প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অধিকাংশ বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে খবর সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর প্রকাশের সূত্র ধরে এক ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে ঢাকার সাংবাদিকদের মধ্যে। প্রতিদিনই এ নিয়ে আলাদা করে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে পত্রপত্রিকায়। দু একটি পত্রিকা ‘টক শো নিষিদ্ধ হচ্ছে’- বলে আগাম খবরও দিয়ে দিয়েছে। তবে তথ্যমন্ত্রী এরকম খবর নাকচও করে দিয়েছেন। এই আলোচনা যে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির ইস্যু হবে তা বলেই দেওয়া যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ‘আনুষ্ঠানিক’ বাস্তবায়নের কোনো বিশ্লেষণ এখন পর্যন্ত কোনো মিডিয়ায় চোখে পড়েনি।

আমাদের প্রায় প্রতিটি মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নামে আলাদা বিট আছে এবং কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহের জন্য এক বা একাধিক রিপোর্টার/ফটোগ্রাফার সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন। এই বিটের রিপোর্টারদের কাজ মোটা দাগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনে এসে তা লিখে দেওয়ার মধ্যেই সীমিত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ডাক পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিটের রিপোর্টাররা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনে লিখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন। এর বাইরে মিডিয়ার কি তেমন কোনো ক্ষতি হয়েছে? মোটেও হয়নি। তবে পাঠক হিসেবে আমি বলতে চাই এতে পাঠকদের অনেক উপকার হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে লাভবান হবেন কি না সেটি অবশ্য ভিন্ন আলোচনার বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া, এমনকি অন্যান্য নেতা নেত্রীরা যখন বক্তৃতা করেন, তারা কি কেবল প্রতিপক্ষকে গালিগালাজই করেন? নিজ দলের সাফল্যের কথা, পরিকল্পনার কথা কিছুই বলেন না? অবশ্যই তারা বলেন। হয়তো তাদের বক্তৃতার সিংহভাগই থাকে প্রতিপক্ষের সমালোচনা কিন্তু মিডিয়ার রিপোর্টে কেবল গালাগালিই স্থান পায়। নেতা নেত্রীরা ইতিবাচক যে সব কথাবার্তা বলেন সেগুলো খুব একটা মিডিয়ায় আসে না। ফলে আমাদের রাজনীতিকদের একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে পাঠকদের কাছে। আমি বলবো না, মিডিয়া একাই কেবল এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। অবশ্যই রাজনীতিকদেরও দায়ভাগ এতে কম না। কিন্তু মিডিয়া নেত্রীদের পারষ্পরিক গালাগালি যতো পছন্দ করে, অন্য কিছু সম্ভবত করেন না। খালেদা জিয়া অনেকদিন ধরেই রাজনীতিতে একটু চুপ মেরে আছেন, ফলে এই সময়ে মিডিয়ায় তার তেমন একটা উপস্থিতি নেই। কিন্তু গত একমাসে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত শেখ হাসিনার বক্তৃতার শিরোনামগুলো সামনে নিয়ে বসলে দেখা যাবে শেখ হাসিনা এই সময়ে কেবল আপত্তিকর ভাষায় প্রতিপক্ষকে গালাগালিই করেছেন, আর কিছুই করেন নি। শেখ হাসিনার গালাগালি যেমন খবর, শেখ হাসিনার নিজ কর্মকাণ্ড কিংবা পরিকল্পনা নিয়ে বলা কথাগুলোও তো খবর। মাসের ত্রিশ দিনই তো আর গালাগালি প্রধান শিরোনাম হতে পারে না। আর হলেও রিপোর্টে তো পরিকল্পনার কথাগুলোও থাকতে হবে। সেটি না থাকলে অবশ্যই রিপোর্টারদের, মিডিয়াকে আমরা মতলবি সাংবাদিকতার দায়ে অভিযুক্ত করবো।

