আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, নাগরিক ডিসকোর্সে ঢাকাই ছবির নায়কেরা উপেক্ষিত। বাংলাদেশের সিনেমাকাশে পপুলার চলচ্চিত্র নক্ষত্রদের পতন হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু চিত্রনায়ক এম এ জলিল অনন্ত যখন প্রায়-বিস্মৃত ছেঁড়াখোঁড়া সিনেমার পোস্টার থেকে দুহাতে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে উড়ে এসে জুড়ে বসেন প্রাত্যহিক সংলাপে, পত্রিকা-টক শো, ফেসবুক-ব্লগ, মায় প্রতিবাদ পোস্টারে; তখন এই ইন্টারটেক্সুয়াল উপস্থিতি অস্বীকার করা কঠিন বৈকি!

অবিরত যখন বাংলাদেশে প্রেক্ষাগৃহ ভেঙ্গে তৈরি হচ্ছে শপিং মল; বড় রূপালী পর্দার আচ্ছন্ন আকর্ষণের বদলে দর্শক ভিনদেশি সিনেমা দেখার জন্য সাধ্যানুসারে বেছে নিয়েছেন টিভি, পিসি, ল্যাপটপের ছোটপর্দা; তখন উপেক্ষিত নায়কের প্রত্যাবর্তন কেন হয়? কীভাবে হয়? কীভাবে অনন্ত জলিল অনর্থ বাঁধাচ্ছেন বলে মনে হলেও, আবার অর্থও (meaning) তৈরি করেন?

মুনাফা, বিনোদন, কিম্বা জীবনযাপনের জন্য কোনো বৃহৎ-বয়ান তৈরি করার যে ক্ষমতা এফডিসি-কেন্দ্রিক বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কম-বেশি মাত্রায় একসময় ছিল, এখন তা নেই। অতিসম্প্রতি শিল্প বলে ঘোষিত হওয়া দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই খাতে বৃহৎ বা মৌলিক কোনো উৎপাদনের বদলে প্রধানত চোরাই মাল ও নকল সংস্করণের ব্যবসা চলে। এই বাজারে গ্রেসামের সূত্র ধরে (Bad money drives out the good) অন্য-সম্ভাবনার নির্মাতারা বিতাড়িত হয়েছেন। সুতরাং ভালো বাজারি সিনেমার জন্যও যে কাঁচামাল, উৎপাদন-উপকরণ ও কর্মী দরকার তাতে ঘাটতি চলছে দীর্ঘকাল। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘাটতি নায়ক নির্মাণেও ঘটেছে।

জনপ্রিয় ধারার চলচ্চিত্রে নায়ক অপরিহার্য উপাদান। চলচ্চিত্রের অন্যান্য ধারা নায়ক-কেন্দ্রিকতার বদলে যেভাবে একাধিক প্রটাগনিস্ট উপস্থিত করে, সেখানে পপুলার নায়ক ছাঁচে-ঢালা পৌরুষের প্রতীক। তিনি এমনকি পুরুষের চেয়ে পুরুষালী। একেবারে পুরুষোত্তম। বাস্তব জীবনে পুংলিঙ্গের যে বিভিন্নতা, যে নানা মাপের আকৃতি-প্রকৃতি, ভীতি-দুর্বলতা– পুরুষোত্তমের তা থাকতে নেই। তার থাকে অতিশক্তি। দুষ্টের দমনে তিনি ‘একাই একশ’।

বিশেষত এ উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে পপুলার নায়ককে দেখা যায়, নীতির প্রশ্নে যুধিষ্ঠির, অস্ত্র-দক্ষতায় অর্জুন, বাহুবলে ভীম, রমণীমোহনে কৃষ্ণ, চেহারায় কন্দর্প, নৃত্যগীতে গন্ধর্ব। যে পুরুষোত্তমকে পৌরাণিক কাহিনিও নির্মাণ করতে পারেনি, প্রযুক্তি ব্যবহারে জনপ্রিয় সিনেমা সেই একনায়ককে সর্বগুণে সমন্বিত করতে পারে। এই নায়ক-নির্ভর নির্মাণ থেকে বাংলাদেশের ফর্মুলা ফিল্ম কখনও বেরিয়ে আসেনি।

মোটা দাগে বললে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ের পালাবদলে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও, জনপ্রিয় ধারার নায়কেরা জনগণমনে কোনো না কোনোভাবে অধিনায়ক হয়েছেন বলেই তারা জনপ্রিয় ছিলেন। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে নায়কের ভূমিকায় ছিলেন গ্রাম থেকে প্রথম শহরে পদার্পণ করা নব্য মধ্যবিত্তের ফার্স্ট-ক্লাস-ফার্স্ট হওয়া, শুদ্ধ বাংলা বলা চরিত্র। অথবা, তখনও আদর্শ গ্রামীণ জীবনের রোমান্টিকতা পুষে রাখা লোককাহিনির নায়ক।

