো এখন গার্মেন্টসের চেয়েও খারাপ প্রতিষ্ঠান সেটা নিশ্চয়ই জানেন। সংবাদ প্রচার করে বাহবা কুড়ানো আর সাংবাদিক-ফটোগ্রাফার-ক্যামেরাম্যানদের পায়ের তলায় চেপে রাখা এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। ‘অমুক পত্রিকা অমুক ছবি-নিউজ পাইছে, তুমি পাও নাই কেন? সাসপেন্ড।’ বউ-পোলাপাইন-মা-অসুস্থ বাপ-ভাই নিয়ে তো তাদেরও খেয়ে-পড়ে থাকতে হবে। কারো আবার ধার করা টাকায় ক্যামেরা কেনা। দেনাদাররা সারাদিন এসে জিজ্ঞাসা করে, টাকা কবে দিবেন? সব মিলিয়ে, ঢাকার রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়া বিহারি জমাদার আর টিভি-পত্রিকার সাংবাদিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না।

    সাংবাদিকরা নাহয় নির্মম-নিষ্ঠুর কাজ করেছেন- সে রাস্তায় তো কয়েক হাজার লোক এ দৃশ্য দেখছিল- তাদের তো হাতে ক্যামেরা ছিল না। সে-মানুষগুলো কী করেছিল?

    এবার আসুন, ফলোআপ নিউজ প্রসঙ্গে। সেদিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা ফটোসাংবাদিক। অ্যাসাইনমেন্ট ওই রাস্তায় পড়েছিল বলে অমন ছবি তুলতে পেরেছিলেন। কিন্তু এর পরের দায়িত্ব কিন্তু তাদের নয়। ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট কারা লিখে কেন লিখে সেটা নিশ্চযিই আপনি জানেন। বেশি কিছু হলে পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের মালিককে বলা হবে, সরকারি বিজ্ঞাপন কিন্তু পাবেন না। ব্যস, সব বন্ধ, শুধু ডেইলি ইভেন্ট করো। ওই বিজ্ঞাপনেই তো দুটো পয়সা আসে। কী যায়-আসে এরকম দুএকটা বিশ্বজিত মরলে! সে মরেছে, আমরা মরব কেন।

    নষ্ট মানুষদের নষ্ট পেশায় কাজ করছেন ম্যাডাম, এসব মুল্যবোধের গল্প আপনার মুখে মানায় না।

    Reply
    • Sadia Mahjabin Imam

      (নষ্ট মানুষদের নষ্ট পেশায় কাজ করছেন ম্যাডাম, এসব মুল্যবোধের গল্প আপনার মুখে মানায় না)
      আপনার এ ধরণের আক্রমণাত্মক আচরণে আমি যদি বলি, আসলে এ লেখায় কী বলা হয়েছে তার সমালোচনার চেয়ে আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, খুব কি ভুল হবে?

      আপনার কথায় আমার মনে হচ্ছে আপনি নিজেও মিডিয়া হাউজের মানুষ। তবে একটা কথা বলি, আমি আমার ৬ বছরের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কাজের অভিজ্ঞতায় ফুটেজ বা ছবির জন্য কারো চাকরি যেতে দেখিনি। ফুটেজ না পেলে উর্ধ্বতনদের কথা শুনতে হবে- এটা তো দোষের কিছু নয়। তার চেয়েও বড় কথা, একজন প্রফেশনাল রিপোর্টার নিজেই এজন্য আত্মগ্লানিতে ভুগবেন। ঢালাও মন্তব্য কোথাও করা হয়নি।

      কার্টারকে কোথাও মহান করার চেষ্টা করা হয়নি। বলেছি, তার মধ্যে যতটুকু মানবিক মূল্যবোধ ছিল সেটা আমাদের নেই। মহান হলে তো স্পটেই সেফ করতেন মেয়েটাকে। আরেকটা বিষয়, ওখানে সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিল আর তাদেরও দায়িত্ব ছিল সেটা লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি খেয়াল করেননি।

      (মিডিয়া হাউসগুলো এখন গার্মেন্টসের চেয়েও খারাপ প্রতিষ্ঠান সেটা নিশ্চয়ই জানেন)

      না জানি না । আমার কাছে কখনও তা মনে হয়নি। কিন্তু আপনি বাইরে থেকে এমন ঢালাও মন্তব্য করেন কীভাবে? আর যদি মিডিয়ার কেউ হয়ে থাকেন তাহলে বোধকরি এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

      Reply
  22. এ হুসাইন মিন্টু

    এখন তো সবকিছু কমার্সিয়াল হয়ে গেছে। সরকার, রাজনৈতিক দল, ধর্ম, গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মন পর্যন্ত!

