Feature Img

tanvir-fহারিকেন শক্তিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির তাণ্ডবে কিছুদিন আগে আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও জনগণ আগে থেকে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিলেও স্যান্ডির বিশাল ব্যাপ্তির কারণে (উপকূলের প্রায় ১০০০ মাইল জুড়ে ছিলো) এ পর্যন্ত প্রায় ১১৩ জন নিহত ও ৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানলেও এ সময় বাংলাদেশের মিডিয়া এবং মানুষের ফেসবুকে আলোচনায় ছিলো শুধু স্যান্ডি। অথচ কাছাকাছি সময়ে ঘূর্ণিঝড় নীলম ভারতে আঘাত হানলেও তাতে আমাদের তেমন সাড়া দেখা যায় নি। নীলম যদিও ‘হারিকেন’ শক্তিসম্পন্ন ছিলো না (ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৭৪ মাইলের বেশি হলে তাকে আটলান্টিক মহাসাগর এলাকায় ‘হারিকেন’ বলা হয়), তবুও এ ঝড়ে শ্রীলংকা ও ভারতে ৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের ওপর দিয়েও বয়ে যেতে পারত। কিছুদিন আগে (১১ই অক্টোবর) নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট উপকূলীয় ঝড়ে বাংলাদেশের তিনটি জেলায় ২৭ জন লোক নিহত এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক জেলে নিখোঁজ হয়েছিলো (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা )। বাংলাদেশের মানুষের জীবন হয়তো খুব সস্তা বলে দেশের মিডিয়ায় বেশ দায়সারাভাবে এই খবর এসেছিলো, আমাদের ফেসবুকেও তা কোন আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় নি; নিখোঁজ সেই ৫০০ জেলের কোনো ফলোআপও কোনো পত্রিকায় চোখে পড়ে নি।

তবে নিজেদের এহেন দুরবস্থার দিকে নজর না পড়লেও আমেরিকায় স্যান্ডি বা এ ধরনের কোন দুর্যোগের সময় আমাদের অনেককে বলতে শোনা যায় বাংলাদেশ নাকি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমেরিকার চেয়ে উন্নত এবং যেহেতু আমাদের অনেক বেশি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করতে হয় এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি তাই একটু বেশি প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু আসলেই কি তাই? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত যাবার আগে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিমত্তা এবং প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে একটু আলোকপাত করি।

