‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’।’ ছবিটার নামের মধ্যে ‘নিষ্পাপ’ শব্দটি থাকলেও আসলে এই একটি ছবিই গোটা মুসলিম বিশ্বে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আরব দেশগুলোতে তো বটেই, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্যান্য দেশে এবং পশ্চিমের দেশগুলোর মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোনও এক অখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র-নির্মাতার খুব কম বাজেটে বানানো একটি ছবির ট্রেইলর দেখেই মুসলিম বিশ্ব উত্তাল। চলমান এই ঘটনাবলীকে আমি নানা দিক থেকে দেখতে চাই।

প্রথমত, আরব-বিশ্বের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিলতা বাড়তে পারে। আমরা সবাই জানি, গত এক-দেড় বছরে আরব-বসন্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একটি গণজাগরণ দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ ক’টি দেশেই স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন স্বৈরশাসকরা। কেউ কেউ বিরুদ্ধ-পক্ষের হাতে খুন হয়েছেন। মিশর এবং তিউনিসিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমার কথা হল, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সম্ভাবনাগুলো বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

লক্ষ্যণীয় যে, আরব-বসন্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে মাত্র। যে শক্তিগুলো শাসন-শোষণ চালিয়ে গেছে তারা পুরোপরি বিনষ্ট হয়নি। স্বৈরশাসকদের আস্থাভাজন গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে প্রতিশোধ নিতে চাইবে। এর পাশাপাশি নানা রকমের গোষ্ঠীগত, জাতিগত এবং ধর্মীয় বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব তো রয়ে গেছেই। তেলসমৃদ্ধ অনেক দেশে স্বার্থগত কারণে এ সব দ্বন্দ্বের রূপ আরও জটিল। আবার এই মধ্যপ্রাচ্যেই ইসরাইল নামের রাষ্ট্রটির অবস্থান। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে এই দেশটির সম্পর্ক নিয়ে পুরো বিশ্বের রাজনীতির চালচিত্রেই নানা রকম টানাপড়েন দেখা যায়।

মোট কথা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এমনিতেই অস্থির। বছরখানেকের মধ্যে আরব-বসন্তের আগমনে এই জটিলতা বেড়েছে বহুগুণ। কিছু গোষ্ঠী কখনও-ই চাইবে না মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। তাহলে তাদের স্বার্থের হানি ঘটবে। এ জন্য সব দেশেই কিন্তু আরব-বসন্ত আসেনি। সৌদি আরবসহ আরব-বিশ্বের অনেক দেশে এখনও রাজতন্ত্রেরই অবসান হয়নি। সিরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে রক্তগঙ্গা বয়ে যাচ্ছে। তবু আসাদ-সরকার পিছু হটেনি। এখন এরাও তো চাইবে না মিশর বা তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র আসুক। ওদিকে ইরানের সঙ্গে মিশরের সম্পর্ক নতুন করে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাতেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

মিশরে নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুড নতুন সরকার গঠন করেছে। এই দলটিকে নিয়েও নানা সংশয় ছিল। পরে দেখা গেল সেগুলো খুব একটা সত্য হয়নি। এই দলটি বরং মিশরে গণতন্ত্রায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে নানা পরিকল্পনা নিয়ে। এখন মিশরে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার চ্যালেঞ্জ ওদের সামনে। সেখানে এখনও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পক্ষের গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে। ওদিকে লিবিয়াতে গাদ্দাফি-পক্ষের নানা তৎপরতা আরও অনেক দিন থাকবে।