সংঘর্ষ মূলত ছিল শহুরে ধনী কিম্বা গ্রামীণ অভিজাত কোনো পিতৃতান্ত্রিক চরিত্রের সঙ্গে আদর্শবাদী নায়কের। আরও ছিল, যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে ওঠার ক্ষেত্র হিসেবে প্রেমের রোমান্টিকতা, যৌথ পরিবারে নায়িকাকে কেন্দ্র করে নানাবিধ কলহ ও পরবর্তীকালে সংঘাত-নিরসক মধুর মিলন। প্রধানত রাজ্জাক, কিছু মাত্রায় আজিম ও অন্যান্যরা এই নায়ক-কাঠামোকে দেহ দিয়েছেন।

সত্তরের দশকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পর্দায় এসেছেন একটি নতুন দেশ ও জাতি গঠন আর অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে, নতুন সুবিধাবাদী একটি শ্রেণি গঠনের সময়ে, তখনও মূল্যবোধ ও আদর্শ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টায়, ‘আমরা নষ্ট হয়েছি কিন্তু পচে যাইনি’ বলা অস্থির নায়কেরা। এই পরিবর্তন চলতে থাকে আশির দশক পর্যন্ত। রাজ্জাক তখন গুণ্ডা, সোহেল রানা আইনে বিশ্বাসী, আর ফারুক লাঠিয়াল। একই সঙ্গে পারিবারিক জীবনের স্থিততা ধরে রাখার রূপায়ণ করে গেছেন আলমগীর-প্রবীর মিত্ররা।

এর মধ্যে আমদানি বন্ধ থাকলেও বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়েছে সিনেমায়। হলিউডের হাত ধরে অ্যাকশনে গেছে বলিউড। উন্মুক্ত আকাশ আর মাটিতে ভিসিআর পরিচিত করে তুলছে মারদাঙ্গা হিরোদের। সুতরাং ঢালিউডের ফিল্মি-দুনিয়াতেও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ‘সামাজিক-অ্যাকশন’ ছবির। একদা খলনায়ক জসিমও তখন ‘ফাইটিং হিরো’ হয়েছেন। মাঠে নেমেছেন বাপ্পারাজ।

নব্বই দশকে এসে গ্রামীণ দারিদ্র্য আরও প্রকট হয়েছে, সাবসিসটেন্ট অর্থনীতিতে ভাঙ্গন ধরেছে। অসংখ্য মানুষ শহরমুখো হচ্ছে উন্নতি লাভের জন্য নয়, স্রেফ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। এদের বসবাস বস্তিতে। জীবিকা অনিশ্চিত। ক্রোধ অনেক, কিন্তু প্রকাশের সুযোগ নেই।

এ সময়ের বস্তিবাসী রাগী নায়কের মধ্য দিয়ে সে ক্রোধের কিঞ্চিত বিমোক্ষণ (Catharsis) ঘটে। মাঝে মাঝে সালমান শাহ-নাইমের কিশোর প্রেম, কিম্বা ’বেদের মেয়ে জোছনা’ প্রণীত প্রেমের প্রশ্নে অকুতোভয় নারীনির্মাণ থাকলেও এ সময়ে মূলত এই রাগী নায়কেরা পর্দায় দুর্নীতিবাজ পলিটিশিয়ান-পুলিশ থেকে ধর্ষক চোরাকারবারীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন একাই। পর্দায় নিজেরাও নানা ধরনের সন্ত্রাসমূলক কিংবা অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য হলেও ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ এই নীতি থেকে নায়কের বিচ্যুতি ঘটেনি।

বলিউডের একই ধারার সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের মতো ঢালিউডে এ সময়ের নায়কের প্রায় একক প্রতিমূর্তি ছিলেন মান্না।

নতুন শতাব্দীর শুরু থেকে ক্রমাগত নায়কোচিত এই স্থানে শূন্যতা চোখে পড়ে। মান্নার মৃত্যু সেই শূণ্যতা প্রকট করে আরও। ইতোমধ্যে ‘অশ্লীলতা-বিরোধী’ আন্দোলন ও সম্মার্জন শুরু হওয়ায়, অন্যদিকে ‘অশ্লীলতা-হীন’ অথচ পপুলার সিনেমা নির্মাণের অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে উপস্থিত না থাকায়; সিনেমার পর্দা কোনো শক্তিমান নায়ক ইমেজ আর উপহার দেয় না। একদা সর্ব-সমস্যা-সমাধানে-সক্ষম নায়কের অথরিটি ক্ষুন্ন হয়। দেশি নায়ক বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যান, কিন্তু দর্শকের সম্মিলিত মানসে ‘মেইড ইন বিশ্ববাজার’ মার্কামারা নায়কের মানসপ্রতিমা তৈরি হতেই থাকে।