সাধারণত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর কেন্দ্রীয় বায়ু চাপ (central pressure) খুব কম হয় এবং এর ভিত্তিতে কোন ঘূর্ণিঝড় কেমন শক্তিশালী ছিলো তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ায় বায়ুর চাপের ভিত্তিতে নির্ণীত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের এই রেকর্ড থেকে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় হয়, কিন্তু হতাহতের পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখা যায় আমাদের অঞ্চলই সবচেয়ে এগিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে রয়েছে ১৯৭০ সালের ১২ ই নভেম্বরে আঘাত হানা ভোলা ঘূর্ণিঝড় যাতে প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ নিহত হয়েছিলো। আমরা জানি, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের খবর প্রচার করলেও উপকূলের বেশিরভাগ মানুষের কাছে রেডিও না থাকায় সে খবর পৌঁছে নি, জনগণকে সতর্ক করার কোন উদ্যোগও নেয়া হয় নি- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে তখন দেশে কিছুই ছিলো না। অথচ ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়টি বাতাসের গতিবেগ অনুযায়ী ছিলো ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার হারিকেন (সর্বোচ্চ মাত্রা হলো ৫)। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনাও ৩ মাত্রার হারিকেন হিসেবে আঘাত করেছিলো। ক্যাটরিনার সময় প্রায় ১৮০০ লোক মারা গেলেও পরিস্থিতি অবনতির পেছনে মূলত দায়ী ছিলো রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির কারণে নিউ অর্লিন্সের লেভি সিস্টেম (বাঁধ) ধ্বসে পড়া এবং তাতে ঘূর্ণিঝড়ের ভূমিকা ছিলো গৌণ।
huricane-1
আমাদের দেশে ১৯৭০ এর পর সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঝড় হয়েছিলো ১৯৯১ সালে। প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার লোক ২৯শে এপ্রিল রাতে ক্যাটাগরি ৪ মাত্রায় আঘাত হানা সেই ঘূর্ণিঝড়ে মারা গিয়েছিলো। এবারও সরকার রেডিও, টেলিভিশনে ঘূর্ণিঝড়ের খবর প্রচার করলেও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে লোকজন সরিয়ে নেবার কোন ব্যবস্থা নেয় নি যার ফলে এত প্রাণহানি ঘটেছিলো। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এর পরের বছর ১৯৯২ সালে হারিকেন এন্ড্রু আঘাত হানে যেটিও ছিলো ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তখন মাত্র ৬০-৭০ জন লোক নিহত হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক হতাহত হয়েছিলো আজ থেকে ১১২ বছর আগে ১৯০০ সালে টেক্সাসের একটি ঘূর্ণিঝড়ে। আনুমানিক ৬-১২ হাজার লোক তখন প্রাণ হারিয়েছিলো। আমেরিকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস প্রায় দুইশ বছরের। দুর্যোগে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করা- এখানকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান প্রায়োরিটি এবং দীর্ঘ দিনের চর্চা ও নানা ধরনের সিস্টেম প্রতিষ্ঠার ফলে যে কোন দুর্যোগে তারা প্রাণহানির সংখ্যা কম রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু যেটা এখন তাদের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর বিনিয়োগের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি। এজন্য আমেরিকান মিডিয়াতেও কোন ঘূর্ণিঝড় হলে তা সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

আমাদের দেশে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হয়েছে এবং সরকারও এখন ঘূর্ণিঝড় হলে দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে লোকজন সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে আমরা দেখেছি সিডর এবং আইলার সময় আগের ঘূর্ণিঝড়গুলো থেকে প্রাণহানি অনেক কম হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের সময় লোকজন সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণই কি শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজ? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়টা আসলে কী এবং আমাদের অবস্থান আসলে কোথায় সেটা তবে একটু দেখা যাক।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চারটি পর্যায় রয়েছে- প্রস্তুতি (preparedness), প্রশমণ (mitigation), উদ্ধার (response) এবং পুনর্বাসন (recovery) [চিত্র]
huricane-2
১। দুর্যোগ প্রস্তুতি (Disaster preparedness)- দুর্যোগ প্রস্তুতি হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ। প্রস্তুতি আবার তিন ভাবে নিতে হয়- ব্যক্তিগত প্রস্তুতি, কমুনিটি বা আপনি যে এলাকায় থাকেন সে এলাকার প্রস্তুতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি। রাষ্ট্রের কাজ হলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নেয়া ছাড়াও এলাকা ও মানুষের ব্যক্তিগত প্রস্তুতিতে সাহায্য করা। এ পর্যায়ের কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- সবরকম দুর্যোগ চিহ্নিত করা, সময়মতো দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়া, জনসাধারণকে অবহিত করা, উদ্ধারকাজ যেন তরান্বিত হয় তার পরিকল্পনা করে রাখা, নাগরিক এবং উদ্ধারকারীদের জন্য বিভিন্ন রকম ড্রিল, এক্সারসাইজ, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। গত ১১ই অক্টোবর উপকূলীয় যে ঝড়ে ৫০০ লোক নিখোঁজ হয়েছিলো তার কোন পূর্বাভাস আমাদের আবহাওয়া বিভাগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জনসাধারণকে দেয় নি। এদেশে টর্নেডোর পূর্বাভাস এখনো দেয়া হয় না, বন্যার পূর্বাভাস সময়মতো পাওয়া যায় না, ভূমিকম্পের জন্য কোন প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেই- এই হলো মোটামুটি অবস্থা।