    সরকার তার মেয়াদ বাড়ানো অর্থাৎ আগামী নির্বাচনে কীভাবে জিতবে তা নিয়ে ব্যস্ত। সে লক্ষ্যেই ত্রাণ থেকে শুরু করে উন্নয়ন-কর্মকান্ড এমনকী জাতীয় পুরষ্কার পর্যন্ত বিতরণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন-বাণিজ্য থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। সব জেনেশুনেও উপর-মহল খামোশ। কিছু বললে সাধারণ নেতাকর্মীরা যদি দল বদলে ফেলে!

    ধর্মের নামে চারপাশে যা হচ্ছে তা তো সব বীভৎসতাকেও হার মানিয়েছে। ধর্মের নামে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমাতায় যাওয়ার অপচেষ্টা, বোমাবাজি, মানুষ-হত্যা চলছে। তার ওপর একসময়কার কুখ্যাত রাজাকার, ধর্ষণকারী আর হত্যাকারীদের মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে ধর্মের বাণী!

    গণমাধ্যমকে মানি-মাধ্যম বলা যায়। খবরের মোড়কে নিজস্ব মতামত প্রকাশের লাইসেন্সদারি পন্থা! পত্রিকার সম্পাদকরা জীবনভর বস্তনিষ্ঠতার কথা বলে মুখে ফেনা তুললেও ওরা আসলে ওসবের ধার ধারেন না। আমাদের পত্রিকাগুলোতে প্রখ্যাত লেখকদের ফালতু লেখা হেডিং হলেও সাধারণ লেখকের লেখার স্থান হয় না।

    বাবা-মা ছেলেমেয়েকে কষ্ট করে লেখাপড়া করান। লক্ষ্য থাকে- সন্তান লেখাপড়া করে বড় অফিসার, উকিল, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে, ভালো উপার্জন করবে। বিলাসবহুল ঘর বানাবে, ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট, প্লটে আর অঢেল ব্যাংক-ব্যালেন্সের মালিক হবে। কিন্তু কোনো বাবা-মা সন্তানকে একবার এ প্রশ্ন করেছেন কি- তোমার উপার্জনের উৎস কী? তোমার ঘরের ইটগুলোর মধ্যে ক’টা সৎ আর ক’টা অসৎ উপার্জনে ক্রয় করেছ? সব বাবা-মা সন্তানকে বড় করেন নিজেদের দুর্দিনে সহায় হওয়ার জন্য, ওরা শেষকালে তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিবে, এই ভেবে। ক’জন সন্তানকে মানুষ করেন এ ভেবে যে, বড় হয়ে আমার সন্তান মানুষের জন্য কিছু করবে, সমাজের জন্য কিছু করবে, দেশের জন্য কিছু করবে!

    স্ত্রী দামি শাড়ি-গয়না পেয়ে মোমের মতো গলে যান। কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে প্রশ্ন করেছেন কি যে, ঊনিশ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে তেইশ হাজার টাকার শাড়ি কীভাবে কিনলে? বাবা যখন তার সন্তানকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান, তখন কোনো সন্তান তার বাবাকে প্রশ্ন করেছে কি, বাবা, তুমি আমার লেখাপড়া-বাবদ এত খরচ কোথায় থেকে দিবে? যে টাকা দিবে তা কি সৎপথে উপার্জিত? অসৎপথে উপার্জিত টাকায় লেখাপড়া করে আমি সুশিক্ষিত হব কীভাবে ?

    Reply
  23. রাসেল

    সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম, আপনার আবেগের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। বিশ্বজিতের নৃশংস মৃত্যুদৃশ্যের বাণিজ্য নেহায়েত অন্যায়। তবে যারা জনসচেতনতা কিংবা জনতার অসহায়ত্ব কিংবা প্রশাসনের নির্লজ্জ দলীয় অন্ধত্ব কিংবা আরও অন্য যে সব কারণ দেখিয়ে এ নৃশংসতার অবারিত প্রসার ও প্রচার চাচ্ছে তাদের লাশ-ব্যবসায়ী বলতেও দ্বিধা নেই আমার।

