Feature Img

shariarএকাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য আমরা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি দু’দশক ধরেই আন্দোলন করছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন। এখন এ বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ আইনে এই প্রথমবার বাংলাদেশে কোনও বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিচারকদের অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। তদন্ত সংস্থাগুলোরও কাজটা বুঝতে সময় লেগেছে। কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ লাগবে তারা প্রথমে বুঝতে পারেননি। কারণ এটা তো প্রচলিত ফৌজদারি আদালতের মতো নয়। তবে এখন এই সমস্যাগুলোর বেশিরভাগই কেটে গেছে। খুব ভালোভাবেই ট্রাইব্যুনালের কাজ চলছে।

এখন যে সমস্যাটি রয়ে গেছে তা হল, আমাদের ট্রাইব্যুনালের লোকবলের অভাব। আমরা শুরু থেকেই সরকারকে বলে এসেছি- এত বড় একটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কমপক্ষে আট-দশজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হলে আমাদের অন্তত পঁচিশজন আইনজীবীর সাহায্য দরকার। তাদের সঙ্গে আরও সমসংখ্যক তদন্ত কর্মকর্তা ও গবেষণা সহকারী থাকতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজের জন্য প্রচুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে বেশকিছু আর্কাইভ এবং লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি আমরা। অন্যান্য উপকরণগুলোরও জোগান দিতে হবে।

সবচেয়ে জরুরি যে প্রয়োজনটি ছিল তা হল, বিচারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। আমরা চেয়েছিলাম সরকার সাক্ষীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক। এ জন্য সাক্ষ্য নিরাপত্তা আইন গঠনের দাবি ছিল আমাদের। কিন্তু এ সব বিষয়ে সরকার এখনও কোনও পদক্ষেপ নেননি। কেন নেননি সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। তবে এর ফলে আমাদের এই ট্রাইব্যুনালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে আমরা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য পাচ্ছি না। নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে তারা ট্রাইব্যুনালে আসছেন না। তদন্ত কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের এ জন্য অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আমি বরাবরই বলে এসেছি, সমস্যাটা হল, সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই, উপলব্ধির ঘাটতি আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের পদ্ধতি ও জটিলতা সম্পর্কে তাদের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা নেই। সরকার ভাবছে, কেন এ বিচারের জন্য এত এত আইনজীবী লাগবে, এত রসদ লাগবে। আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা কোনও ফৌজদারি মামলার বিচার করছি না। একজন বা দুজন খুনির বিচার এখানে হচ্ছে না। আমরা একচল্লিশ বছর আগে সংঘটিত একটি গণহত্যার বিচার করছি। এটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সংঘটিত পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের প্রস্তুতিটা হতে হবে ব্যাপক।

পৃথিবীর যে কোনও দেশে গণহত্যার বিচার খুব জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। কারণ এখানে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ থাকে। আমাদের দেশে দীর্ঘ চার দশকে গণহত্যার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী মারা গেছেন। তাই ট্রাইব্যুনালকে আরও রসদের জোগান ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে। এটা করতে পারলে আমরা আশা করি, ২০১৩ সালের মধ্যে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শেষ করা যাবে।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার কেন আওয়ামী লীগ সরকার আরও আগেই শুরু করেননি। আমি এর কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে চাই। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির ব্যাপারে সরকার আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে, তারা এই বিচার শুরু করতে চান। তবে একসঙ্গে সবগুলো হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন ছিল। প্রথমত, ওই টার্মে সরকারের এত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না যতটা এবার হয়েছে। তাই আগে তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে চেয়েছিলেন। তাদের কথা ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শেষ করে তারা এ বিচার শুরু করবেন।

দ্বিতীয়ত, আমাদের আরও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। যেমন, এ দেশে দক্ষ আইনজীবীর অভাব রয়েছে। আবার আইনজীবীদের শুধু দক্ষ হলেই চলবে না, তাদের সততারও একটি ব্যাপার আছে। পাশাপাশি, তাদের অন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। এ সব কারণে তখন এই বিচারকাজ শুরু করা যায়নি যা এবার করা যাচ্ছে।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতার সর্বাত্মক চেষ্টা আছে। আমাদের কাছে যে সব তথ্য-প্রমাণ ছিল সব আমরা ট্রাইব্যুনাল গঠনের সময় সরকারকে দিয়েছি। এছাড়া অতীতের অনেক ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র, মামলার রায়, সওয়াল-জবাব, অপিনিয়ন স্পিচ সবই সংগ্রহ করে সরকারকে সরবরাহ করেছি। তবে আরও কাগজপত্র লাগবে। অন্যান্য দেশের আর্কাইভে একাত্তরের গণহত্যার অনেক দলিলপত্র রয়ে গেছে। সেগুলো সংগ্রহ করা দরকার। এটাও খুব জটিল একটি কাজ। পাশাপাশি, অতীতের ট্রাইব্যুনালগুলো কী কী সমসার মুখোমুখি হয়েছে, সে সব সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করেছে, তাদের কী কী সীমাবদ্ধতা ছিল ইত্যাদি নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি।