মূল কথায় আসি। বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশে কি মিডিয়া প্রধানমন্ত্রীর পেছনে সার্বক্ষণিক লেগে থাকে? কানাডার কথাই বলি। তেমন কোন ডিসক্লোজার না থাকলে কানাডার মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর খবর কানাডার মিডিয়াতে খুজেঁ পাওয়া যায় না। গত ৭/৮ বছর ধরে এমনটিই দেখে আসছি। তবু বিষয়টি জানার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস ডিপার্টমেন্ট-এর সঙ্গে। গত বৃহ্ষ্পতিবার সকালে টেলিফোনে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ডিপার্টমেন্ট-এর একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি খানিকটা বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওই কর্মকর্তাটি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘পাবলিক ইভেন্ট’ না থাকলে সেখানে মিডিয়া আসবে কেন? ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যাবলীর খবরাখবর তারা প্রেস ডিপার্টমেন্ট-এর ওয়েবসাইটে দিয়ে রাখেন। সেখানে প্রয়োজনীয় ছবি প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার কপি, প্রেস বিজ্ঞপ্তির কপি সবই আপলোড করা থাকে। মিডিয়া তার প্রয়োজনমতো সেখান থেকে নিয়ে নেয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর খবরাখবর কাভার করেন এমন সাংবাদিকদের প্রায় সবাই ওই ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রাইভার। ফলে কোন হালনাগাদ তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টারদের ইমেইলে সেটি চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কোন অনুষ্ঠানে কি সাংবাদিকদের ডাকা হয় না? অবশ্যই ডাকা হয়। কেবল ‘পাবলিক ইভেন্ট’ থাকলেই রিপোর্টারদের প্রবেশাধিকার মিলে ওই সব অনুষ্ঠানে। তাও আবার সব অনুষ্ঠানেই রিপোর্টারদের প্রবেশাধিকার থাকে না। কোন কোন অনুষ্ঠান থাকে কেবল ফটোগ্রাফারদের জন্য। নির্দিষ্ট সময়ে ফটোগ্রাফাররা গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের ছবি তুলে নিয়ে আসেন। ওই সব অনুষ্ঠানে রিপোর্টারদের প্রবেশাধিকার থাকে না। যে সব অনুষ্ঠান ‘মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত’ সেই অনুষ্ঠানগুলোতেই কেবল রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার সবাই যেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর পাবলিক ইভেন্টগুলোর তথ্যও ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হয় আগের দিন। ‘মিডিয়া এডভাইজরী’ নামে প্রধানমন্ত্রীর পাবলিক ইভেন্টের তথ্য প্রকাশ করা হয় ওয়েবসাইটে। সেখানে লেখা থাকে অনুষ্ঠানটি মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত কি না। উদাহরন দেওয়া যাক। ১৯ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর পাবলিক ইভেন্টের যে মিডিয়া এডভাইজরীটি প্রকাশ করা হয় সেটিতে বলা হয়েছে,
Public event for October 19, 2012
18 October 2012
Ottawa, Ontario
Public event for Prime Minister Stephen Harper for Friday, October 19th is:
Ottawa, Ontario
2:30 p.m. – Prime Minister Stephen Harper will deliver remarks at the Ukrainian Observer Mission Training Session.
Museum of Civilization
(The Future Canadian Museum of History)
100 Rue Laurier
Gatineau, Quebec
K1A 0M8
*Open to media
NOTES:
• Media are required to present proper identification for accreditation.
• Media should arrive no later than 1:50 p.m.

লক্ষণীয় এই নির্দেশনাটিতে বলে দেওয়া হয়েছে অনুষ্ঠানটি মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত। তবে আড়াইটার অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে যেতে বলা হয়েছে দুপুর ১.৫০ এ। এর আগের এডভাইজরীটি ছিলো ৯ অক্টোবর। অর্থ্যাৎ মাঝের ৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর কোন পাবলিক ইভেন্ট ছিলো না। এই ৮দিনে প্রধানমন্ত্রীর কোন কার্যক্রমেই মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ছিলো না। এবার নজর দেই ৯ অক্টোবেরর এডভাইজরীটিতে।
Public event for October 10, 2012
9 October 2012
Ottawa, Ontario
Public event for Prime Minister Stephen Harper for Wednesday, October 10th is:
Ottawa
8:50 a.m. – Prime Minister Stephen Harper will depart for Dakar, Republic of Senegal and Kinshasa, Democratic Republic of Congo.
Canada Reception Centre
Hangar 11
190 Convair Private
Ottawa, Ontario
*Photo opportunity only (Cameras and photographers only)
NOTES:
• Media are required to present proper identification for accreditation.
• Non-traveling media should arrive no later than 8:15 a.m.