    এমন অসহায় আকুতি নিয়ে প্রাণভয়ে ছুটতে থাকা মানুষটাকে যারা ধীরে ধীরে নিশ্চিতভাবে হত্যা করল, তাদের ন্যায়বিচারের কিংবা উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং সাংবাদিকদের অধিকাংশই মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী কিংবা কতিপয় সরকার-সমর্থক পত্রিকার কলাম-লেখকের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গিয়ে উন্মোচন করেছেন হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়। তাদের নৃশংসতার প্রতি নির্লিপ্ত অন্ধত্বের কারণ যে পুলিশের ভেতরে সরকারের আনুগত্য এটাও প্রকাশ করেছেন তারা।

    তারা হয়তো উপযুক্ত প্রশ্নটা করতে পারেননি। এমনকী আপনি একটু কষ্ট করে বিশ্বজিত-বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো পড়লেই বিষয়টা উপলব্ধি করবেন। শব্দ এবং শব্দের অন্তরালে থাকা নৈঃশব্দের গুঢ়ার্থ উন্মোচন করে ফেলেছেন এখানে।

    সাংবাদিকদের লাশ-ব্যবসায়ী না হয়ে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করা প্রয়োজন ছিল বলে যদি মনে করেন, তাহলে এখানে ইনভেস্টিগেশনের জায়গাটা কোথায়? হত্যাকারীর বাসার ঠিকানা, যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের রোল নাম্বার, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, পিতামাতার নাম সবই তো গণমাধ্যমে এসেছে। না কি হত্যাকারীদের বগলে বাগ লাগিয়ে সারাক্ষণ জিপিএস ট্রৗকি করাটা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম?

    মানছি, তারা পুলিশকে হত্যাকারীদের ঠিকানা বাতলে দেননি। কিন্তু তারা ক্রমাগত বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ড উপেক্ষার কিংবা সরকারি উদাসীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন- হত্যাকারীরা মূলত সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের বর্তমান কর্মী এবং তারা নেতৃত্বের লোভে এমন কাজ করেছেন। এর বাইরে সাংবাদিকদের দায়িত্ব কী ছিল?

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনে হয় যে, ৮ জন, সাকুল্যে ১৫ জন যারা সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিল তাদের সবাইকেই ধীরে ধীরে আটক করবে পুলিশ। সবার বিরুদ্ধে হত্যা-মামলা হবে। ভিডিও ফুটেজ যদি সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয় তাদের কয়েকজনের বড় ধরনের শাস্তি হবে। যদি আইন নিজের মতো চলে তাহলে কিন্তু একইসঙ্গে চলমান ঐতিহ্য থেকে বলা যায় যে, এদেশে যেহেতু কোনো রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি, সুতরাং এটা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার উদাহরণ হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা পর্যায়ে যাবে এবং হত্যাকারীরা বেশ নির্বিঘ্নে বাইরে চলে আসবে। সে সম্ভবনা কিংবা আশঙ্কাটা আপনারও আছে।

    আপনি কেভিন কার্টারের উদাহরণ নিয়ে এসেছেন এবং যে কারণে কেভিন কার্টারের আত্মহত্যা- দুর্ভিক্ষের ছবি এবং এর নেপথ্যে একধরনের গুজব প্রচারিত হয়েছে- সে গুজবটার বিস্তার করেছেন এসব লেখার ফাঁকে। কেভিন কার্টারের দুর্ভিক্ষের ছবির সঙ্গে ফটো সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীদের পেশাদারী নির্লিপ্ততার তুলনা করে সাংবাদিকদের অনুভুতিশূণ্য প্রমাণ করা একধরনের ঋণাত্মক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছে। তিনি কেন এ ছেলেকে না বাঁচিয়ে ২০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছিলেন সঠিক মূহূর্তের জন্য, এটা নিয়ে একধরনের আলোচনা আছে।

    তবে যদি আরও একটু খতিয়ে পড়তেন তাহলে জানতে পারতেন, জনাব কেভিন কার্টার তাঁর ছবি নিয়ে কখনও অপরাধবোধে ভুগেননি। তিনি অনেক কারণেই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন কিন্তু দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ উপলব্ধি তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়নি।

    আপনার লেখাটা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মুথ থুবড়ে পড়েছে কেভিন কার্টারকে ঘিরে গজিয়ে ওঠা গুজবের মতো

    Reply
    • Sadia Mahjabin Imam

      ‘Im haunted by d vivid memories of killings nd corpses nd anger nd pain ….of starving or wounded children `

      আমার সমালোচকের উদ্দেশে বলছি, এটাই ছিল কেভিনের সুইসাইড নোট।

      জনাব রাসেল, আরেকটি কথা, সে সময় তিনি অর্থের অভাবে পড়েছিলেন, ড্রাগ নিতেন প্রচুর। আমি এটা জানি কিন্তু তাঁর মূল সমস্যা ছিল মানুষ হিসেবে ওই দুর্ভিক্ষপীড়িত মৃত্যুপথডাত্রী ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে না পারার বেদনা।.