এ জন্য আমরা ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল, টোকিও ট্রায়াল ইত্যাদির বিচারকাজের কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এ সব ট্রায়ালে যে সীমাবদ্ধতাগুলো ছিল তা যাতে আমাদের ট্রাইব্যুনালে না থাকে সে চেষ্টা করেছি। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে যখন এ আইনটি পেশ করা হল তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরা অতীদের ট্রায়ালগুলোর আলোকে এ ট্রায়াল তৈরি করেছি। তবে এতে অতীতের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটানোর চেষ্টা করেছি।’ যেমন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন হল, টোকিও ট্রায়াল ও ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে আসামীদের আপিলের কোনও সুযোগ ছিল না। আমাদের ট্রাইব্যুনালে সে সুযোগ রাখা হয়েছে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিতও হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের সরকারগুলো ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও প্রমাণ নষ্ট করে ফেলেছিল। কারণ তারা জানত, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় এলে একদিন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি উঠবে। এই চ্যালেঞ্জটিকেও মোকাবেলা করেও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেছিলেন। জিয়া এসে সেটা বন্ধ করেছিলেন। ওদিকে খালেদা জিয়া বলেছেন, এ সরকার যা কিছু করছে সব আমরা বাতিল করব। এই যে একটি অপসংস্কৃতি- এটা তো আমাদের দেশে রয়ে গেছে। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব কিছু বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বাহাত্তরের সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেললেন। রাষ্ট্রের চার মূলনীতি বদলে ফেলে যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করলেন- এগুলো করে রাষ্ট্রকে তামসিকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এগুলো কখনও-ই কাম্য নয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এক দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে বিশাল একটি প্রজন্মকে জানতে দেওয়া হয়নি। তারা বুঝতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কী কী ঘটেছিল। রাজাকার-আলবদর কারা গঠন করেছিল বা কীভাবে তারা পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল। এখানে যে নৃশংসতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল তা নিয়েও তাদের সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করতে পারেনি। আমরা তাই গত দু’দশকে একটি প্রজন্মকে তৈরি করেছি যারা যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে সচেতন। তারা জানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, কারা এই যুদ্ধে আমাদের শত্রু বা মিত্র ছিল। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনের মাধ্যমে এত বছরে আমরা এই জায়গায় এগুতে পেরেছি। আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে জন্ম নেয়া প্রজন্মগুলো এখন সচেতন হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার জন্য যুদ্ধাপরাধীরা দেশে-বিদেশে বহুমাত্রিক তৎপরতা চালাচ্ছে- এটাও আমাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। বিচার সম্পর্কে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করতে এরা সবসময়ই সক্রিয়। ওরা দেশের বাইরে প্রচুর টাকা খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। দেশেও তারা নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। টক শো ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারের সুশাসনের অভাবের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টিকে এক করে তুলে ধরছে। ফলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরির আশঙ্কা ছিল।

তাই আমরা যখনই সুযোগ পাচ্ছি এই বিচারের যৌক্তিকতার কথা সবাইকে জানাচ্ছি। গত তিন বছরে আমাদের প্রচুর প্রকাশনা তৈরি করতে হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে আমরা ইউরোপয়ীয় পার্লামেন্টে এই বিষয়ে একটি শুনানিতে অংশ নিয়েছি। আমাদের আইনজীবীরা সেখানে ছিলেন। ছিলেন জামায়াতের আইনজীবীরাও। যখনই সুযোগ পেয়েছি আমরা বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। সবার কাছে এই বিচারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছি। তাতে দেখেছি, অনেকেই জামায়াতের মিথ্যাচার-অপপ্রচারের শিকার হয়েছিলেন। আমাদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য জানতে পেরে তাঁরা অবস্থাটা বুঝতে পেরেছেন। বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হয়েছেন।

তবে আমরা মনে করি, সরকারকে এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। জামায়াত বিশেষ করে যে সব লবিস্ট নিয়োগ করেছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোরও আরও কার্যকর ভূমিকা দরকার। তবে আমরা কিন্তু সতর্ক রয়েছি এবং সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আমরা আশাবাদী। সরকারও এই ট্রাইব্যুনাল চালাতে গিয়ে শিখছেন, আমাদের আইনজীবীদের বিরাট একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে- তাই বিচারকাজ সুসম্পন্ন করা যাবে বলে আমরা মনে করি।

হ্যাঁ, এই সরকার কাজটি শেষ করতে না পারলে যদি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের দল ক্ষমতায় আসে তাহলে কী হবে সে প্রশ্ন থাকতে পারে। ট্রাইব্যুনাল তো বন্ধ হয়ে যাবে না যেহেতু এটা একটি কোর্ট। তবে তারা চেষ্টা করবেন নানাভাবে। বিচার বিলম্বিত করবেন, রসদের জোগান দেবেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্রেও তারা এটা করেছেন। তবে এখন যেভাবে বিচারকাজ এগুচ্ছে তাতে ২০১৩ সালের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায় পাওয়া যাবে। এরপর আসামীরা আপিল করতে পারবেন। আমরা চাই আপিলে কী রায় আসে সেটা দেখতে। যদি আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকে তাহলে আমরা চাইব যেন শাস্তিটা কার্যকর করা হয়।

শহীদ পরিবার, গোটা জাতি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সচেতন মানুষ অপেক্ষা করছেন এই বিচারের রায়ের জন্য। আমরাও তাই গণজাগরণের ওপর আস্থা রাখছি। মানুষ এখন জানেন এই বিচারটা কেন জরুরি। এটাই অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ জয় করার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

শাহরিয়ার কবীর: লেখক, সাংবাদিক, চিত্রনির্মাতা ও মানবধিকারকর্মী।

৫১ Responses -- “যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও কিছু চ্যালেঞ্জ”

  1. সালেহীন

    লেখাটা পড়েছি। ভালো লেগেছে। লেখায় বেশ আবেগ আছে। কিন্তু সমস্যা হল, আবেগ দিয়ে প্রেম-ভালবাসা এবং গল্প বানানো যায় কিন্তু বিচার করা যায় না। তাই আবেগ থাকা ভালো কিন্তু সাক্ষী লাগবে।

    কার বিচার হবে, কে রাজাকার, কে স্বাধীনতার পক্ষে আর কে স্বাধীনতার বিপক্ষে তা নিয়ে আমি কিছুই বলব না। শুধু কিছু তথ্য দিব।

    প্রথম কথা, জামায়েতের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আল মওদুদীর বাড়ি পাকিস্তানে। তিনি একটি রাজনৈতিক দল করতেন যার নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। ওই সময় পাকিস্তানের আদালতে তাকে রাজনৈতিক কারণে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। ফাঁসির আগে এক কয়েদি তাকে বলল, ‘তোমার তো ফাঁসি হয়ে যাবে, তুমি ক্ষমা চাইলে বাঁচতে পারো।’ মওদুদী বলেছেন, ‘জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে।’ আর তাই হয়তো-বা তাকে যখন ফাসির মঞ্চে আনা হয়, তখন সৌদি আরব পাকিস্তানকে এই বলে প্রস্তাব দেয় যে, ‘মওদুদীকে যদি তোমাদের না লাগে আমাদের লাগবে।’ এভাবে মওদুদী বেঁচে যান।