এই অবস্থায় নকুলা নামের কোনও এক মিশরীয় কপ্টিক ক্রিস্টান নির্মাতা ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ নামের একটি ছবি তৈরি করলেন। পত্রপত্রিকা থেকে যতটুকু জেনেছি, ছবিটা তৈরি হয়েছে কয়েক মাস আগেই। নির্মাণের সময় খুব গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এমনকী নির্মাণের সময় ছবিটির নাম যা ছিল তা বদলে ফেলা হয়েছে। ছবির অভিনেতাদের অনেকেই নির্মাতাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। সেভাবে কোথাও এটি প্রদর্শিতও হয়নি। শুধু ইউটিউবে এর ভিডিওটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ সব কিছুই প্রমাণ করে এর পেছনে বড় কোনও পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য রয়েছে। কোনও একটি গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে বা মুসলিম বিশ্বেই অস্থিরতা তৈরি করতে চাচ্ছে। সম্প্রতি মিশরের একটি টিভি চ্যানেলে ছবিটির আরবী ডাবিং করে প্রচার করার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুসলিমরা। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ-হানাহানিও ছড়িয়ে পড়ছে। দিন-দিন বাড়ছে এটা। যে পক্ষটি বা পক্ষগুলো এই অস্থিরতাই চেয়েছিল তারা কিন্তু ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে। তারা দেখাতে পারবে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আসলে কোনও পরিবর্তন আসেনি, তথাকথিত আরব-বসন্ত আরব-জীবনে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইয়ে দিতে পারবে না। আরবরা এখনও আগের মতোই অসহিষ্ণু, সহিংসতাই তাদের ধর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রতিবাদ করা খুব স্বাভাবিক। কারণ, ছবিটির মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে। তাই বলে একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরও অন্যায় করা যাবে না। কোথাও কোথাও প্রতিবাদগুলো হচ্ছে হিংস্রভাবে। লিবিয়ায় এই ঘটনার জের ধরে মার্কিন কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। আরও নানা জায়গায় সহিংস ঘটনার জেরে খুন হচ্ছেন অনেকে। সমস্যা হল, আরব বিশ্বের রাজনীতি, বিশ্ব-রাজনীতির নানা মেরুকরণ এ সব বুঝতে না পারলে প্রতিবাদের ধরনে সহিংসতা আসবে– এটাই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এটা নির্বাচনের বছর। আর মাত্র দু’মাস পরই সেখানে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। সেখানে ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্রেট-রিপাবলিকানদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ডেমোক্রেট-দলীয় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনেক পদক্ষেপই গত চার বছরে রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের পছন্দ হয়নি। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাঁর সমর্থনের বিষয়টি রিপাবলিকানদের সমালোচনার শিকার হয়েছে। এমনিতে ওবামা নিজে মুসলিম পিতার পরিচয়ের কারণে মুসলিম বিশ্বের আস্থাভাজন হয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম বিশ্বের ব্যাপারে তাঁর মনোভাব অনেক ইতিবাচক বলেই সাধারণ মানুষের ধারণা। আগামী নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্রেটদের ক্যাম্পেইন থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওবামার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলরা নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে নানা কৌশল নিতেই পারে।

‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ ছবিটি নিয়ে মার্কিন সরকার বিব্রত হয়েছে এটা বোঝাই যাচ্ছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দুজনেই বলেছেন, এ ধরনের ছবি নির্মাণের বিষয়টি ‘অসমর্থনযোগ্য।’ তাঁদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং চলচ্চিত্র-নির্মাতাকে গ্রেফতার করার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা নির্বাচনের মাত্র দু’মাস আগে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। এমনিতেই গোটা মুসলিম বিশ্বে মার্কিন-বিরোধী একটি সেন্টিমেন্ট খুব শক্তিশালীভাবেই আছে। ৯/১১র টুইন-টাওয়ার ট্র্যাজিডির পর মার্কিন-মুল্লুকে মুসলিমদের নানাভাবে হয়রানি করা বা ইরাক-যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটা আরও তীব্র হয়েছে। এখন একটি বিতর্কিত চলচ্চিত্রের জন্য বিভিন্ন দেশে মার্কিন কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে থাকলে, এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও নানা জায়গায় বিপদের মুখোমুখি হলে, বর্তমান ওবামা সরকারকেই তো এ জন্য দেশে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে যেখানে বিরোধী-পক্ষ নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে।