      আরও জানতে চাইলে আপনি ব্যাং-ব্যাং ক্লাব মুভি দেখতে পারেন, এটি একটি কানাডীয়-দক্ষিণ আমেরিকান ছবি। স্টিভেন সিলভারের।

      সবকিছু সত্ত্বেও মি. ক্রিটিক, আপনাকে ধন্যবাদ।

      Reply
      • কাজী মাহবুব হাসান

        সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম

        কেভিন কার্টার সম্পর্কে পনার তথ্য সঠিক নয়।

        দক্ষিণ সুদানে সেদিন যা ঘটেছিল সেটা তাঁর সহযোগীরা ভালোভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন পরে (এর মধ্যে তার ব্যাঙ-ব্যাঙ ক্লাবের সহযোগী ফটোগ্রাফারদের একজন ছিলেন)। আর সব সংবেদনশীল মানুষের মতো দুর্ভিক্ষপীড়িত সে শিশুর কষ্ট তাঁকেও স্পর্শ করেছিল। তিনি পরে সে শকুনকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে ফিডিং সেন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। তবে তার আগেই ফটোগ্রাফাররা সে জায়গা ছেড়ে চলে যান। ফিডিং সেন্টারে তাদের অবস্থানের সময় ছিল মাত্র ৩০ মিনিট। ছবিটি আরও ক’জন তুলেছিলেন।

        ঘটনাটি অবশ্যই তাঁকে স্পর্শ করেছিল যা অসংখ্য সংবেদনশীল মানুষকেও তা করেছে; তাঁর ডায়েরিতে সে বোধটা আছে, তাঁর বন্ধুর কাছে উচ্চারিত শব্দেও তা আছে …

        তবে এ ছবির স্বীকৃতি তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এরপর কোনোকিছু তাঁর পরিকল্পনামতো আর কিছুই ঘটেনি,

        তাছাড়া ছবিটি ঘিরে কিছু গুজব ডালপালা মেলেছিল কিছু সংবাদপত্র যারা কেউই সেখানে কেভিন ও অন্যান্য ফটোগ্রাফারদের কাজকর্ম দেখেনি।

        তাঁর সুইসাইড নোটে আরও লেখা ছিল…

        “depressed . . . without phone . . . money for rent . . . money for child support . . . money for debts . . . money!!! . . . I am haunted by the vivid memories of killings & corpses & anger & pain . . . of starving or wounded children, of trigger-happy madmen, often police, of killer executioners . . . I have gone to join Ken if I am that lucky.”

        আপনি কী করে জানলেন যে, “তাঁর ”মূল সমস্যা” ছিল মানুষ হিসেবে ওই দুর্ভিক্ষপীড়িত মৃত্যুপথডাত্রী ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে না পারার বেদনা।”

        এ ছবির আগে ও পরে তাঁর জীবনে আরও বহু কিছু ঘটেছে। ব্যাঙ-ব্যাঙ ক্লাবে তাঁর সহযোগী প্রিয় বন্ধু ফটোজার্ণালিষ্টকে (…Ken) ক্রসফায়ারে হারিয়েছেন, তাঁর নিজের দেশে প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনের আগে ANC আর IFP এর নিজেদের মধ্যে সহিংসতায়।

        সুদানের সে ছবি তোলার পর Bophuthatswana য় সাদা ডানপন্থী মিলিশিয়াদের আগ্রাসন দেখেছেন এবং সেখানে তিনি খুব কাছে থেকে দেখেছিলেন শ্বেতাঙ্গ এক মিলিশিয়ার হত্যা-দৃশ্য যেখানে তাঁরও মৃত্যু হতে পারত।

        Lying in the middle of the gunfight, I was wondering about which millisecond next I was going to die, about putting something on film they could use as my last picture.”