    এবার বলব দ্বিতীয় গল্প। ভুটো সাহেবের মৃত্যু আসলে কীভাবে হয়েছে? কেঊ তার লাশও দেখেনি। তার মৃত্যুর পর একজন বিদেশি কল্পনা করে তার একটা ছবি এঁকেছিলেন যা আমি মাঝে-মাঝে দেখি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক-কিছুর হোতা এই মানুষটি। তাই তিনি খুব ভালোভাবে মরতেও পারেননি। ভুলে যাবেন না, ভুট্টো উপমহাদেশের প্রথমসারির ক’জন বাঘা-বাঘা রাজনীতিবিদের অন্যতম। ২৬ মার্চের আগে ভুট্টো সাহেব বাংলাদেশ ঘুরে গিয়েছেন, এবং বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশকে নিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে তার বৈঠক হত।

    আমার জানা মতে, উপমহাদেশের কিছু ভালো রাজনীতিবিদের মৃত্যু হয়েছে খুবই করুণভাবে। যেমন গান্ধীজী, শেখ মুজিব,বেনজির ভুট্টো। যারা সারাজীবন দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন তাদের এভাবে চলে যাওয়া আসলেই কোনও জাতি মেনে নিতে পারেনি।

    আমি লেখকের কাছে এমন কিছু প্রমাণ আশা করি যাতে ভাষাসৈনিক গোলাম আযমের ফাঁসি হয়। কেউ আমার এই কথায় রাগ করবেন না, তিনি ভাষাসৈনিক বলে কি অন্যায় করতে পারেন না? যেমনটা করেছে শেখ মুজিবের হত্যাকারীরা যারা কিনা ছিলেন মুক্তিযোদ্বা। তবে যারা অন্যায় করেও বিচারের কাঠগোড়ায় দাঁড়ায়নি তাদের বিচার করবে এই বাংলার জনতা।

    ধন্যবাদ কষ্ট করে আমার কমেন্ট পড়ার জন্য।

    Reply
    • এরশাদ মজুমদার

      মনোযোগ দিয়ে সালেহীনের মন্তব্য পড়লাম। ধন্যবাদ। আমরা তো কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, আবার কেউ জামাত করি। সবাই দলীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। সবাই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উন্মুখ। দেশের পক্ষে কে তা আজও ভালো করে বুঝতে পারলাম না। পক্ষে কেউ থাকলে দেশ নিশ্চয়ই আজ ভিয়েতনাম বা কোরিয়ার মতো হতে। আমরা তো বলি আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের সেরা বাঙালি। বাংলা ভাষার উপর আর কোনও ভাষা নেই।

      আমাদের এ দেশে রাসুল (সাঃ) মহামানব। সব মুসলমানের কাছেই তিনি মহামানব। বাংলাদেশে একই মুসলমান আবার বলেন বঙ্গবন্ধু মহামানব, আবার কেউ বলেন রবীন্দ্রনাথ মহামানব। একটা জাতির এত মহামানব কেন?

      বঙ্গবন্ধু শ্রেষ্ঠ বাঙালি, আবার রবীন্দ্রনাথও শ্রেষ্ঠ বাঙালি। আমি তো এ বয়সে এসে একেবারেই কনফিউজড।

      এমন জাতির উন্নতি হয় না কেন? উন্নতির ব্যাপারে আমরা শ্রেষ্ঠ হবে কিনা কেউ বলতে পারেন কি?

      Reply
  2. এরশাদ মজুমদার

    আমার প্রিয় মানুষ শাহরিয়ার কবীরের লেখাটি এবং প্রতিক্রিয়াগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। মূল লেখা এবং প্রতিক্রিয়া একেবারেই গতানুগতিক। নতুন দৃষ্টিকোণ, নতুন কথা বা তথ্য দেখতে পেলাম না। শাহরিয়ার আমার এলাকার মানুষ। শ্রদ্ধেয় শহীদুল্লাহ কায়সার ও জহির রায়হানের বাড়ির লোক। হয়তো ওদের কাজিন বা চাচাতো ভাই। মাওলানা হাবিবুল্লাহ সাহেবের বড় ছেলে হলেন শহীদুল্লা কায়সার। শহীদ ভাইয়ের সঙ্গে আমি একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি ছিলেন খুবই মিষ্টি একজন মানুষ। এক কথায় বলা যেতে পারে, তাঁর মতো ভদ্রলোক আমি খুব কম দেখেছি। শ্রদ্ধেয় জহুর ভাই ও শহীদ ভাইয়ের কারণেই আমি অবজারভার ছেড়ে সংবাদে যোগ দিয়েছিলাম। আমি তখন বাম চিন্তাধারার লোক ছিলাম। তাই সংবাদে চাকরি নিয়েছিলাম।

    মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। ঢাকায় বসে দেখেছি, কোলকাতায়ও দেখেছি। সে সময়ে কারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন আর কারা বিরোধিতা করেছেন তা-ও দেখেছি। জামাত, মুসলিম লীগ ও আরও কিছু দল রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ভাসানী, ন্যাপ মুজাফফরসহ আরও অনেক ছোট-ছোট দল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের নানা গ্রুপ ও উপদল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ছিল।

    একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর নতুন করে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। জামাতসহ পাকিস্তান-সমর্থক দলগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেকেই দলবদল করেছেন। ছাত্রসংঘের অনেকেই জাসদ যোগ দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কাজী জাফর, মেননরা কোলকাতায় তেমন স্থান পাননি। কারণ তারা আওয়ামী-বিরোধী ছিলেন। ভারত সরকার চায়নি আওয়াম লীগ ছাড়া অন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে আসুক। এমনকী মাওলানা ভাসানীকেও ইন্দিরা সরকার নজরবন্দী করে রেখেছিলেন। সোজা ভাষায় বলতে হবে, ভারত সরকারের কাছে একমাত্র বিশ্বস্ত দল ছিল আওয়ামী লীগ।

    সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কিছু ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, গ্রামের কিছু সাধারণ যুবক। মুক্তিযুদ্দের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঙালি সৈনিক, বিডিআর, পুলিশ ও আনসার। বিভিন্ন সেক্টরের অধিনায়ক বা উপ-অধিনায়ক ছিলেন বাঙালি সেনা অফিসাররেরা। মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনেই দেশে-বিদেশে বাঙালিরা হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরে এসেছে। সেই ঘোষণা নিয়েই তো সৃষ্ট বিতর্ক শেষ হলে না। বঙ্গবন্ধু কোন দিন ঘোষণা দিয়েছেন তা আজও সুস্পস্ট নয়। কেউ বলছেন, ৭ মার্চ, আবার কেউ বলছেন ২৬ মার্চ।

    ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়ার এই অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে বেশি ব্যস্ত। এই অঞ্চলে শুধু আমরা মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলন করিনি। ভিয়েতনাম, কোরিয়া, কম্বোডিয়া সবাই মুক্তিযুদ্ধ করেছে বছরের পর বছর। আমরা তো মাত্র ৯ মাস যুদ্ধ করেছি। এখন ভিয়েতনাম, কোরিয়া ও কম্বোডিয়া আমাদের চেয়ে অনেক-অনেক এগিয়ে গেছে। পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর পাকিরা আমাদের খেয়েছে। বাংলাদেশের ৪২ বছর আমাদের কে খাচ্ছে?

    আমাদের জাতীয় পরিচয়েরই ঠিক নেই। কেউ বলেন বাঙালি, আবার কেউ বলেন বাংলাদেশি। কেউ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, কেউ বলেন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। ক্ষমতায় কে আসে এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের উন্নতি কে করবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

    পাকিস্তানের ২৩ বছর আর বাংলাদেশের ৪২ বছর মিলিয়ে ৬৫ বছর হতে চলেছে। বাংলাদেশের কোটি-কোটি মানুষের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন হয়নি। হওয়ার কোনও সম্ভাবনাও আমি দেখছি না। আমি জানি শাহরিয়ার বলবে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হলেই দেশের উন্নতি শুরু হয়ে যাবে।

    Reply
  3. babulmgn

    অনেক দিন ধরে এ জাতির ইতিহাস বিকৃত করে তারা ফেঁসে গেছে। অনেকে বলছেন যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না। মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। ইনডেমনিটিতে কাজ হয়নি।

    তাই আজ আপনারাও যতই বিরোধিতা করুন- এ জাতি গো.আজম-নিজামীদের বিচার করেই ছাড়বে ইনশাল্লাহ।

    Reply
  4. Misbah

    আমরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। কিন্তু আপনারা কোথায় যুদ্ধাপরাধের বিচার করছেন? এটা তো শুধু মুখের কথা। কার্যত আপনারা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে যাদের সঙ্গে আপনাদের মতের মিল নেই তাদের বিচার করছেন “মানবতাবিরোধী অপরাধ” নাম দিয়ে।

    Reply
  5. abul kashem

    কবীর স্যার,

    ভালোই লিখেছেন, তবে যাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তারা সবাই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারবিরোধী লোক। আসিফ নজরুল স্যারের মতে, পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করার একটা মিশন মাত্র। কবীর স্যারও বললেন ২০১৩ সালের কথা, অর্থাৎ ভোটের আগে। রায় ঝুলিয়ে রেখে নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হবে, ‘আমাদের আরেকবার ভোট দিন, আমরা বাকিদের বিচারের পাশাপাশি এদের শাস্তির বিধান করব এবং….. ।’

    এ দিকে সাঈদী সাহেবের মামলা নিয়ে তো লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছে প্রসিকিউশন। সেফ হাউজ, সাফাই সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আটক, মুরগি-চোর ও কলা-চোর এবং চিহ্নিত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সাক্ষ্যদান ইত্যাদি চলছেই….

    Reply
  6. boss

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যারা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যাদের শ্রম-মেধা-পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই ৯০-পরবর্তী সময় থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও গণআদালত গঠনসহ বিশাল আন্দোলনের সুচনা হয়েছিল, এক এক করে তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। তালিকাটা দেখুন….
    ১) জাহানার ইমাম
    ২) কবি সুফিয়া কামাল
    ৩) কবি শামসুর রহমান
    ৪) কবির চৌধুরী
    ৫) সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত
    ৬) আব্দুর রাজ্জাক

    গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রদানকারী ও সাক্ষী
    ৭) মিশুক মনির
    ৮) তারেক মাসুদ
    ৯) হুমায়ুন ফরিদী।

    অথচ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীরা বেঁচে আছে বহাল তবিয়তে। কখন এদের বিচার হবে, আদৌ হবে কিনা সেটাই তো আমরা জানি না।

    হায় প্রকৃতির এ কোন খেলা ? ? ?

    আর আপনাদের চোখের সামনে প্রায় এক কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে জামায়াত আজ দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল!!!

    Reply
  7. সজল

    একাত্তরে রাজাকারে নাম লেখানোটা কি খুব অপরাধ ছিল? যদি দেশটা স্বাধীন না হত তাহলে কি মুক্তিযোদ্ধারা সব অপরাধী হয়ে যেত? রাজাকারে নাম দিয়ে যারা লুটপাট-রাহাজানি-গণহত্যা করেছে তারা তো নিঃসন্দেহে অপরাধী, কিন্ত একজন দুর্বলচিত্তের মানুষ সে হয়তো পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা বুঝতে না পেরে পিঠ-বাঁচানোর জন্য রাজাকারে নাম দিয়ে নিজ পরিবারকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছে- আজ তাদেরও কি অপরাধী বলব?

    তো, ৪১ বছর আগের লুটপাট-হত্যা নিয়ে আমরা আজ মহাব্যস্ত। কিন্ত এখন যে নগদ হত্যা-লুটপাট-রাহাজানি ঘটছে, এগুলোর বিচার কি তাহলে আবার ৪১ বছর পর হবে? ১৯৯৯৬ সালের এবং বর্তমানের শেয়ার বাজার লুট, হলমার্ক লুটের বিচার কবে হবে? ময়মনসিংহে সিনেমা হলে, রমনার বটমূলে আর যশোরে উদিচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, মাদারিপুরের গির্জায় বা সায়েদাবাদে বাসে আগুন দিয়ে গণহত্যা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মস্বীকৃত শততম ধর্ষণের মহানায়কের কুকর্ম… এগুলো কি অপরাধ নয়? তাহলে এ সব ঘটনার বিচার কি ৪১ বছর পর হবে?