এখন কথা হচ্ছে যে, একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে কারণ যা-ই থাকুক, সেটি নির্মিত হয়ে গেছে। এ নিয়ে দেশে-দেশে বিক্ষোভ করতে গিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে চলে গেলে ওই বিতর্কিত ছবির বক্তব্যকেই তো সত্য প্রমাণিত করা হবে। ওই ছবিতে মুসলিমদের হিংস্র এবং খুনী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে মুসলমানরা প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু এ জন্য যদি তারা সহিংসতাই দেখান তাহলে ছবির বক্তব্যকে প্রোটেস্ট করার সুযোগ থাকছে না। তাই আমার বক্তব্য হল, মুসলমানদের অবশ্যই এটা পরিহার করে এ ধরনের ছবি নির্মাণের উদ্দেশ্যকে বানচাল করতে হবে। মুসলমানরা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। তাহলে সেই ধর্মেল অনুসারীরা কখনও-ই অশান্তি চাইবেন না। তাছাড়া একটি বিদ্বেষমূলক চলচ্চিত্র বা একটি কার্টুন বা একটি বই কখনও-ই একটি ধর্মকে অবমাননা করতে পারে না। ধর্ম অনেক শক্তিশালী একটি বিষয়। বিশেষ করে যে ধর্মের অনুসারীরা গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে আছেন এবং সংখ্যায় তারা একশ’ কোটিরও বেশি। কাজেই একটি ছবি বা কার্টুন নিয়ে খুব বেশি স্পর্শকাতর হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

মার্কিন প্রশাসন আশা করা যায় এ ব্যাপারে কার্যকর কিছু উদ্যোগ নেবেন। মার্কিন সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংজ্ঞা অনেক ব্যাপক। তবে কোনও জাতি বা গোষ্ঠীর ব্যাপারে ঘৃণা ছড়াতে পারে, এমন কিছুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়াও তাদের আইনে সম্ভব। যেহেতু মিশরীয় বংশোদ্ভূত ওই নির্মাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাই মনে হচ্ছে বর্তমান সরকার সে দিকেই যাচ্ছেন।

ওদিকে চারদিকে দ্রুত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে বলে মুসলিম বিশ্বও জরুরি ভিত্তিতে একটি উদ্যোগ নিতে পারে। শীর্ষ দেশগুলোর নেতারা এ নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। কেউ-ই নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, অন্য দেশের তৃতীয় গ্রেডের একটি বিদ্বেষমূলক ছবি তৈরির অপপ্রয়াসকে ঘিরে নিজ দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক। যত শিগগির এটা হবে ততই সবার জন্য ভালো।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদঅধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৮ Responses -- “‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া”

  1. Md Tareq

    আমরা খুবই ক্ষুদ্র জাতি, তবুও যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ করেছে। আর মাঝখানে কিছু ইন্সলাম-বাবসায়ী সুযোগ নিয়েছে। আমি নিজেও আমার ক্ষুদ্র ব্লগ দিয়ে প্রতিবাদ করেছি। আর সরকারকে সাধুবাদ জানাই তার সিদ্ধান্তের জন্য।

    Reply
  2. খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ

    ড. আ.ফ.ম খালিদের সঙ্গে একমত। যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘায়ু দান করুন।

    Reply
  3. ফরহাদ

    নাৎসি জার্মানিতে ঘৃণার সংস্কৃতি ও ঘৃণার আদর্শবাদ তথা ‘অ্যান্টি-সেমিটিজম’ বা ‘ইহুদি-বিদ্বেষবাদ’ গত শতাব্দীতে ইউরোপে যে নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা আমরা জানি। আর তাই, এর পুনরাবৃত্তি রোখার জন্য পৃথিবীর দেশে-দেশে আন্দোলন ও আইন সুপ্রতিষ্ঠিত।

    কিন্তু, যে-দেশগুলো ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার আলোকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিজম’-এর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও আইনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে সভ্যতাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল- দুর্ভাগ্যবশত সে-দেশগুলোতে আজ ভিন্ন নামে ঘৃণাবাদের উত্থান ঘটেছে।