সেই নায়ক হলিউডি ইংরেজি বলিয়ে চৌকস, বলিউডি পেশীপ্যাক-সমৃদ্ধদেহী, কুংফু-কারাতে-বন্দুকযুদ্ধে এক্সপার্ট। মনোযোগহীন এফডিসি টিম টিম করে জ্বলতে থাকে। দুর্বল-বাজেটের অধিকাংশ পকেটে পুরে, আগ্রহহীন নগর-দর্শকের অগোচরে, নায়কপ্রতিমরা আসে যায়; কিন্তু হিরোর আগমন ঘটে না।

নায়ক-অভিলাষী দর্শকের এই দুঃসময়ে ত্রাণ নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ করলেন ‘অ্যাকশন হিরো অনন্ত জলিল’। আগ্রহী অডিয়েন্সের স্পেকটেক্যালে দর্শনের (Gaze) জন্য নিজেকে প্রদর্শন করলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে নির্মিত সুপার হিরোর ছাঁচের কাছে তাকে আর নায়কোচিত মনে হলো না অনেকের। তার দেহে স্ট্যালোন-শোয়ার্জনেগার, হৃত্বিক-আমির খানের পেশীবহুল পৌরুষ নেই। সালমান-শাহরুখের নৃত্যকৌশলের কাছে তিনি তুচ্ছ। অমিতাভ বচ্চনের মতো খাদে বলা পুরুষালী স্বরের আত্মবিশ্বাস অনুপস্থিত। তদুপরি তিনি ’ভুল’ উচ্চারণে কথা বলেন।

নিকট অতীতে বাংলাদেশের ‘রাগী নায়ক’ মান্নার উচ্চারণ নিয়ে ঠিক এই কৌতুক হয়নি। তার কারণ হয়তো মান্না মূলত পর্দায় নগরের গরীব মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই রেপ্রিজেন্টেড হতেন। কিন্তু, পর্দায় অনন্তের উপস্থাপন এলিট (শিল্পপতি, কর্মকর্তা) সমাজের একজন হিসেবে। পর্দার বাইরেও তিনি ‘এজুকেটেড’ বলেই নিজের পরিচয় দেন; অন্য নায়কের সঙ্গে নিজের ভিন্নতা তৈরি করতে চান এই বলে যে, ‘‘সাকিব খানের সিনেমা তো রিকশাওয়ালারা দেখে।”

সোশ্যাল-মিডিয়া ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগে দর্শক-প্রতিক্রিয়ার অনুধাবন প্রচেষ্টায় আমার ধারণা হলো, দর্শকের কাছে অনন্ত জলিলের সেই অতিপুরুষ হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি এবং পরবর্তীতে না হয়ে উঠতে পারাটাই মনে হয়েছে প্রহসন। মনে হয়েছে, নায়কের মানসমূর্তির সঙ্গে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার সংলাপের অসঙ্গতি নিয়ে তাই ঠাট্টা-তামাশা চলতে থাকে। চায়ের টেবিলে বা ঘাসের আড্ডায় তার অনুকরণ বা অতিঅনুকরণে ‘ই..স..ট…প..’ বা ‘আর ইউ পোম গানা’ বলা শুরু হয়।

অসঙ্গতি তো সমাজের অন্যান্য অংশেও দৃশ্যমান। নেতা, আইনরক্ষক, বা বুদ্ধিজীবীর মানসপ্রতিমার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সংস্করণও প্রায়শই বিশ্বাসঘাতকতা করে। তাই এক হিরোর ক্যারিক্যাচার দিয়েই আরেক প্রধানকে তামাশা করে প্ল্যাকার্ড বানায় শিক্ষার্থীরা। জনসংস্কৃতিতে সিনেমার সংলাপ কথনের অংশ হয়ে ওঠা নতুন কিছু নয়। বাংলায় ‘এবার তোকে ছেড়ে দেব না শয়তান …. হা হা হা’; হিন্দিতে ‘আব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া’; কিম্বা হলিউডি ‘আই’ল্ বি ব্যাক’এর মতো অজস্র উদাহরণ মনে করা যায়, যেগুলো সংলাপ বা চরিত্রগুলোকে রীতিমতো আইকনিক করে তুলেছে।

সুতরাং ফিল্মি জগতে ঠাট্টা-তামাশার মধ্য দিয়েও পপ নায়ক নির্মাণ হতে পারে। দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার রজনীকান্তের ব্যাঙ্গাত্মক অথচ বিশাল নির্মাণ তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