    Reply
    • সালেহীন

      আপনার সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।

      আর কবীর স্যারকে বলছি, আপনি যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারেন আমি আপনাকে বীর বলে খেতাব দেব। সত্য বলে পৃথিবীতে কিছু আছে কিন্তু মিথ্যার আসলে কোনও অস্তিত্ব নেই।

      Reply
  8. মানছুর

    @সাইদ আহমদ

    আপনার মন্তব্যে জোর-খাটানো এবং যুক্তি না-মানার সুর। আপনার জন্য বাংলাদেশি’র নিচের মন্তব্যই যথেষ্ট।

    “জামায়াতের গায়ে যে সব কাদা আপানার লাগানোর চেষ্টা করেছেন বা লাগাতে পেরেছেন, তা এই বিচারের মাধ্যমে আপনারাই পরিস্কার করে দিচ্ছেন। জামায়াত দুর্বল যে হবে না এবং হয়নি, তা তো বিরোধী দলের বিভিন্ন জনসভার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে। এরপর মিশর-তুরস্ক-তিউনিসিয়ার দিকে দেখুন। জামায়াত দুর্বল হয়নি, হবেও না। বরং আরও ইফেকটিভ নেতৃত্ব জামায়াত তৈরি করতে পারছে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে। তাই এই বিচার জামায়াতের জন্য শাপে-বর হবে।”

    @abdullah
    কোথায় বিচারের দাবি তুললেন? কোন আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করলেন? কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আবেদন করলেন? দয়া করে উত্তর দিয়েন।

    মিথ্যা প্রচার চালালে মোকাবিলা করবেন। কিন্তু মোকাবিলা না করে দোষ চাপিয়ে দেওয়া তো পরাজিতের কাজ।

    Reply
  9. মেঘলা আকাশ

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা আজ সবাই মিলে দেশটাকে চেটেপুটে গিলে খাব, কেউ কিছু বলতে পারবে না, কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা রক্ষিবাহিনী গঠন করি যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে যে রকম আজ হচ্ছে। আর এখন বিডিআর, পদ্মাসেতু, কুইকরেন্টাল, হলমার্ক খাচ্ছি। তাতে কেউ নাক গলাতে পারবে না কারণ ওই যে আমরা যুদ্ধের চেতনা ধারণ করি। বিরোধী দল হলেই রাজাকার, কিন্তু এই বিল উত্থাপনকারী মাহমুদুস সামাদের বাবা এলাকার চিহ্নিত রাজাকার, শেখ হাসিনা’র বেয়াই মোশাররফ চিহ্নিত রাজাকার। তাতে কিছুই যায় আসে না কারণ এরা আওয়ামী লীগ করে।

    শাবাস বিচিত্র দেশের বিচিত্র সব মানুষ!!

    Reply
    • Enamajazul Haque

      আমরা বুঝতে পারি না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইলে আনাদের অসুবিধা কোখায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে অন্য অপরাধের সংমিশ্রণ কেন করেন? তাতে কি বোঝা যায় না আপনারা ওদের বাঁচাতে চান???

      Reply
      • মেঘলা আকাশ

        এনাম ভাই,

        অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীর কোথাও সিভিলিয়ানদের দ্বারা যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়নি? সবই সেনাবাহিনীর দ্বারা হয়েছে। আর কোথাও এটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

  10. repon

    আমার বড় কষ্ট হয় সমসাময়িক কালের লুটেরাদের নিয়ে এক কলম আপনি কখনও-ই কিছু লিখলেন না বলে। সরকার আর বিরোধী দল আর কত এ সব বিচারের মুলো আমাদের সামনে ঝুলিয়ে রাখবেন? আমরা কি ভবিষ্যতের দিকে তাকাব না? অতীত নিয়ে আর কত পড়ে থাকব? দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব কবে আসবে দেশে?

    Reply
  11. বাঘা বাঙ্গালী

    মুক্তিযুদ্ধ, এ মূলধনটি আসলেই অসাধারণ। অন্যভাবে বলতে গেলে, গোল আলুর মতো যেটা সব মাছের তরকারি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি oil আই মিন তেল মারার এক্সপার্ট হন, তাহলে মূলধন হিসেবে আপনি মুক্তিযুদ্ধকে পাবেন……

    Reply
  12. shawkat ara

    ছোটবেলায় উনি মন জয় করেছিলেন ‘নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়’ দিয়ে। বড় হয়ে জানলাম উনি শুধু লেখক নন, একজন সত্যিকারের মানুষ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে তিনি আপোষহীন, নির্ভীক। দেশে ১% মানুষও যদি এমন অকৃত্রিম হত তাহলে সোনার বাংলা সোনায় ঝলমল করে উঠত।

    দারুণ লিখেছেন স্যার, অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই আপনাকে।

    Reply
  13. ahsan

    কবির সাহেব,

    আপনি যা বলেছেন তা ধারণা মাত্র। তবে যদি সত্য প্রমাণ থাকে গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে সুনির্দিষ্ট কথা বলুন।

    Reply
  14. Goam Kibria

    ট্রাইব্যুনালে আপনার সাক্ষ্য পড়েছি। অধিকাংশ কথায় আপনি বললেন যে, ‘দেখে বলতে হবে। মনে নেই। বলতে পারব না।’

    এটা কী? তাহলে কি আপনারা অযথাই কিছু লোককে হেয় করার উদ্ধেশ্যে মিথ্যা বলছেন?

    Reply
    • mahbub alam chisty

      প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অনেক ধৈর্য ও ন্যায়নীতির পরিচয় দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আবার সাক্ষী লাগে নাকি? যথেষ্ট ডকুমেন্ট আছে ওদের বিরুদ্ধে। একাত্তরের আগে ও পরে ওদের ভূমিকা স্পষ্ট। ওদের তো লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরে ফেললেই হয় যেভাবে ওরা একাত্তরে বাঙালিদের মেরেছিল..