    এই ঘৃণাবাদ – যা আজ ‘ইসলামোফোবিয়া’ নামে পরিলক্ষিত – তার অভিঘাতে নরওয়ের মতো ‘সভ্য’ দেশেও সৃষ্টি হয়েছে ব্রিভিকের মতো ঘৃণাবাদী। এই ব্রিভিক নিজ-দেশের ইসলামীকরণ রুখতে আপন জাতির শিশু-কিশোর-সহ ৭৭টি প্রাণ হরণ করেছেন নির্বিচারে। লক্ষ্যণীয়, তিনিও বস্তুত কাপুরুষ। কারণ, তিনিও নিজ-পরিচয় গোপন করে, পুলিশের পরিচয় দিয়ে, শিশু-কিশোরদের ‘সাহায্য’ করার ভান করে, তাদের ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছেন।

    ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের বোঝা প্রয়োজন যে, মানুষের প্রতি মানুষের যে-কোনও ধরনের ঘৃণাবাদ সামগ্রিকভাবে মানবজাতিকে ক্ষতিগ্রস্তই করে। তাই পৃথিবী থেকে ঘৃণার অপসংকৃতি বিলোপের জন্য শুধু ‘অ্যান্টি-সেমিটিজম’ বা ‘ইহুদি-বিদ্বেষবাদ’-এর বিরুদ্ধে নয়- সব ধরনের ঘৃণাবাদের বিরুদ্ধে মানবজাতিকে বোধে, রুচিতে, মূল্যবোধে ও সংস্কৃতিতে দাঁড়াতে হবে।

    Reply
  4. Sumon

    আপনার চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার ধারণা সম্প্রতি বিশ্বে মুসলমানরা অনেক খারাপ কাজই করছে।

    Reply
  5. Pathok

    প্রতিবাদ করার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিছু কিছু লোকের জন্যই ইসলাম-বিরোধীরা আরও বেশি করে ইসলামকে আঘাত করছে….

    Reply
  6. Manik

    এ লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তবে মার্কিন প্রশাসনের অবশ্যই এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

    Reply
  7. Yousuf

    আপনার বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় আপনি যে সমাধান দিয়েছেন, তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য। হয়তো বা এটা আপনার জ্ঞান এবং মার্জিত বক্তব্য। কিন্তু আপনি যদি কোরআনের আয়াত থেকে বলতেন, তাহলে আমি আপনার মন্তব্যগুলোর প্রতি সাধুবাদ জানাতাম। আল্লাহ তায়ালা পরিস্কারভাবে বলেছেন আল্লাহ এবং হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে কোন ইহুদি কাফের কুসংস্কার রটায় তাহলে তোমরা আল্লাহর নবীর উম্মত হয়ে নবীজির জন্য জিহাদ ঘোষণা করবে। ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ চলচ্চিত্রটিতে যে কাহিনী সংলাপ ছিলো তাহা সম্পূর্ণ ইসলামবিদ্বেষী চলচ্চিত্র। এ জঘন্যতম চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে হক্কানি ঈমানদাররা কোনদিনই চুপ করে বশে থাকতে পারে না। এই মুহুর্তে সাড়া পৃথিবীতে ইসলামী জিহাদ ঘোষণা করা দরকার।

    আজ আপনারা সাহিত্যবিদরা ইসলামী চিন্তা চেতনাকে ভুলে গিয়ে, আপনাদের মনগড়া কিছু মতামত লেখেন। হয়তো বা মতামতটি আপনাদের মত দুর্বল লোকদের জন্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আপনার মতামতটি খাঁটি মুসলমানদের জন্য মোটেই যোগ্য নয়, কারণ তারা আল্লাহর কুরআন ও হযরত মুহাম্মদ (স.) এর হাদিসের অনুসারী।

    Reply
    • Rayhan

      ইউসুফ ভাইা, আপনি মনে হচ্ছে একবারে ‘হক্কানি’ মুসলিম। কিন্তু আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমাদের নবীর জীবনযাপনের কথা। তিনি যখন তাযেফে গিযেছিলেন, তাঁকে পাথর দিয়ে মেরে তাঁর দন্ত-মোবারক ভেঙ্গে ফেলা হযেছিল। তবু তিনি এর জন্য প্রতিশোধপরায়ণ হননি। উল্টো তিনি এদের জ্ঞান-বুদ্ধি দেওয়ার জন্য, এদের ক্ষমা করার জন্র দোয়া করেছিলেন।

      ভাই, আমাদের ধর্মটা আপনাদের মতো কিছু ‘হক্কানি’ মুসলিমের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত হযে গেছে। যারা কম জানে বা কম বুঝে তারাই এ রকম বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। আপনার কোরান-হাদিসের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করা দরকার। ভাই, একটু পড়াশোনা করুন। তাহলে ধর্মটাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন!!!