অন্যদিকে, অনন্তের মধ্যে অনন্ত সম্ভাবনাময় নায়ক খুঁজে পাবার প্রচেষ্টাও সমতালে দৃশ্যমান। এ নায়ক অনেক টাকা লগ্নি করে, প্রাযুক্তিক শক্তিতে মুমূর্ষ চলচ্চিত্র শিল্পকে জীবনদানের নায়ক। এ নায়ক হিন্দি সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়িয়ে নায়ক। এ নায়ক দেশের বাইরে বাস করা বাংলাদেশির জন্য আত্মপরিচিতি প্রতিষ্ঠার নায়ক। ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তাকে উপহাস না করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। নায়কের উপহাসকারীরা ভিলেন বলে চিহ্নিত হয়েছেন বা আত্মগ্লানিতে ভুগছেন।

কৌতুক বা সমবেদনা আকর্ষণ, যেভাবেই হোক না কেন, নায়ক অনন্ত জলিলের যে নির্মাণ আলোচনায় আসে তা প্রধানত একক হিরোর হেজামনির মধ্য দিয়েই। এ নায়ক অনেকের মধ্যে এবং অনেকের সঙ্গে প্রতিদিনের সংগ্রামের একজন নয়। বাস্তবে অসম্ভব, সেই অতিশক্তিমান, অতিপুরুষ, সকল সমস্যার এক এবং অদ্বিতীয় ম্যাজিক সমাধানকারীর ফ্যান্টাসি রয়ে যায় দর্শকের প্রত্যাশা আর সংশয়ে দোল-দোলানো। কৌতুকে-ক্রিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আর শেষ হয় না প্রকৃত নায়কের সন্ধানে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’।

তবে, ঢাকার সিনেমার নায়ককে নাগরিক আলোচনা-সংশ্লেষে ফিরিয়ে আনার জন্য অনন্ত জলিল– আপনাকে ’মোস্ট ওয়েলকাম’।

গীতি আরা নাসরীনঅধ্যাপক, গণযোগেোযাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩০ Responses -- “অনন্ত জলিল এবং নায়কের জন্য ‘খোঁজ দ্য সার্চ’”

  1. Romel

    . অনন্ত জলিল রা আছে জন্যই কিছু কিছু তথাকথিত লেখক বিশেষ করে ইস্ত্রি লিঙ্গ ( অন্য স্বাভাবিক সম্বোধনের যোগ্যতা হারানো এদেরকে লিঙ্গ দ্বারা সম্বোধন যথাযত)
    এই সমস্ত ইস্ত্রি লিঙ্গের চোখ কখনোই আশা বোধক কিছু দেখেনা , এরা জানেনা আজ বাংলা সিনেমার যত আধুনিকায়ন তা এই জলিল নায়ক এর জন্যই । এবং সেটা কলকাতার বাংলার চেয়ে শত গুন ভালো।
    এরা ছবির কাহিনী নকলের কথা বলে কিন্তু নিজেদের আধুনিক ভাব মেধা দিয়ে একটা ভালো কাহিনী লেখার ক্ষমতা নেই।
    এরা ঘরে এবং বাইরে সকল জায়গায় শুধু ফুটো খুঁজে বেড়ায়।নিজেদের সমাধান বা নির্দেশনা মূলক লেখা লিখবার ক্ষমতা নেই।
    এরা এতটাই নির্বোধ যে নিজের সম্পর্কে শুধরানোর উপায়টুকুও বুঝতে পারেনা।

    Reply
  2. রুশ্নি আরা

    দর্শকের কাছে অনন্ত জলিলের সেই অতিপুরুষ হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি এবং পরবর্তীতে না হয়ে উঠতে পারাকেই মনে হয়েছে প্রহসন। মনে হয়েছে, নায়কের মানসমূর্তির সাথে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

    Reply
  3. এস এম এ এ এস

    আপা, লেখাটি অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে পড়লাম। কিন্তু লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিয়ে আমি আপনার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না।

    — দার এস সালাম, তানজানিয়া থেকে

    Reply
  4. সজীব রাজ বংশী

    দরকার ছিল এমন লেখার। ধন্যবাদ আপনাকে।

    এটা মানতেই হবে যে পরিবর্তন হচ্ছে। আর যারা এর বিরোধিতা করছে তাদের বলছি, বাইরের ছবি দেখে দেখে আমাদের মাইন্ড এমনভাবে সেট-আপ হয়ে গেছে যে এখন দেশীয় কোনও জিনিস দেখলেই আমরা একবাক্যে বলে দিই ‘ক্ষ্যাত।’ ভাই, এ কথা বলে আপনি তো নিজেকে গালি দিলেন। আর মনে রাখতে হবে, ভারত বা আমেরিকার সামাজিক অবস্থা বা জীবনধারণ কিন্তু আমাদের দেশের মতো নয়। তাই এখান থেকে তেমন কিছু আশা করা ঠিক হবে না। আর আমাদের দেশ গরীব। ওরা পকেটের টাকা খরচ করে থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখে। আর আমি-আপনারা শুধু খুঁজি কোন বন্ধুর পিসিতে কোনও সিনেমা আছে কিনা।

    Reply
  5. mehedi

    আমাদের মতো কম-জানা লোকদের জন্যে একটু সহজ করে লিখা যায় না? মানে, ডিস্কোর্স-দারিদা-ফোঁকাফুঁকি ইত্যাদি বাদ দিয়ে….