লক্ষণীয়, এই অনুষ্ঠানটিতে কেবলমাত্র ফটোগ্রাফারদের প্রবেশাধিকার ছিলো, সেখানে রিপোর্টাররা ছিলো অনাহূত। বছরের পর বছর ধরে এইভাবেই চলে আসছে। কিন্তু কানাডার মিডিয়া এসব নিয়ে কখনো কোন প্রশ্ন তোলে নি। এটা ঠিক, কানাডা আর বাংলাদেশকে এক কাতারে ফেলে মাপা ঠিক না। কিন্তু পৃথিবীতো বদলাচ্ছে, সেই পরিবর্তনের ধাক্কা লাগছে বাংলাদেশেও। তাহলে বাংলাদেশ বহির্বিশ্ব দ্বারা অনুপ্রানিত হবে না কেন?

বাংলাদেশের মিডিয়া রাজনীতির সংস্কার নিয়ে গলা ফাটায়, তারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের চিন্তা করবে না কেন? বাংলাদেশের মিডিয়ারও উচিত নেতানেত্রীদের বক্তৃতার পেছনে ছুটাছুটি না করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সময় ব্যয় করা। আর প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া কাভারেজ নিয়েও একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা দৈননন্দিন কাজ করে যাবেন, এটাই তাদের দায়িত্ব। সবকিছুই মিডিয়াতেই আসতে হবে এমন কোনো কথা নেই। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের খবরাখবর নিয়মিতভাবে মিডিয়ায় সরবরাহের উদ্যোগটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরই নেওয়া উচিত। মাসে ২/৩টা অনুষ্ঠান থাকতে পারে যেখানে মিডিয়ার প্রবেশাধিকার থাকবে, কোন অনুষ্ঠানে মিডিয়ার প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে। কিন্তু সারাক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর, মন্ত্রীদের পেছনে ঝাঁক বেধে মিডিয়া ছুটোছুটি করবে- এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা জরুরী।

শওগাত আলী সাগরটরন্টোর বাংলা পত্রিকা ‘নতুন দেশ’এর প্রধান সম্পাদক

২৭ Responses -- “প্রধানমন্ত্রীর সব অনুষ্ঠানেই কেন সাংবাদিকদের থাকতে হবে”

  1. মিতা

    আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই তো বিদেশে যান। সে দেশগুলোর টিভি বা পত্রিকা কি উনার দেখার সময় বা সুযোগ হয় না?

    Reply
  2. সৈয়দ আলী

    খুবই যৌক্তিক প্রশ্নের শিরোনাম এবং বাস্তবতাভিত্তিক আলোচনা। লেখক, কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার তুলনা করেছেন। আমি নিজেও যেহেতু কানাডার বাসিন্দা, আমি দু’দেশের পাঠকসমাজ, মিডিয়া এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির তুলনা করতে সক্ষম। যদি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা কানাডার তথ্যমন্ত্রী এমন আদেশ জারি করেন যে এমনকী ‘পাবলিক ইভেন্টেও’ সংবাদিকেরা উপস্থিত থাকার অনুমতি পাবেন না, তাহলে এর প্রতিক্রিয়া কী হবে?

    বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে নিউজ ভ্যালু ও পাঠকের চাহিদা এবং সাংবাদিকদের সে সংক্রান্ত ‘বিট’ নিশ্চয়ই পেশাগত কারণেই গড়ে উঠেছে। তাই দু’দেশের সাংবাদিকদের পেশাদারী কার্যক্রমের তুলনা চলে না।

    তবে রাজনীতিবিদেরা বিশেষ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী (বদরুদ্দিন উমরের ভাষায়) নিম্নশ্রেণির রাজনৈতিক সংষ্কৃতি দেখিয়ে গালাগালই বা দেন কেন? যেহেতু আমরা সংবাদিকদের রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় একে-তাকে গালাগালির বহরের সঙ্গে তাঁর সরকারের কৃতিত্ব-জাহিরের সংবাদও পাঠ করি, সেক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর গালাগালি উল্লেখ করে রিপোর্ট করেন বা গালাগালির অংশটুকু রেকর্ড করে প্রচার করেন বলে অভিযোগ একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে আসা বোধহয় Stretching the facts বলা যায়।