      Reply
      • Hasan

        রায়হান ভাই, আপনি মনে হচ্ছে একবারে ‘হক্কানি’ মুসলিম। কিন্তু আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমাদের নবীর জীবনযাপনের কথা। তিনি যখন তায়েফে গিযেছিলেন, তাঁকে পাথর দিয়ে মেরে তাঁর দন্ত-মোবারক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল। তবু তিনি এর জন্য প্রতিশোধপরায়ণ হননি। উল্টো তিনি এদের জ্ঞান-বুদ্ধি দেওয়ার জন্য, এদের ক্ষমা করার জন্য দোয়া করেছিলেন এবং মক্কা-বিজয়ের দিন আল্লাহর নবী সবাইকে মাফ করে দিযেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আবু সুফিয়ানের বাড়িতে যারা প‌্রবেশ করবে তারা নিরাপদ। যারা হেরেম শরীফে প‌্রবেশ করবে তারা নিরাপদ। (হেরেম শরীফে রক্তারক্তি হারাম)।’ আল্লাহ বল্লেন, ‘জি না, এত ক্ষমা করার অধিকার আপনাকে দেওয়া হয়নি। যে হেরেম শরীফে রক্তারক্তি হারাম, সেটা একদিনের জন‌্য রহিত করা হল ‘ আল্লাহকে অস্বীকার করার পরও আল্লাহ কাফেরদের খাওয়াচ্ছেন কিন্তু তাঁর নবীর অবমূল‌্যায়ন তিনি সহ্য করতে পারেন না।

        কারও বোনকে কেউ অপমান করলে সে যদি বলে, ‘আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, তাকে ক্ষমা করে দিলাম’- এটা যেমন গ্রহণযোগ‌্য নয়, তেমনি যে কেউ নবীজীকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। শান্তিপ্রিয়তা আর মেরুদণ্ডহীনতা এক নয়।

        সবাই নিজস্ব চিন্তা-চেতনার পেছনে যুক্তি খোঁজে। নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু ধর্মীয় ব‌্যাপারে নিজস্ব মতামতের স্থান নেই। এখানে দেখতে হবে আমাদের ধর্ম কী বলে। আমাদের উচিত আলেম সমাজের মাধ‌্যমে সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া। তবে এ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।

  8. Naser Fahad Jinnah

    ভালো লেগেছে। বিশ্লেষণ চমৎকার। আমার মনে হয়, মুসলিম বিশ্বের উচিত হবে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে মুহাম্মাদ (সা) ও ইসলামের উপর অনেক বেশি করে গবেষণামূলক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা।

    Reply
  9. Sarwar Kamal

    অসাধারণ একটা লেখা।

    মুসলমানদের অনেক বিষয়ে দূরদর্শীতা দেখানো উচিত। শুধু হইচই করে বিক্ষোভ করে বা মারামারি করে এর প্রতিকার পাওয়া যাবে না। ইসলামের যে আদর্শ সেটা দিয়ে সব জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে এর মোকাবেলা করা যায়।

    স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের সময়োপযোগী একটা লেখার জন্য।

    Reply
  10. ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

    আন্তর্জাতিক রাজণীতিতে সাম্রাজ্যবাদী খেলা আছে। ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’সে খেলারই অংশবিশেষ। চলচ্চিত্রকারের অখ্যাতি বা বাজেট-স্বল্পতার বিষয়টি গৌণ। মুখ্য হচ্ছে ইসলামকে টার্গেট করে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। The protocols of the Learned Elder Zion গ্রন্থটি তাই বলে।