      Reply
  15. moonskab

    কবীর সাহেব,

    ভারতীয়রা স্বাধীনতার পর যে লুটপাট করল এর বিচার চান না কেন ?

    আসল যুদ্ধাপরাধী ৯৫ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যকে ছেড়ে দিল তঃকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের বিচার চাচ্ছেন না। বাংলাদেশে যে দলটা স্বাধীনতার সময় একেবারে গোণার বাইরে ছিল, বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যারা জনগণের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাইত- সে জামাত নেতাদের যুদ্ধাপরাধী বানিয়ে বিচার করছেন!!!

    ভালো ভালো, খুব ভালো। এই নাটকেকর পর আপনার টাগের্টটা কী হবে কবীর সাহেব? বিএনপি নেতাদের কীভাবে ধরবেন? তাই না?

    আপনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপরে এত আন্তরিক! পাকিস্তানিদের বিচারের কথা আপনার মুখ থেকে একবারও উচ্চারণ হয় না। ওখানে তো অনেকবার গিয়েছেন আপনি!!! প্লিজ একটু পাঠকদের বলুন। আর সবাইকে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলতে বলুন- আসল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন এ সরকার করে।

    পারবেন কবীর সাহেব? আমি বিশ্বাস করি না……

    Reply
    • mgnewaz

      পাকিস্তান পাকিস্তান বলে মুখে ফেনা তুলে ফেল্লেন!!!

      একাত্তরে আপনার জন্ম হয়েছিল কিনা জানি না। না হয়ে থাকলে মুরুব্বীদের কাছ থেকে জেনে নি কীভাবে জামাতীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিল।

      যারা জামাত এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন তারা বা যে মা সন্তান প্রসব করেন তিনিই জানেন এর কষ্টের কথা। নিজ মায়ের গায়ে হাত তুলতে বা মাকে অপমান করতে পারে কারা? যে সন্তান কুলাঙ্গার, সে-ই।

      তাই আমার মনে হয় আমাদের দেশে আরেকটা যুদ্ধ দরকার। তাহলে আজ যারা নিজামী বা আজমদের সাফাই গাইছে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। এরাই আসলে ইসলামের শত্রু।

      Reply
  16. mgnewaz

    মুক্তিযোদ্ধারা জাতির অমূল্য সম্পদ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যত ত্বরান্বিত করা যায়, সে জন্য যা কিছু করা দরকার সব করতে হবে। কারণ মনে রাখতে হবে আগামীবার যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী কোনও দল ক্ষমতায় আসে তবে সেই চেতনাকে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেবে। এ দেশে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি আর উচ্চারিত হবে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের ওপর অনেক অত্যাচার হবে। তাদের মেরে ফেলার চেষ্টাও হতে পারে।

    তাই শেখ হাসিনা সরকারের উচিত মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের প্রকৃত কাজগুলো তুলে ধরা। আর ছাত্রলীগকে এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। দুর্নীতিবাজ নেতাদের প্রতিও কঠোর হতে হবে।

    বিএনপি’র কোনও রাজনৈতিক চরিত্র নেই। এরা যে কোনও কিছু করতে পারে। এরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই কাজ করবে। তাদের সঙ্গে আঁতাত করবে বারবার।

    অতএব সাধু সাবধান।

    Reply
  17. হাসান জেদ্দা

    “তবে এখন যেভাবে বিচারকাজ এগুচ্ছে তাতে ২০১৩ সালের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায় পাওয়া যাবে। এরপর আসামীরা আপিল করতে পারবেন। আমরা চাই আপিলে কী রায় আসে সেটা দেখতে। যদি আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকে তাহলে আমরা চাইব যেন শাস্তিটা কার্যকর করা হয়।?”

    তার মানে আপনি আগে থেকে জানেন ‘শাস্তিটা’ কী হবে!!!

    Reply
  18. Bangladeshi

    আপনাদের মূল টার্গেট জামায়াত ও ইসলামী রাজনীতি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সে টার্গেটকে গত ৪০ বছরে শিকার করতে পারেননি। বরং আপনাদের চোখের সামনে প্রায় এক কোটি মানুষের জনসমর্থন নিয়ে জামায়াত আজ দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার দিক থেকে বাংলাদেশের এক নম্বর দল। এ অবস্থায় সর্বশেষ অস্ত্র সেই তামাদি হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে নাটক! এই নাটকের কারণে বোঝা যাচ্ছে জামায়াতের কিছু শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ (যারা কোনওভাবেই যুদ্ধাপরাধী নয়) তাদের হয়তো রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে হবে। কিন্তু জামায়াত কি তাতে দুর্বল হয়ে যাবে? অবশ্যই না।

    জামায়াতের গায়ে যে সব কাদা আপানার লাগানোর চেষ্টা করেছেন বা লাগাতে পেরেছেন, তা এই বিচারের মাধ্যমে আপনারাই পরিস্কার করে দিচ্ছেন। জামায়াত দুর্বল যে হবে না এবং হয়নি, তা তো বিরোধী দলের বিভিন্ন জনসভার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে। এরপর মিশর-তুরস্ক-তিউনিসিয়ার দিকে দেখুন। জামায়াত দুর্বল হয়নি, হবেও না। বরং আরও ইফেক্টিভ নেতৃত্ব জামায়াত তৈরি করতে পারছে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে। তাই এই বিচার জামায়াতের জন্য শাপে-বর হবে।

    Reply
  19. Mala

    প্রপাগান্ডার মাধ্যমে আপনারা তারেককে বানালেন দুর্নীতিবাজ। ভাগ্য ভালো তারেকের – ’৭১ এ তার বয়স ছিল কম। না হলে একজন দুধর্ষ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তারেকের নামও পাওয়া যেত। আপনাদের এজেন্ডা হল যারা বিরোধী তাদের হয় যুদ্ধাপরাধী মামলায় নয় দুদকের মামলায় ফাসিয়ে দিয়ে দৌড়ের উপর রাখা যেন শেয়ার বাজার লুট, পদ্মা সেতু ভক্ষণ, হলমার্কের হালুয়া-রুটির ভাগ, কুইক রেন্টালের তৈলপান ইত্যাদি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া যায়। আপনাদের গুণাবলী আছে বটে, তবে আপনাদের চেনাও আছে আমাদের।