    Reply
  3. রাজা

    সাগর,

    আপনি মিডিয়া অ্যাডভাইজরির কথা বললেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালযের মিডিয়া অ্যাডভাইজরি আছে। প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই অ্যাডভাইজরি পাঠানো হয়। তাতে লেখা থাকে কোনটাতে রিপোর্টার যাবেন, কোনটাতে রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যান যাবেন, কোনটাতে শুধুই ক্যামেরাম্যান যাবেন, আর কোনটা পিআইডির মাধ্যমে কাভারেজ হবে। এই বিষয়টি হয়তো জানা নেই। মূলত পাবলিক ইভেন্টেই রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যানরা যাওয়ার সুযোগ পান। এই সংখ্যা সপ্তাহে দুই-তিনটি।

    বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো কেন প্রধানমন্ত্রীর নিউজ কাভারেজের জন্য এত আগ্রহী? এ বিষয়ে আপনার জানা থাকার কথা…. সরকারের লোকজনই নিয়মিত মনিটরিং করেন… প্রধানমন্ত্রীর নিউজটাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হল, কোনটাকে দেওয়া না হল। না হলে অফিসিয়ালভাবে নয়তো ফোন করে চ্যানেলগুলোতে এক ধরনের চাপ দেওয়া হয়… এটাও নিশ্চয়ই আপনি জানেন?

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চাওয়া হত বলে প্রধানমন্ত্রীর পাবলিক ইভেন্টে রিপোর্টাররা গিয়ে সংবাদ কাভার করতেন। এখন পাবলিক ইভেন্টগুলোই কাভার করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে বলে রিপোর্টাররা চিন্তিত, মূলত কোনও-কোনও চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঠিকমতো প্রচার করে না বলে। কেউ যদি সংবাদ নেতিবচকভাবে প্রচার করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সবাইকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

    আর রিপোর্টাররা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে ভয় পান বলে আমার মনে হয় না। তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণেই সাম্প্রতিকের বড়-বড় দুর্নীতিগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাঠক-শ্রোতাদের সব নিউজই দিতে চান বলে প্রধানমন্ত্রীর পাবলিক ইভেন্ট কাভার করার জন্য একটি বিট নির্ধারণ করে রেখেছেন।

    আপনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কথা বললেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ক’টা পাবলিখ ইভেন্টে অংশ নেন, আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ক’টায় নেন, একটু হিসেব করে দেখুন। তাহলেই আপনার কাছে উত্তরটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    Reply
  4. syed ziauddin

    মিডিয়াকে সচল রাখতে হলে তা করতে হবে। তা না হলে ২২/২৫টা টিভি চ্যানেল চলবে কী করে? তার উপর প্রিন্ট মিডিয়া তো আছেই। আমরা অনেক সীমাবদ্বতা থেকে উঠে এসেছি বলে কোনও ক্ষেত্রেই আমাদের প্রত্যাশিত ঐতিহ্য গড়ে উঠেনি। এটা শুধু সাংবাদিকতা বা রাজনীতিতে নয়- সব ক্ষেত্রেই। তুলনা অবান্তর। ঈদ এবং কোরবানিতে গ্রামে-ফেরা মানুষ এবং মানুষদের অবস্থাটাই আমাদের আসল পরিচয়। হিসাব এখান থেকে মিলাতে হবে….

    Reply
  5. Mahee

    পাবলিক ইভেন্ট ছাড়া অন্য ইভেন্টে সাংবাদিক যাবে কেন? আমাদের দেশের সাংবাদিকরা কতটা সৎ? আজ পর্যন্ত শুনিনি এক সাংবাদিক অন্য সাংবাদিকের দুর্নীতি নিয়ে লিখেছেন! কোথাও একটা গুলি ফুটলে লিখছে হাজার-হাজার রাউন্ড গুলিবিনিময়! আমি বলছি না ওই একটা গুলি ফোটার খবর না ছাপাতে। কিন্তু পত্রিকার কাটতি বাড়াতে বা ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার জন্য তারা সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশেল দিয়ে আরও দশটা সমস্যা সৃষ্টি করে। আমি এ রকম অনেক ঘটনার সাক্ষী।