    Reply
  6. কবি

    প্রথম পাতায় আসার মতো কোনও লেখা নয়…… অনলাইন পত্রিকায় গুরুত্ব পেল দেখে অবাক হলাম…… সমালোচনা সবাই করতে পারে…… কিন্তু সম্ভাবনা খুঁজে দেখতেও যোগ্যতা লাগে…… লেখকের চিন্তা-চেতনায় পরির্বতনের আশা রাখি।

    Reply
  7. চিরসবুজমানব

    লেখাটি কাব্যিক তবে সাবলীল ও আদৌ সুখপাঠ্য নয়। গুমোট। আর ইংরেজি ও বাংলার সমন্বয়ে আরও বেশি দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে। যেমনঃ
    “নাগরিক ডিসকোর্স ”
    ” গ্রেসামের সূত্র ”
    “সাবসিসটেন্ট অর্থনীতি”
    “সমাধানকারীর ফ্যান্টাসি”

    এর কোনও সারসংক্ষেপ বা উপসংহার নেই বরং লেখাটি অতিমাত্রায় গুরুচন্ডালি আর অপভাষিক, তাই বলা চলে। পাঠকমনে এটি নাড়া না-ও দিতে পারে।

    Reply
  8. nayan

    দারুণ লিখেছেন আপা। আমাদের দর্শকরা এখন হিন্দি মুভি ছাড়া কিছু বোঝেন না। আর হিন্দি মুভির প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ কমানোর জন্য নায়ক অনন্তকে দরকার।

    Reply
  9. jojo

    বাঙালিদের এটাই সমস্যা…. সুপার হিরো বানাতে পারি না…. সুপার হিরো চাইতে পারি। লেখকের শেষ কথাটা ছাড়া বাকিগুলোতে সহমত হতে পারলাম না। দুঃখিত।

    Reply
  10. রহমান

    অনন্ত জলিলের ইংরেজি বাচনভঙ্গী আর অভিনয় নিয়ে যারা উপহাস করে তাদের আমি সমর্থন করি। উপহাস এক ধরনের সমালোচনা। উনার অভিনয় একদমই বাজে। নিজের টাকা দিয়ে নিজেই অভিনয় করা, স্ক্রিনে বেশিরভাগ সময় নিজের উপস্থিতি, নিজেই নিজের প্রশংসা করা, নিজেকে বিকল্পহীন ঘোষণা করা এগুলো একদম হাস্যকর এবং শিশুতোষ। সিনেমার মধ্যে উনি যে ইংলিশ ডায়ালগ দেন, তা ফোর্স-ফিট। ওসব ডায়লগ না থাকলেও চলে। সিনেমার হিসেবে দেখলে তার সিনেমাগুলো প্রচুর ভুলভ্রান্তিতে ভরা এবং এই ভুলগুলো নিয়ে উপহাস করার দরকার অবশ্যই আছে।

    ইংরেজি উচ্চারণের ভঙ্গিতে আর ভুল গ্রামারের ইংরেজি আলাদা বিষয়। দেখা গেছে, উনার চরিত্র একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। কাহিনীর দিক দিয়ে একজন কর্মকর্তা ইংরেজি উচ্চারণে বাঙালি ছাপ থাকলেও ও রকম ভুল গ্রামারে বলবেন না। কিন্তু উনি তাই বলেন। একজন অভিনেতার ব্যাক্তিগত দুর্বলতা দিয়ে সিনেমাকে বাঁশ মারতে হবে কেন? উনি ইংলিশ জানেন না, তাহলে সিনেমার স্বার্থেই তার সেটা শেখা উচিত। সিনেমা সিনেমার মতোই হওয়া উচিত। উনার চরিত্র গ্রামের হলে তা-ও মানা যেত। কাহিনীর আগামাথা নাই, সিনেমার নামে গাঁজাখুরি আর আপনারা যারা অনন্তর সমর্থক- সবাই কিনা একেই সাপোর্ট দেওয়ার কথা বলছেন। উপহাস না করতে বলছেন! আজব দাবি!