২। প্রশমণ (Hazard mitigation): দুর্যোগ প্রশমণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগকে থামিয়ে বা বন্ধ করে দিতে পারি না, কিন্তু নানা প্রশমণমূলক ব্যবস্থা নিয়ে এগুলো থেকে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারি। প্রশমণমূলক ব্যবস্থাও দুই ভাগে ভাগ করা যায়- স্ট্রাকচারাল এবং নন-স্ট্রাকচারাল। স্ট্রাকচারাল ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নদীতে বা সমুদ্রে বাঁধ তৈরি করা, ভূমিকম্পের জন্য বিল্ডিং রেট্রোফিট বা মজবুত করা ইত্যাদি। নন-স্ট্রাকচারালের মধ্যে রয়েছে ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা বা জোনিং যার মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন নিয়ন্ত্রণ করা হয়, জনগণের মধ্যে প্রশমণের বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে প্রচারণা ইত্যাদি। প্রশমণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, কিন্তু দেখা গেছে প্রশমণে বিনিয়োগ করলে দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি কম হয় তো বটেই, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজেও তখন আর রাষ্ট্রকে বেশি ব্যয় করতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের নিজ নিজ এলাকায় দুর্যোগ প্রশমণের জন্য ‘হ্যাজার্ড মিটিগেশান প্ল্যান’ আছে, যেখানে নির্দিষ্ট এলাকার বিভিন্ন দুর্যোগ চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য প্রশমণমূলক নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যথায় তারা কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দুর্যোগের সময় কোন সাহায্য পায় না। আমাদের দেশে কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের কোন ‘হ্যাজার্ড মিটিগেশান প্ল্যান’ আছে কিনা তা আমার জানা নেই।

৩। উদ্ধার (Response): দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার এই পর্যায়টি শুরু হয় কোন এলাকায় দুর্যোগ আসন্ন এবং তা সংঘটিত হওয়ার পর। এই পর্বের মূল কাজ হলো দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া এবং দুর্যোগ হওয়ার পর উপদ্রুত এলাকায় যারা বেঁচে আছে তাদের দ্রুত খোঁজা এবং উদ্ধার করা (search & rescue), ত্রাণ বিতরণ, আহতদের চিকিৎসা প্রদান ইত্যাদি। আগেই বলেছি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশে বেশ কিছু সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হয়েছে এবং এখন কোন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নিকটবর্তী হলে সরকার রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় সরকারের সহায়তায় লোকজন সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে বিক্ষিপ্ত কিছু প্রস্তুতি এবং প্রশমণ ছাড়া মোটামুটি এই উদ্ধার পর্যায়টিকেই বোঝানো হয় এবং ১৯৯১ সালের পর থেকে এ পর্যায়ে যে অগ্রগতি হয়েছে তার প্রমাণ প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা। কিন্তু এটা আরো কমিয়ে আনা যেত যদি অন্য পর্যায়গুলোতেও একই অগ্রগতি হতো।

৪। পুনর্বাসন (Recovery): দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার এ পর্যায়টি বাংলাদেশে মোটামুটিভাবে অনুপস্থিত। ত্রাণ বা রিলিফ বিতরণের পরপরই সাধারণত আমাদের দেশে দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পুনর্বাসন হলো দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর দুর্যোগ পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবার প্রক্রিয়া। আমাদের দেশে যে পরিবারগুলো ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগে স্বজন হারায়, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, রিলিফ বিতরণের পরে রাষ্ট্র বা আমরা তাদের কি কোন খোঁজ-খবর রাখি? অথচ পুনর্বাসন পর্যায়ের কাজ হলো এদের জীবনকে দুর্যোগ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া- তাদের চাকুরি, ব্যবসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, দুর্যোগ এলাকায় যে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-পাট, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলোকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া ইত্যাদি।

ডঃ তানভীর ইসলাম : সহকারী অধ্যাপক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—