        এরপর তাঁর মাদকাসক্তিজনিত অবস্থার অবনতি হয়, প্রেমিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর জন্য তাঁকে জেলে যেতে হয়, রয়টার্স-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়, পুলিৎজার পাওয়ার ৬ দিন পর ব্যাঙ-ব্যাঙ ক্লাবের জন্য যে ছবি তাঁর তুলতে যাওয়ার কথা- সেখানে তাঁর প্রিয় বন্ধু Ken Oosterbroek যান, যিনি মারা যান সেদিন; যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙ্গে দিয়েছিল।

        পুরষ্কার পাওয়ার পর তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হন। প্রথম তাঁর ফটোগ্রাফ এবং তারপর তাঁর এথিক্স নিয়ে প্রশ্ন উঠে। কিন্তু এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর কেভিন কার্টার কখনও দেননি। কারণ তাঁর কাছের যারা সেদিন সেখানে ছিল, তারা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। বিষয়টির পরবর্তীতে ব্যাখাও দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তারপরও এ কষ্ট-পাওয়া মানুষটাকে গুজবের অত্যাচার তাঁর মৃত্যুর পরও রেহাই দিল না!

        পুরষ্কার পাওয়ার পরও তাঁর পেশাগত জীবনে বেশ ঝামেলায় পড়েন। তাঁর নেশা, মানসিক অসুস্থতা তাঁর কাজে প্রতিবন্ধকতা হয়, যেমন সিগমা এজেন্সির সঙ্গে, এরপর টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে। এছাড়া ছিল ডিপ্রেশন। তিনি বন্ধুদের স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন যে, তিনি আত্মহত্যার কথা ভাবছেন। জুলাই এর ২৭ তারিখ তিনি কার্বন মনো অক্সাইড গ্যাস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।

        কেভিন কার্টারকে নিয়ে এইচবিও একটি ডকুমেন্টরি করেছে। The death of Kevin Carter: Casualty of the Bang Bang Club, পরিচালনা করেছেন ড্যান ক্রাউস। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের উভয়সঙ্কট নিয়ে। সমাজ এখনও প্রস্তুত হয়নি সাংবাদিকরা ওখানে কীরুপে অবতীর্ণ হবেন সেটা মেনে নিতে … সাক্ষী নাকি ত্রাতা …..

      • Hajee Rafique

        আপনি কেভিন-এর সুইসাইডাল নোটের পুরোটা দেননি। যতটুকু আপনার দরকার ততটুকু নিয়েছেন। বাহ!

        কেভিনেরর সুইসাইডের কারণ শুধু একটি নয়, যা আপনার লেখার মতামত হিসেবে ছাপা হয়েছে, দেখলাম। ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত মৃত্যুপথযাত্রী ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে না পারার বেদনা’ নাকি ‘ইচ্ছে করলেই বাঁচাতে পারতেন মেয়েটিকে’—আসলে মেয়েশিশু হবে। অনেকের হয়্তো এ লেখা ভালো লাগবে না। কিন্তু, এটি আসলেই বিপুল মানবিক আবেদনময়। এখানে যারা নিয়ত-নীতির কথা বলেন, বঞ্চিত জনতার কথা বলেন, শোষিতের বন্ধু সাজেন– তাদের এরকম একটি লেখায় চোখ বোলানো দরকার।

  24. Biplob Sarker

    চমৎকার লিখেছেন।
    এই পোড়ার দেশে একের পর এক অন্যায় অবিচার দেখে অক্ষম আক্রোশে কেবলই মানসিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি আমরা;যারা একটু আধটু অনুশোচনায় ভূগি।
    আমাদের সবকিছুই ভোতা, অকেজো হয়ে গেছে। এখানে কেউ কেভিন কার্টার নয় যে অনুশোচনায় আত্মহত্যা করবে। তাই যদি হতো তাহলে এখানে গণআত্মহত্যায় আরো বহু মানুষ অক্ষম আক্রোশের প্রকাশ ঘটাতো। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আত্মহত্যা নয়; অপরাধীদের বিরুদ্ধে, সে যেই হোক রাজনীতিবিদ, পুলিশ-র‍্যাব, এমনকি ঐ নৈতিকতাহীন সাংবাদিক-চিকিৎসকদের তীব্রভাবে ঘৃনা জানাই- যারা চাইলে একটি নিরীহ তাজা প্রাণকে বাঁচাতে পারতো।
    ধন্যবাদ লেখককে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—