    আমার মতে, উপহাস অবশ্যই করা উচিত। হলিউডে উপহাস করে রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় খারাপ অভিনয়, সিনেমা বা কাহিনীর জন্য। সেই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে সান্ড্রা বুলকরা আরও ভালো করার তাগিদ দেন নিজেদের। উপহাস করে তৈরি হয় Greatest Movie Mistake নামের টিভি অনুষ্ঠান, যেখানে সিনেমার বিভিন্ন ভুল ধরে মজা করা হয়। এগুলো চলচিত্রের ভালোর জন্য দরকার। এ সব তো আর শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় যে হারুক-জিতুক সবাইকে পজেটিভলি সমর্থন করতে হবে!

    অনন্ত জলিল একজন ব্যাবসায়ী মানুষ। অনেক টাকা-পয়সার মালিক বোঝাই যায়। নিজের টাকা-পয়সা লগ্নি করে নতুন কিছু উপহার দিচ্ছেন। শুভ উদ্যোগ। কিন্তু সিনেমার নামে যা তৈরি হচ্ছে, তা সিনেমার মধ্যে পড়ে না। সুন্দর লোকেশন, প্রযুক্তির ব্যবহার না করেও অনেক ভালো সিনেমা তৈরি হয়েছে। সত্যজিৎ রায়, জহির রায়হান বা গৌতম ঘোষের সিনেমাগুলোতে কত টাকা লেগেছে? ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ সিনেমাতে কয়টা গোলাগুলি বা লোকেশন আছে? স্রেফ কাহিনী, ডিরেকশন আর অভিনয়গুণে সমৃদ্ধ সিনেমাটি আজীবন চোখের সামনে ভাসবে। তেমনি হিন্দি যেমন উড়ান, কাহানি, ওয়েক আপ সিড – এমন সিনেমাগুলো কাহিনী, অভিনয়, ডিরেকশনের কল্যাণে দারুণ সিনেমা হয়ে উঠেছে- বিশাল বাজেট, প্রযুক্তি বা লোকেশনের কল্যাণে নয়।

    বাংলাদেশে এমন ছবি তৈরি করা খুবই সম্ভব। এ রকম সিনেমা বানানোর মতো মেধা আমাদের আছে। বিশাল বাজেট করে চোখ-ধাঁধানো লোকেশনে বিদেশি কোরিওগ্রাফিতে নর্তন-কুর্দন করে দর্শককে গিলানো, আর হাই-ফাই শপিং মল তৈরি করে সেখানে নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দেওয়া একই কথা। আমরা ভালো পণ্য চাই।

    অনন্তর টাকা-পয়সা ভালো কাহিনী, অভিনয় আর ডিরেকশনের পিছনে ব্যায় হোক, মনে রাখার মতো ভালো সিনেমা তৈরি হোক- এই কামনা করি।

    Reply
  11. shibu kumer shill

    বিশেষত এ উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে পপুলার নায়ককে দেখা যায়, নীতির প্রশ্নে যুধিষ্ঠির, অস্ত্র-দক্ষতায় অর্জুন, বাহুবলে ভীম, রমণীমোহনে কৃষ্ণ, চেহারায় কন্দর্প, নৃত্যগীতে গন্ধর্ব। যে পুরুষোত্তমকে পৌরাণিক কাহিনীও নির্মাণ করতে পারেনি, প্রযুক্তি ব্যবহারে জনপ্রিয় সিনেমা সেই এক নায়কে সর্বগুণ সমন্বিত করতে পারে। এই নায়ক-নির্ভর নির্মাণ থেকে বাংলাদেশের ফর্মুলা ফিল্ম কখনও বেরিয়ে আসেনি।

    এই কথাগুলো কি হলিউডের কোনও ফিল্মের ক্ষেত্রে একই নয়? তাহলে ঢাকাই বা উপমহাদেশের জনপ্রিয় সিনেমার ক্ষেত্রে ভিন্নতা কোথায়?

    Reply
  12. ঈশা

    ”অনন্ত জলিল, বাবা তুমি আমাদিগের, এই বঙ্গদেশের নাগরিক সমাজের শিল্পপতি, বুদ্ধিজীবী, কর্মকারিক যাহারা তাহাদিগের নায়ক হইবার বাসনা পোষন করিয়াছ বটে তথাপি বাংলা কি ইংরাজি কোন ভাষাতেই শুদ্ধরূপে লিখিতে পড়িতে ও বলিতে পারো না, বিধায় তোমারে সেই আমাদিগের ‘প্রকৃত নায়কে’র আসনে আসীন করা গেল না; তুমি বরং বস্তি কি গেরামের ছোটলোকদের নায়ক হও গা গিয়া। তবে ঢাকাই সিনেমার নায়কেরে আমাদিগের আলোচনায় ফিরাইয়া আনিয়া আমাদের শ্রেনীর ‘প্রকৃত নায়কে’রে এখনো যে খোঁজ দ্য সার্চ করিতে হইবে এই কথা স্মরন করাইয়া দিবার জন্য তোমারে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ কহিয়া সোনার মেডেল দেওয়া গেল বড়জোড়, ইহা লইয়া পত্রপাঠ বিদায় হও…”

    এই হল লেখিকার প্রকৃত বাসনা। তা লেখিকার কাছে প্রশ্ন- কোন তরিকায় তাঁর কল্পিত অহেজিমনিক, আমাদের ‘প্রতিদিনের সংগ্রামের একজন’ সাথী ‘প্রকৃত নায়কে’র প্রতিমা আমাদের মানসপটে নির্মাণ করা যাবে?