    অরাজনৈতিক একটি অনুষ্ঠানে এক মন্ত্রী তার পুরো বক্তব্য খুব গুছিয়ে সুন্দর এবং প্রাসঙ্গিকভাবে বলেছেন। শুধু একটা বাক্য… বিশ্বাস করুন, শুধুমাত্র একটা বাক্যেই তিনি প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে নেতিবাচক দিকটি নিয়ে বলেছেন যা ছিল একটি ধারণা মাত্র। আগত অতিথিদের কানে ওই বাক্যটি প্রাসঙ্গিকই ছিল। বিশ্বাস করুন, পরদিন পত্রিকা খুলে অবাক! ওই নেগেটিভ বাক্য নিয়ে পুরো একটি নিউজ। তা-ও আবার বহুল প্রচলিত পত্রিকার হেড-নিউজ। বিশাল তার কলেবর!!!

    এবার বুঝুন। পুলিশের মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটে যেমন নম্বর নয় পুলিশ লেখা দেখেছি- তেমনই আবার সাংবাদিকের মোটরসাইকেলেও নম্বর প্লেটে নম্বরের বদলে সাংবাদিক লেখা দেখেছি। আমি দুঃখিত কোনও সাংবাদিক আমার এ লেখা দেখে কষ্ট পেলে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনাদেরও সাধারণ মানুষ এখন পুলিশকে যে চোখে দেখে তার চেয়ে বোধহয় খুব একটা ভিন্ন চোখে দেখে না……

    Reply
  6. হ্যাপী আক্তার

    ১ বাংলাদেশের মিডিযা জগত যে দ্বিধাবিভক্ত এ লেখা তারই প্রতিচ্ছবি। ২.আওয়ামিলীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র কোন অজানা বিষয় নয়। ৩.মিডিয়াও অনেক সময় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়না ।

    Reply
  7. হাসান জেদ্দা

    বাংলাদেশের মিডিয়াকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চিন্তা করতে হবে, বেশির ভাগ মিডিয়াই সততার অভাব

    Reply
  8. আলী আহাম্মদ শামীম

    সাগর ভাই-এর রিপোর্টটি পড়লাম। অত্তন্ত ভালো হয়েছে। তবে সমস্যা হলো, বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো কি এতটুকু আপগ্রেট হতে পারবে? আর ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়ন তো প্রায় ৯০% কমপ্লিট বলে আমি মনে করি । সেক্ষেত্রে কানাডার মত মিডিয়া এডভাইজরী চালু করাটা এখন মানষিক ইচ্ছার উপর ‍ নির্ভরশীল্ ।

    Reply
  9. আবু নাসের রবি

    “নেতা নেত্রীরা ইতিবাচক যে সব কথাবার্তা বলেন সেগুলো খুব একটা মিডিয়ায় আসে না। ফলে আমাদের রাজনীতিকদের একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে পাঠকদের কাছে। আমি বলবো না, মিডিয়া একাই কেবল এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। অবশ্যই রাজনীতিকদেরও দায়ভাগ এতে কম না। কিন্তু মিডিয়া নেত্রীদের পারষ্পরিক গালাগালি যতো পছন্দ করে, অন্য কিছু সম্ভবত করেন না।..”. কথাটি আমিও সমর্থন করি, প্রতিদিন পত্রিকা খুলে মনে হয় যেন দেশটা দিন দিন অন্ধকার হয়ে পরছে। এই নেতিবাচকতা কত খানি বাস্তব সম্মত … এ কারনে মাঝে মাঝেই আমাকে পত্রিকা পরা বাদ দিতে হয়। কেননা এই নেতিবাচকতার প্রভাবে অনেক সময় এমন দুশ্চিন্তায় পতিত হই… !
    লেখককে ধন্যবাদ কিছু যুক্তি প্রমানসহ একটি নির্দেশনামূলক লেখনির জন্যে, আমাদের দেশের মিডিয়া নীতিমালার ব্যাপারে মিডিয়ারই যত আপত্তি… উনাদের ধারনা নীতিমালা মানেই স্বাধীনটা হারানো, কিন্তু বেপরোয়া স্বাধীনতা দিয়ে উনারা দেশের কী উপকার করবেন? যখন মিডিয়া রাজনীতিক আর শিল্পপতিদের মালিকানায় থেকে তাদের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকে…?