    আপনাদের ভাবমুর্তি এতটা নিষ্কলুষ নয় যে যা বলবেন তাই জনগণ নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে নেবে।

    Reply
    • সাঈদ আহমেদ

      Mala আপা (অথবা ভাই),

      মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়ার দুর্নীতি নিয়ে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ডেবরা লাপ্রেভোট বাংলাদেশের আদালতে সশরীরে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন ২০১১ সালের ১৬ই নভেম্বর। উল্লেখ্য, যতদূর জানা যায়, এই প্রথম বাংলাদেশে এফবিআই তাদের কোনও স্পেশাল এজেন্টকে পাঠিয়েছে। ব্যস্ততার কারণে আপনি হয়তো খবরটি মিস করেছেন।

      তাই ধন্যবাদ আপা / ভাইয়া।

      Reply
  20. কান্টি টুটুল

    “মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের সরকারগুলো ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও প্রমাণ নষ্ট করে ফেলেছিল”
    ==================================================
    জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার তথা দেশের জনগণকে “মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করার ধৃষ্টতা কোথায় পেলেন!!!

    Reply
    • mgnewaz

      জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেই কোনও সরকারকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের দল বলা যাবে না কেন? এ থিওরি আপনি কোথায় পেলেন???

      আপনি কি তখন এ দেশে ছিলেন না? দেখেননি নিজামীর গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত পতাকা উড়েছে???

      অতএব মন্তব্য করার আগে নিজের বিবেকের কাচে পরিষ্কার হযে নিন। শাহরিয়ার কবীর স্যারের এটা কোনও ধৃষ্টতা নয়, এটাই বাস্তব সত্য।

      Reply
      • কান্টি টুটুল

        নিজামীর গাড়িতে যখন এ দেশের জাতীয় পতাকা উড়েছে তখন সে রাজাকার। নিজামী যখন হাসিনার পাশে বসে আন্দোলন করেছে তখনও সে রাজাকার।

        এ দেশের জনগণ আরেকটি যুদ্ধের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ কিংবা বিপক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায় না। তারা চায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন। ভোটের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করে দেয় কোন দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করছে।

        যেমন ক্ষমতাসীন দল ব্যাংক, শেয়ার বাজার আর পদ্মা সেতু প্রকল্পে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার (!)বাস্তবায়ন করে চলেছে তাতে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ যদি বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসায়- তখন আপনি বলতে পারবেন না যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ দল ক্ষমতায় বসে গিয়েছে। কারণ ব্যাংক, শেয়ার বাজার আর পদ্মা সেতু গিলে খাওয়া নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না।

      • mgnewaz

        আপনি ঘরপোড়ার মধ্যে আলুপোড়া দেখছেন কেন??? এ সময়ের ব্যাংক-লুট, পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ ইত্যাদির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দুই অপরাধের মধ্যে কোনও তুলনাই হতে পারে না।

        আমি আপনার সঙ্গে ব্যাংক-লুটের বিষয়ে একমত। কিন্তু জাতির জন্মকে যারা অস্বীকার করে বা যারা জাতির জন্মের সময়ে এই শিশুকে গলাটিপে মারতে চয়েছিল, তাদের বেলায় কোনও আপোষ চলে না।

        মূল ‍বিষয় থেকে নজরটা অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা না করাই উচিত।

    • maruf

      ৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত কোন সরকার নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে? আর ৭১ এর অপরাধের সঙ্গে তারেকের প্রসঙ্গ আনার অর্থ কী? আমাদেরই দুর্ভাগ্য যে চোরের চামচামি করতে বিন্দুমাত্র বাধে না বিবেকে। এখানে প্রশ্নটা আওয়ামী-বিএনপি-জামাত নয়। এক কথায় বলেন তো- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান কি চান না?

      হ্যাঁ অথবা না। উত্তর দিন।

      Reply
      • m a khomany

        দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজ যখন শাসক কর্তৃক হয়ে থাকে তখন তিনি চলতি ভাষায় ‘বিশ্বাসঘাতক,’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের ভাষায় ‘রাজাকার’ বা অন্য কিছু। কারও গাড়িতে জাতীয় পতাকা উঠলে যখন সেই পতাকার অবমাননা হয় তখন সে পতাকার কোন মান-মর্জাদা আর থাকে না। একটা পতাকা একটা মানুষের জন্য নয়, তা দেশের প্রতীক। সেই প্রতীকধারী কোনও দেশবিরোধী কর্মকান্ড করল কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

        যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত এবং এটা গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আগাম বার্তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এ জন্য চিহ্নিত বুদ্ধিজীবীদের কম কথা বলাই শ্রেয় !!

    • ম্যানিলা নিশি

      জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারকে “মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করার মানেই হল ষোল কোটি মানুষের এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে অপমানিত করা।

      মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার চার দশক পরও দেশবাসীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করার এ অপচেষ্টা নিন্দনীয়, আপত্তিকর ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক।

      Reply
  21. tanvir

    ওরা ( রাজাকাররা, স্বাধীনতাবিরোধীরা) তো আমার দেশের স্বাধীনতার সপক্ষের জনগণকে, মুক্তিযোদ্ধাদের, এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের বিনা বিচারে হত্যা করেছিল, মা-বোনদের ধর্ষণ-নির্যাতন করেছিল। কই, তখন তো কোনও কোর্ট বা ট্রাইব্যুনালের দরকার হয়নি? তবে কেন আজ ওই স্বীকৃত দেশবিরোধীদের, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিচার করে শাস্তি দিতে হবে?