    Reply
  13. Lutfor Rahman Himel

    “অনন্তের মধ্যে অনন্ত সম্ভাবনাময় নায়ক খুঁজে পাবার প্রচেষ্টাও সমতালে দৃশ্যমান। এ নায়ক অনেক টাকা লগ্নী করে, প্রাযুক্তিক শক্তিতে মুমূর্ষ চলচ্চিত্র শিল্পকে জীবনদানের নায়ক। এ নায়ক হিন্দী সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়িয়ে নায়ক। এ নায়ক দেশের বাইরে বাস করা বাংলাদেশীর জন্য আত্মপরিচিতি প্রতিষ্ঠার নায়ক।”

    গীতি আপা, একশ’ভাগ একমত। এমন লেখা প্রত্যাশা করছিলাম।

    Reply
  14. কুলদা রায়

    লেখাটি ভালো লাগল। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের সময়কার নায়ক চরিত্রের একটা ঠিঁকুজি পাওয়া গেল।
    বাংলাদেশে সিনেমায় যখন নায়ক নায়িকারা অভিনয় করে–তখন আমি বিমুঢ় হয়ে যাই দেখে। সবই যাত্রার ব্যর্থ অনুকরণ। যাত্রার তবু একটা ভাষা আছে। আমি নৌকার মাঝিকেও দেখেছি–কচা নদীতে নৌকা বাইতে বাইতে আমাকে যাত্রা পালার গল্প শোনাচ্ছেন খাস বরিশাল্যা ভাষায়। এই অশিক্ষিত মাঝিটিই যখন সিরাজউদ্দৌলার পালার স্মৃতিতে আসছেন, তখন বর্ণনা রেখে, বৈঠাটা হাঁটু দিয়ে ছেপে ধরে, দাঁড়িয়ে অমলেন্দু বিশ্বাসে ভঙ্গীতে অভিনয় করে উঠছেন–বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব, বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা।। ইত্যাদি।
    লক্ষ্য করেছি, এই নৌকার মাঝিটি অমলেন্দু বিশ্বাসের এই উচ্চারিত ভাষা ভঙ্গী-উচ্চারণ ভঙ্গী হুবহু আনার চেষ্টা করছেন। কোথাও বরিশাইল্যা টোনটা আনছেন না। খুব স্মার্ট লাগছে তার এই ন্দীমধ্যের অভিনয়টুকু। কিন্তু যখন ঢাকাই সিনেমার নায়করা অভিনয়ে কথা বলেন, মনে হয়, এরা এই কচা নদীর মাঝির চেয়েও গ্রাম্য। অশিক্ষিত। অসংস্কৃত। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগে অমিতাভ বচ্চন কী সিনেমাতে এই রকম ভুল-ভাল উচ্চারণে কথা বলেন? কিম্বা হলিউডের কোনো মুভির ডিরেক্টর কী কল্পনা করতে পারেন–উচ্চারণ-মুর্খ কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী তার মুভির কোনো চরিত্রে অভিনয়ে নিয়েছেন?

    Reply
  15. দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

    শ্রদ্ধেয় গীতিআরা আপু,
    লেখাটা ভালো লেগেছে।
    লেখাটা বাংলা পপুলার চলচ্চিত্রের একটা ছোট্ট ‘ফিরে দেখা’ হিসেবে দেখলে একটা সংযোজন বা সম্প্রসারণ আশা করতে পারি। সালমান শাহ বিষয়টা আরেকটু গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেত।
    মুম্বাই ফিল্মে ‘কায়মত সে কায়মত’ দিয়ে একটা দারুন বাক পরিবর্তন হয়েছিল; তার মূলে ছিল আমির খানের গুডি বয় ইমেজ; কিশোর প্রেম। ওই ইমেজ থেকে বিবর্তিত হয়ে আমির খানকে আশ্রয় করেই মুম্বাই পপুলার ফিল্ম ম্যাচিউর হয়ে উঠল এসে ফারহান খানের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবিতে; যেটিকে লোকেরা মুম্বাই ফিল্মের নতুন যুগের শুরু বলে থাকে।
    সালমান শাহকে কেন্দ্র করে হুবহু একই ধরণের একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। একেবারেই আমির খানের কপি করে শুরু। পরে একটু একটু করে বিবর্তিত হচ্ছে সালমান শাহ। আস্তে আস্তে একটু ‘মাচো লাভার বয়’ হয়ে উঠছেন। এই সময় আমরা আশা করতে পারি, এফডিসি সালমান শাহকে কেন্দ্র করে সত্যিই ইন্ড্রাস্ট্রিতে পরিণত হবে। কিন্তু এই নায়কের মৃত্যুতে এই ইতিহাসটা হঠাৎ থমকে গেল এবং সে পথে আর বাং জনপ্রিয় সিনেমার বিবর্তন হল না।
    আমার কাছে নব্বইয়ে এটা বাংলা সিনেমার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ন ঘটনা বলে মনে হয়।
    না বুঝে বেশি বলে ফেললে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি জানি, ভুলভাল বললে আপনি ছেলেমানুষী বলে হেসে মেনে নেবেন।
    সুন্দর লেখার জন্য আবার অভিনন্দন।