    Reply
  10. hamid ullah

    সাংবাদিকরা যদি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে চান তাহলে অনেক সময় ও মেধা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রীর পেছনে ঘুরলে প্রতিদিনই কিছু লিখে দিনের কাজ শেষ করা যায়। তা ছাড়া যারা এ বিটে কাজ করেন, তাদের কাছে দুই জনেরই বক্তৃতা অনেকটা মুখস্থ। কেবল আজকে কোনটার সঙ্গে কোনটা বলেছেন, সেটা যোগ করে দিলেই হলো

    Reply
  11. ejaj

    ধন্যবাদ, শওগাত আলী সাগর সাহেবকে লেখাটি ভাল লেগেছে আর প্রশ্ন জেগেছে আমাদের দেশটা যে কবে বদলাবে???

    Reply
  12. Shuvro

    চমৎকার লেখা। ভালো লাগলো। কয়েকটা প্রশ্ন: কানাডার প্রধান মন্ত্রি এবং বিরোধি দলিয় নেতা/নেত্রি কি একে অন্যের পিছে লেগে থাকেন অথবা গালাগালি করেন?
    যদি গালাগালি করে থাকেন তাইলে সেটা মিডিয়াতে কেনো আসছেনা? তবে কি কানাডিয়ান সরকার মিডিয়া কন্ট্রল করছেন?
    কানাডিয়ান প্রধান মন্ত্রি অথবা বিরোধি দলিয় নেতা/নেত্রিরা যদি গালাগালি না করে থাকেন তাইলে কি বাংলাদেশের সাথে সেটা মেলানো ঠিক?
    মিডিয়ার দোষ না দিয়ে কি আমাদের দেশের নেতা/নেত্রিদের সভাব বদলানোর পরামর্শ দেয়া উচিৎ না?
    জনাব আমার প্রশ্ন গুলোর জবাব পেলে খুশি হবো।
    ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  13. সাকিব

    সাগর সাহেব যা বলতে চাচ্ছেন, সোজা কথায় তা হলো, “আমি আওয়ামী লীগ করি। কেন তোমরা এভাবে আমার মাদাম এর আসল রূপ গোপন রাখতে দিচ্ছনা?”

    Reply
  14. প্রলয় হাসান

    শুধু কানাডা না, অষ্ট্রেলিয়াতেও একই অবস্থা। প্রধানমন্ত্রীকে মিডিয়ায় মুটামুটি হারিকেন দিয়ে খুজঁতে হয়। তেমন কোন ইস্যু না থাকেল প্রধানমনর্ত্রী তো দূরের কথা, সরকারের কোন কর্মকর্তার খবরই চোখে পড়বে না। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়া-কানাডার ব্যাপারগুলো বাংলাদেশে খাটবে না। কারন এদেশের মানুষ সরকারী প্রেস রিলিজ বিশ্বাস করে না। সশরীরে কোন রক্ত মাংসের সাংবাদিক অনুষ্টানে না থাকলে, তার জবানীতে অনুষ্ঠান বিবরণ না শুনলে লোকে সন্দেহ করে। এবং আমি মনে করি না তাদের সন্দেহ, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অমূলক। সুতরাং, কিছু কিছু অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে দাওয়াত দিয়ে, মিডিয়ার অনুপস্থিতে সরকারী অনুষ্ঠান করে পরে সেটার প্রেস রিলিজ ওয়েব সাইটে দেবার কালচার বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটা গ্রহন এবং বিশ্বাসযোগ্য, সেটা কিন্তু একটা বিরাট প্রশ্ন।