    বিদ্বেষমূলক চলচ্চিত্র বা একটি কার্টুন বা একটি বই যদি একটি ধর্মকে অবমাননা করতে না পারে, তা হলে প্রশ্ন জাগে- কী করলে ধর্মাবমাননা হয়? নাকি ধর্মাবমাননা বলতে কিছু নেই? বিদ্বেষমূলক চলচ্চিত্র, বিদ্রুপাত্মক ছবি বা কার্টুন নিয়ে অবমাননা করলে সে ধর্মের সংক্ষুদ্ধ অনুসারীদের স্পর্শকাতর হওয়া একান্ত স্বাভাবিক। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি যারা অনুরক্ত. ধর্মাবমাননায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যারা ধর্মের নামে বিদ্বেষ ছড়ায় এবং মতপ্ররকাশের স্বাধীনতার নামে এগুলোর প্রচার অব্যাহত রাখে, প্রকারান্তরে তারা ভায়োলেন্সকে প্রশ্রয় দেয়। এ সব অনৈতিক ও বিদ্বেষেী কর্মকান্ড বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। এদের মুখোশ উম্মোচন করা দরকার।

    তবে এ কথা সত্য. প্রতিবাদকারীদের বিক্ষোভ যেন সহিংস রূপ ধারণ না করে, কোনও মানুষের জীবন ও সম্পদ যেন বিপদাপন্ন না হয়। ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ অন্য দেশের তৃতীয় গ্রেডের চলচ্চিত্র হলেও এর পেছনে কিন্তু বিশাল নেটওয়ার্ক সক্রিয়। গুগল সার্চ ইঞ্জিন কোন উদ্দেশ্যে ইউটিউব থেকে ছবির ট্রেইলরটি সরাচ্ছে না সচেতন মানুষদের বুঝতে বাকি নেই। ধর্মাবামাননার এ প্রাকটিসকে অব্যাহত থাকার সুযোগ দিলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, এমন আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার স্বার্থে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিকল্প নেই। ধর্মবমাননাকারীদের ঘৃণ্য অপতৎপরতা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

    Reply
    • zahir

      পশ্চিমা বিশ্বে overwhelming majority ধর্মপরায়ণ নয় – সেটি যে কারণেই হোক না কেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ধর্মকে (ঐতিহাসিকভাবে প্রধানত খ্রিস্টধর্মকেই) তারা “অবমাননা” করছে বহু বছর ধরে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এ বিষয়টাকে অবমাননা হিসেবে দেখে না। মুক্তমত প্রকাশের বিচারে কোনও কিছুকেই তারা পবিত্র বলে মনে করে না। কিছু কিছু বিষয় আধুনিক রাষ্ট্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা করা উচিতও নয়।

      সমস্যা হল, এই ম্বাধীনতার শেষবিন্দুটি কোথায় সেটা জানা। তাই এটাই ভালো যে ব্যক্তিকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া যে সে ওই চলচ্চিত্র-নির্মাতার মতো ইডিয়টিক কাজ করবে কিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ওই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পেছনে বড় কোনও নেটওয়ার্কের হাত রয়েছে এটা দাবি করা মুশকিল। ছবিটি মোটোই উল্লেখযোগ্য বা আলোচিত কিছু ছিল না। মিশরের একটি টিভি চ্যানেলের এক রক্ষণশীল হোস্ট এটির কিছু অংশের আরবী ভার্সন প্রচার করার পরই এটি আলোচনায় উঠে আসে। একই শো’তে একজন অতিথি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেলগুলো ৯/১১র বার্ষিকীর দিনে এই ছবিটি প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তথ্যটা ছিল পুরোপুরি ভুয়া। তথ্যটি কেউ যাচাই-ও করতে চায়নি। আর এ তথ্যের জন্যই মুসলিম বিশ্বে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।

      গুগলের নৈতিক দিকগুলো দেখার মতো কোনও পুলিশিং ব্যবস্থা নেই। ফলে কী গ্রহণযোগ্য আর কী নয়, কোনটি বিশেষ কোনও দেশের (যে সব দেশে তারা অপারেট করছে) আইনি কাঠামোর স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলেনি- তা দেখার কোনও সুযোগও তাদের নেই।

      তাই গুগলকে দায়ী করা বা কোনও য়ড়যন্ত্র-তত্ব আবিষ্কার করা সময়ের অপচয মাত্র।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—