    Reply
  16. আরেফিন

    সবচেয়ে ভাল হয় উনি নিজে নায়ক না হয়ে অন্য কাউকে নায়ক হিসাবে নিলে।তবে তিনি প্রডিউসার হিসাবে থাকবেন।একজন মানুষ নিজেকে যদি হাস্যকর ভাবে উপস্থাপন করে তাহলে মানুষ অবশ্যই হাসবে।

    Reply
    • ফারহানা মান্নান

      টাকা আছে যার সব আছে তাঁর। একই ভাবে ডিপজল বাংলাদেশের নায়ক। এ দেশের সিনেমা-জগতে রুচিহীনতার ছাপ সর্বত্র।

      Reply
  17. Adnan R Amin

    নাসরীন আপা
    সাধুবাদ আপনাকে। ভুল ইংরেজির গোলকধাধা থেকে বেরি্যে এসে, সত্যিকারের সামাজিক ইস্যুটি সুন্দর ফুটে উঠেছে আপনার লেখায়। জলিল সাহেবের চরিত্র মধ্যবিত্ত না হলে এতো কথা উঠতোই না। বস্তির নায়ক ভুল ইংরেজি বললে আমরা তাকে করুনা করতে পারি – কিন্তু আমাদের জীবনের, লাইফস্টাইলের কাছাকাছি চলে আসা, লন্ডনে-পড়া, মালয়েশিয়া-ঘুরা, ইয়টে-চড়া জলিলের প্রতিটি ভুলের মাশুল আমরা নিতে চাই শাইলকের মত নিষ্ঠুরভাবে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছি-ছি, রি-রি, হাসাহাসি .. যতটুকু ভাইরাল, তার চেয়ে বেশি আত্মরক্ষামূলক। আসলে, বাংলা সিনেমাকে আমরা জেনেছি গরীবের বিনোদন হিসেবে। সেই মাধ্যমে যদি আজ হঠাৎ উপস্থিত হয় উচ্চবিত্তের এক রিপ্রেজেন্টেটিভ – যাকে টাকার খোটা দেয়াও যায়না, কুৎসা আর তাচ্ছ্যিল্যই শেষ হাতিয়ার।
    পরিশেষে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে, গণযোগাযোগ ও সোশ্যালজির আলোকে একটি চিন্তা উদ্রেক করানো, বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য ধন্যবাদ। ইন্টেলেকচুয়াল-ডিসকোর্সে মগ্ন (স্বল্পসংখ্যক) সবারই এর থেকে কিছু নেয়ার আছে।

    Reply
  18. anny

    দেখেন, উনার চিন্তাধারার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি বাজেট থাকলেই শুধু হবেনা PERFORMANCE তো সুপারহিরোর মত চাই|

    Reply
  19. sasha

    অন্তর জলিলকে আমার কাছে একজন উদ্ধত মানুষ বলেই মনে হয়েছে। ইউটিউবে তার ভিডিওটা দেখেছি। মনে হল তিনি নিশ্চিতভাবেই একজন রেসিস্ট লোক। সর্বোপরি একজন বুফন…..

    Reply
  20. নয়ন

    অনেক আগ্রহ নিয়ে লেখাটি পড়তে বসলাম। পড়ে মনে হল লেখিকার শব্দচয়ন বা বাচনভঙ্গী একটু বেশী কাব্যিক। আরেকটু সাবলীল ও প্রাঞ্জল গদ্য হলে বোধহয় সুখপাঠ্য হত।

    Reply
      • লীনা দিলরুবা

        সহমত। লেখায় অনেক পোষাক, এই গরমে এমন জ্যাকেট-পরা লেখা চলে না। ভাষার আড়ষ্টতায় ভালো একটি লেখা মার খেয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—