    কানাডার মিডিয়া কানাডা সরকারের এহেন স্বৈরচারমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কেন কথা বলে না? বা কেন মুখ বুজে মেনে নিয়েছে? তার কারন হলো, জনগন এতে খুশী। সরকারী প্রেস রিলিজ সে দেশের জনগনের জন্য যথেষ্ঠ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সে দেশের মানুষজেনের এত টাইম নাই সরকার তার প্রেস রিলিজে কি বল্ল না বল্ল সে সব নিয়ে মাথা ঘামায়। যার যার নিজের ধান্ধায় সবাই দেৌড়ের উপর থাকে। রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানোর টাইম কারো নাই। তাই জনগন থেকে কোন আপত্তি আসে না, তাই মিডিয়াও কিছু বলে না। অপরদিকে আমাদের দেশের সবাই রাজনীতি সচেতন। নতুন প্রজন্ম আরো বেশী রাজনীতি সচেতন। কানাডার মতো মিডিয়া কালচার বাংলাদেশে গড়তে চাইলে আমার মনে হয় না আধুনিক প্রজন্ম সেটা এত সহজে মেনে নেবে। আর যদি জনগন মেনে না নেয়, তবে মিডিয়া কেন মেনে নেবে? আারিফ ভাই, আমার এ্যান্টি-লজিকগুলো গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করলাম। আপনার কোন সংশয় বা আপত্তি থাকলে জানাবেন, আরো পরিস্কার করে বলবো।

    Reply
  15. প্রলয় হাসান

    লেখক এখানে এক তরফাভাবে প্রমান করতে চেয়েছেন – মিডিয়াকে নিষিদ্ধ করাটা আসলে এমন কিছু না। এটা হতেই পারে এবং এটাই ঠিক। কিন্তু আদতে ব্যাপারটা তা নয়। সরকার হুট করে মিডিয়াকে ব্যান করতে পারে না তার অনুষ্ঠানে। এটা বাংলাদেশের একটা দীর্ঘ দিনের কালচার। এই কালচারে পরিবর্তন আনতে হলে আাগে ভাগে সময় দিয়ে জানিয়ে শুনিয়ে করো উচিত। তবে হ্যাঁ, শেখ হাসিনা যদি সরকারী মিডিয়াকেও নিষিদ্ধ করতেন, তাহলে বুঝতাম ব্যাপারটা ফেয়ার হয়েছে। মিডিয়ার ভেতরে সরকারী আর বেসরকারী ব্যাপারটা যে রয়েছে, সেটা এবার স্পষ্ট হয়ে গেলো আরোও। আর সেটা করলো সরকার নিজেই। তবে আমি সাগর সাহেবের শেষের কথার সাথে একমত। ” সারাক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর, মন্ত্রীদের পেছনে ঝাঁক বেধে মিডিয়া ছুটোছুটি করবে- এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা জরুরী।” – ব্যাপারটা মিডিয়ার জন্য রীতিমতো ছ্যাচড়ামোমূলক মনে হয়।

    Reply
  16. milon

    ভাই শওগাত পৃথিবীতে ১৬১ দেশ থাকতে আপনি কানাডার উদাহরন কেন দিলেন বুঝলাম না। কোথায় আঁগড়তলা আর কোথায় চকির তলা!কিসের মধ‌্যে কি পান্তা ভাতে ঘি!

    Reply
  17. showrav

    প্রধানমন্ত্রীর অফিসের এমন আচরনে আমরা যারা উনার সবসময়ই ভালো চাই,অত্যন্ত শংকিত৷ তবে আপনারা কেনো এতো সিম্প্লিফাই করে ফেলেন! কানাডা আর বাংলাদেশ কবে কোথায় সমান ছিল? দয়া করে,বাংলাদেশের সামগ্রীক অবসথা স্মরণ রেখে সংবাদ পরিবেশন করবেন !

    Reply
  18. Haluma Sen weing

    বাংলাদেশের মিডিয়ারও উচিত না নেতানেত্রীদের বক্তৃতার পেছনে ছুটাছুটি না করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সময় ব্যয় করা।

    Reply
  19. abdus sobhan baschu

    সাগর ভাই আপনার চমৎকার লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। লিখে যান অনবরত এরকম। হয়তো এগুলো আমাদের নেতা নেত্রীদের রুচীর কোন পরিবর্তন আনবে না। তবে অদূর ভবিষ্যতে নেতা নেত্রী নির্বাচনে আমাদের ভাবনার পরিবর্তন আনতে সহায়াক হবে নিশ্চই..।

    Reply
  20. Tanmoy

    লেখকের সাথে আমি একমত। মিডিয়ার এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বের করে নিয়ে আসা উচিৎ।

    Reply
  21. tapu

    ভাইজান কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নাম কয়জন জানে? আমেরিকার মিডিয়াকে কম্পেয়ার করুন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—