    Reply
    • mgnewaz

      ওরা তো অপরাধী, সে কারণেই ওদের বিচার করতে হবে। যেহেুতু তরা মুক্তিযুরদ্ধর সময় অনেক জঘন্য অপরাধ করেছে, তাই তাদের জাতির সামনে এনে বিচার করতে হবে। জাতিকে জানাতে হবে তাদের অপরাধের কথা…

      Reply
  22. সাঈদ আহমেদ

    আমরা সাধারন মানুষেরা চাই যেন যত দ্রুত সম্ভব অন্তত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয় (আপীলসহ) আগামী ইলেকশনের আগেই। আর আপনি, মুনতাসীর মামুন স্যারসহ আরও অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি যেভাবে এই বিচার নিয়ে প্রো-অ্যাকটিভলি কাজ করে যাচ্ছেন তাতে বাঙালি জাতি আপনাদের চিরকাল গর্বভরে মনে রাখবে।

    এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন তাঁর কাছে সরাসরি ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সীমাবদ্ধতাগুলো জানাতে পারেন। তিনি আইনমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এগুলো সমাধান করার ব্যাপারে দ্রুত এগিয়ে আসবেন অবশ্যই, এ আশােউনার ট্র্যাক রেকর্ড থেকে করাই যায়। আর যারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছে তাদের সম্ভব হলে আইনের মুখোমুখি করা দরকার। এ রকম কয়েকজনকে কোর্টে মিথ্যা কথা বলার জন্য নিতে পারলে অন্য ভুয়া সাক্ষীরা আর আইন নিয়ে প্রহসন করার সাহস করবে না।

    এই বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের সবার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। ২০১৩ তে এ দেশের পবিত্র মাটিতে শীর্ষ ঘাতকেরা সদম্ভে বিচরণ করবে না এ প্রত্যাশা পুরো জাতির।

    ধন্যবাদ আপনাকে এই সুলিখিত প্রবন্ধের জন্য। ভালো থাকবেন।

    Reply
    • মানছুর

      এ বিচার অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা ৯৫ ভাগ অপরাধ করে অবলীলায় চলে গেল তাদের তো পশমও স্পর্শ করতে পারলেন না? এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর লুটপাটেরও তো বিচার মনে হয় করতে পারবেন না। তাহলে কাদের স্বার্থে দেশকে নেতৃত্বশূণ্য করতে চাচ্ছেন?

      Reply
      • সাঈদ আহমেদ

        জামাতিদের কষ্ট আমরা বুঝি। এতদিন সুখে-শান্তিতে থেকে ভেবেছিল যে ৩০ লাখ বাঙালির রক্ত তো পানির চেয়েও সস্তা। কিন্তু সত্যিই যে মুক্তিযুদ্ধকালের সেই নির্মম গণহত্যার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এটা কোনওদিন ভাবেনি। তারা যদি সবাই ত্রিদিব রায়ের মতো ১৯৭১ এর পরে পাকিস্তানে চলে যেত তাহলে তারাও তাদের মতো শান্তি পেত, আমরাও অনেক এগিয়ে যেতে পারতাম। আজ আর আপনাকে কষ্ট করে কমেন্ট করতে হত না মনছুর সাব।

      • মানছুর

        কেন পাশ কাটিয়ে গেলেন? নিজেদের অক্ষমতা আর দুরভিসন্ধি মেনে নিলেন? তা না হলে বলুন পাকিস্তানি আর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচার কবে কোথায় করছেন? অন্তত এটা পরিষ্কার করুন যে তাদের বিচারের জন্য কী উদ্যোগ নিলেন?

      • সাঈদ আহমেদ

        এখন হচ্ছে ৩০ লাখ শহীদের হত্যাকারী পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগীদের বিচার। শ্রদ্ধেয় মুনতাসীর মামুন স্যার বলেছেন যে, গোলাম আযম/নিজামীদের মতো রাজাকার-আলবদর না থাকলে একাত্তরে এত মানুষ মারা যেত না। তাই এ বিচার নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে তারা ওই খুনীদের সহযোগী মাত্র, এতে কোনও সন্দেহ থাকতে পারে না। এদের শেষ পরিণতি ইতিহাসের ভাগাড়ে।

        আর আমরা বাঙালিরা কীভাবে পাকিস্তানি দালালদের বিচার করব – তা নিয়ে জামাতের সমর্থনকারী কারও কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাবই, এটা মনে রাখবেন।

      • mgnewaz

        ঠিকই বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনালের একটি উদ্দেশ্য তো আছেই। তা হল, ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া। শহীদের রক্তে রঞ্জিত হাত নিয়ে ওরা যাতে আমাদের রাজনীতিকে আর কলুষিত না করতে পারে….

      • মানছুর

        ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রাপ্য শাস্তি দেওয়াই যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের শাস্তি দিন। অন্তত এটা তো পরিষ্কার করুন যে তাদের বিচারের জন্য কী উদ্দ্যোগ নিলেন?

        আর রাজনীতি করাই যে বন্দী নেতৃবৃন্দের অপরাধ তা আপনার মন্তব্যে সুস্পষ্ট।

      • abdullah

        জনাব, সেই একই প্যচাল পেরে যাচ্ছেন, ‘পাকিস্তানিদের বিচার করেন।’ ন্যুনতম জ্ঞ্যান থাকলে জানা থাকার কথা যে, এক দেশ থেকে আরেক দেশের লোকদের বিচার এখন করা যায় না। বিচারের দাবি তোলা জায়। লেখক, বাংলাদেশের জনগণ (জামাতিরা ছাড়া), এমনকী পাকিস্তানেরও কিছু মহল সে দাবি তুলছেন। অপেক্ষা করেন আরও উঠবে।

        বলা যায় তখন কেন করা হয়নি। জনাবদের মতো জামাতিরা সবসময় এ প্রশ্ন তোলেন। পাকিস্তান তখন বলেছিল তারা বিচার করবে, কিন্তু তারা তা করেনি।

        একটু লজ্জা-শরম থাকলে বাংলাদেশ নামের দেশে জামাতিদের থাকার কথা নয়। কিন্তু জামাতিরা সবসময়ই নির্লজ্জ। ব্লগে-ব্লগে মিথ্যা প্রচার চালায় দল বেঁধে। মুহাম্মদ (সঃ) উম্মত হলে এটা করতে পারত না ওরা। আসলে এরা স্বয়ং ইবিলিশের উন্মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—